📘 আল্লাহর পথে যাত্রা > 📄 ১.৫ আল্লাহর নিয়ামত কখনোই পরিশোধ যোগ্য নয়

📄 ১.৫ আল্লাহর নিয়ামত কখনোই পরিশোধ যোগ্য নয়


আবারো তাঁর আয়াত থেকে পরিষ্কার হয় যে,
ثُمَّ لَتُسْأَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيمِ
এরপর অবশ্যই তোমাদেরকে নিয়ামত সম্মন্ধে প্রশ্ন করা হবে। [সুরা তাকাসুরাঃ ৮]
এই আয়াত থেকে দেখা যায় বান্দাদের সেসব নিয়ামাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে যেগুলো তারা এই দুনিয়াতে ভোগ করেছেঃ তারা কি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছিলো না করেনি? যে কেউ যার প্রয়োজন ছিলো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার প্রত্যেকটি নিয়ামতের জন্য যেমন ভালো স্বাস্থ্য, সুস্থ মন, ভালো জীবিকা, এবং তাছাড়া আদ্যপান্ত পরীক্ষিত হবে এবং জেনে রাখা উচিত যে তার সমস্ত সৎকর্ম একত্রে এসব নিয়ামতের কিছুসংখ্যকের ঋণও পরিশোধ করতে পারবে না। হতে পারে মানুষটি শাস্তির উপযুক্ত।
খারাইতি, কিতাব আল-শুকুর, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর হতে উল্লেখ করেছেন যে নবী (সঃ) বলেন, “বিচারদিবসে বান্দাদের একত্র করা হবে এবং সে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে। তিনি তাঁর ফেরেশতাদের বলবেন, 'আমার বান্দার কৃতকর্মসমূহ এবং তার উপর আমার নিয়ামতসমূহ হিসাব করো।' তারা দেখবে এবং বলবে, 'তাকে আপনার পক্ষ থেকে যে নিয়ামতগুলো দেয়া হয়েছিলো এগুলোর সমষ্টি তার একটির সমান নয়।' তখন তিনি বলবেন, 'তার ভালোকাজ ও মন্দকাজের হিসাব করো।' তারা হিসাব করবে এবং একই অবস্থা দেখবে যার ফলে তিনি বলবেন, 'হে আমার বান্দা, আমি তোমার ভালো কাজগুলোকে গ্রহন করেছি এবং মন্দকাজগুলো ক্ষমা করে দিয়েছি। আমি তোমাকে আমার অনুগ্রহ দান করেছি।””
তাবারানিতে উল্লেখ আছে ইবনে উমার (রদিয়াল্লাহু আ'নহুমা) হতে বর্ণিত নবী (সঃ) বলেন, “বিচারদিবসে একজন ব্যক্তিকে এত সতকর্ম সহ আল্লাহর সামনে হাজির করা হবে যে সেগুলোকে একটি পাহাড়ের উপর স্থাপন করলে তা পাহাড়ের জন্য বোঝা স্বরূপ হয়ে যেতো! তারপর আল্লাহর অনেক নিয়ামতের মধ্যে একটিমাত্র নিয়ামতকে হাজির করা হবে এবং তা তার প্রায় সমস্ত কৃতকর্মকে ধূলিসাৎ করে দিত যদি না আল্লাহ দয়া করে সেগুলোকে ফুলিয়ে-ফাপিয়ে না দিতেন।”
ইবনে আবু আল-দানিয়া আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে নবী (সঃ) বলেন, “বিচারদিবসে সতকর্ম ও অসতকর্মের পাশাপাশি অনুগ্রহকে অগ্রবর্তী করা হবে। আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহগুলোর মধ্যে শুধু একটি কথা বলবেন, 'তুমি তোমার ন্যায্য পাওনা তার ভালো কাজগুলো থেকে নিয়ে নাও,' এবং এটা তার সমস্ত ভালো কাজকে নিয়ে যাবে।”
তিনি আরো উল্লেখ করেন ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ বলেন, 'এক বান্দা পঞ্চাশ বছর আল্লাহর ইবাদত করেছিলেন, আল্লাহ তাকে এই বলে অনুপ্রাণিত করেছিলেন যে "আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি।” বান্দা জিজ্ঞাসা করলেন, “হে স্রষ্টা, আপনার ক্ষমা করার কি আছে? আমি কোন গুনাহ করি নাই!” অতঃপর আল্লাহ তার ঘাড়ের একটি শিরাকে হুকুম করলেন যন্ত্রণাদায়কভাবে স্পন্দন করতে যেন সে ইবাদত করতে না পারে এবং ঘুমাতে না পারে। অচিরেই এটি ভালো হয়ে গেলো এবং একজন ফেরেশতা তার কাছে আসলো এবং তার কাছে সে তার শিরা সম্পর্কে অভিযোগ করলো। ফেরেশতা তাকে বলল, “তোমার মহান ও সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা বলেন, তোমার গত পঞ্চাশ বছরের ইবাদাত তোমার ঐ শিরা উপশমের সমান।”'
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত হাকিম এ উল্লেখ আছে নবী (সঃ) বলেন যে জিবরাইল (আঃ) বলেন, “এক বান্দা পাঁচশত বছর আল্লাহর ইবাদত করেছিলেন পাহাড়ের উপরে এবং সমুদ্রের মধ্য হতে। এরপর সে আল্লাহর কাছে সিজদারত অবস্থায় মৃত্যু কামনা করলেন। প্রত্যেক উঠানামার সময় আমরা তাকে অতিক্রম করতাম আর আমরা লিখিত পেতাম যে (প্রাক-অনন্তর জ্ঞান হতে) বিচারদিবসে সে পুনরুত্থিত হবে এবং মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে। আল্লাহ বলবেন, 'আমার ক্ষমার উতকর্ষে আমার বান্দাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও। 'বান্দা বলবে, 'হে আমার পালনকর্তা, বরং আমার কৃতকর্মের উতকর্ষে!' এই ঘটনা তিনবার ঘটবে, তারপর আল্লাহ তাঁর ফেরেশতাদের বলবেন, 'তার কৃতকর্মের বিপরীতে আমার নিয়ামত ওজন কর,' এবং তারা দেখবে যে দৃষ্টিশক্তির নিয়ামত একাই তার পাচশত বছরের ইবাদতকে নিয়ে নিয়েছে, শরীরের অন্যান্য নিয়ামত এখনও বাকি আছে। তিনি বলবেন, 'আমার বান্দাকে আগুনে দাও।' তাকে টেনে হিঁচড়ে আগুনের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে আর সে আর্তনাদ করতে থাকবে, 'আপনার ক্ষমার উতকর্ষে আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। আপনার ক্ষমার উতকর্ষে আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান।' এরপর সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” জিবরাইল এই বলে চলে গেলেন, “হে মুহাম্মাদ, সবকিছু আল্লাহর ক্ষমার কারনেই ঘটে।”
পূর্বে যা কিছু সংঘটিত হয়েছে তার সবকিছু যে বুঝে তারা প্রত্যেকে নিজেরাই উপলব্ধী করবে যে তার কৃতকর্ম, তা যতই মহান হোক না কেন, তার সফলতার জন্য যোগ্যতারক্ষেত্রে এবং জান্নাতে প্রবেশের জন্য অথবা আগুন হতে নাজাতের জন্য পর্যাপ্ত নয়। উদাহরণস্বরূপ, সে আর কখনই তার কৃতকর্মের উপর মাত্রাতিরিক্ত ভরসা করবে না বা তাদের দ্বারা প্রভাবিত হবে না এমনকি যদিওবা তা মহান ও বিস্ময়কর হয়। যদি এই ঘটনা হয় বহুসংখ্যক মহৎ কাজের অবস্থা, তাহলে বহুসংখ্যক তুচ্ছ কাজ নিয়ে একজনের কি ভাবা উচিত? এই ধরনের মানুষের তার ইবাদতের হীনতা বিবেচনা করা উচিত এবং অনুতাপ ও অনুশোচনার মধ্যে নিজেকে নিয়োজিত রাখা উচিত।

টিকাঃ
৩৪. তিরমীযি #৩৩৫৮ এ উল্লেখ আছে আবু হুরাইরাহ হতে বর্ণিত নবী (সঃ) বলেন, "বিচারদিবসে প্রথম যে জিনিস সম্পর্কে বান্দাকে জিজ্ঞাসা করা হবে তা হল, নিয়ামতঃ আঁমরা কি তোমাকে সুস্বাস্থ্য দেইনি? আঁমরা কি তোমাকে পান করার জন্য ঠান্ডা পানি দেইনি?" ইবনে হাব্বান #৭৩৬৪ এবং হাকিম #৭২০৩ যাহাবির সহমতে সাহীহ বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
৩৫. খারাইতি #৫৭। লেখক, জামি', ভলিয়ুম ২, পৃষ্ঠা ৭৯, বলেন, এর ইসনাদ সংশয়িত।
৩৬. তাবারানি, আল-আওসাত #১৬০৪, ইবনে উমার হতে সংগ্রহীত। লেখক, জামি', ভলিয়ুম ২, পৃষ্ঠা ৭৭ এবং হায়সামি, ভলিয়ুম ১০, পৃষ্ঠা ৪২০, বলেন এর ইসনাদ দুর্বল।
৩৭. ইবনে আবি আল-দানিয়া পৃষ্ঠা ২৪। এই ইসনাদে একজন বর্ণনা কারী রয়েছেন যিনি মাতরুক এবং লেখক, জামি', ভলিয়ুম ২, পৃষ্ঠা ৭৮, এ বলেন, এই ইসনাদ দ'ইফ। কিন্তু, এর অর্থ সঠিক বলা যেতে পারে।
৩৮. আবু নুয়াইম, ভলিয়ুম ৪, পৃষ্ঠা ৭০, #৪৭৮৪ এবং ইবনে আবি আল-দানিয়া #১৪৮।
৩৯. হাকিম #৭৬৩৭ যিনি একে সহীহ বলেছেন কিন্তু যাহাবী এই তথ্যটির সমালোচনা করেছেন এই বলে যে এর একজন বর্ণনাকারীর উপর ভরসা করা যায় না। লেখক, জামি', ভলিয়ুম ২, পৃষ্ঠা ৭৯ উল্লেখ করেন যে এই হাদিসটি সত্য নয়।
৪০. আহমাদ #১৭৬৫০ তে উল্লেখ আছে মুহাম্মদ ইবনে আবি আমিরাহ হতে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সঃ) বলেন, "বান্দা তার জন্ম থেকে বৃদ্ধাবস্থায় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি আনুগত্যসহ যদি সিজদারত অবস্থায় থাকতো, বিচারদিবসে সে তার গুরুত্বতা বিবেচনা করতে পারবে এবং সে আবার এই দুনিয়াতে ফেরত আসতে চাইবে যেন সে তার পুরস্কার বৃদ্ধি করতে পারে।" আলবানি একে সহীহ বলেছেন, সাহিহ আল- তারগিব #৩৫৯৭।

📘 আল্লাহর পথে যাত্রা > 📄 ১.৬ কৃতজ্ঞতা একটি অন্যতম বড় নিয়ামত

📄 ১.৬ কৃতজ্ঞতা একটি অন্যতম বড় নিয়ামত


বহুসংখ্যক মহৎ কাজের অধিকারী যে তার সর্বদা অবশ্যই আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে ব্যস্ত থাকা উচিত, বান্দাকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সঙ্গতি দেয়া হল আল্লাহর পক্ষ থেকে তার প্রতি অন্যতম বড় নিয়ামত। এটা তার উপর ফারদ যে সে কৃতজ্ঞতার সহিত এই কাজগুলো সম্পন্ন করবে এবং ন্যায্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অভাব উপলব্ধি করবে।
ওহাব ইবনে অবু ওয়ার্দকে যখন একটি বিশেষ কাজের প্রতিদান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তখন তিনি বললেন, 'এর প্রতিদান চেয়ো না, কিন্তু ঐ কাজ করার তৌফিক অর্জনের কারনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।'
আবু সুলাইমান বলতো, 'একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি কিভাবে তার কৃতকর্ম দ্বারা অভিভূত হতে পারে? কৃতকর্মগুলো হচ্ছে আল্লাহর অন্যতম নিয়ামত, বিনয় প্রদর্শন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্যই এটা তার উপর অর্পন করা হয়। কেবলমাত্র কাদারিয়াহ-রাই তাদের কৃতকর্ম দ্বারা অভিভুত হয়!' এরা হলো তারাই যারা বিশ্বাস করে না যে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তার বান্দার কর্ম নির্ধারন করেন।
যেদিন দাউদ আল-তাই মারা গেলেন সেদিন কতই না সুন্দর কথা বলেছেন আবু বকর আল-নাহশালি। তার দাফনের পর ইবনে আল সাম্মাক দাঁড়িয়ে তার সতকর্মগুলোর প্রশংসা করেন এবং নিজে কাঁদলেন ও উপস্থিত সকলকে কাঁদালেন এবং শপথ করে বললেন যে তিনি যা বলেছেন তা সত্য বলেছেন... আবু বকল আল-নাহশালি দাঁড়িয়ে বললেন, 'হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করুন এবং তার প্রতি দয়া প্রদর্শন করুন এবং তার কর্মের উপর তাকে ছেড়ে দিবেন না!'
যায়িদ ইবনে সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত আবু দাউদে উল্লেখিত আছে যে আল্লাহর রাসুল (সঃ) বলেন, "আল্লাহ যদি দুনিয়া ও জান্নাতের অধিবাসীদের শাস্তি দিতে চাইতেন, তাহলে তিনি যেকোন উপায়ে কোন রকম নিষ্ঠুরতা ছাড়াই তা করতে পারতেন। যদি তাদের প্রতি দয়া দেখাতে চান, তাহলে তাঁর দয়া তাদের কৃতকর্ম অপেক্ষা উত্তম।”
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত হাকিমে উল্লেখ আছে নবীজির কাছে একজন লোক আসলেন এবং বললেন, 'পাপ! পাপ!' দুই-তিনবার একই কথার পুনারাবৃত্তি করলেন। আল্লাহর রাসুল (সঃ) বললেন, “বল, হে আল্লাহ, আপনার ক্ষমাশীলতা আমার পাপের চেয়ে সুবিশাল এবং আমি আমার কৃতকর্মের চেয়ে তার উপর বেশি আশা রাখি।” সে তাই বলল এবং আল্লাহর রাসুল (সঃ) বললেন, "আবার বল।" সে তা করল এবং তাকে পুনরায় বলতে হুকুম করা হলে সে আবারও বলল। তারপর তিনি (সঃ) বললেন, “দাঁড়াও তোমাকে ক্ষমা করা হয়েছে।”
পাপের বিবেচনায় আমি ছিলাম প্রাচুর্যময়, কিন্তু আমার রবের ক্ষমা তার চেয়ে বেশি প্রাচুর্যময়ঃ আমার কর্মের কাছে ছিল না কোন প্রত্যাশা তবে আল্লাহর দয়া আমাকে দিয়েছে প্রতীক্ষা।

টিকাঃ
৪১. আবু নুয়াইম, ভলিয়ুম ৮, পৃষ্ঠা ১৫৫।
৪২. ইবিদ, ভলিয়ুম ৯, পৃষ্ঠা ২৭৬ #১৩৮৯৬।
৪৩. ইবিদ, ভলিয়ুম ৮, পৃষ্ঠা ২২৩ #১১৯৪৯ এ উল্লেখ আছে যে তিনি বলতেন, 'এটা স্তম্ভিত করে যে মানুষের চোখ ঘুমে বিভোর হতে পারে যখন মৃত্যুর ফেরেশতা তার বালিশের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে।'
৪৪. ইবিদ, ভলিয়ুম ৭, পৃষ্ঠা ৩৯৬ #১০৯৭৭।
৪৫. আবু দাউদ #৪৬৯৯ এবং ইবনে মাজাহ #৭৭। ইবনে হাব্বান (#৭২৭) এবং আলবানি একে সহীহ ঘোষণা করেছেন, সাহীহ আল-জামি' #৫২৪৪, মহান আল্লাহ বলেন, “আল্লাহ মানুষকে তাদের কৃতকর্মের জন্য শাস্তি দিলে ভূ-পৃষ্ঠে কোন জীব-জন্তুকেই রেহাই দিতেন না, কিন্তু তিনি এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দিয়ে থাকেন। অতঃপর তাদের নির্দিষ্ট কাল এসে গেলে আল্লাহ তো আছেন তাঁর বান্দাদের সম্যক দ্রষ্টা।” [সুরা ফাতিরাঃ ৪৫] ইবনে হাব্বান #৬৫৯ এ উল্লেখিত আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সঃ) বলেন, "আল্লাহ যদি আমার ও ঈসার গুনাহ বিবেচনা করতেন, নুন্যতম জুলুম না করে তিনি আমাদের শাস্তি দিতে পারতেন।" ইবনে হিব্বান ও আলবানি একে সহীহ বলেছেন, সাহীহ আল-তারঘিব #২৪৭৫।
৪৬. হাকিম #১৯৯৪। আলবানি একে দা'ইয়িফ ঘোষণা করেছেন, দা' ইয়িফ আল-জামি' #৪১০১।

📘 আল্লাহর পথে যাত্রা > 📄 ১.৭ আল্লাহর অনুগ্রহের স্বীকারোক্তি

📄 ১.৭ আল্লাহর অনুগ্রহের স্বীকারোক্তি


নিজেদের মধ্যে এখন যে উন্নত নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেটাই এই কাজের পরিচিতি, আগুন হতে নাজাত এবং জান্নাতে প্রবেশকে অপরিহার্য করে তোলা নয়, জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরে উত্তরণকে অপরিহার্য করে তোলাঃ তাদের স্তরে যা কাছে আনে এবং দুনিয়ার পালনকর্তার মুখ দেখা এবং এটা জানা যে শুধুমাত্র আল্লাহর দয়া, অনুগ্রহ ও ক্ষমাশীলতার মধ্যদিয়ে অতিক্রম করতে পারলে তা পাওয়া সম্ভব। এর জন্য এখন প্রয়োজন মুমিনদের স্বীয় কর্ম সম্পর্কে উচ্চ ধারনা ত্যাগ করা এবং শুধুমাত্র আল্লাহর অনুগ্রহ ও নিয়ামতের দিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে আনা।
একজন জ্ঞানীকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো, 'কোন কাজটা উত্তম?' তিনি উত্তর দিলেন, 'মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর অনুগ্রহ অনুধাবন করা।'
কোন উপায়ে পারো কিছু পরিমাণে দান করতে, যোগসাজশ করবে সে অসাড়ের সাথে সুবিজ্ঞের।
যখন সবকিছু বোধগম্য হয়, ইমানদার বান্দার জন্য এটা ফরজ; যে বান্দা আগুন থেকে নাজাত ও জান্নাতে প্রবেশ করতে চায়, যে তার প্রভুর নিক্টবর্তী হতে চায়, তাঁর মুখ দর্শন করতে চায়; এই সব পেতে হবে এমন এক উপায় গ্রহন করে যা অর্জন করবে আল্লাহর দয়া, অব্যাহতি, ক্ষমা, সন্তুষ্টি এবং ভালোবাসা। এই পথেই সে তাঁর বদান্যতা অর্জন করবে। আল্লাহর নির্ধারিত বিভিন্ন কর্মকান্ড করাই হল সেই পথঃ শুধুমাত্র সেইসব কাজ যেগুলো তিনি তাঁর রাসুলের (সঃ) উপর নাজিল করেছেনঃ শুধুমাত্র ঐসব কর্মকান্ড যা সম্পর্কে রাসুল (সঃ) বলেছেন আমাদেরকে আল্লাহর কাছাকাছি নিয়ে যাবেঃ ঐসব কর্মকান্ড যা তিনি ভালোবাসেন এবং যা তাঁর সন্তুষ্টি ও ক্ষমা অর্জন করে। মহান আল্লাহ বলেন,
وَلَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَاحِهَا وَادْعُوهُ خَوْفًا وَطَمَعًا إِنَّ رَحْمَتَ اللَّهِ قَرِيبٌ مِّنَ الْمُحْسِنِينَ
...নিশ্চয়ই আল্লাহর অনুগ্রহ সৎকর্মপরায়নদের নিকটবর্তী। [সুরা আ'রাফঃ ৫৬]
وَاكْتُبْ لَنَا فِي هَذِهِ الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ إِنَّا هُدْنَا إِلَيْكَ قَالَ عَذَابِي أُصِيبُ بِهِ مَنْ أَشَاء وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ فَسَأَكْتُبُهَا لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَالَّذِينَ هُم بِآيَاتِنَا يُؤْمِنُونَ
...'আমার শাস্তি যাকে ইচ্ছা দিয়ে থাকি আর আমার দয়া-তা তো প্রত্যেক বস্তুতে ব্যাপ্ত। সুতরাং আমি তা তাদের জন্য নির্ধারিত করবো যারা তাকওয়া অবলম্বন করে...' [সুরা আ'রাফঃ ১৫৬]
সুতরাং একজন বান্দার উপর এটা ফারদ যে সে তাকওয়ার ঐসকল চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং ধার্মিকতা খুজে বের করবে যা আল্লাহ তাঁর কুরআন অথবা তাঁর রাসুলের (সঃ) উপর নাজিল করেছেন এবং তিনি যা কিছু নিজে করে গেছেন, এইসব আমল করার মাধ্যমে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়া। একজন মুমিনের লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য এছাড়া আর কোন উপায় নেই।
“তালক ইবনে হাবীবকে তাকওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, 'এটা এমন যে তুমি আল্লাহকে মান্য করো আল্লাহর পক্ষ থেকে হিদায়াত প্রাপ্ত হয়ে, আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কার পাওয়ার আশায়। আল্লাহর অবাধ্যতা ত্যাগ করো আল্লাহর পক্ষ থেকে হিদায়াত প্রাপ্ত হয়ে, আল্লাহর শাস্তিকে ভয় পেয়ে'।”

টিকাঃ
৪৭. ইবনে আল মুবারক, আল-যুহদ #৪৭৩ তে সহীহ ইসনাদসহ উল্লেখ করেছেন। ইবনে আল-কাইয়্যুম, আল-রিসালাহ আল-তাবুকিয়‍্যাহ, পৃষ্ঠা ২৭ এ বলেন, 'তাকওয়া সম্পর্কিত সবচেয়ে ভালো সংজ্ঞা হলো নিশ্চয়ই প্রত্যেকটি কাজ শুরুর একটি কারন ও উদ্দেশ্য থাকতে হবে। আল্লাহর প্রতি আজ্ঞানুবর্তিতা ও তাঁর নিকটবর্তী হওয়ার কারন কখনই আমল হিসেবে গণ্য হতে পারেনা যতক্ষন পর্যন্ত না এর শুরুর অগ্রভাগ ও কারন হবে নিখাদ বিশ্বাস, না অভ্যাস, না আকংক্ষাভিত্তিক, না প্রশংসা ও অবস্থানের আশায়, না এই ধরনের অন্যকিছু। এর উদ্দেশ্য হতে হবে আল্লাহর পুরস্কার ও তাঁর সন্তুষ্টি, এটাই ইহতিসাব এর সংজ্ঞা। এই কারনেই মাঝে মাঝে আমরা এই দুইটি বুনিয়াদের যুগল উল্লেখ দেখতে পাই, যেমন তিনি (সঃ) বলেছেন, "যে ঈমানের সাথে রমাদানের সিয়াম পালন করবে এবং ইহতিসাব..." তার বক্তব্য 'আল্লাহর পক্ষ থেকে হিদায়াত প্রাপ্ত হয়ে' প্রথম বুনিয়াদ ঈমানকে ইঙ্গিত করে। তার বক্তব্য, 'আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কার আশা করা' দ্বিতীয় বুনিয়াদ ইহতিসাবকে ইঙ্গিত করে।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00