📄 ৫. জীবিকার খোঁজ না করে বেকার বসে থাকা
ইতিপূর্বে বলা হয়েছে, উপায়-অবলম্বন গ্রহণ করা তাওয়াক্কুলের অন্যতম শর্ত। অবলম্বন গ্রহণ না করা তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী। আমাদের এ কালে যে বালা-মুছীবত ব্যাপকতা লাভ করছে সে সম্পর্কে আমরা এখানে কিছু আলোচনা করছি। এ মুছীবত হ'ল বেকারত্ব। অনেক লোকই তাদের খাওয়া-পরার জন্য কোন কাজকর্ম না করে অন্যের উপর ভরসা করে পড়ে থাকে। ছেলে খাবারের জন্য পিতার উপর এবং ভাই চাকুরিজীবী বোনের উপর ভরসা করে থাকে। যুবশ্রেণী কোন ফলপ্রসূ কাজ তালাশ করে না, বরং তারা যে কাজে কোন শ্রম নেই কিংবা থাকলেও সামান্য তেমন কাজ নিয়ে পড়ে থাকতে ভালবাসে। জীবিকার জন্য শ্রম ও চেষ্টার উপর বেকার ও অলস সময় কাটানোকেই তারা প্রাধান্য দিয়ে থাকে। অথচ কুরআন-সুন্নাহতে জীবিকা উপার্জনের অনেক পথের কথা বলা হয়েছে। আমরা তার কিছু এসব অলস বেকারদের জন্য তুলে ধরছি।
(ক) জীবিকার সর্বপ্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ অবলম্বন এবং হালালের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় হালাল জীবিকা হ'ল যুদ্ধলব্ধ গণীমত। আল্লাহ বলেন, فَكُلُوا مِمَّا غَنِمْتُمْ حَلَالًا طَيِّبًا 'সুতরাং যুদ্ধে তোমরা যা কিছু গণীমত রূপে লাভ করেছ, তা হালাল ও পবিত্র হিসাবে ভক্ষণ কর' (আনফাল ৮/৬৯)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, وَجُعِلَ رِزْقِي تَحْتَ ظِلُّ رُمْحِى 'আর আমার জীবিকা রাখা হয়েছে আমার বর্শার ছায়াতলে'।
)খ) নিজ হাতে কামাই : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, مَا أَكَلَ أَحَدٌ طَعَامًا قَطُّ خَيْرًا مِنْ أَنْ يَأْكُلَ مِنْ عَمَلٍ يَدِهِ، وَإِنَّ نَبِيَّ اللَّهِ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلَامُ كَانَ يَأْكُلُ مِنْ عَمَلِ يَدِهِ - 'কোন ব্যক্তি নিজ হাতের কামাইয়ের মাধ্যমে যা খায় তার থেকে উত্তম কোন খাদ্য সে কখনো খায়নি। আল্লাহ্র নবী দাউদ নিজ হাতের কামাই থেকে জীবিকা নির্বাহ করতেন'।৪৩ তিনি আরো বলেন, لأن يَحْتَطِبَ أَحَدُكُمْ حُزْمَةً عَلَى ظَهْرِهِ خَيْرٌ مِنْ أَنْ يَسْأَلَ أَحَدًا، فَيُعْطِيَهُ أَوْ يَمْنَعَهُ - 'তোমাদের কারো পিঠে করে কাঠের বোঝা বয়ে নিয়ে যাওয়া অপরের কাছে ভিক্ষা চাওয়া অপেক্ষা অনেক ভাল, সে লোকটা তাকে দিতেও পারে আবার নাও পারে'।
(গ) ব্যবসা-বাণিজ্য : বহু আনছার ও মুহাজির ছাহাবীর পেশা ছিল ব্যবসা। আব্দুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ)-কে দেখুন, তার আনছারী ভাই তাকে তার মালের অর্ধেক দিতে চাইলে তিনি অস্বীকার করে বললেন, دُلُّونِي عَلَى السُّوق 'তোমরা আমাকে বাজারের রাস্তা দেখিয়ে দাও'।
(ঘ) চাষাবাদ ও ফল বাগান তৈরী : এগুলো জীবিকা অন্বেষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা এগুলোতে যতটা আল্লাহ্র উপর ভরসা করতে দেখা যায়, অন্য কোন কাজে তা দেখা যায় না। এতে প্রকৃতই আল্লাহ্র উপর ভরসা করতে হয়। কেননা চাষী যখন বীজ বপন করে, পানি সেচ দেয় তখন তার খুব ভাল মতো জানা থাকে যে, বীজের অঙ্কুরোদগম হওয়া আল্লাহ্র মর্যির উপর নির্ভরশীল, আবার প্রাকৃতিক বিপদ-আপদ থেকে ফসলের সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ্রই আছে। কত ফসল যে পঙ্গপালের আক্রমণে নিঃশেষ হয়ে গেছে! আর কত ক্ষেত-খামার অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, প্রচণ্ড তুষারপাতে ধ্বংস হয়ে গেছে তার ইয়ত্তা আছে কি?
এজন্যই চাষী কৃষকরা শ্রমজীবী লোকদের মধ্যে আল্লাহ্র সঙ্গে অধিক সম্পর্কযুক্ত মানুষ। তাকালেই তা নযরে আসবে ।
টিকাঃ
৪২. আহমাদ হা/৫১১৪; ইরওয়া হা/২৬৯১, আলবানী, সনদ ছহীহ।
৪৩. বুখারী হা/২০৭২; মিশকাত হা/২৭৫৯।
৪৪. বুখারী হা/২০৭৪।
৪৫. বুখারী হা/৫০৭২।
📄 ৬. চিকিৎসার চেষ্টা না করা
রোগশোক দেখা দিলে চিকিৎসার চেষ্টা না করা তাওয়াক্কুল পরিপন্থী কাজ। নবী করীম (ছাঃ) তো বলেছেন, مَا أَنْزَلَ اللهُ دَاءً إِلَّا أَنْزَلَ لَهُ شِفَاء 'আল্লাহ তা'আলা এমন কোন রোগ দেননি যার প্রতিষেধক বা চিকিৎসা তিনি দেননি'।
একইভাবে তিনি রোগের চিকিৎসা করতেও আদেশ দিয়েছেন। যেমন তিনি বলেছেন, يَا عِبَادَ اللَّهِ تَدَاوَوْا 'হে আল্লাহ্র বান্দাগণ, তোমরা চিকিৎসা করাও'।
আর চিকিৎসাতো আল্লাহ কর্তৃক বিধেয় অবলম্বনের অন্তর্গত।
টিকাঃ
৪৬. বুখারী হা/৫৬৭৮।
৪৭. তিরমিযী হা/২০৩৮; ইবনু মাজাহ হা/৩৪৩৬; হাদীছ ছহীহ।