📘 আল্লাহর প্রিয় বান্দা হবেন কিভাবে > 📄 আল্লাহকে ভালবাসার কিছু আলামত

📄 আল্লাহকে ভালবাসার কিছু আলামত


১. আল্লাহ তা'য়ালার সাক্ষাত পছন্দ করা; কারণ যে যাকে ভালবাসে সে তার সাক্ষাত ও দেখার প্রতিক্ষ্যায় থাকে। ইহা মৃত্যুকে ঘৃণা করার পরিপন্থী নয়; কারণ মুমিনি ব্যক্তি মৃত্যুকে ঘৃণা করে আর আল্লাহর সাক্ষাত তো মৃত্যুর পরেই। এর জন্যে সে বেশি বেশি নেক আমল করতে থাকে এবং প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকে।
عَنْ أَبِي سَعِيدِ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ أُنَاسًا فِي زَمَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ نَرَى رَبَّnَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: « نَعَمْ، هَلْ تُضَارُّونَ فِي رُؤْيَةِ الشَّمْسِ بِالظَّهِيرَةِ ضَوْءُ لَيْسَ فِيهَا سَحَابٌ؟ قَالُوا: لَا، قَالَ: وَهَلْ تُضَارُّونَ فِي رُؤْيَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ ضَوْءٌ لَيْسَ فِيهَا سَحَابٌ؟ قَالُوا: لَا ، قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا تُضَارُونَ فِي رُؤْيَةِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَّا كَمَا تُضَارُونَ فِي رؤية أحدهما - - ) ». متفق عليه.
আবু সাঈদ খুদরী [] থেকে বর্ণিত। নবী []-এর যুগে কিছু মানুষ বলল: হে আল্লাহর রসূল! আমরা কী কিয়ামতের দিন আমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাব? নবী [] বলেন: “মেঘমুক্ত আকাশে জোহরের সময় সূর্য দেখতে তোমাদের কী কষ্ট হয়? তরা বলল, না। নবী [] আবার বললেন: “মেঘমুক্ত আকাশে পূর্ণিমার রাত্রিতে চাঁদ দেখতে তোমাদের কী কষ্ট হয়? তারা বলল, না। নবী [] বললেন: “কিয়ামতের দিন আল্লাহকে দেখতে তোমাদের কোন কষ্ট হবে না যেমন (মেঘমুক্ত আকাশে) সূর্য ও চাঁদ দেখতে কষ্ট হয় না,-- ১
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:« مَنْ أَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ أَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ، وَمَنْ كَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ كَرِهَ اللَّهُ لِقَاءَهُ، قَالَتْ عَائِشَةُ أَوْ بَعْضُ أَزْوَاجِهِ: إِنَّا لَنَكْرَهُ الْمَوْتَ، قَالَ: لَيْسَ ذَاكِ وَلَكِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا حَضَرَهُ الْمَوْتُ بُشِّرَ بِرِضْوَانِ اللَّهِ وَكَرَامَتِهِ، فَلَيْسَ شَيْءٌ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا أَمَامَهُ فَأَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ وَأَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ. وَإِنَّ الْكَافِرَ إِذَا حُضِرَ بُشِّرَ بِعَذَابِ اللَّهِ وَعُقُوبَتِهِ فَلَيْسَ شَيْءٌ أَكْرَهَ إِلَيْهِ مِمَّا أَمَامَهُ كَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ وَكَرِهَ اللهُ لقَاءَهُ ». متفق عليه.
উবাদা ইবনে সামেত [২] থেকে বর্ণিত, তিনি নবী [] হতে বর্ণনা করেন। তিনি [] বলেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাত করা ভালবাসে আল্লাহও তার সাক্ষাত করা ভালবাসেন। আল যে আল্লাহর সাক্ষাত করা ঘৃণা করে আল্লাহও তার সাক্ষাত ঘৃণা করেন। আয়েশা [রযিয়াল্লাহু আনহাা] অথবা তাঁর কোন স্ত্রী বলেন, আমরা তো মৃত্যুকে ঘৃণা করি। নবী [] বলেন: “আসলে ইহা উদ্দেশ্য নয়। বরং মুমিন ব্যক্তির যখন মৃত্যু হাজির হয় তখন তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর মহত্ত্বের সুসংবাদ দেয়া হয়। এ সময় তার সামনে এর চইতে অধিক ভালবাসার বস্তু আর কিছুই থাকে না। তাই সে আল্লাহর সাক্ষাত করা ভালবাসে এবং আল্লাহও তার সাক্ষাত করা ভালবাসেন। আর কাফেরের যখন মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন তাকে আল্লাহর আজাব ও শাস্তির সংবাদ দেয়া হয়। এ সময় তার সামনে এর চাইতে বেশি ঘৃণার বস্তু আর কিছুই হয় না। তাই সে আল্লাহর সাক্ষাত করাকে ঘৃনা করে এবং আল্লাহও তার সাক্ষাত ঘৃণা করেন।'
২. নিজের সমস্ত ভালবাসর বস্তুর চাইতে প্রকাশ্যে ও গোপনে আল্লাহর ভালবাসার বস্তুকে অগ্রাধিকার দেয়া। তাই প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে বহু দূরে অবস্থান করা, অলসতাকে পরিহার করা, সর্বদা এবাদতের হেফাজত করা, বেশি বেশি নফল এবাদত দ্বারা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করার চেষ্টা করা, আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকা। তাই জবান জিকিরে ক্লান্ত হয় না, অন্তর তা থেকে খালি হয় না; কারণ যে কোন কিছুকে ভালবাসে সে তার সর্বদা জিকির করে এবং তার সাথে তার সম্পর্ক গভীর হয়। তাই আল্লাহকে ভালবাসার আলামত হচ্ছে: তাঁর জিকিরকে ভালবাসা, কুরআন যা আল্লাহর মহাবাণী তাকে ভালবাসা, তাঁর রসূল মুহাম্মদ []কে ভালবাসা এবং তিনি যা রেখে গেছেন তারই একমাত্র অনুসরণ করা।
৩. আল্লাহর কোন এবাদত বা জিকির কিংবা অজিফা ছুটে গেলে আফসোস করা, এবাদতের সময় অন্তরে মজা পাওয়া এবং ভারী মনে না করা। সাহাবা কেরাম যাঁরা আল্লাহকে সবচাইতে বেশি ভালবাসতেন তাঁদের কারো সালাতের তাকবীরে উলা (প্রথম তকবীর) ছুটে গেলে তিনি দিন এবং জামাত ছুটে গলে সাত দিন আফসোস করতেন।
৪. সকল মুমিনদের প্রতি বিনয়ী ও নম্র-ভদ্র এবং কাফেরদের প্রতি শক্ত হওয়া।
Z] + * )(' & % #" ! [ الفتح: ٢٩
“মুহাম্মদ আল্লাহর রসূল এবং তাঁর সহচরগণ কাফেরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে পরস্পর সহানুভূতিশীল।” [সূরা ফাত্‌হ: ২৯]
৫. ভালবাসার মাঝে সম্মান ও ভয়-ভীতি থাকা; কারণ ভয় ভালবাসার বিপরীত নয়। ভয় করে যদি আল্লাহ তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। এর চাইতেও বেশি ভয় যদি তার ও আল্লাহর মধ্যে পর্দা ফেলে দেন। আরো বেশি ভয়; করে যদি আল্লাহ তা'য়ালা তাকে তাঁর রহমত থেকে দূরে ও বঞ্চিত করে দেয়।
৬. এ ছাড়া আল্লাহর ভালবাসার লক্ষণ হলো: আল্লাহকে ভালবাসে তা গোপন রাখা, মানুষের কাছে আল্লাহর ওলী ইত্যাদি দাবী বা প্রকাশ না করা, আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে ভালবাসে তার অনুভব করা, সকল ইবাদতে অগ্রগামী ও নিষিদ্ধতা হতে দূরে থাকা।

টিকাঃ
১. বুখারী ও মুসলিম

📘 আল্লাহর প্রিয় বান্দা হবেন কিভাবে > 📄 আল্লাহর খাঁটি ভালবাসার দাবি

📄 আল্লাহর খাঁটি ভালবাসার দাবি


আল্লাহর ওয়াস্তে ভালবাসা ও আল্লাহর ওয়াস্তে ঘৃণা করা।
আহলুসুন্নাহ ওয়ালজামাত এ বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে আকীদার কিতাবসমূহে বর্ণনা করেছেন। কারণ, ইহা আকীদা ও ঈমানের সবচাইতে জরুরি বিষয় যার গুরুত্ব দেয়া প্রতিটি মুসলিমের প্রতি ফরজ। বরং ইহা শীর্ষক বিষয়। এ বিষয়ে অনেক দলিল-প্রমাণ উল্লেখ হয়েছে। যেমন: আল্লাহ তা'য়ালার বাণীসমূহ হতে:
h g fedcb a [
Ο n m | kji
Z ухми t qp
} | Z التوبة: ٧١
“আর ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী একে অপরের সহায়ক। তারা ভাল কথার শিক্ষা দেয় এবং মন্দ থেকে বিরত রাখে। সালাত প্রতিষ্ঠা করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন যাপন করে। এদেরই উপর আল্লাহ তা'য়ালা দয়া করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, সুকৌশলী।” [সূরা তাওবাহ: ৭১]
Π ף
لَا يَتَّخِذِ الْمُؤْمِنُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِن دُونِ ذَلِكَ فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ فِي شَيْءٍ ۲۸ آل عمران: ۲۸
'মুমিনগণ যেন অন্য মুমিনকে ছেড়ে কোন কাফেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যারা এরূপ করবে আল্লাহর সাথে তাদের কোন সম্পর্ক থাকবে না।” [সূরা আল-ইমরান: ২৮]
* ) ( ' & % $# " ! [
7 654 3 2 10/ . - , +
CBA @ ? > = < ;:98
ΡΟΝ MIK JI HGF E D
ZTS RO الممتحنة: 1
“মুমিনগণ, তোমরা আমার ও তোমাদের শত্রুদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা তো তাদের প্রতি বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাও, অথচ তারা যে সত্য তোমাদের কাছে আগমণ করেছে, তা অস্বীকার করেছে। তারা রসূলকে ও তোমাদেরকে বহিস্কার করে এই অপরাধে যে, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস রাখ। যদি তোমরা আমার সন্তুষ্টি লাভের জন্যে এবং আমার পথে জিহাদ করার জন্যে বের হয়ে থাক, তবে কেন তাদের প্রতি গোপনে বন্ধুত্বের পয়গাম প্রেরণ করছ? তোমরা যা গোপন কর এবং যা প্রকাশ কর, তা আমি খুব জানি। তোমাদের মধ্যে যে এটা করে, সে সরলপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়।” [সূরা মুমতাহিনা: ১]
R Q P Ο N MLK [
Y X WVU T S
b a ` _ v ]\[ Z
Zml kjihgf ed c
التوبة: ٢٤
“বল, তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের পত্নি, তোমাদের গোত্র, তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় কর এবং তোমাদের বাসস্থান- যাকে তোমরা পছন্দ কর-আল্লাহ, তাঁর রসূল ও তাঁর রাহে জিহাদ করা থেকে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা কর, আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত, আর আল্লাহ ফাসেক সম্প্রদায়কে হেদায়েত দান করেন না।” [সূরা তাওবাহ:২৪]

📘 আল্লাহর প্রিয় বান্দা হবেন কিভাবে > 📄 আল্লাহর ওয়াস্তে ভালবাসা ও ঘৃণার গুরুত্ব

📄 আল্লাহর ওয়াস্তে ভালবাসা ও ঘৃণার গুরুত্ব


ইহা দ্বীনের একটি মূলনীতি এবং শরিয়তে এর স্থান উচ্চ শিখরে যা নিম্নে বর্ণিত কারণসমূহ দ্বারা সুস্পষ্ট:
১. ইহা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহি”-এর সাক্ষ্য প্রদানের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ ও শর্ত। কেননা এর অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত যত কিছুর এবাদত করা হয় তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা। যেমন আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
M LK J I HG FE D[
X WV UT SR OPN
ba ` _ ^] \ [Z
النحل: ٣٦
“আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর এবং তাগুত থেকে নিরাপদ থাক। অত:পর তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যককে আল্লাহ্ হেদায়েত করেছেন এবং কিছু সংখ্যকের জন্যে বিপথগামিতা অবধারিত হয়ে গেল। সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ মিথ্যারোপকারীদের কিরূপ পরিণতি হয়েছে।” [সূরা নাহল: ৩৬]
২. ইহা ঈমানের মজবুত বন্ধন। যেমন নবী [] এর বাণী:
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: دَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: « يَا ابْنَ مَسْعُودٍ، قُلْتُ: لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَهَا ثَلَاثًا، تَدْرِي أَيُّ عُرَى الإِيمَانِ أَوْثَقُ قُلْتُ : اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: فَإِنَّ أَوْثَقَ عُرَى الْإِسْلَامِ الْوَلايَةُ فِيهِ، الْحُبُّ فِيهِ وَالْبُغْضُ فيه». السلسلة الصحيحة للألباني برقم: ۹۹۸
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ [] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমার নিকট রসূলুল্লাহ [২] প্রবেশ করে বললেন: হে ইবনে মাসউদ! আমি বললাম, হাজির হে আল্লাহর রসূল []! তিনি এরূপ তিনবার বললেন। ঈমানের সাবচেয়ে মজবুত বন্ধন কী তুমি জান? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রসূল বেশি জানেন। তিনি [] বললেন: নিশ্চয়ই ইসলামের সবচেয়ে মজবুত বন্ধন হলো: ইসলামের বন্ধুত্ব, ইসলামের ওয়াস্তে ভালাবাসা এবং তারই ওয়াস্তে ঘৃণা করা।”১
৩. ইহা ঈমানের স্বাদ ও মজা অনুভব করার একটি কারণ। যেমন নবী []-এর বাণী:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: « ثَلَاثَ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ حَلَاوَةَ الْإِيمَانِ، أَنْ يَكُونَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا، وَأَنْ يُحِبُّ الْمَرْءَ لَا يُحِبُّهُ إِلَّا لِلَّهِ، وَأَنْ يَكْرَهَ أَنْ يَعُودَ فِي الْكُفْرِ كَمَا يَكْرَهُ أَنْ يُقْذَفَ فِي النَّارِ ». متفق عليه.
আনাস ইবনে মালেক [] থেকে বর্ণিত, তিনি নবী [] থেকে বর্ণনা করেন। তিনি [] বলেছেন: “তিনিটি জিনিস যার মধ্যে থাকবে, সেই ঈমানের স্বাদ অনুভব করতে পারবে। (এক) সবকিছুর ঊর্ধ্বে আল্লাহ ও রসূলকে ভালাবাসা। (দুই) আল্লাহরই ওয়াস্তে কোন মানুষকে ভালবাসা। (তিন) আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে ঘৃণার অনরূপ কুফরিতে ফিরে যাওয়াকে ঘৃণা কর।”১
৪. এ আকীদার মাধ্যমে ঈমান পূর্ণতা লাভ করে। যেমন নবী [] বাণী:
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: « مَنْ أَحَبَّ لِلَّهِ وَأَبْغَضَ لِلَّهِ وَأَعْطَى لِلَّهِ وَمَنَعَ لِلَّهِ فَقَدْ اسْتَكْمَلَ الْإِيمَانَ ». أبو داود، الترمذي، أحمد.
আবু উমামা [] থেকে বর্ণিত, তিনি রসূলুল্লাহ [] হতে বর্ণনা করেন। তিনি [] বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহরই ওয়াস্তে ভালবাসে, আল্লাহরই ওয়াস্তে ঘৃণা করে, আল্লাহরই ওয়াস্তে দেয় এবং আল্লাহরই ওয়াস্তে বারণ করে সে তার ঈমান পূর্ণ করল।”২
৫. আল্লাহ ছাড়া অন্যকে ও তার দ্বীনকে ভালবাসা এবং আল্লাহ ও তাঁর দ্বীনকে ঘৃণা করা আল্লাহর সাথে কুফরি করা। যেমন আল্লাহর বাণী:
{y xwvu t srqpon[
| { - أَكُونَ أَوَّلَ مَنْ أَسْلَمَ وَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُشْرِكِينَ
الأنعام: ١٤
“আপনি বলে দিন: আমি কি আল্লাহ ব্যতীত-যিনি নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের স্রষ্টা এবং যিনি সবাইকে আহার্য দান করেন ও তাঁকে কেউ আহার্য দান করে না-অপরকে সাহায্যকারী স্থির করব? আপনি বলে দিন: আমি আদিষ্ট হয়েছি যে, সর্বাগ্রে আমিই আজ্ঞাবহ হব। আপনি কদাচ অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।” [সূরা আনআম: ১৪]
৬. ইহা এমন একটি ভিত্তি যার ভিত্তিতে গড়ে উঠে ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা। যেমন নবী []-এর বাণী:
عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: « لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ ». البخاري.
আনাস [] থেকে বর্ণিত, তিনি নবী [] হতে বর্ণনা করেন। তিনি [] বলেছেন: “তোমাদের কেউ ততক্ষণ মমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ নিজের জন্য যা ভালবাসে তা অন্য ভাইয়ের জন্য না ভালবাসবে।”১

টিকাঃ
১. সিলসিলা সহীহা-আলবানী হা: নং ৯৯৮
১. বুখারী ও মুসলিম
২. আবু দাউদ, তিরমিযী ও আহমাদ
১. বুখারী

📘 আল্লাহর প্রিয় বান্দা হবেন কিভাবে > 📄 আল্লাহর ওয়াস্তে ভালবাসা ও ঘৃণার ক্ষেত্রে মানুষ

📄 আল্লাহর ওয়াস্তে ভালবাসা ও ঘৃণার ক্ষেত্রে মানুষ


আল্লাহর ওয়াস্তে ভালবাসা ও আল্লাহর ওয়াস্তে ঘৃণা করার ক্ষেত্রে মানুষ তিন প্রকার:
(ক) যাঁদেরকে সম্পূর্ণভাবে ভালবাসতে হবে। এঁরা হচ্ছে পূর্ণ মুমিন বান্দাগণ। যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান এনেছে এবং এখলাসের সাথে দ্বীনের কার্যাদি আদায় করে। আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ ءَامَنُوا الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ )) وَمَن يَتَوَلَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالَّذِينَ ءَامَنُوا فَإِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْغَالِبُونَ ) المائدة: ٥٥ - ٥٦
“তোমাদের বন্ধু তো আল্লাহ্, তাঁর রসূল এবং মু'মিনগণ-যারা সালাত কায়েম করে, জাকাত দেয় এবং বিনম্র। আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূল এবং বিশ্বাসীদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, তারাই আল্লাহর দল এবং তারাই বিজয়ী।” [সূরা মায়েদা: ৫৫-৫৬]
(খ) যাদের সাথে পূর্ণ সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। এরা হচ্ছে কাফের ও মুশরেকরা। চাই ইহুদি হোক বা খ্রীষ্টান হোক কিংবা অগ্নীপূজক হোক বা মূর্তিপূজক হোক অথবা নাস্তিক হোক। আর মুসলিমদের মধ্যে যারা কুফরি ও শিরক করে তারাও এর অন্তর্ভুক্ত। যেমন: আল্লাহ ছাড়া অন্যকে ডাকে বা বিপদ মুক্তির জন্য আহ্বান করে, অন্যের প্রতি ভরসা করে, আল্লাহ ও রসূল বা দ্বীনকে গালি-গালাজ করে। অথবা দ্বীনকে বর্তমান যুগে অনুপযোগী ভেবে দুনিয়ার জীবন থেকে আলাদা মনে করে ইত্যাদি। কোন মুসলিম ব্যক্তির জন্যে এদের সাথে কোন প্রকার সম্পর্ক রাখা যাবে না, যদিও আপনজন হয় না কেন।
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
Y WVU T SRQ[
[^Z التحريم: 9
“হে নবী! কাফের ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করুন এবং তাদের প্রতি কঠোর হোন। তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। সেটা কতইনা নিকৃষ্ট স্থান।” [তাহরীম:৯]
W vut S r qpon [
{ - مبينًا ( النساء: ١٤٤ |{ zy
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা কাফেরদেরকে বন্ধু বানাবে না মুমিনদের বাদ দিয়ে। তোমরা কি এমনটি করে নিজের উপর আল্লাহর প্রকাশ্য দলীল কায়েম করে দেবে!” [সূরা নিসা: ১৪৪]
.- +) ( ' & %$ # " [
Z; : 98 76543 21 0/
المائدة: ٥١
“হে মুমিনগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে। আর আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।” [সূরা মায়েদা: ৫১]
= < ; : 98 7 ɓ
| IG F E DCBA @ ▷
X WVU TSOP Ο ML KJ
ZY المجادلة: ۲۲
“যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, তাদেরকে আপনি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করতে দেখবেন না, যদিও তারা তাদের পিতা, পুত্র, ভ্রাতা অথবা জ্ঞাতি-গোষ্ঠী হয়। তাদের অন্তরে আল্লাহ ঈমান লিখে দিয়েছেন এবং তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন তাঁর অদৃশ্য শক্তি দ্বারা। তিনি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত। তারা তথায় চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। তারাই আল্লাহর দল। জেনে রাখ, আল্লাহর দলই সফলকাম হবে।” [সূরা মুজাদালাহ: ২২]
(গ) যাদের সাথে এক দিক থেকে সম্পর্ক রাখা যাবে আবার অন্য দিক থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে: এরা হলো ফাসেক-ফাজের পাপী মুসলিমরা। এমন পাপ করে না যার দরুন কুফরি পর্যন্ত পৌঁছায়। তারা যতটুকু ভাল করে ততটুকু সম্পর্ক রখতে হবে আর যতটুকু খারাপ করে ততটুকু সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। এদেরকে ওয়াজ-নসিহত দ্বারা অন্যায়, অশ্লীল ও নোংরা কাজ থেকে বারণ ও সৎকাজের নির্দেশ করতে হবে। এদের উপরে দ্বীনের নির্দিষ্ট দণ্ড, সাজা ও শাস্তি কায়েম করতে হবে, যাতে করে তারা তওবা করে ফিরে আসে। যেমন নবী [] আব্দুল্লাহ ইবনে হিমারকে মদ পান করার পর নিয়ে আসা হলে শাস্তি দেন। কিন্তু কোন একজন তার প্রতি অভিশাপ করলে তিনি বলেন:
« لَا تَلْعَنُوهُ فَوَاللَّهِ مَا عَلِمْتُ إِنَّهُ يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ ». البخاري.
“তার প্রতি অভিশাপ কর না; আল্লাহর কসম! আমার জানামতে সে আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে ভালবাসে।”১

টিকাঃ
১. বুখারী

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00