📄 ৫.১ মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর পথে চলা
খুলায়েদ আল-আসারি বলেন, 'সব প্রেমিক তার প্রিয় মানুষের সাথে দেখা করতে চায়, তাই তোমার প্রতিপালককে ভালোবাসো এবং সুন্দর ভ্রমণের মধ্য দিয়ে তাঁর পথে চলোঃ না দুঃসাধ্য না ঢিলেঢালা। এই যাত্রা মুমিনকে তার রবের কাছে নিয়ে যাবে এবং যে তার রবের পথ সম্পর্কে জানে না সে তা অতিক্রম করতে পারবে না এবং এই ধরনের মানুষ ও পশুর মধ্যে কোন তফাৎ নেই।'
যুল-নুন বলেন, 'তারাই পথভ্রষ্ট, যারা তাদের রবের পথ চিনে না এবং তারা তা চিনতে চেষ্টা করে না।'
আল্লাহর দিকে অতিক্রান্ত পথ হলো তাঁর সরল পথ যে পথে তিনি তাঁর রাসুলকে (সঃ) প্রেরণ করেছেন এবং যার জন্য তিনি তাঁর বই নাজিল করেছেন। এটাই হলো সেই পথ যে পথে তিনি তাঁর সমস্ত সৃষ্টিকুলকে চলতে বলেছেন। ইবনে মা'সুদ বলেন, 'সরলপথঃ মুহাম্মদ (সঃ) এর এক প্রান্ত রেখে গেছেন আমাদের কাছে আর অপর প্রান্ত রয়েছে জান্নাতে। পথটি দুইটি শাখায় বিন্যস্ত, ডান এবং বাম, যেখানে মানুষ দাঁড়িয়ে অন্য পথচারীদের আহবান করছে। যে কেউ তাদের পথ অনুসরন করবে আগুনে যাবে কিন্তু যে সরল পথে থাকবে সে জান্নাতে যাবে।'
তারপর তিনি তিলাওয়াত করেন,
وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَن سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُم بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
‘এবং এই পথই আমার সরলপথ। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করবে। এইভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন, যেন তোমরা সাবধান হও।’ [সুরা আন'আমঃ ১৫৩]
ইবনে জারির ও অন্যান্যরা এটা উল্লেখ করেন। অতএব আল্লাহর দিকে একটা পথ, সরলপথ, অন্য সব পথ হল শয়তানের পথ, যে কেউ এসব পথে চলবে সে আল্লাহর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং শেষে এর ফলাফল হবে তাঁর অসন্তুষ্টি, ক্রোধ ও শাস্তি।
টিকাঃ
৯১. আবু নুয়াইম, ভলিউম ২, পৃষ্ঠা ২৩২।
৯২. ইবিড, ভলিউম ৯, পৃষ্ঠা ৩৭২।
*. তিরমীযি #৭৬ নাওয়াস ইবনে সামান হতে বর্ণিত যে রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন, "আল্লাহর দৃষ্টান্ত হিসাবে নিম্নোক্ত সাদৃশ্য দেখিয়েছেনঃ একটি পথ রয়েছে যা সোজা গন্তব্যে পৌছে দেয়। এই পথের দুই পাশেই দেয়াল রয়েছে যেখানে পর্দা টাঙ্গানো খোলা দরজা আছে। পথের দূরবর্তী প্রান্ত থেকে একটি কন্ঠ ডাকে, 'সরল পথে এগিয়ে যাও, মুখ ফিরিয়ে নিও না।' যখন কেউ দরজার পর্দা তুলতে মনস্থ করে তখন উপর থেকে অন্য আরেকটি কন্ঠ বলেন, 'সাবধান! পর্দা তুলো না; অন্যথায় তুমি অভ্যন্তরের প্রতি প্রলুব্ধ হবে।' নবী (সঃ) দৃষ্টান্তটিকে ব্যাখ্যা করেন এইভাবে যে সরল পথ হল ইসলাম, দেয়াল হল আল্লাহর নির্ধারিত সীমা, খোলা দরজাগুলো হল সেইসব জিনিস যা তিনি নিষেধ করেছেন, দূরবর্তী প্রান্ত থেকে যে কন্ঠ ডাকবে তা হল কুরআন, আর উপর থেকে যে কন্ঠ কথা বলে সে হল মুমিনের হৃদয়ে আল্লাহর ছায়া।” তিরমীযিতে একে হাসান গরিব বলা হয়েছে এবং যাহাবির সহমতে হাকিম #২৪৫ ও আলবানি, সহীহ আল-জামি, #৩৮৮৭ একে সহীহ বলেছেন।
৯৪. তাবারানি #১৪১৭৫।
৯৫. ইবনে আল-কাইয়ুম বলেন, 'আমরা সরল পথের অর্থ ব্যাখ্যা করবো সংক্ষিপ্ত আকারে কারন মানুষ বিভিন্ন ভাবে এর ব্যাখ্যা করেছে একটি অপরিহার্য বিষয়কে কেন্দ্র করে। সরল পথ হল আল্লাহর পথ যা তিনি রেখেছেন মানবজাতিকে তাঁর দিকে ধাবিত করার জন্য; এটা ছাড়া তাঁর দিকে আর কোন পথ নেই যা তিনি তাঁর রাসুলের উপর নাজিল করেছেন। এটা শুধুমাত্র এককভাবে তাঁরই ইবাদাতের জন্য এবং এককভাবে শুধুমাত্র তাঁর রাসুলকে মান্য করার জন্য। সুতরাং তাঁর ইবাদাতের ক্ষেত্রে কারো শিরক করা উচিত নয় যেমনটা তাঁর রাসুলকে (সঃ) অনুসরনের ক্ষেত্রে শিরক করা উচিত নয়। একজনের উচিত তার তাওহীদকে বিশুদ্ধ করা; রাসুলকে (সঃ) অনুসরনের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ হতে হবে এবং এটাই পরিপূর্ণ সাক্ষ্য প্রদান যে, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়া আন্না মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।' সরল পথের সমস্ত ভিন্নধর্মী ব্যাখ্যা এই দুইটি মুলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। আপনাকে অবশ্যই পুরো হৃদয় দিয়ে তাঁকে ভালোবাসতে হবে, আপনাকে অবশ্যই আপনার সর্বোচ্চ সামর্থ দিয়ে তাঁকে সন্তুষ্ট করতে হবে; তাঁর জন্য প্রচুর ভালোবাসা ছাড়া আপনার হৃদয়ে কোন জায়গা থাকা উচিত না এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করা ছাড়া আপনার আর কোন বাসনা থাকা উচিত নয়। বাস্তবে রূপ দেওয়ার মাধ্যমেই এর প্রথম অংশ হৃদয়ঙ্গম করতে হবে, 'আল্লাহ ছাড়া ইবাদাতের যোগ্য আর কেউ নেই' বাস্তব রূপ দিয়েই দ্বিতীয় অংশ বুঝতে হবে, 'মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল।' এটাই হল হিদায়াত এবং সত্য ধর্ম, সত্যকে জানা এবং তার উপর আমল করা, তিনি তাঁর রাসুলের কাছে কি নাজিল করেছেন তা পর্যায়ক্রমে জানা এবং তার দ্বারা জীবনযাপন করা। সমস্ত ব্যাখ্যা এই অপরিহার্য ধারনাকে পরিভ্রমন করে তৈরি করা। সাহল ইবনে আব্দুল্লাহ বলেন, ‘কুরআন এবং সুন্নাহর উপর দৃঢ় থাকো কারন আমি ভয় পাই যে এমন সময় আসবে যখন নবী (সঃ) এবং উল্লেখিত সকল ক্ষেত্রে তাকে অনুসরন করার গুরুত্ব, যিনি এসব বলেছেন তাকে মানুষ তিরস্কার করবে, অন্যান্যদের তার থেকে দূরে পালানোর কারন হবে, নিজেদেরকে তার থেকে বিচ্ছিন্ন করবে, তাকে অপমান ও অপদস্থ করবে।’ আব্দুল-রাহমান আলি আল শেইখ, ফাতহ আল-মাজিদ শারহ কিতাব আল-তাওহীদ, পৃষ্ঠা ২৪।
📄 ৫.২ আমলের সমাপ্তি দ্বারা আমল নির্ধারণ
এমন হতে পারে একজন তার জীবনের শুরুতে সরল পথে চলল, তারপর তা থেকে সরে গেলো এবং শয়তানের কোন একটা পথে ভ্রমণ করলো, অতঃপর সে আল্লাহর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ধ্বংস হয়ে যায়। "নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে কেউ জান্নাতের অধিবাসীদের আমল করবে যে পর্যন্ত তার ও জান্নাতের মধ্যে দূরত্ব হবে এক থেকে চার হাত পরিমাণ এবং তারপর সে জাহান্নামের অধিবাসিদের আমল করবে ও তাতে প্রবেশ করবে।”
বিপরীতক্রমে এমন হতে পারে যে একজন তার জীবনের শুরুতে শয়তানের পরিচালিত কোন পথে চলল এবং তারপর তার জীবনে সৌভাগ্য আসলো এবং সরল পথে চলল এবং আল্লাহর কাছে পৌছে গেলো। এটা অপরিহার্য যে একজন ব্যক্তি তার যাত্রার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দৃড়তার সাথে সরল পথে ভ্রমণ করবে,
ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاء وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ
'এটা আল্লাহ্রই অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি তা দান করেন। আল্লাহ তো মহা অনুগ্রহশীল।' [সুরা জুমু'আঃ ৪]
وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى دَارِ السَّلَامِ وَيَهْدِي مَن يَشَاء إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ
'আল্লাহ শান্তির আবাসের দিকে আহবান করেন এবং যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন।' [সুরা ইউনুসঃ ২৫]
অনেকেই আছে যারা যাত্রার কিছু অংশ ভ্রমণের পর পিছু হটে যান এবং যাত্রা পরিত্যাগ করে। পরম দয়াশীলের দুই আঙ্গুলের ফাঁকে থাকে ক্বল্ব,
يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُواْ بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ وَيُضِلُّ اللَّهُ الظَّالِمِينَ وَيَفْعَلُ اللَّهُ مَا يَشَاء
'যারা শাশ্বত বাণীতে বিশ্বাসী তাদেরকে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন...' [সুরা ইব্রাহিমঃ ২৭]
হে আমার প্রিয়! মরুপথে দ্বিধাগ্রস্থরা সংখ্যায় অনেক,
কিন্তু গন্তব্য পৌছে খুবই কমসংখ্যক।
টিকাঃ
৯৬. বুখারি #৩৩৩২-৬৫৯৪ এবং মুসলিম #২৬৪৩-৬৭২৩ ইবনে মাসুদ হতে বর্ণিত।
৯৭. মুসলিম #২৬৫৪-৬৭৫০ এবং তিরমীযি #২১৪০।
📄 ৫.৩ আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার শ্রেষ্ঠত্ব
হাদিসে কুদসীতে উল্লেখ আছে, "যেকেউ আমার দিকে হাত-বিঘত দৈর্ঘ্য এগিয়ে আসে আমি তার দিকে একহাত এগিয়ে যাই। যেকেউ আমার দিকে একহাত এগিয়ে আসে আমি তার দিকে চারহাত এগিয়ে যাই। যেকেউ আমার দিকে হেঁটে আসে আমি তার দিকে দৌঁড়ে যাই।” আহমাদের ব্যাখ্যায় আরো যোগ করা হয়েছে, “এবং আল্লাহ অধিক মর্যাদাসম্পন্ন এবং মহৎ; আল্লাহর অধিক মর্যাদাসম্পন্ন এবং মহৎ।” আহমাদের অন্য হাদিসে আছে, মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেন, “হে আদম সন্তান! আমার সামনে দাঁড়াও এবং আমি তোমার দিকে হেঁটে আসবো। আমার দিকে হেঁটে আসো এবং আমি তোমার দিকে দৌঁড়ে যাবো।”
যে আঁমাদের (আল্লাহ) দিকে ফিরবে, দূর হতে তাকে আঁম্রা স্বেচ্ছায় বরন করবো
আঁমাদের চাওয়া যার কামনা, তার চাওয়া আঁমাদের কামনা
যে আঁমাদের কাছে চায় আঁম্রা তাকে আরো এবং আরো দিবো
যে কেউ আঁমাদের সাহায্য প্রার্থনা করবে, আঁম্রা তার জন্য লোহা নরম করে দিবো।
হে মানবসন্তান! আপনি গভর্নরের দরজায় গেলে, সে আপনাকে সাদরে গ্রহন অথবা কোন মনোযোগ প্রদর্শন করতো না, হয়ত সে আপনাকে তার কাছে যাওয়া থেকে বাধা প্রদান করতো। কিন্তু রাজাররাজা বলছে, “যেকেউ আমার দিকে হেঁটে আসবে, আমি তার দিকে দৌড়ে যাবো,” তথাপি তুমি তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও এবং অন্যের পিছনে ছুটো! আপনি আদব-কায়দার দিক থেকে নিকৃষ্টতম ভাবে ধোকা পেতে পারেন এবং কঠিন পথগুলোতে আপনি হারিয়ে যেতে পারেন!
আল্লাহর শপথ, আমি আঁপনার সাথে কখনো দেখা করতে আসি না
তখন ছাড়া যখন এই দুনিয়া আমার জন্য ছোট হয়ে আসে,
এবং কখনই আঁপ্নার দরজা ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেই নাই,
নিজের কাছে হোঁচট খাওয়া ছাড়া!
আপনাদের মধ্যে যারা তাঁর সাক্ষাত কামনা করেন, পথকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, তাহলে কেন বিলম্ব করা আর পিছনে পড়ে থাকা? পথকে তোমার সামনে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, সত্যই, যার তোঁমাকে পাওয়ার বাসনা নেই তাকে খুজতে হবে!
قَالَتْ رُسُلُهُمْ أَفِي اللَّهِ شَكٍّ فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يَدْعُوكُمْ لِيَغْفِرَ لَكُم مِّن ذُنُوبِكُمْ وَيُؤَخِّرَكُمْ إِلَى أَجَلٍ مُّسَمًّى قَالُواْ إِنْ أَنتُمْ إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُنَا تُرِيدُونَ أَن تَصُدُّونَا عَمَّا كَانَ يَعْبُدُ آبَاؤُنَا فَأْتُونَا بِسُلْطَانٍ مُّبِينٍ
‘... আল্লাহ সম্বন্ধে কি কোন সন্দেহ আছে, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা? তিনি তোমাদেরকে আহবান করেন তোমাদের পাপ মার্জনা করার জন্য এবং নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত তোমাদেরকে অবকাশ দিবার জন্য...’ [সুরা ইব্রাহিমঃ ১০]
يَا قَوْمَنَا أَجِيبُوا دَاعِيَ اللَّهِ وَآمِنُوا بِهِ يَغْفِرْ لَكُم مِّن ذُنُوبِكُمْ وَيُجِرْكُم مِّنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ
‘হে আমাদের সম্প্রদায়! আল্লাহর দিকে আহবানকারীর প্রতি সাড়া দাও...’ [সুরা আহক্বাফঃ ৩১]
ও হতভাগা আত্মা! হিদায়াহ এসেছে তোমার দিকে, সাড়া দাও! এই হল আল্লাহর আহবানকারী ডাকছে তোমায়।
বহুবার তোমায় ডাকা হয়েছে হিদায়াতের পথে
তথাপি তুমি চলেছ মুখ ফিরিয়ে
কিন্তু তুমি জানতে চেয়েছ তুমি কি বিপথগামী
পথনির্দেশক যখন সে তোমায় ডেকেছে!
টিকাঃ
৯৮. বুখারি #৭৪০৫ এবং মুসলিম #২৬৮৭-৬৮৩৩-২৭৪৩-৬৯৫২ আবু হুরায়রাহ হতে বর্ণিত।
৯৯. আহমাদ #২১৩৭৪ আবু যার হতে বর্ণিত। হায়সামি, ভলিয়ুম ১০, পৃষ্ঠা ১৯৭ এর ইসনাদকে হাসান বলেছেন।
১০০. আহমাদ #১৫৯২৫ একজন সাহাবা হতে বর্ণিত। হায়সামি, ভলিয়ুম ১০, পৃষ্ঠা ১৯৭ ইসনাদের বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত এবং সঠিক। মুনযিরি, তারঘিব #৪৭৭১ এবং আলবানি #৩১৫৩ এর ইসনাদকে সহিহ বলেছেন।
📄 ৫.৪ আল্লাহর কাছে পৌঁছানোর রাস্তাসমূহ
আল্লাহর কাছে দুই ভাবে পৌছানো সম্ভব, একটা ঘটে দুনিয়াতে এবং আরেকটা ঘটে আখিরাতে। দুনিয়াতে তাঁর কাছে পৌঁছানোর অর্থ হল অন্তরে তাঁর জ্ঞানার্জন করা এবং যখন এমনটা হয়ে যায়, তা (অন্তর) তাঁকে ভালোবাসে, তাঁর কাছ থেকে স্বান্তনা নেয়, তাঁর সাথে ঘনিষ্ঠতা অনুভব করে, এবং তাঁর কাছ থেকে তৎক্ষণাৎ তার দুআর ফল পেয়ে যায়। একটি বর্ণনায় আছে, “হে আদম সন্তান, আঁমাকে খুঁজো, তাহলে আঁমাকে তুমি পাবে। যখন সে আঁমাকে খুঁজে পাবে সে সবকিছু খুঁজে পাবে, আর যদি সে আমাকে খুঁজে না পায় তাহলে সে সবকিছু হারাবে।”
তুমি আঁমাদের খুঁজলেই পেয়ে যাবে।
বড় হৃদয়টি আঁমাদেরকে ধারন করার জন্য যথেষ্টঃ ধৈর্য্যশীল ও পরিতৃপ্ত
আঁমাদের থেকে এই সবকিছুই তারা পাবে।
যুল-নুন প্রায়শই রাতে বাইরে গিয়ে আকাশ দেখতেন এবং আকাশ দেখে সকাল পর্যন্ত নিচের কবিতার লাইন গুলোই আওড়াতেন,
খুঁজে ফেরো নিজেকে আমারই মত খুঁজে পাবে তুমি।
আমি যেখানে পেয়েছি খুঁজে প্রশান্তি তাঁর ভালোবাসা নিয়ে
নেই তাঁর কোন দ্বিধাঃ দূরে সরলে আমি কাছে টেনে নেন তিনি
আর কাছে সরলে আমি, তিনি হন আরো কাছাকাছি।
আখিরাতে তাঁর কাছে পৌছানোর অর্থ হল জান্নাতে প্রবেশ করাঃ আল্লাহর অনুগ্রহের আবাসস্থল। কিন্তু জান্নাতের অনেক গুলো স্তর রয়েছে এবং এর অধিবাসীদের আল্লাহর সাথে ঘনিষ্টতার মর্যাদা নির্ধারিত হবে এই দুনিয়াতে তাঁর জ্ঞানকে বাস্তবায়নের স্তরের উপর, তাদের ঘনিষ্টতা এবং তাদের সাক্ষ্যপ্রদানের উপর,
كُنتُمْ أَزْوَاجًا ثَلَاثَةً. فَأَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ مَا أَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ. وَأَصْحَابُ الْمَشْأَمَةِ مَا أَصْحَابُ الْمَشْأَمَةِ. وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ. أُوْلَئِكَ الْمُقَرَّبُونَ.
'এবং তোমরা বিভক্ত হয়ে পড়বে তিনটি শ্রেণীতে। ডান দিকের দল; কত ভাগ্যবান ডানদিকের দল! এবং বামদিকের দল; কত হতভাগ্য বামদিকের দল! আর অগ্রবর্তীগণই তো অগ্রবর্তী, তারাই নৈকট্যপ্রাপ্ত-' [সুরা ওয়াকিয়াহঃ ৭-১১]
শিবলি যখন তার নিজ গৃহে বিক্ষোভ করছিলেন, তখন তিনি নিচের এই শ্লোক আওড়েছিলেন,
কেউ ধৈর্য্যশীল হতে পারবে না যতক্ষন তুমি থাকবে বহুদূরে
সে পরিচিত হবে যখন ঘনিষ্টতা হবে।
তোঁমা হতে কেউ অবগুন্ঠিত হবে না
যখন সে তোঁমার প্রেমে মজে যাবে।
যদিওবা তার নয়ন তোঁমায় দেখেনি
হৃদয় তোঁমায় আকড়ে ধরবে।
টিকাঃ
১০১. আবু নুয়াইম, ভলিয়ুম ৯, পৃষ্ঠা ৩৫৭ #১৪১১২।