📘 আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রামাদান 📄 রোজার দাবি গুনাহ পরিত্যাগ করা!

📄 রোজার দাবি গুনাহ পরিত্যাগ করা!


সর্বশেষ নিবেদন এই যে, আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন—
(يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ)
হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে; যেমন তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমাদের মধ্যে তাকওয়া সৃষ্টি হয়। [সুরা বাকারা: ১৮৩]

রোজা ফরজ করার মাকসাদ ও উদ্দেশ্যই হলো আমাদের মাঝে যেন তাকওয়া ও খোদাভীতি সৃষ্টি হয়। বড় আফসোস ও পরিতাপের বিষয়— আমরা রমজানে রোজা অবস্থায় পানাহার থেকে বিরত থাকি; অথচ যেসব কাজ সর্বাবস্থায় গুনাহ, রোজা রেখে তা নির্দ্বিধায় করতে থাকি! রমজানের পূর্বে মিথ্যা বলায় অভ্যস্ত ছিলাম, রোজা রেখেও মিথ্যা বলি; রমজানের পূর্বে পরনিন্দা করতাম, এখনও করি; সুদ-ঘুষ এখনও গ্রহণ করি; এখনও মুসলিম ভাইকে কষ্ট দিই। আরও লজ্জার বিষয়, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোজা রাখছি আর সাহরি-ইফতার করছি হারাম খাবার দিয়ে! ঘুষের অর্থ দিয়ে, সুদের মাল দিয়ে, জুয়া খেলে উপার্জিত অর্থ দিয়ে! বলুন, এই রোজার মাধ্যমে কীভাবে বরকত ও কল্যাণ নসিব হবে? এমন রোজার মাধ্যমে কীভাবে তাকওয়া ও খোদাভীতি অর্জিত হবে?

রোজা ফরজ করা হয়েছে তাকওয়া অর্জন করার জন্য। সুতরাং রমজান মাসের জন্য আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই যে, অন্তত এ মাসে কোনো গুনাহ করব না। চোখের খেয়ানত করব না, কানের গুনাহ ও জবানের গুনাহ করব না। মিথ্যা বলব না, পরনিন্দা ও দোষচর্চা করব না, হারাম কোনো খাবার মুখে দেবো না। হাত দ্বারা বা জবান দ্বারা কাউকে কোনো কষ্ট দেবো না। কেউ ঝগড়া করতে চাইলে হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে বলে দেবো-আমি তোমার সঙ্গে তর্ক করব না; আমি রোজাদার।¹⁶

রমজানের পূর্বেই এভাবে গুনাহমুক্ত ও ইবাদতে নিমগ্ন রমজান কাটানোর সংকল্প করা, নিজেকে প্রস্তুত করা এবং আগত রমজানের নিজামুল আওকাত ও সময়সূচিকে ব্যস্ততামুক্ত রেখে ইবাদতের জন্য বিন্যস্ত করাই হচ্ছে প্রকৃত 'ইসতিকবালে রমাযান' বা রমজানের অভ্যর্থনা। রমজানের পূর্বে সভা-সমাবেশ, টকশো আয়োজন করা কিংবা লিফলেট-ব্যানার ও 'আহলান-সাহলান মাহে রমজান'-এর পোস্টার টানানোর নাম ইসতেকবালে রমাযান নয়।

যদি আমরা এভাবে পরিকল্পনা মতো রমজান অতিবাহিত করতে পারি, তাহলে শুনুন, অন্য এক হাদিসে খোশখবরি এসেছে-
«مَنْ سَلِمَ لَهُ رَمَضَانُ سَلِمَتْ لَهُ السَّনَةُ»
যার রমজান মাস সঠিকভাবে অতিবাহিত হবে, (আল্লাহপ্রদত্ত তাওফিকে) তার পুরো বছর সঠিকভাবে অতিবাহিত হবে।¹⁷

আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে রমজান মাস তার রেজা ও সন্তুষ্টি অনুযায়ী অতিবাহিত করার তাওফিক দান করুন এবং রমজানের হাকিকি রহমত ও বরকত, নুর ও নুরানিয়াত নসিব করুন। আমিন।

টিকাঃ
১৬. দেখুন পরিশিষ্টে উল্লেখিত হাদিস নং ১৫।
১৭. শাস্ত্রীয় দৃষ্টিকোণ থেকে হাদিসটির সনদ সমালোচনামুক্ত নয়। মুহাদ্দিসগণের অনেকেই রেওয়ায়েতটি সম্পর্কে আপত্তি করেছেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px