📘 আল্লাহর উপর ভরসা > 📄 ৯. আল্লাহ্র পথে হিজরতে তাওয়াক্কুল

📄 ৯. আল্লাহ্র পথে হিজরতে তাওয়াক্কুল


হিজরত বা আপন বাসগৃহ ও সমাজ ছেড়ে অচেনা অপরিচিত সমাজে গমন খুবই বেদনা-বিধুর বিষয়। নিজের আশ্রয়, ঘর-বাড়ী ও সহায়-সম্পদ ছেড়ে বাইরের দেশে চলে যাওয়া মোটেও কোন সহজ কাজ নয়। হিজরতকারীকে এজন্য নিজের সমাজ ও প্রিয় স্মৃতিগুলো কুরবানী দিতে হয়। এমন ক্ষেত্রেও আল্লাহ তা'আলা তার বান্দাদেরকে তাঁর উপর ভরসাকারী গুণে গুণান্বিত করেছেন। হিজরত যতই কষ্টকর ও বেদনাময় হোক না কেন, আল্লাহ্র উপর ভরসার ফলে তা সহজ হয়ে যায়। আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَالَّذِيْنَ هَا جَرُوْا فِي اللهِ مِنْ بَعْدِ مَا ظُلِمُوا لَنُبَوِّثَنَّهُمْ فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَلَأَجْرُ الْآخِرَةِ أَكْبَرُ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُوْنَ الَّذِينَ صَبَرُوا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُوْنَ - 'যারা অত্যাচারিত হওয়ার পর আল্লাহ্র পথে হিজরত করেছে, আমরা অবশ্যই তাদেরকে দুনিয়ার উত্তম আবাস দান করব এবং আখেরাতের পুরস্কারই তো শ্রেষ্ঠ, যদি তারা জানত। যারা ধৈর্য ধারণ করে ও তাদের প্রতিপালকের উপর ভরসা করে' (নাহল ১৬/৪১-৪২)।

📘 আল্লাহর উপর ভরসা > 📄 ১০. বেচা-কেনা

📄 ১০. বেচা-কেনা


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

📘 আল্লাহর উপর ভরসা > 📄 শ্রম ও বিবাহ চুক্তিতে অটল-অবিচল থাকতে তাওয়াক্কুল

📄 শ্রম ও বিবাহ চুক্তিতে অটল-অবিচল থাকতে তাওয়াক্কুল


হযরত মূসা (আঃ) এমন তাওয়াক্কুলের পরিচয় দিয়েছিলেন। ফেরাউনের গ্রেপ্তার থেকে বাঁচার জন্য তিনি মিসর ছেড়ে মাদইয়ান যাত্রা করেন। সেখানে ঘটনাক্রমে এক নেককার লোকের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়ে যায়। তিনি সেই নেককার লোক যার বাড়িতে মূসা (আঃ) আট বছর এবং সম্ভব হলে দশ বছর মযদুরী করলে নিজের মেয়েকে তাঁর সাথে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন,

قَالَ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أُنْكِحَكَ إِحْدَى ابْنَتَيَّ هَاتَيْنِ عَلَى أَنْ تَأْجُرَنِي ثَمَانِيَ حِجَجٍ فَإِنْ أَتْمَمْتَ عَشْرًا فَمِنْ عِنْدِكَ وَمَا أُرِيدُ أَنْ أَشُقَّ عَلَيْكَ سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّالِحِينَ - قَالَ ذَلِكَ بَيْنِي وَبَيْنَكَ أَيْمَا الْأَجَلَيْنِ قَضَيْتُ فَلَا عُدْوَانَ عَلَيَّ وَاللَّهُ عَلَى مَا تَقُوْلُ وَكِيلٌ -

'তখন পিতা মূসাকে বললেন, আমি আমার এই মেয়ে দু'টির একজনকে তোমার সাথে বিয়ে দিতে চাই এই শর্তে যে, তুমি আট বছর আমার (বাড়ীতে) কর্মচারী থাকবে। তবে যদি দশ বছর পূর্ণ কর, সেটা তোমার ইচ্ছা। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না। আল্লাহ চাহেন তো তুমি আমাকে সদাচারী হিসাবে পাবে। মূসা বলল, আমার ও আপনার মধ্যে উক্ত চুক্তিই স্থির হ'ল। দু'টি মেয়াদের মধ্যে যেকোন একটি পূর্ণ করলে আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকবে না। আর আমরা যা বলছি, আল্লাহ তার উপরে তত্ত্বাবধায়ক' (ক্বাছাছ ২৮/২৭-২৮)।

হযরত মূসা (আঃ) প্রতিশ্রুতি মত পুরোপুরি দশ বছরই ঐ নেককার বান্দার বাড়ীতে মযদুরী করেছিলেন।

ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, قَضَى أَكْثَرَهُمَا وَأَطْيَبَهُمَا، إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَالَ فَعَلَ - 'তিনি দু'টি মেয়াদের বেশী ও উত্তমটাই পূর্ণ করেছিলেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ) যখন যা বলেন তখন তা বাস্ত বায়নও করেন'। পরিপূর্ণরূপে কার্যসাধনই নবীর জন্য শোভনীয়।

📘 আল্লাহর উপর ভরসা > 📄 ১১. আখেরাতে সুফল লাভের আশায় তাওয়াক্কুল

📄 ১১. আখেরাতে সুফল লাভের আশায় তাওয়াক্কুল


এ বিষয়ে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, فَمَا أُوتِيْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَمَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَمَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ وَأَبْقَى لِلَّذِينَ آمَنُوا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ - 'অতএব তোমাদেরকে (এ জীবনে) যা দেওয়া হচ্ছে তা তো পার্থিব জীবনের ভোগ্য সামগ্রী। কিন্তু আল্লাহ্র নিকট যা আছে তা উত্তম ও স্থায়ী। তা কেবল তাদের জন্য যারা ঈমান রাখে এবং তাদের মালিকের উপরই ভরসা করে' (শূরা ৪২/৩৬)।

আখেরাতের এই স্থান থেকে দামী আর কোন স্থান আছে কি? কেননা আখেরাতই তো চূড়ান্ত লক্ষ্য। মুমিনের কামনার ধনই তো আখেরাত। সুতরাং সেই পরকালীন আবাসের তালাশে মুমিনরা যেন তাদের মালিক আল্লাহ্র উপর ভরসা করতে কোনই কসুর না করে।

টিকাঃ
২৬. বুখারী হা/২৫৩৮ ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00