📘 আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রামাদান 📄 শেষ দশকে বেশি বেশি শোকর করা উচিত

📄 শেষ দশকে বেশি বেশি শোকর করা উচিত


পুরো রমজানে কোন কোন ইবাদত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বেশি বেশি করার চেষ্টা করা উচিত, সে বিষয়ে আমরা ইতিপূর্বে আলোচনা করেছি। আজ আল্লাহ পাক তাওফিক দান করলে রমজানের এই শেষ দশকে বিশেষভাবে করণীয় কিছু ইবাদত সম্পর্কে আলোচনা করব।

রমজানের এই শেষ মুহূর্তগুলোতে সর্বপ্রথম বিশেষ করণীয় আমল হলো অধিক পরিমাণে আল্লাহর শোকর করা।

কীসের শোকর করব?! শোকর তো প্রথমে এ বিষয়ের করব যে, আল্লাহ আমাদের জীবনে অতিরিক্ত একটি রমজান দান করেছেন। আমাদের পরিচিত-অপরিচিত কত মানুষ গত রমজান আমাদের সঙ্গেই কাটিয়েছেন; কিন্তু এ রমজান তাদের জীবনে নসিব হয়নি। রমজান আগমনের পূর্বেই তারা দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। এ বছরের রমজান ও রোজা, তারাবি ও কিয়ামুল লাইল, তিলাওয়াত ও ইতিকাফ-কিছুই তাদের ভাগ্যে জোটেনি। আল্লাহ পাক আপন দয়া ও অনুগ্রহে আমাদের বা-হায়াত রেখেছেন; অবারিত রহমত ও বরকতে সিক্ত আরও একটি রমজান আমাদের দান করেছেন: এজন্য আমাদের কর্তব্য হলো মাহে রমজান প্রাপ্তির শোকর করা।

📘 আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রামাদান 📄 ইবাদতের তাওফিক একমাত্র আল্লাহর দান

📄 ইবাদতের তাওফিক একমাত্র আল্লাহর দান


শোকরের দ্বিতীয় দিক হলো আল্লাহ পাক এ রমজান মাসে আমাদেরকে আপন আপন সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু ইবাদত করার তাওফিক দিয়েছেন; রোজা রাখার, তারাবি পড়ার, কিছু নফল ইবাদত, জিকির-আজকার ও কুরআন তিলাওয়াতের তাওফিক দান করেছেন। আমাদের পরিচিত-অপরিচিত কত ব্যক্তি ও পরিবার এমন আছে যারা কল্যাণের মাস রমজান কবে এসেছে আর কীভাবে গত হয়ে গেছে—বলতেই পারবে না। রমজানের আগমন ও প্রস্থান, রহমত ও বরকতের ঘোষণা, মাগফিরাত ও নাজাতের পরোয়ানা তাদের হৃদয়জগতে কোনো আবেদন সৃষ্টি করেনি। আল্লাহ পাক যে আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেননি, রমজানের মহা ফজিলতপূর্ণ ইবাদত হতে মাহরূম করেননি, এটা আমাদের যোগ্যতাবলে উপার্জিত নয়; বরং দয়াময় আল্লাহর অনুগ্রহ-দান। তাই এর জন্যও আল্লাহ তাআলার শোকর আদায় করা কর্তব্য। এক শোকর রমজান নসিব হওয়ায়, আরেক শোকর রমজানে কিছু ইবাদত করার তাওফিক হওয়ায়। আমাদের কর্তব্য অন্তরের অন্তস্তল হতে আল্লাহর শোকর করা এবং জবানেও শোকরের কালিমা উচ্চারণ করা।

“হে আল্লাহ, এই রমজান নসিব হয়েছে আপনারই দয়া ও অনুগ্রহে, যা কিছু ইবাদতের তাওফিক হয়েছে তাও আপনার ফজল ও করমে। হে আল্লাহ, আপনি তাওফিক না দিলে কিছুই সম্ভব হতো না। আপনি হুকুম না করলে তো গাছের পাতাও নড়ে না; আপনার রেজা থাকলে কেউ ঠেকাতে পারে না। তাই হৃদয়ের গভীর থেকে, অন্তরের অন্তস্তল থেকে আপনার প্রদত্ত তাওফিকের শোকর আদায় করছি। হে আল্লাহ, আপনার এই অসীম রহমতের শোকর আদায়ের সামর্থ্য আমাদের নেই; আপনার শান অনুযায়ী শোকরের ভাষাও আমাদের জানা নেই। আমাদের এই টুটাফাটা ও ত্রুটিযুক্ত শোকরকেই আপনি দয়া করে কবুল করে নিন।”

📘 আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রামাদান 📄 বন্দেগির হক কীভাবে আদায় করবে বান্দা?!

📄 বন্দেগির হক কীভাবে আদায় করবে বান্দা?!


তবে ভাই, বাস্তব কথা হচ্ছে, যত ইবাদতই করা হোক, বান্দার পক্ষে ইবাদতের হক আদায় করা কখনোই সম্ভব নয়। এক শোকরের ইবাদতের কথাই চিন্তা করুন। শোকরের হক আদায় করা কী সম্ভব? প্রতি মুহূর্তে আমরা শ্বাস নিচ্ছি, নিশ্বাস ফেলছি। অর্থাৎ প্রতি মুহূর্তের শ্বাস গ্রহণ ও নিশ্বাস ত্যাগের মাঝেই দুটি নিয়ামত। শুধু যদি শ্বাসের নিয়ামতের শোকর আদায় করা শুরু করি, আমার জীবনের সবগুলো শ্বাস-নিশ্বাসের শোকর ও কৃতজ্ঞতা আদায় করা সম্ভব হবে? আরও কত লক্ষ-কোটি বরং অগণিত নিয়ামত আল্লাহ আমাদের দান করেছেন। সেগুলোর শোকর কখন-কীভাবে আদায় করব?

📘 আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রামাদান 📄 আমাদের শোকর তো ‘প্রতীকী কৃতজ্ঞতা’!

📄 আমাদের শোকর তো ‘প্রতীকী কৃতজ্ঞতা’!


কাজেই শোকর তো বাস্তব অর্থে আদায় করা সম্ভব নয়। হ্যাঁ, আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা ও কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতিস্বরূপ কিছু প্রতীকী কৃতজ্ঞতা পেশ করে থাকি। দুনিয়াতে আমরা দেখি, বড়দের সম্মাননায় ক্রেস্ট বা বিভিন্ন উপঢৌকন প্রদান করা হয়। এরপর বিনয়ের সঙ্গে বলা হয়, এ উপহার তো আপনার শান ও মর্যাদা হিসেবে কিছুই নয়; এ শুধু আমাদের পক্ষ হতে আপনার মর্যাদার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতীকী উপহার! ঠিক তেমনই আমাদের শোকরও আল্লাহর নিয়ামত ভোগের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতীকী কৃতজ্ঞতা-মাত্র। অন্যথায় শোকরের ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত মহান আল্লাহ তাআলার শান অনুযায়ী কীভাবে আদায় করা সম্ভব?!

তো এ কথা আরজ করছিলাম যে, রমজানের এই শেষ দশকে আমাদের প্রথম কর্তব্য হলো রমজান নসিব হওয়ার এবং কিছু ইবাদতের তাওফিক হওয়ার কারণে বেশি বেশি আল্লাহ তাআলার শোকর আদায় করা।

ফন্ট সাইজ
15px
17px