📄 ইয়াতীমের ওপর দয়া
আবু দারদা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক লোক আল্লাহর রাসূল ﷺ এর কাছে এলে তার অন্তরের কাঠিন্য সম্পর্কে অভিযোগ করলো। তিনি ﷺ বললেন, তুমি কি তোমার অন্তরকে কোমল করতে চাও? তোমার (জান্নাতে প্রবেশের) কামনা পূরণ করতে চাও? তবে ইয়াতীমের ওপর দয়া কর, তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দাও এবং তোমার খাদ্য থেকে তাদেরকে খাওয়াও। ফলে তুমি তোমার অন্তরকে নরম করতে পারবে এবং তোমার কামনা পূরণ করতে পারবে।১২৮
টিকাঃ
১২৮. ইমাম তাবারানী কর্তৃক 'আল কাবীর' গ্রন্থে বর্ণিত। শায়খ আলবানীর একই রকম বর্ণনা থাকায় একে বিশুদ্ধ বলে মত দিয়েছেন দেখুন 'আস সাহীহা' গ্রন্থ।
আবু দারদা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক লোক আল্লাহর রাসূল ﷺ এর কাছে এলে তার অন্তরের কাঠিন্য সম্পর্কে অভিযোগ করলো। তিনি ﷺ বললেন, তুমি কি তোমার অন্তরকে কোমল করতে চাও? তোমার (জান্নাতে প্রবেশের) কামনা পূরণ করতে চাও? তবে ইয়াতীমের ওপর দয়া কর, তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দাও এবং তোমার খাদ্য থেকে তাদেরকে খাওয়াও। ফলে তুমি তোমার অন্তরকে নরম করতে পারবে এবং তোমার কামনা পূরণ করতে পারবে।১২৮
টিকাঃ
১২৮. ইমাম তাবারানী কর্তৃক 'আল কাবীর' গ্রন্থে বর্ণিত। শায়খ আলবানীর একই রকম বর্ণনা থাকায় একে বিশুদ্ধ বলে মত দিয়েছেন দেখুন 'আস সাহীহা' গ্রন্থ।
📄 হাসি কমানো
আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "অত্যাধিক হেসো না। কেননা অত্যাধিক হাসি অন্তরকে মেরে ফেলে।"১২৯
টিকাঃ
১২৯. ইবনে মাজাহ এবং অন্যান্য কর্তৃক বর্ণিত। এটি সহীহ হাদীস যা আস সাহীহা গ্রন্থে আলবানী উল্লেখ করেছেন।
আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "অত্যাধিক হেসো না। কেননা অত্যাধিক হাসি অন্তরকে মেরে ফেলে।"১২৯
টিকাঃ
১২৯. ইবনে মাজাহ এবং অন্যান্য কর্তৃক বর্ণিত। এটি সহীহ হাদীস যা আস সাহীহা গ্রন্থে আলবানী উল্লেখ করেছেন।
📄 এ ভয় করা যে আমার আমল নাও কবুল হতে পারে
আয়েশা (রা) বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ কে নিম্নোক্ত আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম-
وَجِلَةٌ أَنَّهُمْ إِلَى رَبِّهِمْ رَاجِعُونَ
আর যারা যা দান করবার তা ভীত, কম্পিত হৃদয়ে দান করে।১৩০
“এরা (দানকারীরা) কি সেই লোক যারা অবৈধ যৌন সম্পর্ক রাখে, চুরি করে এবং এ্যালকোহল বা মাদক গ্রহণ করে?” আল্লাহর রাসূল ﷺ উত্তরে বললেন, “না হে আবু বকরের কন্যা (অথবা হে আস সিদ্দীকের কন্যা), তারা হলো সেই লোক যারা রোযা রাখে, দান-সদকা করে এবং নামায আদায় করে এ ভয়ে যে তাদের আমল কবুল নাও হতে পারে।১৩১
যন্ত্রণার আক্রমণের ভীতি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সামনে দণ্ডায়মান হবার ভয় যেখানে আমি জানি না আমি কি জাহান্নামে যাব নাকি জান্নাতে।" হযরত সুফিয়ান সাওরী (রা) হতে বর্ণিত, যে আবু যর গিফারী (রা) কা'ব (রা)-এর সাথে ছিলেন তখন তিনি বলেন, “হে মানুষ! আমি জুনদুব আল গিফারী, দ্রুত এ সহকর্মী ভ্রাতার নিকট আস তিনি তোমাদের গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দিবেন।” লোকেরা তার চারপাশে একত্রিত হলো এবং তিনি বললেন, তোমরা কি জান না যে, যদি কেউ সফরে যাওয়ার নিয়ত করে তবে সে সাথে করে কিছু সহায় সম্বল নেয়ার চেষ্টা করে যাতে সফর সহজ ও আরামদায়ক হয় ও তার গন্তব্যে পৌঁছাতে কার্যকরী হয়? তারা উত্তর করল, অবশ্যই (আমরা জানি)! এরপর তিনি বললেন, পুনরুত্থান দিবসের সফর তোমাদের নিয়তের (যে কোন সফরের) চেয়ে দীর্ঘ সফর।
আল্লাহর ভয়ে কাঁদা এবং পরকালের দুঃখ-কষ্ট ও স্মরণ সংক্রান্ত কিছু ঘটনা ও বর্ণনা১৩২ জাফর ইবনে বুরকান হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জেনেছি যে, সালমান ফারসী (রা) প্রায়ই বলতেন, তিনটি জিনিস আমাকে কাঁদায় এবং তিনটি জিনিস আমাকে হাসায়। আমি সেই লোককে দেখে হাসি যে দুনিয়ার জীবনের প্রতি আশাবাদী যদিও মৃত্যু তাকে পিছু ডাকছে। এরপর সে লোককে দেখে হাসি যে (তার প্রভুর প্রতি) অকৃতজ্ঞ যদিও সে (তার প্রভু কর্তৃক) অবহেলিত নয়। এরপর সে লোককে দেখে (হাসি আসে) যে ব্যক্তি উচ্চস্বরে হাসাহাসি করে অথচ সে জানে না সে কি তার প্রভুকে (তার কর্মকাণ্ড দ্বারা) সন্তুষ্ট করছে নাকি অসন্তুষ্ট করছে। যে তিনটি বিষয়ে আমাকে কাঁদায় তা হলো : এক. আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ ﷺ ও তাঁর সাহাবায়ে আজমায়ীনের সঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া। দুই. হঠাৎ মৃত্যু যন্ত্রণায় আক্রমণের ভীতি। তিন. আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সামনে দণ্ডায়মান হবার ভয় যেখানে আমি জানি না আমি কি জাহান্নামে যাব নাকি জান্নাতে।
সুফিয়ান সাওরী (রা) হতে বর্ণিত যে, আবু যর গিফারী (রা) কা'ব (রা)-এর সাথে ছিলেন তখন তিনি বলেন। “হে মানুষ! আমি জুনদুব আল গিফারী, দ্রুত এ সহমর্মী ভ্রাতার নিকট আস তিনি তোমাদের গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দিবেন। লোকেরা তার চর্তুপাশে জামায়েত হলো এবং তিনি বললেন, তোমরা কি জান না যে যদি কেউ সফরে যাওয়ার নিয়ত করে তবে সে সাথে করে কিছু সহায় সম্বল নেয়ার চেষ্টা করে যাতে সফর সহজ ও আরামদায়ক হয় ও তার গন্তব্যে পৌঁছাতে কার্যকরী হয়? তারা উত্তর করল। অবশ্যই (আমরা জানি)! এরপর তিনি বললেন, পুনরুত্থান দিবসের সফর তোমাদের নিয়তের (যে কোন সফরের) চেয়ে দীর্ঘ সফর। তাই (সহায় সম্বল) গ্রহণ কর যা তোমার এ দীর্ঘ সফরকে তোমার জন্য সহজ ও আরামদায়ক করবে। তারা বলল, “সে জিনিস কী যা আমাদের সফরকে সহজ ও আরামদায়ক করবে?” তিনি উত্তরে বললেন, যে ভয়ানক বিষয় (কেয়ামত) আসছে তার জন্য হজ্জ আদায় কর। কেয়ামতের দিনের দীর্ঘতা চিন্তা করে প্রচণ্ড গরমের দিনেও রোযা রাখ। কবরে শান্ত ও নিরব অবস্থার চেয়ে আল্লাহর কাছে রাতের আধারে দু'রাকাত নামায পড়। মহান বিচার দিবসে (দীর্ঘ সময়) দাঁড়িয়ে থাকার কথা চিন্তা করে একটি ভালো কথা বল নতুবা বাজে কথা বলা থেকে বিরত থাক। আর তোমাদের সম্পদ থেকে এ নিয়তে দান কর যে, এ জাতীয় অন্যান্য (দুর্যোগ ও দুর্ভোগ) থেকে রক্ষা পাবে।
পৃথিবীতে দু'ধরনের কাজে ব্যস্ত থেকো। এক. পরকালীন মুক্তির অনুসন্ধানে দুই. হালাল রুজি অনুসন্ধানে। তৃতীয় কোনো ব্যস্ততা তোমাকে কষ্ট দিবে বৈ উপকারে আসবে না। তাই এটা কামনা কর না।"
তোমার সম্পদ দুই দিরহামের (অর্থাৎ সীমিত সম্পদের) মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখ। যার এক দিরহাম (অর্থাৎ অর্ধাংশ) তোমার পরিবারের জন্য ব্যয় কর আর এক দিরহাম পরকালীন জীবনের (ব্যয় করে) সঞ্চয় কর। তৃতীয় ধরনের কোনো দিরহাম তোমাকে কষ্ট দিবে বৈ উপকারে আসবে না; তাই তা কামনা কর না।
সালান ইবনে আবী মৃতী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একটি পানির পাত্র হাসান (রা)-এর সামনে আনা হলো তার রোযা ভাঙ্গাতে। কিন্তু যখন তিনি এটি তার মুখের কাছে নিলেন তখন কাঁদতে শুরু করলেন এবং বললেন, আমার স্মরণে আসছে জাহান্নামীদের আকুতি, তারা বলবে, আমাদের উপর কিছু পানি ঢাল।১৩৩
এবং এরপর তাদের প্রতি যে উত্তর দেয়া হবে তাও আমার স্মরণ হচ্ছে।
“নিশ্চয়ই আল্লাহ উভয় বস্তু (জান্নাতের পানি ও আহার) অবিশ্বাসীদের জন্য নিষিদ্ধ করেছেন।১৩৪
আল হাসান বলেন, নিশ্চিতভাবেই তোমার সময় অপর্যাপ্ত তোমার কাজ-কর্ম পরীক্ষিত, মৃত্যু তোমাকে খুঁজে ফিরছে এবং জাহান্নাম তোমার সম্মুখে। আর আল্লাহর কসম যা কিছুই তুমি দেখ (এ পৃথিবীতে) তাই (একদিন) চলে যাচ্ছে। তাই প্রত্যেক দিন রাতে আল্লাহর সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা কর আর লোকদেরকে নিজেদের কর্ম খতিয়ে দেখতে বল যে তারা সামনের দিনের (পরকালের) জন্য রাখছে।
তিনি আরো বলেন, হে আদম সন্তান! তুমি তো কতগুলো দিনের সমষ্টি মাত্র। যখনই একটি দিন চলে যায় তোমার একটি অংশ যেন চলে যায়।”
তিনি আরো বলেন, এটা (এ উপদেশ) তার জন্যই মানানসই যে মনে করে মৃত্যু তার যাত্রাপথে দাঁড়িয়ে; সময় তার নির্দিষ্টক্ষণের অপেক্ষায় এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সমাবেশ স্থলে (কিয়ামতের মাঠে) দণ্ডায়মান হওয়া অবধারিত। আর এ ভাবনাগুলো যার মনে দীর্ঘ রেখাপাত করে (তার জন্য এ উপদেশ)।
সাবিত আল বানানী বলেন, আমরা একটি লাশ দাফন করতে যাচ্ছিলাম আর তখন শুধু দেখলাম যে লোকেরা মুখ ঢেকে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে। অথবা মুখ ঢেকে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করছে।
আ'মাশ বলেন, আমরা একটি দাফন-যাত্রা দেখছিলাম কিন্তু মানুষের কান্না দেখে বুঝতে পারছিলাম না যে কে আসলে আমাদের সহমর্মীতা প্রত্যাশা করছে। (অর্থাৎ, এ কান্না এত তীব্র ও বিস্তৃত ছিল যে তারা বুঝতে পারেনি কারা মৃতের নিকটাত্মীয়)
সুফিয়ান ইবনে উআইনাহ বলেন যে; ইবরাহীম আত তাইমী বলেন, আমি নিজেকে জাহান্নামের আগুনের মধ্যে লোহার শিকলে বাধা কল্পনা করতাম যেখানে লেলিহান শিখা দাউ দাউ করে জ্বলছে আর এর অধিবাসীরা যাক্কুম১৩৫ নামক বৃক্ষে ফল খাচ্ছে (বাধ্য হয়ে) এবং জামহারীর (একটি তিক্ত ঠাণ্ডা পানীয়) থেকে পান করছে। তাই আমি বললাম, “হে আমার আত্মা! তুমি আর কী চাও? উত্তর আসে, “পৃথিবীতে ফিরে যেতে চাই পুণ্য কাজ করার জন্য যদ্বারা আমি জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা পাব।”
আবার আমি নিজেকে জান্নাতের হুরদের১৩৬ সাথে (জান্নাতের) স্বর্ণালী কারুকাজের রেশমী পোশাক পরা অবস্থায় কল্পনা করলাম। আমি বললাম, হে আমার আত্মা! তুমি আর কী চাও? উত্তর আসল, পৃথিবীতে ফিরে যেতে চাই পুণ্য কাজ করার জন্য যদ্বারা এ নেয়ামত আরো বৃদ্ধি পাবে।”
অতঃপর নিজেকে বললাম, “তুমি এখন পৃথিবীতেই আছ আর তোমার ইচ্ছাগুলোও (তোমাকে ঘিরে) আছে।”
বুকায়ের অথবা আবু বুকায়ের হতে বর্ণিত, তিনি বলেন ইবরাহীম আততীহমী বলেন, “যে ব্যক্তি দুঃখ-কষ্ট ভোগ করেনি সে যেন জাহান্নামের অধিবাসী হওয়া থেকে ভয় করে। কারণ জান্নাতবাসীগণ বলবেন, 'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের দুঃখ-কষ্ট দূর করে দিয়েছেন।১৩৭
যারা (আল্লাহর শাস্তির) ভয় করে না তাদের জন্য এটা অত্যাবশ্যক যে জান্নাতের অধিবাসী হওয়া থেকে সতর্ক থাকে। কারণ তারা বলবে, ইতিপূর্বে আমরা আমাদের বাসগৃহে (আল্লাহর শাস্তির ভয়ে) ভীত ও কম্পিত ছিলাম।”১৩৮
যাকারিয়া আল আব্দী ইবরাহীম আন নাখয়ী সম্পর্কে বলেন যে, তিনি তার অসুস্থতার সময়ে কাঁদতেন, আর লোকেরা তাকে জিজ্ঞেস করতেন, হে ইমরানের পিতা! আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি উত্তরে বলতেন, কেন আমি কাঁদবো না যখন আমি আমার প্রভুর পক্ষ থেকে একজন বার্তাবাহকের (ফেরেশতার) অপেক্ষায় আছি যে আমাকে জানাবে হয় এটা না হয় ওটা (অর্থাৎ, হয় জান্নাত না হয় জাহান্নাম)।
হিশাম ইবনে হাসান বলেন, যখন মুহাম্মদ ইবনে ওয়াসিকে বলা হলো, হে আবু আবদুল্লাহ! আপনি কোন অবস্থায় জেগে উঠেন? তিনি উত্তরে বললেন, একজন মানুষের একটি চিন্তাই থাকতে পারে যে, সে প্রতিদিনই পরকালের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে।
টিকাঃ
১৩০. সূরা আল মু'মীনূন (২৩) : ৬০
১৩১. ইমাম তিরমিযী, ইবনে মাজাহ এবং অন্যান্য কর্তৃক বর্ণিত। এটি একটি হাসান হাদীস যা শায়েখ আলবানী আস সাহীহা গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
১৩২. এসব বর্ণনা 'হিলায়াতুল আবীলিয়্যাহ' গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে। আমি (মূল লেখক) বাদ আস শাহিদীন গ্রন্থ থেকেও উপকৃত হয়েছি যেটি এর মূলকথা।
১৩৩. সূরা আল আরাফ (৭) : আয়াত-৫০।
১৩৪. সূরা আল আরাফ (৭) : আয়াত-৫০।
১৩৫. অনুবাদকের নোট: জাহান্নামের মাত্রাতিরিক্ত তিক্ত একটি ফল।
১৩৬. অপরূপ সুন্দর ডাগর চোখ বিশিষ্ট জান্নাতের (পুরুষের) নারী সঙ্গী যাদেরকে কোন পুরুষ বা জ্বিন স্পর্শ করেনি।
১৩৭. সূরা আল ফাতির (৩৫): ৩৪
১৩৮. সূরা আত তূর (৫২): ২৬
আয়েশা (রা) বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ কে নিম্নোক্ত আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম-
وَجِلَةٌ أَنَّهُمْ إِلَى رَبِّهِمْ رَاجِعُونَ
আর যারা যা দান করবার তা ভীত, কম্পিত হৃদয়ে দান করে।১৩০
“এরা (দানকারীরা) কি সেই লোক যারা অবৈধ যৌন সম্পর্ক রাখে, চুরি করে এবং এ্যালকোহল বা মাদক গ্রহণ করে?” আল্লাহর রাসূল ﷺ উত্তরে বললেন, “না হে আবু বকরের কন্যা (অথবা হে আস সিদ্দীকের কন্যা), তারা হলো সেই লোক যারা রোযা রাখে, দান-সদকা করে এবং নামায আদায় করে এ ভয়ে যে তাদের আমল কবুল নাও হতে পারে।১৩১
যন্ত্রণার আক্রমণের ভীতি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সামনে দণ্ডায়মান হবার ভয় যেখানে আমি জানি না আমি কি জাহান্নামে যাব নাকি জান্নাতে।" হযরত সুফিয়ান সাওরী (রা) হতে বর্ণিত, যে আবু যর গিফারী (রা) কা'ব (রা)-এর সাথে ছিলেন তখন তিনি বলেন, “হে মানুষ! আমি জুনদুব আল গিফারী, দ্রুত এ সহকর্মী ভ্রাতার নিকট আস তিনি তোমাদের গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দিবেন।” লোকেরা তার চারপাশে একত্রিত হলো এবং তিনি বললেন, তোমরা কি জান না যে, যদি কেউ সফরে যাওয়ার নিয়ত করে তবে সে সাথে করে কিছু সহায় সম্বল নেয়ার চেষ্টা করে যাতে সফর সহজ ও আরামদায়ক হয় ও তার গন্তব্যে পৌঁছাতে কার্যকরী হয়? তারা উত্তর করল, অবশ্যই (আমরা জানি)! এরপর তিনি বললেন, পুনরুত্থান দিবসের সফর তোমাদের নিয়তের (যে কোন সফরের) চেয়ে দীর্ঘ সফর।
আল্লাহর ভয়ে কাঁদা এবং পরকালের দুঃখ-কষ্ট ও স্মরণ সংক্রান্ত কিছু ঘটনা ও বর্ণনা১৩২ জাফর ইবনে বুরকান হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জেনেছি যে, সালমান ফারসী (রা) প্রায়ই বলতেন, তিনটি জিনিস আমাকে কাঁদায় এবং তিনটি জিনিস আমাকে হাসায়। আমি সেই লোককে দেখে হাসি যে দুনিয়ার জীবনের প্রতি আশাবাদী যদিও মৃত্যু তাকে পিছু ডাকছে। এরপর সে লোককে দেখে হাসি যে (তার প্রভুর প্রতি) অকৃতজ্ঞ যদিও সে (তার প্রভু কর্তৃক) অবহেলিত নয়। এরপর সে লোককে দেখে (হাসি আসে) যে ব্যক্তি উচ্চস্বরে হাসাহাসি করে অথচ সে জানে না সে কি তার প্রভুকে (তার কর্মকাণ্ড দ্বারা) সন্তুষ্ট করছে নাকি অসন্তুষ্ট করছে। যে তিনটি বিষয়ে আমাকে কাঁদায় তা হলো : এক. আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ ﷺ ও তাঁর সাহাবায়ে আজমায়ীনের সঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া। দুই. হঠাৎ মৃত্যু যন্ত্রণায় আক্রমণের ভীতি। তিন. আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সামনে দণ্ডায়মান হবার ভয় যেখানে আমি জানি না আমি কি জাহান্নামে যাব নাকি জান্নাতে।
সুফিয়ান সাওরী (রা) হতে বর্ণিত যে, আবু যর গিফারী (রা) কা'ব (রা)-এর সাথে ছিলেন তখন তিনি বলেন। “হে মানুষ! আমি জুনদুব আল গিফারী, দ্রুত এ সহমর্মী ভ্রাতার নিকট আস তিনি তোমাদের গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দিবেন। লোকেরা তার চর্তুপাশে জামায়েত হলো এবং তিনি বললেন, তোমরা কি জান না যে যদি কেউ সফরে যাওয়ার নিয়ত করে তবে সে সাথে করে কিছু সহায় সম্বল নেয়ার চেষ্টা করে যাতে সফর সহজ ও আরামদায়ক হয় ও তার গন্তব্যে পৌঁছাতে কার্যকরী হয়? তারা উত্তর করল। অবশ্যই (আমরা জানি)! এরপর তিনি বললেন, পুনরুত্থান দিবসের সফর তোমাদের নিয়তের (যে কোন সফরের) চেয়ে দীর্ঘ সফর। তাই (সহায় সম্বল) গ্রহণ কর যা তোমার এ দীর্ঘ সফরকে তোমার জন্য সহজ ও আরামদায়ক করবে। তারা বলল, “সে জিনিস কী যা আমাদের সফরকে সহজ ও আরামদায়ক করবে?” তিনি উত্তরে বললেন, যে ভয়ানক বিষয় (কেয়ামত) আসছে তার জন্য হজ্জ আদায় কর। কেয়ামতের দিনের দীর্ঘতা চিন্তা করে প্রচণ্ড গরমের দিনেও রোযা রাখ। কবরে শান্ত ও নিরব অবস্থার চেয়ে আল্লাহর কাছে রাতের আধারে দু'রাকাত নামায পড়। মহান বিচার দিবসে (দীর্ঘ সময়) দাঁড়িয়ে থাকার কথা চিন্তা করে একটি ভালো কথা বল নতুবা বাজে কথা বলা থেকে বিরত থাক। আর তোমাদের সম্পদ থেকে এ নিয়তে দান কর যে, এ জাতীয় অন্যান্য (দুর্যোগ ও দুর্ভোগ) থেকে রক্ষা পাবে।
পৃথিবীতে দু'ধরনের কাজে ব্যস্ত থেকো। এক. পরকালীন মুক্তির অনুসন্ধানে দুই. হালাল রুজি অনুসন্ধানে। তৃতীয় কোনো ব্যস্ততা তোমাকে কষ্ট দিবে বৈ উপকারে আসবে না। তাই এটা কামনা কর না।"
তোমার সম্পদ দুই দিরহামের (অর্থাৎ সীমিত সম্পদের) মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখ। যার এক দিরহাম (অর্থাৎ অর্ধাংশ) তোমার পরিবারের জন্য ব্যয় কর আর এক দিরহাম পরকালীন জীবনের (ব্যয় করে) সঞ্চয় কর। তৃতীয় ধরনের কোনো দিরহাম তোমাকে কষ্ট দিবে বৈ উপকারে আসবে না; তাই তা কামনা কর না।
সালান ইবনে আবী মৃতী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একটি পানির পাত্র হাসান (রা)-এর সামনে আনা হলো তার রোযা ভাঙ্গাতে। কিন্তু যখন তিনি এটি তার মুখের কাছে নিলেন তখন কাঁদতে শুরু করলেন এবং বললেন, আমার স্মরণে আসছে জাহান্নামীদের আকুতি, তারা বলবে, আমাদের উপর কিছু পানি ঢাল।১৩৩
এবং এরপর তাদের প্রতি যে উত্তর দেয়া হবে তাও আমার স্মরণ হচ্ছে।
“নিশ্চয়ই আল্লাহ উভয় বস্তু (জান্নাতের পানি ও আহার) অবিশ্বাসীদের জন্য নিষিদ্ধ করেছেন।১৩৪
আল হাসান বলেন, নিশ্চিতভাবেই তোমার সময় অপর্যাপ্ত তোমার কাজ-কর্ম পরীক্ষিত, মৃত্যু তোমাকে খুঁজে ফিরছে এবং জাহান্নাম তোমার সম্মুখে। আর আল্লাহর কসম যা কিছুই তুমি দেখ (এ পৃথিবীতে) তাই (একদিন) চলে যাচ্ছে। তাই প্রত্যেক দিন রাতে আল্লাহর সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা কর আর লোকদেরকে নিজেদের কর্ম খতিয়ে দেখতে বল যে তারা সামনের দিনের (পরকালের) জন্য রাখছে।
তিনি আরো বলেন, হে আদম সন্তান! তুমি তো কতগুলো দিনের সমষ্টি মাত্র। যখনই একটি দিন চলে যায় তোমার একটি অংশ যেন চলে যায়।”
তিনি আরো বলেন, এটা (এ উপদেশ) তার জন্যই মানানসই যে মনে করে মৃত্যু তার যাত্রাপথে দাঁড়িয়ে; সময় তার নির্দিষ্টক্ষণের অপেক্ষায় এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সমাবেশ স্থলে (কিয়ামতের মাঠে) দণ্ডায়মান হওয়া অবধারিত। আর এ ভাবনাগুলো যার মনে দীর্ঘ রেখাপাত করে (তার জন্য এ উপদেশ)।
সাবিত আল বানানী বলেন, আমরা একটি লাশ দাফন করতে যাচ্ছিলাম আর তখন শুধু দেখলাম যে লোকেরা মুখ ঢেকে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে। অথবা মুখ ঢেকে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করছে।
আ'মাশ বলেন, আমরা একটি দাফন-যাত্রা দেখছিলাম কিন্তু মানুষের কান্না দেখে বুঝতে পারছিলাম না যে কে আসলে আমাদের সহমর্মীতা প্রত্যাশা করছে। (অর্থাৎ, এ কান্না এত তীব্র ও বিস্তৃত ছিল যে তারা বুঝতে পারেনি কারা মৃতের নিকটাত্মীয়)
সুফিয়ান ইবনে উআইনাহ বলেন যে; ইবরাহীম আত তাইমী বলেন, আমি নিজেকে জাহান্নামের আগুনের মধ্যে লোহার শিকলে বাধা কল্পনা করতাম যেখানে লেলিহান শিখা দাউ দাউ করে জ্বলছে আর এর অধিবাসীরা যাক্কুম১৩৫ নামক বৃক্ষে ফল খাচ্ছে (বাধ্য হয়ে) এবং জামহারীর (একটি তিক্ত ঠাণ্ডা পানীয়) থেকে পান করছে। তাই আমি বললাম, “হে আমার আত্মা! তুমি আর কী চাও? উত্তর আসে, “পৃথিবীতে ফিরে যেতে চাই পুণ্য কাজ করার জন্য যদ্বারা আমি জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা পাব।”
আবার আমি নিজেকে জান্নাতের হুরদের১৩৬ সাথে (জান্নাতের) স্বর্ণালী কারুকাজের রেশমী পোশাক পরা অবস্থায় কল্পনা করলাম। আমি বললাম, হে আমার আত্মা! তুমি আর কী চাও? উত্তর আসল, পৃথিবীতে ফিরে যেতে চাই পুণ্য কাজ করার জন্য যদ্বারা এ নেয়ামত আরো বৃদ্ধি পাবে।”
অতঃপর নিজেকে বললাম, “তুমি এখন পৃথিবীতেই আছ আর তোমার ইচ্ছাগুলোও (তোমাকে ঘিরে) আছে।”
বুকায়ের অথবা আবু বুকায়ের হতে বর্ণিত, তিনি বলেন ইবরাহীম আততীহমী বলেন, “যে ব্যক্তি দুঃখ-কষ্ট ভোগ করেনি সে যেন জাহান্নামের অধিবাসী হওয়া থেকে ভয় করে। কারণ জান্নাতবাসীগণ বলবেন, 'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের দুঃখ-কষ্ট দূর করে দিয়েছেন।১৩৭
যারা (আল্লাহর শাস্তির) ভয় করে না তাদের জন্য এটা অত্যাবশ্যক যে জান্নাতের অধিবাসী হওয়া থেকে সতর্ক থাকে। কারণ তারা বলবে, ইতিপূর্বে আমরা আমাদের বাসগৃহে (আল্লাহর শাস্তির ভয়ে) ভীত ও কম্পিত ছিলাম।”১৩৮
যাকারিয়া আল আব্দী ইবরাহীম আন নাখয়ী সম্পর্কে বলেন যে, তিনি তার অসুস্থতার সময়ে কাঁদতেন, আর লোকেরা তাকে জিজ্ঞেস করতেন, হে ইমরানের পিতা! আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি উত্তরে বলতেন, কেন আমি কাঁদবো না যখন আমি আমার প্রভুর পক্ষ থেকে একজন বার্তাবাহকের (ফেরেশতার) অপেক্ষায় আছি যে আমাকে জানাবে হয় এটা না হয় ওটা (অর্থাৎ, হয় জান্নাত না হয় জাহান্নাম)।
হিশাম ইবনে হাসান বলেন, যখন মুহাম্মদ ইবনে ওয়াসিকে বলা হলো, হে আবু আবদুল্লাহ! আপনি কোন অবস্থায় জেগে উঠেন? তিনি উত্তরে বললেন, একজন মানুষের একটি চিন্তাই থাকতে পারে যে, সে প্রতিদিনই পরকালের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে।
টিকাঃ
১৩০. সূরা আল মু'মীনূন (২৩) : ৬০
১৩১. ইমাম তিরমিযী, ইবনে মাজাহ এবং অন্যান্য কর্তৃক বর্ণিত। এটি একটি হাসান হাদীস যা শায়েখ আলবানী আস সাহীহা গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
১৩২. এসব বর্ণনা 'হিলায়াতুল আবীলিয়্যাহ' গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে। আমি (মূল লেখক) বাদ আস শাহিদীন গ্রন্থ থেকেও উপকৃত হয়েছি যেটি এর মূলকথা।
১৩৩. সূরা আল আরাফ (৭) : আয়াত-৫০।
১৩৪. সূরা আল আরাফ (৭) : আয়াত-৫০।
১৩৫. অনুবাদকের নোট: জাহান্নামের মাত্রাতিরিক্ত তিক্ত একটি ফল।
১৩৬. অপরূপ সুন্দর ডাগর চোখ বিশিষ্ট জান্নাতের (পুরুষের) নারী সঙ্গী যাদেরকে কোন পুরুষ বা জ্বিন স্পর্শ করেনি।
১৩৭. সূরা আল ফাতির (৩৫): ৩৪
১৩৮. সূরা আত তূর (৫২): ২৬
📄 আল্লাহর ভয়ে কাঁদার সুফল
যারা আল্লাহর ভয়ে কাঁদে তাদের জন্য এতে অনেক সুফল রয়েছে। আল্লাহর ভয়ে অশ্রুসিক্ত করে ব্যক্তি অনেকভাবে লাভবান হতে পারে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হলো ....।
১. আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কিয়ামতের দিন তাদেরকে তাঁর ছায়ায় আশ্রয় দিবেন যেদিন তাঁর ছায়া ব্যাতিত অন্য কোনো ছায়া থাকবে না।
২. তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে না এমনকি জাহান্নামের আগুন তাদেরকে স্পর্শও করবে না।
৩. তারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার ভালোবাসা অর্জনে সফল হবে। যেমনটি নবী করীম ﷺ বলেন, "আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে দুটি ফোঁটা এবং দুটি চিহ্ন ছাড়া আর প্রিয় কিছু নেই .... এক ফোঁটা অশ্রু যা আল্লাহর ভয়ে গড়িয়ে পরে।”
৪. পরকালীন জীবনে তুবা বৃক্ষের (১৭ নং টীকা দেখুন) সুসংবাদ এবং সকল আরাম-আয়েশ ও সুখ-শান্তির জান্নাত লাভ।
অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে সেদিনের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন এবং তাদেরকে দিবেন সজীবতা ও আনন্দ। আর তাদের সবরের প্রতিদানে তাদেরকে দিবেন জান্নাত ও রেশমী পোশাক।১৩৯
৫. পৃথিবীতে মর্যাদা এবং ঈমানের সুমিষ্ট স্বাদ।
৬. ঈমান ও হেদায়াত সুনিশ্চিত করণ।
৭. স্থিরতা ও আত্মার প্রশান্তি।
৮. আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাদেরকে সঠিক পথ দেখাবেন এবং এমন দিক থেকে জীবনোপকরণ প্রদান করবেন যা তারা কল্পনাও করতে পারবে না।
“আর যে ব্যক্তিই আল্লাহকে ভয় করে চলবে আল্লাহ তার জন্য কঠিন অবস্থা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় সৃষ্টি করে দেবেন এবং এমন পন্থায় তাকে রিযিক দান করবেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না।১৪০
৯. আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাদের কাজকর্ম তাদের জন্য সহজ করে দিবেন, যারাই তাকওয়া (আল্লাহকে ভয় করা এবং তাঁর প্রতি কৃত অঙ্গীকার রক্ষা করা) অবলম্বন করবে। তিনি (আল্লাহ) তার কাজ সহজসাধ্য করে দেবেন।১৪১
১০. তারা নবী ﷺ এর সাহচর্য পেতে সফল হবে। কেননা আল্লাহর ভয়ে কাঁদা নবী ﷺ এর পথনির্দেশ থেকেই এসে থাকে।
১১. তারা সাহাবায়ে কেরাম (রা)-এর এবং আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের অনুসরণে সফল হবে। কেননা আল্লাহর ভয়ে অশ্রু বিসর্জন তাদের পথ নির্দেশ থেকেও এসেছে।
১২. জান্নাতে তারা পৃথিবীতে আল্লাহর ভয়ে কাঁদার কথা স্মরণ করে আনন্দিত হবে। যেমন আল্লাহ বলেন, তারা একে অপরকে (পৃথিবীতে অতিবাহিত) অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে। তারা বলবে আমরা প্রথমে নিজেদের পরিবারের লোকদের ভয়ে ভয়ে জীবন যাপন করতাম। পরিশেষে আল্লাহ আমাদের ওপর মেহেরবানী করেছেন এবং দগ্ধকারী আযাব থেকে আমাদের রক্ষা করেছেন। নিশ্চয়ই অতীত জীবনে আমরা তাঁর কাছেই দোয়া করতাম, সত্যিই তিনি বড় উপকারী ও দয়াবান।১৪২
টিকাঃ
১৩৯. সূরা আল ইনসান (একে আদ দাহর ও বলা হয়) ৭৬ : ১১০১২
১৪০. সূরা আত তালাক ৬৫: আয়াত-২-৩
১৪১. সূরা আত তালাক ৬৫ : আয়াত-৪
১৪২. সূরা আত তূর (৫২): ২৬-২৮
যারা আল্লাহর ভয়ে কাঁদে তাদের জন্য এতে অনেক সুফল রয়েছে। আল্লাহর ভয়ে অশ্রুসিক্ত করে ব্যক্তি অনেকভাবে লাভবান হতে পারে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হলো ....।
১. আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কিয়ামতের দিন তাদেরকে তাঁর ছায়ায় আশ্রয় দিবেন যেদিন তাঁর ছায়া ব্যাতিত অন্য কোনো ছায়া থাকবে না।
২. তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে না এমনকি জাহান্নামের আগুন তাদেরকে স্পর্শও করবে না।
৩. তারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার ভালোবাসা অর্জনে সফল হবে। যেমনটি নবী করীম ﷺ বলেন, "আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে দুটি ফোঁটা এবং দুটি চিহ্ন ছাড়া আর প্রিয় কিছু নেই .... এক ফোঁটা অশ্রু যা আল্লাহর ভয়ে গড়িয়ে পরে।”
৪. পরকালীন জীবনে তুবা বৃক্ষের (১৭ নং টীকা দেখুন) সুসংবাদ এবং সকল আরাম-আয়েশ ও সুখ-শান্তির জান্নাত লাভ।
অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে সেদিনের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন এবং তাদেরকে দিবেন সজীবতা ও আনন্দ। আর তাদের সবরের প্রতিদানে তাদেরকে দিবেন জান্নাত ও রেশমী পোশাক।১৩৯
৫. পৃথিবীতে মর্যাদা এবং ঈমানের সুমিষ্ট স্বাদ।
৬. ঈমান ও হেদায়াত সুনিশ্চিত করণ।
৭. স্থিরতা ও আত্মার প্রশান্তি।
৮. আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাদেরকে সঠিক পথ দেখাবেন এবং এমন দিক থেকে জীবনোপকরণ প্রদান করবেন যা তারা কল্পনাও করতে পারবে না।
“আর যে ব্যক্তিই আল্লাহকে ভয় করে চলবে আল্লাহ তার জন্য কঠিন অবস্থা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় সৃষ্টি করে দেবেন এবং এমন পন্থায় তাকে রিযিক দান করবেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না।১৪০
৯. আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাদের কাজকর্ম তাদের জন্য সহজ করে দিবেন, যারাই তাকওয়া (আল্লাহকে ভয় করা এবং তাঁর প্রতি কৃত অঙ্গীকার রক্ষা করা) অবলম্বন করবে। তিনি (আল্লাহ) তার কাজ সহজসাধ্য করে দেবেন।১৪১
১০. তারা নবী ﷺ এর সাহচর্য পেতে সফল হবে। কেননা আল্লাহর ভয়ে কাঁদা নবী ﷺ এর পথনির্দেশ থেকেই এসে থাকে।
১১. তারা সাহাবায়ে কেরাম (রা)-এর এবং আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের অনুসরণে সফল হবে। কেননা আল্লাহর ভয়ে অশ্রু বিসর্জন তাদের পথ নির্দেশ থেকেও এসেছে।
১২. জান্নাতে তারা পৃথিবীতে আল্লাহর ভয়ে কাঁদার কথা স্মরণ করে আনন্দিত হবে। যেমন আল্লাহ বলেন, তারা একে অপরকে (পৃথিবীতে অতিবাহিত) অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে। তারা বলবে আমরা প্রথমে নিজেদের পরিবারের লোকদের ভয়ে ভয়ে জীবন যাপন করতাম। পরিশেষে আল্লাহ আমাদের ওপর মেহেরবানী করেছেন এবং দগ্ধকারী আযাব থেকে আমাদের রক্ষা করেছেন। নিশ্চয়ই অতীত জীবনে আমরা তাঁর কাছেই দোয়া করতাম, সত্যিই তিনি বড় উপকারী ও দয়াবান।১৪২
টিকাঃ
১৩৯. সূরা আল ইনসান (একে আদ দাহর ও বলা হয়) ৭৬ : ১১০১২
১৪০. সূরা আত তালাক ৬৫: আয়াত-২-৩
১৪১. সূরা আত তালাক ৬৫ : আয়াত-৪
১৪২. সূরা আত তূর (৫২): ২৬-২৮