📘 আল্লাহর দিকে রাসুল সাঃ এর দাওয়াতের বাস্তব কিছু নমুনা 📄 পাঁচ. মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে চুক্তি সম্পাদন ও ইয়াহূদীদের সাথে সম্পর্ক চিহ্ন করা

📄 পাঁচ. মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে চুক্তি সম্পাদন ও ইয়াহূদীদের সাথে সম্পর্ক চিহ্ন করা


আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করার পর, তিনি তাদের সাথে এমন একটি চুক্তি সম্পন্ন করেন, যাদ্বারা জাহিলিয়‍্যাতের সব ধরণের কু-সংস্কার, জাতিগত বৈষম্য, আঞ্চলিকতা, বর্ণ বৈষম্য, ভাষাগত বৈষম্য ও পারস্পরিক বিভেদ দূর হয়ে যায়। জাহেলিয়‍্যাতের অন্ধানুকরণের দরুন যে সব বিশৃংখলা, অন্যায় ও অনাচার সমাজে সংঘটিত হত, এ ধরণের সব অবকাশ দূর হয়ে যায়। এ চুক্তিতে মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে পরস্পরিক বন্ধন স্থাপন করার সাথে সাথে ইয়াহুদীদের সাথে যাবতীয় সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন ও মদিনায় তাদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়। উম্মতের সংশোধন ও তাদের ভিত্তি মজবুত করার জন্য এটি ছিল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রচেষ্টার স্পষ্ট ফলাফল।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসার ও মুহাজিরদের মাঝে একটি লিপিবদ্ধ চুক্তি করেন, তাতে তিনি ইয়াহুদীদের সাথে সম্পর্ক চিহ্ন করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে যে চুক্তি করেন, তাতে তিনি তাদেরকে তাদের সম্পদের নিরাপত্তা বিধান করেন এবং তাদের পক্ষে ও বিপক্ষে কিছু শর্তারোপ করেন।

এ চুক্তি ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম, সু-চিন্তিত, সু-কৌশল ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে বিশেষ একটি কৌশলিক বার্তা ও পরিপূর্ণ হিকমত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনার সব মুসলিমদের এবং ইয়াহুদীদের মধ্যে একটি সম্পর্ক স্থাপন করে দেন। যার ফলে তারা একটি ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত হলো এবং একটি শক্তিতে পরিণত হলো, ইচ্ছা করলে কেউ এখন আর মদিনায় আক্রমণ চালাতে পারবে না। কেউ মদিনার ওপর আক্রমণ চালাতে চাইলে, এখন তারা তা প্রতিহত করতে সক্ষম।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে পাঁচটি পদক্ষেপ নেন তা দ্বারা আল্লাহর অনুগ্রহে মদিনার অধিবাসীদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং তাদের মধ্যে দীর্ঘকালের যে মতপার্থক্য ছিল তা দূর করতে সক্ষম হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা যে পাঁচটি পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা হলো, মসজিদ নির্মাণ, ইয়াহুদীদের ইসলামের দিকে আহ্বান করা, মুমিনদের মধ্যে সু-সম্পর্ক কায়েম করা ও তাদের তা'লীম তরবিয়ত দেওয়া এবং অমুসলিমদের সাতে চুক্তি সম্পাদক করা।

এখানে একটি কথা মনে রাখতে হবে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএর ঐতিহাসিক এ পাচটি পদেক্ষপ ছিল যুগান্তকারী ও সময় উপযোগী। এ সব পদক্ষেপের মাধ্যমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএর রাজনৈতিক দূরদর্শিতারই বহি:প্রকাশ ঘটে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা তাদের অতীতের সমস্ত কু-সংস্কার দূর করে দেন, মুসলিমদের অন্তরসমূহকে এক জায়গায় একত্র করে এবং মদিনার অভ্যন্তরে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অগ্রণি ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়েও বহিঃশত্রুর আক্রমণ ও তাদের হাত থেকে মদিনার নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। এ কারণে এ সনদটি পৃথিবীর ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সনদে পরিণত হয়। এ সনদের কারণেই আল্লাহর দিকে মানুষকে ডাকার বিষয়টি মদিনা থেকে সমগ্র দুনিয়াতে অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ চুক্তি ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম, সু-চিন্তিত, সু-কৌশল ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে বিশেষ একটি পরিপূর্ণ হিকমত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনার সব মুসলিমদের এবং ইয়াহূদীদের মধ্যে এ সনদের মাধ্যমে একটি সম্পর্ক স্থাপন করে দেন। যার ফলে তারা একটি ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত হয় এবং একটি শক্তিতে পরিণত হয়। অবস্থা এখন এ পর্যায়ে পৌছে যে, ইচ্ছা করলে কেউ এখন আর মদিনায় আক্রমণ চালাতে পারবে না; মদীনায় আক্রমণ চালাতে হলে তাকে ভেবে চিন্তে এগুতে হবে। কেউ মদীনার ওপর আক্রমণ করতে চাইলে, এখন তারা তা প্রতিহত করতে সক্ষম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে পাঁচটি পদক্ষেপ নেন তা দ্বারা আল্লাহর অনুগ্রহে মদিনার অধিবাসীদের মধ্যে ঐতিহাসিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তাদের মধ্যে দীর্ঘকালের যে মতপার্থক্য ছিল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার এ ঐতিহাসিক সনদের মাধ্যমে তা দূর করতে সক্ষম হন।

টিকাঃ
৬৮. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়াহ ২২৪-২২৬/২; যাদুল মায়াদ ৬৫/৩; সীরাতে ইবন হিশাম ১২৩-১১৯/২।
৬৯. আর রাহীকুল মাখতুম ১৭৮, ১৭১,১৮৫; হাযাল হাবীবু ইয়া মুহিব্ব: ১৭৪, ১৭৬; তারিখে ইসলামী ১৭৩/২; তারিখে ইসলামী ১৬৬/২।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية