📘 আল্লাহর ভয়ে কাঁদা > 📄 সালমান ফারসী (রা)-এর কান্না

📄 সালমান ফারসী (রা)-এর কান্না


আনাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সালমান ফারসী (রা) অসুস্থতায় ভুগছিলেন। সাদ (রা) তাঁকে দেখতে এলেন। তিনি দেখলেন যে সালমান ফারসী (রা) কাঁদছেন তাই সাদ (রা) তাকে প্রশ্ন করলেন, হে আমার ভাই! আপনি কাঁদছেন কেন? আপনি কি আল্লাহর রাসূল ﷺ এর সঙ্গে ছিলেন না? এটা কি তেমন নয়, এটা কি তেমন নয়? (অর্থাৎ রাসূল ﷺ এর জীবদ্দশায় ইসলাম প্রতিষ্ঠা পূর্ব সময়ে কাফিরদের অত্যাচার-নির্যাতনের মতোই কি কষ্টকর নয়)। সালমান (রা) উত্তরে বললেন, নিম্নোক্ত দুটি কারণের কোনো কারণেই কাঁদছি না। আমি পার্থিব কোনো স্বার্থের কথা চিন্তা করে কাঁদছি না। না পরকালের প্রতি ঘৃণা নিয়ে কাঁদছি। বরং আল্লাহর রাসূল ﷺ দৃঢ়তার সাথে আমাকে আশ্বস্ত করেছেন, কিন্তু আমি নিজেকে শুধু একজন সীমালংঘনকারী হিসেবেই দেখছি। আর তোমাকে বলছি, হে সাদ! যখন তুমি বিচার করবে তোমার বিচার কার্যে আল্লাহকে ভয় করো, তোমার বিতরণ কার্যে আল্লাহকে ভয় করো যখন তুমি বিতরণ করবে। তোমার নিয়তেও আল্লাহকে ভয় কর যখন তুমি কোনো কিছু করার নিয়ত কর।
সাবিত (রা) বলেন, 'আমি শুনেছি যে তিনি তার মৃত্যুর পর সম্পত্তি হিসেবে শুধু বিশ দিরহাম রেখে গেছেন।

টিকাঃ
৫১. ইবনে মাজাহ কর্তৃক বর্ণিত (সহীহ সুনানে ইবনে মাজাহ) এছাড়া অন্য আরো অনেকেই বর্ণনা করেছেন এবং হাদীসটি সহীহ। আস সহীহা থেকে উদ্ধৃত।
৫২. সহীহ সূনানে ইবনে মাজাহ হতে বর্ণিত।

📘 আল্লাহর ভয়ে কাঁদা > 📄 আবু হাশিম ইবনে উতবা (রা)-এর কান্না

📄 আবু হাশিম ইবনে উতবা (রা)-এর কান্না


সামুরাহ বিন শাম হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু হাশিম ইবনে ওতবার নিকট গেলাম আর সে ছিল তখন ছুরির আঘাতে আহত। আর মুয়াবিয়া (রা) তাকে দেখতে এলেন, আবু হাশিম (রা) তখন কাঁদছিলেন। মুয়াবিয়া (রা) জিজ্ঞেস করলেন, হে চাচা! কোন জিনিস আপনাকে কাঁদাচ্ছে? ব্যাথা নাকি এ পৃথিবী। তিনি উত্তরে বললেন, 'কোনোটিই নয়', বরং আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাকে আশ্বস্ত করেছেন এবং আমি তা পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি বলেন, নিশ্চয়ই তোমরা যে সম্পদ অর্জন কর তা লোকদের মধ্যে ভাগ হয়। প্রকৃত অর্থে তোমাদের জন্য যথেষ্ট হলো : “একজন গোলাম/চাকর এবং একটি বাহনের পশু যা আল্লাহর পথে কাজে লাগবে।” আর আমি এ সম্পদ অর্জন করেছি এবং তা সঞ্চয় করে রেখেছি। অর্থাৎ, রাসূল ﷺ ঘোষিত সম্পদের চেয়েও বেশি সম্পত্তি তিনি অর্জন করেছেন।

টিকাঃ
৫৩. ইমাম আহমদ, তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ কর্তৃক বর্ণিত। শায়েখ আলবানী একে আত তারগীব ওয়াত তারহীব গ্রন্থে 'হাসান' বলে ঘোষণা করেছেন।

📘 আল্লাহর ভয়ে কাঁদা > 📄 যে পথে চললে আল্লাহর ভয়ে কান্না আসে

📄 যে পথে চললে আল্লাহর ভয়ে কান্না আসে


আল্লাহর ভয়। এটা অর্জনে আন্তরিকতার সাথে কঠোর পরিশ্রম করা ও সতর্ক হওয়া জরুরি।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, "আল্লাহকে ভয় কর আর আল্লাহ তোমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন।”
রুহুল মাআনীতে এসেছে, 'আল্লাহকে ভয় কর।' এর অর্থ হলো, তিনি যা আদেশ করেছেন তা করা এবং তিনি যা করতে নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকা। আর 'আল্লাহ তোমাদেরকে শিখিয়েছেন' এর অর্থ হলো, তিনি (আল্লাহ) তাঁর আইন-কানুন যা তোমাদের আকর্ষণীয় বস্তুগুলোকে ঘিরে রয়েছে। আর এ কারণেই কান্না আসবে (তোমাদের)।
وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِ يَنْهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ .
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন, "যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করব।
এটা ভেবেও কান্না আসতে পারে। আনাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি রাসূল ﷺ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, তিন ধরনের মানুষ ঈমানের স্বাদ পাবে প্রথমতঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং তার রাসূল ﷺ কে অন্য যে কোনো কিছুর চেয়ে বেশি ভালোবাসবে। দ্বিতীয়তঃ যে ব্যক্তি অন্য কাউকে শুধু আল্লাহর জন্যই ভালোবাসবে। তৃতীয়তঃ যে ব্যক্তি জাহিলিয়াত থেকে উদ্ধারের (হেদায়েতের) পর, ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মে ফিরবে না এ কারণে যে সে জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে চায় না। আর আল্লাহর ভয়ে কাঁদলে এ ঈমানী মজা পাওয়া যাবে।

টিকাঃ
৫৪. আমার রচিত 'বই দি বুক অফ সিনসিয়ারিটি" থেকে উৎসারিত। (আল ইরশাদ, ১৯৯৭. মিডলব্রাড, ইউকে)।
৫৫. সূরা আল বাকারা (২): ২৮২।
৫৬. সূরা আনকাবুত (২৯) : ৬৯।
৫৭. বুখারী ও মুসলিম হতে বর্ণিত।

📘 আল্লাহর ভয়ে কাঁদা > 📄 জ্ঞান

📄 জ্ঞান


مُخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ كَذَلِكَ ، إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ العُلَموا ، إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ غَفُورٌ .
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাহদের মধ্যে জ্ঞানীরাই আল্লাহকে ভয় করে।
أُولَئِكَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِّنَ النَّبِيِّنَ مِنْ ذُرِّيَّةِ أَدَمَ وَ وَمِمَّنْ حَمَلْنَا مَعَ نُوحٍ رُو مِنْ ذُرِّيَّةِ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْرَاءِ يُلَ ز وَمِمَّنْ هَدَيْنَا وَاجْتَبَيْنَا إِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ أَيْتُ الرَّحْمَنِ خَرُّوا سُجَّدًا وَبُكِيا .
আল্লাহু সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আরো বলেন, এঁরা হচ্ছেন, এমন সব নবী, যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছিলেন আদম সন্তানদের মধ্য থেকে এবং যাদেরকে আমি নূহের সাথে নৌকায় আরোহণ করিয়েছিলাম, তাদের বংশধরদের থেকে, আর ইবরাহীমের বংশধরদের থেকে ও ইসরাঈলের বংশধরদের থেকে, আর এরা ছিল তাদের মধ্যে থেকে যাদেরকে আমি সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছিলাম এবং বাছাই করে নিয়েছিলাম। এদের অবস্থা এই ছিল যে, যখন করুণাময়ের আয়াত এদেরকে শুনানো হতো তখন কান্নারত অবস্থায় সিজদায় লুটিয়ে পড়ত।
قُلْ أَمِنُوا بِهِ أَوْلاَ تُؤْمِنُوا إِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ مِنْ قَبْلِهِ إِذَا يُتْلَى عَلَيْهِمْ يَخِرُّونَ لِلْأَذْقَانِ سُجَّدًا لَا وَيَقُولُونَ سُبْحْنَ رَبِّنَا إِنْ كَانَ وَعْدُ رَبِّنَا لَمَفْعُولاً ، وَيَخِرُّونَ لِلْأَذْقَانِ يَبْكُونَ وَيَزِيدُ هُمْ خُسُوعًا .
(হে মুহাম্মদ ﷺ) আপনি এদেরকে বলে দিন, তোমরা একে (কুরআনকে) মানো বা না মানো, যাদেরকে এর আগে জ্ঞান দেয়া হয়েছে তাদেরকে যখন এটা শুনানো হয় তখন তারা অবনত মস্তকে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং বলে উঠে পাক পবিত্র আমাদের রব, আমাদের রবের প্রতিশ্রুতি তো পূর্ণ হয়েই থাকে।” এবং তারা মুখে কাঁদতে কাঁদতে লুটিয়ে পড়ে এবং তা শুনে তাদের বিনয় আরো বেড়ে যায়।
আবুল আ'লা আল তাঈমী এ আয়াতে কারীমা সম্পর্কে বলেন, যাকেই জ্ঞান দেয়া হয়েছে তাকে তা কাঁদায় নি; বরং তাকে প্রদত্ত জ্ঞান দ্বারা তার উপকারই হয়েছে। কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা জ্ঞানীর ব্যাপারে বলেন-
ولِيَعْلَمَ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ فَيُؤْمِنُوا بِهِ فَتُخْبِتَ لَهُ قُلُوبُهُمْ ، وَإِنَّ اللَّهَ لَهَادِ الَّذِينَ آمَنُوا إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ .
এবং যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে তারা যেন জেনে নেয় যে, এটা আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে সত্য এবং তারা এর প্রতি ঈমান আনে এবং এর সামনে তাদের অন্তর ঝুঁকে পড়ে; যারা ঈমান আনে অবশ্যই আল্লাহ তাদের চিরকাল সত্য-সরল পথ দেখিয়ে থাকেন।
আবু জর গিফারী (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আমি যা দেখি তোমরা তা দেখ না এবং আমি যা শুনি তোমরা তা শুন না। নিশ্চয়ই আকাশের কাঁদার ক্ষমতা রয়েছে এবং সে কাঁদে। আকাশের কোনো স্থানই হাতের চার আঙ্গুলের মতো সমান নয় তবে আল্লাহ যে স্থানে ফেরেশতা বসিয়ে রেখেছেন তা ছাড়া। আল্লাহর কসম আমি যা জানি যদি তোমরা তা জানতে তবে তোমরা হাসতে কম, কাঁদতে বেশি এবং তোমাদের স্ত্রীদের সাথে রাত্রিযাপন করতে পারতে না। (অর্থাৎ, খুব পেরেশান থাকবে)। বরং তোমরা পাহাড়ের চূড়ায় উঠে যেতে এবং আল্লাহর ইবাদত ও বন্দেগীতে মশগুল থাকতে।

টিকাঃ
৫৮. সূরা আল ফাতির (৩৫): ২৮।
৫৯. সূরা মরিয়ম (১৯) : ৫৮-৬০
৬০. সূরা বনী ইসরাঈল (১৭): ১০৭-১০৯। (১০৭ নং আয়াতটি সিজদার আয়াত)
৬১. সূরা আল হজ্ব (২২): ৫৪
৬২. বিশাল সংখ্যক ফেরেশতা আকাশে নামলে তা ভারী হয়ে যায় ফলে আকাশ কেঁদে উঠে।
৬৩. ইমাম আহমদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ এবং অন্যান্য কর্তৃক বর্ণিত, এটা হাসান হাদীস। শায়েখ আলবানী আস সাহীহা গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন। ইমাম বুখারী সারসংক্ষেপ আকারে উদ্ধৃত করেছেন এভাবে "যদি তোমরা তা জানতে যা আমি জানি, তবে তোমরা হাসতে কম, কাঁদতে বেশি।” ঠিক এভাবেই শায়েখ আলবানী উল্লিখিত সূত্রের ইঙ্গিত করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00