📄 ভূমিকা
আল্লাহ তা'আলা প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন, মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান ও তার প্রতি দাওয়াত দেওয়ার জন্য। নবী হিসেবে তিনিই হলেন, সর্বশেষ নবী; তারপর আর কোনো নবী দুনিয়াতে আসবে না। কিন্তু আল্লাহর দিকে আহ্বান করার জন্য একদল দা'ঈ বা নবীদের উত্তরসূরি কিয়ামত পর্যন্ত দুনিয়াতে অবশিষ্ট থাকবে, যারা মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকবে এবং নবী-রাসূলদের শূন্যতা পূরণ করবে। একজন দা'ঈর জন্য তার দাওয়াতী ময়দানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শকে আঁকড়ে ধরা এবং সর্ব ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শকে সমুন্নত রাখার কোনো বিকল্প নেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে দাওয়াত দিতে গিয়ে যখন যেভাবে যে হিকমত ও কৌশল অবলম্বন করেন একজন দা'ঈর জন্য তার দাওয়াতের ময়দানে তাই হলো গুরুত্বপূর্ণ পাথেয় ও অনুকরণীয় আদর্শ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের হিকমত, কৌশল ও বুদ্ধি গ্রহণ করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাওয়াতের ক্ষেত্রে যে সব হিকমত ও কৌশল অবলম্বন করেন এ যে উন্নত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন, তা যদি একজন দা'ঈ তার কর্মক্ষেত্রে ও দাওয়াতী ময়দানে অবলম্বন করে, তাহলে সে অবশ্যই সফল হবে। এছাড়া যদি সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদর্শ সমূহে গভীরভাবে চিন্তা করে, তাহলে দাওয়াতের ক্ষেত্রে তার সফলতা অর্জন নিশ্চিত। হিকমত ও বুদ্ধিমত্তার সাথে দাওয়াতী কাজকে সম্পন্ন করতে তার থেকে আর কোনো ত্রুটি হবে না। দাওয়াতী ময়দানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনী থেকে সংগৃহীত হিকমত, বুদ্ধি ও কৌশলগুলো সে কাজে লাগাতে পারবে।
সুতরাং একটি কথা মনে রাখতে হবে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই হলো, একজন মুসলিমের জন্য পরিপূর্ণ আদর্শ। তার আদর্শের অনুকরণই হলো, একজন প্রকৃত দা'ঈর মৌলিক কাজ। আল্লাহ তা'আলা কুরআনে বলেন,
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَن كَانَ يَرْجُوا اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا ﴾ [الأحزاب: 21]
"অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে”। [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২১]
আমি আমার এ পুস্তিকাটিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের দাওয়াত দিতে গিয়ে যে সব হিকমত, বুদ্ধি ও কৌশল অবলম্বন করেন, তার একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে চেষ্টা করব। একটি কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জীবনে মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দিতে গিয়ে অসংখ্য ও অগণিত হিকমত ও কৌশল অবলম্বন করেছেন, যাতে মানুষ ঈমানের ওপর উঠে আসে। এ গুলো সবকে একত্র করা কারো দ্বারাই সম্ভব না, তবে আমি এ পুস্তিকাটিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনী থেকে দৃষ্টান্তস্বরূপ কিছু আলোচনা করার প্রয়াস চালাব, যাতে একজন দা'ঈ কিছুটা হলে অনুমান করতে পারে। আমি আমার এ রিসালাটিকে দু'টি অধ্যায়ে ভাগ করছি।
প্রথম অধ্যায়: হিজরতের পূর্বে দাওয়াতী ময়দানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থান।
দ্বিতীয় অধ্যায়: হিজরতের পরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থান।
টিকাঃ