📄 আল্লাহ তা‘য়ালাকে ভালবাসা
ভাবছেন এ ভালবাসা আল্লাহকে ভালবাসা? আল্লাহকে ভালবাসা তাওহীদের মূল ও আত্মা। খাঁটিভাবে আল্লাহকে ভালাবাসা সকল এবাদতের হকিকত। আল্লাহর ভালবাসা ছাড়া বান্দার তাওহীদ অপূর্ণ। এ ভালবাসা সকল ভালবাসার জিনিসের ঊর্ধ্বে হতে হবে। সকল ভালবাসার বস্তু এ ভালবাসার আওতাধীন হতে হবে। নিশ্চয়ই এ ভালবাসার দ্বারা বান্দার সুখ-স্বাচ্ছন্দ ও বিজয় নিশ্চিত।
এ ভালবাসার পূর্ণতার দাবী হলো: কাউকে আল্লাহর জন্যে ও ওয়াস্তে ভালবাসা। তাই বান্দার উচিত আল্লাহ যেসব কাজ-কর্ম, ব্যক্তি, স্থান, সময় ইত্যাদিকে ভালবাসেন সেসবকে সেও ভালবাসবে। আর আল্লাহ তা'য়ালা যেসবকে ঘৃণা করেন সেও সেসবকে ঘৃণা করবে।
📄 আল্লাহকে ভালবাসার ক্ষেত্রে মানুষ
আল্লাহ তা'য়ালাকে ভালবাসার ক্ষেত্রে মানুষ চার প্রকার:
ক) আল্লাহকে ছাড়া অন্যকে ভালবাসে। ইহা বিড় শিরক।
খ) আল্লাহকে ভালবাসে কিন্তু অন্যকে তাঁর চাইতে বেশি ভালবাসে। ইহাও বড় শিরক।
গ) আল্লাহকে যেমন ভালবাসে তেমনি অন্যকেও ভালবাসে। ইহাও বড় শিরক।
ঘ) শুধুমাত্র আল্লাহকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে ভালবাসে। ইহা তাওহীদ যা মুমিনদের ভালবাসা।
আল্লাহ তা'য়ালা বলেন:
WV U T SRQP ON M[
البقرة: ١٦٥ Zn ]\[Z Y
“আর কিছু লোক এমনও রয়েছে যারা অন্যান্যকে আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করে এবং তাদের প্রতি তেমনি ভালবাসা পোষণ করে, যেমন আল্লাহর প্রতি ভালবাসা হয়ে থাকে। কিন্তু যারা আল্লাহর প্রতি ঈমানদার তাদের ভালবাসা ওদের তুলনায় বহুগুণ বেশি।” [সূরা বাকারা: ১৬৫]
📄 আল্লাহর ভালবাসার প্রকার
আল্লাহর ভালবাসা তিন প্রকার:
১. শুধুমাত্র আল্লাহকে ভালবাসা। ইহা তাওহীদ ও এবাদত যার পুরস্কার জান্নাত।
২. আল্লাহর জন্যে ও ওয়াস্তে কাউকে বা কোন কিছুকে ভালবাসা। ইহাও এবাদত।
৩. আল্লাহর সাথে কাউকে ভালবাসা। ইহা বড় শিরক যার পরিণাম জাহানাম।
📄 আল্লাহকে ভালবাসার কিছু আলামত
১. আল্লাহ তা'য়ালার সাক্ষাত পছন্দ করা; কারণ যে যাকে ভালবাসে সে তার সাক্ষাত ও দেখার প্রতিক্ষ্যায় থাকে। ইহা মৃত্যুকে ঘৃণা করার পরিপন্থী নয়; কারণ মুমিনি ব্যক্তি মৃত্যুকে ঘৃণা করে আর আল্লাহর সাক্ষাত তো মৃত্যুর পরেই। এর জন্যে সে বেশি বেশি নেক আমল করতে থাকে এবং প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকে।
عَنْ أَبِي سَعِيدِ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ أُنَاسًا فِي زَمَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ نَرَى رَبَّnَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: « نَعَمْ، هَلْ تُضَارُّونَ فِي رُؤْيَةِ الشَّمْسِ بِالظَّهِيرَةِ ضَوْءُ لَيْسَ فِيهَا سَحَابٌ؟ قَالُوا: لَا، قَالَ: وَهَلْ تُضَارُّونَ فِي رُؤْيَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ ضَوْءٌ لَيْسَ فِيهَا سَحَابٌ؟ قَالُوا: لَا ، قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا تُضَارُونَ فِي رُؤْيَةِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَّا كَمَا تُضَارُونَ فِي رؤية أحدهما - - ) ». متفق عليه.
আবু সাঈদ খুদরী [] থেকে বর্ণিত। নবী []-এর যুগে কিছু মানুষ বলল: হে আল্লাহর রসূল! আমরা কী কিয়ামতের দিন আমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাব? নবী [] বলেন: “মেঘমুক্ত আকাশে জোহরের সময় সূর্য দেখতে তোমাদের কী কষ্ট হয়? তরা বলল, না। নবী [] আবার বললেন: “মেঘমুক্ত আকাশে পূর্ণিমার রাত্রিতে চাঁদ দেখতে তোমাদের কী কষ্ট হয়? তারা বলল, না। নবী [] বললেন: “কিয়ামতের দিন আল্লাহকে দেখতে তোমাদের কোন কষ্ট হবে না যেমন (মেঘমুক্ত আকাশে) সূর্য ও চাঁদ দেখতে কষ্ট হয় না,-- ১
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:« مَنْ أَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ أَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ، وَمَنْ كَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ كَرِهَ اللَّهُ لِقَاءَهُ، قَالَتْ عَائِشَةُ أَوْ بَعْضُ أَزْوَاجِهِ: إِنَّا لَنَكْرَهُ الْمَوْتَ، قَالَ: لَيْسَ ذَاكِ وَلَكِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا حَضَرَهُ الْمَوْتُ بُشِّرَ بِرِضْوَانِ اللَّهِ وَكَرَامَتِهِ، فَلَيْسَ شَيْءٌ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا أَمَامَهُ فَأَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ وَأَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ. وَإِنَّ الْكَافِرَ إِذَا حُضِرَ بُشِّرَ بِعَذَابِ اللَّهِ وَعُقُوبَتِهِ فَلَيْسَ شَيْءٌ أَكْرَهَ إِلَيْهِ مِمَّا أَمَامَهُ كَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ وَكَرِهَ اللهُ لقَاءَهُ ». متفق عليه.
উবাদা ইবনে সামেত [২] থেকে বর্ণিত, তিনি নবী [] হতে বর্ণনা করেন। তিনি [] বলেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাত করা ভালবাসে আল্লাহও তার সাক্ষাত করা ভালবাসেন। আল যে আল্লাহর সাক্ষাত করা ঘৃণা করে আল্লাহও তার সাক্ষাত ঘৃণা করেন। আয়েশা [রযিয়াল্লাহু আনহাা] অথবা তাঁর কোন স্ত্রী বলেন, আমরা তো মৃত্যুকে ঘৃণা করি। নবী [] বলেন: “আসলে ইহা উদ্দেশ্য নয়। বরং মুমিন ব্যক্তির যখন মৃত্যু হাজির হয় তখন তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর মহত্ত্বের সুসংবাদ দেয়া হয়। এ সময় তার সামনে এর চইতে অধিক ভালবাসার বস্তু আর কিছুই থাকে না। তাই সে আল্লাহর সাক্ষাত করা ভালবাসে এবং আল্লাহও তার সাক্ষাত করা ভালবাসেন। আর কাফেরের যখন মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন তাকে আল্লাহর আজাব ও শাস্তির সংবাদ দেয়া হয়। এ সময় তার সামনে এর চাইতে বেশি ঘৃণার বস্তু আর কিছুই হয় না। তাই সে আল্লাহর সাক্ষাত করাকে ঘৃনা করে এবং আল্লাহও তার সাক্ষাত ঘৃণা করেন।'
২. নিজের সমস্ত ভালবাসর বস্তুর চাইতে প্রকাশ্যে ও গোপনে আল্লাহর ভালবাসার বস্তুকে অগ্রাধিকার দেয়া। তাই প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে বহু দূরে অবস্থান করা, অলসতাকে পরিহার করা, সর্বদা এবাদতের হেফাজত করা, বেশি বেশি নফল এবাদত দ্বারা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করার চেষ্টা করা, আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকা। তাই জবান জিকিরে ক্লান্ত হয় না, অন্তর তা থেকে খালি হয় না; কারণ যে কোন কিছুকে ভালবাসে সে তার সর্বদা জিকির করে এবং তার সাথে তার সম্পর্ক গভীর হয়। তাই আল্লাহকে ভালবাসার আলামত হচ্ছে: তাঁর জিকিরকে ভালবাসা, কুরআন যা আল্লাহর মহাবাণী তাকে ভালবাসা, তাঁর রসূল মুহাম্মদ []কে ভালবাসা এবং তিনি যা রেখে গেছেন তারই একমাত্র অনুসরণ করা।
৩. আল্লাহর কোন এবাদত বা জিকির কিংবা অজিফা ছুটে গেলে আফসোস করা, এবাদতের সময় অন্তরে মজা পাওয়া এবং ভারী মনে না করা। সাহাবা কেরাম যাঁরা আল্লাহকে সবচাইতে বেশি ভালবাসতেন তাঁদের কারো সালাতের তাকবীরে উলা (প্রথম তকবীর) ছুটে গেলে তিনি দিন এবং জামাত ছুটে গলে সাত দিন আফসোস করতেন।
৪. সকল মুমিনদের প্রতি বিনয়ী ও নম্র-ভদ্র এবং কাফেরদের প্রতি শক্ত হওয়া।
Z] + * )(' & % #" ! [ الفتح: ٢٩
“মুহাম্মদ আল্লাহর রসূল এবং তাঁর সহচরগণ কাফেরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে পরস্পর সহানুভূতিশীল।” [সূরা ফাত্হ: ২৯]
৫. ভালবাসার মাঝে সম্মান ও ভয়-ভীতি থাকা; কারণ ভয় ভালবাসার বিপরীত নয়। ভয় করে যদি আল্লাহ তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। এর চাইতেও বেশি ভয় যদি তার ও আল্লাহর মধ্যে পর্দা ফেলে দেন। আরো বেশি ভয়; করে যদি আল্লাহ তা'য়ালা তাকে তাঁর রহমত থেকে দূরে ও বঞ্চিত করে দেয়।
৬. এ ছাড়া আল্লাহর ভালবাসার লক্ষণ হলো: আল্লাহকে ভালবাসে তা গোপন রাখা, মানুষের কাছে আল্লাহর ওলী ইত্যাদি দাবী বা প্রকাশ না করা, আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে ভালবাসে তার অনুভব করা, সকল ইবাদতে অগ্রগামী ও নিষিদ্ধতা হতে দূরে থাকা।
টিকাঃ
১. বুখারী ও মুসলিম