📘 আল্লাহর পথে যাত্রা > 📄 ৩.১ একটি মহৎনীতি

📄 ৩.১ একটি মহৎনীতি


মানুষদের মধ্যে তারাই উত্তম যারা নবীর (সঃ) পথ এবং তার সাহাবাদের প্রতিভা অনুসরন করেছে, যেমন ইবাদতের শারিরীক আমলের ক্ষেত্রে তারা ছিলেন মধ্যপন্থি এবং অন্তরের হালচাল ও কাজ-কারবার শুদ্ধ করার ব্যাপারে তারা সংগ্রাম করেছেন। কারন শারিরীক যাত্রা নয়, অন্তর যাত্রা দ্বারাই আখিরাতের যাত্রা সংক্ষিপ্ত করা সম্ভব।
এক জ্ঞানী ব্যক্তির কাছে একজন লোক এসে বলল, 'আমি অনেক যাত্রা করেছি এবং আপনার কাছে পৌছাতে কষ্ট হয়েছে।' তিনি উত্তর দিলেন, 'এটা দুঃসাধ্য যাত্রার ব্যাপার নয়, বরং, আপনার থেকে এক কদম নিচের দূরত্বে আপনার নিজের দূরত্ব এবং তারপর আপনি খুজে পাবেন লক্ষ্যকে।'
আবু যায়দ বলেন, ‘আমি স্বপ্নে সর্বশক্তিমান স্রষ্টা দেখতে পেলাম এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, “হে আমার স্রষ্টা! একজন আপনার পথ কিভাবে অতিক্রম করবে?” তিনি উত্তর দিলেন, “নিজেকে পরিত্যাগ কর এবং সাদরে চলে আসো!”’
এই উম্মাহকে যা দেওয়া হয়েছে তা আর কোন উম্মাহকে দেওয়া হয়নি এবং পরবর্তীতে কর্মদক্ষতার দিক দিয়ে দেওয়া হয়েছে নবীকে (সঃ)। তিনি সর্বোত্তম সৃষ্টি, তার দিক নির্দেশনা ছিলো সর্বোত্তম দিক নির্দেশনা, তার মাধ্যমে আল্লাহ ধর্মকে সহজ করেছেন এবং তার মাধ্যমে তিনি উম্মাহর অনেক দুর্ভোগ ও সমস্যা দূর করেছেন। যে তাকে অনুসরণ করলো সে আল্লাহকে মান্য করলো এবং তাঁর পথনির্দেশনা মেনে চলল এবং এর বিনিময়ে তিনি তাকে ভালোবাসবে।

টিকাঃ
৬৮. ইবনে আল-জাওযি, সিফাতুল-সাফওয়াহ, ভলিয়ুম ৪, পৃষ্ঠা ১১১ #১৭৯।

📘 আল্লাহর পথে যাত্রা > 📄 ৩.২ এই ধর্মের সহজ-সাধ্যতা

📄 ৩.২ এই ধর্মের সহজ-সাধ্যতা


কিছু সহজসাধ্যতা যা আমরা তার (সঃ) মাধ্যমে অর্জন করেছি তা হল, যে জামাতে ইশা সালাত আদায় করলো, সে যেন অর্ধেক রাত সালাত আদায় করলো এবং যে জামাতে ফজর সালাত আদায় করলো, সে যেন সারারাত সালাত আদায় করলো। সুতরাং, সে যখন বিছানায় ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলো তখন তা রাতের সালাত হিসেবে গণ্য হয়েছে এবং এরকম আরো রয়েছে, যেমন, যদি সে ওযুসহ ঘুমাতে যায় ও ঘুমের আগ মুহুর্ত পর্যন্ত আল্লাহর যিকির করে। যে মাসের তিনদিন সিয়াম রাখলো সে যেন সারা মাস সিয়াম পালন করলো। কাজেই মাসের বাকি দিনগুলোতে সে আল্লাহর কাছে সিয়াম পালনকারী হিসেবে গণ্য হবে যদিও সে খাওয়া-দাওয়া করেছে এবং “যে খায় এবং শুকরিয়া আদায় করে সে একজন ধৈর্যশীল সিয়াম পালনকারীর পুরস্কার পাবে।”
যার রাতে উঠে সালাত আদায় করার নিয়্যত থাকে কিন্তু ঘুমের কারনে পারে না, তার আমলনামায় রাতের সালাতের সওয়াব লিখা হবে এবং ঐ ঘুম হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য সাদাকাহ।
আবুল দারদা বলেন, 'নিশ্চয়ই জ্ঞানীর ঘুম ও সিয়াম পালনে বিরতি উতকৃষ্ট! দেখ কিভাবে তারা প্রার্থনার জন্য রাত্রি জাগরনে এবং বোকাদের সিয়াম পালনের ক্ষেত্রে ছাড়িয়ে যায়!'
এটা এই কারনে যে সহীহ হাদিসে উল্লেখ আছে, "এমনটা সম্ভব যে একজন রাত জেগে সালাত আদায় করে ক্লান্তি ছাড়া কিছুই অর্জন করতে পারলো না এবং একজন সিয়াম পালন করে ক্ষুধা ও তৃষ্ণা ছাড়া কিছুই অর্জন করলো না।” তাবারানি ও আহমাদ।
একজন বলেন, 'এমন অনেকেই আছে যারা ক্ষমা প্রার্থনা করা কিন্তু তাদের নিয়তি হলো ক্রোধ এবং এমন অনেকেই আছে যারা চুপ থাকে কিন্তু তাদের নিয়তি হলো অনুগ্রহ। প্রথম জন ক্ষমা প্রার্থনা করে যদিও তার অন্তর থাকে একজন দুর্দমনীয় গুনাহগারের অন্তর আর দ্বিতীয়জন চুপ থাকে কিন্তু তার হৃদয় থাকে আল্লাহর যিকিরে নিমগ্ন।'
অন্যজন বলেন, 'রাতে সালাত আদায় করাটা বড় বিষয় নয়, বড় বিষয় হলো একজন ঘুমিয়ে থাকে কিন্তু জাগ্রত ব্যক্তিদের অগ্রগামী দলকে ছাড়িয়ে যায়।'
এই বিষয়ে বলা হয়,
তোমার এই দ্বিধাগ্রস্ত পথে আমার যা করণীয়
সহজ পথে হেঁটে সমুখে তোমায় বরণীয়!

টিকাঃ
৬৯. মুসলিম ৬৫৬/১৪৯১ উসমান হতে বর্ণিত। ইবনে আল কাইয়ুম, আল-মানার আল-মুনিফ, পৃষ্ঠা ৪০, বলেন, 'অতএব যে এই সালাতগুলো জামাতের সাথে আদায় করবে সারারাত সালাত আদায় করার সওয়াব পাবে। যদি এই ব্যক্তি এই দুই ওয়াক্ত সালাতা জামাতে আদায় করে এবং রাতে সালাত আদায় করে সে উভয়ের সওয়াব পাবে, কার্যত রাতের সালাত আদায় করার জন্য এবং আবার তার সমতুল্য আরেকটি সওয়াব। যদি ঐ ব্যক্তি নিজে নিজে ঐ দুই ওয়াক্ত সালাত আদায় করে কিন্তু রাতের সালাত আদায় করে তাহলে সে জামাতে সালাত আদায় করার আর রাতে ঘুমানোর সওয়াব পাবে।'
৭০. বুখারি #৩৪১৮ এবং মুসলিম ১১৫৯/২৭২৯।
৭১. তিরমীযি #২৪৮৬ এবং ইবনে মাজাহ #১৭৬৫ সিনান ইবনে সানা হতে বর্ণিত। তিরমীযি বলেন এটি ছিলো হাসান গরিব এবং বুসায়রি বলেন এর ইসনাদ সহীহ। ইবনে হিব্বান #৩১৫ এবং হাকিম যাহাবির সহমতে #৭১৯৪ তে একে সহীহ বলেছেন।
৭২. আবু দাউদ #১৩১৪ এবং ইবনে মাজাহ #১৩৪৪ আবুল দারদা হতে। ইরাকি #১২২৫ এ বলেন এর ইসনাদ সহীহ।
৭৩. আবু নুয়াইম, ভলিয়ুম ১, পৃষ্ঠা ২১১।
৭৪. আহমাদ #৮৮৫৬ আবু হুরায়রাহ হতে এবং তাবারানি #১৩৪১৩ ইবনে উমার হতে বর্ণিত। ইবনে খুযায়মাহ #১৯৯৭ এবং যাহাবির সহমতে হাকিম #১৫৭১ একে সহীহ বলেন। হায়সামি, ভলিয়ুম ৩, পৃষ্ঠা ২০২, বলেন, এর বর্ণনাকারী বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভুল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00