📘 আল্লাহর ভয়ে কাঁদা > 📄 কবর যিয়ারত করা

📄 কবর যিয়ারত করা


এভাবে মৃত্যুর স্মরণ এবং ধেয়ে আসার মৃত্যুর ভয়াবহতা নিয়ে চিন্তা করা অবশ্য কর্তব্য।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, কবর যিয়ারত করতে ইতোপূর্বে আমি তোমাদের নিষেধ করেছিলাম কিন্তু এখন থেকে তোমরা তা করবে। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, তিনি ﷺ বলেছেন, কবর যিয়ারত কর কেননা নিশ্চয়ই এটা মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়। অন্য এক বর্ণনায় তিনি ﷺ বলেন, (কবর) যিয়ারত তোমাদের পরিশুদ্ধ করবে।
আবু সাঈদ খুদরী (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, নবী ﷺ বলেছেন, নিশ্চয়ই আমি ইতোপূর্বে কবরস্থানে যেতে নিষেধ করেছিলাম কিন্তু এখন (বলছি) তোমাদের কবরস্থানে যাওয়া উচিত। কেননা এতে তোমাদের জন্য রয়েছে শিক্ষা ও সতর্কবাণী।
আনাস ইবনে মালেক (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, কিন্তু এখন তোমরা তাদেরকে (মৃতদেরকে কবরস্থানে) দেখতে যাবে। কেননা এতে হৃদয় নরম হয়, চোখ অশ্রুসিক্ত হয় এবং পরকাল স্মরণ করিয়ে দেয়।

টিকাঃ
৭৬. আল মুনযিরী (র) 'আত তারগীব ওয়াত তারহীব' গ্রন্থে বলেন, ইমাম বাযর (র)-এর বর্ণনার ধারাবাহিকতাকে হাসান বলেন। শায়েখ আলবানী সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন।
৭৭. ইমাম তাবরানী বর্ণনার ধারাবাহিকতা সূত্রে সহীহ বলেছেন, ঠিক একইভাবে আল মুনযিরী (র) 'আত তারগীব ওয়াত তারহীব' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। শায়খ আলবানী সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব গ্রন্থে সহীহ বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
৭৮. ইমাম মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত
৭৯. ইমাম মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত
৮০. ইমাম আহমদ কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটিকে শায়েখ আলবানী তার আহকামুল জানায়েয গ্রন্থে সহীহ হাদীস বলে উদ্ধৃত করেছেন।
৮১. ইমাম আহমদ ও হাকীম কর্তৃক বর্ণিত।
৮২. আল হাকীম ও অন্যান্য কর্তৃক বর্ণিত, শায়খ আলবানী তার আহকামুল জানায়েয গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন।

📘 আল্লাহর ভয়ে কাঁদা > 📄 পরকালকেই আপনার চিন্তার কেন্দ্রবিন্দু বানান

📄 পরকালকেই আপনার চিন্তার কেন্দ্রবিন্দু বানান


হযরত আবদুর রহমান ইবনে আফফান (রা) তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, যায়েদ ইবনে সাবিত (রা) মারওয়ান (রা)-কে দুপুরবেলা রেখে গেলেন, আমি বললাম : অন্য কিছু নয়; বরং সে কিছু জানতে চেয়েছে বলেই তাকে এখানে এ সময়ে রেখে যাওয়া হলো। (এ সম্পর্কে) জানতে চাইলাম তার কাছে। তিনি উত্তর করলেন, আমরা এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছি যে সব প্রশ্নের উত্তর রাসূল ﷺ-এর কাছ থেকে শুনেছি। আমি রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি দুনিয়াকে তার জীবনের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে আল্লাহও তার (ভালো-মন্দের) দায়িত্ব থেকে পৃথক থাকেন। তিনি (আল্লাহ) তার (ব্যক্তির) চোখের সামনে দরিদ্রতাকে তুলে ধরেন আর প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ যা তাকদীরে লিখে রেখেছেন তা ব্যতিত ঐ ব্যক্তির জন্য আর কিছুই আসবে না।
আর যে ব্যক্তি পরকালকে তার জীবনের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে, আল্লাহ ঐ ব্যক্তির (ভালো-মন্দের) দায়িত্ব নিজেই গ্রহণ করে, তাকে অন্তরের সমৃদ্ধি দান করেন, আর পৃথিবী তার কাছে ছুটে আসে আকুল হয়ে।৮৩

টিকাঃ
৮১. ইমাম আহমদ ও হাকীম কর্তৃক বর্ণিত।
৮২. আল হাকীম ও অন্যান্য কর্তৃক বর্ণিত, শায়খ আলবানী তার আহকামুল জানায়েয গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন।
৮৩. ইবনে মাজাহ ও ইবনে হিব্বান কর্তৃক বর্ণিত। শায়খ আলবানী আস সহীহা গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

📘 আল্লাহর ভয়ে কাঁদা > 📄 মহিমান্বিত কুরআন নিয়ে গবেষণা করা

📄 মহিমান্বিত কুরআন নিয়ে গবেষণা করা


আবদুল্লাহ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি নবী ﷺ কে বলতে শুনেছেন যে, যে ব্যক্তি পরকালকে তার জীবনের পরম ঠিকানা বানিয়ে নিয়েছে আল্লাহ তার যাবতীয় অভাব-অনটনের দেখাশুনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন আর যে ব্যক্তির আগ্রহ-আরাধনা হয়েছে পার্থিব বিষয়াদি তবে আল্লাহ তার বিষয়ে কোনো জামিনদার নন।৮৪
আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, আল্লাহ বলেন, হে আদম সন্তান! আমার ইবাদতে নিজেকে মগ্ন রাখো আমি তোমার অভাব দূর করে দেব আর তোমাকে ধন-সম্পত্তি দিয়ে পূর্ণ করে দেব। আর যদি তুমি তা না কর তবে আমি তোমাকে দুর্নীতি ও অস্থিরতা দিয়ে ভরে দিব এবং তোমার দরিদ্রতা দূর করব না।৮৫
মহিমান্বিত কুরআন নিয়ে গবেষণা করা
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন-
أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا .
"তারা কি কুরআন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করেনি? নাকি তাদের অন্তর তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে।"৮৬
কুরআন নিয়ে গভীর ধ্যান করা ক্রন্দনের পর্যায়ে পৌঁছার একটি শক্তিশালী উপায়। (গবেষক) ব্যক্তির জন্য এটা অপরিহার্য যে একটি নির্দিষ্ট তাফসীরের প্রতি ঝোঁকে থাকা, নিয়মিত আলেমদের এবং তাফসীর ভালো বুঝেন এমন লোকদের শরণাপন্ন হওয়া। আর কুরআন এমনভাবে তিলাওয়াত করা যেন আপনার প্রতি তা নাযিল হয়েছে যেভাবে পড়েন অনেক বিজ্ঞ আলেম।
আয়েশা (রা) হতে একটা উদাহরণ আছে, তিনি (আয়েশা (রা)) বলেন, এক লোক রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে এসে বসল এবং বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ﷺ আমার কিছু দাস-দাসী আছে। তারা আমাকে মিথ্যা বলে, আমার অবাধ্য হয় আর আমার কথা শুনে না। যখন আমি একথা জানতে পারি তখন তাদেরকে তিরস্কার করি ও বেত্রাঘাত করি। এখন আমাকে বলুন আসলে তাদের সাথে কেমন আচরণ করা উচিত।
আল্লাহর রাসূল ﷺ উত্তরে বলেন, কী কারণে তারা তোমার অনাস্থাভাজন, কী কারণে তারা তোমার অবাধ্য ও কী কারণে তারা তোমার সাথে মিথ্যা বলে তোমার শাস্তির বিবরণ জানা উচিত। আর যদি তোমার শাস্তি তাদের অপরাধের সমান হয় তবে ভারসাম্যের মাত্রা সমান হয়েছে। এতে তোমার জন্য (পরকালে) কোনো প্রাপ্তি নেই, তোমার বিরুদ্ধেও কিছু (শাস্তি) নেই। আর যদি তোমার প্রদত্ত শাস্তি তাদের অপরাধের চেয়েও বেশি না হয় তবে তা তোমার জন্য (অর্থাৎ, তোমার পক্ষে ভালো)। আর যদি তোমার প্রদত্ত শাস্তি তাদের অপরাধের (প্রাপ্য শাস্তির) চেয়েও বেশি হয় তবে তা তোমার বিপক্ষে (কিয়ামতের দিন ক্ষতিকর হবে)। লোকটি তখন পিছনে ফিরে কাঁদতে শুরু করল।
আল্লাহর রাসূল ﷺ বললেন, তোমরা কি আল্লাহর কিতাব থেকে এ লাইনটি পড়নি-
ونَضَعُ الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيمَةِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا ط وَإِنْ كَانَ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِّنْ خَرْدَلٍ أَتَيْنَا بِهَا .
".... এবং আমরা কেয়ামতের দিন ন্যায়-বিচারের মানদণ্ড স্থাপন করব, ফলে কারো প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুম করা হবে না।”৮৭
লোকটি উত্তরে বলল, আল্লাহর কসম, হে রাসূলুল্লাহ ﷺ আমি নিজের ও তাদের (দাস-দাসীদের) জন্যও ভালো কিছু দেখছি না তার চেয়ে বরং তারা আমাকে ছেড়ে চলে যাক। আর আপনি সাক্ষী থাকুন যে (আমি ঘোষণা দিচ্ছি) তারা সবাই মুক্ত।৮৮
ইবনে উআইনাহ বলেন, যখন মুহাম্মদ ইবনে মুনকাদির মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এল, তিনি চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে উঠলেন, তাই তারা আবু হাজিমকে ডাকলেন। যখন তিনি আসলেন ইবনে মুনকাদির তাঁকে বললেন, অবশ্যই আল্লাহ বলেছেন-
وَبَدَا لَهُمْ مِّنَ اللهِ مَا لَمْ يَكُونُوا يَحْتَسِبُونَ .
“আল্লাহ কর্তৃক এটা (পরকাল) তাদের কাছে স্পষ্ট হবে যে বিষয়ে তারা ধারণা করতে পারেনি।”৮৯
আর আমিও সংকিত যে আমার সামনেও সেসব বিষয় তুলে ধরা হবে যা বুঝে উঠতে পারিনি (অর্থাৎ অবচেতন মনে করা পাপ)। এরপর তারা উভয়ে কাঁদতে শুরু করেন।৯০
মনোযোগ সহকারে কুরআন তিলাওয়াত শুনা এবং হৃদয় প্রশান্ত করে এমন বই বেশি করে পড়া।৯১

টিকাঃ
৮৪. ইবনে মাজাহ ও অন্যান্য কর্তৃক বর্ণিত। শায়েখ আলবানী আল মিশকাতে উল্লেখ করেছেন।
৮৫. ইমাম তিরমিযী, ইবনে মাজা, ইবনে হিব্বান এবং অন্যান্য কর্তৃক বর্ণিত। এটি একটি সহীহ হাদীস যা শায়খ আলবানী তার আস সহীহা গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
৮৬. সূরা মুহাম্মদ (৪৭) : ২৪
৮৭. সূরা আম্বিয়া (২১):৪৭
৮৮. ইমাম তিরমিজি একে সহীহ বলেছেন এবং সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব গ্রন্থে আলবানীও একে সহীহ বলেছেন।
৮৯. সূরা আল যুমার (৩৭) ৪৭
৯০. ইবনে আবু হাতিম হতে বর্ণিত ও ইবনে আবিআদ-দুনিয়া আরো উল্লেখ করেছেন যে, তার (মুনকাদিরের) পরিবার তাকে বলেছিল যে, আমরা আপনাকে ডেকেছি তাঁর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা কমাতে কিন্তু আপনি তা বাড়িয়ে দিলেন।” আর তিনি তাদেরকে তাও অবগত করালেন যা তিনি (মুনকাদির) তাঁর সাথে বলেছিলেন।
৯১. এ বইগুলোর মাঝে ইবনে মুবারকের 'আযযুহদ', ইমাম আহমদের 'আয যুহদ', আত শয়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ'র আততুহফাতুল ইরাকিয়‍্যাকিল আ'মালিল কালবিয়্যাহ, ইবনে কায়্যিম আল জাওযিয়‍্যাহ'র রচনাবলি, তাওদীব মাওবীদাতিল মুমিনীন মিন ইহইয়া 'উলূমুদ্দীন যেটা লিখেছেন কাসিমী, শায়েখ আবদুল আযীয আস সালমানের বইগুলো, মুহাম্মদ সালিহ আল মুনাজ্জাদের রচনাসমগ্র এ বিষয়ে।

📘 আল্লাহর ভয়ে কাঁদা > 📄 ক্ষমা চাওয়া ও নিজেই নিজের হিসাব নেয়া

📄 ক্ষমা চাওয়া ও নিজেই নিজের হিসাব নেয়া


শয়তানকে দূর করা নিঃসন্দেহে হৃদয়কে কোমল করতে ও অশ্রু বিসর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এক বর্ণনায় এসেছে, এক লোক হাসান (রা)-এর কাছে অভিযোগ করল যে তার অন্তর খুব শক্ত। তাই তিনি তাকে বললেন, “বেশি বেশি আল্লাহর যিকির (স্মরণ) কর।” তিনি আরো বললেন, যিকির বা স্মরণ জ্ঞানার্জনে নতুন জীবন দান করে এবং অন্তরে 'খুশু' সৃষ্টি করে। মৃত অন্তর নতুন জীবন পায় আল্লাহর স্মরণে যেমন মৃত ভূ-পৃষ্ঠ নতুন জীবন পায় বৃষ্টিতে।৯২
ক্ষমা চাওয়া ও নিজেই নিজের হিসাব নেয়া
এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই যে (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা প্রার্থনার এ গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে আমাদের অন্তরকে পরিশুদ্ধ ও সুগঠিত করতে। সেই সঙ্গে আমাদের আত্মাকে দৃঢ় ও মজবুত করতে (ক্ষমা চাওয়া প্রয়োজন)। সবচেয়ে সত্যবাদী হলো সে যে ক্ষমা চায়, এভাবে সে আরো খুশু (নম্রতা) অর্জন করে, আরো বেশি তার অন্তর নরম হয়।
বেশি বেশি আল্লাহর কাছে (মোনাজাতে) ক্ষমা ভিক্ষা চাওয়া মানে রাসূল ﷺ এর অনুসরণ করা।৯৩ আর এটাও দরকার যে ব্যক্তি নিজেই নিজের অপরাধের হিসাব নিবে, যেমন আল্লাহ পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন-
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَلْتَنْظُرْ نَفْسٌ مَا قَدَّمَتْ لِغَدٍ .
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত আগামীকালের জন্য সে কী প্রেরণ করে তা নিয়ে চিন্তা করা।৯৪
আল্লাহ আমাদের আদেশ করেছেন আমাদের নিজেদের হিসেব নিজেদেরকে নিতে, ভালো কাজ করতে, কিয়ামতের দিনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে। যেমন- আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেন-
ذَ أَقْسِمُ بِيَوْمِ الْقِيمَةِ لا وَلَا أُقْسِمُ بِالنَّفْسِ التَّوَّامَةِ .
আমি শপথ করছি সেই কিয়ামত দিবসের। আরও শপথ করি সেই মনের যে নিজেকে ধিক্কার দেয়।৯৫
ইকরিমা এ আয়াতে কারীমা'র ব্যাখ্যায় বলেন, 'ভালোমন্দ' উভয় অবস্থায় নিজেকে দোষ দেয়া, চাই সেটা তুমি নিজে কর বা না কর। সাঈদ ইবনে জোবায়ের (রা) বলেন, ভালো-মন্দ উভয় কাজেই নিজেকে দোষ দেয়া, মুজাহিদ বলেন, 'অতীতের জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং নিজেকে সেজন্য অভিযুক্ত করা।'৯৬
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) বলেন, অবশ্যই বিশ্বাসীরা তাদের অপরাধ দেখতে পায় যেন সে কোনো পাহাড়ের নিচে দাঁড়িয়ে আছে যেন তা এক্ষুণি তার উপর ভেঙ্গে পড়বে। আর (অবিশ্বাসী) পাপীরা তাদের অপরাধকে দেখে যেন নাকের পাশ দিয়ে উড়ে যাচ্ছে আর সে এটা করে এভাবে গর্ব অনুভব করে। আবু শিহাব৯৭ বলেন, ইবনে মাসউদ (রা) 'সে এটা করে এভাবে' বলে একটা অঙ্গভঙ্গি করেন তার কর্মটি ব্যাখ্যা করে বুঝাতে গিয়ে) “তিনি [ইবনে মাসউদ (রা)] তার হাত নাকের সামনে দিয়ে উড়িয়ে নিয়ে যান।”৯৮
বর্ণিত হয়েছে যে, উমর ইবনে খাত্তাব (রা) বলেন, তোমার হিসাব নেয়ার আগে নিজেই নিজের হিসাব নাও। আর নিজেই নিজের আমলনামার পরিমাপ কর তোমার আমল পরিমাপ করার পূর্বে।৯৯
বর্ণিত হয়েছে যে, মায়মুন ইবনে মিহরান বলেন, একজন আল্লাহর বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত মুত্তাকীনদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না যতক্ষণ না সে তার ব্যবসায়িক পার্টনারের চেয়ে বেশি সূক্ষ্মভাবে ও গুরুত্ব সহকারে নিজের আমলিয়াতের হিসাব-নিকাশ না করবে, দু'জন ব্যবসায়ী তাদের নিজেদের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের হিসেব করে।১০০
এছাড়াও, ঈমানদারেরা আল্লাহর সামনে জবাবদিহিতার জন্য দৃঢ় প্রত্যয়ী থাকবে। সত্যিই সহজ হবে তার জন্য, যে ব্যক্তি পৃথিবীতে নিজের হিসাব নিজে করত আর কিয়ামতের দিন কঠিন হবে তার জন্য যে ব্যক্তি পৃথিবীতে নিজে নিজের হিসাব করত না।১০১

টিকাঃ
৯২. এ সংক্রান্ত চমৎকার আলোচনার জন্য দেখুন 'লাতাইফ আল মাআ'রিফ' গ্রন্থের 'যিকর ও দোয়ার উপকারিতা' অধ্যায়টি।
৯৩. তাঁর ﷺ এ বক্তব্য থেকে প্রমাণিত: আল্লাহর শপথ আমি ক্ষমা চাই আল্লাহর নিকট এবং অনুতপ্ত এ দিনে অন্তত সত্তরবার।” ইমাম বুখারী কর্তৃক বর্ণিত। তিনি ﷺ আরো বলেন, অবশ্যই আমার হৃদয় ভরে যায় এবং নিশ্চয়ই আমি দিনে ১০০ বার আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। 'ভুলে যাওয়া'র যে উদ্ধৃতি এখানে দেয়া হয়েছে তিনি তার ঊর্ধ্বে আর সাধারণ মানুষের বেলায় তা ঘটে থাকে। নবী ﷺ এর অন্তর সবসময়ই আল্লাহ সুবহানাহু ও তায়ালার স্মরণে ভরে থাকে। যদি কখনো মাঝে মাঝে স্বাভাবিক মানবিক প্রবৃত্তি ভর করে সেটা দৈবিক ঘটনামাত্র। আর সবসময় তাঁর ﷺ মাথায় উম্মতের, ইসলামের চিন্তা ও এর কল্যাণের কথা থাকে। আর এ মানবিক প্রবৃত্তিকেই তিনি অপরাধ গণ্য করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে থাকেন (আন নিহায়াহ)।
৯৪. সূরা হাশর (৫৯) : ১৮
৯৫. সূরা কিয়ামাহ (৭৫): ১-২
৯৬. তাফসীরে ইবনে কাসীর হতে উদ্ধৃত। ইংরেজি অনুবাদকের নোট: নাফসে লাওয়ামাহ : অর্থাৎ আত্মসমালোচক আত্মা- শব্দটি আরবি মূল শব্দ 'লাম' বা লাওয়াস' থেকে এসেছে যার অর্থ নিজেকে বা অন্যকে দোষ দেয়া এবং তীক্ষ্ণ সমালোচনা করা। এভাবে যখন আল্লাহ আত্মসমালোচক আত্মার শপথ করে বলেন, তখন ঐ বাক্যে এমন এক ব্যক্তিকে বুঝায় যে নিজের কর্মকাণ্ড সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ করে এবং নিজেকে প্রবলভাবে সমালোচনা করেন।
৯৭. আবু শিহাব এ বর্ণনার একজন বর্ণনাকারী।
৯৮. ইমাম বুখারী কর্তৃক বর্ণিত।
৯৯. ইমাম তিরমিযী কর্তৃক 'তামরীজ' আকারে, দেখুন তুহফাতুল আহওয়াদী হাদীস নং ২৫৭৭
১০০. ইমাম তিরমিযী কর্তৃক 'তারমীজ' আকারে দেখুন, তুহফাতুল আহওয়াদী হাদীস নং ২৫৭৭
১০১. 'হাসান' হিসেবে উদ্ধৃত। এর অর্থ সহীহ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00