📄 ৬.১ সকাল এবং সন্ধ্যার সময়
জান্নাতে অভিজাতদের জন্য এই দুইটি সময় সংরক্ষিত আছে আল্লাহর সাথে সশ্রদ্ধ সাক্ষাতের জন্য, এবং এই দুনিয়াতে তিনি (সঃ) এই দুই সময়ের সালাত সংরক্ষনের জন্য অনুপ্রাণিত করেন। অতএব যে কেউ দুনিয়াতে এই দুই সালাত সবচেয়ে উত্তম পন্থায়, আত্মসমর্পিত অবস্থায়, হৃদয়ের উপস্থিতিতে, এবং সকল আহকামগুলো পালনের মাধ্যমে আদায় করবে, আশা করা যায় যে সে তাদের মধ্যে একজন হবে যে জান্নাতে এই দুই সময়ে আল্লাহকে দেখবে। এরচেয়ে বেশি ভালো হয় যদি কেউ এই সময়ে আল্লাহর যিকিরকে এবং অন্যান্য ইবাদতকে আঁকড়ে ধরে সূর্যোদয়ের আগে ও সূর্যাস্তের আগে। বান্দা যদি এর সাথে রাতের শেষভাগের যাত্রা যোগ করেন, তাহলে সে তিনটি সময়েই যাত্রা করলোঃ রাতের শেষভাগ, সকাল এবং সন্ধ্যা, এবং যদি সে সত্যবাদী হয়, অবশ্যই এর দ্বারা অনুসৃত হবে মহান লক্ষ্যের জন্য কার্য সম্পাদন,
فِي مَقْعَدِ صِدْقٍ عِندَ مَلِيكٍ مُّقْتَدِرٍ
'যোগ্য আসনে, সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী আল্লাহর সান্নিধ্যে।' [সুরা কামারঃ ৫৫]
যে কেউ দৃঢ়তা ও সততার সাথে তার যাত্রায় অনুগত থাকে তার জন্য সুসংবাদ রয়েছে,
أَكَانَ لِلنَّاسِ عَجَبًا أَنْ أَوْحَيْنَا إِلَى رَجُلٍ مِّنْهُمْ أَنْ أَنذِرِ النَّاسَ وَبَشِّرِ الَّذِينَ آمَنُواْ أَنَّ لَهُمْ قَدَمَ صِدْقٍ عِندَ رَبِّهِمْ قَالَ الْكَافِرُونَ إِنَّ هَذَا لَسَاحِرٌ مُّبِينٌ
'... এবং মুমিনদেরকে সুসংবাদ দাও, তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের নিকট আছে উচ্চ মর্যাদা!...' [সুরা ইউনুসঃ ২]
একজন প্রেমিক সব সময় তার প্রিয়জনের কথা জিজ্ঞাসা করে, তার সাথে সংশ্লিষ্ট খবরের অনুসন্ধান করে, যেকোন ছোট তথ্য টেনে বের করে নিয়ে আসে, এবং ভ্রমণের জন্য সেই গতিপথ অনুসরন করে যে পথ তাকে তাঁর কাছে নিয়ে যায়।
হে অন্বেষী! কেউ কি আছে যে জওয়াব দিতে পারে?
একসাথে আমাদের কাটানো সময়ের মত পরম সুখ আর কিছুতেই নেই!
তার পরিবারের টাঙানো তাঁবুর সন্ধান কেবল যদি আমি জানতাম।
আল্লাহর ভূমির কোথায় তারা পথ হারিয়ে রয়েছে,
বাতাসের মতই তার কাছে আমরা ছুটে যেতাম!
এই সুখসন্ধানে ছুটে যেতাম যদিওবা তা তারাকে অতিক্রম করে যেত!
নিশ্চয়ই সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা উত্তম যার লক্ষ্য হল আল্লাহ এবং নিশ্চয়ই তার আত্মা পবিত্র যার প্রিয় হচ্ছেন তিনি। আল্লাহ বলেন,
وَلَا تَطْرُدِ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُم بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ مَا عَلَيْكَ مِنْ حِسَابِهِم مِّن شَيْءٍ وَمَا مِنْ حِسَابِكَ عَلَيْهِم مِّن شَيْءٍ فَتَطْرُدَهُمْ فَتَكُونَ مِنَ الظَّالِمِينَ
‘যারা তাদের প্রতিপালককে প্রাতে ও সন্ধ্যায় তাঁর সন্তুষ্টি লাভার্থে ডাকে তাদেরকে তুমি বিতাড়িত করো না। ...’ [সুরা আন'আমঃ ৫২]
📄 ৬.২ যারা দুনিয়া আঁকড়ে ধরে এবং যারা আখিরাত আঁকড়ে ধরে
একজন মানুষের যোগ্যতা বিচার করা হয় সে কি অন্বেষণ করে তার উপর ভিত্তি করে। এমন একজনকে কেউ বিচার করতে পারে না যে আল্লাহকে অন্বেষণ করে কেননা তা অপরিমেয়। যে দুনিয়া অন্বেষণ করে সে এত মূল্যহীন যে তাকে বিচার করা যায় না। শিবলি বলেন, 'যেকেউ এই দুনিয়াকে আঁকড়ে ধরবে সে এর অগ্নিশিখা দ্বারা পুড়তে থাকবে যতক্ষণ না সে ছাই হয়ে বাতাসে উড়ে যায়। যেকেউ আখিরাতকে আঁকড়ে ধরবে সে এর আলো দ্বারা এমনভাবে পুড়তে থাকবে যে সে গুণগতমানসম্পন্ন খাঁটি স্বর্ণে পরিণত হয় এবং এর দ্বারা উপকৃত হয়। যেকেউ আল্লাহকে আঁকড়ে ধরবে সে তাওহীদের আলো দ্বারা দাহ্য হবে এবং সে অমূল্য মণিতে পরিণত হবে।'
উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে তার, বৃহত্তমটি হল অনন্ত;
আর ক্ষুদ্রতমটি, সময় নিজেই তাকে খুঁজে পায় অস্পৃশ্য।
আল-শিবলিকে জিজ্ঞাসা করা হল, 'প্রিয়জনের সাথে সাক্ষাত করার আগে এমন আর কিছু কি আছে যা কখনও প্রেমিকের সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে?' নিচের শ্লোক দিয়ে তিনি উত্তর দিয়েছিলেন,
ওয়াল্লাহি! যদি তুমি আমায় মুকুট পরিয়ে দিতে খসরুর মুকুট,
পূর্বের রাজা, আর সম্মুখে হাজির করতে সৃষ্টজীবের ধন-সম্পদ-
আজকের ও গতকালের ধন-সম্পদ
আমায় বলা হল 'কিন্তু তোমার সাথে আঁমরা একবার দেখা করবনা।'
হে প্রভূ, তোমার সাথে সাক্ষাতেই আমার হৃষ্ট সম্মতি!
যেরূপ মহৎ উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে সে কেবলমাত্র আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা'আলাকে খুঁজার মাঝেই সন্তুষ্টি খুঁজে পাবে।
ইতস্তত আমার প্রত্যেক যাত্রা
সকালে ও সন্ধ্যায়- আর তোমার যিকিরও -
আমার জীবনের শ্বাস, সতেজ মৃদু হাওয়া
আর ভেঙ্গে ফেলে নিস্তব্ধতা।
তুমি আমার উচ্চাভিলাষ আমার সব, আমার লক্ষ্য আমার সফলতা।
হে আমার আশ্রয় ও ত্রাণকর্তা, আমায় সংশোধন করে হিদায়াতের পথে রাখো।