📘 আল্লাহর ভয়ে কাঁদা > 📄 সাহাবায়ে আজমাঈনের কান্না/সাহাবাগণের কান্না

📄 সাহাবায়ে আজমাঈনের কান্না/সাহাবাগণের কান্না


ইরবাদ ইবনে ছারীয়্যাহ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাদের গভীর সতর্কবাণী দিয়েছেন যা আমাদের অন্তরে কম্পন সৃষ্টি করেছে এবং আমাদের চোখের অশ্রু বিগলিত করেছে। তাই আমরা রাসূল ﷺ কে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল ﷺ এটা আমাদের কাছে বিদায়ী হজ্বের মতো মনে হচ্ছে, তাই আমাদেরকে আরো উপদেশ দিন। তিনি উত্তর করলেন, আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি আল্লাহর ভয়ে ভীত হতে (তাকওয়া অর্জনে) এবং (নেতার বক্তব্য) শ্রবণ ও আনুগত্যের এমনকি যদি একজন আবিসিনিয়ার দাসকেও (কেননা আবিসিনিয়ার লোকেরা অত্যন্ত কালো ও কুৎসিত চেহারার হয়ে থাকে। বঙ্গানুবাদক) তোমাদের নেতা বানানো হয়। আর তোমাদের মধ্যে যারা দীর্ঘায়ু হবে তারা অনেক মতানৈক্য দেখবে। তখন তোমাদের কর্তব্য হলে আমার সুন্নাহকে এবং সাহাবায়ে কেরামের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা। দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরার মতো। নব আবিষ্কৃত বা বিদায়াতীর (ইবাদত বন্দেগীর) ব্যাপারে সাবধান থাকবে। কেননা প্রত্যেক নব আবিষ্কার বা বিদায়াত হলো বিভ্রান্তি।
আনাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে নসীহত করেন যা আমরা এর আগে কখনো শুনিনি। তিনি (রাসূল ﷺ) বলেন, আমি যা জানি যদি তোমরা তা জানতে তবে তোমরা হাসতে কম আর কাঁদতে বেশি। একথা শুনার পরই সাহাবায়ে আজমাঈন তাদের মুখ ঢেকে ফেলেন এবং কাঁদতে শুরু করেন।

টিকাঃ
৩৬. অর্থাৎ : সুন্নাত আমলের সাথে লেগে থাকে এবং তা পালনে সংগ্রাম করা। সেই ব্যক্তির মতো যে তার মাড়ির দাঁত দিয়ে শক্ত করে কোনো প্রিয় বস্তু ধরে রাখে। এ কারণে যে তা হাত ফসকে বেড়িয়ে যাবে।
৩৭. ইমাম আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ এবং অন্যান্য কর্তৃক বর্ণিত। সংগ্রহীত সুনানে ইবনে মাজাহ, সহীহ সুনানে আবু দাউদ এবং সহীহ সুনানে আত তিরমিযী থেকে উৎসারিত। এছাড়াও দেখুন, সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব এবং তাখরীজ অভ কিতাব আসসুন্নাহ।
৩৮. অর্থাৎ : তাঁরা (সাহাবাগণ) কেঁদেছিলেন এবং তাতে ফুপিয়ে কাঁদার মতো শব্দ হয়নি। আরবি শব্দ 'খানীন' ব্যবহৃত হয়েছে যার অর্থ এমন শব্দ যা নাকের বাঁশি থেকে উৎপন্ন হয়। তার নাকের বদলে মুখ থেকেও সে শব্দ উচ্চারিত হতে পারে (আন নিহায়াহ)। আল হাফিজ 'আল ফাতহ' গ্রন্থে বলেন, শব্দটি 'হ' উচ্চারণে 'হানীন' হিসেবে যার অধিকাংশই সহীহ আল বুখারী শরীফে বর্ণিত হয়েছে আর আল কাশমীহানী 'খ' উচ্চারণে 'খানীন' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যার প্রথমটি বুকের মধ্য থেকে আসা কান্নার শব্দ বুঝতে, আর দ্বিতীয়টি নাকের মধ্য হতে আশা কান্নার শব্দ বুঝাতে ব্যবহৃত হয়।
৩৯. বুখারী ও মুসলিম হতে বর্ণিত।

📘 আল্লাহর ভয়ে কাঁদা > 📄 আবু বকর (রা)-এর কান্না

📄 আবু বকর (রা)-এর কান্না


সালাতে আবু বকর (রা)-এর কুরআন তিলাওয়াত শুনাই যেত না তাঁর অত্যাধিক কান্নার কারণে। যে কথা আমরা জানতে পারি, আয়েশা (রা)-এর কাছ থেকে, তিনি (আয়েশা) বলেন, তাঁর (রাসূল ﷺ) অসুস্থতার সময় রাসূল ﷺ বলেন, আবু বকর (রা)-কে নামাযের ইমামতি করতে আদেশ কর। আয়েশা (রা) বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ কে বললাম যে, সত্যিই আবু বকর (রা) যদি আপনার স্থলে (নামাযের ইমামতিতে) দাঁড়ান তাহলে লোকেরা তার অত্যাধিক কান্নার ফলে কিছুই শুনতে পাবে না। তাই (হে রাসূল! ﷺ আপনি দয়া করে) উমর (রা)-কে ইমামতি করতে বলুন। নবী মুহাম্মদ ﷺ আবারো বললেন, "আবু বকরকে নামাযে ইমামতির আদেশ দাও।”
এরপর আয়েশা (রা) হাফসা (রা)-কে বললেন, আল্লাহর রাসূল ﷺ কে বলুন যে, “যদি আবু বকর (রা) আপনার স্থলে ইমামতিতে দাঁড়ান তবে লোকেরা তার কান্নার কারণে তাঁর কথা কিছুই বুঝবে না। তাই উমর (রা)-কে নামাযের ইমামতির আদেশ দিন। হাফসা তাই করলেন এবং রাসূল ﷺ উত্তরে বললেন, চুপ কর! তোমরাতো দেখছি ইউসুফ (আ)-এর উম্মতের মতো। আবু বকরকেই নামাযে ইমামতি করার আদেশ দাও।” তারপরে হাফসা (রা) আয়েশা (রা)-কে বললেন, "তুমি কাজটি আমার জন্য ভালো করলে না।” (অর্থাৎ, আমাকে লজ্জায় ফেলে দিলে/রাসূলের অপছন্দ হয় এমন কথা বলতে বাধ্য করলে।)
অপর একটি বর্ণনায় আছে, 'সত্যিই আবু বকর (রা) একজন কোমল স্বভাবের মানুষ যদি সে আপনার স্থানে আসে তবে সে নামাযে ইমামতি করতে পুরোপুরি সক্ষম হবে না বলে আশংকা করছি।

টিকাঃ
৪০. আল হাফিজ 'আল ফাতহ' গ্রন্থে বলেন, আয়েশা (রা) ও ইউসুফ (আ)-এর উম্মতের মধ্যকার সাদৃশ্য হলো, মিশরের তৎকালীন বাদশাহ আজীজের স্ত্রী (তার শহরের) কিছু সংখ্যক নারীকে রাজপ্রাসাদে দাওয়াত করলেন। তাদের সম্মানে রাজসিক খাবারের আয়োজন করা হলো। তার (স্ত্রীর) আসল উদ্দেশ্য হলো ঐ নারীদেরকে হযরত ইউসুফের অপরূপ সৌন্দর্য দেখানো। আয়েশা (রা)-এর পিতাকে নামাযের ইমামতির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখতে রাসূল ﷺ কে অনুরোধ করার বাহ্যিক উদ্দেশ্য ছিল যে (আবু বকরের কোমল মনের মানুষ হওয়া) ঈমানদাররা (মুসল্লীরা) তার কান্নার কারণে নামাযের তিলাওয়াত শুনতে পাবে না। তদুপরি এখানে পূর্ণাঙ্গ অর্থ হলো (আয়েশা (রা)-এর আসল উদ্দেশ্য ছিল তিনি সংকিত ছিলেন যে অন্য সাধারণ লোকেরা) রাসূল ﷺ এর ওফাতের অশনি সংকেত যেন দেখতে না পায়। এটাই আশংকারী বুখারী শরীফে উদ্ধৃত হয়েছে, আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যতটা সম্ভব আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে দৃঢ়তার সাথে অনুরোধ করেছিলাম। কারণ এটা আমার একটুও বুঝে আসছিল না যে আল্লাহর রাসূল ﷺ এর স্থানে অন্য কাউকে লোকেরা গ্রহণ করে নিতে পারবে। প্রায়ই আমি ভাবতাম যে অন্য কাউকে রাসূল ﷺ এর স্থানে দেখতে পেলে লোকেরা (রাসূল ﷺ এর মৃত্যুর) একটা অশনি সংকেত ভেবে নেবে। তাই আমি চেয়েছিলাম রাসূল ﷺ যেন আবু বকরের (তাঁর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার) ব্যাপারে তাঁর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। ইমাম মুসলিমও হাদীসখানা বর্ণনা করেন।
৪১. ইমাম বুখারী কর্তৃক বর্ণিত।
৪২. বুখারী শরীফ হতে বর্ণিত।

📘 আল্লাহর ভয়ে কাঁদা > 📄 উমর (রা)-এর কান্না

📄 উমর (রা)-এর কান্না


উমর (রা)-এর কান্না মসজিদের শেষ কাতার থেকেও শোনা যেত যা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ (রা)। তিনি বলেন, আমি উমর (রা)-এর নামাযে কুরআন তিলাওয়াতের মধ্যে কান্নার (মৃদু) শব্দ শুনতে পেতাম পেছনের কাতার থেকেও। বিশেষ করে যখন এ আয়াতটি তিলাওয়াত করতেন।
তিনি বললেন, আমি আমার দুঃখ-দুর্দশা ও কষ্টের ফরিয়াদ আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে করছি না।

টিকাঃ
৪৩. সূরা ইউসুফ (১২): ৮৬।
৪৪. মুয়াল্লাক ও জাযম গ্রন্থে ইমাম বুখারী উদ্ধৃত করেছেন এবং শায়েখ নাসিরুদ্দিন আলবানী কর্তৃক তার আল মুখতাসার গ্রন্থে বিশুদ্ধ হিসেবে স্বীকৃত। তিনি বলেন, সাঈদ ইবনে মানসূর হাদীস "ফজরের সালাতের সময়" উল্লেখ করে একে বিশুদ্ধ বর্ণনাসূত্রের সাথে সংযুক্ত করেছেন। ইবনে মুনযির অন্য এক সূত্র থেকে একই বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন। ইমাম বায়হাকীও একটি বিশুদ্ধ সূত্র থেকে বর্ণনা করেন এবং এটা উল্লেখ করেন যে, তা ছিল এশার সালাতের সময়। আসলে ঘটনাটি দুই ওয়াক্তের সময়ই ঘটতে পারে।

📘 আল্লাহর ভয়ে কাঁদা > 📄 উসমান ইবনে আফফান (রা)-এর কান্না

📄 উসমান ইবনে আফফান (রা)-এর কান্না


উসমান ইবনে আফফান (রা)-এর মুক্ত দাস হানী (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন উসমান ইবনে আফফান (রা) কোনো কবরের পাশে দাঁড়াতেন তাঁর দাড়ি ভিজে না যাওয়া পর্যন্ত কাঁদতেন। একবার তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনি জান্নাত ও জাহান্নামের আলোচনা শুনেছেন কিন্তু কাঁদেননি। অথচ এখন (কবরের আলোচনা শুনে) কাঁদলেন, কেন?” তিনি উত্তরে বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন, “কবর হলো পরকালীন জীবনের প্রথম ধাপ, যদি কেউ এখানে রক্ষা পায় তাহলে পরবর্তী ধাপগুলো আরো সহজ হয়। আর যদি কেউ এখানে রক্ষা না পায় তবে পরবর্তী পর্যায়গুলো হবে আরো ভয়াবহ।” তিনি (রাসূল ﷺ) আরো বলেন, “আমি কবরের চেয়ে অধিক আতংকের জায়গা আর দেখিনি।

টিকাঃ
৪৫. ইমাম তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ হতে বর্ণিত, ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে গারীব হাদীস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শায়খ আলবানী 'আল মিশকাত' গ্রন্থে এ সম্পর্কে বলেন, এর বর্ণনার ধারাবাহিকতা বিশুদ্ধ হাসান।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00