📄 সালাতের মধ্যে দোয়া
রাসূল ﷺ সবসময় আল্লাহকে স্মরণ করতেন এবং সকল অবস্থায়ই আল্লাহর কাছে যখন যা দরকার চাইতে থাকতেন। তাই সব অবস্থার উপযোগী চমৎকার দোয়া হাদীসে পাওয়া যায়। তা থেকে এখানে শুধু তাহাজ্জুদ ও নফল নামাযের বিভিন্ন অংশে এবং ফরয নামাযের পর যেসব দোয়া করতেন তা থেকে মাত্র কয়েকটি বাছাই করে এখানে পেশ করছি। তাছাড়া সকাল ও সন্ধ্যার দোয়াগুলো থেকেও কিছু এখানে উল্লেখ করছি। সবশেষে ঘুমানোর সময়ের দোয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
রাসূল ﷺ সবসময় আল্লাহকে স্মরণ করতেন এবং সকল অবস্থায়ই আল্লাহর কাছে যখন যা দরকার চাইতে থাকতেন। তাই সব অবস্থার উপযোগী চমৎকার দোয়া হাদীসে পাওয়া যায়। তা থেকে এখানে শুধু তাহাজ্জুদ ও নফল নামাযের বিভিন্ন অংশে এবং ফরয নামাযের পর যেসব দোয়া করতেন তা থেকে মাত্র কয়েকটি বাছাই করে এখানে পেশ করছি। তাছাড়া সকাল ও সন্ধ্যার দোয়াগুলো থেকেও কিছু এখানে উল্লেখ করছি। সবশেষে ঘুমানোর সময়ের দোয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
📄 তাকবীর তাহরীমের পর
আল্লাহু আকবার বলে নামাযের শুরুতে হাত বেঁধে দাঁড়ানো অবস্থায় কিরাআতের পূর্বে বিভিন্ন দোয়া রাসূল ﷺ পড়তেন। এর মধ্যে তিনটি এখানে উল্লেখ করা হলো-
وجَهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ - إِنَّ صَلاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ العَلَمِينَ - لَا شَرِيكَ لَهُ ، وَبَذَالِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ .
“আসমান ও যমীনকে যিনি সৃষ্টি করেছেন তার দিকে আমি একনিষ্ঠভাবে আমার মুখ ফিরালাম ও মনোযোগ দিলাম। আর আমি মুশরিকদের মধ্যে শামিল নই। নিশ্চয় আমার নামায, কুরবানী, হায়াত ও মওত আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের উদ্দেশ্যে নিবেদিত। তাঁর কোনো শরীক নেই। আমাকে এ রকমই আদেশ করা হয়েছে এবং আমি মুসলিমদেরই অন্তর্ভুক্ত।”
(সূরা আল আনআম : ৭৯ ও ১৬২)
اَللَّهُمَّ أَنْتَ الْمَلِكُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ ظَلَمْتُ نَفْسِي وَاعْتَرَفْتُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي جَمِيعًا إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ .
“হে আল্লাহ! তুমি বাদশাহ। তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তুমি আমার রব, আর আমি তোমার গোলাম। আমি নিজের উপর যুলুম করেছি। আমার গুনাহর কথা স্বীকার করছি। আমার সব গুনাহ মাফ করে দাও। তুমি ছাড়া আর কেউ ক্ষমা করতে পারে না।”
اللهُمَّ لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ كُلُّهُ فِي يَدَيْكَ وَالشَّرُّ لَيْسَ الَيْكَ وَالْمَهْدِي مَنْ هَدَيْتَ أَنَا بِكَ وَإِلَيْكَ لَا مَنْجَا مِنْكَ وَلَا مَلْجَا إِلَّا إِلَيْكَ تَبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ اسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ .
“হে আল্লাহ! আমি তোমার ডাকে সাড়া দিয়ে হাযির হয়ে গেছি। তোমার মহান দরবারে উপস্থিত হবার সৌভাগ্য হলো। সব কল্যাণ তোমারই হাতে আছে। কোনো মন্দই তোমার প্রতি আরোপ করা যায় না। তুমি যাকে হেদায়াত কর সেই হেদায়াত পায়। আমি তোমার কাছ থেকে এসেছি। তোমার কাছেই যাব। তোমার শাস্তি থেকে বাঁচতে হলে তোমারই কাছে ধরণা দিতে হবে। তুমি ছাড়া কোনো আশ্রয়ই নেই, তুমি বরকতওয়ালা ও মহান। আমি তোমার নিকট ক্ষমা চাচ্ছি এবং তোমার নিকট তাওবা করছি।"
তাকবীর তাহরীমের পর “সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়াবিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তায়ালা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা” আমরা সবাই পড়ি। এটাও হাদীসে আছে। এরপর ঐ তিনটির মধ্যে যখন যেটা ইচ্ছে পড়া যেতে পারে। (আল্লাহর দুয়ারে ধরণা : আ. প্র.)
আল্লাহু আকবার বলে নামাযের শুরুতে হাত বেঁধে দাঁড়ানো অবস্থায় কিরাআতের পূর্বে বিভিন্ন দোয়া রাসূল ﷺ পড়তেন। এর মধ্যে তিনটি এখানে উল্লেখ করা হলো-
وجَهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ - إِنَّ صَلاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ العَلَمِينَ - لَا شَرِيكَ لَهُ ، وَبَذَالِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ .
“আসমান ও যমীনকে যিনি সৃষ্টি করেছেন তার দিকে আমি একনিষ্ঠভাবে আমার মুখ ফিরালাম ও মনোযোগ দিলাম। আর আমি মুশরিকদের মধ্যে শামিল নই। নিশ্চয় আমার নামায, কুরবানী, হায়াত ও মওত আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের উদ্দেশ্যে নিবেদিত। তাঁর কোনো শরীক নেই। আমাকে এ রকমই আদেশ করা হয়েছে এবং আমি মুসলিমদেরই অন্তর্ভুক্ত।”
(সূরা আল আনআম : ৭৯ ও ১৬২)
اَللَّهُمَّ أَنْتَ الْمَلِكُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ ظَلَمْتُ نَفْسِي وَاعْتَرَفْتُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي جَمِيعًا إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ .
“হে আল্লাহ! তুমি বাদশাহ। তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তুমি আমার রব, আর আমি তোমার গোলাম। আমি নিজের উপর যুলুম করেছি। আমার গুনাহর কথা স্বীকার করছি। আমার সব গুনাহ মাফ করে দাও। তুমি ছাড়া আর কেউ ক্ষমা করতে পারে না।”
اللهُمَّ لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ كُلُّهُ فِي يَدَيْكَ وَالشَّرُّ لَيْسَ الَيْكَ وَالْمَهْدِي مَنْ هَدَيْتَ أَنَا بِكَ وَإِلَيْكَ لَا مَنْجَا مِنْكَ وَلَا مَلْجَا إِلَّا إِلَيْكَ تَبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ اسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ .
“হে আল্লাহ! আমি তোমার ডাকে সাড়া দিয়ে হাযির হয়ে গেছি। তোমার মহান দরবারে উপস্থিত হবার সৌভাগ্য হলো। সব কল্যাণ তোমারই হাতে আছে। কোনো মন্দই তোমার প্রতি আরোপ করা যায় না। তুমি যাকে হেদায়াত কর সেই হেদায়াত পায়। আমি তোমার কাছ থেকে এসেছি। তোমার কাছেই যাব। তোমার শাস্তি থেকে বাঁচতে হলে তোমারই কাছে ধরণা দিতে হবে। তুমি ছাড়া কোনো আশ্রয়ই নেই, তুমি বরকতওয়ালা ও মহান। আমি তোমার নিকট ক্ষমা চাচ্ছি এবং তোমার নিকট তাওবা করছি।"
তাকবীর তাহরীমের পর “সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়াবিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তায়ালা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা” আমরা সবাই পড়ি। এটাও হাদীসে আছে। এরপর ঐ তিনটির মধ্যে যখন যেটা ইচ্ছে পড়া যেতে পারে। (আল্লাহর দুয়ারে ধরণা : আ. প্র.)
📄 রুকু' সিজদায়
তাহাজ্জুদে বেশি সময় রুকু' ও সিজদায় ব্যয় করার সুযোগ থাকায় রাসূল ﷺ এর কিছুটা অনুকরণ করা সম্ভব। রুকু' ও সিজদায় তাসবীহ অনেকবার পড়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য বোধ সৃষ্টি হয়। তাসবীহতে 'আমার রব' কথাটি আবেগ সৃষ্টির সহায়ক। রাব্বুল আলামীনকে 'আমার রব' বলা শিক্ষা দিয়ে ঘনিষ্ঠতাবোধ করারই ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনেক সময় পর্যন্ত তাসবীহ পড়ার সময় বেজোড় সংখ্যা ঠিক রাখার জন্য প্রতি দু'বার পড়ার পর থামার অভ্যাস করা দরকার। শেষ তাসবীহ একবার পড়তে হবে। শেষ তাসবীহর সাথে এটুকু যোগ করার কথা রয়েছে :
وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَى نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِه .
“আল্লাহর প্রশংসা সহকারে এবং তাঁর সৃষ্টি সংখ্যার পরিমাণ, তিনি যত পছন্দ করেন যে পরিমাণ, আরশের ওজন পরিমাণ ও তাঁর কালাম লেখার কালির পরিমাণ।"
রুকু' ও সিজদায় তাসবীহের শেষে রাসূল ﷺ আরও পড়তেন-
سُبْحَانَكَ اللهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي سُبُوحٌ قُدُّوسٌ ربُّ الْمَلَئِكَةِ وَالرُّوح .
“হে আল্লাহ! হে আমাদের রব! তোমার প্রশংসা সহকারে তোমার তাসবীহ করছি। হে পাক পবিত্র এবং সকল ফেরেশতা ও জিবরাইলের রব, আমাকে মাফ কর।” (আল্লাহর দুয়ারে ধরণা: আ. প্র.)
তাহাজ্জুদে বেশি সময় রুকু' ও সিজদায় ব্যয় করার সুযোগ থাকায় রাসূল ﷺ এর কিছুটা অনুকরণ করা সম্ভব। রুকু' ও সিজদায় তাসবীহ অনেকবার পড়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য বোধ সৃষ্টি হয়। তাসবীহতে 'আমার রব' কথাটি আবেগ সৃষ্টির সহায়ক। রাব্বুল আলামীনকে 'আমার রব' বলা শিক্ষা দিয়ে ঘনিষ্ঠতাবোধ করারই ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনেক সময় পর্যন্ত তাসবীহ পড়ার সময় বেজোড় সংখ্যা ঠিক রাখার জন্য প্রতি দু'বার পড়ার পর থামার অভ্যাস করা দরকার। শেষ তাসবীহ একবার পড়তে হবে। শেষ তাসবীহর সাথে এটুকু যোগ করার কথা রয়েছে :
وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَى نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِه .
“আল্লাহর প্রশংসা সহকারে এবং তাঁর সৃষ্টি সংখ্যার পরিমাণ, তিনি যত পছন্দ করেন যে পরিমাণ, আরশের ওজন পরিমাণ ও তাঁর কালাম লেখার কালির পরিমাণ।"
রুকু' ও সিজদায় তাসবীহের শেষে রাসূল ﷺ আরও পড়তেন-
سُبْحَانَكَ اللهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي سُبُوحٌ قُدُّوسٌ ربُّ الْمَلَئِكَةِ وَالرُّوح .
“হে আল্লাহ! হে আমাদের রব! তোমার প্রশংসা সহকারে তোমার তাসবীহ করছি। হে পাক পবিত্র এবং সকল ফেরেশতা ও জিবরাইলের রব, আমাকে মাফ কর।” (আল্লাহর দুয়ারে ধরণা: আ. প্র.)
📄 রুকু'তে দোয়া
اللهُم لَكَ رَكَعْتُ وَبِكَ أمَنْتُ وَلَكَ أَسْلَمْتُ خَشَعَ لَكَ سَمْعِي وَبَصَرِى وَمُنِّى وَعَظْمِي وَعَصَبِى .
“হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য রুকূ' দিয়েছি, তোমার উপর ঈমান এনেছি, তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করেছি। তোমার প্রতি আমার শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, আমার মগজ, হাড় ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিনয়াবনত হয়েছে।”
(মুসলিম হাদীস নং ৪৮৭)
سُبْحَانَكَ اللهُم رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي.
মহান আল্লাহর পবিত্রতা ও প্রশংসা, হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর।
(বুখারী হাদীস-৭৯৪, মুসলিম হাদীস-৪৮৪)
سبوح قُدُّوسٌ رَبِّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ.
আল্লাহ পৰিত্ৰ ও মোবারক তিনি সকল ফেরেশতা ও জিবরাঈলের রব।
(মুসলিম হাদীস নং ৭৭১)
سُبْحَانَ ذِي الْجَبَرُوتِ وَالْمَلَكُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ.
মহাপ্রতাপশালী এবং রাজত্ব, বড়ত্ব ও সম্মানের অধিকারীর জন্য প্রশংসা করছি। এটি রুকু ও সিজদায় বলবে।
(হাদীসটি সহীহ, আবু দাউদ হাদীস নং ৮৭৩, নাসাঈ হাদীস নং ১০৪৯)