📘 আল্লাহর পথে যাত্রা > 📄 হাফিজ আবুল ফারাজ ইবনে রজব

📄 হাফিজ আবুল ফারাজ ইবনে রজব


তিনি ছিলেন একজন ইমাম এবং হাফিজ, তার বংশ পরিচয় যায়নুদ্দিন আব্দুর রাহমান ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুর রাহমান ইবনে আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবুল বারাকাত মাসুদ আল-সুলামি আল-হাম্বালি আল- দামস্কি। তার অন্য আরেক নাম ছিল আবুল ফারাজ, এবং তার ডাকনাম ছিল ইবনে রজব, এটা ছিল তার দাদার ডাকনাম যিনি এই মাসে জন্মগ্রহন করেছিলেন।
তিনি বাগদাদে ৭৩৬ হিজরিতে জন্মগ্রহন করেন এবং ধার্মিক ও ধর্মীয় জ্ঞানসম্পন্ন পরিবারে বেড়ে উঠেন। তিনি সোমবার রাত, ৪ঠা রামাদান, ৭৯৫ হিজরিতে আল-হুমারিয়াহ, দামাস্কাসে মৃত্যুবরন করেন।
তৎকালীন সবচেয়ে বিখ্যাত আলেমদের কাছ থেকে তিনি জ্ঞান অর্জন করেন। দামাস্কাসে তিনি ইবনে কাইয়ুম আল-জাউযিয়াহ, যায়নুল দিন আল-ইরাকি, ইবনে আন-নাকিব, মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-খাব্বায, দাউদ ইবনে ইব্রাহিম আল-আত্তার, ইবনে কাতি আল-জাবাল এবং আহমাদ ইবনে আব্দুল হাদি আল-হাম্বালির তত্ত্বাবধানে শিক্ষালাভ করেন। মক্কাতে আল-ফাখর উসমান ইবনে ইউসুফ আল-নুয়াইরি, জেরুজালেমে আল-হাফিজ আল- আলাই, মিশরে সদরুদ্দিন আবুল ফাতহ আল-মাইদুমি ও নাসিরুদ্দিন ইবনে আল-মুলুকের কাছ থেকে তিনি কুরআন উল কারীম শুনেন।
জ্ঞানপিপাসু বহু ছাত্র তার কাছে থেকে শিক্ষালাভ করেছিলেন। তার ছাত্রদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলেনঃ আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে আবুবকর ইবনে আলি আল-হাম্বলি, আবুল ফাদল আহমাদ ইবনে নাসর ইবনে আহমাদ; দাউদ ইবনে সুলাইমান আল-মাউসিলি, আব্দুর রাহমান ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-মুকরি; যায়নুল দিন আব্দুর রাহমান ইবনে সুলাইমান ইবনে আবুল কারাম; আবু যার আল-যারকাসি; আল কাদি আলাউদ্দিন ইবনে আল লাহাম আল-বালি এবং আহমাদ ইবনে সাইফুদ্দিন আল-হামাওয়ি।
ইবনে রজব নিজেকে জ্ঞানার্জনের কাজেই মগ্ন রাখতেন। তিনি তার জীবনের একটা বিশাল সময় অতিবাহিত করেছেন গবেষণা, লেখালেখি, গ্রন্থ প্রণয়ন, শিক্ষকতা এবং বৈধ বিচারক হিসেবে।
তার বিশাল জ্ঞান, তপস্যা এবং হাম্বালি ফিকহের উপর তার দখল বহু আলেমদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। ইবনে কাদি সুহবাহ তার সম্পর্কে বলেন, “তিনি লেখাপড়া করে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় দক্ষতা লাভ করেছিলেন। তিনি নিজেকে মাযহাবের বিষয়ে ততক্ষন পর্যন্ত নিমগ্ন রেখেছিলেন যতক্ষন না তিনি ঐ বিষয়ে পুরোপুরি দক্ষ হয়ে উঠেছিলেন। তিনি হাদিসের বাণী, ভুল-ত্রুটি এবং ব্যাখ্যার কাজে নিজেকে উতসর্গ করেছিলেন।”
ইবনে হাজর তার সম্পর্কে বলেন, “উলুমুল হাদিসের বিভিন্ন শাখা যেমন হাদিস বিবরনকারীদের নাম, তাদের জীবনী, তাদের বিবরনের ধারা এবং হাদিসের মর্মার্থ সতর্কতা সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে উচ্চতর দক্ষতা অর্জন করেছিলেন।”
ইবনে মুফলিহ তার সম্পর্কে বলেন, “তিনি একজন শায়খ, একজন বড়মাপের আলেম, হাফিজ, কঠোর তপস্বী, হাম্বালি ফিকহের শায়খ এবং বহু মূল্যবান বইয়ের লেখক।”
তিনি বহু বই লিখেছেন, তার মধ্যে কিছু আছে চোখে পড়ার মত যেমন আল কাওয়াইদ আল কুবরা ফিল ফুরু যার সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, “এটি এই যুগের একটি অন্যতম বিস্ময়।” বলা হয়ে থাকে আল তিরমিযি সম্পর্কিত তার বিবরনী এ পর্যন্ত ইরাকের সমস্ত লেখনী গুলোর মধ্যে সর্বাধিক তথ্য সম্বলিত; তার সম্পর্কে ইবনে হাজর বলেছেন, “তিনি তার যুগের বিস্ময় ছিলো;” তিনি তার সাহায্য কামনা করতেন যখন তিনি ঐ বইয়ের জন্য তথ্যাদি সংগ্রহ করছিলেন।
• উপরুন্তু বিভিন্ন হাদিসের ব্যাখ্যা সম্বলিত তার বহু মূল্যবান প্রবন্ধ রয়েছে, যেমনঃ শারহ হাদিস মা যিবানি জাইয়ান উরসিলা ফি ঘানাম, ইখতিয়ার আল-আওলা শারহ হাদিস ইখতিসাম আল-মালা আল-আলা, নুর আল-ইক্তিবাস ফি শারহ ওয়াসিয়াহ আল-নাবী লি ইবনে আব্বাস এবং কাশফুল-শুরবাহ ফি ওয়াস্কি হালি আহিল-গুরবাহ।
• তার ব্যাখ্যামুলক কাজগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ তাফসির সুরা আল-ইখলাস, তাফসির সুরা আল-ফাতিহাহ, তাফসির সুরা আল-নাসর এবং আল-ইস্তিঘনা বিল কুরআন।
• হাদিস নিয়ে তিনি যেসব কাজ করেছেনঃ শারহ ইলাল আল-তিরমিযী, ফাতহুল-বারী শারহ সাহীহ আল-বুখারী, জামি আল-উলুম আল-হিকাম।
• ফিকহ শাস্ত্রে তিনি যেসব কাজ করেছেনঃ আল-ইস্তিখরাজ ফি আহকাম আল-খারাজ এবং কাওয়ায়িদ আল-ফিকহিয়াহ।
• জীবনী রচনার ক্ষেত্রে তার অমর কীর্তিঃ যাইল আলা তাবাকাতিল-হানাবিলাহ।
• তার বিভিন্ন কাজের মধ্যে অন্যতম প্রেরনাদায়ক লেখনী হচ্ছেঃ লাতাইফ আল-মায়ারিফ এবং আল-তাখউইফ মিন আল-নার।

টিকাঃ
১. ইবনে কাদি আল-শুহবাহ, তারিখ, ভলিয়ুম ৩, পৃষ্ঠা ১৯৫।
২. ইবনে হাজর, ইনবাউল-ঘামর, ভলিয়ুম ১, পৃষ্ঠা ৪৬০।
৩. আল-মাক্বসাদ আল-আরশাদ, ভলিয়ুম ২, পৃষ্ঠা ৮১।
৪. ইবনে আব্দুল হাদি, যাইল আলা তাবাকাত ইবনে রজব, পৃষ্ঠা ৩৮।

তিনি ছিলেন একজন ইমাম এবং হাফিজ, তার বংশ পরিচয় যায়নুদ্দিন আব্দুর রাহমান ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুর রাহমান ইবনে আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবুল বারাকাত মাসুদ আল-সুলামি আল-হাম্বালি আল- দামস্কি। তার অন্য আরেক নাম ছিল আবুল ফারাজ, এবং তার ডাকনাম ছিল ইবনে রজব, এটা ছিল তার দাদার ডাকনাম যিনি এই মাসে জন্মগ্রহন করেছিলেন।
তিনি বাগদাদে ৭৩৬ হিজরিতে জন্মগ্রহন করেন এবং ধার্মিক ও ধর্মীয় জ্ঞানসম্পন্ন পরিবারে বেড়ে উঠেন। তিনি সোমবার রাত, ৪ঠা রামাদান, ৭৯৫ হিজরিতে আল-হুমারিয়াহ, দামাস্কাসে মৃত্যুবরন করেন।
তৎকালীন সবচেয়ে বিখ্যাত আলেমদের কাছ থেকে তিনি জ্ঞান অর্জন করেন। দামাস্কাসে তিনি ইবনে কাইয়ুম আল-জাউযিয়াহ, যায়নুল দিন আল-ইরাকি, ইবনে আন-নাকিব, মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-খাব্বায, দাউদ ইবনে ইব্রাহিম আল-আত্তার, ইবনে কাতি আল-জাবাল এবং আহমাদ ইবনে আব্দুল হাদি আল-হাম্বালির তত্ত্বাবধানে শিক্ষালাভ করেন। মক্কাতে আল-ফাখর উসমান ইবনে ইউসুফ আল-নুয়াইরি, জেরুজালেমে আল-হাফিজ আল- আলাই, মিশরে সদরুদ্দিন আবুল ফাতহ আল-মাইদুমি ও নাসিরুদ্দিন ইবনে আল-মুলুকের কাছ থেকে তিনি কুরআন উল কারীম শুনেন।
জ্ঞানপিপাসু বহু ছাত্র তার কাছে থেকে শিক্ষালাভ করেছিলেন। তার ছাত্রদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলেনঃ আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে আবুবকর ইবনে আলি আল-হাম্বলি, আবুল ফাদল আহমাদ ইবনে নাসর ইবনে আহমাদ; দাউদ ইবনে সুলাইমান আল-মাউসিলি, আব্দুর রাহমান ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-মুকরি; যায়নুল দিন আব্দুর রাহমান ইবনে সুলাইমান ইবনে আবুল কারাম; আবু যার আল-যারকাসি; আল কাদি আলাউদ্দিন ইবনে আল লাহাম আল-বালি এবং আহমাদ ইবনে সাইফুদ্দিন আল-হামাওয়ি।
ইবনে রজব নিজেকে জ্ঞানার্জনের কাজেই মগ্ন রাখতেন। তিনি তার জীবনের একটা বিশাল সময় অতিবাহিত করেছেন গবেষণা, লেখালেখি, গ্রন্থ প্রণয়ন, শিক্ষকতা এবং বৈধ বিচারক হিসেবে।
তার বিশাল জ্ঞান, তপস্যা এবং হাম্বালি ফিকহের উপর তার দখল বহু আলেমদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। ইবনে কাদি সুহবাহ তার সম্পর্কে বলেন, “তিনি লেখাপড়া করে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় দক্ষতা লাভ করেছিলেন। তিনি নিজেকে মাযহাবের বিষয়ে ততক্ষন পর্যন্ত নিমগ্ন রেখেছিলেন যতক্ষন না তিনি ঐ বিষয়ে পুরোপুরি দক্ষ হয়ে উঠেছিলেন। তিনি হাদিসের বাণী, ভুল-ত্রুটি এবং ব্যাখ্যার কাজে নিজেকে উতসর্গ করেছিলেন।”
ইবনে হাজর তার সম্পর্কে বলেন, “উলুমুল হাদিসের বিভিন্ন শাখা যেমন হাদিস বিবরনকারীদের নাম, তাদের জীবনী, তাদের বিবরনের ধারা এবং হাদিসের মর্মার্থ সতর্কতা সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে উচ্চতর দক্ষতা অর্জন করেছিলেন।”
ইবনে মুফলিহ তার সম্পর্কে বলেন, “তিনি একজন শায়খ, একজন বড়মাপের আলেম, হাফিজ, কঠোর তপস্বী, হাম্বালি ফিকহের শায়খ এবং বহু মূল্যবান বইয়ের লেখক।”
তিনি বহু বই লিখেছেন, তার মধ্যে কিছু আছে চোখে পড়ার মত যেমন আল কাওয়াইদ আল কুবরা ফিল ফুরু যার সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, “এটি এই যুগের একটি অন্যতম বিস্ময়।” বলা হয়ে থাকে আল তিরমিযি সম্পর্কিত তার বিবরনী এ পর্যন্ত ইরাকের সমস্ত লেখনী গুলোর মধ্যে সর্বাধিক তথ্য সম্বলিত; তার সম্পর্কে ইবনে হাজর বলেছেন, “তিনি তার যুগের বিস্ময় ছিলো;” তিনি তার সাহায্য কামনা করতেন যখন তিনি ঐ বইয়ের জন্য তথ্যাদি সংগ্রহ করছিলেন।
• উপরুন্তু বিভিন্ন হাদিসের ব্যাখ্যা সম্বলিত তার বহু মূল্যবান প্রবন্ধ রয়েছে, যেমনঃ শারহ হাদিস মা যিবানি জাইয়ান উরসিলা ফি ঘানাম, ইখতিয়ার আল-আওলা শারহ হাদিস ইখতিসাম আল-মালা আল-আলা, নুর আল-ইক্তিবাস ফি শারহ ওয়াসিয়াহ আল-নাবী লি ইবনে আব্বাস এবং কাশফুল-শুরবাহ ফি ওয়াস্কি হালি আহিল-গুরবাহ।
• তার ব্যাখ্যামুলক কাজগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ তাফসির সুরা আল-ইখলাস, তাফসির সুরা আল-ফাতিহাহ, তাফসির সুরা আল-নাসর এবং আল-ইস্তিঘনা বিল কুরআন।
• হাদিস নিয়ে তিনি যেসব কাজ করেছেনঃ শারহ ইলাল আল-তিরমিযী, ফাতহুল-বারী শারহ সাহীহ আল-বুখারী, জামি আল-উলুম আল-হিকাম।
• ফিকহ শাস্ত্রে তিনি যেসব কাজ করেছেনঃ আল-ইস্তিখরাজ ফি আহকাম আল-খারাজ এবং কাওয়ায়িদ আল-ফিকহিয়াহ।
• জীবনী রচনার ক্ষেত্রে তার অমর কীর্তিঃ যাইল আলা তাবাকাতিল-হানাবিলাহ।
• তার বিভিন্ন কাজের মধ্যে অন্যতম প্রেরনাদায়ক লেখনী হচ্ছেঃ লাতাইফ আল-মায়ারিফ এবং আল-তাখউইফ মিন আল-নার।

টিকাঃ
১. ইবনে কাদি আল-শুহবাহ, তারিখ, ভলিয়ুম ৩, পৃষ্ঠা ১৯৫।
২. ইবনে হাজর, ইনবাউল-ঘামর, ভলিয়ুম ১, পৃষ্ঠা ৪৬০।
৩. আল-মাক্বসাদ আল-আরশাদ, ভলিয়ুম ২, পৃষ্ঠা ৮১।
৪. ইবনে আব্দুল হাদি, যাইল আলা তাবাকাত ইবনে রজব, পৃষ্ঠা ৩৮।

📘 আল্লাহর পথে যাত্রা > 📄 অসীম ও পরম করুণাময় আল্লাহর নামে

📄 অসীম ও পরম করুণাময় আল্লাহর নামে


বুখারীতে বর্ণিত আছে আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত নবী (সঃ) বলেছেন, "কেবলমাত্র তোমাদের আমল তোমাদের কারোকে রক্ষা করবেনা।" তারা জিজ্ঞাসা করলেন, “হে আল্লাহর রাসুল, এমনকি আপনাকেও না?” তিনি উত্তর করলেন, "আমাকেও না, যদি না তিনি আমাকে তাঁর দয়া দ্বারা আচ্ছাদিত করতেন। তোমরা দৃঢ়, অবিচল এবং মধ্যপন্থা অবলম্বন করো। এবং তোমরা তাঁর (আল্লাহ) ইবাদত করো দিনের শুরুতে, দিনের শেষে এবং রাতের শেষাংশে। সংযম, সংযম! এর মাধ্যমেই তোমরা তোমাদের লক্ষ্যে পৌছাতে পারবে!”
তিনি এই হাদিসটি অন্যত্র বর্ণনা করেছেন অন্যভাবে, "ধর্ম সহজ, যে এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করে সে ছাড়া আর কারো জন্য এটা কঠিন নয়; তাই দৃঢ়, অবিচল ও পরিমিতি বোধ সম্পন্ন হও; তাদের জন্য রয়েছে সুখবর। সকাল, সন্ধ্যা ও রাতের শেষাংশে ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করো।"
তিনি আরো উল্লেখ করেন আয়শা (রাঃ) হতে, যে নবী (সঃ) বলেছেন, “দৃঢ়, অবিচল ও মধ্যপন্থা অবলম্বনকারীদের জন্য সুখবর রয়েছে এবং নিশ্চয় শুধুমাত্র একজনের আমল তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারবেনা।" তারা জিজ্ঞাসা করলো, “হে আল্লাহর রাসুল, আপনাকেও না?” তিনি উত্তর দিলেন, “আমাকেও না, যদি না আল্লাহ আমাকে তাঁর ক্ষমা ও দয়া দ্বারা আবৃত না করতেন।”
তিনি তার (আয়শা (রাঃ)) কাছ থেকে বর্ণিত অন্য হাদিসে উল্লেখ করেন যে নবী (সঃ) বলেন, “দৃঢ়, অবিচল ও মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী হও। জেনে রাখো, শুধুমাত্র তোমার আমল দিয়ে তুমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, আল্লাহর কাছে ঐ সকল ইবাদত সবচেয়ে প্রিয় যা একটানা ও বিরতিহীনভাবে করা হয়, যদিওবা তা সংখ্যায় কম হয়।”
আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা'আলার পথে ভ্রমণের মুল বিষয়গুলোর সাথে সম্পর্কিত অসাধারন ও গুরুত্বপূর্ণ সব বিধিবিধানের খুটিনাটি বর্ণনা লুকিয়ে রয়েছে এই হাদিসগুলোতে”।

টিকাঃ
৫. বুখারী #৬৪৬৩
৬. ইবাদাহ #৩৯
৭. ইবাদাহ #৬৪৬৭
৮. ইবাদাহ #৬৪৬৪
* মুসলিম হাদিস #২৮১৬-৭১১৩ তে উল্লেখ আছে আবু হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত নবী (সঃ) বলেন, "এমন একজন ব্যাক্তি নেই যার সৎকর্ম তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।" তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, "হে আল্লাহর রাসুল, আপনিও নন? তিনি উত্তর দিলেন, "আমিও না, যদি না আল্লাহ আমাকে তাঁর দয়া দ্বারা আচ্ছাদিত করেন।" হাদিস #২৮১৬-৭১২১ তিনি আরো উল্লেখ করেন জাবির (রাঃ) শুনেন যে আল্লাহর রাসুল (সঃ) বলছেন, "তোমাদের কারো সৎকর্মই তোমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে না বা তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেনা, এমনকি আমাকেও না, যদি না আল্লাহ তাঁর দয়া প্রদর্শন করেন।" আহমাদ হাদিস #১১৪৮৬ তে এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন আবু সা'দ এর বর্ণনা থেকে; আবু মুসা, উসামা ইবনে শারিক, শারিক ইবনে তারিক এবং আসাদ ইবনে কুর্জ-তাবারানি, আল-কাবীর #৪৯৩-১০০১-৬৫৪৯-৭২১৮-৭২২১।

বুখারীতে বর্ণিত আছে আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত নবী (সঃ) বলেছেন, "কেবলমাত্র তোমাদের আমল তোমাদের কারোকে রক্ষা করবেনা।" তারা জিজ্ঞাসা করলেন, “হে আল্লাহর রাসুল, এমনকি আপনাকেও না?” তিনি উত্তর করলেন, "আমাকেও না, যদি না তিনি আমাকে তাঁর দয়া দ্বারা আচ্ছাদিত করতেন। তোমরা দৃঢ়, অবিচল এবং মধ্যপন্থা অবলম্বন করো। এবং তোমরা তাঁর (আল্লাহ) ইবাদত করো দিনের শুরুতে, দিনের শেষে এবং রাতের শেষাংশে। সংযম, সংযম! এর মাধ্যমেই তোমরা তোমাদের লক্ষ্যে পৌছাতে পারবে!”
তিনি এই হাদিসটি অন্যত্র বর্ণনা করেছেন অন্যভাবে, "ধর্ম সহজ, যে এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করে সে ছাড়া আর কারো জন্য এটা কঠিন নয়; তাই দৃঢ়, অবিচল ও পরিমিতি বোধ সম্পন্ন হও; তাদের জন্য রয়েছে সুখবর। সকাল, সন্ধ্যা ও রাতের শেষাংশে ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করো।"
তিনি আরো উল্লেখ করেন আয়শা (রাঃ) হতে, যে নবী (সঃ) বলেছেন, “দৃঢ়, অবিচল ও মধ্যপন্থা অবলম্বনকারীদের জন্য সুখবর রয়েছে এবং নিশ্চয় শুধুমাত্র একজনের আমল তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারবেনা।" তারা জিজ্ঞাসা করলো, “হে আল্লাহর রাসুল, আপনাকেও না?” তিনি উত্তর দিলেন, “আমাকেও না, যদি না আল্লাহ আমাকে তাঁর ক্ষমা ও দয়া দ্বারা আবৃত না করতেন।”
তিনি তার (আয়শা (রাঃ)) কাছ থেকে বর্ণিত অন্য হাদিসে উল্লেখ করেন যে নবী (সঃ) বলেন, “দৃঢ়, অবিচল ও মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী হও। জেনে রাখো, শুধুমাত্র তোমার আমল দিয়ে তুমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, আল্লাহর কাছে ঐ সকল ইবাদত সবচেয়ে প্রিয় যা একটানা ও বিরতিহীনভাবে করা হয়, যদিওবা তা সংখ্যায় কম হয়।”
আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা'আলার পথে ভ্রমণের মুল বিষয়গুলোর সাথে সম্পর্কিত অসাধারন ও গুরুত্বপূর্ণ সব বিধিবিধানের খুটিনাটি বর্ণনা লুকিয়ে রয়েছে এই হাদিসগুলোতে”।

টিকাঃ
৫. বুখারী #৬৪৬৩
৬. ইবাদাহ #৩৯
৭. ইবাদাহ #৬৪৬৭
৮. ইবাদাহ #৬৪৬৪
* মুসলিম হাদিস #২৮১৬-৭১১৩ তে উল্লেখ আছে আবু হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত নবী (সঃ) বলেন, "এমন একজন ব্যাক্তি নেই যার সৎকর্ম তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।" তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, "হে আল্লাহর রাসুল, আপনিও নন? তিনি উত্তর দিলেন, "আমিও না, যদি না আল্লাহ আমাকে তাঁর দয়া দ্বারা আচ্ছাদিত করেন।" হাদিস #২৮১৬-৭১২১ তিনি আরো উল্লেখ করেন জাবির (রাঃ) শুনেন যে আল্লাহর রাসুল (সঃ) বলছেন, "তোমাদের কারো সৎকর্মই তোমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে না বা তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেনা, এমনকি আমাকেও না, যদি না আল্লাহ তাঁর দয়া প্রদর্শন করেন।" আহমাদ হাদিস #১১৪৮৬ তে এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন আবু সা'দ এর বর্ণনা থেকে; আবু মুসা, উসামা ইবনে শারিক, শারিক ইবনে তারিক এবং আসাদ ইবনে কুর্জ-তাবারানি, আল-কাবীর #৪৯৩-১০০১-৬৫৪৯-৭২১৮-৭২২১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00