📄 মাহে রমজান ক্রোধ সংবরণের মাস
তৃতীয় বিষয় হলো গোস্বা ও ক্রোধ সংবরণ করা। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এ মাস হলো ধৈর্যধারণের মাস; এ মাস সহমর্মিতার মাস। সুতরাং ক্রোধ ও গোস্বা থেকে বিরত থাকুন। পাশাপাশি ক্রোধ ও গোস্বার কারণে সৃষ্টি হয় এমন সব অপরাধ—তর্ক-বিতর্ক, মারামারি-হানাহানি, হিংসা-বিদ্বেষ ইত্যাদি থেকেও বেঁচে থাকুন। হাদিস শরিফে এসেছে—
ফَإِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلَا يَرْفُثْ يَوْمَئِذٍ وَلَا يَصْخَبْ، فَإِنْ سَابَّهُ أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَهُ فَلْيَقُلْ إِنِّي امْرَؤُ صَائِمٌ
তোমাদের কেউ যেদিন রোজা রাখবে, সে যেন সেদিন কোনো অশ্লীল আচরণ-উচ্চারণ না করে, আর ঝগড়া-বিবাদ (হইচই- শোরগোলও) না করে। কেউ তাকে গালমন্দ করলে বা তার সঙ্গে ঝগড়া করতে চাইলে সে যেন বলে দেয়, 'আমি তো রোজাদার'।²¹
মোটামুটি এই ছিল কিছু বুনিয়াদি ও মৌলিক কথা। বাকি করণীয় ইবাদত সম্পর্কে তো আপনাদের জানাই আছে। রোজা রাখা, তারাবি পড়া, বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা, চলা-ফেরা ও ওঠা-বসায় বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করা, তিন তাসবিহ, দুরূদ শরিফ ও ইসতেগফারের ইহতেমাম করা, বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া, খুশু-খুজুর সঙ্গে নফল আদায়ের চেষ্টা করা। বিশেষ করে বছরের অন্য সময়ে তো তাহাজ্জুদের জন্য ওঠার তাওফিক হয় না, রমজানে সাহরি খাওয়ার জন্য ওঠতেই হয়। সুতরাং রমজানে নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়া।
আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে আমল করার তাওফিক দান করুন। মাহে রমজানের রহমত, বরকত ও মাগফিরাত নসিব করুন। আমিন।
টিকাঃ
২১. ইমাম বুখারি, সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৯০৪ ও ইমাম মুসলিম, সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১১৫১।