📄 আট. হদ কায়েম করার বিষয়ে সুপারিশকারীর সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাবতীয় কাজে ও বিধানের ক্ষেত্রে সমগ্র মানুষের চেয়ে বড় ইনসাফকারী ছিলেন। এ বিষয়ে যে ঘটনাটি কিয়ামত পর্যন্ত ইসলামের ইতিহাসে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, তা হলো, মাখজুমি গোত্রের মহিলা যে চুরি করার পর তার বিষয়ে উসামা রাদিয়াল্লাহু আনহু সুপারিশ করা সত্ত্বেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত কেটে দেন। আল্লাহ তা'আলার বিধান বাস্তবায়নে তিনি কারো কোনো সুপারিশ কবুল করেন নি।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত,
" أَن قُرَيْشاً أَهَمَّهُمْ شَأْنُ الْمَرْأَةِ الْمَخْزُومِيَّةِ الَّتِي سَرَقَتْ فِي عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةِ الْفَتْحِ ، فَقَالُوا : مَنْ يُكَلِّمُ فِيهَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ؟ فَقَالُوا : وَمَنْ يَجْتَرِئُ عَلَيْهِ إِلاَّ أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ ، حِبُّ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأُتِيَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَلَّمَهُ فِيهَا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ ، فَتَلَوَّنَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ : " أَتَشْفَعُ فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ؟ فَقَالَ لَهُ أُسَامَةُ: اسْتَغْفِرْ لِي يَا رَسُولَ اللَّهِ! فَلَمَّا كَانَ الْعَشِيُّ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاخْتَطَبَ فَأَثْنَى عَلَى اللَّهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ، فَقَالَ : [ أَمَّا بَعْدُ ، أَيُّهَا النَّاسُ : إِنَّمَا أَهْلَكَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ أَنَّهُمْ كَانُوا إِذَا سَرَقَ فِيهِمْ الشَّرِيفُ تَرَكُوهُ ، وَإِذَا سَرَقَ فِيهِمْ الضَّعِيفُ أَقَامُوا عَلَيْهِ الْحَدَّ، وَإِنِّي وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَرَقَتْ لَقَطَعْتُ يَدَهَا]. ثُمَّ أَمَرَ بِتِلْكَ الْمَرْأَةِ الَّتِي سَرَقَتْ فَقُطِعَتْ يَدُهَا ".
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে মক্কা বিজয়ের বছর মাখজুমি গোত্রের একজন মহিলা চুরি করে ধরা পড়লে, তা কুরাইশদের চিন্তার কারণ হয়ে পড়ে। তারা বলাবলি করতে লাগলো যে, তার বিষয়ে কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে সুপারিশ করবে? তখন তারা ঠিক করল, এ বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সর্বাধিক প্রিয় লোক উসামা ইবন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু ছাড়া আর কেউ সাহস করবে না। তারপর উসামা রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এসে তার বিষয়ে কথা বলে এবং সুপারিশ করে। তার কথা শোনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারা লাল হয়ে গেল এবং তিনি বললেন, তুমি আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নের বিষয়ে আমার নিকট সুপারিশ করছ! এ কথা শোনে উসামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলল, হে আল্লাহর রাসুল আপনি আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তারপর যখন সন্ধ্যা হলো, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের মিম্বারে খুতবা দিতে দাঁড়ালো। প্রথমে তিনি আল্লাহর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এমন কথা দ্বারা আল্লাহর প্রশংসা করল। তারপর তিনি বললেন, তোমরা মনে রাখ! তোমাদের পূর্বের উম্মতদের ধ্বংসের কারণ হলো, তাদের মধ্যে যদি কোনো সম্ভান্ত লোক চুরি করত, তখন তাকে তারা শাস্তি দিত না, তাকে ক্ষমা করে দিত। আর যখন তাদের মধ্যে কোনো দুর্বল লোক চুরি করত, তার ওপর তারা আল্লাহর বিধান বাস্তবায়ন করত। আর আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, যদি মুহাম্মাদের মেয়ে ফাতেমাও চুরি করে, আমি তার হাত কেটে দেব। তারপর তিনি মহিলাটির হাত কাটার নির্দেশ দিলে তার হাত কেটে দেওয়া হয়।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, তারপর সে তাওবা করে এবং বিবাহ করে। সে মাঝে মাঝে বিভিন্ন প্রয়োজনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলে, আমি তার বিষয়টি রাসূল-এর নিকট উঠাতাম"।
ইনসাফ হলো, যুলুমের পরিপন্থী। আল্লাহ তা'আলা যাবতীয় কর্মে ইনসাফ করার নির্দেশ দেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَإِذَا قُلْتُمْ فَاعْدِلُوا وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَى وَبِعَهْدِ اللَّهِ أَوْفُوا ذَلِكُمْ وَصَّيْكُم بِهِ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ ﴾ [الأنعام: 152]
"আর যখন তোমরা কথা বলবে, তখন ইনসাফ কর, যদিও সে আত্মীয় হয় এবং আল্লাহর ওয়াদা পূর্ণ কর। এ গুলো তিনি তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর”। [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ১৫২]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
وَإِذَا حَكَمْتُم بَيْنَ النَّاسِ أَن تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ إِنَّ اللَّهَ نِعِمَّا يَعِظُكُم بِهِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ سَمِيعًا بَصِيرًا ﴾ [النساء: 58]
"আর যখন মানুষের মধ্যে ফয়সালা করবে তখন ন্যায়ভিত্তিক ফয়সালা করবে। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে কতইনা সুন্দর উপদেশ দিচ্ছেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৫৮]
নিঃসন্দেহে একটি কথা বলা যায়, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইনসাফ কায়েমের ক্ষেত্রে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন একজন দা'ঈ বা যারা আল্লাহর দীনকে দুনিয়াতে বাস্তবায়ন করার সংগ্রাম করে তাদের কর্তব্য হলো, তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আদর্শের অনুকরণ করবে।
টিকাঃ
১২১. কিতাবুল হুদুদ: হাদীস নং ৬৭৮৭; সহীহ মুসলিম, কিতাবুল হুদুদ, হাদীস নং ১৬৮৮।
১২২. আবু দাউদ ২৪২/২; নাসাঈ ৬৪/৭; সহীহ বুখারী, ২৯২/৩; সহীহ মুসলিম, ৪৫৮/৩; হাযাল হাবীবু ইয়া মুহিব্ব ৫৩৫।
📄 নয়. দান খয়রাত করার ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ
আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
مَا سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْإِسْلَامِ شَيْئاً إِلَّا أَعْطَاهُ قَالَ: فَجَاءَهُ رَجُلٌ فَأَعْطَاهُ غَنَمَاً بَيْنَ جَبَلَيْنِ فَرَجَعَ إِلَى قَوْمِهِ فَقَالَ: يَا قَوْمِ، أَسْلِمُوا؛ فَإِنَّ مُحَمَّدَاً يُعْطِي عَطَاءً لَا يَخْشَى الْفَاقَةَ
"রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কোনো কিছু চাওয়া তিনি তাকে কিছু না দিয়ে কোনোদিন ফেরত পাঠায় নি। একদিন তার নিকট একজন লোক এসে কিছু চাইলে তিনি তাকে দুই পাহাড়ের মাঝ থেকে একটি ছাগল দেন। ছাগলটি নিয়ে সে তার সম্প্রদায়ে লোকদের নিকট গিয়ে বলে, হে আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা তোমরা ইসলাম গ্রহণ কর। কারণ, মুহাম্মাদ এত বেশি দান করে সে তার নিজের অভাবকে ভয় করে না"।
লোকটির কথা স্পষ্ট প্রমাণ করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কত যে দানশীল ছিলেন এবং তার হাত কতটা প্রসস্থ ছিল।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যেই আল্লাহর রাহে দান-খয়রাত করেন। আবার কখনো সময় ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য লোকদের তিনি দান খয়রাত করেন। প্রথমে দেখা যায়, একজন লোক পার্থিব উদ্দেশ্যে ইসলাম গ্রহণ করে কিন্তু যখন সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে থাকতে থাকে তখন কিছু দিন যেতে না যেতে আল্লাহ তা'আলা তার অন্তরে ইসলামের মোহাব্বত ও ঈমানের হাকীকত খুলে দেয়। তখন তার নিকট ঈমান ও ইসলাম দুনিয়া ও দুনিয়াতে যা কিছু আছে সব কিছুর চেয়ে বেশি প্রিয় হয়ে যায়।
এ ধরণের দৃষ্টান্ত হাদীসে অনেক আছে। যেমন, ইমাম মুসলিম তার সহীহ'তে বর্ণনা করেন,
أن النبي صلى الله عليه وسلم غزا غزوة الفتح - فتح مكة - ثم خرج صلى الله عليه وسلم بمن معه من المسلمين فاقتتلوا بحنين، فنصر الله دينه والمسلمين، وأعطى رسول الله صلى الله عليه وسلم صفوان بن أمية مائة من الغنم، ثم مائة، ثم مائة. قال صفوان: والله لقد أعطاني رسول الله صلى الله عليه وسلم ما أعطاني وإنه لأبغض الناس إلي، فما برح يعطيني حتى إنه لأحب الناس إلي».
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের তার সাথে যে সব মুসলিম ছিল তাদের নিয়ে হুনাইনের দিকে রওয়ানা করেন। সেখানে যুদ্ধ করার পর আল্লাহ তা'আলা ইসলাম ও মুসলিমদের বিজয় দান করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফওয়ান ইবন উমাইয়াকে একশটি উট দেন। তারপর আরও একশ তারপর আরও একশ। সাফওয়ান ইবন উমাইয়া বলে, আল্লাহর শপথ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে যা দেওয়ার দিয়েছেন। তিনি আমার নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি ছিলেন। কিন্তু তিনি যখন দিতে থাকেন এখন সে আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তিতে পরিণত হন”।
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,
إن كان الرجل ليسلم ما يريد إلا الدنيا، فما يسلم حتى يكون الإسلام أحب إليه من الدنيا وما عليها
“এমন মানুষ ছিল যারা একমাত্র পার্থিব কোনো উদ্দেশ্য নিয়েই ইসলাম গ্রহণ করত। কিন্তু যখন সে ইসলাম গ্রহণ করত তখন ইসলাম তার নিকট দুনিয়া ও দুনিয়াতে যা কিছু আছে তা হতে সর্বাধিক প্রিয় বস্তুতে পরিণত হত"।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো দুর্বল ঈমানদার লোক দেখতেন তখন তাকে পার্থিব মালামাল বেশি দান করতেন এবং তিনি বলতেন,
«إني لأعطي الرجل وغيره أحب إلي منه خشية أن يُكب في النار على وجهه».
"আমি যদি কোনো লোককে কোনো কিছু দিয়ে থাকি তা আমার নিকট অধিক পছন্দনীয় তাকে জাহান্নামে উপর করে নিক্ষেপ করার ছেয়ে। এ কারণেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশের অনেক লোককে একশ উট দান করে দিতেন"। যেমনটি হাদীসে বর্ণিত,
«يعطي رجالاً من قريش مائة من الإبل»
"রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশের অনেক লোককে একশ উট দান করে দিতেন"।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিকমতপূর্ণ আচরণের আরেকটি দৃষ্টান্ত হলো, দুই মশক বিশিষ্ট মুশরিক মহিলার সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম...... মশক দু'টি আগের চেয়ে আরও বেশি পরিপূর্ণ রূপে ফিরে আসে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথীদের বলেন, তোমরা তার জন্য একত্র কর। তখন তারা তার শুকনা খেজুর আটা ও ছাতু ইত্যাদি যোগাড় করে। অনেক গুলো খানা একত্র করে একটি কাপড়ে রাখে এবং তার উটের ওপর তুলে দেয়। তারপর কাপড়টি তার সামনে রেখে তাকে বলেন, তুমি যাও তোমার পরিবার পরিজনকে তোমরা এসব খাওয়াও। আল্লাহর শপথ অচিরেই তুমি জানতে পারবে আমরা তোমার পানি হতে একটুও কমাই নেই। তবে আল্লাহ তা'আলা আমাদের পান করিয়েছে।
এখানে আরও বর্ণিত যে মহিলাটি তার কওমের দিকে ফিরে এসে বলে, আমি বড় একজন যাদুকরের সাথে সাক্ষাত করছি। তারা বিশ্বাস করে সে একজন নবী। আল্লাহ তা'আলা এ মহিলার মাধ্যমে কয়েকটি পরিবারকে দীনের দিকে হিদায়াত দেন। সে নিজে ইসলাম গ্রহণ করে এবং তার মাধ্যমে আরও অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করে।
মহিলাটির ইসলাম গ্রহণের কারণ দু'টি বিষয়:
এক. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীরা তার মশক নিয়ে যেতে সে দেখ। কিন্তু এ কারণে তার পানি একটুও কমে নি। এটি ছিল নিশ্চিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মু'জিজা যা তার রিসালাতের সত্যতার ওপর বিশেষ প্রমাণ।
দুই. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উদারতা ও দানশীলতা। কারণ, তিনি তার সাহাবীদের আদেশ দেন যাতে তারা তার জন্য অনেক খাদ্য একত্র করে। তারপর তারা যখন খাদ্য একত্র করে তা তাকে মুগ্ধ করে। আর তার কওমের লোকেরা তার হাতে ইসলাম গ্রহণ করে। কারণ মুসলিমরা তার কওমের লোকদের অবস্থার প্রতিও বিশেষ গুরুত্বারোপ করে, যাতে তারা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এটাই শেষ পর্যন্ত তাদের ইসলাম কবুল করার কারণ হয়ে দাড়ায়।
উপরে যে সব দৃষ্টান্ত আলোচনা করা হলো, তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দানশীলতা ও বদান্যতার অথৈই সমুদ্রের একটি ফোটা মাত্র। অন্যথায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দানশীলতা ও বদান্যতার বর্ণনা দিয়ে শেষ করা আমাদের কারো পক্ষে সম্ভব নয়। দা'ঈদের জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুকরণ, তার আদর্শ ও আখলাক হতে এসব আচরণ গুলো চয়ন করে, তা তারা তাদের যাবতীয় কর্মক্ষেত্রে ও দাওয়াতী ময়দানে কাজে লাগাতে পারে। আল্লাহই আমাদের সাহায্যকারী।
টিকাঃ
১২৩. সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ফাযায়েল ১৮০৬/৪।
১২৪. সহীহ বুখারী, কিতাবুল আদব, হাদীস নং ৬০৩৩; সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ফাযায়েল, হাদীস নং ১৮০৬, ১৮০৫।
১২৫. দেখুন: শরহে নববী ৭২/১৫।
১২৬. সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ফাযায়েল: ১৮০৬/৪, হাদীস নং ২৩১৩।
১২৭. পূর্বের রেফারেন্স ১৮০৬, ৫৮/২৩১২।
১২৮. সহীহ বুখারী, কিতাবুয যাকাত, হাদীস নং ১৪৭৮, সহীহ মুসলিম, কিতাবুয যাকাত, হাদীস নং ১০৫৯।
১২৯. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩১৪৭।
১৩০. সহীহ বুখারী, কিতাবুল মানাকেব, হাদীস নং ৩৫৭১; সহীহ মুসলিম, কিতাবুল মাসাজিদ, হাদীস নং ৬৮২।
১৩১. দেখুন: ফাতহুল বারী ৪৫৬/১।