📘 আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রামাদান 📄 রমজানে হারাম ভক্ষণ করব না

📄 রমজানে হারাম ভক্ষণ করব না


হজরত রহ. দ্বিতীয় যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বলতেন তা হচ্ছে, কমপক্ষে এই এক মাস হালাল রিজিকের ইহতিমাম করুন। এই প্রতিজ্ঞা করুন, এই এক মাস শুধু এমন লোকমাই মুখে দেবো যা আমার জন্য বৈধ।

এমন যেন না হয় যে, আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য রোজা রাখলাম আর সাহরি করলাম হারাম খাবার দিয়ে! আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য রোজা রাখলাম আর ইফতার করলাম অবৈধ খাবারে উদর পূর্ণ করে! এ রোজা তো কখনই তাকওয়া অর্জনের মাধ্যম হবে না।

আলহামদুলিল্লাহ, অনেকের তো মৌলিক জীবিকার পন্থা হালাল। তবে বছরের অন্য সময়ে উপার্জনের ক্ষেত্রে কিছু এদিক সেদিক হয়ে যায়; কখনো কখনো মিথ্যা বা অন্যায়ের আশ্রয় নেওয়া হয়, আল্লাহ হেফাজত করুন, তাদের জন্য তো হালাল খাদ্যের পাবন্দি করা সহজ। রমজান মাস তো ধৈর্যধারণ ও সহমর্মিতা প্রদর্শনের মাস। এ মাসে সহমর্মিতার পরিবর্তে কারও প্রতি জুলুম ও অন্যায় কিছুতেই যেন না হয়।

কিন্তু অনেকের জীবিকার মূল পন্থাই অবৈধ। উদাহরণস্বরূপ সুদি চাকরি। তাদের উদ্দেশে হজরত বলতেন, অন্তত রমজানের জন্য হালাল জীবিকার ইহতেমাম করুন। এক মাসের জন্য অফিস থেকে ছুটি নিয়ে নিন। এই মাসের খরচের জন্য কোনো হালাল জীবিকার ব্যবস্থা করে নিন। ব্যবস্থা না হলে প্রয়োজনে কর্জ নিন। তবুও এক মাস হারাম খরচ থেকে নিজেকে রক্ষা করুন।

তো এ কথা আরজ করছিলাম যে, এ মাসে নফলের ইহতেমাম করার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার প্রতি গুরুত্বারোপ করা।

আর কেউ যদি চেষ্টা করে, তার জন্য বিষয়টি বড় সহজ। কারণ, এ মাসে আল্লাহ তাআলা শয়তানকে শৃঙ্খলিত করে রাখেন। শয়তানের পক্ষে সম্ভব নয় এ মাসে কাউকে প্ররোচিত করা। সুতরাং নিজ নফসের সঙ্গে লড়াই করুন এবং এ মাসে গুনাহ থেকে আত্মরক্ষা করুন।

📘 আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রামাদান 📄 মাহে রমজান ক্রোধ সংবরণের মাস

📄 মাহে রমজান ক্রোধ সংবরণের মাস


তৃতীয় বিষয় হলো গোস্বা ও ক্রোধ সংবরণ করা। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এ মাস হলো ধৈর্যধারণের মাস; এ মাস সহমর্মিতার মাস। সুতরাং ক্রোধ ও গোস্বা থেকে বিরত থাকুন। পাশাপাশি ক্রোধ ও গোস্বার কারণে সৃষ্টি হয় এমন সব অপরাধ—তর্ক-বিতর্ক, মারামারি-হানাহানি, হিংসা-বিদ্বেষ ইত্যাদি থেকেও বেঁচে থাকুন। হাদিস শরিফে এসেছে—
ফَإِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلَا يَرْفُثْ يَوْمَئِذٍ وَلَا يَصْخَبْ، فَإِنْ سَابَّهُ أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَهُ فَلْيَقُلْ إِنِّي امْرَؤُ صَائِمٌ
তোমাদের কেউ যেদিন রোজা রাখবে, সে যেন সেদিন কোনো অশ্লীল আচরণ-উচ্চারণ না করে, আর ঝগড়া-বিবাদ (হইচই- শোরগোলও) না করে। কেউ তাকে গালমন্দ করলে বা তার সঙ্গে ঝগড়া করতে চাইলে সে যেন বলে দেয়, 'আমি তো রোজাদার'।²¹

মোটামুটি এই ছিল কিছু বুনিয়াদি ও মৌলিক কথা। বাকি করণীয় ইবাদত সম্পর্কে তো আপনাদের জানাই আছে। রোজা রাখা, তারাবি পড়া, বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা, চলা-ফেরা ও ওঠা-বসায় বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করা, তিন তাসবিহ, দুরূদ শরিফ ও ইসতেগফারের ইহতেমাম করা, বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া, খুশু-খুজুর সঙ্গে নফল আদায়ের চেষ্টা করা। বিশেষ করে বছরের অন্য সময়ে তো তাহাজ্জুদের জন্য ওঠার তাওফিক হয় না, রমজানে সাহরি খাওয়ার জন্য ওঠতেই হয়। সুতরাং রমজানে নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়া।

আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে আমল করার তাওফিক দান করুন। মাহে রমজানের রহমত, বরকত ও মাগফিরাত নসিব করুন। আমিন।

টিকাঃ
২১. ইমাম বুখারি, সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৯০৪ ও ইমাম মুসলিম, সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১১৫১।

ফন্ট সাইজ
15px
17px