📄 উসমান ইবনে আফফান (রা)-এর কান্না
উসমান ইবনে আফফান (রা)-এর মুক্ত দাস হানী (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন উসমান ইবনে আফফান (রা) কোনো কবরের পাশে দাঁড়াতেন তাঁর দাড়ি ভিজে না যাওয়া পর্যন্ত কাঁদতেন। একবার তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনি জান্নাত ও জাহান্নামের আলোচনা শুনেছেন কিন্তু কাঁদেননি। অথচ এখন (কবরের আলোচনা শুনে) কাঁদলেন, কেন?” তিনি উত্তরে বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন, “কবর হলো পরকালীন জীবনের প্রথম ধাপ, যদি কেউ এখানে রক্ষা পায় তাহলে পরবর্তী ধাপগুলো আরো সহজ হয়। আর যদি কেউ এখানে রক্ষা না পায় তবে পরবর্তী পর্যায়গুলো হবে আরো ভয়াবহ।” তিনি (রাসূল ﷺ) আরো বলেন, “আমি কবরের চেয়ে অধিক আতংকের জায়গা আর দেখিনি।
টিকাঃ
৪৫. ইমাম তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ হতে বর্ণিত, ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে গারীব হাদীস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শায়খ আলবানী 'আল মিশকাত' গ্রন্থে এ সম্পর্কে বলেন, এর বর্ণনার ধারাবাহিকতা বিশুদ্ধ হাসান।
📄 আয়েশা (রা)-এর কান্না
ইবনে হারিস যিনি নবী মুহাম্মদ ﷺ এর স্ত্রী আয়েশা (রা)-এর ভাতিজা, বর্ণনা করেন যে, তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আবদুল্লাহ ইবনে জোবায়ের (রা) বলেন, আল্লাহর কসম, যদি আয়েশা (রা) এটা ত্যাগ না করে তবে আমি তাকে বয়কট করব (অর্থাৎ, তার কাছে আর আসব না)।
আয়েশা (রা) জানতে চাইলেন, সত্যিই কি তিনি (আবদুল্লাহ ইবনে জোবায়ের (রা)) একথা বলেছেন? লোকেরা উত্তরে বলল, 'হ্যাঁ'। আয়েশা (রা) তখন বললেন, আমি আল্লাহর কসম করে বলছি আমি আবদুল্লাহ ইবনে জোবায়ের (রা)-এর সাথে আর কথা বলব না। যখন এ (কথা না বলার) বিরতি দীর্ঘ হচ্ছিল তখন (এ অবস্থা নিরসনে) আবদুল্লাহ ইবনে জোবায়ের তার (আয়েশা (রা)-এর) পরিচিত কোনো মধ্যস্থতাকারী খুঁজতে লাগলেন। কিন্তু আয়েশা (রা) একথা শুনে বললেন, আল্লাহর শপথ, আমি কোনো (তার নিয়োজিত) মধ্যস্থতাকারীকে মেনে নেব না। আর আমি আমার শপথ ভেঙে কোনো পাপও করব না। এরপর যখন এ বিরতি আরো দীর্ঘ হচ্ছিল (এবং মনে মনে কষ্ট পাচ্ছিলেন) তখন তিনি মিসওয়ার ইবনে মাকরামা এবং বনী যোহরার গোত্র থেকে আগত আবদুর রহমান বিন আসওয়াদ বিন আবদে ইয়াগুসের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলেন, আমি আপনাকে অনুরোধ করছি, আল্লাহর কসম, আয়েশা (রা)-এর কাছে আমাকে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করুন। কেননা আমার সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার শপথ করা তার জন্য হারাম।
তাই মিসওয়ার ও আবদুর রহমান তার সাথে সামনে এগিয়ে চলল। তাঁকে (আবদুল্লাহ ইবনে জোবায়েরকে) কাপড় দিয়ে পেচিয়ে তাদের মধ্যখানে আড়াল করে রাখল। তারা আয়েশা (রা)-এর কাছে পৌঁছে প্রবেশের অনুমতি চেয়ে সালাম দিল "আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহি ওবারাকাতুহু” আমরা কি ভিতরে আসতে পারি! আয়েশা (রা) বললেন, 'হ্যাঁ, আসুন'। তারা বললেন, আমাদের সবাই আসবে? তিনি বললেন, “হ্যাঁ, আপনাদের সবাই আসুন।” তিনি জানতেন না যে আবদুল্লাহ ইবনে জোবায়ের (রা) তাদের মধ্যে আছেন। তাই যখন তারা প্রবেশ করলেন তখন আয়েশা (রা)ও অন্য লোক মারফত জোবায়ের (রা)-এর প্রবেশের কথা জানতে পারেন।
জোবায়ের (রা) আয়েশা (রা)-কে করজোরে মিনতি করতে থাকলেন তাকে ক্ষমা করার জন্য আর কাঁদছিলেন। মিসওয়ার ও আবদুর রহমানও আয়েশা (রা)-কে জোবায়ের (রা)-এর সাথে কথা বলতে ও তাকে ক্ষমার আবেদন গ্রহণ করে নিতে অনুরোধ করতে লাগলেন। তারা তাকে বললেন, “আপনি (আয়েশা) জানেন যে নবী ﷺ (মুসলিমদের সাথে কথা না বলার মতো) সম্পর্ক বিচ্ছিন্নকারিতা নিষেধ করেছেন। এ কারণে যে কোনো মুসলিমের জন্য এটা হারাম যে সে তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি কথা বলবে না।”
এভাবে তারা যখন বার বার তাঁকে (আত্মীয়তার সম্পর্ক ভালো রাখা ও অন্যের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করার মাহাত্ম্য) স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিলেন এবং অসুখী ও অস্বস্তিকর পরিবেশ যা সম্পর্ক বিনষ্টের ফলে তৈরি হয় তা তুলে ধরলেন। আয়েশা (রা)ও তাদেরকে কাঁদতে কাঁদতে তার শপথের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিলেন এ বলে, “আমি তো শপথ করেছি আর শপথ খুবই কঠিন ব্যাপার।” তারা তাকে নাছোর বান্দার মতো অনুরোধ করতে থাকলেন যতক্ষণ না তিনি আবদুল্লাহ ইবনে জোবায়েরের সাথে কথা বলেন। অবশেষে তিনি আবদুল্লাহ ইবনে জোবায়েরের সাথে কথা বললেন এবং তার শপথ ভাঙার কাফফারাস্বরূপ চল্লিশটি দাস মুক্ত করে দেন। পরে যখনই তার [আয়েশা (রা)] শপথের কথা স্মরণ হতো তখন তিনি এত বেশি কাঁদতেন যে তাঁর চোখের পানিতে তাঁর গায়ের চাদর ভিজে যেত।
টিকাঃ
৪৬. হাফিজ বলেন, যেহেতু সে (আবদুল্লাহ ইবনে জোবায়ের) ছিল তাঁর (আয়েশা (রা)-এর) ভাতিজা এবং তার বেড়ে উঠায় তাঁর ভূমিকা ছিল।
৪৭. বুখারী শরীফ।
📄 উম্মে আইমান (রা)
আনাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু বকর (রা) রাসূলুল্লাহ ﷺ ওফাতের পর উমর (রা)-কে বললেন, চলেন, আমরা উম্মে আইমান (রা)-কে দেখে আসি। রাসূল ﷺ জীবিত থাকতে প্রায়ই তাকে দেখতে যেতেন। (এরপর তারা ভ্রমণে গেলেন এবং) যখন তারা ফিরবেন তখন তিনি (উম্মে আইমান) কাঁদতে শুরু করেন। তাঁরা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কাঁদছেন কেন? রাসূল ﷺ যে আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে গেছেন এটা কি তাঁর (রাসূল ﷺ এর) জন্য উত্তম নয়? উম্মে আইমান উত্তরে বললেন, আমি সেজন্য কাঁদছি না এবং আমার কাছে এটাও অজানা নয় যে রাসূল ﷺ এর জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সঙ্গে সাক্ষাৎ (মৃত্যুবরণ) উত্তম; বরং আমি কাঁদছি এজন্য যে, (রাসূল ﷺ এর মৃত্যুর ফলে) স্বর্গীয় রহমত পৃথিবীতে আসা বন্ধ হয়ে গেছে। একথা তাদেরকেও কাঁদতে বাধ্য করল। তারা সবাই একসাথে কাঁদলেন।
টিকাঃ
৪৮. তিনি (উম্মে আইমান (রা) রাসূল ﷺ এর শৈশবে ধাত্রী ও সেবিকার কাজ করতেন।
৪৯. ইমাম মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত।
📄 তার মুনীব আবু বকর (রা) ও উমর (রা)-এর কান্না
আনাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু বকর (রা) রাসূলুল্লাহ ﷺ ওফাতের পর উমর (রা)-কে বললেন, চলেন, আমরা উম্মে আইমান (রা)-কে দেখে আসি। রাসূল ﷺ জীবিত থাকতে প্রায়ই তাকে দেখতে যেতেন। (এরপর তারা ভ্রমণে গেলেন এবং) যখন তারা ফিরবেন তখন তিনি (উম্মে আইমান) কাঁদতে শুরু করেন। তাঁরা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কাঁদছেন কেন? রাসূল ﷺ যে আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে গেছেন এটা কি তাঁর (রাসূল ﷺ এর) জন্য উত্তম নয়? উম্মে আইমান উত্তরে বললেন, আমি সেজন্য কাঁদছি না এবং আমার কাছে এটাও অজানা নয় যে রাসূল ﷺ এর জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সঙ্গে সাক্ষাৎ (মৃত্যুবরণ) উত্তম; বরং আমি কাঁদছি এজন্য যে, (রাসূল ﷺ এর মৃত্যুর ফলে) স্বর্গীয় রহমত পৃথিবীতে আসা বন্ধ হয়ে গেছে। একথা তাদেরকেও কাঁদতে বাধ্য করল। তারা সবাই একসাথে কাঁদলেন।
টিকাঃ
৪৮. তিনি (উম্মে আইমান (রা) রাসূল ﷺ এর শৈশবে ধাত্রী ও সেবিকার কাজ করতেন।
৪৯. ইমাম মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত।