📄 পানাহ বা আশ্রয় চাওয়া
রাসূল ﷺ বিভিন্ন হাদীসে বিভিন্ন বিষয় থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চেয়েছেন। এর বেশ কয়টিকে একত্র করে এখানে পেশ করছি। পানাহ চাওয়ার আগে কিছু বিষয় কামনাও করেছেন। সে সবকে আলাদা না করে যেভাবে তিনি চেয়েছেন সেভাবেই রেখে দিলাম।
اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْتَلْكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ وَالْمُعَافَاةَ الدَّائِمَة فِي الدِّينِ وَالدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ - وَنَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحُزْنِ وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ ، وَنَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَرَمِ وَالْمَغْرَمَ وَالْمَائِمِ وَارْذَلِ الْعُمُرِ وَسُوءِ الْكَبِرِ وَمَوْتَةِ الْبَغْنَةِ وَالذِلَّةِ ، وَنَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبُخْلِ وَالْجُبْنِ وَغَلَبَةِ الدِّينِ وَقَهْرِ الرِّجَالِ .
“হে আল্লাহ! আমরা তোমার কাছে ক্ষমা, শান্তি ও সুস্বাস্থ্য চাই এবং দ্বীন, দুনিয়া ও আখিরাতে স্থায়ীভাবে আমাদেরকে দোষমুক্ত রাখ। আর আমরা তোমার কাছে দুশ্চিন্তা, দুঃখ-বেদনা, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে পানাহ চাই। আমরা আরও পানাহ চাই, অচল বার্ধক্য, ঋণ, গুনাহ, বৃদ্ধ বয়সের অনিষ্ট ও বয়সের ভারে অথর্ব হওয়া থেকে এবং অপমানজনক ও হঠাৎ মৃত্যু থেকে। আরও পানাহ চাই কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে এবং দেনার বোঝা ও মানুষের দাপট থেকে।”
اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْئَلُكَ الْعَفَافِ وَالغنى وَالْتَّقَى وَالْهُدَى وَحُسْنَ عَاقِبَةِ الْآخِرَةِ وَالدُّنْيَا - وَنَعُوذُ بِكَ مِنَ الشَّرِّ وَالشَّقَاقِ والنِّفَاقِ وَالرِّيَاءِ وَالسَّمْعَةِ فِي دِينِكَ .
“হে আল্লাহ! আমরা তোমার কাছ থেকে পেতে চাই নৈতিক পবিত্রতা, অভাব শূন্যতা, তাকওয়া, হেদায়াত এবং দুনিয়া ও আখিরাতের সুন্দর পরিণাম। আর আমরা পানাহ চাই সন্দেহ, ঝগড়া, মুনাফিকী, রিয়া ও তোমার দ্বীনের ব্যাপারে সুনামের ইচ্ছা থেকে।”
اللَّهُمَّ إِنَّا نَعُوذُبِكَ مِنْ عِلْمٍ لَّا يَنْفَعُ وَمِنْ قَلْبِ لَا يَخْشَعُ وَمِنْ نَّفْسِ لا تَشْبَعُ وَمِنْ دَعْوَةٍ لَا يُسْتَجَابُ لَهَا .
“হে আল্লাহ! আমরা তোমার কাছে পানাহ চাই ঐ ইলম থেকে যা উপকার দেয় না, ঐ দিল থেকে যে তোমাকে ভয় করে না, ঐ নফস থেকে যার তৃপ্তি হয় না এবং ঐ দোয়া থেকে যা কবুল হয় না।”
اللهُمَّ إِنَّا نَعُوذُبِكَ مِنْ جَهْدِ الْبَلَاءِ وَدَرْكِ الشَّقَاءِ وَسُوءِ الْقَضَاءِ وَشَمَائَةِ الْأَعْدَاء .
“হে আল্লাহ! আমরা তোমার কাছে পানাহ চাই আপদ-বিপদের পেরেশানী থেকে, দূর্ভাগ্যজনক অবস্থা থেকে, ক্ষতিকর ফয়সালা থেকে এবং দুশমনদের খুশী হওয়া থেকে।”
اَللهُمَّ إِنَّا نَعُوذُبِكَ مِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْغِنَى وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْفَقْرِ وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الصَّدْرِ وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْقِلَّةِ وَالدَّلَّةِ .
“হে আল্লাহ! আমরা তোমার কাছে পানাহ চাই সচ্ছলতা ও দারিদ্র্যের ফিতনার (পরীক্ষা) ক্ষতি থেকে, মনের ফিতনার ক্ষতি থেকে, হায়াত ও মৃত্যুর ফিতনা এবং অভাব ও লাঞ্ছনার ফিতনার ক্ষতি থেকে।”
📄 বিনয় কাতর আবেদন ও আবদার
رَبَّنَا آتِنَا مِن لَّدُنْكَ رَحْمَةً وَهَيِّئْ لَنَا مِنْ أَمْرِنَا رَشَدًا .
“হে আমাদের রব! তোমার পক্ষ থেকে আমাদেরকে খাস রহমত দান কর, আমাদের সব ব্যাপারেই সুব্যবস্থা করে দাও।” (সূরা কাহফ : আয়াত ১০
اللهُمَّ إِنَّا نَسْئَلُكَ مُوجِبَاتِ رَحْمَتِكَ وَعَزَائِمَ مَغْفِرَتِكَ وَالْغَنِيمَةَ مِنْ كُلِّ بِرِّ وَالسَّلَامَةَ مِنْ كُلِّ إِثْم .
“হে আল্লাহ! আমরা তোমার দরবারে আবদার জানাই যে, আমরা যেন তোমার রহমত পাওয়ার যোগ্য আমল করতে পারি। তোমার মাগফিরাত পাওয়ার মতো মজবুত ইচ্ছা শক্তি দাও, সকল নেক কাজ যেন সহজে করার তাওফীক পাই এবং সকল গুনাহ থেকে যেন নিরাপদে থাকি।”
اللهم لا تَدَعْ لَنَا ذَنْبًا إِلَّا غَفَرْتَهُ وَلَا هَمَّا إِلَّا فَرَّجْتَهُ وَلَا ديْنَا إِلَّا قَضَيْتَهُ وَلَا مَرِيضًا إِلَّا شَفَيْتَهُ وَلَا حَاجَةً مِّنْ حَوَائِجِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ هِيَ لَكَ رِضًا إِلَّا قَضَيْتَهَا يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ .
“হে আল্লাহ! হে আরহামার রাহিমীন, আমাদের কোনো গুনাহ মাফ করতে বাদ দিও না, কোনো দুশ্চিন্তা দূর করতে বাকি রেখ না। কোনো দেনা শোধ করতে বাদ দিও না, কোনো রোগীকে আরোেগ্যর বাকি রেখ না এবং দুনিয়ার ও আখিরাতের যেসব প্রয়োজন পূরণ করা তোমার পছন্দ এর কোনোটাই অপূরণ রেখ না।”
اَللهُمَّ زِدْنَا وَلَا تَنْقُصْنَا وَأَكْرِمْنَا وَلَا تُهِنَّا وَأَعْطِنَا وَلَا تُحْرِمْنَا وَأثِرْنَا وَلا تُؤْثِرُ عَلَيْنَا وَأَرْضِنَا وَارْضَ عَنَّا .
“হে আল্লাহ! আমাদের উপর তোমার দান বাড়িয়ে দাও, কমিয়ে দিও না। আমাদেরকে ইয্যত দাও, বেইয্যত কর না, আমাদেরকে দান কর, মাহরুম কর না; আমাদেরকে প্রাধান্য দাও, আমাদের উপর কাউকে প্রাধান্য দিও না; আমাদেরকে খুশী করে দাও এবং আমাদের উপর রাযী হয়ে যাও।”
اللهُمَّ اَرِنَا الْحَقَّ حَقًّا وَارْزُقْنَا اتَّبَاعَهُ وَآرِنَا الْبَاطِلَ بَاطِلاً ووَفِّقْنَا لِاجْتِنَا بِهِ .
“হে আল্লাহ! হক বা সত্যকে তুমি আমাদের নিকট সত্য হিসেবেই তুলে ধর এবং তা মেনে চলার তাওফীক দাও। আর বাতিল বা মিথ্যাকে মিথ্যা বলেই চিনিয়ে দাও এবং তা থেকে বেঁচে থাকার তাওফীক দাও।”
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قُلُوبَنَا عَلَى دِينِكَ يَا مُصَرِّفَ الْقُلُوبِ صَرِّف قُلُوبَنَا عَلَى طَاعَتِكَ - يَا مُنَوِّرَ الْقُلُوبِ نور قُلُوبَنَا بِنُورِ مَعْرِفَتِكَ .
“হে দিলের মালিক! আমাদের কালবকে তোমার দ্বীনের উপর মজবুত করে দাও। হে কালবের পরিচালক! আমাদের দিলকে তোমার অনুগত কর। হে অন্তরকে আলোকিতকারী! আমাদের দিলকে তোমরা পরিচয় দ্বারা আলোকিত কর।”
اللهُمَّ إِنَّا نَسْئَلُكَ إِيْمَانًا كَامِلاً وَيَقِينَا صَادِقًا وَلِسَانًا شَاكِرًا وَذَاكِرًا وَقَلْبًا خَاشِعًا وَسَلِيْمًا وَنَفْسًا مُّطْمَئِنَّةً وقَائِعَةً وَشَابِعَةً وَصِحَةً تَامَّةً وَخُلُقًا حَسَنًا .
. وَنَسْئَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَقَهُما صَحِيحًا وَذِهْنَا زَكِيًّا وَعَمَلاً مُتَقَبَّلاً وَسَعْبًا مَشْكُورًا وَتِجَارَةً لَّنْ تَبُورًا وَرِزْقًا طَيِّبًا وَاسِعًا . وَنَسْئَلُكَ حَيَوةٌ طَيِّبَةً وَتَوْبَةً نَصُوحًا نَوبَةٌ قَبْلَ الْمَوْتِ وراحَةً عِنْدَ الْمَوْتِ وَالسَّكِينَةً فِي الْقَبْرِ وَالسَّلَامَةَ فِي الْحَشْرِ وَالْفَوْزُ بِالْجَنَّةِ .
وَنَسْئَلُكَ ظِلَّ رَحْمَتِكَ وَشَفَاعَةَ نَبِيِّكَ وَرِضْوَانًا مِّنْ عِنْدِكَ .
“হে আল্লাহ! আমরা তোমার দরবারে আকুল আবেদন জানাই যে, আমাদরকে দান কর পূর্ণ ঈমান, সত্যিকার ইয়াকীন, শুকর ও যিকরে মশগুল জিহ্বা, ভীত ও নিরোগ কলব, প্রশান্ত, তৃপ্ত ও কামনামুক্ত নাফস, পরিপূর্ণ ও সুস্থ দেহ ও সুন্দর চরিত্র।
আরও দান কর উপকারী ইলম, বিশুদ্ধ বোধশক্তি, তীক্ষ্ণ চিন্তা শক্তি, কবুল হবার যোগ্য আমল, গ্রহণযোগ্য প্রচেষ্টা, ক্ষতিহীন ব্যবসা এবং পবিত্র ও প্রশস্ত রিযিক।
আরও দান কর পবিত্র জীবন, খালেস তাওবা, মৃত্যুর আগে তাওবার তাওফীক, শান্তিপূর্ণ মৃত্যু, নির্ভয় কবর, নিরাপদ হাশর এবং জান্নাত লাভের সাফল্য।
আরও আবদার করি তোমার রহমতের ছায়া, তোমার নবীর শাফায়াত ও তোমার সন্তুষ্টি।” (আল্লাহর দুয়ারে ধরণা: আ, প্র.)
📄 মৃতদের জন্য দোয়া
ربَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلاِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيْمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلا لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ .
“হে আমাদের বর! আমাদেরকে এবং আমাদের পূর্বে যারা ঈমান নিয়ে চলে গেছেন সে ভাইদেরকে ক্ষমা কর এবং ঈমানদারদের ব্যাপারে আমাদের দিলে কোনোরূপ অসন্তোষ ও কলুষতা সৃষ্টি হতে দিও না। হে আমাদের রব!, তুমি বড়ই স্নেহপরায়ণ ও মেহেরবান।” (সূরা আল হাশর: আয়াত-১০)
اللهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا وَصَغِيْرِنَا وَكَبِيرِنَا وَذَكَرِنَا وَأَنْثَانَا - اَللَّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الْإِسْلامَ وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الْإِيْمَانِ .
“হে আল্লাহ! তুমি তাদেরকে ক্ষমা কর যারা আমাদের মধ্যে জীবিত ও মৃত, উপস্থিত ও অনুপস্থিত, ছোট ও বড় এবং পুরুষ ও নারী। হে আল্লাহ আমাদের মধ্যে যাকে তুমি জীবিত রেখেছ তাকে দ্বীনের উপর কায়েম রাখ এবং যাকে মৃত্যু দিয়েছ তাকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দাও।”
📄 পিতা-মাতা ও সন্তানদের জন্য দোয়া
ربِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلوةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي وَ رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ
ربَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَى وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ .
“হে আমার রব! আমাকে ও আমার সন্তানদেরকে নামায কায়েম করার তাওফীক দাও এবং আমাদের দোয়া কবুল কর। হে আমাদের রব! বিচার দিবসে আমার, আমার পিতা-মাতার ও সকল মু'মিনের গুনাহ মাফ কর।”
(সূরা ইবরাহীম : ৪০)
رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا .
“হে আমার রব! আমার পিতা-মাতর উপর তেমনি রহম কর যেমন তারা ছোট সময় আমাকে লালন-পালন করেছেন।” (সূরা বনী ইসরাঈল: ২৪)
এখানে পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, নানা-নানী ইত্যাদি যারা স্নেহ-ভালোবাসা দিয়ে প্রতিপালন করেছেন তাদের জন্য আবেগ সহকারে নিজের ভাষায় দোয়া করা দরকার যাতে আল্লাহ পাক তাদের নেক আমল কবুল করেন। গুনাহ মাফ করেন ও কবর আযাব থেকে তাদেরকে হেফাযত করেন।
ربَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا للْمُتَّقِينَ إِمَامًا ، وَارْزُقْهُمْ حَيَاةٌ طَيِّبَةً وَصِحَةً نَامَةً وَعِلْمًا نَافِعًا وَعَمَلاً صَالِحًا وخُلْقًا حَسَنًا وَرِزْقًا طَيِّبًا واسعًا.
“হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী (বা স্বামী) ও সন্তানদেরকে এমন বানাও যাতে তাদের দেখে আমাদের চোখ জুড়ায় এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের মধ্যে অগ্রগামী হওয়ার তাওফীক দাও। (সূরা আল ফুরকান: ৭৪)
* তাদেরকে পৰিত্র জীবন, পূর্ণ স্বাস্থ্য, কল্যাণকর ইলম, নেক আমল, সুন্দর চরিত্র এবং পবিত্র ও প্রচুর রিযিক দাও।”
এখানে সন্তানদের প্রত্যেকের জন্য তার প্রয়োজন ও অবস্থা অনুযায়ী আলাদা আলাদাভাবে দোয়া করা দরকার। সবচেয়ে বড় কথা হলো, তাদেরকে যেন আমাদের মাগফিরাতের জন্য কেঁদে কেঁদে আল্লাহর দরবারে দোয়া করার যোগ্য রেখে যেতে পারে সে তাওফীকও কামনা করতে হবে।