📘 আল্লাহর পথে যাত্রা > 📄 ৭.২ দুনিয়ার বিষণ্নতা এবং আখিরাতের দুর্দশা

📄 ৭.২ দুনিয়ার বিষণ্নতা এবং আখিরাতের দুর্দশা


দায়মান, একজন ধর্মপ্রাণ ইবাদাতকারী, বলেন, 'আখিরাত যদি মুমিনের জন্য সুখ বয়ে না আনে তাহলে দুইটা বিষয় তার জন্য একত্রিত হয়ঃ দুনিয়ায় বিষণ্নতা এবং আখিরাতে দুর্দশা।' তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, 'একজন ব্যক্তি যে দুনিয়াতে কঠোর সংগ্রাম করলো সে কেমন করে আখিরাতে সুখের মুখ না দেখে থাকে?' তিনি উত্তর দিলেন, 'স্বীকৃতি কি? নিরাপত্তা কি? কত সংখ্যক মানুষ যারা মনে করে যে তারা সৎকর্ম করছে যদিও বিচারদিবসে সেগুলোকে একত্রিত করা হবে এবং তাদের মুখে ছুড়ে মারা হবে।'
এটা এই কারনে যে আমির ইবনে আব্দুল কায়স ও অন্যান্যরা এই আয়াতের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন থাকতেন,
وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ ابْنَيْ آدَمَ بِالْحَقِّ إِذْ قَرَّبَا قُرْبَانًا فَتُقُبِّلَ مِن أَحَدِهِمَا وَلَمْ يُتَقَبَّلْ مِنَ الْآخَرِ قَالَ لَأَقْتُلَنَّكَ قَالَ إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللَّهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ
'... অবশ্যই আল্লাহর মুত্তাকীদের কুরবানি কবুল করেন।' [সুরা মায়িদাহঃ ২৭]
ইবনে আওন বলেন, 'বিশাল নেক আমল নিয়ে নিরাপদ বোধ করো না কেননা তুমি জানো না সেগুলো গ্রহনযোগ্য হবে কি হবে না। তোমার গুনাহ নিয়েও নিরাপদ বোধ করো না কেননা তুমি জানো না সেগুলোর প্রায়শ্চিত্ত করা হয়েছে কি হয়নি। কারন তোমার সকল আমল তোমার কাছে অদেখা এবং তোমার কোন ধারনা নেই আল্লাহ সেগুলো দিয়ে কি করবেন।'
নাখাই তার মৃত্যুর সময় কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন, 'আমি রসুলুল্লাহর (সঃ) অপেক্ষায় আছি এবং আমার কোন ধারনা নেই তিনি আমাকে জান্নাত নাকি জাহান্নামের সুসংবাদ দিবেন।' অন্য আরেকজন মৃত্যুর সময় উদ্বিগ্ন অনুভব করেছিলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, 'আপনি উদ্বিগ্ন কেন?' তিনি উত্তর দিলেন, 'এটা হচ্ছে সেই সময় যার সম্পর্কে আমার কোন ধারনা নেই যে আমি কোন দিকে চালিত হব।'
একজন সাহাবা মৃত্যুর সময় উদবিগ্নতার আতিশয্যে পরাভূত হয়ে পড়েছিলেন এবং তাকে তার পরিস্থিতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দিলেন, 'আল্লাহ দুই হাত মুষ্টি করে তাঁর সৃষ্টিগুলোকে নিয়েছেন, এক মুষ্টি জান্নাতের জন্য এবং এক মুষ্টি জাহান্নামের জন্য এবং আমার ধারনা নেই আমি কোন মুষ্টিতে অন্তর্ভুক্ত হবো।'

টিকাঃ
১২১. আবু নুয়াইম, ভলিয়ুম ৩, পৃষ্ঠা ৩৬০।
১২২. আবু নুয়াইম, ভলিয়ুম ৪, পৃষ্ঠা ২২৪।
১২৩. আহমাদ #১৭৫৯৪ একজন সাহাবা হতে বর্ণিত এবং হায়সামি, ভলিয়ুম ৭, পৃষ্ঠা ১৮৭ বলেন, 'এর বর্ণনাকারীরা সহীহ।' তাবারানি, আল-কাবির, ভলিয়ুম ২০, পৃষ্ঠা ৩৬৫, মুয়ায ইবনে জাবাল হতে বর্ণিত এবং হায়সামি ইসনাদে দুইটি দুর্বলতা খুঁজে বের করেছেন।

📘 আল্লাহর পথে যাত্রা > 📄 ৭.৩ সতর্ক, সতর্ক!

📄 ৭.৩ সতর্ক, সতর্ক!


আদম সন্তান তার জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ ভীতিকর পরিস্থিতির স্বীকার হবে মৃত্যু, কবর, বারযাখ, পুনরুত্থান, পুলসিরাত এবং সবচেয়ে বড় ভীতি মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর সামনে দাঁড়ানো এবং আগুন, যে কেউ এটা বিবেচনা করে, যেহেতু তা বিবেচ্য বিষয়, সে নিজেকে উদ্বিগ্ন অবস্থায় খুজে পাবে। সে শেষমুহুর্তে তার ঈমান হারানোর এবং অপরাধী হিসেবে পরকালে শাস্তি পাওয়ার ভয়ে থাকবে। সত্যিকারের মুমিন কখনও এই সকল বিষয় থেকে নিজেকে নিরাপদ মনে করবে না।
أَفَأَمِنُواْ مَكْرَ اللَّهِ فَلَا يَأْمَنُ مَكْرَ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْخَاسِرُونَ
'... বস্তুত ক্ষতিগ্রস্থ সম্প্রদায় ব্যতীত কেউ আল্লাহর কৌশল হতে নিরাপদ মনে করে না।' [সুরা আরাফঃ ৯৯]
এই সকল বিষয়গুলো আদম সন্তানকে আরাম ও শিথিলতা থেকে নিবৃত্ত করা উচিত। স্বপ্নে একজন ব্যক্তি বলছিলো,
চোখ দুটি ঘুমায় কি করে শান্তভাবে?
এখনও জানা নেই বসবাস করবে তারা কোন আবাসে?
নেই কোন যার জামিনদার।
একজন ধর্মপ্রান ইবাদাতকারীকে তার মৃত্যু শয্যায় তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো, তখন তিনি বলেন,
কেউ জানে না কবরে তার জন্য কি অপেক্ষা করছে
রক্ষা কর আল্লাহ, তিনি একক যিনি কবরের নেতা।
এই বিষয়ে তাদের একজন বলেন,
ওয়াল্লাহি, যদি মানুষ জানতো কেন তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে,
না সে ঘুমাতো না সে কর্তব্যে অবহেলা করতো।
তাকে এমন কিছুর জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে যা হবে নিশ্চিত,
না সে বিপথগামী হত না সে ঘুমাতো যদি তার হৃদয় তা দেখতো;
মৃত্যু, কবর, পুনরুত্থানঃ শোচনীয় তিরস্কার, আতঙ্ক ভীতিকর।
মানুষকে জাহির করা হবে হাশরের ময়দান,
সালাত ও সিয়াম গভীর উত্তেজনায়!
যখন আদেশ বা নিষেধ আসে আমরা কিন্তু, গুহার মানুষদের মতঃ
সজাগ কিন্তু ঘুমন্ত।
আলহামদুলিল্লাহি রাব্বুল আল' আমিন। শান্তি ও মঙ্গল বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তার পরিবার ও তার সকল সাহাবাদের উপর।

টিকাঃ
১২৪. আল-বারযাখ, মৃত ব্যক্তি ও তার দুনিয়ার জীবনের মধ্যকার প্রতিবন্ধককে বুঝায়। আখিরাতের জীবনের প্রথম ধাপে যাওয়ার পথ হিসেবে একে বিবেচনা করা হয়। বারযাখের সুন্দর ব্যাখ্যা এবং এই বিষয়ের সাথে জড়িত বিষয় গুলোর সঠিক ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে, মুহাম্মদ আল-জিব্রাইল এর 'লাইফ ইন বারযাখ' বইতে [আল-কিতাব অ্যান্ড আল-সুন্নাহ পাব্লিশিং, ১৯৯৮]।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00