📄 ১. রব ও তাঁর গুণাবলীর পরিচয় লাভ
বান্দাকে তার প্রভুর নাম ও গুণাবলীসহ জানতে হবে। প্রভুর ক্ষমতা, যথেষ্টতা, রক্ষণাবেক্ষণ, শক্তিমত্তা, শ্রেষ্ঠত্ব, চিরঞ্জীবতা, ঘুম-ক্লান্তির ধারে-কাছেও না ঘেঁষা ইত্যাদি সম্পর্কে জানা। বান্দা যখন এসব কিছু জানবে ও বুঝবে তখনই সে যথাযথভাবে আল্লাহ্র উপর ভরসা করবে এবং জানতে পারবে যে, সে এক পরাক্রমশালী মহাশক্তিধরের নিকট তার সবকিছু সঁপে দিয়েছে।
📄 ২. তাওহীদের পথে দৃঢ় থাকা
বান্দা যখন তাওহীদ বা আল্লাহ্র একত্ববাদে বিশ্বাস নিশ্চিত করতে পারবে, তখন তার তাওয়াক্কুলের একটি বিরাট অংশ অর্জিত হবে। আল্লাহ বলেন, فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ 'এসত্ত্বেও যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলে দাও, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তার উপরেই আমি ভরসা করি' (তওবা ৯/১২৯)। আল্লাহকে যথেষ্ট ভাবাই তো তাওহীদ ও ভরসা।
📄 ৩. সকল কাজে আল্লাহ্র উপর নির্ভর করা
সুখে-দুঃখে, সম্পদে-বিপদে সর্বাবস্থায় আমাদেরকে আল্লাহ্র উপর নির্ভর করতে হবে। এই নির্ভরতা কোনমতেই ঐসব জাহেল-মূর্খদের মত হবে না যারা সুযোগ-সুবিধা ও উপায়-উপকরণ হাতের নাগালে পেলে আল্লাহকে ভুলে বসে থাকে এবং উপায়-উপকরণ নিয়ে মেতে থাকে। আর সুযোগ-সুবিধা ও উপায়-উপকরণ হাতছাড়া হয়ে গেলে তখনই কেবল আল্লাহ্র উপর ভরসা করে।
📄 ৪. আল্লাহ্র প্রতি সুধারণা পোষণ
মুমিন বান্দা যতই তার রবের উপর ভরসা করবে ততই তার প্রতি সুধারণা পোষণ করবে। সে জেনে রাখবে যে, মালিকের উপর যে ভরসা করে মালিক তার জন্য যথেষ্ট, তার আর অন্য কিছু প্রয়োজন নেই।
এতে করে তার অন্তর অস্থিরতায় ভুগবে না এবং দুনিয়া তার হাতে এল কিংবা হাতছাড়া হ'ল বলে কোন পরোয়া করবে না। কেননা তার নির্ভরতা তো তার মালিক আল্লাহ্র উপর। যেমন একজন বাদশাহ কোন লোককে এক টাকা দিল; কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ তা চুরি হয়ে গেল। তখন বাদশাহ তাকে বলল, চিন্তা কর না, আমার কাছে প্রচুর টাকা রয়েছে। তুমি যখনই আসবে আমি তোমাকে আমার কোষাগার থেকে তা কয়েকগুণ বেশী করে দেব। সুতরাং যে জানে যে, আল্লাহ সকল বাদশাহর বাদশাহ এবং তার ভাণ্ডার সব সময় পরিপূর্ণ থাকে, দুনিয়ার কোন স্বার্থ ছুটে গেলে তাতে সে পেরেশান হয় না বা অস্থিরতাবোধ করে না।
হাদীছে কুদসীতে এসেছে, আল্লাহ বলেন, أَنَا عِنْدَ ظَنٌ عَبْدِى بِئْ 'আমার বান্দা আমার সম্পর্কে যেমন ধারণা করে আমি তার নিকট তেমনই'।২ সুতরাং সুধারণা যেমন আল্লাহ্র উপর ভরসার দিকে আহ্বান জানায়, তেমনি আল্লাহ্র প্রতি তাওয়াক্কুলের মাঝেও অবশ্যই সুধারণা থাকে।