📘 আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রামাদান 📄 প্রকাশকের কথা

📄 প্রকাশকের কথা


প্রিয় পাঠক, দরজায় কড়া নাড়ছে আরেকটি ‘মাহে রমজান’।

সিয়াম ও কিয়ামের মাস! রাব্বে কারিমের রহমত ও অনুগ্রহে সিক্ত হওয়ার মাস! রাব্বে গাফুরের মাগফিরাত ও ক্ষমালাভে ধন্য হওয়ার মাস! দয়াময় আল্লাহর কাছ থেকে জাহান্নাম হতে মুক্তির ফরমান হাতে পাওয়ার মাস! মহিমান্বিত রজনীর মাস, লাইলাতুল কদরের মাস!

তিলাওয়াতে কুরআনের মাস! আল্লাহর কাছে প্রার্থনার মাস, দোয়া কবুলের মাস! দান-সদকা করার মাস, নববি বদান্যতার অনুসরণের মাস! সবর ও ধৈর্যের অনুশীলনের মাস! হামদর্দি ও সহমর্মিতার চর্চা করার মাস! সামান্য আমলে অসামান্য অর্জনের মাস!

দরজায় কড়া নাড়ছে মুসলিম জীবনের সর্বোত্তম-সর্বশ্রেষ্ঠ মাস! পশ্চিমাকাশে উদিত হতে যাচ্ছে আরেকটি ‘হিলালে রমজান’; জীবন-উদ্যানে পুষ্পিত বসন্তের সুবাসিত ফল্গুধারা নিয়ে, রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে এবং অসামান্য অর্জন ও প্রাপ্তির সওগাত নিয়ে।

অর্জন ও উপার্জনের মাস মাহে রমজান আমাদের জীবনে আবারও উপস্থিত হয়েছে এবং হয়তো শেষবারের মতো! মোটেও কি অসম্ভব?! প্রিয়জন-পরিচিতজনদের কতজন গত রমজানেও ছিলেন, একসঙ্গে সাহরি-ইফতার করেছেন, তারাবি আদায় করেছেন; কিন্তু আজ তারা নির্জন কবরের বাসিন্দা! তারাও কি কেউ ভেবেছিলেন, আগামী রমজানের ‘নতুন চাঁদ’ আমার জীবনে আসবে না?!

গত কদিনেই তো হারিয়ে গেল কতজন! চারিদিকে শুধু মৃত্যু ও মৃত্যুর হাতছানি! প্রতিদিন, প্রতিঘণ্টা, প্রতিক্ষণ! চলে যাচ্ছে একজন-দুজন, হাজার ছাড়িয়ে লক্ষজন; ‘করোনা’ নামের এক অদৃশ্য থাবায়! কেউ কি জানে—এরপর কার পালা এই কিয়ামত-বিভীষিকায়!

প্রিয় পাঠক, নিশ্চিত করেই আপনার যাপিত জীবনে অনেকগুলো রমজান মাস গত হয়েছে। সামনে হয়তো জীবনের শেষ ‘মাহে রমজান’। হয়তো শেষ সুযোগ অনন্ত জীবনকে সাজাবার, সর্বশেষ সুযোগ পরকালের পাথেয় জোগাড় করার। আমার-আপনার-আমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য বরকত, রহমত ও মাগফিরাতের ফল্গুধারায় সিক্ত এ মাসের প্রতিটি ক্ষণ ও প্রতিটি ভগ্নাংশের সঠিক ব্যবহার।

মাহে রমজান সঠিকভাবে অতিবাহিত করার পথ ও পদ্ধতি সম্পর্কে আকাবির উলামায়ে কেরাম উম্মাহকে দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন এবং বয়ান ও রচনার মাধ্যমে কুরআন-সুন্নাহ ও সালাফের জীবনাদর্শ থেকে রমজানের করণীয়-বর্জনীয় বিষয় তুলে ধরেছেন। এ জাতীয় কিছু রচনা ও আলোচনার সঙ্গে বাংলাভাষী পাঠককে পরিচয় করিয়ে দেওয়া মাকতাবাতুল হাসানের কর্মপরিকল্পনায় আছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গতবছর রমজানের পূর্বে আমরা প্রকাশ করেছিলাম ড. রাগিব সারজানি কৃত ‘রমাজানুল আখির’ বইয়ের অনুবাদ এটাই হয়তো জীবনের শেষ রমজান। আমাদের এবারের আয়োজন শাইখুল ইসলাম মুফতি তাকি উসমানি দামাত বারাকাতুহুম-এর রমজান সংক্রান্ত বয়ানের অনুবাদ-সংকলন ‘আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রমাযান’। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতেও এ বিষয়ে আমাদের প্রকাশনা অব্যাহত থাকবে।

হজরত শাইখুল ইসলামের ব্যক্তিত্ব, কর্ম-কীর্তি ইত্যাদি আলোচনারও ঊর্ধ্বে। আমাদের যাপিত সময়ের মুসলিম উম্মাহর শ্রেষ্ঠতম এই রাহবার বয়ান, বক্তৃতা, সেমিনার, অধ্যাপনা, লিখনিসহ বিভিন্ন অঙ্গনে উম্মাহর অসামান্য খিদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন। আল্লাহ হজরতকে দীর্ঘায়ু দান করুন এবং উম্মাহকে তার কর্ম-অবদানে আরও বেশি সমৃদ্ধ করুন। বক্ষ্যমাণ গ্রন্থে সংকলিত বয়ানগুলো হজরতের নিয়মতান্ত্রিক কোনো সংকলন নয়; বরং আমরাই অনলাইন থেকে বিভিন্ন সময়ে হজরতের কৃত রমজান সংক্রান্ত কয়েকটি বয়ান সংগ্রহ করে পাঠক-খিদমতে পরিবেশন করছি।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে হয়তো বইটির ছাপা সংস্করণ এতদিনে প্রকাশ পেয়ে যেত। এখন 'করোনা দুর্যোগে' সবাই যখন হোম কোয়ারেন্টিনে স্বেচ্ছাবন্দি অবস্থায় অবসর সময় কাটাচ্ছেন, তখন পাঠকদের কল্যাণ বিবেচনায় আমরা প্রথমে বইটির পিডিএফ সংস্করণ প্রকাশ করছি। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতে সময়-সুযোগমতো বইটির পরিমার্জিত ছাপা সংস্করণও প্রকাশিত হবে।

বইয়ের শেষে পরিশিষ্ট শিরোনামে রোজা ও রমজান সংক্রান্ত কিছু হাদিস মূল আরবি পাঠসহ যুক্ত করা হয়েছে। তালিবে ইলম ভাইয়েরাসহ যারা মোটামুটি আরবি জানেন-বোঝেন, তারা হাদিসগুলো মুখস্থ করে নিজেদের ইলম-আমল সমৃদ্ধ করতে পারেন।

কদিন পূর্বেই আমরা আমাদের আরেকটি প্রকাশনা 'কুরআন হিফজ করবেন যেভাবে'-এর পিডিএফ সংস্করণ প্রকাশ করেছি। আশা করি, আমাদের সুহৃদ পাঠকবৃন্দ বইটি দ্বারা উপকৃত হয়েছেন এবং অর্জিত শিক্ষা নিজ নিজ জীবনে কাজে লাগাতে সচেষ্ট আছেন। আমাদের আশা, বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটিও মাকতাবাতুল হাসানের পাঠকবৃন্দকে একটি সুন্দর, সজিব ও বরকতপূর্ণ রমজান কাটাতে সহায়তা করবে। দয়াময় আল্লাহ আমাদের প্রতিটি কাজ ইখলাস ও নিষ্ঠার সঙ্গে করার তাওফিক দান করুন, আমাদের সবাইকে রমজানের রহমত, বরকত ও নাজাতে সিক্ত করুন এবং পরকালের জীবনে উত্তম বিনিময় প্রদান করুন।

রাকিবুল হাসান খান
২১ শাবান ১৪৪১ হিজরি
১৬ এপ্রিল ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ

📘 আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রামাদান 📄 পরিশিষ্ট: রমজান ও রোজা-সংশ্লিষ্ট হাদিসে নববি

📄 পরিশিষ্ট: রমজান ও রোজা-সংশ্লিষ্ট হাদিসে নববি


১. عَنِ ابْنِ عُمَرَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامُ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১. হজরত আবদুল্লাহ বিন উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি বিষয়ের ওপর রাখা হয়েছে। এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার রাসুল, সালাত কায়েম করা, জাকাত আদায় করা, হজ করা এবং রমজানের রোজা রাখা। [সহিহ বুখারি, হাদিস নং ০৮, সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৬]

২. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: كَانَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ رَجَبُ قَالَ: «اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَجَبٍ وَشَعْبَانَ، وَبَلِّغْنَا رَمَضَانَ». أَخْرَجَهُ أَحْمَدُ.

২. হজরত আনাস বিন মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রজব মাস শুরু হলে এই দোয়াটি পাঠ করতেন, «اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَجَبٍ وَشَعْبَانَ، وَبَلِّغْنَا رَمَضَانَ» হে আল্লাহ, রজব ও শাবান মাসে আমাদের বরকত দান করুন এবং আমাদের রমজান নসিব করুন। [মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ২৩৪৬ ও আল-মুজামুল আওসাত, হাদিস নং ৩৯৩৯]

৩. عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّমَ قَالَ يَوْمًا - وَحَضَرَنَا رَمَضَانُ : أَتَاكُمْ رَمَضَانُ شَهْرُ بَرَكَةٍ، يَغْشَاكُمُ اللهُ فِيْهِ، فَيُنْزِلُ الرَّحْمَةَ، وَيَحُطُّ الْخَطَايَا، وَيَسْتَجِيبُ فِيهِ الدُّعَاءَ، يَنْظُرُ اللهُ تَعَالَى إِلَى تَنَافُسِكُمْ فِيْهِ، وَيُبَاهِي بِكُمْ مَلَائِكَتَهُ، فَأَرُوْا اللَّهَ مِنْ أَنْفُسِكُمْ خَيْرًا؛ فَإِنَّ الشَّقِيَّ مَنْ حُرِمَ فِيْهِ رَحْمَةَ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ» . أَخْرَجَهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي مُسْنَدِ الشَّامِيِّينَ.

৩. হজরত উবাদা বিন সামিত রাযি. থেকে বর্ণিত, রমজান মাসের নিকটবর্তী সময়ে একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন যে, রমজান মাস এসে গেছে। এ মাস অতি বরকতের মাস। এ মাসে আল্লাহ তাআলা তোমাদের প্রতি (বিশেষ) দৃষ্টি দেন, রহমত অবতীর্ণ করেন, গুনাহ ক্ষমা করেন এবং দোয়া কবুল করেন। আল্লাহ তাআলা তোমাদের পারস্পরিক প্রতিযোগিতা দেখেন এবং তোমাদের নিয়ে ফিরেশতাদের সঙ্গে গর্ব করেন। অতএব তোমরা আল্লাহকে তোমাদের নেক কাজ দেখাও। বড় হতভাগা ওই ব্যক্তি, যে এই মাসেও আল্লাহ তাআলার রহমত থেকে বঞ্চিত হবে। [মুসনাদুশ শামিয়্যিন, হাদিস নং ২২৩৮]

৪. عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيَّ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: خَطَبَنَا رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ فِي آخِرِ يَوْمٍ مِنْ شَعْبَانَ، فَقَالَ : يَا أَيُّهَا النَّاسُ! قَدْ أَظَلَّكُمْ شَهْرُ عَظِيمٌ، شَهْرٌ مُبَارَكٌ، شَهْرٌ فِيْهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ، جَعَلَ اللَّهُ صِيَامَهُ فَرِيضَةً، وَقِيَامَ لَيْلِهِ تَطَوُّعًا، مَنْ تَقَرَّبَ فِيْهِ بِخَصْلَةٍ مِنَ الْخَيْرِ كَانَ كَمَنْ أَذًى فَرِيضَةً فِيْمَا سِوَاهُ، وَمَنْ أَدَّى فَرِيضَةً فِيْهِ كَانَ كَمَنْ أَدَّى سَبْعِينَ فَرِيضَةً فِيْمَا سِوَاهُ، وَهُوَ شَهْرُ الصَّبْرِ، وَالصَّبْرُ ثَوَابُهُ الْجَنَّةُ، وَشَهْرُ الْمُوَاسَاةِ، وَشَهْرُ يُزَادُ فِي رِزْقِ الْمُؤْمِنِ، مَنْ فَطَرَ فِيْهِ صَائِمًا كَانَ لَهُ مَغْفِرَةً لِذُنُوْبِهِ، وَعِتْقَ رَقَبَتِه مِنَ النَّارِ، وَكَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يُنْقَصَ مِنْ أَجْرِه شَيْءٌ». قُلْنَا : يَا رَسُولَ اللهِ! لَيْسَ كُلُّنَا يَجِدُ مَا يُفْطِرُ الصَّائِمَ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّমَ : يُعْطِي اللَّهُ هَذَا الثَّوَابَ مَنْ فَطَرَ صَائِمًا عَلَى مَذْقَةِ لَبَنٍ أَوْ تَمْرَةٍ أَوْ شَرْبَةٍ مِنْ مَاءٍ، وَمَنْ أَشْبَعَ صَائِمًا سَقَاهُ اللَّهُ مِنْ حَوْضِيْ شَرْبَةً لَا يَظْمَأُ حَتَّى يَدْخُلَ الْجَنَّةَ، وَهُوَ شَهْرُ أَوَّلُه رَحْمَةٌ، وَأَوْسَطُه مَغْفِرَةٌ، وَآخِرُه عِتْقُ مِنَ النَّارِ، مَنْ خَفَّفَ عَنْ مَمْلُوْكِهِ فِيْهِ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ وَأَعْتَقَهُ مِنَ النَّارِ». أَخْرَجَهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيْمَانِ.

৪. হজরত সালমান ফারসি রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শাবানের শেষ দিন আমাদের সামনে খুতবা প্রদান করেন। তিনি বলেন, 'হে লোকসকল, তোমাদের ওপর ছায়া বিস্তার করতে যাচ্ছে মর্যাদাসম্পন্ন একটি মাস, অত্যন্ত বরকতময় একটি মাস। এ মাসে এমন একটি রজনী রয়েছে, যা হাজার রজনী হতেও শ্রেষ্ঠ। আল্লাহ তাআলা এ রমজান মাসের দিনে রোজা রাখা ফরজ করেছেন এবং রাতে দণ্ডায়মান হয়ে নামাজ পড়া নফল (অর্থাৎ ফরজ স্তরের আবশ্যকীয় নয়) করেছেন।

যে ব্যক্তি এ মাসে কোনো কল্যাণ-কাজ করার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনে সচেষ্ট হবে, তাহলে সে সাওয়াব অর্জনের ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির ন্যায় হবে, যে রমজান ছাড়া অন্য মাসে কোনো ফরজ আদায় করেছে। আর যে ব্যক্তি রমজান মাসে কোনো ফরজ ইবাদত আদায় করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে ওই ব্যক্তির সমপরিমাণ সাওয়াব দান করবেন, যে রমজান ছাড়া অন্য মাসে সত্তরটি ফরজ আদায় করেছে। এ মাস সবরের মাস, আর সবরের প্রতিদান হচ্ছে জান্নাত। এ মাস সহমর্মিতার মাস। আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে (বছরের অন্যান্য দিনের তুলনায়) রমজান মাসে মুমিনদের প্রতি দান ও অনুগ্রহের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়।

যে ব্যক্তি রমজান মাসে কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, তার গুনাহ মাফ করা হবে এবং এ আমল তার জাহান্নাম থেকে নিষ্কৃতি লাভের কারণ হবে। শুধু তাই নয়, বরং কোনো রোজাদারকে ইফতার করালে উক্ত রোজাদার রোজা রেখে যে সাওয়াব লাভ করেছে, ইফতারের ব্যবস্থাকারীও সমপরিমাণ সাওয়াব লাভ করবে।' বর্ণনাকারী বলেন, (এ কথা শুনে) আমরা বললাম, 'আমাদের সবার তো এ সামর্থ্য নেই যে, কোনো রোজাদারকে ইফতার করাব।'

তখন নবীজি বললেন, 'যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে এক ঢোক দুধ পান করাবে কিংবা একটি খেজুর; তাও সামর্থ্য না হলে সামান্য পানি পান করাবে, আল্লাহ পাক তাকেও এই সাওয়াব দান করবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে পেট পুরে খাওয়াবে, আল্লাহ তাকে আমার হাউজ থেকে (অর্থাৎ হাউজে কাওসার থেকে) পানি পান করাবেন। এর ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করার পূর্ব পর্যন্ত আর তৃষ্ণার্ত হবে না। এ মাসের প্রথম অংশে আছে রহমত, মধ্যের অংশে মাগফিরাত এবং শেষ অংশে জাহান্নাম হতে নিষ্কৃতি লাভ। যে ব্যক্তি এ মাসে তার অধীনস্থদের কর্মভার লাঘব করবে, আল্লাহ পাক তাকে মাগফিরাত ও ক্ষমার পুরস্কারে ভূষিত করবেন এবং তাকে জাহান্নাম হতে নিষ্কৃতি দান করবেন। [শুআবুল ঈমান, হাদিস নং ৩৩৩৬]

৫. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: دَخَلَ رَمَضَانُ، فَقَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّمَ: «إِنَّ هَذَا الشَّهْرَ قَدْ حَضَرَكُمْ، وَفِيْهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ، مَنْ حُرِمَهَا فَقَدْ حُرِمَ الْخَيْرَ كُلَّه، وَلَا يُحْرَمُ خَيْرَهَا إِلَّا مَحْرُوْমُ». أَخْرَجَهُ ابْنُ مَاجَهْ.

৫. হজরত আনাস বিন মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত, রমজান মাস এলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, নিশ্চয় এই মাস তোমাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছে। এতে এমন একটি রজনী আছে যা (ইবাদতের মর্যাদা ও সাওয়াবের দিক থেকে) হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। যে ব্যক্তি এ রজনীর বরকত থেকে বঞ্চিত হলো, সে পুরো কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো। আর এ রজনীর বরকত থেকে কেবল অভাগা ব্যক্তিই বঞ্চিত হতে পারে। [সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস নং ১৬৪৪]

৬. عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমَا قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّمَ أَجْوَدَ النَّاسِ، وَكَانَ أَجْوَدَ مَا يَكُوْنُ فِي رَمَضَانَ حِينَ يَلْقَاهُ جِبْرِيلُ، وَكَانَ يَلْقَاهُ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ، فَيُدَارِسُهُ الْقُرْآنَ. فَلَرَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّمَ أَجْوَدُ بِالْخَيْرِ مِنَ الرِّيحِ الْمُرْسَلَةِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ..

৬. হজরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল। রমজানে যখন জিবরাইল তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন, তখন (যেন) তার বদান্যতা আরও বৃদ্ধি পেত। আর জিবরাইল রমজানে প্রতিরাতেই তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং তারা পরস্পর কুরআনের দাওর করতেন (একে অপরকে শোনাতেন)। নিঃসন্দেহে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রবাহিত বাতাস থেকেও অধিক বদান্য ছিলেন। [সহিহ বুখারি, হাদিস নং ০৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৩০৮]

৭. عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: « إِذَا كَانَ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِّنْ شَهْرِ رَمَضَانَ صُفْدَتِ الشَّيَاطِينُ وَمَرَدَةُ الْجِنِّ، وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّيْرَانِ، فَلَمْ يُفْتَحْ مِنْهَا بَابٌ، وَفُتِحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ، فَلَمْ يُغْلَقُ مِنْهَا بَابٌ، وَيُنَادِي مُنَادٍ: يَا بَاغِيَ الْخَيْرِ أَقْبِلْ، وَيَا بَاغِيَ الشَّرِّ أَقْصِرْ، وَلِلَّهِ عُتَقَاءُ مِنَ النَّارِ، وَذَلِكَ كُلَّ لَيْلَةٍ». أَخْرَجَهُ التَّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ.

৭. হজরত আবু হোরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, রমজান মাসের প্রথম রজনীতে শয়তান ও অবাধ্য জিনদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। জাহান্নামের দ্বারসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং (রমজান শেষ হওয়া পর্যন্ত) কোনো দরজা উন্মুক্ত করা হয় না। জান্নাতের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় এবং (রমজান শেষ হওয়া পর্যন্ত) কোনো দরজা বন্ধ করা হয় না। (আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে) একজন ঘোষক ঘোষণা করে, 'হে কল্যাণ অন্বেষণকারী, অগ্রসর হও। হে অকল্যাণ কামনাকারী, নিবৃত্ত হও।' আল্লাহ পাক রমজানে অনেককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন এবং প্রতি রজনীতেই এরূপ করা হয়। [সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ৬৮২; সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস নং ১৬৪২]

৮. عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: . «الصَّوْمُ جُنَّةٌ مَا لَمْ يَخْرِقْهَا». أَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ.

৮. হজরত আবু ওবায়দা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, রোজা (শয়তানের অনিষ্টতা ও আজাব-গজব থেকে বাঁচার জন্য মুমিনের) ঢালস্বরূপ, যতক্ষণ না সে (মিথ্যা, পরনিন্দা ইত্যাদি গুনাহর মাধ্যমে) তা ভেঙে ফেলে। [সুনানে নাসায়ি, হাদিস নং ২২৩৩]

৯. عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: «مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيْمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّমَ مِنْ ذَنْبِهِ، وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيْمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّমَ مِنْ ذَنْبِهِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

৯. হজরত আবু হোরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের দাবিতে, শুধু আল্লাহর কাছে আজর লাভের প্রত্যাশায় রমজানের রোজা রাখবে, তার পূর্বে কৃত সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি ঈমানের কারণে এবং শুধু আল্লাহর কাছে আজর লাভের প্রত্যাশায় কদরের রজনীতে ইবাদত করবে (তারাবি ইত্যাদি পড়বে), তার পূর্বে কৃত সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। [সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৯০১; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৭৬০]

১০. عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: «مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيْمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّমَ مِنْ ذَنْبِهِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

১০. হজরত আবু হোরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের কারণে এবং শুধু আল্লাহর কাছে আজর লাভের প্রত্যাশায় রমজানের রজনীতে ইবাদত করবে (তারাবি ইত্যাদি পড়বে), তার পূর্বে কৃত সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। [সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৩৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৭৫৯]

১১. عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: لِكُلِّ شَيْءٍ زَكَاةً، وَزَكَاةُ الْجَسَدِ الصَّوْمُ». أَخْرَجَهُ ابْنُ مَاجَهْ.

১১. হজরত আবু হোরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক বস্তুর জাকাত আছে আর শরীরের জাকাত হচ্ছে রোজা। [সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস নং ১৭৪৫]

১২. عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: أُعْطِيَتْ أُمَّتِي خَمْسَ خِصَالٍ فِي رَمَضَانَ لَمْ تُعْطَهَا أُمَّةٌ قَبْلَهُمْ، خَلُوْفٌ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيْحِ الْمِسْكِ، وَتَسْتَغْفِرُ لَهُمُ الْمَلَائِكَةُ حَتَّى يُفْطِرُوْا، وَيُزَيِّنُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ كُلَّ يَوْمٍ جَنَّتَهُ، ثُمَّ يَقُولُ: يُوْشِكُ عِبَادِيَ الصَّالِحُوْنَ أَنْ تُلْقُوْا عَنْهُمُ الْمَوْنَةَ وَالْأَذَى وَيَصِيرُوا إِلَيْكَ، وَيُصَفِّدُ فِيْهِ مَرَدَةُ الشَّيَاطِينِ، فَلَا يَخْلُصُوا إِلَى مَا كَانُوا يَخْلُصُوْنَ إِلَيْهِ فِي غَيْرِهِ، وَيُغْفَرُ لَهُمْ فِي آخِرِ لَيْلَةٍ قِيلَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ! أَهِيَ لَيْلَةُ الْقَدْرِ؟ قَالَ: لَا ، وَلكِنَّ الْعَامِلَ إِنَّمَا يُوَفَّى أَجْرَه إِذَا قَضَى عَمَلَه». أَخْرَجَهُ أَحْمَدُ.

১২. হজরত আবু হোরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, রমজানে আমার উম্মতকে এমন পাঁচটি বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে, যা পূর্বের কোনো উম্মতকে দান করা হয়নি। (আর তা হলো) রোজাদারের মুখের (উপবাসজনিত) দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের ঘ্রাণের চাইতেও প্রিয়। রোজাদারের জন্য ফিরেশতাগণ ইফতারের সময় পর্যন্ত মাগফিরাতের দোয়া করতে থাকে। (রমজান মাসের) প্রতিদিন আল্লাহ পাক রোজাদারের জান্নাতকে সুসজ্জিত করেন। এরপর আল্লাহ তাআলা (জান্নাতকে সম্বোধন করে) বলেন, 'অতিসত্বর আমার নেক বান্দারা নিজেদের পার্থিব জীবনের কষ্ট-ক্লেশ থেকে মুক্ত হয়ে তোমার কাছে আসবে।' এ মাসে অবাধ্য শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়। ফলে, অন্যান্য মাসে তারা যেসব মন্দ কাজ পর্যন্ত পৌঁছতে পারত, এ মাসে সে পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না। রমজানের সর্বশেষ রাতে রোজাদারদের ক্ষমা করে দেওয়া হবে। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, সে রাত কি শবে কদর?' রাসুল উত্তরে বললেন, 'না, বরং নিয়ম হলো মজদুরকে কাজের শেষে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়'। [মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ৭৯১৭]

১৩. عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: « ثَلَاثَةُ لَا تُرَدُّ دَعْوَتُهُمْ: اَلْإِمَامُ الْعَادِلُ، وَالصَّائِمُ حَتَّى يُفْطِرَ، وَدَعْவَةُ الْمَظْلُوْমِ». أَخْرَجَهُ التَّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ.

১৩. হজরত আবু হোরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া প্রত্যাখ্যাত হয় না- নীতিবান শাসক, রোজাদার (ইফতারের পূর্ব পর্যন্ত) ও নিপীড়িতের দোয়া। [সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ৩৫৯৮ ও সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস নং ১৭৫২]

১৪. عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: «كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ يُضَاعَفُ الْحَسَنَةُ عَشْرَ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِ مِئَةِ ضِعْفٍ، قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ: إِلَّا الصَّوْمَ؛ فَإِنَّه لِي، وَأَنَا أَجْزِي بِهِ ، يَدَعُ شَهْوَتَه وَطَعَامَهُ مِنْ أَجْلِي، لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ: فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ، وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ، وَلَخَلُوْفُ فِيْهِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ». أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ.

১৪. হজরত আবু হোরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, বনি আদমের প্রত্যেক আমলের সাওয়াব দশ গুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। আল্লাহ পাক বলেন, একমাত্র রোজা এর ব্যতিক্রম। কেননা তা আমারই জন্য আর আমিই তার প্রতিদান দিয়ে থাকি। রোজাদার আমার জন্যই প্রবৃত্তি-চাহিদা ও পানাহার থেকে বিরত থাকে। রোজাদারের দুটি আনন্দ। একটি ইফতারের সময়, অপরটি তার রবের সাক্ষাৎলাভের সময়। রোজাদারের মুখের (উপবাসজনিত) দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের খুশবুর চেয়েও প্রিয়। [সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১১৫১]

১৫. عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: «قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ : كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَه إِلَّا الصِّيَامَ؛ فَإِنَّهُ لِي، وَأَنَا أَجْজِي بِه، وَالصِّيَامُ جُنَّةٌ، فَإِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْমِ أَحَدِكُمْ فَلا يَرْفُثْ يَوْمَئِذٍ وَلَا يَصْخَبْ، فَإِنْ سَابَه أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَهُ فَلْيَقُلْ إِنِّي امْرُؤٌ صَائِمٌ. وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَخَلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ، وَلِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ يَفْرَحُهُمَا: إِذَا أَفْطَرَ فَرِحَ بِফিটরহি, ওয়া ইজা লাকিয়া রব্বাহু ফারিহা বিসাওমিহি». مُত্তফাকুন আলাইহি.

১৫. হজরত আবু হোরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ পাক বলেন, 'বনি আদমের প্রতিটি আমল তার নিজের জন্য, একমাত্র রোজা এর ব্যতিক্রম। কেননা রোজা শুধু আমার জন্য আর আমি নিজে তার বিনিময় দান করি। আর রোজা (শয়তানের অনিষ্টতা ও আজাব-গজব থেকে বাঁচার জন্য মুমিনের) ঢালস্বরূপ। সুতরাং তোমাদের কেউ যেদিন রোজা রাখবে, সে যেন সেদিন কোনো অন্যায়-অশ্লীল আচরণ-উচ্চারণ না করে, আর ঝগড়া-বিবাদ (হইচই-শোরগোল)-ও না করে। কেউ তাকে গালমন্দ করলে বা তার সঙ্গে ঝগড়া করতে চাইলে সে যেন বলে দেয়, আমি তো রোজাদার। ওই সত্তার কসম যার (কুদরতি) হাতে (আমি) মুহাম্মাদের প্রাণ, নিশ্চয় রোজাদারের মুখের (উপবাসজনিত) দুর্গন্ধ কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে মেশকের খুশবুর চেয়েও প্রিয় হবে। আর রোজাদারের জন্য আছে দুটি আনন্দ, যা দ্বারা সে আনন্দিত হয়। যখন সে ইফতার করে তখন সে ইফতার দ্বারা আনন্দ লাভ করে, আর যখন সে আপন প্রতিপালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে তখন সে তার রোজা দ্বারা আনন্দ লাভ করবে। [সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৯০৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১১৫১]

১৬. عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: «الصِّيَامُ وَالْقُرْآنُ يَشْفَعَانِ لِلْعَبْدِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، يَقُوْلُ الصِّيَامُ: أَيْ رَبِّ مَنَعْتُهُ الطَّعَامَ وَالشَّهَوَاتِ بِالنَّهَارِ، فَشَفَعْنِي فِيْهِ. وَيَقُوْلُ الْقُرْآنُ: مَنَعْتُهُ النَّوْمَ بِاللَّيْلِ، فَشَفَعْنِي فِيْهِ. قَالَ: فَيُشَفَعَانِ». أَخْرَجَهُ أَحْمَدُ.

১৬. হজরত আবদুল্লাহ বিন আমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, রোজা ও কুরআন কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, হে আমার রব, আমি তাকে পানাহার ও প্রবৃত্তি-চাহিদা থেকে বিরত রেখেছিলাম। তাই (আজ) তার জন্য আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। কুরআন বলবে, আমি তাকে রাতের বেলা ঘুম থেকে নিবৃত্ত রেখেছিলাম। তাই (আজ) তার জন্য আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, এরপর তাদের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। [মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ৬৬২৬]

১৭. عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: قَالَ رَسُوْলُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: «إِنَّ فِي الْجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ، يَدْخُلُ مِنْهُ الصَّائِمُوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، لَا يَدْخُلُ مَعَهُمْ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ. يُقَالُ: أَيْنَ الصَّائِمُوْنَ؟ فَيَدْخُلُوْনَ مِنْهُ. فَإِذَا دَخَلَ آخِرُهُمْ أُغْلِقَ، فَلَمْ يَدْخُلْ مِنْهُ أَحَدٌ». مُত্তফাকুন আলাইহি.

১৭. হজরত সাহল বিন সাদ রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই জান্নাতে 'রাইয়ান' নামে একটি দরজা আছে; কিয়ামতের দিন রোজাদারগণ তা দিয়ে (জান্নাতে) প্রবেশ করবে। অন্য কেউ তাদের সঙ্গে (সে দরজা দিয়ে) প্রবেশ করতে পারবে না। (সে দরজা হতে) আহ্বান করা হবে: রোজাদারগণ কোথায়? তখন রোজাদারগণ তা দিয়ে প্রবেশ করবে। সর্বশেষ রোজাদার প্রবেশ করার পর দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। ফলে আর কেউ তা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। [সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৮৯৬ ও সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১১৫২]

১৮. عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ : ( لَا يَتَقَدَّمَنَّ أَحَدُكُمْ رَمَضَانَ بِصَوْمٍ يَوْمٍ أَوْ يَوْমَيْنِ، إِلَّا أَنْ يَكُوْنَ رَجُلٌ كَانَ يَصُوْمُ صَوْمَهِ، فَلْيَصُمْ ذَلِكَ الْيَوْمَ مُত্তফাকুন আলাইহি.

১৮. হজরত আবু হোরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা কেউ রমজান মাসের দু-একদিন পূর্ব থেকে রোজা শুরু করবে না। তবে কেউ যদি পূর্ব থেকেই এ সময় রোজা রেখে অভ্যস্ত থাকে, তাহলে সে এ দিন রোজা রাখতে পারবে। [সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৯১৪ ও সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১০৮২]

১৯. عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: «صُوْমُوا لِرُؤْيَتِهِ، وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ، فَإِنْ غُمِّيَ عَلَيْكُمْ فَأَكْمِلُوا الْعَدَدَ». مُত্তফাকুন আলাইহি.

১৯. হজরত আবু হোরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখবে, চাঁদ দেখে রোজা ছাড়বে। আর (উনত্রিশ তারিখ সন্ধ্যায়) যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তাহলে (ত্রিশ দিনের) নির্ধারিত সংখ্যা পূর্ণ করবে। [সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৯০৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১০৮১]

২০. عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা قَالَ: قَالَ رَسُوْলُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: «إِنَّ عُمْرَةً فِي رَمَضَانَ تَقْضِي حَجَّةً أَوْ حَجَّةً مَّعِي». مُত্তফাকুন আলাইহি.

২০. হজরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, রমজানে কৃত উমরা হজের সমতুল্য বা আমার সঙ্গে হজ করার সমতুল্য। [সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৮৬৩ ও সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১১৫৬]

২১. عَنْ عَامِرِ بْنِ مَسْعُوْدٍ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: قَالَ رَسُوْলُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: «أَلْغَنِيْمَةُ الْبَارِدَةُ الصَّوْমُ فِي الشَّتَاءِ». أَخْرَجَهُ التَّرْمِذِيُّ.

২১. হজরত আমির বিন মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, শীতকালের রোজা হচ্ছে শীতল গনিমত। [সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ৭৯৭]

২২. عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: «أَحْضُرُوا الْمِنْبَرَ». فَحَضَرْنَا . فَلَمَّا ارْتَقَى دَرَجَةً قَالَ: «آمين»، فَلَمَّا ارْتَقَى الدَّرَجَةَ الثَّانِيَةَ قَالَ: «آمين»، فَلَمَّا ارْتَقَى الدَّরَজাহ আস-সানিয়াহ কালাঃ আমিন. ফালাম্মা নাজালা কুলনাঃ ইয়া রসূলাল্লাহ! লাকদ সামিয়ানা মিনকা আল-ইয়াওমা শাইয়ান মা কুন্না নাসমাউহু. কালাঃ ইন্না জিবরিলা আরজা লি, ফাকালাঃ বু'দান লিমান আদরাকা রমাজানা ফালাম ইউগফার লাহু. কুলতুঃ আমিন. ফালাম্মা রকিয়তুস সানিয়াতা কালাঃ বু'দান লিমান জুকিরতা ইন্দাহু ফালাম ইউসল্লি আলাইকা. কুলতুঃ আমিন. ফালাম্মা রকিয়তুস সালিছাতা কালাঃ বু'দান লিমান আদরাকা আবাওয়াহু আল-কিবারা ইন্দাহু আউ আহাদাহুমা ফালাম ইউদখিলাহু আল-জান্নাহ. কুলতুঃ আমিন.

২২. হজরত কা'ব বিন উজরা রাযি. থেকে বর্ণিত, (একবার) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমরা মিম্বরের কাছে এসে বসো। আমরা মিম্বরের কাছে এসে বসলাম। নবীজি মিম্বরের প্রথম সিঁড়িতে পা রেখে বললেন, 'আমিন'। দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রাখার সময় বললেন, 'আমিন'। এরপর তৃতীয় সিঁড়িতে পা রাখার সময়ও বললেন, 'আমিন'। যখন তিনি (খুতবা শেষ করে) মিম্বর থেকে নামলেন, আমরা আরজ করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা আপনাকে মিম্বরে ওঠার সময় এমন কিছু বলতে শুনেছি, যা ইতিপূর্বে বলতে শুনিনি। (উত্তরে) তিনি বললেন, এইমাত্র জিবরাইল আমার কাছে এসেছিলেন। (আমি যখন প্রথম সিঁড়িতে পা রাখলাম) তিনি বললেন, ধ্বংস হোক ওই ব্যক্তি, যে (ক্ষমা অর্জনের মাস) মাহে রমজান পেয়েও ক্ষমাপ্রাপ্ত হয় না। আমি বললাম, ‘আমিন’। যখন আমি দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রাখি, তিনি বললেন, ধ্বংস হোক ওই ব্যক্তি, যার সামনে আপনার নাম উচ্চারিত হওয়া সত্ত্বেও সে আপনার নামে দুরুদ পড়ে না। আমি বললাম, ‘আমিন’। আমি যখন তৃতীয় সিঁড়িতে পা রাখি, তিনি বললেন, ধ্বংস হোক ওই ব্যক্তি, যে আপন পিতা-মাতা উভয়কে বা কোনো একজনকে বৃদ্ধাবস্থায় পায়, কিন্তু তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারে না। আমি বললাম, ‘আমিন’। [মুসতাদরাকে হাকিম, হাদিস নং ৭২৫৬]

২৩. عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: قَالَ رَسُوْলُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: «رُبَّ صَائِمٍ لَيْسَ لَه مِنْ صِيَامِه إِلَّا الْجُمْعُ، وَرُبَّ قَائِمٍ لَيْسَ لَهُ مِنْ قِيَامِهِ إِلَّا السَّهْرُ». أَخْرَجَهُ ابْنُ مَاجَهْ.

২৩. হজরত আবু হোরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, অনেক রোজাদার ব্যক্তি এমন আছে, (গিবত-শেকায়েত ও বিভিন্ন গুনাহে লিপ্ত থাকার কারণে) যাদের রোজার বিনিময়ে অনাহারে থাকা ব্যতীত আর কিছুই লাভ হয় না। অনেক রাত্রিজাগরণকারী এমন আছে, (কোনো গুনাহ কিংবা রিয়ার কারণে) যাদের রাত্রিজাগরণের কষ্ট ছাড়া আর কিছুই অর্জন হয় না। [সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস নং ১৬৯০]

২৪. عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: قَالَ رَسُوْলُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: «مَنْ أَفْطَرَ يَوْمًا مِنْ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ رُخْصَةٍ رَخَّصَهَا اللَّهُ لَهُ لَمْ يَقْضِ عَنْهُ صِيَامُ الدَّهْرِ». أَخْرَجَهُ التَّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَأَبُو دَاوُدَ.

২৪. হজরত আবু হোরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে শরিয়তপ্রদত্ত কোনো ছাড় ব্যতীত রমজানের একটি রোজাও ভঙ্গ করবে, সে রমজানের বাইরে সারাবছর রোজা রাখলেও তার বদলা হবে না। [সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ৭২৩, সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস নং ১৬৭২ ও সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৩৯৬]

২৫. عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: قَالَ رَسُوْলُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: « মَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّوْরِ وَالْعَمَلَ بِهِ فَلَيْসَ لِلَّهِ حَاجَةُ أَنْ يَدَعَ طَعَامَه وَشَرَابَه». أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ.

২৫. হজরত আবু হোরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি (রোজা অবস্থায়) মিথ্যাচার ও অন্যায় কর্ম পরিহার করল না, তার পানাহার ত্যাগ করার প্রতি আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। [সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৯০৩]

২৬. عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ তَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ : « لَا يَتَقَدَّمَنَّ أَحَدُكُمْ رَمَضَانَ بِصَوْমٍ يَوْمٍ أَوْ يَوْমَيْنِ، إِلَّا أَنْ يَكُوْনَ رَجُلٌ كَانَ يَصُوْমُ صَوْমَهِ، فَلْইাসোম জ্যালিকাল ইয়াওমা. মুততফাকুন আলাইহি.

২৬. হজরত আবু হোরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা কেউ রমজান মাসের দু-একদিন পূর্ব থেকে রোজা শুরু করবে না। তবে কেউ যদি পূর্ব থেকেই এ সময় রোজা রেখে অভ্যস্ত থাকে, তাহলে সে এ দিন রোজা রাখতে পারবে। [সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৯১৪ ও সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১০৮২]

২৭. عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ তَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: «صُوْমُوا لِرُؤْيَتِهِ، وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ، فَإِنْ غُمِّيَ عَلَيْكُمْ فَأَكْمِلُوا الْعَدَدَ». مُত্তফাকুন আলাইহি.

২৭. হজরত আবু হোরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখবে, চাঁদ দেখে রোজা ছাড়বে। আর (উনত্রিশ তারিখ সন্ধ্যায়) যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তাহলে (ত্রিশ দিনের) নির্ধারিত সংখ্যা পূর্ণ করবে। [সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৯০৯, সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১০৮১]

২৮. عَنْ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ তَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ يَسْتَاكُ وَهُوَ صَائِمٌ مَالَا أُحْصِي أَوْ أَعْدُ. أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ.

২৮. হজরত আমির বিন রাবিয়া রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রোজা অবস্থায় অসংখ্যবার মেসওয়াক করতে দেখেছি। [সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১২১০]

২৯. عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ তَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: «مَنْ نَسِيَ وَهُوَ صَائِمٌ، فَأَكَلَ أَوْ شَرِبَ، فَلْيُتِمَّ صَوْمَهُ؛ فَإِنَّمَا أَطْعَمَهُ اللَّهُ وَسَقَاهُ». مُত্তফাকুন আলাইহি.

২৯. হজরত আবু হোরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রোজা অবস্থায় ভুলে পানাহার করে ফেলে, সে যেন রোজা পূর্ণ করে নেয়। কেননা, আল্লাহই তাকে পানাহার করিয়েছেন। [সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৯৩৩, সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১১৫৫]

৩০. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ তَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ، فَقَالَ: اِشْتَكَتْ عَيْنِي، أَفَأَكْتَحِلُ وَأَنَا صَائِمٌ؟ قَالَ: «نَعَمْ». أَخْرَجَهُ التَّرْمِذِيُّ.

৩০. হজরত আনাস বিন মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে এসে আরজ করল, আমি চক্ষুপীড়ায় আক্রান্ত। আমি কি রোজা রেখে চোখে সুরমা ব্যবহার করতে পারব? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, (পারবে)। [সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ৭২৬]

৩১. عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ তَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ : ( مَنْ ذَرَعَهُ القَيْءُ، فَلَيْসَ عَلَيْهِ قَضَاءُ، وَمَنِ اسْتَقَاءَ عَمَدًا فَلْيَقْضِ». أَخْرَجَهُ التَّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهُ.

৩১. হজরত আবু হোরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো ব্যক্তির বমি হলে তার রোজা কাজা করতে হবে না (অর্থাৎ তার রোজা ভাঙবে না)। আর যে ইচ্ছাকৃত বমি করবে, সে যেন আপন রোজা কাজা করে নেয়। (অর্থাৎ তার রোজা ভেঙে গেছে)। [সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ৭২০ ও সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস নং ১৬৭৬]

৩২. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ তَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: «تَسَحَّرُوْا؛ فَإِنَّ فِي السَّحُورِ بَرَكَةً». مُত্তফাকুন আলাইহি.

৩২. হজরত আনাস বিন মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা সাহরি গ্রহণ করো। কেননা, সাহরিতে বরকত রয়েছে। [সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৯২৩, সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১০৯৫]

৩৩. عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ তَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: « فَضْلُ مَا بَيْنَ صِيَامِنَا وَصِيَامِ أَهْلِ الْكِتَابِ أَكْلَةُ السَّحَرِ». أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ.

৩৩. হজরত আমর বিন আস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমাদের ও (ইহুদি-নাসারা তথা) আহলে কিতাবদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সাহরি গ্রহণ করা। (অর্থাৎ আমরা সাহরি গ্রহণ করি, তারা করে না)। [সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১০৯৬]

৩৪. عَنِ ابْنِ عُمَرَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা قَالَ: قَالَ رَسُوْলُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ তَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: «إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّوْنَ عَلَى الْمُتَسَخَرِينَ». أَخْرَجَهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْمُعْجَمِ الْأَوْسَطِ.

৩৪. হজরত আবদুল্লাহ বিন উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, স্বয়ং আল্লাহ তাআলা সাহরি গ্রহণকারীদের ওপর রহমত অবতীর্ণ করেন এবং তার ফিরেশতাগণ তাদের জন্য দোয়া করে। [আল-মুজামুল আওসাত, হাদিস নং ৬৩৪]

৩৫. عَنْ أَبِي سَعِيدِنِ الْخُدْرِيِّ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ তَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: «السَّحُوْরُ أَكْلُه بَرَكَةُ, ফালা তাদাহু, ওয়া লাও আন ইয়াজরা আহাদুকুম জুর'য়াতান মিন মায়িন, ফাকিনাল্লাহা আজ্জা ওয়া জাল্লা ওয়া মালাইকাতাহু ইউসাল্লুনা আলাল মুতাসাহহিরিন. আখরাজাহু আহমাদ.

৩৫. হজরত আবু সাইদ খুদরি রাযি. হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সাহরি খাওয়া বরকতপূর্ণ কাজ। সুতরাং তোমরা তা ছেড়ে দিয়ো না; যদিও এক ঢোক পানি দিয়ে হোক না কেন। কারণ যারা সাহরি গ্রহণ করে, আল্লাহ পাক তাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন এবং তাঁর ফিরেশতাগণ তাদের জন্য দোয়া করে। [মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ১১০৮৬]

৩৬. عَنِ ابْنِ عبَّاسٍ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ তَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ : «إِنَّا مَعَاشِرَ الْأَنْبِيَاءِ أُمِرْنَا أَنْ نُعَجِّلَ فِطْرَنَا، وَأَنْ نُؤَخِّرَ سَحُوْرَنَا، وَأَنْ نَضَعَ أَيْمَانَنَا عَلَى شَمَائِلِনা فِي الصَّلَاةِ». أَخْرَجَهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْمُعْجَمِ الْأَوْসতহি.

৩৬. হজরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রাযি. হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সকল নবীকে (সময় হয়ে গেলে দেরি না করে) দ্রুত ইফতার করতে আদেশ করা হয়েছে এবং সাহরি বিলম্বে খেতে বলা হয়েছে। আর নামাজে ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। [আল-মুজামুল আওসাত, হাদিস নং ১৮৮৪]

৩৭. عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ তَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: «نِعْمَ سَحُوْরُ الْمُؤْمِنِ التَّمْرُ». أَخْرَجَهُ أَبُوْ دَاউদ.

৩৭. হজরত আবু হোরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, খেজুর মুমিনের জন্য কতই না উত্তম সাহরি। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৩৪৫]

৩৮. عَنْ عُمَرَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: قَالَ رَسُوْলُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ তَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: «إِذَا أَقْبَلَ اللَّيْلُ وَأَدْبَرَ النَّهَارُ وَغَابَتِ الشَّمْسُ فَقَدْ أَفْطَرَ الصَّائِمُ». مُত্তফাকুন আলাইহি.

৩৮. হজরত উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন রজনী আগমন করে, দিবস বিদায় নেয় এবং সূর্য অস্তমিত হয়, তখন (যেন) রোজাদার ইফতার করে নেয়। [সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৯৫৪, সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১১০০]

৩৯. عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ তَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: «لاَ يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَّا عَجَّلُوا الْفِطْرَ». مُত্তফাকুন আলাইহি.

৩৯. হজরত সাহল বিন সাদ রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যতদিন মানুষ (সূর্যাস্তের পর সঙ্গে সঙ্গে) দ্রুত ইফতার করবে, যতদিন কল্যাণের পথে থাকবে। [সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৯৫৭ ও সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১০৯৮]

৪০. عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ তَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: « لَا يَزَالُ الدِّيْنُ ظَاهِرًا مَّا عَجَلَ النَّاسُ الْفِطْرَ؛ لِأَنَّ الْيَهُودَ وَالنَّصَارِي يُؤَخِّرُوْنَ». أَخْرَجَهُ أَبُوْ দাউদ.

৪০. হজরত আবু হোরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দ্বীন ততদিন বিজয়ী থাকবে, যতদিন মানুষ (সময়মতো) দ্রুত ইফতার করবে। কেননা, ইহুদি-নাসারারা ইফতারে (অহেতুক) বিলম্ব করে থাকে। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৩৫৩]

৪১. عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: قَالَ رَسُوْলُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ তَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: «قَالَ اللهُ تَعَالَى : أَحَبُّ عِبَادِي إِلَيَّ أَعْجَلُهُمْ فِطْرًا». أَخْرَجَهُ التَّرْمِذِيُّ.

৪১. হজরত আবু হোরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার প্রিয়তম বান্দা হলো যে দ্রুত ইফতার করে। [সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ৭০০]

৪২. عَنْ سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: قَالَ رَسُوْলُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ তَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: «إِذَا أَفْطَرَ أَحَدُكُمْ فَلْيُفْطِرُ عَلَى تَمْرٍ؛ فَإِنَّهُ بَرَكَةً، فَإِنْ لَّمْ يَجِدْ فَلْيُفْطِرْ عَلَى مَاءٍ؛ فَإِنَّه طَهُوْরُ. আখরাজাহু তিরমিজি.

৪২. হজরত সালমান বিন আমির রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ ইফতার করলে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে। কেননা, খেজুরে বরকত আছে। আর খেজুর না পেলে যেন পানি দিয়ে ইফতার করে. কেননা, পানি হলো পবিত্রকারী। [সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ৬৯৫]

৪৩. عَنْ مُعَاذِ بْنِ زُهْرَةَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ তَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ كَانَ إِذَا أَفْطَرَ قَالَ: «اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ، وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ». أَخْرَجَهُ أَبُوْ দাউদ.

৪৩. হজরত মুআয বিন যুহরা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইফতারের সময় এই দোয়া পাঠ করতেন— «اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ، وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ» হে আল্লাহ, আপনার (সন্তুষ্টির) জন্যই আমি রোজা রেখেছি এবং আপনার (দেওয়া) রিজিক দ্বারাই আমি ইফতার করেছি। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৩৫৮]

৪৪. عَنِ ابْنِ عُمَرَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ তَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ إِذَا أَفْطَرَ قَالَ: «ذَهَبَ الظَّمَأُ، وَابْتَلَتِ الْعُرُوقُ، وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ». أَخْرَجَهُ أَبُوْ দাউদ.

৪৪. হজরত আবদুল্লাহ বিন উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইফতারের সময় এই দোয়া পাঠ করতেন— «ذَهَبَ الظَّমَأُ، وَابْتَلَتِ الْعُرُوقُ، وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ» পিপাসা দূর হয়েছে, শিরা-উপশিরা সিক্ত হয়েছে এবং আল্লাহ চাহে তো আজর নিশ্চিত হয়েছে। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৩৫৭]

৪৫. عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ الزُّبَيْرِ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা قَالَ: أَفْطَرَ رَسُوْলُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ তَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ عِنْدَ سَعْدِ بْنِ مُعَাদٍ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, ফাকালাঃ «অাফতারা ইন্দাকুম আস-সায়িমুন, ওয়া আকাল তায়ামাকুম আল-আবরার, ওয়া সাল্লাত আলাইকুম আল-মালাইকা». আখরাজাহু ইবনে মাজাহ.

৪৫. হজরত আবদুল্লাহ বিন যুবায়র রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (একদিন) সাদ বিন মুআযের (বাড়িতে) ইফতার করলেন। তখন তিনি বললেন- أَفْطَرَ عِنْدَكُمُ الصَّائِمُوْنَ، وَأَكَلَ طَعَامَكُمُ الْأَبْرَارُ، وَصَلَّتْ عَلَيْكُمُ الْمَلَائِكَةُ» রোজাদারগণ তোমাদের কাছে ইফতার করুন, নেককারগণ তোমাদের আহার গ্রহণ করুন, আর ফিরেশতাগণ তোমাদের জন্য কল্যাণ প্রার্থনা করুন। [সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস নং ১৭৪৭]

৪৬. عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدِنِ الْجُهَنِيِّ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: قَالَ رَسُوْলُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ তَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: «مَنْ فَطَرَ صَائِمًا كَانَ لَه مِثْلُ أَجْرِهِ غَيْرَ أَنَّهُ لَا يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِ الصَّائِمِ شَيْئًا». أَخْرَجَهُ التَّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ.

৪৬. হজরত যায়দ বিন খালিদ জুহানি রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে ওই রোজাদারের সমান আজর লাভ করবে। তবে (এর কারণে) রোজাদারের আজর বিন্দুমাত্রও হ্রাস পাবে না। [সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ৮০৭, সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস নং ১৭৪৬]

৪৭. عَنْ عَائِشَةَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা ক্বলাত: কানা রাসূলুল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা ইয়াজতাহিদু ফিল আশরিল আওয়াখিরি মা লা ইয়াজতাহিদু ফি গাইরিহি. আখরাজাহু মুসলিম.

৪৭. হজরত আয়েশা সিদ্দিকা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (রমজানের) শেষ দশকে যে পরিমাণ মুজাহাদা করতেন, অন্য কখনো তা করতেন না। [সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১১৭৫]

৪৮. عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ তَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ يَعْتَكِفُ فِي كُلِّ رَمَضَانَ عَشَرَةَ أَيَّامٍ، فَلَمَّا كَانَ الْعَামুল্লাজি কুবিজা ফিহি ইতাকাফা ইশরিনা ইয়াওমা. আখরাজাহু বুখারি.

৪৮. হজরত আবু হোরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি রমজানে দশদিন ইতেকাফ করতেন। যে বছর তিনি ইনতেকাল করেন, সে বছর বিশদিন ইতেকাফ করেন। [সহিহ বুখারি, হাদিস নং ২০৪৪]

৪৯. عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা قَالَ: قَالَ رَسُوْলُ اللهِ صَلَّى اللهُ তَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ فِي الْمُعْتَكِفِ: «هُوَ يَعْكُفُ الذُّنُوبَ، وَيَجْرِي لَهُ مِنَ الْحَسَنَاتِ كَعَامِلِ الْحَسَنَاتِ كُلَّهَا». أَخْرَجَهُ ابْنُ মাজা.

৪৯. হজরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইতেকাফকারী সম্পর্কে বলেছেন, ইতেকাফকারী গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে আর সে (আমল না করেও) ওই সব নেক আমলের সাওয়াব লাভ করে, যা বাইরে অবস্থানকারীগণ (বাইরের বিভিন্ন আমলের মাধ্যমে) লাভ করে থাকে। [সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস নং ১৭৮১]

৫০. عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ তَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ : « মَنْ مَشَى فِي حَاجَةِ أَخِيهِ كَانَ خَيْرًا لَهُ مِنِ اعْتِكَافِ عَشْرِ سِنِينَ، وَمَنِ اعْتَكَفَ يَوْمًا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللهِ جَعَلَ اللهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ النَّارِ ثَلَاثَ خَنَادِقَ، كُلُّ خَنْدَقٍ أَبْعَدُ مِمَّا بَيْنَ الْخَافِقَيْنِ». আখরাজাহু তাবারানি ফিল মুজামিল আওসাত ওয়াল বায়হাকি ফি শুয়াবিল ইমান.

৫০. হজরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রাযি. হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এক দিন ইতিকাফ করবে, আল্লাহ তাআলা তার এবং জাহান্নামের মাঝে তিন খন্দক দূরত্ব সৃষ্টি করে দেবেন। প্রতি খন্দকের দূরত্ব আসমান- জমিনের মাঝের দূরত্বের চেয়েও বেশি। [আল-মুজামুল আওসাত, হাদিস নং ৭৩২৬ ও শুআবুল ঈমান, হাদিস নং ৩৬৭৯]

৫১. عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ তَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ لِيُخْبَرَنَا بِلَيْلَةِ الْقَدْرِ، فَتَلَاحَى رَجُلَانِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ، فَقَالَ: «খরাজাতু লি-উখবিরাকুম বি-লাইলাতিল কদরি ফাতালাহা ফুলানুন ওয়া ফুলানুন, ফারুফিয়াত, ওয়া আসা আন ইয়াকুনা খায়রান লাকুম, ফালতামিসুহা ফিত-তাসিআতি ওয়াস-সাবিআতি ওয়াল-খামিসাতি». আখরাজাহু বুখারি.

৫১. হজরত উবাদা বিন সামিত রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শবে কদরের নির্দিষ্ট তারিখ আমাদের জানানোর জন্য বের হলেন। এ সময় দুজন মুসলমান পরস্পর ঝগড়া করছিল। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি শবে কদরের নির্দিষ্ট তারিখ তোমাদের জানানোর জন্য বের হয়েছিলাম। কিন্তু অমুক ও অমুক ঝগড়া করছিল বিধায় তার নির্দিষ্ট তারিখ উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। হয়তো (এ উঠিয়ে নেওয়ার মধ্যেই) তোমাদের কোনো কল্যাণ নিহিত আছে। অতএব তোমরা নবম, সপ্তম ও পঞ্চম রজনীতে শবে কদর অন্বেষণ করো। [সহিহ বুখারি, হাদিস নং ২০২৩]

৫২. عَنْ عَائِشَةَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা ক্বলাত: কালা রাসূলুল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা: « تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ». আখরাজাহু বুখারি.

৫২. হজরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা রমজান মাসের শেষ দশকের বেজোড় রজনীগুলোতে শবে কদর তালাশ করো। [সহিহ বুখারি, হাদিস নং ২০১৭]

৫৩. عَنْ عَائِشَةَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা ক্বলাত: কুলতু: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আরাআইতা ইন আলিমতু আইয়ু লাইলাতিন লাইলাতুল কদরি, মা আকুলু ফিহা? কালা: «কুলী: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া, ফাফু আন্নি». আখরাজাহু তিরমিজি ওয়াবনু মাজাহ.

৫৩. হজরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসুলকে জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কোনো রাতটি লাইলাতুল কদর আমি যদি তা বুঝতে পারি তাহলে সে রাতে আমি কী দোয়া করব? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি এই দোয়া করবেঃ «اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ العَفْوَ وَالعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ» হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল-মহান। আপনি ক্ষমা পছন্দ করেন। সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। [সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ৩৫১৩ ও সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস নং ৩৮৫০]

৫৪. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ তَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: « ইজা কানা লাইলাতুল কদরি নাজালা জিবরিলু আলাইহিস সালামু ফি কাবকাবাতিন মিনাল মালাইকাতি ইউসাল্লুনা আলা কুল্লি আবদিন কায়িমিন আউ কায়িদিন ইয়াজকুরুল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা, ফা ইজা কানা ইয়াওমা ঈদাহুম ইয়ানি ইয়াওমা ফিতরিহিম বাহা বিহিম মালাইকাতাহু, ফাকালা: ইয়া মালাইকাতি মা জাজাউ আজিরিন ওয়াফি আমালাহু? কলু: রব্বানা জাজাউহু আন ইউওয়াফফা আজরাহু. কালা: মালাইকাতি আবিদি ওয়া ইমায়ি কজাও ফারিদতি আলাইহিম, ছুম্মা খরাজু ইয়াজ্জুনা ইলাদ দুয়ায়ি, ওয়া ইজ্জাতি ওয়া জালালি ওয়া করমি ওয়া উলুব্বি ওয়ারতিফা মাকানি লা-উজিবান্নাহুম. ফায়াকুলু: ইরজিউ, ফাকাদ গফারতু লাকুম, ওয়া বাদ্দালতু সাইয়িআতিকুম হাসানাত কালা: ফায়ারজিউনা মাগফুরান লাহুম. আখরাজাহু বায়হাকি ফি শুয়াবিল ইমান.

৫৪. হজরত আনাস বিন মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, শবে কদরে জিবরাইল আলাইহিস সালাম ফিরেশতাদের একটি জামাতসহ অবতরণ করেন এবং যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বা বসে আল্লাহর জিকিরে ব্যস্ত থাকে, তার জন্য রহমতের দোয়া করেন। এরপর ঈদুল ফিতরের দিন আল্লাহ তাআলা ফিরেশতাদের সামনে আপন বান্দাদের নিয়ে গর্ব করেন। আল্লাহ তাআলা জিজ্ঞেস করেন, হে ফিরেশতারা! যে মজদুর আপন দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করেছে, তার বিনিময় কী হতে পারে? ফিরেশতাগণ আরজ করে, হে আমাদের রব! তাকে তো বিনিময় হিসেবে তার পূর্ণ পারিশ্রমিক দেওয়া উচিত। এরপর আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, হে ফিরেশতারা! আমার বান্দা-বান্দিগণ তাদের ওপর আরোপিত আমার ফরজ বিধান পরিপূর্ণরূপে পালন করেছে, এরপর এখন উচ্চৈঃস্বরে দোয়া করতে করতে ঈদগাহের দিকে যাচ্ছে। আমার মহত্ত্ব ও প্রতাপের কসম, আমার দয়া ও মহত্ত্বের কসম, আমার অত্যুচ্চ মর্যাদার কসম, আমি অবশ্যই তাদের দোয়া কবুল করব। এরপর আল্লাহ তাআলা বান্দাদের প্রতি লক্ষ্য করে বলেন, যাও, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিলাম এবং তোমাদের গুনাহসমূহকে নেকি দ্বারা বদলে দিলাম। তখন তারা (ঈদগাহ থেকে) ক্ষমাপ্রাপ্ত অবস্থায় ফিরে আসে। [শুআবুল ঈমান, হাদিস নং ৩৪৪৪]

৫৫. عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা কালা: «ফারাজা রাসূলুল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা জাকাতাল ফিতরি তুহরাতান লিস-সায়িমি মিনাল লাগবি ওয়ার-রাফাছি ওয়া তু'মাতান লিল-মাসাকিন, মান আদ্দাহা ক্বাবলাস সালাতি ফাহিয়া জাকাতুন মাকবূলাহ, ওয়া মান আদ্দাহা বা'দাস সালাতি ফাহিয়া সাদাকাতুন মিনাস সাদাকাত». আখরাজাহু আবু দাউদ ওয়াবনু মাজাহ.

৫৫. হজরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোজাদারের অনর্থক ও অশ্লীল কর্মকাণ্ডের কাফফারা হিসেবে এবং দরিদ্রদের খাবার হিসেবে সদকায়ে ফিতর নির্ধারণ করেছেন। যে ব্যক্তি ঈদের সালাতের পূর্বে তা আদায় করে, তা গ্রহণযোগ্য সদকা হিসেবে গণ্য হয়ে। আর যে সালাতের পর আদায় করবে, তা সাধারণ সদকা হিসেবে গণ্য হয়। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ১৬০৯ ও সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস নং ১৮২৭]

৫৬. عَنْ عَائِشَةَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা আন হামজাতাল আসলামি রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সাআলার নাবিয়্যা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা, ফাকালা: ইয়া রসূলাল্লাহ! ইন্নি রজুলুন আসরুদুস সাওমা, আফা-আসূমু ফিস সাফারি? কালা: «সুম ইন শি'তা, ওয়া আফতির ইন শি'তা». মুততফাকুন আলাইহি.

৫৬. হজরত আয়েশা সিদ্দিকা রাযি. থেকে বর্ণিত, হজরত হামজা আসলামি রাযি. (একদা) রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি নিয়মিত রোজা রেখে থাকি। সফরেও কি আমি রোজা রাখব? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি রোজা রাখতে পারো, চাইলে না রাখলেও পারো। [সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৯৪৩ ও সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১১২১]

৫৭. عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ তَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: «মَنْ صَامَ يَوْماً فِي سَبِيلِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ زَحْزَحَ اللَّهُ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ بِذَلِكَ الْيَوْمِ سَبْعِينَ خَرِيْفاً». আখরাজাহু নাসায়ি ওয়াবনু মাজাহ.

৫৭. হজরত আবু হোরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর রাস্তায় যে ব্যক্তি একদিন রোজা রাখবে, আল্লাহ তাকে (সে দিনের রোজার বিনিময়ে) জাহান্নাম থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে দেবেন। [সুনানে নাসায়ি, হাদিস নং ২RecordNotFound৪৪ ও সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস নং ১৭১৮]

৫৮. عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ রজিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু قَالَ: قَالَ رَسُوْলُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ তَعَالَى عَلَيْهِ وَসَلَّমَ: «মَنْ صَامَ رَمَضَانَ، ثُمَّ أَتْبَعَه سِئًا مِّنْ شَوَّالٍ، كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ». আখরাজাহু মুসলিম.

৫৮. হজরত আবু আইয়ুব আনসারি রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখবে, এরপর শাওয়ালের ছয় রোজাও রাখবে, তার এই রোজা 'সিয়ামুদ-দাহর' (পুরো বছর রোজা রাখা)-এর সমতুল্য হবে। [সহিহ মুসলিম: ১১৬৪] -সমাপ্ত-

ফন্ট সাইজ
15px
17px