📘 আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রামাদান 📄 অপরের দুঃখে ব্যথিত হওয়াও মাহে রমজানের শিক্ষা

📄 অপরের দুঃখে ব্যথিত হওয়াও মাহে রমজানের শিক্ষা


এ মাস সম্পর্কে নবীজি দ্বিতীয় যে শব্দটি বলেছেন, তা হলো- شهر المواساة (শহরুল মুওয়াসাত)। অর্থাৎ এ মাস সহমর্মিতার মাস, অন্যের ব্যথায় সমব্যথী হওয়ার মাস। ইসলাম তো মুসলমানকে সবসময়ই অপর মুসলমান ভাইয়ের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশের, অন্যের ব্যথায় সমব্যথী হওয়ার, অন্যের দুঃখ-কষ্ট অনুভব করার, অন্যের প্রয়োজন উপলব্ধি করার এবং অন্যের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার আদেশ করেছে। পুরো ইসলামি শরিয়ত এ জাতীয় বিধি- বিধানে ভরপুর। কিন্তু তারপরও রমজান সম্পর্কে বিশেষ করে বলা হয়েছে, এ মাস সহমর্মিতার মাস। উদ্দেশ্য হলো অন্যের সেবা করা, দুঃখ-কষ্টে অংশীদার হওয়া, হামদর্দি ও সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ করার বিধান যদিও সারা বছরের জন্য; কিন্তু রমজান মাস হলো সহমর্মিতার চর্চা ও অনুশীলনের মাস। এ মাসের দাবি হলো অন্যের সঙ্গে বেশি বেশি সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ করা; মারামারি-হানাহানি, ঝগড়া-বিবাদ ও তর্ক- বিতর্ক হতে দূরে থাকা। রমজান মাসে সহমর্মিতার চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতেই হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে-
وَإِنْ جَهِلَ عَلَى أَحَدِكُمْ جَاهِلٌ وَهُوَ صَائِمٌ، فَلْيَقُلْ : إِنِّي صَائِمٌ
কোনো রোজাদারের সঙ্গে কেউ কোনো মূর্খতাপূর্ণ আচরণ করলে সে যেন তাকে বলে দেয়, (ভাই,) আমি তো রোজা রেখেছি।²³

কেউ যদি আপনার সঙ্গে ঝগড়া করতে উদ্যত হয়, ভালো-মন্দ বলতে শুরু করে, স্বর উঁচু করে, আক্রমণ করতে তেড়ে আসে, তখন স্বভাবতই আপনার নফস আপনাকে এ বিষয়ে প্ররোচিত করে যে, যাও, যত জোরে সে তোমাকে আক্রমণ করছে, তারচেয়েও উঁচু স্বরে তুমি তার জবাব দাও। ইটের জবাব পাথর দিয়ে দাও। কিন্তু আমাদের তারবিয়াত ও দীক্ষাদানের উদ্দেশ্যে নবীজি বলে দিলেন যে, না, এটাই তো তোমার পরীক্ষার মুহূর্ত। তোমার সঙ্গে কেউ মূর্খতাপূর্ণ আচরণ করলে তুমি নিজের উত্তেজনা দমন করো আর শান্ত স্বরে তাকে বলে দাও, 'আমি রোজাদার; আমি তোমার সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক করতে পারব না'।

এভাবেই রোজার মাসে বান্দাকে সহনশীলতার চর্চা করানো হয়। পবিত্র কুরআনে মুত্তাকিদের গুণ ও বৈশিষ্ট্য আলোচনা করতে গিয়ে ইরশাদ হয়েছে—
﴿وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ﴾
এবং যারা নিজের ক্রোধ সংবরণ করতে ও মানুষের সঙ্গে ক্ষমার আচরণ করতে অভ্যস্ত। [সুরা আলে-ইমরান: ১৩৪]

রমজান মাসে সহমর্মিতার প্রশিক্ষণদানের মাধ্যমে বান্দাকে তাকওয়া ও মুত্তাকিদের এই অত্যুচ্চ স্তরে উন্নীত করাই উদ্দেশ্য। হাদিস শরিফে এসেছে, মানুষ যত কিছু পান করে, তন্মধ্যে আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা প্রিয় হলো বান্দার ক্রোধের ঢোক। অর্থাৎ কোনো পরিস্থিতিতে মনে ক্রোধ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হলে আল্লাহর ওয়াস্তে তা হজম করে নেওয়া এবং ক্রোধ সংবরণ করা। অন্য এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, একবার আল্লাহর নবী সাহাবিদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘বলো তো, প্রকৃত বীর কে?’ সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ, যে ব্যক্তি মল্লযুদ্ধে তার প্রতিপক্ষকে ভূপাতিত করতে পারে, সে-ই তো প্রকৃত বীর।’ নবীজি বললেন, ‘না, বরং ক্রোধ সৃষ্টি হওয়ার পর যে ব্যক্তি নিজেকে সংবরণ করতে পারে, সে-ই প্রকৃত বীর।’

এই হলো সহমর্মিতার মাসের মর্মার্থ। রমজানের অন্যতম মৌলিক উদ্দেশ্য বান্দাকে এই দীক্ষায় গড়ে তোলা যে, তুমি অন্যের শান্তি ও নিরাপত্তার কারণ হও; অশান্তি ও পেরেশানির কারণ হয়ো না।

রমজান মাসে সহমর্মিতার চর্চার উদ্দেশ্যেই হাদিস শরিফে অপর মুসলমান ভাইকে ইফতার করানোর প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। অর্থাৎ সারাদিন পানাহার হতে বিরত থেকে রোজা রাখার পর তুমি যখন ক্ষুৎপিপাসার কষ্ট অনুভব করতে পেরেছ, এবার অন্যের কষ্টে সমব্যথী হয়ে কোনো রোজাদার ব্যক্তিকে ইফতার করিয়ে দাও।

দেখুন, এই সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণের বিনিময়ে কী বিরাট ফজিলতের সুসংবাদ হাদিস শরিফে এসেছে—
«مَنْ فَطَّرَ صَائِمًا كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ غَيْرَ أَنَّهُ لَا يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِ الصَّائِمِ شَيْئًا»
যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে ওই রোজাদারের সমান আজর লাভ করবে। তবে (এর কারণে) রোজাদারের আজর বিন্দুমাত্রও হ্রাস পাবে না।²⁴

হাদিসে আরও বর্ণিত হয়েছে—
«يُعْطِي اللهُ هَذَا الثَّوَابَ مَنْ فَطَرَ صَائِمًا عَلَى مَذْقَةِ لَبَنٍ أَوْ تَمْرَةٍ أَوْ شَرْبَةٍ مِنْ مَاء»
যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে এক ঢোক দুধ পান করাবে কিংবা একটি খেজুর; তাও সামর্থ্য না হলে সামান্য পানি পান করাবে, আল্লাহ পাক তাকেও একই সাওয়াব দান করবেন।

আর পেটপুরে ইফতার করালে তো আরেক ফজিলতের ঘোষণা—
«وَمَنْ أَشْبَعَ صَائِمًا سَقَاهُ اللهُ مِنْ حَوْضِيْ شَرْبَةً لَا يَظْمَأُ حَتَّى يَدْخُلَ الْجَنَّةَ»
আর যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে তৃপ্তি সহকারে আহার করাবে, আল্লাহ পাক তাকে আমার হাউজ থেকে অর্থাৎ হাউজে কাওসার থেকে পানি পান করাবেন। এর ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করার পূর্ব পর্যন্ত আর পিপাসার্ত হবে না।²⁵

ভেবে দেখুন, কত বড় ফজিলত বর্ণিত হয়েছে অন্যকে ইফতার করানোর। উদ্দেশ্য কী? উদ্দেশ্য হলো, তুমি অনেক ইফতারের আয়োজন করেছ, দস্তরখানে হরেক পদের খাবারের সমাবেশ ঘটিয়েছ; এখনই ইফতার করতে বসে যেয়ো না। একটু খোঁজ নিয়ে দেখো, তোমার প্রতিবেশী কী অবস্থায় আছে। তার কি ইফতার জোগাড় হয়েছে? সে কি তার পরিবারের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করতে পেরেছে? জোগাড় না হলে, ব্যবস্থা করতে না পারলে তাকেও তোমার দস্তরখানে শরিক করে নাও; তার পরিবারকেও তোমার পরিবারের ইফতারে শরিক করে নাও। তুমি যদি খালিস নিয়তে এই সহমর্মিতাটুকু প্রকাশ করতে পারো, নিজের পেয়ালার কিছু অংশ তোমার ভাইয়ের উদ্দেশে এগিয়ে দিতে পারো, তাহলে এর ফজিলত শোনো, আমি আল্লাহ তোমাকে কেয়ামতের কঠিন দিবসে হাউজে কাওসার হতে এক পেয়ালা পানি পান করাব; যে পানি দুধের চেয়েও শুভ্র, মধুর চেয়েও মিষ্ট; যে হাউজের পানি একবার পান করলে আর কখনো পিপাসা লাগবে না।

এত বড় ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে অন্যকে ইফতার করানোর। উদ্দেশ্য সহমর্মিতার গুণে গুণান্বিত হতে উদ্বুদ্ধ করা।

সহমর্মিতার চর্চা করার জন্যই মাহে রমজানে অধিক দান-সদকা করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। হাদিস শরিফে হজরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রাযি.-এর ভাষ্যে নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে-
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَجْوَدَ النَّاسِ، وَكَانَ أَجْوَدُ مَا يَكُونُ فِي رَمَضَانَ حِينَ يَلْقَاهُ جِبْرِيلُ ، فَلَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَجْوَدُ بِالْخَيْرِ مِنَ الرِّيحِ الْمُرْسَلَةِ»
নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দাতা। কিন্তু রমজান মাসে যখন হজরত জিবরাইল নবীজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন, তখন নবীজির দানশীলতা আরও বৃদ্ধি পেত। রমজান মাসে নবীজির উদারতা ও বদান্যতা এত বৃদ্ধি পেত, যেন প্রবহমান বাতাসের চেয়েও সবেগে প্রবাহিত হচ্ছে!²⁶

এভাবে নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপন বাণী ও কর্মধারার মাধ্যমে মাহে রমজানকে সহমর্মিতার মাসে রূপান্তরিত করার দীক্ষা উম্মতকে প্রদান করেছেন। নিজ আমলের মাধ্যমে নবীজি উম্মতকে রমজানে অধিক দান-খয়রাত করার, অন্যের প্রতি সহযোগিতা ও সহমর্মিতা প্রদর্শনের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন।

টিকাঃ
২৩. দেখুন পরিশিষ্টে উল্লেখিত হাদিস নং ১৫।
২৪. দেখুন পরিশিষ্টে উল্লেখিত হাদিস নং ৪৬।
২৫. দেখুন পরিশিষ্টে উল্লেখিত হাদিস নং ৪।
২৬. দেখুন পরিশিষ্টে উল্লেখিত হাদিস নং ৬।

📘 আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রামাদান 📄 রমজানে জাকাত আদায়ের বিধান

📄 রমজানে জাকাত আদায়ের বিধান


এই ফজিলতের প্রতি লক্ষ্য করেই সাধারণভাবে অনেকে রমজান মাসে জাকাত আদায় করে থাকে। আশা থাকে, রমজানে জাকাত আদায়ের কারণে প্রতিটি টাকার বিনিময়ে সত্তর টাকা জাকাত আদায়ের সাওয়াব পাওয়া যাবে। এক টাকায় সত্তর টাকার সাওয়াব, একশ টাকায় সাত হাজার টাকার সাওয়াব, এক হাজার টাকায় সত্তর হাজার টাকা দানের সাওয়াব পাওয়া যাবে। অধিক সাওয়াব অর্জনের এই দৃষ্টিভঙ্গি তো কাম্য ও প্রশংসনীয়। এ উদ্দেশ্যে জাকাত আদায় রমজান পর্যন্ত স্থগিত রাখা হলে এবং রমজান আগমনের প্রতীক্ষা করা হলে অনেক ভালো।

কিন্তু অনেকে এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি ও সীমালঙ্ঘন করে ফেলে। এক ভুল তো এই যে, অনেকে মনে করে যে, জাকাত ফরজই হয় রমজান মাসে। এটি ভুল ধারণা। প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তির জাকাত ফরজ হওয়ার তারিখ ভিন্ন ভিন্ন। যে তারিখে কোনো ব্যক্তি প্রথমবার জাকাতের নেসাব-পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়, সেটিই তার জাকাত ফরজ হওয়ার তারিখ। পরবর্তী সময়ে প্রতিবছর সেই তারিখেই (নেসাব-পরিমাণ সম্পদের মালিকানা বাকি থাকলে) তার ওপর জাকাত ফরজ হবে। সে তারিখ রমজান মাসেও হতে পারে, শাওয়াল-জিলকদসহ বছরের অন্য কোনো মাসেও হতে পারে। যদি কোনো ব্যক্তির প্রথম নেসাব-পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার তারিখ মনে না থাকে, তাহলে সে চিন্তা-ভাবনা করে সম্ভাব্য একটি তারিখ অনুমান করে নেবে যে, সম্ভবত অমুক মাসের অমুক তারিখে আমি নেসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী হয়েছিলাম। তখন অনুমিত সেই তারিখই তার জাকাত ফরজ হওয়ার তারিখ। রমজানেই জাকাত ফরজ হয়, এরূপ ধারণা সম্পূর্ণই ভুল।

দ্বিতীয় সীমালঙ্ঘন এই করা হয় যে, রমজানের পূর্বেই জাকাত ফরজ হয়েছে, অভাবী ব্যক্তি সামনে বিদ্যমানও আছে; তারপরও জাকাত আদায়ে বিলম্ব করা হয়। এটা মোটেই ঠিক নয়। জাকাতের উদ্দেশ্যই হলো অভাবী ও দরিদ্র মুসলমান ভাইয়ের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ; অথচ আলোচ্য ক্ষেত্রে তা লঙ্ঘিত হয়। জাকাত ফরজ হয়ে গেছে, হিসাবও করা হয়ে গেছে, অভাবী ব্যক্তিদের কষ্ট হচ্ছে, এরপরও জাকাত আদায়ে বিলম্ব করা উচিত নয়। উচিত হলো জাকাত ফরজ হওয়ার পর সামনে অভাবী কাউকে পেলে সঙ্গে সঙ্গে আদায় করে দেওয়া। এ সময় এ চিন্তা করা যে, এখন না দিয়ে রমজানে দিলে সত্তর গুণ সাওয়াব লাভ করব; থাক না বেচারা অভাবী ব্যক্তি মাস দুয়েক অনাহারে, এটা সঠিক চিন্তা নয়। বরং জাকাতের অর্থ দ্বারা গরীব-অভাবী ব্যক্তির প্রয়োজন যত বেশি পূর্ণ হবে, সাওয়াবও তত বেশি হবে, ইনশাআল্লাহ। যার অভাব ও প্রয়োজন পূরণ করলাম, তার প্রয়োজনের তারতম্যের ভিত্তিতেও সাওয়াব কম-বেশি হবে।

হ্যাঁ, জাকাত হিসেবে অনেক অর্থ ফরজ হয়েছে; কিছু এখন দিয়ে দিলাম, কিছু রমজানে আদায় করলাম, কোনো সমস্যা নেই। যাদের ওপর জাকাত ফরজ হয়ে আছে, কিন্তু এখনও আদায় করা হয়নি, তারা রমজানেই আদায় করে নিই। ইনশাআল্লাহ, সত্তর গুণ সাওয়াব পাওয়া যাবে।

আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ পাকের ফজল ও করমে আমাদের সমাজে জাকাত ফরজ হয়, এমন লোক যেমন অনেক আছে; জাকাত আদায়কারীর সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। তবে দুঃখজনক বিষয় হলো, আদায় তো করা হয়; কিন্তু বড় গাফলত ও উদাসীনতার সঙ্গে। হিসাব করা হয় না যে, আমার মোট সম্পদ কত, জাকাত কত ফরজ হলো। অনেকে আমরা জানিও না, জাকাতের হিসাব কীভাবে করতে হয়, কোন কোন সম্পদ জাকাত-হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হয়, কোন কোন সম্পদ অন্তর্ভুক্ত হয় না। এর ফলে আমরা যারা জাকাত আদায় করি, হয়তো আদায়ে কম-বেশি হয়ে যায়। বেশি হলে তো কোনো কথা নেই; কিন্তু কম হলে তো ওই পরিমাণ জাকাত আদায় না করার গুনাহ বাকি থেকে যাবে। এ কারণেই জাকাতের সঠিক মাসায়িল জানা (নামাজের মাসআলা জানার মতোই) প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজে আইন।

📘 আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রামাদান 📄 ইলম অর্জন স্বতন্ত্র এক ইবাদত

📄 ইলম অর্জন স্বতন্ত্র এক ইবাদত


আলহামদুলিল্লাহ, জাকাতের জরুরি মাসায়িল সম্পর্কে ছোট-বড় বিভিন্ন পুস্তিকা, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ইত্যাদি ছাপা হয়েছে। সেগুলো সংগ্রহ করে নিলে আমরা বুনিয়াদি আহকাম ও মৌলিক মাসআলাগুলো জেনে নিতে পারব। জাকাতের হিসাব সহজে বের করার জন্য বিভিন্ন ইসলামি প্রতিষ্ঠান থেকে জাকাত-ফরম বের হয়েছে, যা সংগ্রহ করে নিলে আমরা সহজেই জাকাতের হিসাব বের করতে পারব। এ ছাড়াও নির্ভরযোগ্য উলামায়ে কেরামের শরণাপন্ন হয়ে আমরা জাকাতের সঠিক মাসআলা শিখে নিতে পারি।

জাকাতের মাসায়িলের ইলম অর্জন করা ফরজে আইন। রমজানে অন্যান্য ইবাদতের পাশাপাশি কিছু সময় ইলম অর্জনের পেছনেও ব্যয় করা উচিত। কেননা, ইলম অর্জন করা শুধু ইবাদতের বিশুদ্ধতার পূর্বশর্তই নয়; বরং ইলম অর্জন নিজেই স্বতন্ত্র একটি ইবাদত। আর রমজান তো অধিক ইবাদতেরই মাস। সুতরাং রমজান মাসে তলবে ইলমের এই ফরজ ইবাদত আমরা জাকাতের মাসআলা শেখার মাধ্যমে আদায় করতে পারি।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আপন ফজল ও করমে আমাদের সবাইকে এ সমস্ত কথার ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px