📄 হুঁশিয়ারী মনে রাখা
এ ব্যাপারে অনেক বর্ণনা রয়েছে তন্মধ্যে ইরবাদ ইবনে সারীয়া (রা) হতে বর্ণিত হাদীসটি উল্লেখযোগ্য যা ইতোপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের উদ্দেশ্যে এক সারগর্ভ বক্তব্য রাখেন যার ফলে আমাদের অন্তর কেঁপে উঠে এবং চোখ অশ্রুতে ভরে উঠে।
ইবনে আব্বাস (রা) নিম্নের আয়াতে কারীমাসমূহের ব্যাখ্যায় বলেন (যা ইতোপূর্বেও উল্লেখ করা হয়েছিল),
اَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ وَمَا نَزَلَ مِنَ الْحَقِّ ، وَلَا يَكُونُوا كَالَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَبَ مِنْ قَبْلُ فَطَالَ عَلَيْهِمُ الْآمَدُ فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ ، وَكَثِيرٌ مِّنْهُمْ فَسِقُونَ .
"যারা মু'মিন, তাদের জন্য কি আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবতীর্ণ হয়েছে তার কারণে হৃদয় বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি? তারা তাদের মতো যেন না হয়, যাদেরকে ইতোপূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছিল। তাদের ওপর সুদীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হয়েছে, অতঃপর তাদের অন্তঃকরণ কঠিন হয়ে গেছে। তাদের অধিকাংশই পাপাচারী।"১১২
ইবনে আব্বাস (রা) বলেন যে, তারা হলো এমন ব্যক্তি যারা পৃথিবীর আকর্ষণে মোহাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে এবং আল্লাহর সাবধান বাণী থেকে গাফেল হয়ে রয়েছে এটা 'লাতায়েফ আল মাআ'রিফ' গ্রন্থে এসেছে, হুঁশিয়ারি হলো চাবুকের মতো যা আমাদের হৃদয়ে আঘাত করে যেমনিভাবে চাবুক শরীরে আঘাত করে। আঘাত করা শেষ হওয়ার পর, একই সাথে আঘাতের প্রভাবও শেষ হবে যতক্ষণ না একজন আঘাত করেছিল। অধিকন্তু, আঘাতের ব্যথা নির্ভর করে ব্যক্তির শরীরে আঘাতের শক্তির ওপর। তাই যখনই কাউকে প্রবলভাবে আঘাত করা হয় তার ব্যথা প্রমাণস্বরূপ থেকে যায় দীর্ঘক্ষণ।
অনেক সালাফী আলেম, কোনো এক মজলিশে আল্লাহর হুঁশিয়ারি বা সতর্কবাণী (অর্থাৎ, কুরআন-হাদীসের আলোচনা) শুনার পর মজলিশ ত্যাগ করার পর একটা শান্তি, স্নিগ্ধ ও ভাব-গাম্ভীর্যতার অনুভূতি তাদের মাঝে বয়ে যেত। এরপর (অবস্থা এমন হতো যে আল্লাহর ভয়ে) তাদের কেউ খাবারও খেতে পারত না। তবে অনেকেই সেই শুনে আসা আলোচনা অনুযায়ী দীর্ঘদিন আমল করত। হাসান বসরী (র) প্রায়ই বেরিয়ে পরতেন, তিনি ছিলেন এমন মানুষ যিনি সবসময় পরকালকে যেন নিজের চোখে দেখতে পেতেন, আর মানুষকে এ ব্যাপারে সচেতন করতেন। আর লোকেরা তার কাছ থেকে পৃথিবীকে মূল্যহীন জ্ঞান করার শিক্ষা নিয়ে ফিরে যেত।
সুফিয়ান সাওরী (রা) তার মজলিশে প্রায়ই পার্থিব (আকর্ষণ মুক্ত হওয়ার) আলোচনা থেকে সান্ত্বনা খুঁজে পেতেন।
ইমাম আহমদ ছিলেন এমন মানুষ যার মজলিশে এমনকি তার অনুপস্থিতিও পার্থিব (আকর্ষণ সৃষ্টিকারী) কোনো বিষয়াদি আলোচিত হতো না।
সালাফীদের অনেকে বলেন, “দ্বীনের আলোচনা তখনই কার্যকরী হয় যখন তা অন্তর থেকে দেয়া হয় আর তা নিঃসন্দেহে তখন অন্য একটি হৃদয়ে পৌঁছায়। তেমনিভাবে দ্বীনের আলোচনা যা শুধু জিহ্বা দিয়ে উচ্চারিত হয় তা কেবলমাত্র এক কান দিয়ে ঢুকে অন্য কান দিয়ে বের হয়ে যায়।
ঘৃণা, শত্রুতা ও প্রতারণার নোংরামী থেকে অন্তরকে পরিশুদ্ধ করা১১৩ অবশ্যই এ কাজটির (ব্যক্তি) কাঁদাতে ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে এবং এর বিপরীতে (চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য) কাঁদতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে এবং বিরত রাখবে।
টিকাঃ
১০৯. "যতক্ষণ না তিনি দেশময় প্রচুর রক্তপাত ঘটাবে" এর অর্থ হলো শত্রুদের খতমকরণ বৃদ্ধি পাওয়া। তিনি আন নিহায়াহ গ্রন্থে বলেন, এর অর্থ- ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো তবে এখানে যে অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে তা হলো, 'কাফেরদের ব্যাপকভাবে হত্যা করা।"
১১০. সূরা আল আনফাল (৪): ৬৭-৬৯
১১১. সহীহ মুসলিম হতে বর্ণিত।
১১২. সূরা আল হাদীদ (৫৭): ১৬
📄 বেশি বেশি নফল ইবাদাত বা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ করা
আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছেন, “আল্লাহ বলেছেন, আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করব যে আমার প্রিয় ইবাদতগুজার বান্দার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। সবচেয়ে পছন্দনীয় যেসব কাজ করে বান্দাহ আমার কাছাকাছি আসতে পারে (অর্থাৎ প্রিয় হতে পারে) তা হলো, ফরজ ইবাদতসমূহ পালন করা। এরপর যে কাজ করে আমার কাছাকাছি আসতে পারে তা হচ্ছে, বেশি বেশি নফল ইবাদত করা। এরপর আমি তার শ্রবণেন্দ্রীয়তে পরিণত হই ফলে সে দেখতে পায়, তার দর্শনেন্দ্রীয়তে পরিণত ইহকালে সে দেখতে পায়, তার হাতের শক্তিতেও আমার অস্তিত্ব থাকে ফলে সে ধরতে পারে এবং চলার শক্তিতেও আমার অস্তিত্ব থাকে যার মাধ্যমে সে হাঁটতে পারে। আর যদি সে আমার কাছে কোনো কিছু চায় তবে আমি তাকে দান করি। যদি সে আমার কাছে নিরাপত্তা চায় আমি তাকে নিরাপত্তা দিই। আর আমি কোনো কাজ করতেই সংকোচবোধ করি না তবে একজন মুমিন বান্দাহ'র আত্মা নিয়ে নিতে (সংকোচ করি) কেননা, সে মৃত্যুকে ঘৃণা করে আর আমি তাকে হতাশ করতে ঘৃণা করি।১১৪
এভাবে আপনার স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ বা নফল ইবাদতের পরিমাণ যতটা সম্ভব বৃদ্ধি করুন। বৃদ্ধি করুন আপনার নামায, রোযা, যাকাত প্রদান, হজ্জ করা এবং প্রত্যেকটা ভালো কাজ যতখানি আপনি করতে সক্ষম ততখানি বৃদ্ধি করুন যাতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আপনাকে ভালোবাসতে পারেন এবং আপনি যা চান তার জন্য কবুল করতে পারেন এবং এ সকল কিছুর প্রথমে যা আপনি আল্লাহর কাছে প্রত্যাশা করেন তা হলো, আল্লাহ সুবহানাহু ও তায়ালার ভয়ে কাঁদতে পারার যোগ্যতা অর্জন করা (তার জন্যও যেন আল্লাহ আপনাকে কবুল করতে পারেন)।
পৃথিবীকে মূল্যহীন ও গুরুত্বহীন জ্ঞান করা এবং একে পরিত্যাগ করা অবশ্যই পৃথিবীর প্রতি ভালোবাসা হৃদয়ের কঠিনতার অন্যতম কারণ আর এটা (পার্থিব আকর্ষণ) ব্যক্তিকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করে। আর অবশ্যই পার্থিব আকর্ষণ হতে বিরত থাকুন ও পরিত্যাগ করুন অন্তরকে নরম করে এর খুশু (অনুগত ও নম্রভাব) বৃদ্ধি করে এবং কান্নায় দু'চোখ ভেজাতে সাহায্য করে।
তাই পার্থিব বিষয়াদিতে সহজেই দীর্ঘসময় কাটানো হতে সাবধান থাকুন। আপনাকে অবশ্যই পার্থিব ব্যস্ততা পরিহার করতে হবে এবং যতটা পারেন একে গুরুত্বহীন মনে করুন। আর এ পথে চলতে সাহায্য করবে এমন বই বেশি পড়ুন।
পার্থিব আকর্ষণ পরিহারকরণে রাসূল ﷺ এর পথ নির্দেশ নিয়ে গভীর চিন্তা করুন। তাঁর খাদ্য, পানীয়, পোশাক, আসবাবপত্র ইত্যাদি গ্রহণে কঠোর ও অনঢ় জীবনযাপন নিয়ে চিন্তা করুন।
আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ﷺ এর পরিবার মদীনায় হিজরতের পর কোনো একদিনও আটার রুটি খাননি তবে রাসূল ﷺ এর ওফাতের পর এক নাগারে তিনদিন তা খেয়েছেন।১১৬
আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী ﷺ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন এবং তিনি কোনোদিন শুধু রুটি খাননি।১১৭
আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ﷺ এর পরিবার তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কোনোদিন শুধু রুটি দিয়ে এক নাগারে দুই দিন আহার করেন নি।১১৮
উরওয়াহ (রা) হতে বর্ণিত, আয়েশা (রা) তাকে বলেন, “হে আমার ভাতিজা! আমরা প্রায়ই দুই মাসের মধ্যে তিনটি চাঁদ দেখতাম আর আল্লাহর রাসূল ﷺ এর ঘরে কোনো আগুন জ্বালানো হতো না।" আমি (উরওয়াহ) প্রশ্ন করলাম, তখন কী খেয়ে বেঁচে থাকতেন? তিনি (আয়েশা) উত্তরে বললেন, দুটি কালো বস্তু- এক. খেজুর, দুই. পানি। তথাপি রাসূল ﷺ এর কিছু আনসার প্রতিবেশিদের গবাদিপশু ছিল, যা দুধ দিত। আর তারা প্রায়ই আল্লাহর রাসূল ﷺ এর জন্য কিছু দুধ প্রেরণ করতেন, সেখান থেকে তিনি [রাসূল ﷺ] আমাদেরকেও দিতেন।১১৯
আনাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল ﷺ এর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কখনই জানতাম না যে তিনি রাগীফ (এক ধরনের রুটি) খেয়েছেন।১২০
সামাক হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নু'মান ইবনে বশীর (রা)-কে বলতে শুনেছি, তুমি কি যত ইচ্ছা তত পান ও আহার কর না? অথচ আমি তোমাদের নবী ﷺ কে দেখেছি তিনি ক্ষুধা নিবারণে ছোট এক টুকরো খেজুরও পেতেন না।১২১ আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বিছানা ছিল পশুর পশম দিয়ে তৈরি যাতে কিছু পশমও ছিল।১২২
আবু বুরদাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, (রাসূল ﷺ এর মৃত্যুর পর) আয়েশা (রা) আমাদের সামনে একটি সাধারণ জামার উপরের অংশ এবং নিচের অংশ বা পায়জামা (আরবিতে ইজার) নিয়ে আসলেন এবং তিনি বললেন, এ দুটো পড়ে রাসূল ﷺ মৃত্যুবরণ করেন।১২৩ এছাড়াও এ সংক্রান্ত বহু হাদীস রয়েছে।১২৪
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমার কাধে হাত রাখলেন এবং বললেন, পৃথিবীতে এমনভাবে বসবাস কর যেন তুমি একজন মুসাফির বা পথিক। আর ইবনে উমর (রা) প্রায়ই বলতেন যে, যদি তুমি সন্ধ্যা পর্যন্ত বেঁচে থাক তবে পরের দিন সকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকার ইচ্ছা পোষণ কর না। আর যদি তুমি সকাল পর্যন্ত বেঁচে থাক তবে আর সন্ধ্যা পর্যন্ত বেঁচে থাকার ইচ্ছা পোষণ কর না। অসুস্থতার জন্য তোমার স্বাস্থ্য প্রস্তুত রেখ এবং মৃত্যুর জন্য তোমার জীবনকে প্রস্তুত রেখ।১২৫
তাই আর দেরি নয় হে আমার ভাই ও বোনেরা! একজন মুসাফির বা পথিকের ন্যায় আপনার স্বভাব, আচার-আচরণ, খাদ্য, পানীয়, বাসস্থান এবং অন্যান্য যা আপনি করে থাকেন তা গড়ে তুলুন। আমাদের চোখ রাখা উচিত এবং প্রতীক্ষায় থাকা উচিত আমাদের আসল বাড়ি জান্নাতের দিকে। তাই আমাদের সন্ধ্যায় বেঁচে থাকলে (পরদিন) সকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকার কামনা করা উচিত নয়। এভাবে যদি আবার সকালে বেঁচে থাকি আমাদের উচিত নয় সন্ধ্যা পর্যন্ত বেঁচে থাকার কামনা করা। তাই আমাদের উচিত নয় আত্মসমালোচনা, আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার কথা এবং আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বসমূহ পালনের কথা এমনকি একটি ভালো কাজের কথাও ভুলে না যাওয়া।
আমাদের উচিত আমাদের (দৈনন্দিন) জীবনকে এমনভাবে পরিচালনা করা যেন আমরা আমাদের চোখে কেয়ামতের (ভয়াবহ) দিনটি দেখতে পাচ্ছি। আমাদের উচিত অসুস্থতার জন্য স্বাস্থ্যকে প্রস্তুত রাথা এবং স্বাস্থ্যকে আল্লাহর আনুগত্যের কাজে লাগানো, সাথে সাথে আমাদের সবাইকে এসব জানিয়ে সচেতন করা যাতে আমরা ধেয়ে আসা মৃত্যুর ও ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেতে পারি (অর্থাৎ মৃত্যু যন্ত্রণা যাতে কম হয়)।
একজন মুসাফির যে তার দেশ, পরিবার, সন্তানাদি, আত্মীয়স্বজন ছেড়ে কষ্ট করে একাকি সফর করে সে কি অন্য দেশে তার সাম্রাজ্য গড়ার জন্য এ কষ্ট করে? (অর্থাৎ অথবা একজন পথিক কি কোনো বিচ্ছিন্ন পথে প্রান্তরে বাস করে?!) (অর্থাৎ আমরা আমাদের আসল বাড়ির কথা ভুলে এ পৃথিবীতেই যেন আবাস গেড়ে বসে না যাই)।
আর আপনি, আল্লাহ আপনার উপর রহমত বর্ষণ করুন- এ পৃথিবীতে একজন মুসাফির, জান্নাতের বাড়ি থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছেন, সেখানকার স্ত্রী ও সন্তানদের নিকট থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছেন। আর এটা তখনই ঘটবে যখন আপনি জান্নাতবাসী হবেন। কিন্তু যদি এমন হয় যে আপনি জাহান্নামের অধিবাসীদের মতো সকল কাজ করে যাচ্ছেন আর জান্নাতে আপনার কোনো বাড়ি নেই, নেই কোনো সন্তান, নেই পরিবার শুধু আছে শাস্তি; এক অকল্পনীয় খারাবি আপনার জন্য অপেক্ষা করছে কেমন হবে তখন?!
তাই আরাম-আয়েশের জীবন থেকে সাবধান হোন। কেননা রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আরাম-আয়েশের জীবন থেকে সাবধান হও। কারণ, নিশ্চয়ই আল্লাহর (প্রকৃত) বান্দা তারা নয় যারা আরাম-আয়েশের জীবনযাপন করে।১২৬
অতএব আপনার জন্য প্রয়োজন 'আল বাদাদাহ' যেমন নবী ﷺ বলেন, 'ঈমান হলো আল বাদাদাহ।'১২৭ আর 'আল বাদাদাহ' অর্থ হলো সাধারণ ও ধার্মিক জীবনযাপন করা।
টিকাঃ
১১৩. আমার (মূল লেখক) 'মিম মাওয়াকিফ আস সাহীহা' গ্রন্থের 'নম্বর ৮ : আবদুল্লাহ ইবনে উমর ও জান্নাতী একজন” থেকে উদ্ধৃত।
১১৪. ইমাম বুখারী ও অন্যান্য কর্তৃক বর্ণিত।
১১৬. বুখারী ও মুসলিম হতে বর্ণিত।
১১৭. ইমাম বুখারী কর্তৃক বর্ণিত।
১১৮. ইমাম মুসলিম হতে বর্ণিত।
১২১. ইমাম মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত।
১২২. বুখারী ও মুসলিম হতে বর্ণিত।
১২৩. বুখারী ও মুসলিম হতে বর্ণিত।
১২৪. আরো তথ্যের জন্য সহীহ বুখারী শরীফের 'খাদ্য' অধ্যায়ের 'রাসূলুল্লাহ ﷺ ও তাঁর সাহাবীগণ কী খেতেন' অনুচ্ছেদ এবং 'হৃদয় বিগলিতকরণ' অধ্যায়ের কিভাবে নবী ﷺ ও তার সাহাবীগণ জীবনধারণ করতেন অনুচ্ছেদে। সহীহ মুসলিম শরীফের 'ত্যাগ ও অন্তর বিগলিতকরণ' অধ্যায় এবং 'রিয়াদুস সালেহীন' গ্রন্থের অধ্যায়-৫৬।
১২৫. ইমাম বুখারী কর্তৃক বর্ণিত।
১২৬. ইমাম আহমদ ও আবু নূআইম কর্তৃক 'হিলায়াহ' গ্রন্থে বর্ণিত শায়েখ আল বানী 'মিশকাত' গ্রন্থে বলেন, এর সনদ সহীহ।
১২৭. ইবনে মাজাহ কর্তৃক বর্ণিত। আস সাহীহা গ্রন্থে একে সহীহ হাদীস বলে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।
📄 ইয়াতীমের ওপর দয়া
আবু দারদা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক লোক আল্লাহর রাসূল ﷺ এর কাছে এলে তার অন্তরের কাঠিন্য সম্পর্কে অভিযোগ করলো। তিনি ﷺ বললেন, তুমি কি তোমার অন্তরকে কোমল করতে চাও? তোমার (জান্নাতে প্রবেশের) কামনা পূরণ করতে চাও? তবে ইয়াতীমের ওপর দয়া কর, তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দাও এবং তোমার খাদ্য থেকে তাদেরকে খাওয়াও। ফলে তুমি তোমার অন্তরকে নরম করতে পারবে এবং তোমার কামনা পূরণ করতে পারবে।১২৮
টিকাঃ
১২৮. ইমাম তাবারানী কর্তৃক 'আল কাবীর' গ্রন্থে বর্ণিত। শায়খ আলবানীর একই রকম বর্ণনা থাকায় একে বিশুদ্ধ বলে মত দিয়েছেন দেখুন 'আস সাহীহা' গ্রন্থ।
আবু দারদা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক লোক আল্লাহর রাসূল ﷺ এর কাছে এলে তার অন্তরের কাঠিন্য সম্পর্কে অভিযোগ করলো। তিনি ﷺ বললেন, তুমি কি তোমার অন্তরকে কোমল করতে চাও? তোমার (জান্নাতে প্রবেশের) কামনা পূরণ করতে চাও? তবে ইয়াতীমের ওপর দয়া কর, তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দাও এবং তোমার খাদ্য থেকে তাদেরকে খাওয়াও। ফলে তুমি তোমার অন্তরকে নরম করতে পারবে এবং তোমার কামনা পূরণ করতে পারবে।১২৮
টিকাঃ
১২৮. ইমাম তাবারানী কর্তৃক 'আল কাবীর' গ্রন্থে বর্ণিত। শায়খ আলবানীর একই রকম বর্ণনা থাকায় একে বিশুদ্ধ বলে মত দিয়েছেন দেখুন 'আস সাহীহা' গ্রন্থ।
📄 হাসি কমানো
আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "অত্যাধিক হেসো না। কেননা অত্যাধিক হাসি অন্তরকে মেরে ফেলে।"১২৯
টিকাঃ
১২৯. ইবনে মাজাহ এবং অন্যান্য কর্তৃক বর্ণিত। এটি সহীহ হাদীস যা আস সাহীহা গ্রন্থে আলবানী উল্লেখ করেছেন।
আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "অত্যাধিক হেসো না। কেননা অত্যাধিক হাসি অন্তরকে মেরে ফেলে।"১২৯
টিকাঃ
১২৯. ইবনে মাজাহ এবং অন্যান্য কর্তৃক বর্ণিত। এটি সহীহ হাদীস যা আস সাহীহা গ্রন্থে আলবানী উল্লেখ করেছেন।