📄 রোজা তাকওয়া অর্জনের স্বতন্ত্র সোপান
কিছুক্ষণ পূর্বে আমি আপনাদের সামনে যে আয়াত তিলাওয়াত করেছি তাতে রমজানের রোজা ফরজ করার হিকমত ও গূঢ় রহস্য এই উল্লেখ করা হয়েছে যে, এর মাধ্যমে যেন আমাদের অন্তরে তাকওয়া ও খোদাভীতি সৃষ্টি হয়। রোজার মাধ্যমে কীভাবে তাকওয়া সৃষ্টি হবে?
কোনো কোনো আলিম এ প্রশ্নের উত্তর এভাবে দিয়েছেন যে, রোজা মানুষের মাঝে বিদ্যমান পাশবিক শক্তিকে দমিত করে। ক্ষুধার্ত থাকার কারণে তার পাশবিক চাহিদা ও প্রবৃত্তি স্তিমিত হয়ে যায়। ফলে অন্যায় কাজ ও গুনাহর কাজের প্রতি আগ্রহ-আকর্ষণও কমে যায় এবং এভাবেই তাকওয়া সৃষ্টি হয়।
কিন্তু হাকিমুল উম্মত হজরত আশরাফ আলী থানবি রহ. (আল্লাহ হজরতের মর্যাদা বুলন্দ করুন) বলেছেন, প্রকৃত কথা এই যে, কোনো ব্যক্তি যদি সঠিক পদ্ধতিতে রোজা রাখে, তাহলে এ রোজা নিজেই তাকওয়া অর্জনের মাধ্যম হবে। কেননা, তাকওয়ার অর্থ হচ্ছে মহান আল্লাহর বড়ত্ব ও প্রতাপের অনুভূতি অন্তরে ধারণ করে গুনাহ থেকে বিরত থাকা। এই অনুভূতি অন্তরে থাকা যে, আমি তো আমার রবের সামনে আছি। আমার প্রতিটি আচরণ ও উচ্চারণ তিনি অবলোকন করছেন। এই অনুভূতিকে লালন করে গুনাহ হতে বিরত থাকার নামই হলো তাকওয়া।
পবিত্র কুরআনে যেমন বর্ণিত হয়েছে—
﴿وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَى
আর যে ব্যক্তি নিজ প্রতিপালকের সামনে দাঁড়ানোর ভয় পোষণ করে এবং নিজেকে মন্দ চাহিদা হতে বিরত রাখে। [সুরা নাযিআত: ৪০]
রোজা হচ্ছে এই তাকওয়া অর্জনের সর্বোত্তম প্রশিক্ষণ। একজন মুসলমান যখন রোজা রাখে, সে যত বড় গুনাহগার হোক না কেন, যদি প্রচণ্ড গরমের দিনও হয়, পিপাসায় কাতরও হয়, দরজা-জানালা বন্ধ কামরায় একাকীও হয়, হাতের নাগালে ফ্রিজে বরফ-শীতল পানিও থাকে, আর তার নফস তাকে প্ররোচিত করতে থাকে যে, যাও! উঠে পানি পান করে নাও, কেউ দেখবে না; তারপরও সে পানি পান করবে না। অথচ পান করলে দেখার কেউ নেই, জানার কেউ নেই, তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করার কেউ নেই, পাকড়াও করার কেউ নেই। এরপরও কেন পান করবে না. কারণ একটাই, হৃদয়ে সুপ্ত এই অনুভূতি যে, আল্লাহ তো দেখছেন!
আর এর নামই তো তাকওয়া।
রোজার মাঝে বিদ্যমান এই তাকওয়ার কারণেই আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন—
«الصَّوْمُ لِي، وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، يَدَعُ شَهْوَتَهُ وَطَعَامَهُ مِنْ أَجْلِي»
রোজা তো একমাত্র আমারই জন্য আর আমিই তার প্রতিদান দিয়ে থাকি। রোজাদার আমার জন্যই প্রবৃত্তি-চাহিদা ও পানাহার থেকে বিরত থাকে।¹⁹
অন্যান্য আমলের ক্ষেত্রে দশ গুণ, বিশ গুণ, সত্তর গুণ, সাতশ গুণ সাওয়াব আমি আল্লাহ দিয়ে থাকি; কিন্তু রোজা? রোজার প্রতিদান আমি নিজে দেবো। প্রচণ্ড পিপাসায়ও বান্দা আমাকে ভোলেনি, হাতের নাগালে বরফ-শীতল পানি পেয়েও বান্দা আমাকে বিস্মৃত হয়নি, কেবল আমার ভয়ে সে আমার হুকুম অমান্য করেনি। সুতরাং তার আমল ও সৎকর্মের আজর ও প্রতিদান আমি নিজে তাকে প্রদান করব।
তো বলছিলাম, রোজাদার বান্দার এই অনুভূতির নামই তাকওয়া আর রোজা তাকওয়া অর্জনের স্বতন্ত্র মাধ্যম। যখন রোজা ফরজ করা হয়েছে তাকওয়া অর্জনের জন্য, তাই আল্লাহ যেন বান্দাকে সম্বোর্ডন করে বলছেন, 'বান্দা, আরেকটু অগ্রসর হও। আমার ভয়ে পানাহার থেকে যেমন বিরত থেকেছ, তদ্রূপ কর্মজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যখন অন্যায় ও গুনাহর নানা রকম আকর্ষণ তোমার নফস ও মনকে প্ররোচিত করবে, তখনও আমার ভয়ে তা থেকে বিরত থেকো।'
রোজার মাধ্যমে তাকওয়া অর্জনের এই প্রশিক্ষণ তখনই পরিপূর্ণ হবে, যখন জীবনের সকল ক্ষেত্রে 'আল্লাহ দেখছেন'-এই ভয়ে গুনাহর কাজ থেকে বিরত থাকা হবে। শুধু পানাহার থেকে উদরকে নিবৃত্ত রাখলাম; কিন্তু হাত, চোখ, কান ও জবানকে গুনাহে নিমগ্ন রাখলাম, তাহলে তো তারবিয়াত ও সংশোধনের প্রশিক্ষণ পূর্ণ হলো না।
কামরা শীতল করার জন্য এয়ার-কন্ডিশনার লাগানো হলো। কিন্তু দরজা-জানালা খোলা রেখে এসির সুইচ চালু করলে কামরা কী শীতল হবে? একদিকে ঠান্ডা বাতাস তৈরি হবে, আরেকদিক দিয়ে বেরিয়ে যাবে; কামরা আর শীতল হবে না। তদ্রূপ হাত-পা, চোখ-কান ও জবানের দরজা খোলা রেখে রোজার এসি চালু করলেও তাকওয়ার নুর ও শীতলতা অর্জিত হবে না, গুনাহর দরজা দিয়ে সব বেরিয়ে যাবে।
টিকাঃ
১৯. ইমাম মুসলিম, সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১১৫১।
📄 সাহরি-ইফতারে কৃচ্ছ্রসাধন আবশ্যক নয়
সুতরাং মাহে রমজানে প্রথম ও প্রধান কর্তব্য হচ্ছে গুনাহ থেকে বাঁচা। নফল ইবাদত, জিকির ও তাসবিহ আদায়ের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে গুনাহমুক্ত রমজান অতিবাহিত করা।
অনেকে মনে করেন, রোজার প্রকৃত বরকত ও কল্যাণ অর্জন করতে হলে সাহরি ও ইফতারে খুব অল্প পরিমাণে আহার করতে হবে। সাহরি-ইফতারে যদি পেট পুরেই আহার করলাম, তাহলে নফস আর দমিত হলো কোথায়! কিন্তু হাকিমুল উম্মত থানবি রহ. এ ধরনের চিন্তাধারাও প্রত্যাখান করেছেন। তিনি বলেছেন, না ভাই, এসব ভিত্তিহীন কথা। সাহরি-ইফতারে কম আহারের কোনো প্রয়োজন নেই। সাহরি-ইফতারেও অন্য সময়ের মতো পরিমিত পানাহার করো। হ্যাঁ, মাত্রাতিরিক্ত পানাহার তো রমজান ব্যতীত অন্য মাসেও অপছন্দনীয়। কিন্তু বিশেষ করে রমজানের রাতে পানাহারে কৃচ্ছসাধনের প্রতি যত্নবান হওয়ার কোনো দরকার নেই। কেননা, স্বয়ং আল্লাহ পাক বলেছেন—
وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ
আর যতক্ষণ না ভোরের সাদা রেখা কালো রেখা থেকে পৃথক হয়ে যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা খাও, পান করো। [সুরা বাকারা: ১৮৭]
স্বয়ং আল্লাহ যখন সুবহে সাদিক পর্যন্ত নিশ্চিন্তে পানাহার করতে বলেছেন, তখন স্বল্প পানাহারের পাবন্দি করা বন্দেগি ও আনুগত্যের দাবি নয়। পাশবিক শক্তি ও চাহিদা দমন করা মূল কথা নয়; পুরো দ্বীনের মূল মর্ম হলো সমস্ত ইবাদতের মধ্যে আল্লাহর হুকুমের অনুসরণ।
দেখুন, আল্লাহ তাআলা রমজান-দিবসে উপোস থাকার আদেশ করেছেন। তো উপোস থাকাই আল্লাহর কাম্য। এমনকি বান্দার মুখের উপবাসজনিত দুর্গন্ধও আল্লাহর পছন্দ। কিন্তু যেই মাত্র সূর্য ডুবে গেল, সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর হুকুম-বিলম্ব না করে এখনই ইফতার করো। সুতরাং দ্রুত ইফতার করাই আল্লাহর কাম্য। এ কারণেই ইফতারে বিলম্ব না করাকে মুসতাহাব গণ্য করা হয়েছে এবং বিনা কারণে বিলম্ব করাকে মাকরূহ বলা হয়েছে।
কেন? এ কারণেই যে, সূর্যাস্তের পর হুকুম হচ্ছে পানাহারের। তাই পানাহার হতে বিরত থাকাই বরং এ সময় অপছন্দনীয়। বোঝা গেল, বান্দার কাজ নিঃশর্ত আনুগত্য করা; বিবেক ও যুক্তির দেওয়াল দাঁড় করানো নয়।
জনৈক অন্তজ্ঞানী কত চমৎকার কথা বলেছেন! তিনি বলেছেন, লোভ-লালসা মানবচরিত্রের অত্যন্ত নিন্দনীয় একটি দিক। পার্থিব কোনো বস্তুর লোভ করা শরিয়তে পছন্দনীয় নয়। কিন্তু আমার মাবুদ যদি বলেন, 'লোভ করো', তাহলে আমি লোভই করব, লালসার মাঝেই স্বাদ পাব। আরিফে রুমির ভাষায়—
چوں طمع خواهد ز من سلطان دین خاک بر فرق قناعت بعد ازین
দ্বীনের অধিপতি আমার আল্লাহ যদি আমার কাছে দাবি করেন 'লোভ করো', তখন তো অল্পেতুষ্টির মাথায় ধুলি ছুড়ে মারাই কর্তব্য!²⁰
সূর্যাস্তের এক মিনিট পূর্বে যদি কেউ সামান্য বুট পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য এমনকি অসতর্কতাবশতও খেয়ে ফেলে, তবুও তার রোজা ভেঙে যাবে। আর ইচ্ছাকৃত খেলে তো কাফফারাও ওয়াজিব হবে। সন্ধ্যা ছয়টায় ইফতারির সময়, ছয়টার পর এক মিনিট দেরি করাও মাকরূহ ও অপছন্দনীয়; অথচ পাঁচটা ঊনষাট মিনিটে মাত্র একটি বুটের দানা খেলে কাফফারা হিসেবে ষাটটি রোজা রাখা আবশ্যক! আশ্চর্যের কিছুই নেই; কারণ, বিষয় এক মিনিটের নয়, একটি বুটের দানার নয়, বিষয় আল্লাহর হুকুম মানা-না মানার। ছয়টার পর আমার হুকুম ছিল—খাও; তুমি খেলে না কেন? ছয়টার এক মিনিট পূর্বেও আমার হুকুম ছিল—পানাহার থেকে বিরত থাকো, তুমি খেলে কেন?
ওদিকে সাহরির সময় আল্লাহর হুকুম বিলম্ব করে শেষ সময়ে আহার করা। বেশি আগে সাহরি খাওয়া সুন্নাহ-বিরোধী। সাহাবায়ে কেরাম শেষ সময়েই সাহরি গ্রহণ করতেন। অনেকে মধ্য রাত বা তারও পূর্বে সাহরি খেয়ে নেয়; এটা সুন্নাতের খেলাফ। কেননা, পূর্বে যেমন বলেছি, সুবহে সাদিকের পূর্বের সময়ে তো পানাহারের অনুমতি আছে; বরং হুকুমও আছে। তো যতক্ষণ সময় বাকি আছে, পানাহার করাতেই আনুগত্য; যখন সময় শেষ, বিরত থাকাতেই আনুগত্য।
হজরত থানবি রহ. বলেন, যখন আল্লাহ বলেছেন, খাও; তো না খাওয়া বা কম খাওয়া আনুগত্য নয় আর সাহরি-ইফতারে স্বল্পাহারের পাবন্দিও কাম্য নয়। মূল পাবন্দির বিষয় হলো গুনাহ থেকে বিরত থাকা; চোখ-কান, হাত ও জবানকে গুনাহ থেকে বিরত রাখা।
আমাদের হজরত (ডা. আবদুল হাই আরিফি রহ.) এক রমজানে বয়ানের মাঝে বলেছিলেন, ভাই, আমি তো এ কথা বলব যে, প্রয়োজনে নফসকে এই বলে প্রবোধ দাও যে, শুধু এই এক মাস গুনাহ থেকে বিরত থাকব। রমজান অতিবাহিত হওয়ার পর যা ইচ্ছা তাই করব! আরে! এক মাসই তো, এরপর তো ইচ্ছেমতো মনের চাহিদা পূরণ করতে পারব!
হজরত বলেছিলেন, কোনো ব্যক্তি যদি এভাবেও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে যায়, আমি আল্লাহর রহমতের প্রতি এ আশা রাখি যে, এক মাস পর আল্লাহ তাআলা তার নফস ও অন্তরের মধ্যে চির জীবন গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার আগ্রহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করে দেবেন।
বর্তমানের বড় ফিতনা রেডিও, টেলিভিশন। এক মাসের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে যাই যে, আপন চোখ-কানকে এক মাস এসব অশ্লীল বস্তু থেকে দূরে রাখব।
টিকাঃ
২০. আল্লামা রুমি, মসনবি, পঙ্ক্তি নং ২৬৯৫।
📄 রমজানে হারাম ভক্ষণ করব না
হজরত রহ. দ্বিতীয় যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বলতেন তা হচ্ছে, কমপক্ষে এই এক মাস হালাল রিজিকের ইহতিমাম করুন। এই প্রতিজ্ঞা করুন, এই এক মাস শুধু এমন লোকমাই মুখে দেবো যা আমার জন্য বৈধ।
এমন যেন না হয় যে, আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য রোজা রাখলাম আর সাহরি করলাম হারাম খাবার দিয়ে! আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য রোজা রাখলাম আর ইফতার করলাম অবৈধ খাবারে উদর পূর্ণ করে! এ রোজা তো কখনই তাকওয়া অর্জনের মাধ্যম হবে না।
আলহামদুলিল্লাহ, অনেকের তো মৌলিক জীবিকার পন্থা হালাল। তবে বছরের অন্য সময়ে উপার্জনের ক্ষেত্রে কিছু এদিক সেদিক হয়ে যায়; কখনো কখনো মিথ্যা বা অন্যায়ের আশ্রয় নেওয়া হয়, আল্লাহ হেফাজত করুন, তাদের জন্য তো হালাল খাদ্যের পাবন্দি করা সহজ। রমজান মাস তো ধৈর্যধারণ ও সহমর্মিতা প্রদর্শনের মাস। এ মাসে সহমর্মিতার পরিবর্তে কারও প্রতি জুলুম ও অন্যায় কিছুতেই যেন না হয়।
কিন্তু অনেকের জীবিকার মূল পন্থাই অবৈধ। উদাহরণস্বরূপ সুদি চাকরি। তাদের উদ্দেশে হজরত বলতেন, অন্তত রমজানের জন্য হালাল জীবিকার ইহতেমাম করুন। এক মাসের জন্য অফিস থেকে ছুটি নিয়ে নিন। এই মাসের খরচের জন্য কোনো হালাল জীবিকার ব্যবস্থা করে নিন। ব্যবস্থা না হলে প্রয়োজনে কর্জ নিন। তবুও এক মাস হারাম খরচ থেকে নিজেকে রক্ষা করুন।
তো এ কথা আরজ করছিলাম যে, এ মাসে নফলের ইহতেমাম করার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার প্রতি গুরুত্বারোপ করা।
আর কেউ যদি চেষ্টা করে, তার জন্য বিষয়টি বড় সহজ। কারণ, এ মাসে আল্লাহ তাআলা শয়তানকে শৃঙ্খলিত করে রাখেন। শয়তানের পক্ষে সম্ভব নয় এ মাসে কাউকে প্ররোচিত করা। সুতরাং নিজ নফসের সঙ্গে লড়াই করুন এবং এ মাসে গুনাহ থেকে আত্মরক্ষা করুন।
📄 মাহে রমজান ক্রোধ সংবরণের মাস
তৃতীয় বিষয় হলো গোস্বা ও ক্রোধ সংবরণ করা। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এ মাস হলো ধৈর্যধারণের মাস; এ মাস সহমর্মিতার মাস। সুতরাং ক্রোধ ও গোস্বা থেকে বিরত থাকুন। পাশাপাশি ক্রোধ ও গোস্বার কারণে সৃষ্টি হয় এমন সব অপরাধ—তর্ক-বিতর্ক, মারামারি-হানাহানি, হিংসা-বিদ্বেষ ইত্যাদি থেকেও বেঁচে থাকুন। হাদিস শরিফে এসেছে—
ফَإِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلَا يَرْفُثْ يَوْمَئِذٍ وَلَا يَصْخَبْ، فَإِنْ سَابَّهُ أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَهُ فَلْيَقُلْ إِنِّي امْرَؤُ صَائِمٌ
তোমাদের কেউ যেদিন রোজা রাখবে, সে যেন সেদিন কোনো অশ্লীল আচরণ-উচ্চারণ না করে, আর ঝগড়া-বিবাদ (হইচই- শোরগোলও) না করে। কেউ তাকে গালমন্দ করলে বা তার সঙ্গে ঝগড়া করতে চাইলে সে যেন বলে দেয়, 'আমি তো রোজাদার'।²¹
মোটামুটি এই ছিল কিছু বুনিয়াদি ও মৌলিক কথা। বাকি করণীয় ইবাদত সম্পর্কে তো আপনাদের জানাই আছে। রোজা রাখা, তারাবি পড়া, বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা, চলা-ফেরা ও ওঠা-বসায় বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করা, তিন তাসবিহ, দুরূদ শরিফ ও ইসতেগফারের ইহতেমাম করা, বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া, খুশু-খুজুর সঙ্গে নফল আদায়ের চেষ্টা করা। বিশেষ করে বছরের অন্য সময়ে তো তাহাজ্জুদের জন্য ওঠার তাওফিক হয় না, রমজানে সাহরি খাওয়ার জন্য ওঠতেই হয়। সুতরাং রমজানে নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়া।
আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে আমল করার তাওফিক দান করুন। মাহে রমজানের রহমত, বরকত ও মাগফিরাত নসিব করুন। আমিন।
টিকাঃ
২১. ইমাম বুখারি, সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৯০৪ ও ইমাম মুসলিম, সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১১৫১।