📄 উম্মে আইমান (রা)
আনাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু বকর (রা) রাসূলুল্লাহ ﷺ ওফাতের পর উমর (রা)-কে বললেন, চলেন, আমরা উম্মে আইমান (রা)-কে দেখে আসি। রাসূল ﷺ জীবিত থাকতে প্রায়ই তাকে দেখতে যেতেন। (এরপর তারা ভ্রমণে গেলেন এবং) যখন তারা ফিরবেন তখন তিনি (উম্মে আইমান) কাঁদতে শুরু করেন। তাঁরা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কাঁদছেন কেন? রাসূল ﷺ যে আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে গেছেন এটা কি তাঁর (রাসূল ﷺ এর) জন্য উত্তম নয়? উম্মে আইমান উত্তরে বললেন, আমি সেজন্য কাঁদছি না এবং আমার কাছে এটাও অজানা নয় যে রাসূল ﷺ এর জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সঙ্গে সাক্ষাৎ (মৃত্যুবরণ) উত্তম; বরং আমি কাঁদছি এজন্য যে, (রাসূল ﷺ এর মৃত্যুর ফলে) স্বর্গীয় রহমত পৃথিবীতে আসা বন্ধ হয়ে গেছে। একথা তাদেরকেও কাঁদতে বাধ্য করল। তারা সবাই একসাথে কাঁদলেন।
টিকাঃ
৪৮. তিনি (উম্মে আইমান (রা) রাসূল ﷺ এর শৈশবে ধাত্রী ও সেবিকার কাজ করতেন।
৪৯. ইমাম মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত।
📄 তার মুনীব আবু বকর (রা) ও উমর (রা)-এর কান্না
আনাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু বকর (রা) রাসূলুল্লাহ ﷺ ওফাতের পর উমর (রা)-কে বললেন, চলেন, আমরা উম্মে আইমান (রা)-কে দেখে আসি। রাসূল ﷺ জীবিত থাকতে প্রায়ই তাকে দেখতে যেতেন। (এরপর তারা ভ্রমণে গেলেন এবং) যখন তারা ফিরবেন তখন তিনি (উম্মে আইমান) কাঁদতে শুরু করেন। তাঁরা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কাঁদছেন কেন? রাসূল ﷺ যে আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে গেছেন এটা কি তাঁর (রাসূল ﷺ এর) জন্য উত্তম নয়? উম্মে আইমান উত্তরে বললেন, আমি সেজন্য কাঁদছি না এবং আমার কাছে এটাও অজানা নয় যে রাসূল ﷺ এর জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সঙ্গে সাক্ষাৎ (মৃত্যুবরণ) উত্তম; বরং আমি কাঁদছি এজন্য যে, (রাসূল ﷺ এর মৃত্যুর ফলে) স্বর্গীয় রহমত পৃথিবীতে আসা বন্ধ হয়ে গেছে। একথা তাদেরকেও কাঁদতে বাধ্য করল। তারা সবাই একসাথে কাঁদলেন।
টিকাঃ
৪৮. তিনি (উম্মে আইমান (রা) রাসূল ﷺ এর শৈশবে ধাত্রী ও সেবিকার কাজ করতেন।
৪৯. ইমাম মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত।
📄 আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা)-এর কান্না
সাদ ইবনে ইবরাহীম (রা) হতে বর্ণিত, তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা) রোযা রেখেছেন এমন একদিন তার সামনে কিছু খাবার আনা হলো এবং তিনি ঘোষণা করলেন, মুসআব ইবনে উমায়ের শহীদ হয়েছেন আর তিনি ছিলেন আমার চেয়ে উত্তম। তার কাফনের কাপড় ছিল এত ছোট যে, যদি তার মাথা ঢাকা হয় পা বেরিয়ে পড়ে আবার যদি তার পা ঢাকা হয় মাথা বেরিয়ে পড়ে আর আমি এ দৃশ্য দেখেছিলাম। তিনি আরো বলেন, 'হামজা (রা) শহীদ হন আর তিনিও আমার চেয়ে উত্তম ছিলেন। আর এখন পৃথিবী আমাদের জন্য অনেক প্রশস্ত হয়েছে (অথচ তাদের সময় এমনটা ছিল না)। অথবা তিনি বলেন, পৃথিবীর অনেক সম্পদ (এখন) আমাদের দেয়া হয়েছে। আর আমরা আশংকা করছি না জানি আমাদের ভালো কাজগুলোর প্রতিদান (খুব দ্রুত এ পৃথিবীতেই) দিয়ে দেয়া হয়েছে। এরপর তিনি খুব কাঁদতে শুরু করলেন এবং তিনি তার খাবার পরিত্যাগ করেন।
টিকাঃ
৫০. বুখারী শরীফ হতে বর্ণিত।
📄 সালমান ফারসী (রা)-এর কান্না
আনাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সালমান ফারসী (রা) অসুস্থতায় ভুগছিলেন। সাদ (রা) তাঁকে দেখতে এলেন। তিনি দেখলেন যে সালমান ফারসী (রা) কাঁদছেন তাই সাদ (রা) তাকে প্রশ্ন করলেন, হে আমার ভাই! আপনি কাঁদছেন কেন? আপনি কি আল্লাহর রাসূল ﷺ এর সঙ্গে ছিলেন না? এটা কি তেমন নয়, এটা কি তেমন নয়? (অর্থাৎ রাসূল ﷺ এর জীবদ্দশায় ইসলাম প্রতিষ্ঠা পূর্ব সময়ে কাফিরদের অত্যাচার-নির্যাতনের মতোই কি কষ্টকর নয়)। সালমান (রা) উত্তরে বললেন, নিম্নোক্ত দুটি কারণের কোনো কারণেই কাঁদছি না। আমি পার্থিব কোনো স্বার্থের কথা চিন্তা করে কাঁদছি না। না পরকালের প্রতি ঘৃণা নিয়ে কাঁদছি। বরং আল্লাহর রাসূল ﷺ দৃঢ়তার সাথে আমাকে আশ্বস্ত করেছেন, কিন্তু আমি নিজেকে শুধু একজন সীমালংঘনকারী হিসেবেই দেখছি। আর তোমাকে বলছি, হে সাদ! যখন তুমি বিচার করবে তোমার বিচার কার্যে আল্লাহকে ভয় করো, তোমার বিতরণ কার্যে আল্লাহকে ভয় করো যখন তুমি বিতরণ করবে। তোমার নিয়তেও আল্লাহকে ভয় কর যখন তুমি কোনো কিছু করার নিয়ত কর।
সাবিত (রা) বলেন, 'আমি শুনেছি যে তিনি তার মৃত্যুর পর সম্পত্তি হিসেবে শুধু বিশ দিরহাম রেখে গেছেন।
টিকাঃ
৫১. ইবনে মাজাহ কর্তৃক বর্ণিত (সহীহ সুনানে ইবনে মাজাহ) এছাড়া অন্য আরো অনেকেই বর্ণনা করেছেন এবং হাদীসটি সহীহ। আস সহীহা থেকে উদ্ধৃত।
৫২. সহীহ সূনানে ইবনে মাজাহ হতে বর্ণিত।