📘 আল্লাহর পথে যাত্রা > 📄 ৭.১ এমন ধরনের আমল যা হবে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণার মত

📄 ৭.১ এমন ধরনের আমল যা হবে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণার মত


প্রথমঃ পূর্বে উল্লেখিত বিষয়ের চেয়ে আরো সাধারন কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা এবং এর মধ্যে একটি হল আমল যা থেকে সে ভালো কিছু আশা করে কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেগুলো বিক্ষিপ্ত ধূলিকণাতে পরিণত হয় এবং সব অসৎ আমলে পরিবর্তিত হয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَعْمَالُهُمْ كَسَرَابٍ بِقِيعَةٍ يَحْسَبُهُ الظَّمْآنُ مَاءِ حَتَّى إِذَا جَاءهُ لَمْ يَجِدْهُ شَيْئًا وَوَجَدَ اللَّهَ عِندَهُ فَوَفَّاهُ حِسَابَهُ وَاللَّهُ سَرِيعُ الْحِسَابِ
'যারা কুফরী করে তাদের কর্ম মরুভূমির মরীচিকাসদৃশ, পিপাসার্ত যাকে পানি মনে করে থাকে, কিন্তু সে তার নিকট উপস্থিত হলে দেখবে তা কিছু নয় এবং সে পাবে সেখানে আল্লাহকে, অতঃপর তিনি তার কর্মফল পূর্ণমাত্রায় দিবেন। আল্লাহ হিসাব গ্রহনে তৎপর।' [সুরা নূরঃ ৩৯]
وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاءً مَّنثُورًا
'আমি তাদের কৃতকর্মের প্রতি লক্ষ্য করব, অতঃপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করব।' [সুরা ফুরকানঃ ২৩]
এই আয়াত সম্পর্কে ফুদায়েল বলেন, “তাদের জন্য আল্লাহর নিকট হতে এমন কিছু প্রকাশিত হবে যা তারা কল্পনাও করে নাই,” 'তারা আমল করেছে এই ভেবে যে এগুলো ভালো কাজ হবে কিন্তু বাস্তবে সেগুলো ছিলো খারাপ কাজ।'
দ্বিতীয়ঃ উপরেরটার কাছাকাছি; বান্দা কোন গুনাহর কাজ করে যার দিকে সে কোন মনযোগ দেয় না, ভাবে যে তুচ্ছ, এবং এই গুনাহই তার সর্বনাশের কারন হবে যেমনটা আল্লাহ বলেন,
إِذْ تَلَقَّوْنَهُ بِأَلْسِنَتِكُمْ وَتَقُولُونَ بِأَفْوَاهِكُم مَّا لَيْسَ لَكُم بِهِ عِلْمٌ وَتَحْسَبُونَهُ هَيِّنًا وَهُوَ عِندَ اللَّهِ عَظِيمٌ
'... তোমরা একে তুচ্ছ গণ্য করেছিলে, যদিও আল্লাহর নিকট এটি ছিল গুরুতর বিষয়।' [সুরা নূরঃ ১৫]
একজন সাহাবা বলেন, 'তুমি একটি কাজ করছো, তোমার চোখে সেটা একটি চুলের থেকেও তুচ্ছ, পক্ষান্তরে রাসুলুল্লাহর (সঃ) সময় একে ধ্বংসাত্মক গুনাহ বিবেচনা করতাম!'
তৃতীয়ঃ পূর্বাবস্থার চেয়ে বেশি খারাপ; একজন যার কাছে তার নিজের অসৎ আচরণ গুলোকে সন্তোষজনক মনে হয়, আল্লাহ তা'আলা বলেন,
قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالًا . الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا.
'বল, 'আমি কি তোমাদেরকে সংবাদ দিবো কর্মে বিশেষ ক্ষতিগ্রস্থদের?' এরাই তারা, 'পার্থিব জীবনে যাদের প্রচেষ্টা পন্ড হয়, যদিও তারা মনে করে যে, তারা সতকর্মই করছে,” [সুরা কাহফঃ ১০৩-১০৪]
ইবনে উয়ায়নাহ বলেন, 'মুহাম্মদ ইবনে আল-মুনকাদির মৃত্যুর সময় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন এবং তাই লোকজন আবু হাযিমকে ডেকে পাঠালেন এবং তিনি আসলেন। ইবনে আল-মুনকাদির তাকে বলেন, “আল্লাহ বলেন, 'তাদের জন্য আল্লাহর নিকট হতে এমন কিছু প্রকাশিত হবে যা তারা কল্পনাও করে নাই।' এবং আমি ভয় পাই যে সবকিছু আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে এবং আমাকে এমন কিছুর সম্মুখিন হতে হবে যা আমি কখনও আশা করি নাই।" তারপর তারা দুইজনই কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন।' ইবনে আবু হাতিম এটা বর্ণনা করেন এবং ইবনে আবু আল-দুনিয়া তার বর্ণনায় যোগ করেন, 'তাই তার পরিবার বলল, “আমরা আপনাকে ডাকলাম এই জন্য যেন আপনি তাকে স্বান্তনা দিতে পারেন কিন্তু আপনি তার উদ্বেগ আরো বাড়িয়ে দিলেন!” তখন তাদেরকে বললেন যে তিনি কি বলেছেন।'
ফুদায়েল ইবনে ইয়াদ বলেন, 'আমাকে জানানো হয় যে সুলায়মান আল-তায়মিকে বলা হয়েছে, “আপনি! কে আছে আপনার মত!” তিনি বলেন, “চুপ! এই কথা বল না! আমি জানি না আল্লাহর কাছ থেকে আমার সামনে কি দৃশ্যমান হবে, আমি জানি আল্লাহ বলেন, 'তাদের জন্য আল্লাহর নিকট হতে এমন কিছু প্রকাশিত হবে যা তারা কল্পনাও করে নাই।'””'
চতুর্থঃ সুফিয়ান আল-সাওরি এই আয়াত সম্পর্কে বলেন, 'দুঃখ হয় লোকদেখানো মানুষগুলোর জন্য। এটা দেখা যায় সেই হাদিসে যেখানে বলা হয়েছে তিন ব্যক্তিকে সর্বপ্রথম আগুনে নিক্ষপ করা হবেঃ আলেম, সাদাকা দানকারী এবং মুজাহিদ।'
পঞ্চমঃ একজন ব্যক্তি সতকর্ম করেছে কিন্তু পাশাপাশি অন্যদের উপর জুলুম করেছে এবং সে মনে করে যে তার কৃতকর্ম তাকে রক্ষা করবে, তাই সেখানে এমন কিছুর মুখোমুখি হতে হবে যা সে কোনদিন আশা করেনি। তার সব সতকর্ম তাদের মধ্যে ন্যায্যভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে যাদের উপর সে জুলুম করেছিলো, এরপর আরো কিছু জুলুম বাকি থাকবে পরিশোধের জন্য, এবং কাজেই তাদের গুনাহ তার উপর স্তূপাকার করা হবে এবং ফলে তাকে আগুনে নিক্ষেপ করা হবে।
ষষ্ঠঃ তার আমলনামা এমন পর্যায়ে তদন্ত করা হতে পারে যে তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে তার উপর যেসব নিয়ামত দেওয়া হয়েছিলো তার জন্য সে কতটা কৃতজ্ঞ ছিলো। তার আমল সর্বনিম্ন নিয়ামতের সাথে সমতা বিধান করবে এবং ওজনহীন বাকি নিয়ামতগুলো ওজনে তাদের থেকে অনেক বেশি হবে! এই কারনেই রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন, “যার আমলনামা তদন্ত করা হবে সে শাস্তিভোগ করবে" অথবা "ধ্বংস হয়ে যাবে।”
সপ্তমঃ সে গুনাহ করতে পারে যা তার কিছু সতকর্মকে বা অঙ্গ প্রত্যঙ্গের আমলকে, যা তাওহীদকে সংরক্ষন করে ধ্বংস করে দিতে পারে, যার ফলশ্রুতিতে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। সাওবান হতে বর্ণিত ইবনে মাজাহ একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন যে রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন, "আমার উম্মাহর মধ্যে এমন লোক আছে যারা পাহাড়সম আমল নিয়ে আসবে এবং আল্লাহ সেগুলোকে বিচার করবেন বিক্ষিপ্ত ধূলিকণার মত।” এই হাদিসটি উল্লেখ করা যায়, “এরা হলো সেসব লোক যারা আপনার বর্ণের, (আপনার ভাষায় কথা বলে), তারা রাতের কিছু অংশ সালাতে ব্যয় করে যেমন আপনি করেন, কিন্তু তারা হচ্ছে সেসব লোক, যখন তারা একা থাকে তখন তারা আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে।”
সালিম, আবু হুযায়ফাহর মুক্ত করা দাস, হতে বর্ণিত ইয়াকুব ইবনে শায়বাহ ও ইবনে আবু আল দুনিয়া উল্লেখ করেন যে রাসুলুল্লাহ বলেন, “বিচারদিবসে একদল লোক আনা হবে যাদের আমল হবে তিহামাহ পাহাড়ের সমান এবং আল্লাহ সেগুলোকে ধূলো হিসেবে বিবেচনা করবেন এবং এদেরকে সর্বপ্রথম আগুনে নিক্ষেপ করা হবে।” সালিম বলেন, “আমি ভয় পাই, আমি তাদের মধ্যে একজন!” তিনি (সঃ) বলেন, “তারা সিয়াম পালন করতো, সালাহ আদায় করতো এবং রাতের কিছু অংশ ইবাদতে ব্যয় করতো, কিন্তু গোপনে, যখন নিষিদ্ধ কোনকিছু করার সুযোগ আসতো, তারা সেই সুযোগটা নিতো যেন আল্লাহ তাদের এই কর্ম বাতিল করে দিবে।” একজন ব্যক্তির কৃতকর্ম অকার্যকর হয়ে যেতে পারে তার অহংকার ও জাহির করার কারনে এবং এরা এখনও সচেতন নয়!

টিকাঃ
১১২. বুখারি #৬৪৯২ আনাস হতে বর্ণিত।
১১৩. ইবনে আল-জাওযি, ভলিয়ুম ২, পৃষ্ঠা ১৬৭ #১৮৫।
১১৪. যাহাবি, তাযকিরাতুল-হুফফাজ, ভলিয়ুম ১, পৃষ্ঠা ১৫১।
১১৫. কুরতুবি, ভলিয়ুম ১৫, পৃষ্ঠা ২৬৫।
১১৬. মুসলিম #১৯০৫/৪৯২৩ আবু হুরায়রাহ হতে বর্ণিত। 'বিচারদিবসে প্রথম যে ব্যক্তির বিচার করা হবে, সে হবে একজন শহীদ। তাকে সামনে নিয়ে আসা হবে এবং আল্লাহ তার প্রতি আল্লাহর নিয়ামাত বর্ণনা করবেন এবং সে এগুলোর প্রাপ্তিস্বীকার করবে। তারপর আল্লাহ জিজ্ঞাসা করবেন, "তুমি সেগুলো দিয়ে কি করেছো?” সে উত্তর দিবে, "আমি আপনার জন্য শহীদ হওয়ার আগ পর্যন্ত যুদ্ধ করেছি।" আল্লাহ বলবেন, "তুমি মিথ্যা বলছো। তুমি যুদ্ধ করছো এই কারনে যেন তোমাকে 'সাহসী মুজাহিদ' বলা হয় এবং তোমাকে তা ডাকা হয়েছে।” তারপর হুকুম করা হবে এবং তাকে মুখের উপর টেনে নিয়ে যাওয়া হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
এবং একজন ব্যক্তি যে জ্ঞানার্জন করেছেন এবং শিক্ষা দিয়েছেন ও কুরআন তিলাওয়াত করেছেন। তাকে সামনে নিয়ে আসা হবে এবং আল্লাহ তার প্রতি আল্লাহর নিয়ামাত বর্ণনা করবেন এবং সে এগুলোর প্রাপ্তিস্বীকার করবে। তারপর আল্লাহ জিজ্ঞাসা করবেন, "তুমি সেগুলো দিয়ে কি করেছো?” সে বলবে, "আমি জ্ঞানার্জন করেছি এবং তা ছড়িয়ে দিয়েছি এবং আপনার জন্য কুরআন তিলাওয়াত করেছি।” আল্লাহ বলবেন, "তুমি মিথ্যা বলছো। তুমি জ্ঞানার্জন করেছো এই কারনে যেন তোমাকে 'আলেম' বলা হয় এবং তুমি কুরআন তিলাওয়াত করেছো এই কারনে যেন বলা হয়ে 'সে একজন ক্বারী' এবং তা বলা হয়েছে।" তারপর হুকুম করা হবে এবং তাকে মুখের উপর টেনে নিয়ে যাওয়া হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
এবং একজন ব্যক্তি যাকে আল্লাহ অঢেল ধনী করেছিলেন এবং সব ধরনের সম্পদ দিয়েছিলেন। তাকে সামনে নিয়ে আসা হবে এবং আল্লাহ তার প্রতি আল্লাহর নিয়ামাত বর্ণনা করবেন এবং সে এগুলোর প্রাপ্তিস্বীকার করবে। তারপর আল্লাহ জিজ্ঞাসা করবেন, "তুমি সেগুলো দিয়ে কি করেছো?” সে বলবে, "আপনার ইচ্ছায় আপনার জন্য যতগুলো খাতে সম্পদ ব্যয় করা সম্ভব তার সবগুলো খাতে আমি সাদাকা করছি।" আল্লাহ বলবেন, "তুমি মিথ্যা বলছো। তুমি এগুলো করেছো এই কারনে যে বলা হয় 'সে অনেক দানশীল' এবং তা বলা হয়েছে।" তারপর হুকুম করা হবে এবং তাকে মুখের উপর টেনে নিয়ে যাওয়া হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।'
১১৭. ফুট নোট #২৩ হাদিস দেখুন।
১১৮. ফুট নোট #২৫-২৬ হাদিস দেখুন।
১১৯. এই বাক্যটি ইবনে মাজাহর হাদিসে পাওয়া যায়নি।
১২০. ইবনে মাজাহ #৪২৪৫। বুসায়রি বলেন, 'এর ইসনাদ সহীহ' এবং আলবানি, #২৩৪৬ এ একে সহীহ বলেছেন।

📘 আল্লাহর পথে যাত্রা > 📄 ৭.২ দুনিয়ার বিষণ্নতা এবং আখিরাতের দুর্দশা

📄 ৭.২ দুনিয়ার বিষণ্নতা এবং আখিরাতের দুর্দশা


দায়মান, একজন ধর্মপ্রাণ ইবাদাতকারী, বলেন, 'আখিরাত যদি মুমিনের জন্য সুখ বয়ে না আনে তাহলে দুইটা বিষয় তার জন্য একত্রিত হয়ঃ দুনিয়ায় বিষণ্নতা এবং আখিরাতে দুর্দশা।' তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, 'একজন ব্যক্তি যে দুনিয়াতে কঠোর সংগ্রাম করলো সে কেমন করে আখিরাতে সুখের মুখ না দেখে থাকে?' তিনি উত্তর দিলেন, 'স্বীকৃতি কি? নিরাপত্তা কি? কত সংখ্যক মানুষ যারা মনে করে যে তারা সৎকর্ম করছে যদিও বিচারদিবসে সেগুলোকে একত্রিত করা হবে এবং তাদের মুখে ছুড়ে মারা হবে।'
এটা এই কারনে যে আমির ইবনে আব্দুল কায়স ও অন্যান্যরা এই আয়াতের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন থাকতেন,
وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ ابْنَيْ آدَمَ بِالْحَقِّ إِذْ قَرَّبَا قُرْبَانًا فَتُقُبِّلَ مِن أَحَدِهِمَا وَلَمْ يُتَقَبَّلْ مِنَ الْآخَرِ قَالَ لَأَقْتُلَنَّكَ قَالَ إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللَّهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ
'... অবশ্যই আল্লাহর মুত্তাকীদের কুরবানি কবুল করেন।' [সুরা মায়িদাহঃ ২৭]
ইবনে আওন বলেন, 'বিশাল নেক আমল নিয়ে নিরাপদ বোধ করো না কেননা তুমি জানো না সেগুলো গ্রহনযোগ্য হবে কি হবে না। তোমার গুনাহ নিয়েও নিরাপদ বোধ করো না কেননা তুমি জানো না সেগুলোর প্রায়শ্চিত্ত করা হয়েছে কি হয়নি। কারন তোমার সকল আমল তোমার কাছে অদেখা এবং তোমার কোন ধারনা নেই আল্লাহ সেগুলো দিয়ে কি করবেন।'
নাখাই তার মৃত্যুর সময় কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন, 'আমি রসুলুল্লাহর (সঃ) অপেক্ষায় আছি এবং আমার কোন ধারনা নেই তিনি আমাকে জান্নাত নাকি জাহান্নামের সুসংবাদ দিবেন।' অন্য আরেকজন মৃত্যুর সময় উদ্বিগ্ন অনুভব করেছিলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, 'আপনি উদ্বিগ্ন কেন?' তিনি উত্তর দিলেন, 'এটা হচ্ছে সেই সময় যার সম্পর্কে আমার কোন ধারনা নেই যে আমি কোন দিকে চালিত হব।'
একজন সাহাবা মৃত্যুর সময় উদবিগ্নতার আতিশয্যে পরাভূত হয়ে পড়েছিলেন এবং তাকে তার পরিস্থিতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দিলেন, 'আল্লাহ দুই হাত মুষ্টি করে তাঁর সৃষ্টিগুলোকে নিয়েছেন, এক মুষ্টি জান্নাতের জন্য এবং এক মুষ্টি জাহান্নামের জন্য এবং আমার ধারনা নেই আমি কোন মুষ্টিতে অন্তর্ভুক্ত হবো।'

টিকাঃ
১২১. আবু নুয়াইম, ভলিয়ুম ৩, পৃষ্ঠা ৩৬০।
১২২. আবু নুয়াইম, ভলিয়ুম ৪, পৃষ্ঠা ২২৪।
১২৩. আহমাদ #১৭৫৯৪ একজন সাহাবা হতে বর্ণিত এবং হায়সামি, ভলিয়ুম ৭, পৃষ্ঠা ১৮৭ বলেন, 'এর বর্ণনাকারীরা সহীহ।' তাবারানি, আল-কাবির, ভলিয়ুম ২০, পৃষ্ঠা ৩৬৫, মুয়ায ইবনে জাবাল হতে বর্ণিত এবং হায়সামি ইসনাদে দুইটি দুর্বলতা খুঁজে বের করেছেন।

📘 আল্লাহর পথে যাত্রা > 📄 ৭.৩ সতর্ক, সতর্ক!

📄 ৭.৩ সতর্ক, সতর্ক!


আদম সন্তান তার জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ ভীতিকর পরিস্থিতির স্বীকার হবে মৃত্যু, কবর, বারযাখ, পুনরুত্থান, পুলসিরাত এবং সবচেয়ে বড় ভীতি মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর সামনে দাঁড়ানো এবং আগুন, যে কেউ এটা বিবেচনা করে, যেহেতু তা বিবেচ্য বিষয়, সে নিজেকে উদ্বিগ্ন অবস্থায় খুজে পাবে। সে শেষমুহুর্তে তার ঈমান হারানোর এবং অপরাধী হিসেবে পরকালে শাস্তি পাওয়ার ভয়ে থাকবে। সত্যিকারের মুমিন কখনও এই সকল বিষয় থেকে নিজেকে নিরাপদ মনে করবে না।
أَفَأَمِنُواْ مَكْرَ اللَّهِ فَلَا يَأْمَنُ مَكْرَ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْخَاسِرُونَ
'... বস্তুত ক্ষতিগ্রস্থ সম্প্রদায় ব্যতীত কেউ আল্লাহর কৌশল হতে নিরাপদ মনে করে না।' [সুরা আরাফঃ ৯৯]
এই সকল বিষয়গুলো আদম সন্তানকে আরাম ও শিথিলতা থেকে নিবৃত্ত করা উচিত। স্বপ্নে একজন ব্যক্তি বলছিলো,
চোখ দুটি ঘুমায় কি করে শান্তভাবে?
এখনও জানা নেই বসবাস করবে তারা কোন আবাসে?
নেই কোন যার জামিনদার।
একজন ধর্মপ্রান ইবাদাতকারীকে তার মৃত্যু শয্যায় তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো, তখন তিনি বলেন,
কেউ জানে না কবরে তার জন্য কি অপেক্ষা করছে
রক্ষা কর আল্লাহ, তিনি একক যিনি কবরের নেতা।
এই বিষয়ে তাদের একজন বলেন,
ওয়াল্লাহি, যদি মানুষ জানতো কেন তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে,
না সে ঘুমাতো না সে কর্তব্যে অবহেলা করতো।
তাকে এমন কিছুর জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে যা হবে নিশ্চিত,
না সে বিপথগামী হত না সে ঘুমাতো যদি তার হৃদয় তা দেখতো;
মৃত্যু, কবর, পুনরুত্থানঃ শোচনীয় তিরস্কার, আতঙ্ক ভীতিকর।
মানুষকে জাহির করা হবে হাশরের ময়দান,
সালাত ও সিয়াম গভীর উত্তেজনায়!
যখন আদেশ বা নিষেধ আসে আমরা কিন্তু, গুহার মানুষদের মতঃ
সজাগ কিন্তু ঘুমন্ত।
আলহামদুলিল্লাহি রাব্বুল আল' আমিন। শান্তি ও মঙ্গল বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তার পরিবার ও তার সকল সাহাবাদের উপর।

টিকাঃ
১২৪. আল-বারযাখ, মৃত ব্যক্তি ও তার দুনিয়ার জীবনের মধ্যকার প্রতিবন্ধককে বুঝায়। আখিরাতের জীবনের প্রথম ধাপে যাওয়ার পথ হিসেবে একে বিবেচনা করা হয়। বারযাখের সুন্দর ব্যাখ্যা এবং এই বিষয়ের সাথে জড়িত বিষয় গুলোর সঠিক ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে, মুহাম্মদ আল-জিব্রাইল এর 'লাইফ ইন বারযাখ' বইতে [আল-কিতাব অ্যান্ড আল-সুন্নাহ পাব্লিশিং, ১৯৯৮]।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00