📘 আল্লাহর প্রিয় বান্দা হবেন কিভাবে > 📄 আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার জন্য

📄 আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার জন্য


আল্লাহর ভালবাসা অর্জনের জন্য অনেক আমল রয়েছে তার মধ্য হতে এখানে আমরা কিছু বর্ণনা করলাম। যেমন:
১. নবী []-এর সুন্নতের একমাত্র অনুসরণ-অনুকরণ এবং অন্যান্য সকল তরীকা ত্যাগ করা।
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
JIH GF ED C BA @?> [
ZML K آل عمران: ۳۱
“বলুন, যদি তোমরা আল্লাহর ভালবাসা পেতে চাও তাহলে আমার অনুসরণ কর। ফলে আল্লাহও তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ মার্জনা করবেন।” [সূরা-আল-ইমরান: ৩১]
হাসান বাসরী (রহ:) বলেন: এ আয়াতটি নবী []-এর মিথ্যুক ভালবাসা দাবীদারদের দাবী খণ্ডন করার জন্য নাজিল হয়।১
তাই যারা নবীর তরীকা বাদ দিয়ে বিভিন্ন পীর-ওলীর তরীকা ধরে। এমনকি আশেকে রসূল দাবি করে তাদের মিথ্যা ভালবাসার কোনই মূল্য নেই। যারা নবীর সুন্নতকে বাদ দিয়ে রকমারি বিদাত সৃষ্টি করে মানুষকে পথভ্রষ্ট করছে, তাদের তওবা করে ফিরে আসা একান্ত জরুরি।
২. বেশি বেশি নফল এবাদত করা। সালাতের নফল, দান-খয়রাতের নফল, হজ্ব-উমরার নফল ও রোজা ইত্যাদির নফল এবাদত। আল্লাহ তা'য়ালা হাদীসে কুদসীতে বলেন:
« وَمَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ ». البخاري.
“আর বান্দা নফল এবাদতসমূহ দ্বারা আমার নৈকট্যলাভ করতে থাকে, এমনকি আমি তাকে ভালবেসে ফেলি।”
৩. আল্লাহর ওয়াস্তে আপোসে ভালবাসা।
৪. আল্লাহর ওয়াস্তে একে অপরের জিয়ারত করা।
৫. আল্লাহর ওয়াস্তে একে অপরের জন্য খরচ করা।
৬. আল্লাহর ওয়াস্তে একে অপরের সাথে সম্পর্ক রাখা।
৭. আল্লাহর ওয়াস্তে একে অপরের জন্য কল্যাণ কামনা করা।
আল্লাহ তা'য়ালা হাদীসে কুদসীতে বলেন:
«حَقَّتْ مَحَبَّتِي لِلْمُتَحَايِّينَ فِيَّ وَحَقَّتْ مَحَبَّتِي لِلْمُتَزَاوِرِينَ فِيَّ وَحَقَّتْ مَحَبَّتِي لِلْمُتَبَاذِلِينَ فِيَّ وَحَقَّتْ مَحَبَّتِي لِلْمُتَوَاصِلِينَ فِيَّ». أحمد : ٣٨٦/٤ و ٥/ ٢٣٦
«وَحَقَّتْ مُحَبَّتِي لِلْمُتَنَاصِحِينَ فِيَّ ». عند ابن حبان: ۳۳۸/۳ وصحح الحديثين الشيخ الألباني في صحيح الترغيب والترهيب : ( ۳۰۱۹، ۳۰۲۰، ۳۰۲۱).
আমার ওয়াস্তে একে অপরকে যারা ভালবাসে তাদের জন্যে আমার ভালবাসা সুসাব্যস্ত। আমার ওয়াস্তে যারা একে অপরের জিয়ারত (সাক্ষাত) করে তাদের জন্যে আমার ভালবাসা সুসাব্যস্ত। আমার ওয়াস্তে একে অপরের জন্য যারা খরচ করে তাদের জন্যে আমার ভালবাসা সুসাব্যস্ত। আমার ওয়াস্তে একে অপরের সাথে যারা সম্পর্ক রাখে তাদের জন্যে আমার ভালবাসা সুসাব্যস্ত।”
অন্য এক বর্ণনায় আছে: “আমার ওয়াস্তে একে অপরের কল্যাণ কামনাকারীদের জন্যে আমার ভালবাসা সুসাব্যস্ত।”১
৮. আল্লাহর বেশি বেশি জিকির করা:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: « أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي وَأَنَا مَعَهُ حِينَ يَذْكُرُنِي إِنْ ذَكَرَنِي فِي نَفْسِهِ ذَكَرْتُهُ فِي نَفْسِي وَإِنْ ذَكَرَنِي فِي مَلَةٍ ذَكَرْتُهُ فِي مَلَا هُمْ خَيْرٌ مِنْهُمْ وَإِنْ تَقَرَّبَ مِنِّي شِبْرًا تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ ذِرَاعًا وَإِنْ تَقَرَّبَ إِلَيَّ ذِرَاعًا تَقَرَّبْتُ مِنْهُ بَاعًا وَإِنْ أَتَانِي يَمْشِي أَتَيْتُهُ هَرْوَلَةً ». متفق عليه.
আবু হুরাইরা [] হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রসূলুল্লাহ [] বলেছেন: “আল্লাহ তা'য়ালা বলেন: আমার বান্দা আমাকে যেরূপ ধারণা করে সেইরূপ পায়। সে যখন আমাকে স্মরণ করে তখন আমি তার সাথে থাকি। যদি সে তার অন্তরে আমাকে স্মরণ করে আমি তাকে আমার অন্তরে স্মরণ করি। যদি সে আমাকে কোন সভাষদে স্মরণ করে আমি তাকে তাদের চাইতে উত্তম সভাষদে স্মরণ করি। যদি সে এক বিঘত আমার দিকে এগিয়ে আসে আমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে যাই। আর যদি সে আমার দিকে এক হাত এগিয়ে আসে আমি তার দিকে দুই হাত প্রসারিত করে এগিয়ে যাই। আর যদি সে আমার দিকে হেঁটে আসে আমি তার দিকে দ্রুত হেঁটে যাই।”১
৯. আল্লাহর পরীক্ষায় সবুর করা:
عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّmَ قَالَ: « إِنَّ عِظَمَ الْجَزَاءِ مَعَ عِظَمِ الْبَلَاءِ، وَإِنَّ اللَّهَ إِذَا أَحَبَّ قَوْمًا ابْتَلَاهُمْ فَمَنْ رَضِيَ فَلَهُ الرِّضَا وَمَنْ سَخِطَ فَلَهُ السَّخَطُ». الترمذي:٢٣٩٦ وابن ماحه: ٤٠٣١ وصححه الشيخ الألباني
১. আনাস [২] থেকে বর্ণিত, তিনি নবী [] হতে বর্ণনা করেন। তিনি [] বলেছেন: “বালা-মসিবত যত বড় হবে তার প্রতিদানও ততো বড় হবে। আর আল্লাহ তা'য়ালা যখন কোন জাতিকে ভালবাসেন তখন তাদেরকে বালা-মসিবত দান করেন। অত:পর যে সন্তুষ্ট হয় তার জন্যে আল্লাহর সন্তুষ্ট আর যে অসন্তুষ্ট তার জন্যে আল্লাহর অসন্তুষ্ট।”১
عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: « إِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدِهِ الْخَيْرَ عَجَّلَ لَهُ الْعُقُوبَةَ فِي الدُّنْيَا، وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدِهِ الشَّرَّ أَمْسَكَ عَنْهُ بِذَنْبِهِ حَتَّى يُوَافِيَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ». الترمذي: ٢٣٩٦ وصححه الشيخ الألباني.
২. আনাস [২] হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রসূলুল্লাহ [] বলেছেন: “যখন আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর কোন বান্দার মঙ্গল চান তখন দুনিয়াতেই তার শাস্তি দ্রুত দিয়ে দেন। আর যখন তাঁর কোন বান্দার অমঙ্গল চান তখন তার পাপরাজি জমায়েত করে রেখে রোজ কিয়ামতে তার প্রতিদান দেবেন।”১
১০. বাহির ও ভিতর পরিস্কার করার জন্য বেশি বেশি তওবা ও পবিত্রতা অর্জন করা:
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ ) البقرة: ٢٢٢
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে পছন্দ করেন।” [বাকারা: ২২২]
এ ছাড়া সূরা তওবার (১০৮) আয়াতে আল্লাহ পবিত্রা অর্জনকারীদেরকে ভালবাসেন সে কথা উল্লেখ করেছেন।
১১. এহসান করা। মখলুকাতের প্রতি আনুগ্রহ দ্বারা এবং আল্লাহর এবাদত এমনভাবে করা যে, যেন আল্লাহকে দেখছেন যাকে মুশাহাদা বলে। আর এমনটি না হলে, আল্লাহ অবশ্যই দেখছেন একিন করা যাকে মুরাকাবা বলে।
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
}|{p x wv u tsr qp [
الْمُحْسِنِينَ (190) البقرة: ١٩٥
“আর ব্যয় কর আল্লাহর পথে, তবে নিজের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করো না। আর মানুষের প্রতি অনুগ্রহ কর। নিশ্চয় আল্লাহ অনুগ্রহকারীদেরকে ভালবাসেন।” [সূরা বাকারা:১৯৫]
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
4 3 2 1 0 / . [
> Z آل عمران: : 9 8 7 6 5
١٣٤
“যারা স্বচ্ছলতায় ও অভাবের সময় ব্যয় করে, যারা নিজেদের রাগকে সংবরণ করে আর মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে, বস্তুত: আল্লাহ এহসানকারীদেরকে ভালবাসেন।” [সূরা আল-ইমরান:১৩৪]
নবী [] বলেন:
الْإِحْسَانُ أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ». متفق عليه.
“এহসান হলো: তুমি এমনভাবে এবাদত করবে যেন আল্লাহকে দেখতেছ। আর যদি এমনটি না হয়, তাহলে অবশ্যই আল্লাহ তোমাকে দেখছেন।”
১২. তাকওয়া অর্জন করা। তাকওয়া হলো: আল্লাহর সমস্ত আদেশ পালন ও সকল নিষেধ ত্যাগ করার নাম এবং তাকওয়া অর্জনকারীকে মুত্তাকী তথা আল্লাহভীরু বলা হয়।
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
وَاتَّقَى فَإِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ 2 μ΄ [ ال
عمران: ٧٦
“যে ব্যক্তি নিজ প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করবে এবং আল্লাহভীরু হবে। নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকীনদেরকে ভালবাসেন।” [সূরা আল-ইমরান: ৭৬]
১৩. সবুর করা। সবুর তিন প্রকার: বালা-মসিবতে সবুর করা, পাপ কার্যাদি ছাড়তে সবুর করা এবং এবাদত করতে সবুর করা।
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
] { - نَبِيّ قَتَلَ مَعَهُ رِبِيُّونَ كَثِيرُ فَمَا وَهَنُوا لِمَا أَصَابَهُمْ ) سَبِيلِ اللَّهِ وَمَا ضَعُفُوا وَمَا اسْتَكَانُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ ユ Z آل عمران: ١٤٦
“আর বহু নবী ছিলেন; যাঁদের সঙ্গী-সাথীরা তাঁদের অনুবর্তী হয়ে জিহাদ করেছে; আল্লাহর পথে-তাদের কিছু কষ্ট হয়েছে বটে, কিন্তু আল্লাহর রাহে তারা হেরেও যায়নি, ক্লান্তও হয়নি এবং দমেও যায়নি। আর যারা সবুর করে, আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন।” [সূরা আল-ইমরান:১৪৬]
১৪. আল্লাহর প্রতি ভরসা করা।
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
5 4 3 2 1 ΟΙ. - , +* ) [
BA@ >= <; : 9 8 7 6
Z K J آل عمران: ١٥٩ I HGEDC
“আল্লাহর রহমতেই আপনি তাদের জন্য কোমল হৃদয় হয়েছেন। পক্ষান্তরে আপনি যদি রূঢ় ও কঠিন-হৃদয় হতেন, তাহলে তারা আপনার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতো, কাজেই আপনি তাদের ক্ষমা করে দিন এবং তাদের জন্য ক্ষমা কামনা করুন এবং কাজে-কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ করুন। অত:পর যখন কোন কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফেলেন, তখন আল্লাহর উপর ভরসা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ ভরসাকারীদেরকে ভালবাসেন।” [সূরা আল-ইমরান:১৫৯]
১৫. ইনসাফ করা।
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
> = < : 9 8 7 6 5 [
?Z المائدة: ٤٢
“যদি ফয়সালা করেন, তবে ন্যায়ভাবে ফয়সালা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদেরকে ভালবাসেন।” [সূরা মায়েদা:৪২]
فَإِن فَاءَتْ فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا بِالْعَدْلِ وَأَقْسِطُوا إِنَّ اللَّهَ ) الْمُقْسِطِين الحجرات: 9
“যদি ফিরে আসে, তবে তোমরা তাদের মধ্যে ন্যায়ানুগ পন্থায় মীমাংসা করে দিবে এবং ইনসাফ করবে। নিশ্চয় আল্লাহ তা'য়ালা ইনসাফকারীদেরকে ভালবাসেন।” [সূরা হুজুরাত:৯]

টিকাঃ
১. তাফসীর ত্ববারী:৬/৩২২ দ্রঃ
১. আহমাদ ও ইবনে হিব্বান, শাইখ আলবানী (রহ:) হাদীস দু'টিকে সহীহ বলেছেন, সহীহ তারগীব-তারহীব হা: নং ৩০১৯, ৩০২০, ৩০২১
১. বুখারী ও মুসলিম
১. তিরমিযী হা: নং ২৩৯৬ ইবনে মাজাহ হা: নং ৪০৩১, শাইখ আলবানী (রহ:) হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

📘 আল্লাহর প্রিয় বান্দা হবেন কিভাবে > 📄 আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের কিছু লক্ষণ

📄 আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের কিছু লক্ষণ


এর অনেক আলামত-লক্ষণ রয়েছে তার মধ্য হতে এখানে কিছু বর্ণনা করা হলো। যেমন:
১. মুমিনদের সাথে বিনয়ী ।
২. কাফেরদের প্রতি কঠোর।
৩. আল্লাহর জন্যে নিজের নফস-প্রবৃত্তি এবং জিন-ইনসান শয়তান, মুনাফেক ও ফাসেক-ফাজের এবং কাফেরদের সাথে জিহাদকারী।
৪. কোন ভর্ৎসনাকারীর ভর্ৎসনার তোয়াক্কা না কারা।
x wvut srq pon ml [
{zy | { - الْكَافِرِينَ يُجَهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا يَخَافُونَ لَوْمَةَ لَا بِهِ ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاءُ وَاللَّهُ وَاسِعُ Ζμ
المائدة: ٥٤
“হে মু'মিনগণ! তোমাদের মধ্যে যে স্বীয় ধর্ম থেকে ফিরে যাবে, (ফলে) অচিরেই আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন, যাদেরকে তিনি (আল্লাহ) ভালবাসবেন এবং তারাও আল্লাহকে ভালবাসবে। আর তারা মুসলমানদের প্রতি বিনয়-নম্র হবে এবং কাফেরদের প্রতি কঠোর হবে। তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে এবং কোন তিরস্কারকারীদের তিরস্কারে ভীত হবে না। ইহা আল্লাহর অনুগ্রহ-তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন। আল্লাহ প্রাচুর্য দানকারী, মহাজ্ঞানী।” [সূরা মায়েদা: ৫৪]

📘 আল্লাহর প্রিয় বান্দা হবেন কিভাবে > 📄 আল্লাহর ভালবাসার উপকারিতা

📄 আল্লাহর ভালবাসার উপকারিতা


১. আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার সুযোগলাভ:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: « إِذَا أَحَبَّ اللَّهُ الْعَبْدَ نَادَى جِبْرِيلَ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ فَلَانًا فَأَحْبَبْهُ فَيُحِبُّهُ جِبْرِيلُ فَيُنَادِي جِبْرِيلُ فِي أَهْلِ السَّمَاءِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ فُلَانًا فَأَحِبُّوهُ فَيُحِبُّهُ أَهْلُ السَّمَاءِ ثُمَّ يُوضَعُ لَهُ الْقَبُولُ فِي الْأَرْضِ ». البخاري: ۳۲۰۹
আবু হুরাইরা [] হতে বর্ণিত, তিনি নবী [] থেকে বর্ণনা করেন। তিনি [] বলেছেন: “আল্লাহ যখন কোন বান্দাকে ভালবাসেন তখন জিবরীল [] কে ডেকে বলেন: আল্লাহ উমুককে ভালবাসেন, তুমিও তাকে ভালবাস। অত:পর জীবরীল [] তাকে ভালবাসেন। এরপর জিবরীল [] আসমানের ফেরেশতাদের ডেকে বলেন: নিশ্চয় আল্লাহ উমুককে ভালবাসেন। অতএব, তোমরাও তাকে ভালবাস। তখন আসমানবাসীরা (ফেরেশতাগণ) তাকে ভালবাসেন। অত:পর পৃথিবীতে তার গ্রহণযোগ্যতা দেয়া হয়।”১
২. আল্লাহর ওলী হওয়া এবং তাঁর পক্ষ থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের হেফাজত:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ قَالَ: « مَنْ عَادَى لِي وَلِيًّا فَقَدْ آذَنْتُهُ بِالْحَرْبِ، وَمَا تَقَرَّبَ إِلَيَّ عَبْدِي بِشَيْءٍ أَحَبَّ إِلَيَّ مِمَّا افْتَرَضْتُ عَلَيْهِ، وَمَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ، فَإِذَا أَحْبَبْتُهُ كُنْتُ سَمْعَهُ الَّذِي يَسْمَعُ بِهِ، وَبَصَرَهُ الَّذِي يُبْصِرُ بِهِ، وَيَدَهُ الَّتِي يَبْطِشُ بِهَا، وَرِجْلَهُ الَّتِي يَمْشِي بِهَا، وَإِنْ سَأَلَنِي لَأُعْطِيَنَّهُ، وَلَئِنْ اسْتَعَاذَنِي لَأُعِيدَنَّهُ، وَمَا تَرَدَّدْتُ عَنْ شَيْءٍ أَنَا فَاعِلُهُ تَرَدُّدِي عَنْ نَفْسِ الْمُؤْمِنِ يَكْرَهُ الْمَوْتَ وَأَنَا أَكْرَهُ مَسَاءَتَهُ » . البخاري.
আবু হুরাইরা [] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [] বলেছেন: “আল্লাহ তা'য়ালা বলেন: যে ব্যক্তি আমার ওলীর সাথে শত্রুতা করে আমি তার সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করি। বান্দা যার দ্বারা আমার নৈকট্যলাভ করে তার মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় হচ্ছে আমি যা তার প্রতি ফরজ করেছি। আর বান্দা নফল এবাদতসমূহ দ্বারা আমার সান্নিধ্যলাভ করতে থাকে এমনকি আমি তাকে ভালবেসে ফেলি।
অত:পর যখন আমি তাকে ভালবাসি তখন সে কান দ্বারা তাই শুনে যা আমি শুনা ভালবাসি, তার চোখ দ্বারা তাই দেখে যা আমি দেখা পছন্দ করি, তার হাত দ্বারা তাই ধরে যা আমি ধরা পছন্দ করি, তার পা দ্বারা সেখানে চলে যেখানে চলা আমি পছন্দ করি। আর যদি সে আমার নিকট চায় আমি অবশ্যই তাকে দেই। সে আমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করলে আমি তাকে অবশ্যই আশ্রয় দেই। আর মুমিন বান্দা মৃত্যুকে ঘৃণা করে, তাই তার মৃত্যুদানে আমি যত ইতস্তত করি তা অন্য ব্যাপারে করি না; কারণ আমি তাকে কষ্ট দেয়া অপছন্দ করি।১
৩. হেদায়েতলাভ ও তাকওয়ার তওফিক:
আল্লাহ তা'য়ালা বাণী:
وَالَّذِينَ اهْتَدَوْا زَادَهُمْ هُدًى وَعَانَهُمْ تَقْوَنَهُمْ 2 محمد : ۱۷
“যারা হেদায়েতপ্রাপ্ত হয়েছে, তাদের হেদায়েতপ্রাপ্তি আরো বেড়ে যায় এবং আল্লাহ তাদেরকে তাকওয়া দান করেন।” [সূরা মুহাম্মাদ:১৭]

টিকাঃ
১. বুখারী হা: নং ৩২০৯
১. বুখারী

📘 আল্লাহর প্রিয় বান্দা হবেন কিভাবে > 📄 উপসংহার

📄 উপসংহার


আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়াটা সহজ ব্যাপার নয়। ইহা দাবি করলেই বা নামের পূর্বে উপাধি লাগালেই হওয়া যায় না। এর জন্য প্রয়োজন জ্ঞান ও আমল ।
তাই দেরি না করে আমরা আজ থেকেই সঠিক জ্ঞানার্জন ও অমল করা শুরু করেদি।
হে আল্লাহ! আমাদেরকে তোমার একান্ত মাহবুব-প্রিয় বান্দা হওয়ার তৌফিক দান করুন।
وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00