📘 আল্লাহর উপর ভরসা > 📄 ৩. সকল কাজে আল্লাহ্র উপর নির্ভর করা

📄 ৩. সকল কাজে আল্লাহ্র উপর নির্ভর করা


সুখে-দুঃখে, সম্পদে-বিপদে সর্বাবস্থায় আমাদেরকে আল্লাহ্র উপর নির্ভর করতে হবে। এই নির্ভরতা কোনমতেই ঐসব জাহেল-মূর্খদের মত হবে না যারা সুযোগ-সুবিধা ও উপায়-উপকরণ হাতের নাগালে পেলে আল্লাহকে ভুলে বসে থাকে এবং উপায়-উপকরণ নিয়ে মেতে থাকে। আর সুযোগ-সুবিধা ও উপায়-উপকরণ হাতছাড়া হয়ে গেলে তখনই কেবল আল্লাহ্র উপর ভরসা করে।

📘 আল্লাহর উপর ভরসা > 📄 ৪. আল্লাহ্র প্রতি সুধারণা পোষণ

📄 ৪. আল্লাহ্র প্রতি সুধারণা পোষণ


মুমিন বান্দা যতই তার রবের উপর ভরসা করবে ততই তার প্রতি সুধারণা পোষণ করবে। সে জেনে রাখবে যে, মালিকের উপর যে ভরসা করে মালিক তার জন্য যথেষ্ট, তার আর অন্য কিছু প্রয়োজন নেই।

এতে করে তার অন্তর অস্থিরতায় ভুগবে না এবং দুনিয়া তার হাতে এল কিংবা হাতছাড়া হ'ল বলে কোন পরোয়া করবে না। কেননা তার নির্ভরতা তো তার মালিক আল্লাহ্র উপর। যেমন একজন বাদশাহ কোন লোককে এক টাকা দিল; কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ তা চুরি হয়ে গেল। তখন বাদশাহ তাকে বলল, চিন্তা কর না, আমার কাছে প্রচুর টাকা রয়েছে। তুমি যখনই আসবে আমি তোমাকে আমার কোষাগার থেকে তা কয়েকগুণ বেশী করে দেব। সুতরাং যে জানে যে, আল্লাহ সকল বাদশাহর বাদশাহ এবং তার ভাণ্ডার সব সময় পরিপূর্ণ থাকে, দুনিয়ার কোন স্বার্থ ছুটে গেলে তাতে সে পেরেশান হয় না বা অস্থিরতাবোধ করে না।

হাদীছে কুদসীতে এসেছে, আল্লাহ বলেন, أَنَا عِنْدَ ظَنٌ عَبْدِى بِئْ 'আমার বান্দা আমার সম্পর্কে যেমন ধারণা করে আমি তার নিকট তেমনই'।২ সুতরাং সুধারণা যেমন আল্লাহ্র উপর ভরসার দিকে আহ্বান জানায়, তেমনি আল্লাহ্র প্রতি তাওয়াক্কুলের মাঝেও অবশ্যই সুধারণা থাকে।

📘 আল্লাহর উপর ভরসা > 📄 ৫. আন্তরিকভাবে আল্লাহ্র নিকট আত্মসমর্পণ

📄 ৫. আন্তরিকভাবে আল্লাহ্র নিকট আত্মসমর্পণ


দুনিয়াতে একজন হীন ক্রীতদাস যেমন তার মনিবের অনুগত থাকে এবং তার কথা মেনে চলে, তেমন করে বান্দা যদি আল্লাহ্র আনুগত্য করে তাহ'লেই ভরসা অর্জিত হবে। কবি বলেন,

إذا ابتليت فثق بالله وارض به * إن الذي يكشف البلوى هو الله
إذا قضى الله فاستسلم لقدرته * ما لامريء حيلة فيما قضى الله
اليأس يقطع أحياناً بصاحبه * لا تيأسن فنعم القادر الله-
'বিপদ থেকে রক্ষা পেতে ভরসা করো আল্লাহ পরে,

টিকাঃ
৩২. বুখারী হা/৭৪০৫; মুসলিম হা/২৬৭৫।

📘 আল্লাহর উপর ভরসা > 📄 ৬. দায়িত্বভার সমর্পণ

📄 ৬. দায়িত্বভার সমর্পণ


ফেরাউনের দলবলে বসবাসকারী একজন মুমিনের যবানীতে আল্লাহ বলেছেন, فَسَتَذْكُرُونَ مَا أَقُوْلُ لَكُمْ وَأُفَوِّضُ أَمْرِي إِلَى اللهِ 'আমি যা তোমাদের (ফেরাউন ও তার লোকদের) বলছি অচিরেই তোমরা তা মনে করবে। আমি আমার দায়িত্বভার আল্লাহ্র নিকট সমর্পণ করছি' (মুমিন ৪০/৪৪)।

ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেছেন, إِنَّ أَكْبَرَ آيَةٍ فِي كِتَابِ اللَّهِ تَفْوِيضًا {وَمَنْ يَتَّقِ اللهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لا يَحْتَسِبُ} 'আল্লাহর নিকট সমর্পণ সংক্রান্ত আল্লাহ্র কিতাবে সবচেয়ে বড় আয়াত আল্লাহ্র বাণী 'আর যে আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ তার জন্য বেরোনোর উপায় করে দেন এবং তাকে এমন স্থান থেকে জীবিকা দেন যা সে ভাবতেও পারে না' (তালাক্ব ৬৫/২-৩)।

আল্লামা ইবনুল কাইয়িম তাঁর শিক্ষক ইবনু তায়মিয়ার বরাত দিয়ে বলেছেন, 'ফায়ছালাকৃত বিষয়কে দু'টি জিনিস ঘিরে থাকে। আগে থাকে ভরসা পরে থাকে সন্তুষ্টি। সুতরাং কাজে নামার আগে যে আল্লাহ্র উপর ভরসা করে এবং কাজের পরে আল্লাহ্র উপর সন্তুষ্ট থাকে, সেই উবূদিয়াত বা দাসত্বের দায়িত্ব পালন করে'।

এজন্যই ইস্তিখারার দো'আয় দেখুন বলা হয়েছে, وَاقْدُرْ لِيَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ، ثُمَّ أَرْضِنِي بِهِ - 'আমার জন্য কল্যাণ নির্ধারণ কর, তা সে যেখানেই হোক ও তাতে আমাকে খুশী রাখ'। সুতরাং সিদ্ধান্তকৃত কাজে নেমে পড়ার আগে আল্লাহ্র উপর ভরসা করলে তা হবে আল্লাহ্র নিকট কর্মভার সমর্পণ, আর কাজ শেষে তার উপর ভরসা করলে তা হবে সন্তুষ্টি।

টিকাঃ
৩৩. শিহাবুদ্দীন আল-আবশীহী, আল-মুস্তাত্বরাফ ২/১৫১।
৩৪. আল-মু'জামুল কাবীর, ৯/১৩৩, হা/৮৬৫৯; মাজমাউয যাওয়ায়েদ হা/১১৪২২।
৩৫. ইবনুল কাইয়িম, মাদারিজুস সালিকীন ২/১২২।
৩৬. বুখারী হা/১১৬২; তিরমিযী হা/৪৮০; নাসাঈ হা/৩২৫৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00