📄 জ্ঞান
مُخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ كَذَلِكَ ، إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ العُلَموا ، إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ غَفُورٌ .
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাহদের মধ্যে জ্ঞানীরাই আল্লাহকে ভয় করে।
أُولَئِكَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِّنَ النَّبِيِّنَ مِنْ ذُرِّيَّةِ أَدَمَ وَ وَمِمَّنْ حَمَلْنَا مَعَ نُوحٍ رُو مِنْ ذُرِّيَّةِ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْرَاءِ يُلَ ز وَمِمَّنْ هَدَيْنَا وَاجْتَبَيْنَا إِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ أَيْتُ الرَّحْمَنِ خَرُّوا سُجَّدًا وَبُكِيا .
আল্লাহু সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আরো বলেন, এঁরা হচ্ছেন, এমন সব নবী, যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছিলেন আদম সন্তানদের মধ্য থেকে এবং যাদেরকে আমি নূহের সাথে নৌকায় আরোহণ করিয়েছিলাম, তাদের বংশধরদের থেকে, আর ইবরাহীমের বংশধরদের থেকে ও ইসরাঈলের বংশধরদের থেকে, আর এরা ছিল তাদের মধ্যে থেকে যাদেরকে আমি সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছিলাম এবং বাছাই করে নিয়েছিলাম। এদের অবস্থা এই ছিল যে, যখন করুণাময়ের আয়াত এদেরকে শুনানো হতো তখন কান্নারত অবস্থায় সিজদায় লুটিয়ে পড়ত।
قُلْ أَمِنُوا بِهِ أَوْلاَ تُؤْمِنُوا إِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ مِنْ قَبْلِهِ إِذَا يُتْلَى عَلَيْهِمْ يَخِرُّونَ لِلْأَذْقَانِ سُجَّدًا لَا وَيَقُولُونَ سُبْحْنَ رَبِّنَا إِنْ كَانَ وَعْدُ رَبِّنَا لَمَفْعُولاً ، وَيَخِرُّونَ لِلْأَذْقَانِ يَبْكُونَ وَيَزِيدُ هُمْ خُسُوعًا .
(হে মুহাম্মদ ﷺ) আপনি এদেরকে বলে দিন, তোমরা একে (কুরআনকে) মানো বা না মানো, যাদেরকে এর আগে জ্ঞান দেয়া হয়েছে তাদেরকে যখন এটা শুনানো হয় তখন তারা অবনত মস্তকে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং বলে উঠে পাক পবিত্র আমাদের রব, আমাদের রবের প্রতিশ্রুতি তো পূর্ণ হয়েই থাকে।” এবং তারা মুখে কাঁদতে কাঁদতে লুটিয়ে পড়ে এবং তা শুনে তাদের বিনয় আরো বেড়ে যায়।
আবুল আ'লা আল তাঈমী এ আয়াতে কারীমা সম্পর্কে বলেন, যাকেই জ্ঞান দেয়া হয়েছে তাকে তা কাঁদায় নি; বরং তাকে প্রদত্ত জ্ঞান দ্বারা তার উপকারই হয়েছে। কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা জ্ঞানীর ব্যাপারে বলেন-
ولِيَعْلَمَ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ فَيُؤْمِنُوا بِهِ فَتُخْبِتَ لَهُ قُلُوبُهُمْ ، وَإِنَّ اللَّهَ لَهَادِ الَّذِينَ آمَنُوا إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ .
এবং যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে তারা যেন জেনে নেয় যে, এটা আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে সত্য এবং তারা এর প্রতি ঈমান আনে এবং এর সামনে তাদের অন্তর ঝুঁকে পড়ে; যারা ঈমান আনে অবশ্যই আল্লাহ তাদের চিরকাল সত্য-সরল পথ দেখিয়ে থাকেন।
আবু জর গিফারী (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আমি যা দেখি তোমরা তা দেখ না এবং আমি যা শুনি তোমরা তা শুন না। নিশ্চয়ই আকাশের কাঁদার ক্ষমতা রয়েছে এবং সে কাঁদে। আকাশের কোনো স্থানই হাতের চার আঙ্গুলের মতো সমান নয় তবে আল্লাহ যে স্থানে ফেরেশতা বসিয়ে রেখেছেন তা ছাড়া। আল্লাহর কসম আমি যা জানি যদি তোমরা তা জানতে তবে তোমরা হাসতে কম, কাঁদতে বেশি এবং তোমাদের স্ত্রীদের সাথে রাত্রিযাপন করতে পারতে না। (অর্থাৎ, খুব পেরেশান থাকবে)। বরং তোমরা পাহাড়ের চূড়ায় উঠে যেতে এবং আল্লাহর ইবাদত ও বন্দেগীতে মশগুল থাকতে।
টিকাঃ
৫৮. সূরা আল ফাতির (৩৫): ২৮।
৫৯. সূরা মরিয়ম (১৯) : ৫৮-৬০
৬০. সূরা বনী ইসরাঈল (১৭): ১০৭-১০৯। (১০৭ নং আয়াতটি সিজদার আয়াত)
৬১. সূরা আল হজ্ব (২২): ৫৪
৬২. বিশাল সংখ্যক ফেরেশতা আকাশে নামলে তা ভারী হয়ে যায় ফলে আকাশ কেঁদে উঠে।
৬৩. ইমাম আহমদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ এবং অন্যান্য কর্তৃক বর্ণিত, এটা হাসান হাদীস। শায়েখ আলবানী আস সাহীহা গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন। ইমাম বুখারী সারসংক্ষেপ আকারে উদ্ধৃত করেছেন এভাবে "যদি তোমরা তা জানতে যা আমি জানি, তবে তোমরা হাসতে কম, কাঁদতে বেশি।” ঠিক এভাবেই শায়েখ আলবানী উল্লিখিত সূত্রের ইঙ্গিত করেছেন।
📄 মৃত্যুর কথা স্মরণ
নিশ্চয়ই মৃত্যু এ জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের পরিসমাপ্তি ঘটাবে। যেমন আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাদেরকে বলেছেন, বেশি বেশি সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের বিলোপকারীকে অর্থাৎ, মৃত্যুকে স্মরণ কর। নিশ্চয়ই কেউ যখন জীবনের দুঃসময় পার করা অবস্থায় মৃত্যুকে স্মরণ করে তখন এটা (এ মৃত্যুকে স্মরণ করা) তাকে এ দুঃসময় পার হতে সহযোগিতা করবে (অর্থাৎ সে আর দুঃসময়ের যাতনা অনুভব করবে না যা সে আগে অনুভব করছিল)। যখন কেউ ধনী অবস্থায় একে স্মরণ করবে তখন এটা (মৃত্যুকে স্মরণ করাটা) তাকে শৃঙ্খলিত ও ক্লান্ত অনুভব করতে সাহায্য করবে (অর্থাৎ, এতে করে সে তার এ পার্থিব জীবনের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত ব্যস্ত হয়ে পড়বে না এবং মৃত্যু পরবর্তী যে ভয়াবহ ও গুরুভার জীবন তার জন্য অপেক্ষা করছে তার প্রতিচ্ছায়া তার ওপর প্রতিফলিত হতে শুরু করবে।)
আমাদের হৃদয়ে পাওয়া কোনো দুঃখ ব্যাথার আঘাত নয় বরং সুখ-বিলাসিতাই আমাদের (আল্লাহর ভয়ে) কাঁদা হতে বিরত রাখে। তাই বেশি বেশি মৃত্যুকে স্মরণ কর, সর্বদা এর (মৃত্যুর) ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত থাকা যা প্রতিনিয়ত ধেয়ে আসছে এবং কঠিন পরিণতির কথা চিন্তা করা যাতে আল্লাহর ভয়ে কাঁদতে সক্ষম হও। আসলে আল্লাহ যাকে চান তার জন্য এটা (আল্লাহর ভয়ে কাঁদা) সহজ করে দেন।
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল ﷺ এর সাথে ছিলাম এমন সময় আনসারদের এক লোক রাসূল ﷺ এর কাছে এসে সালাম জানালেন এবং জিজ্ঞেস করলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ ﷺ! সবচেয়ে ভালো ঈমানদার কারা? তিনি উত্তর করলেন, যাদের চরিত্র সবচেয়ে ভালো। এরপর সে আবার প্রশ্ন করল, সবচেয়ে বুদ্ধিমান ঈমানদার কারা? তিনি উত্তর দিলেন, যারা সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর কথা স্মরণ করে এবং যা এর (মৃত্যুর) পর আসছে তার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে তারাই বুদ্ধিমান।
টিকাঃ
৬৪. ফায়াদ আল কাদীর হতে উৎসারিত।
৬৫. নাসায়ী, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও অন্যান্য সূত্র হতে বর্ণিত। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান গারীব বলেছেন। তথাপি শায়েখ আলবানী বলেন, এটি সহীহ এবং এর আরো অনেক প্রমাণ রয়েছে ..... ইবনে হিব্বান আল হাকীম ও অন্যান্য কর্তৃক বর্ণিত।
৬৬. শায়খ আলবানী আস সাহীহা গ্রন্থে একে হাসান বলেছেন। এর বিভিন্ন বর্ণনাসূত্র বিবেচনা করে।
📄 ধেয়ে আসা মৃত্যুর ভয়াবহতা নিয়ে গভীর চিন্তা করা
মৃত্যু নিয়ে গভীর চিন্তিত ব্যক্তিকে এর ভয়াবহতা ও আতংক বুঝতে সাহায্য করে যা শুরু হবে কবর ও বারযাখ এর আতংক দিয়ে (কিয়ামত দিবসের আগে কবরে যে সাময়িক অবস্থানকাল)। এটা মনে করো না যে মৃত্যু অনেক দূরে, কেননা রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে সতর্ক করেছেন এরূপ চিন্তা করা থেকে। তিনি ﷺ বলেন, জান্নাত তোমাদের যে কারোর জুতার ফিতার চেয়েও বেশি নিকটে, জাহান্নামও তেমনি। এ ব্যাপারে বহু বর্ণনা রয়েছে আর আমি সেখান থেকে কিছু হাদীস আবারো স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি।
আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমরা রাসূল ﷺ এর সাথে বসা ছিলাম এমন সময় জোরে কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলাম। রাসূল ﷺ তখন প্রশ্ন করলেন, তোমরা কি জান এটা কিসের আওয়াজ শুনেছ? আমরা উত্তরে বললাম 'আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল ﷺ ই অধিক জানেন।' তিনি ﷺ তখন বললেন, ঐটা ছিল একটি পাথর যা জাহান্নামের অগ্নিকুণ্ডের দিকে সত্তর বছর আগে নিক্ষিপ্ত করা হয়েছিল। যা আগুনের গভীরে যেতে যেতে একটু আগে তলানীতে ঠেকল।
রাসূলে আকরাম ﷺ বলেন, নিশ্চয়ই শিঙ্গাধারী ফেরেশতা তার চোখ, এ কাজে নিয়োজিত হওয়ার দিন থেকেই এক দৃষ্টিতে আল্লাহর আরশের দিকে তাকিয়ে আছে (তা সাধারণ কোনো তাকানো নয়) এ ভয়ে যে কখন তাকে শিঙ্গায় ফুঁক দিতে আদেশ করা হয়। আর তার চোখ দুটো দুটি উজ্জ্বল তারকার মতো।
অন্য এক বর্ণনায় আছে, কিভাবে আমি আরাম-আয়েশের জীবন-যাপন করতে পারি যখন শিঙ্গাধারী ফেরেশতা তার ঠোঁটে শিঙ্গা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর তার মাথা উঁচুতে তুলে ধরে আছে (শিঙ্গায় ফুঁক দিতে আল্লাহর) নির্দেশ শুনতে। তাই যখনই তাকে আদেশ করা হবে তখনই সে তাতে ফুঁক দিবে। একথা শুনে উপস্থিতগণ প্রশ্ন করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ﷺ তখন আমাদের কী বলতে হবে? তিনি ﷺ উত্তরে বললেন, (তখন তোমরা) বলবে, আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট ও তিনিই উত্তম অভিভাবক। হে আমাদের প্রভু! আমরা আপনার ওপর ঈমান এনেছি। (আরবি দোয়া- হাসবুনাল্লাহা নে'মাল ওয়াকীল। নে'মাল মাওলা ওয়া নে'মান্নাসীর।)
আমানতু বিল্লাহ ইয়া আল্লাহ/রাব্বি। এবং সম্ভবত সুফিয়ান (রা) বলেছিলেন, “আমানতু বিল্লাহ।”
কিভাবে নবী ﷺ সুখী মনে থাকবেন ও আর কিভাবেই বা স্থিরচিত্তের (ভাবলেশহীন) থাকবেন! কিভাবে তিনি এরূপ থাকবেন যেখানে মানুষ আল্লাহর বিধান লংঘন করে পাপ করছে তদুপরি, শিঙ্গাধারী ফেরেশতা ইতোমধ্যে তার মুখে শিঙ্গা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আল্লাহর নির্দেশের অপেক্ষায় যে নির্দেশ পেলেই সে তা বাজাবে।
আনাস ইবনে মালেক (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, (কিয়ামতের দিন) সকল কান্না পাঠিয়ে দেয়া হবে জাহান্নামীদের কাছে যার দ্বারা জাহান্নামীরা তাদের চোখ শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত কাঁদতে থাকবে। তারপর তারা কাঁদলে রক্ত ঝরবে, যতক্ষণ না তাদের চোখে-মুখে রক্তে মাখামাখি হয়ে গর্ত হয়ে যায়। আর যদি কোনো জাহাজ সেখানে ছেড়ে দেয়া যায় তবে তা চলতে পারবে।
অন্য এক বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, “হে মানুষ কাঁদো! যদি তোমাদের কান্না না আসে তবে কান্নার ভাব কর। কেননা, জাহান্নামবাসীরা কাঁদবে যতক্ষণ না চোখের পানিতে কপাল ভিজে যায়, যেন তারা ভাসছে, এভাবে চোখের পানি ফুরিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত কাঁদবে। এরপর (চোখ দিয়ে) রক্ত প্রবাহিত হবে তারপর চোখগুলোতে ক্ষত/গর্ত দিয়ে ভরে যাবে।”
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, অবশ্যই জাহান্নামের অধিবাসীরা মালিক নামক এক ফেরেশতাকে ডাকবে, কিন্তু সে চল্লিশ বছরের মধ্যে কোনো উত্তর করবে না। এরপর সে বলবে, 'তোমরাইতো এখানকার (উপযুক্ত) অধিবাসী।' এরপর তারা তাদের প্রভুকে ডাকতে থাকবে এ বলে, হে আমাদের প্রভু, আমাদেরকে এখান থেকে মুক্তি দিন। যদি আমরা (আবার পৃথিবীতে) ফিরে যাই তবে (অপরাধ করার সুযোগ থাকলেও) আমরা বাধ্যগত থাকব। তাদের আহ্বানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা দীর্ঘকাল কোনো সাড়া দিবেন না। এরপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলবেন, 'দূর হও! জাহান্নামেই থাক আর কোনো কথা বল না।' অতঃপর জাহান্নামীরা সব আশা ত্যাগ করবে আর তখন শুধু তাদের গগনবিদারী হাহাকার ও কান্নার আওয়াজ ভেসে আসবে। তাদের কেউ হয়ে যাবে গাঁধার মতো (কর্কশ), প্রথমে তারা তীব্র কর্কশ কণ্ঠে কাঁদবে আর পরে তা বিলাপের মাধ্যমে শেষ হবে।
আবু দারদা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি উল্লেখ করেন যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, অবশ্যই তোমাদের সবার সম্মুখে এক অলঙ্ঘনীয় বাঁধা রয়েছে আর পাপীরা সে বাধা পার হতে পারবে না। উম্মে দারদা (রা)-এর অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, আবু দারদা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি (উম্মে দারদা) বলেন, আমি তাকে (আবু দারদাকে) জিজ্ঞেস করলাম, আপনার কী হয়েছে যে আপনি কিছুই চাচ্ছেন না- যেমন ঐ লোকটি এতো এতো চাচ্ছে? তিনি উত্তরে বললেন, অবশ্যই আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছি, নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য রয়েছে এক দুর্লঙ্ঘনীয় বাঁধা, যারা পাপের ভারে নূহ্য তারা এ বাঁধা অতিক্রম করতে পারবে না। তাই অবশ্যই আমি (আবু দারদা) সেই বাঁধা অতিক্রান্তে প্রস্তুতিস্বরূপ (দুনিয়াবি সম্পদ না বাড়িয়ে) আমার বোঝা হালকা করতে চাই।
টিকাঃ
৬৭. আমার বই “কবর, শাস্তি ও শান্তি” (ইবনে হাজম পাবলিশিং হাউজ, ১৯৯৭, বৈরুতে, লেবানন) হতে উৎসারিত।
৬৮. বুখারী শরীফ হতে বর্ণিত।
৬৯. মুসলিম শরীফ হতে বর্ণিত।
৭০. শিঙ্গা যা ব্যাপকভাবে বেজে উঠবে (যখন বিচার দিবস এসে পড়বে)। এভাবেই বর্ণিত হয়েছে ইবনুল মোবারকের আয যুহদ গ্রন্থে ইমাম তিরমিজি, আবু দাউদ এবং অন্যান্য কর্তৃক বর্ণিত। শায়খ আলবানী আস সাহীহা গ্রন্থে একে সহীহ হাদীস বলেছেন।
৭১. আল হাকীম ও অন্যান্য কর্তৃক বর্ণিত। আস সাহীহা গ্রন্থে আলবানী কর্তৃক সহীত স্বীকৃত।
৭২. আস সাহীহা গ্রন্থে শায়েখ আলবানী হাদীয়টি উদ্ধৃত করেন।
৭৩. ইবনে মাজাহ কর্তৃক বর্ণিত, শায়খ আলবানী একে সহীহ আত তারগীব ও ওয়াত তারহীব গ্রন্থে 'হাসান' বলেছেন। আস সাহীহা গ্রন্থে উদ্ধৃত।
৭৪. সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব গ্রন্থে একে হাসান বলেছেন।
৭৫. 'আত তারগীব ওয়াত তারহীব' গ্রন্থে আল মুনযিরী (র) বলেন, ইমাম তাবরানী হাদীসটিকে মাওকুফ হিসেবে উদ্ধৃত করেছেন। শায়খ আলবানী আত তালীক আর রাগীব গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন, যেখানে তিনি (আলবানী) এ হাদীস সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ টীক: উল্লেখ করেছেন।
📄 কবর যিয়ারত করা
এভাবে মৃত্যুর স্মরণ এবং ধেয়ে আসার মৃত্যুর ভয়াবহতা নিয়ে চিন্তা করা অবশ্য কর্তব্য।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, কবর যিয়ারত করতে ইতোপূর্বে আমি তোমাদের নিষেধ করেছিলাম কিন্তু এখন থেকে তোমরা তা করবে। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, তিনি ﷺ বলেছেন, কবর যিয়ারত কর কেননা নিশ্চয়ই এটা মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়। অন্য এক বর্ণনায় তিনি ﷺ বলেন, (কবর) যিয়ারত তোমাদের পরিশুদ্ধ করবে।
আবু সাঈদ খুদরী (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, নবী ﷺ বলেছেন, নিশ্চয়ই আমি ইতোপূর্বে কবরস্থানে যেতে নিষেধ করেছিলাম কিন্তু এখন (বলছি) তোমাদের কবরস্থানে যাওয়া উচিত। কেননা এতে তোমাদের জন্য রয়েছে শিক্ষা ও সতর্কবাণী।
আনাস ইবনে মালেক (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, কিন্তু এখন তোমরা তাদেরকে (মৃতদেরকে কবরস্থানে) দেখতে যাবে। কেননা এতে হৃদয় নরম হয়, চোখ অশ্রুসিক্ত হয় এবং পরকাল স্মরণ করিয়ে দেয়।
টিকাঃ
৭৬. আল মুনযিরী (র) 'আত তারগীব ওয়াত তারহীব' গ্রন্থে বলেন, ইমাম বাযর (র)-এর বর্ণনার ধারাবাহিকতাকে হাসান বলেন। শায়েখ আলবানী সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন।
৭৭. ইমাম তাবরানী বর্ণনার ধারাবাহিকতা সূত্রে সহীহ বলেছেন, ঠিক একইভাবে আল মুনযিরী (র) 'আত তারগীব ওয়াত তারহীব' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। শায়খ আলবানী সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব গ্রন্থে সহীহ বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
৭৮. ইমাম মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত
৭৯. ইমাম মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত
৮০. ইমাম আহমদ কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটিকে শায়েখ আলবানী তার আহকামুল জানায়েয গ্রন্থে সহীহ হাদীস বলে উদ্ধৃত করেছেন।
৮১. ইমাম আহমদ ও হাকীম কর্তৃক বর্ণিত।
৮২. আল হাকীম ও অন্যান্য কর্তৃক বর্ণিত, শায়খ আলবানী তার আহকামুল জানায়েয গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন।