📘 আল্লাহর প্রিয় বান্দা হবেন কিভাবে > 📄 লেখকের আবেদন

📄 লেখকের আবেদন


প্রশংসা মাত্রই আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম আমাদের নবী মুহাম্মদ [] এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবাগণের প্রতি বর্ষিত হোক।
আল্লাহর প্রিয় ও মাহবুব বান্দা হওয়া কী সম্ভব? আল্লাহ তাঁর কোন বান্দাকে ভালবাসেন? হ্যাঁ, সম্ভব এবং আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর কিছু বান্দাকে ভালবাসেন।
আল্লাহ তাঁর কোন বান্দাকে ভালবাসেন এর চেয়ে উত্তম ও মজার ভালবাসা আর কিছুই হতে পারে না। এ ভালবাসার উপরে আর কোন ভালবাসার স্থান নেই।
কেউ আল্লাহকে ভালবাসলে বা কেউ আল্লাহকে ভালবাসার দাবী করলেই যে, আল্লাহ তাকে ভালবাসেন তা বলা অসম্ভব। অসংখ্য মানুষ আল্লাহর ভালবাসার দাবীদার। কিন্তু সত্যিকারে আল্লাহ তা'য়ালা কাকে ভালবাসেন এবং কাকে ভালবাসেন না তা একমাত্র আল্লাহই জানেন।
এ ভালবাসা খুবই কম সংখ্যক মানুষের ভাগ্যে জুটে। ইহা এমন এক ভালবাসা যার প্রতিযোগিতা করে প্রতিযোগীরা। যাঁরা নিজেকে সর্বদা ব্যস্ত করে রাখে এ মহান ভালবাসা অর্জনের জন্য। এরই সৌরভে বিচরণ করে একমাত্র আল্লাহর এবাদতকারীগণ। ইহা অন্তরের জন্য খাদ্য এবং আত্মার জন্য পুষ্টি ও চোখের জন্য প্রশান্তি।
যে ব্যক্তি আল্লাহর ভালবাসা হতে বঞ্চিত তার জীবন মৃত্যু তুল্য। ইহা আলো স্বরূপ যে এ হতে বঞ্চিত হলো সে গহীন অন্ধকারে হাবুডুবু খেল। ইহা মহাঔষধ যে পেল না তার অন্তর ব্যধিগ্রস্ত। ইহা এমন মজার জিনিস যে অর্জন করতে অক্ষম তার সমস্ত জীবন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও ব্যথাতুর।
ইহা ঈমান ও আমল--- ইত্যাদির আত্মা। ইহা ব্যতীত সবকিছুই আত্মাশূন্য শরীরের মত।
আমরা কুরআন ও সহীহ হাদীস এবং সালাফে সালেহীনদের নির্ভরযোগ্য বাণীসমূহ দ্বারা “আল্লাহর প্রিয় বান্দা হবেন কিভাবে?” বিষয়ে আপনাদেরকে এ ছোট বইটি উপহার দিচ্ছি।
বইটির প্রথম প্রকাশ করতে পারায় আমরা আল্লাহ তা'য়ালার মহান দরবারে অশেষ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।
পাঠক মহোদয় ইহা থেকে উপকৃত হলে আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে। যাঁরা এ মহৎ কাজে সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের সকলকে আমাদের সকৃতজ্ঞ ধন্যবাদ জানাই।
পরিশেষে আমাদের নিবেদন এই যে, সংশোধনের কাজ কোন দিনও চূড়ান্ত করা যায় না। অতএব, বইটি পড়ার সময় কোন ভুল-ত্রুটি বা ভ্রম কারো দৃষ্টিতে পড়লে অথবা কোন নতুন প্রস্তাব থাকলে তা আমাদেরকে অবহিত করালে সাদরে গৃহীত হবে। আর পরবর্তী সংস্করণে যথাযথ বিবেচনা করা হবে।
আল্লাহ তা'য়ালার নিকট প্রার্থনা তিনি যেন, আমাদেরকে তাঁর মাহবুব ও প্রিয় বান্দা হওয়ার তাওফিক দান করেন।
হে আল্লাহ! আমাদের এই মহতী উদ্যোগ ও ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে কবুল করুন। আমীন!
আবু আহমাদ সাইফুদ্দীন বেলাল
আল-আহসা ইসলামিক সেন্টার
বাংলা বিভাগ, সৌদি আরব
১৮/ রমজান, ১৪৩২ হিঃ
১৮/৮/২০১১ ইং

📘 আল্লাহর প্রিয় বান্দা হবেন কিভাবে > 📄 প্রেমিক-প্রেমিকার ভালবাসা

📄 প্রেমিক-প্রেমিকার ভালবাসা


সবচেয়ে মজার ও উঁচুমানের ভালবাসা কী জানেন? এ এমন এক ভালবাসা যার উপরে আর কোন ভালবাসা হতে পারে না।
ভাবছেন এ ভালবাসা প্রেমিক-প্রেমিকার ভালবাসা!
বর্ণিত আছে যে, একজন আবেদ সবকিছু ছেড়ে শুধুমাত্র আল্লাহর এবাদতে মশগুল থাকত। একদিন এক অপূর্ব সুন্দরী খ্রীষ্টান মহিলাকে দেখে প্রেমে মত্ত হয়ে পড়ে। বিবাহের প্রস্তাব দিলে সুন্দরী প্রত্যাখ্যান করে বলে: যদি তুমি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ কর তবে তোমার আশা পূরণ হতে পারে। তাই সে আবেদ সুন্দরীকে পাওয়ার জন্য খ্রীষ্টান ধর্মগ্রহণ করল। কিন্তু তার সাথে সাক্ষাতের পূর্বেই কুফরি অবস্থায় মারা গেল। না'ঊযু বিল্লাহি মিন যালিক!
ঐদিকে সেই সুন্দরী এ কথা জানতে পেরে তার প্রেমিককে জান্নাতে একসাথে পাওয়ার আশায় ইসলাম ধর্মগ্রহণ করে সে মুসলিম অবস্থায় মারা গেল।
আরো বর্ণিত আছে যে, এক প্রেমিক তার প্রেমিকার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকার পর যখন সে তার সামনে হাজির হল, তখন সে তার ভালবাসা প্রকাশের জন্য প্রেমিকার দুই পায়ের মাঝে মাটিতে সেজদায় পড়ে গেল। আর এ অবস্থায় মৃত্যুর ফেরেশতা তার জান কবজ করে নিল। ফলে সে মুশরিক হয়ে মৃত্যুবরণ করল। না'ঊযু বিল্লাহি মিন যালিক!
আরো বর্ণিত আছে যে, বাগদাদে এক যুবক নিয়মিত আজানের পূর্বে মসজিদে উপস্থিত হত। যুবকটি মুয়াজ্জিনের নিকট আজান দেয়ার সুযোগ গ্রহণের প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ কর। নাছোড়বান্দা দেখে পরিশেষে মুয়াজ্জিন সাহেব যুবকটিকে আজান দেয়ার অনুমতি দেন। কিন্তু বলে দেন যে, “হাইয়া 'আলাস্ সালাহ্ ও হাইয়া 'আলাল ফালাহ্” বলার সময় ডানে-বামে ঘাড় যেন না ফেরাই।
একদিন যুবকের মাথায় খেলল আজানে “হাইয়া 'আলাস্ স্বলাহ্ ও হাইয়া 'আলাল ফালাহ্” বলার সময় ডানে-বামে ঘাড় ঘুরানো সুন্নত, যা ছেড়ে দেয়া মোটেই ঠিক হচ্ছে না। তাই ডানে ঘাড় ঘুরাতেই যুবক পার্শ্বে ছাদের উপর দেখতে পেল এক বাগদাদী সুন্দরী যুবতী। আজান শেষ না করতেই যুবক দৌড়ে মেয়েটির বাড়ীতে গিয়ে বিবাহের পয়গাম দিয়ে বসল। যুবতী বলল: আমার বাবা আছেন তাঁর সাথে কথা বল। সে মেয়েটির বাবার অপেক্ষায় রইল। মেয়েটির বাবা পৌঁছা মাত্রই মনের বাসনা প্রকাশ করল যুবক।
খ্রীষ্টান বাবা বলল: তুমি মুসলিম আর আমার মেয়ে খ্রীষ্টান; তাই তোমার সাথে আমার মেয়ের বিবাহ সম্ভব না। যুবক মেয়েটির প্রেমে এমনিই মত্ত হলো যে, সাথে সাথে বলে ফেলল: আমি তাকে ছাড়া বাঁচব না। তাই আমি খ্রীষ্টান ধর্মগ্রহণ করলাম, আপনার মেয়ের সাথে বিবাহ দেন। না'ঊযু বিল্লাহি মিন যালিক!
ইউসুফ [] কে জুলায়খার এক পক্ষের ভালবাসার কথা আল্লাহ তা'য়ালা কুরআনে বর্ণনা করেছেন।
* ) ( ' &% $ # " ! [ 9 8 7 5 4 3 2 0 / : + يوسف ۲۳
“আর সে যে মহিলার ঘরে ছিল, ঐ মহিলা তাকে ফুসলাতে লাগল এবং দরজাসমূহ বন্ধ করে দিল। সে মহিলা বলল: শুন! তোমাকে বলছি এদিকে আস! সে বলল: আল্লাহ রক্ষা করুন; তোমার স্বামী আমার মালিক। তিনি আমাকে সযত্নে থাকতে দিয়েছেন। নিশ্চয় সীমা লংঘনকারীগণ সফল হয় না।” [সূরা ইউসুফ:২৩]
وَقَالَ نِسْوَةٌ فِي الْمَدِينَةِ امْرَأَتُ الْعَزِيزِ تُرَاوِدُ فَشَهَا عَن نَّفْسِهِ قَدْ شَغَفَهَا حُبًّا إِنَّا لَنَرَتَهَا فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ Za يوسف: ٣٠
“নগরে মহিলারা বলাবলি করতে লাগল যে, আজীজের স্ত্রী স্বীয় গোলামকে কুমতলব চরিতার্থ করার জন্য ফুসলায়। সে তার প্রেমে উন্মত্ত হয়ে গেছে। আমরা তো তাকে প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে দেখতে পাচ্ছি।” [সূরা ইউসুফ: ৩০]
সাবধান! ভালবাসার ফাঁদে ও প্রেমফাঁসে পড়ে কত ছেলে-মেয়েরা তাদের দুনিয়া ও আখেরাতের জীবন নষ্ট করেছে। যারা এ ফাঁদে পড়ে গেছেন তারা এ থেকে বাঁচার চেষ্টা করুন। আর যারা পড়েননি খবদ্দার পড়ার চেষ্টা করবেন না।

📘 আল্লাহর প্রিয় বান্দা হবেন কিভাবে > 📄 স্বামী-স্ত্রীর ভালবাসা

📄 স্বামী-স্ত্রীর ভালবাসা


ভাবছেন বুঝি এ ভালবাসা স্বামী-স্ত্রীর মাঝের ভালবাসা? নি:সন্দেহে স্বামী-স্ত্রীর মাঝের ভালবাসা এক মধুর ও গভীর ভালবাসা। এ ভালবাসা আল্লাহ তা'য়ালা সৃষ্টিগতভাবেই করে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর কুরআনুল কারীমে বলেন:
b a ` _ ^] \ [Z Y [
m l k j i h f ed c
Zn الروم: ٢١
“আর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।” [সূরা রূম:২১]
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: « لَمْ نَرَ لِلْمُتَحَابَّيْنِ مِثْلَ النِّكَاحِ ». رواه ابن ماجة وصححه الألباني.
ইবনে আব্বাস [রযিয়াল্লাহু আনহুমা] হতে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ [স্বল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেন: “আমি স্বামী-স্ত্রীর মাঝের ভালবাসার মত আর কোন ভালবাসা দেখিনি।” [ইবনে মাজাহ, শাইখ আলবানী (রহ:) হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন]
রসূলুল্লাহ [] তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত প্রথম স্ত্রী খাদীজা (রা:)কে কখনো ভুলতে পারেননি। বরং প্রতিটি প্রসঙ্গে খাদীজার কথা স্মরণ করতেন।
স্বামী-স্ত্রীর মাঝের জয় করতে চাইলে প্রয়োজন ভালাবাসা। এ ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা একে অপরকে জয় করা অসম্ভব।

📘 আল্লাহর প্রিয় বান্দা হবেন কিভাবে > 📄 বাবা-মা ও সন্তানের ভালবাসা

📄 বাবা-মা ও সন্তানের ভালবাসা


ভাবছেন এ ভালবাসা বাবা-মামা ও সন্তানদের মাঝের ভালবাসা!? সন্তান ইউসুফ []কে বাবা ইয়াকুব []-এর ভালবাসার ঘটনা সবার জানা। আল্লাহ তা'য়ালা কুরআনে এ ঘটনা বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন:
ף ן μ
وَتَوَلَّى عَنْهُمْ وَقَالَ يَتَأَسَفَى عَلَى
الْحُزْنِ فَهُوَ كَظِيمُ 2 يوسف: ٨٤
“এবং তাদের দিক থেকে তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন: হায় আফসোস ইউসুফের জন্যে! এবং দুঃখে তাঁর চক্ষুদয় সাদা হয়ে গেল। আর অসহনীয় মনস্তাপে তিনি ছিলেন ক্লিষ্ট।” [সূরা ইউসুফ: ৮৪]
আবু কেলাব উমাইয়া ইবনে আস্কার তার সন্তান কেলাবকে ভালবাসার ঘটনা প্রসিদ্ধ।
ইমাম জুহরী উর'আহ্ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: কেলাব ইবনে উমাইয়া [] উমার ফারুক []-এর খেলাফাত কালে মদিনায় হিজরত করেন।
এখানে কিছুদিন অবস্থান করেন। একদিন তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ ও জুবাইর ইবনে আওওয়াম []- এর সাথে সাক্ষাত করেন। তাঁদের দু'জনকে ইসলামে সর্বোত্তম আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে বলেন: ইসলামে সর্বোত্তম আমল হচ্ছে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। এরপর উমার ফারুক []-এর সাথে পরামর্শ করলে তিনি তাকে জিহাদে প্রেরণ করেন।
এ দিকে তার বাবা-মা বয়োবৃদ্ধ ও অতি দুর্বল ছিলেন। সন্তানের অনুপস্থিত দীর্ঘ দিন হলে আবু কিলাব [] কবিতা লেখে তাঁর দুঃখের কথা প্রকাশ করেন এবং মদিনার অলিগলি আবৃতি করে বেড়ান। এমনকি তার কবিতা উমার ফারুকের নিকট পৌঁছালেও তিনি সন্তান কেলাবকে ফেরৎ নিয়ে আনার কোন ব্যবস্থা গ্রহণের ফরমান জারি করেন না।
অবস্থা কঠিন আকার ধারণ করলে আবু কেলাব একদিন উমারের নিকট আসেন। এ সময় তিনি মসজিদে নববীতে ছিলেন আর তাঁর আস-পাশ ছিলেন মুহাজির ও আনসার সাহাবাগণ। আবু কেলাব উমারের সামনে দাঁড়িয়ে তার দুঃখ ও কষ্টের কথা কবিতা আকারে পড়তে শুরু করেন।
কবিতা শুনে উমার ফারুক [] প্রচণ্ডভাবে কাঁদেন এবং কুফার আমীর সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস []কে পত্র লিখেন যে, দ্রুত কেলাব ইবনে উমাইয়াকে মদিনায় পেঁছানোর জন্যে ব্যবস্থা কর। কেলাব মদীনায় পৌঁছলে উমার [২] তাকে জিজ্ঞাসা করেন তোমার বাবার সাথে কি ধরণের সদ্ব্যবহার করতে? কেলাব তার সদ্ব্যবহারের বর্ণনা দেন।
উমার (4) বাবা উমাইয়াকে হাজির করার জন্য লোক পাঠান। তিনি টলতে টলতে এসে উপস্থিত হলেন। তার চুক্ষদ্বয় দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং পিঠ বেঁকে গেছে। উমার [] বললেন: আবু কেলাব! কেমন আছেন? উত্তরে বললেন: যেমন দেখছেন আমীরুল মুমিনীন!
উমার [] বললেন: আপনার কোন প্রয়োজন আছে কী? বললেন: হ্যাঁ, একবার প্রিয় সন্তান কেলাবকে দেখতে চাই। মৃত্যুর পূর্বে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে তার শরীরের গন্ধ নিতে চাই। এ কথা শুনে উমার [] কাঁদতে লাগলেন এবং বললেন: আল্লাহ চাহে আপনার আশা পূরণ করা হবে। অত:পর উমার[] কেলাবকে তার বাবার জন্যে যেভাবে দুধ দহন করত সেরূপ এক গ্লাস দুধ দহন করতে আদেশ করলেন। সে তাই করলে দুধের পেয়ালা উমার[] নিয়ে আবু কেলাবের হাতে দিয়ে বললেন, ধরুন হে আবু কেলাব।
আবু কেলাব পেয়ালা হাতে নিয়ে মুখের নিকট নিতেই উমার[]কে বলেন: হে আমীরুল মুমিনীন! আমি এ পেয়ালাতে কেলাবের দু'হাতের গন্ধ পাচ্ছি। এ শুনে উমার [] ক্রন্দন করতে লাগলেন এবং বললেন: এই যে কেলাব আপনার নিকটে হাজির। তাকে আমি উপস্থিত করেছি। শুনামাত্র সন্তানের দিকে লাফ দিয়ে উঠেন এবং বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে চুমা দিতে থাকেন। এ দেখে আবার উমার [] এবং উপস্থিত সকলে কাঁদতে লাগলেন। অত:পর উমার [] কেলাবকে তার বাবা-মার খেদমত করার নির্দেশ করে বললেন: যতদিন তাঁরা বেঁচে থাকেন ততদিন তাঁদের দু'জনের খেদমত করেই জিহাদ কর। এরপর তোমার যা হবাব হবে। এ ছাড়া উমার ফারুক [] কেলাবের সরকারী ভাতা চালু রাখার নির্দেশ করলেন। কেলাব [১] তাঁর বাবা-মার মৃত্যু পর্যন্ত তাঁদের সাথেই অবস্থান করেন।১
যুদ্ধ বন্দীদের মধ্য হতে একজন মহিলা তার সন্তানকে পাওয়ার জন্য পাগল পরা হয়ে ছুটাছুটি করতে ছিল। সন্তানকে পেয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে সন্তানকে বুকের দুধ পান করাতে লাগল। এ অবস্থা দেখে রসূলুল্লাহ [] সাহাবাদেরকে বললেন: এ মহিলাটি কী তার এ সন্তানকে আগুনে নিক্ষেপ করতে পারে? সাহাবাগণ উত্তর দিলেন: পারতপক্ষে সন্তানকে আগুনে কক্ষনো নিক্ষেপ করতে পারে না। নবী [] বললেন: এ মা তার সন্তানকে যতটুকু দয়া করে তার চাইতেও আল্লাহ তার বান্দার প্রতি বেশি দয়াবান।২
আয়েশা [রাঃ] বলেন: তাঁর নিকটে একজন মিসকিন মহিলা দু'টি মেয়েকে নিয়ে হাজির হয়। আমি তাকে তিনটি খেজুর দেই। সে প্রতিটি মেয়েকে একটি করে খেজুর দেয়। অত:পর সে তৃতীয় খেজুরটি নিজে খাওয়ার জন্য মুখের দিকে উত্তোলন করে। এ অবস্থায় মেয়ে দু'টি হাত বাড়ালে মা তার খেজুরটিকে দু'ভাগ করে তাদেরকে দিয়ে দেন।
আয়েশা [রাঃ] বলেন: এ দেখে আমাকে বড় আশ্চর্য লাগলে। ঘটনাটি আমি রসূলুল্লাহ []-এর নিকট বর্ণনা করি। তিনি [] বলেন: আল্লাহ তা'য়ালা এর দ্বারা সে মহিলাটির জন্য জান্নাতকে ওয়াজিব করে দিয়েছেন বা বলেন: এর দ্বারা তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি করে দিয়েছেন।'

টিকাঃ
১. খাজ্জানাতুল আদাব: ২/২৭৩
২. বুখারী ও মুসলিম
১. মুসলিম

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00