📄 ৫. বিনা হিসাবে জান্নাত লাভ
হাদীছে এসেছে উম্মতে মুহাম্মাদীর মধ্য থেকে সত্তর হাযার লোক বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে। তারা ঐ সকল লোক যারা সর্বাবস্থায় আল্লাহ্র উপর ভরসা করত। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হ'তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
عُرِضَتْ عَلَى الأُمَمُ ، فَجَعَلَ النَّبِيُّ وَالنَّبِيَّانِ يَمُرُّوْنَ مَعَهُمُ الرَّهْطُ، وَالنَّبِيُّ لَيْسَ مَعَهُ أَحَدٌ، حَتَّى رُفِعَ لِى سَوَادٌ عَظِيمٌ، قُلْتُ مَا هَذَا؟ أُمَّتِي هَذِهِ؟ قِيْلَ هَذَا مُوسَى وَقَوْمُهُ. قَبْلَ انْظُرْ إِلَى الأُفُقِ. فَإِذَا سَوَادُ يَمْلأُ الْأُفُقَ، ثُمَّ قِيْلَ لِي انْظُرْ هَاهُنَا وَهَاهُنَا فِي آفَاقِ السَّمَاءِ فَإِذَا سَوَادٌ قَدْ مَلأَ الْأُفُقَ قِيْلَ هَذِهِ أُمَّتُكَ وَيَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْ هَؤُلَاءِ سَبْعُوْنَ أَلْفًا بِغَيْرِ حِسَابٍ، ثُمَّ دَخَلَ وَلَمْ يُبَيِّنْ لَهُمْ فَأَفَاضَ الْقَوْمُ وَقَالُوْا نَحْنُ الَّذِينَ آمَنَّا بِاللهِ، وَاتَّبَعْنَا رَسُولَهُ، فَنَحْنُ هُمْ أَوْ أَوْلَادُنَا الَّذِينَ وُلِدُوْا فِى الإِسْلَامِ فَإِنَّا وُلِدْنَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ. فَبَلَغَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَخَرَجَ فَقَالَ هُمُ الَّذِينَ لاَ يَسْتَرْقُوْنَ، وَلَا يَتَطَيَّرُونَ، وَلَا يَكْتَوُوْنَ وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُوْنَ. فَقَالَ عُكَاشَةُ بْنُ مِحْصَنٍ أَمِنْهُمْ أَنَا يَا رَسُوْلَ اللهِ؟ قَالَ : نَعَمْ . فَقَامَ آخَرُ فَقَالَ أَمِنْهُمْ أَنَا ؟ قَالَ : سَبَقَكَ عُكَاشَةُ -
'আমার সামনে (বিভিন্ন নবীর) উম্মাতকে তুলে ধরা হ'ল। এক এক করে একজন বা দু'জন নবী অতিক্রম করলেন; তাদের সাথে ছিল একটি (ক্ষুদ্র) দল। আবার কোন নবীর সাথে একজনও ছিল না। এমন করতে করতে আমার সামনে একটা বড়সড় দল তুলে ধরা হ'ল। আমি বললাম, এরা কারা? এরা কি আমার উম্মাত? বলা হ'ল, এরা মূসা ও তাঁর উম্মাত। আমাকে বলা হ'ল, আপনি দিগন্তের দিকে তাকান। দেখলাম, একটা দলে দিগন্ত ভরে গেছে। আবার বলা হ'ল, আপনি আকাশের এদিকে ওদিকে তাকান। তখন দেখলাম, আকাশের সবগুলো কোণ লোকে লোকারণ্য হয়ে আছে। আমাকে বলা হ'ল, এরাই আপনার উম্মাত। এদের মধ্য থেকে সত্তর হাযার লোক কোন হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে। কিছুক্ষণ পর তিনি লোকগুলোর বৈশিষ্ট্য ছাহাবীদের নিকট না বলেই বাড়ীর ভেতর চলে গেলেন। তখন উপস্থিত লোকেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে লাগল- আমরাই তো তারা, যারা আল্লাহ্র উপর ঈমান এনেছি এবং তাঁর রাসূলের অনুসরণ করেছি; সুতরাং আমরাই তারা। কিংবা আমাদের সন্ত ানেরা হবে, যারা ইসলামের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছে। আর আমরা জাহেলিয়াতের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছি। নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট বলাবলির এ কথা পৌঁছলে পরে তিনি বাইরে এসে বললেন, তারা ঐ সকল লোক যারা (রোগ-ব্যাধিতে) মন্ত্র-তন্ত্রের ধার ধারে না, কুলক্ষণে বিশ্বাস করে না, আগুন দিয়ে দাগ দেয় না (আগুনের দাগ দিয়ে চিকিৎসা করে না) এবং তাদের রবের উপরেই কেবল ভরসা করে। তখন উকাশা ইবনু মিহছান নামক এক ছাহাবী বলে উঠলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি কি তাদের একজন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। অন্য আরেকজন দাঁড়িয়ে বললেন, আমিও কি তাদের অন্তর্ভুক্ত? তিনি বললেন, এ বিষয়ে উকাশা তোমার থেকে এগিয়ে'।
টিকাঃ
২৯. বুখারী হা/৫৭০৫; মুসলিম হা/২২০।
📄 ৬. জীবিকা লাভ;
ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, لَوْ أَنَّكُمْ كُنتُمْ تَوَكَّلُونَ عَلَى اللهِ حَقَّ تَوَكَّلِهِ لَرُزِقْتُمْ كَمَا تُرْزَقُ الطَّيْرُ تَغْدُو خِمَاصًا وَتَرُوْحُ بِطَانًا - 'তোমরা যদি আল্লাহ্র উপর যথাযথভাবে ভরসা করতে তাহ'লে পাখপাখালির মতই তোমরা জীবিকা পেতে। তারা ভোরবেলায় ওঠে ক্ষুধার্ত অবস্থায়, আর সন্ধ্যায় ভরা পেটে নীড়ে ফেরে'।
📄 পরিবার ও সন্তান-সন্ততির হেফাযত
হযরত ইয়াকুব (আঃ) তাঁর পুত্রদের মিসর গমনকালে আত্মরক্ষামূলক কিছু উপদেশ দিয়েছিলেন। তারপর তিনি নিজের বিষয়-আশয়কে আল্লাহ্র যিম্মায় সোপর্দ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَعَلَيْهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُتَوَكَّلُوْنَ - 'আল্লাহ ব্যতীত কারো হুকুম চলে না। তাঁর উপরেই আমি ভরসা করি এবং তাঁর উপরেই ভরসা করা উচিত সকল ভরসাকারীর' (ইউসুফ ১২/৬৭)।
আল্লাহ্র উপর ভরসা এজন্যই করতে হবে যে, তিনিই হেফাযতকারী। নিজের জীবন, পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্ততি রক্ষায় তাঁর উপরই নির্ভর করা কর্তব্য।
📄 ৮. শয়তান থেকে রক্ষা
আল্লাহ তা'আলা বলেন, إِنَّمَا النَّجْوَى مِنَ الشَّيْطَانِ لِيَحْزُنَ الَّذِينَ آمَنُوا ، وَلَيْسَ بِضَارِّهِمْ شَيْئًا إِلَّا بِإِذْنِ اللهِ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ - 'গোপন সলাপরামর্শ তো কেবল শয়তানের পক্ষ থেকে হয়, যাতে মুমিনরা কষ্ট পায়। কিন্তু আল্লাহ্র হুকুম না হ'লে সে তাদের কোনই ক্ষতি করতে পারে না। আর মুমিনদের কর্তব্য তো আল্লাহ্র উপর ভরসা করা' (মুজাদালাহ ৫৮/১০)।
এ আয়াতে আল্লাহ স্পষ্ট করেছেন যে, তার অনুমোদন ব্যতীত শয়তান তাঁর বান্দাদের ক্ষতি করতে পারে না। তারপর তিনি তার বান্দাদেরকে শয়তানের হাত থেকে নিরাপদে থাকার জন্য তাঁর উপর ভরসা করতে বলেছেন।
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, مَنْ قَالَ : يَعْنِي إِذَا خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ - بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ لَا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بالله. يُقَالُ لَهُ كُفِيتَ وَوُقِيتَ. وَتَنَحَّى عَنْهُ الشَّيْطَانُ - 'যখন কোন ব্যক্তি নিজ বাড়ী থেকে বের হওয়ার সময় বলে 'বিসমিল্লা-হি তাওয়াক্কালতু আলাল্লা-হি লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ' (আল্লাহ্র নামে বের হ'লাম, আল্লাহ্র উপর ভরসা করলাম, আল্লাহ ছাড়া পাপ থেকে বাঁচা এবং নেকীর কাজ করার কোনই উপায় নেই')। তাকে লক্ষ্য করে বলা হয়, তোমার জন্য এটা যথেষ্ট হয়েছে এবং তোমার নিরাপত্তা মিলেছে। আর শয়তান তখন তার থেকে দূরে সরে যায়।
টিকাঃ
৩০. তিরমিযী হা/২৩৪৪, মিশকাত হা/৫২৯৯, ইবনু মাজাহ হা/২৩৪৪, সনদ ছহীহ।
৩১. তিরমিযী হা/৩৪২৬, সনদ ছহীহ।