📘 আল্লাহর পথে যাত্রা > 📄 ৫.৩ আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার শ্রেষ্ঠত্ব

📄 ৫.৩ আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার শ্রেষ্ঠত্ব


হাদিসে কুদসীতে উল্লেখ আছে, "যেকেউ আমার দিকে হাত-বিঘত দৈর্ঘ্য এগিয়ে আসে আমি তার দিকে একহাত এগিয়ে যাই। যেকেউ আমার দিকে একহাত এগিয়ে আসে আমি তার দিকে চারহাত এগিয়ে যাই। যেকেউ আমার দিকে হেঁটে আসে আমি তার দিকে দৌঁড়ে যাই।” আহমাদের ব্যাখ্যায় আরো যোগ করা হয়েছে, “এবং আল্লাহ অধিক মর্যাদাসম্পন্ন এবং মহৎ; আল্লাহর অধিক মর্যাদাসম্পন্ন এবং মহৎ।” আহমাদের অন্য হাদিসে আছে, মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেন, “হে আদম সন্তান! আমার সামনে দাঁড়াও এবং আমি তোমার দিকে হেঁটে আসবো। আমার দিকে হেঁটে আসো এবং আমি তোমার দিকে দৌঁড়ে যাবো।”
যে আঁমাদের (আল্লাহ) দিকে ফিরবে, দূর হতে তাকে আঁম্রা স্বেচ্ছায় বরন করবো
আঁমাদের চাওয়া যার কামনা, তার চাওয়া আঁমাদের কামনা
যে আঁমাদের কাছে চায় আঁম্রা তাকে আরো এবং আরো দিবো
যে কেউ আঁমাদের সাহায্য প্রার্থনা করবে, আঁম্রা তার জন্য লোহা নরম করে দিবো।
হে মানবসন্তান! আপনি গভর্নরের দরজায় গেলে, সে আপনাকে সাদরে গ্রহন অথবা কোন মনোযোগ প্রদর্শন করতো না, হয়ত সে আপনাকে তার কাছে যাওয়া থেকে বাধা প্রদান করতো। কিন্তু রাজাররাজা বলছে, “যেকেউ আমার দিকে হেঁটে আসবে, আমি তার দিকে দৌড়ে যাবো,” তথাপি তুমি তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও এবং অন্যের পিছনে ছুটো! আপনি আদব-কায়দার দিক থেকে নিকৃষ্টতম ভাবে ধোকা পেতে পারেন এবং কঠিন পথগুলোতে আপনি হারিয়ে যেতে পারেন!
আল্লাহর শপথ, আমি আঁপনার সাথে কখনো দেখা করতে আসি না
তখন ছাড়া যখন এই দুনিয়া আমার জন্য ছোট হয়ে আসে,
এবং কখনই আঁপ্নার দরজা ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেই নাই,
নিজের কাছে হোঁচট খাওয়া ছাড়া!
আপনাদের মধ্যে যারা তাঁর সাক্ষাত কামনা করেন, পথকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, তাহলে কেন বিলম্ব করা আর পিছনে পড়ে থাকা? পথকে তোমার সামনে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, সত্যই, যার তোঁমাকে পাওয়ার বাসনা নেই তাকে খুজতে হবে!
قَالَتْ رُسُلُهُمْ أَفِي اللَّهِ شَكٍّ فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يَدْعُوكُمْ لِيَغْفِرَ لَكُم مِّن ذُنُوبِكُمْ وَيُؤَخِّرَكُمْ إِلَى أَجَلٍ مُّسَمًّى قَالُواْ إِنْ أَنتُمْ إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُنَا تُرِيدُونَ أَن تَصُدُّونَا عَمَّا كَانَ يَعْبُدُ آبَاؤُنَا فَأْتُونَا بِسُلْطَانٍ مُّبِينٍ
‘... আল্লাহ সম্বন্ধে কি কোন সন্দেহ আছে, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা? তিনি তোমাদেরকে আহবান করেন তোমাদের পাপ মার্জনা করার জন্য এবং নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত তোমাদেরকে অবকাশ দিবার জন্য...’ [সুরা ইব্রাহিমঃ ১০]
يَا قَوْمَنَا أَجِيبُوا دَاعِيَ اللَّهِ وَآمِنُوا بِهِ يَغْفِرْ لَكُم مِّن ذُنُوبِكُمْ وَيُجِرْكُم مِّنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ
‘হে আমাদের সম্প্রদায়! আল্লাহর দিকে আহবানকারীর প্রতি সাড়া দাও...’ [সুরা আহক্বাফঃ ৩১]
ও হতভাগা আত্মা! হিদায়াহ এসেছে তোমার দিকে, সাড়া দাও! এই হল আল্লাহর আহবানকারী ডাকছে তোমায়।
বহুবার তোমায় ডাকা হয়েছে হিদায়াতের পথে
তথাপি তুমি চলেছ মুখ ফিরিয়ে
কিন্তু তুমি জানতে চেয়েছ তুমি কি বিপথগামী
পথনির্দেশক যখন সে তোমায় ডেকেছে!

টিকাঃ
৯৮. বুখারি #৭৪০৫ এবং মুসলিম #২৬৮৭-৬৮৩৩-২৭৪৩-৬৯৫২ আবু হুরায়রাহ হতে বর্ণিত।
৯৯. আহমাদ #২১৩৭৪ আবু যার হতে বর্ণিত। হায়সামি, ভলিয়ুম ১০, পৃষ্ঠা ১৯৭ এর ইসনাদকে হাসান বলেছেন।
১০০. আহমাদ #১৫৯২৫ একজন সাহাবা হতে বর্ণিত। হায়সামি, ভলিয়ুম ১০, পৃষ্ঠা ১৯৭ ইসনাদের বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত এবং সঠিক। মুনযিরি, তারঘিব #৪৭৭১ এবং আলবানি #৩১৫৩ এর ইসনাদকে সহিহ বলেছেন।

📘 আল্লাহর পথে যাত্রা > 📄 ৫.৪ আল্লাহর কাছে পৌঁছানোর রাস্তাসমূহ

📄 ৫.৪ আল্লাহর কাছে পৌঁছানোর রাস্তাসমূহ


আল্লাহর কাছে দুই ভাবে পৌছানো সম্ভব, একটা ঘটে দুনিয়াতে এবং আরেকটা ঘটে আখিরাতে। দুনিয়াতে তাঁর কাছে পৌঁছানোর অর্থ হল অন্তরে তাঁর জ্ঞানার্জন করা এবং যখন এমনটা হয়ে যায়, তা (অন্তর) তাঁকে ভালোবাসে, তাঁর কাছ থেকে স্বান্তনা নেয়, তাঁর সাথে ঘনিষ্ঠতা অনুভব করে, এবং তাঁর কাছ থেকে তৎক্ষণাৎ তার দুআর ফল পেয়ে যায়। একটি বর্ণনায় আছে, “হে আদম সন্তান, আঁমাকে খুঁজো, তাহলে আঁমাকে তুমি পাবে। যখন সে আঁমাকে খুঁজে পাবে সে সবকিছু খুঁজে পাবে, আর যদি সে আমাকে খুঁজে না পায় তাহলে সে সবকিছু হারাবে।”
তুমি আঁমাদের খুঁজলেই পেয়ে যাবে।
বড় হৃদয়টি আঁমাদেরকে ধারন করার জন্য যথেষ্টঃ ধৈর্য্যশীল ও পরিতৃপ্ত
আঁমাদের থেকে এই সবকিছুই তারা পাবে।
যুল-নুন প্রায়শই রাতে বাইরে গিয়ে আকাশ দেখতেন এবং আকাশ দেখে সকাল পর্যন্ত নিচের কবিতার লাইন গুলোই আওড়াতেন,
খুঁজে ফেরো নিজেকে আমারই মত খুঁজে পাবে তুমি।
আমি যেখানে পেয়েছি খুঁজে প্রশান্তি তাঁর ভালোবাসা নিয়ে
নেই তাঁর কোন দ্বিধাঃ দূরে সরলে আমি কাছে টেনে নেন তিনি
আর কাছে সরলে আমি, তিনি হন আরো কাছাকাছি।
আখিরাতে তাঁর কাছে পৌছানোর অর্থ হল জান্নাতে প্রবেশ করাঃ আল্লাহর অনুগ্রহের আবাসস্থল। কিন্তু জান্নাতের অনেক গুলো স্তর রয়েছে এবং এর অধিবাসীদের আল্লাহর সাথে ঘনিষ্টতার মর্যাদা নির্ধারিত হবে এই দুনিয়াতে তাঁর জ্ঞানকে বাস্তবায়নের স্তরের উপর, তাদের ঘনিষ্টতা এবং তাদের সাক্ষ্যপ্রদানের উপর,
كُنتُمْ أَزْوَاجًا ثَلَاثَةً. فَأَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ مَا أَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ. وَأَصْحَابُ الْمَشْأَمَةِ مَا أَصْحَابُ الْمَشْأَمَةِ. وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ. أُوْلَئِكَ الْمُقَرَّبُونَ.
'এবং তোমরা বিভক্ত হয়ে পড়বে তিনটি শ্রেণীতে। ডান দিকের দল; কত ভাগ্যবান ডানদিকের দল! এবং বামদিকের দল; কত হতভাগ্য বামদিকের দল! আর অগ্রবর্তীগণই তো অগ্রবর্তী, তারাই নৈকট্যপ্রাপ্ত-' [সুরা ওয়াকিয়াহঃ ৭-১১]
শিবলি যখন তার নিজ গৃহে বিক্ষোভ করছিলেন, তখন তিনি নিচের এই শ্লোক আওড়েছিলেন,
কেউ ধৈর্য্যশীল হতে পারবে না যতক্ষন তুমি থাকবে বহুদূরে
সে পরিচিত হবে যখন ঘনিষ্টতা হবে।
তোঁমা হতে কেউ অবগুন্ঠিত হবে না
যখন সে তোঁমার প্রেমে মজে যাবে।
যদিওবা তার নয়ন তোঁমায় দেখেনি
হৃদয় তোঁমায় আকড়ে ধরবে।

টিকাঃ
১০১. আবু নুয়াইম, ভলিয়ুম ৯, পৃষ্ঠা ৩৫৭ #১৪১১২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00