📘 আল্লাহর উপর ভরসা > 📄 ১. যে আল্লাহ্র উপর ভরসা করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট

📄 ১. যে আল্লাহ্র উপর ভরসা করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট


আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন, وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا، وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لا يَحْتَسِبُ وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللهِ فَهُوَ حَسْبُهُ إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا - 'আর যে আল্লাহকে ভয় করে তিনি তার জন্য বেরোনোর পথ বের করে দেন এবং তাকে এমন স্থান থেকে জীবিকা দেন যা সে ভাবতেও পারে না। আর যে আল্লাহ্র উপর ভরসা করে তিনি তার জন্য যথেষ্ট হন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তার কাজ চূড়ান্তকারী। অবশ্যই আল্লাহ প্রত্যেক কাজের জন্য একটা পরিমাপ ঠিক করে রেখেছেন' (তালাক্ব ৬৫/২-৩)।

আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেকটি কাজের সমজাতীয় প্রতিফল নির্ধারণ করে রেখেছেন। তিনি তাওয়াক্কুলের প্রতিদান নির্ধারণ করেছেন প্রাচুর্যতা। সুতরাং যে আল্লাহকে যথেষ্ট জানবে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হবেন। আর আল্লাহ যার তত্ত্বাবধান করবেন তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। কবি বলেন,

وإذا دجا ليل الخطوب وأظلمت + سبل الخلاص وخاب فيها الأمل
وأيست من وجه النجاة فما لها + سبـب ولا يدنو لها متناول
يأتيك من ألطافه الفرج الذي + لم تحتسبه وأنت عنه غافل

আঁধার যখন জমায় খেলা আশার পরে
মুক্তি যখন নাগাল থেকে অনেক দূরে
হতাশ হয়ে থমকে দাঁড়ায় আশাবাদী
তুমিও যখন নাজাত লাভে হতাশাবাদী
আশীষ তখন আসেরে ভাই এমন পথে
ধারণা তার পাওনি কভু, ভাবনি যা কোন কালে ।

যেহেতু নবী করীম (ছাঃ) ছিলেন আল্লাহ্র উপর সবচেয়ে বড় তাওয়াক্কুলকারী তাই আল্লাহও তাকে যথোপযুক্ত প্রতিফল দিয়েছেন। তিনি তার জন্য যথেষ্ট হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ حَسْبُكَ اللَّهُ وَمَنِ أَتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ - 'হে নবী! তোমার ও তোমার অনুসারী মুমিনদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট' (আনফাল ৮/৬৪)। অর্থাৎ নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনার জন্য যথেষ্ট, আর সেই মুমিনরাও আপনার জন্য যথেষ্ট যারা আল্লাহ্র নিকটে তাদের ভরসাকে সত্য প্রমাণ করতে পেরেছে। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, وَإِنْ يُرِيدُوا أَنْ يَخْدَعُوكَ فَإِنَّ حَسْبَكَ اللهُ هُوَ الَّذِي أَيْدَكَ بِنَصْرِهِ وَبِالْمُؤْمِنِينَ - 'আর যদি তারা তোমাকে প্রতারিত করতে চায়, তবে তোমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তিনিই তোমাকে শক্তি যুগিয়েছেন স্বীয় সাহায্য দিয়ে ও মুমিনদের মাধ্যমে' (আনফাল ৮/৬২)।

আল্লামা ইবনুল কাইয়িম (রহঃ( حَسْبُكَ اللهُ এর অর্থ প্রসঙ্গে বলেন, অর্থাৎ তিনি তাঁর জন্য যথেষ্ট। আর আল্লাহ যার জন্য যথেষ্ট এবং আল্লাহ যার রক্ষাকারী তার শত্রু তাকে হেনস্তা করার আদৌ কোন সুযোগ পায় না। সে তার কোনই ক্ষতি করতে পারে না, তবে যে কষ্টটুকু তার নছীবে আছে তা থেকে অবশ্য তার নিষ্কৃতি মিলবে না। যেমন আল্লাহ বলেছেন, کُنْ يَضُرُّوكُمْ إِلَّا أَذًى 'তারা তোমাদের কোনই ক্ষতি করতে পারবে না কিছু কষ্ট দেওয়া ব্যতীত' (আলে ইমরান ৩/১১১)।

এ কষ্ট যেমন শীত, গ্রীষ্ম, ক্ষুধা, পিপাসা ইত্যাদি। তবে তার ইচ্ছা পূরণের মাধ্যমে মুমিনদের যে ক্ষতি করবে তা সম্ভব হবে না।

লেখক ছালেহ আল-মুনাজ্জিদ বলেন, হজ্জের মওসুমে আমাকে জনৈক চেচেন (شیشانی) এই ঘটনাটি বর্ণনা করেছিলেন। তিনি বলেন, রুশ বাহিনী আমার বাড়ী ঘেরাও করে। বাড়ীর সকল লোক পালিয়ে যায়, কিন্তু আমি পালাতে পারিনি। এমন সংকটাপন্ন মুহূর্তে আমি বাড়ীর পাশে একটা গর্তের দিকে যাই। সেখানে আমি কিছু আলুর উপজাত মরা গাছ ইত্যাদি জড়ো করি এবং নিজেকে গর্তের মাঝে সঁপে দেই। আমার কাছে না আত্মরক্ষা করার মত কোন অস্ত্র ছিল, না পালানোর কোন সামর্থ্য ছিল। সৈন্যরা যখন গর্তের নিকটে এসে গেল তখন আল্লাহ্র উপর ভরসা করা ছাড়া আমার আর কোন গত্যন্তর ছিল না । আমি তখন এই আয়াত পড়ছিলাম- وَجَعَلْنَا مِنْ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ سَدًّا وَمِنْ خَلْفِهِمْ سَدًّا فَأَغْشَيْنَاهُمْ فَهُمْ لَا يُبْصِرُوْنَ - 'আর আমি তাদের সামনে ও পিছনে (হঠকারিতার) দেওয়াল স্থাপন করেছি। অতঃপর তাদেরকে (মিথ্যার অন্ধকারে) ঢেকে ফেলেছি। ফলে তারা (সত্য) দেখতে পায় না' (ইয়াসীন ৩৬/৯)।

একজন সৈনিক গর্তের মধ্যে কেউ আছে কি-না তার অনুসন্ধান করতে আসে। সে সরাসরি আমার চোখে চোখ রাখে; কিন্তু তারপরও তার সঙ্গীদের বলে ওঠে- চলো যাই, এখানে কেউ নেই। তারা তখন বাড়ী থেকে বের হয়ে গেল এবং আমাকে ছেড়ে গেল'। এটি আল্লাহ্র উপর প্রকৃত তাওয়াক্কুলের একটি নমুনা।

টিকাঃ
২৭. কামালুদ্দীন দামীরী, হায়াতুল হায়ওয়ান আল-কুবরা ২/১৭।
২৮. ইবনুল কাইয়িম, বাদায়েউল ফাওয়ায়েদ ২/৪৬৫।

📘 আল্লাহর উপর ভরসা > 📄 ২. আল্লাহ সঙ্গে থাকার অনুভূতি;

📄 ২. আল্লাহ সঙ্গে থাকার অনুভূতি;


মানুষ যখন আল্লাহ্র উপর ভরসা করে, তার উপর যত ভরসা করে ততই সে অনুভব করে যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তার সাথে আছে। তার ইচ্ছা পূরণে তিনি অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন। এ ধরনের চিন্তা-চেতনাই সর্বদা আল্লাহ সাথে থাকার অনুভূতি।

📘 আল্লাহর উপর ভরসা > 📄 ৩. মালিকের ভালবাসা লাভ

📄 ৩. মালিকের ভালবাসা লাভ


যে আল্লাহ্ উপর যথাযথভাবে ভরসা করে আল্লাহ তাকে ভালবাসেন। কেননা এই তাওয়াক্কুলকারী আল্লাহ্র হুকুম মত কাজ করেছে; যেসব উপায়-উপকরণ আল্লাহ বৈধ করেছেন সে তা গ্রহণ করেছে; তার মনটা তার প্রভুর সাথে সর্বদা জুড়ে রয়েছে। সুতরাং মালিকের সাথে তার ভালবাসা তো অবশ্যই তৈরী হবে। তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে বান্দা তার রব ও খালেকের সঙ্গে মহব্বত বৃদ্ধি করে থাকে। কেননা সে জানে আল্লাহ তার হেফাযতকারী, সাহায্যকারী, তাকে ঐশ্বর্য দানকারী এবং তার জীবিকা দানকারী।

📘 আল্লাহর উপর ভরসা > 📄 ৪. শত্রুর বিরুদ্ধে সাহায্য

📄 ৪. শত্রুর বিরুদ্ধে সাহায্য


যে আল্লাহ্র উপর ভরসা করে আল্লাহ তাকে তার শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে সাহায্য করেন, তাদের বিরুদ্ধে বিজয় লাভের উপকরণ যুগিয়ে দেন এবং তার সামনে তাদেরকে অপদস্থ করেন। ছাহাবীগণ একথা ভালমত জানতেন এবং আল্লাহ্র উপর ভরসা করতেন বলেই তারা বলেছিলেন, حَسْبُنَا اللهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ، فَانْقَلَبُوْا بِنِعْمَةٍ مِنَ اللهِ وَفَضْلٍ لَمْ يَمْسَسْهُمْ سُوْءٌ وَاتَّبَعُوْا رِضْوَانَ اللَّهِ وَاللَّهُ ذُو فَضْلٍ عَظِيمٍ - 'আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি কতই না সুন্দর তত্ত্বাবধায়ক'! 'অতঃপর তারা আল্লাহ্ অনুগ্রহ ও কল্যাণ সহ ফিরে এল। কোনরূপ অনিষ্ট তাদের স্পর্শ করেনি। তারা কেবল আল্লাহ্র সন্তুষ্টির অনুসরণ করেছিল। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল' (আলে ইমরান ৩/১৭৩-৭৪)।

আহযাব (খন্দক) যুদ্ধে মুমিনদের অবস্থা বর্ণনায় আল্লাহ বলেন,
وَلَمَّا رَأَى الْمُؤْمِنُوْنَ الْأَحْزَابَ قَالُوا هَذَا مَا وَعَدَنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَصَدَقَ اللهُ وَرَسُولُهُ وَمَا زَادَهُمْ إِلَّا إِيْمَانًا وَتَسْلِيمًا -
'আর মুমিনগণ যখন শত্রু দল সমূহকে দেখল, তখন তারা বলল, এটা তো তাই, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদেরকে যার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সত্য বলেছেন। আর এটি তাদের ঈমান ও আনুগত্যকে আরও বৃদ্ধি করল' (আহযাব ৩৩/২২)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00