📄 দোয়া প্রার্থীর মানসিক অবস্থা
এখানে যেসব দোয়া সংকলন করা হয়েছে তা সকল দোয়া প্রার্থীর নিকট সমান আকর্ষণীয় হবার কথা নয়। সবার নিকট সব দোয়া সমান আবেগ সৃষ্টি করে না। দোয়া প্রার্থী তার মানসিক অবস্থা অনুযায়ীই দোয়া বাছাই করে থাকে। এখানে যেসব দোয়া বাছাই করা হয়েছে তা ঐসব দোয়া প্রার্থীরই মনে খোরাক যোগাতে পারে যাদের যাবতীয় কর্মতৎপরতার পেছনে নিম্নরূপ মানসিক অবস্থা বিরাজ করছে-
১. জীবনের সকল ক্ষেত্রে এবং সবসময় সব ব্যাপারে একমাত্র আল্লাহ তায়ালাকেই প্রভু, মনিব, হুকুমকর্তা ও মাবুদ হিসেবে মেনে চলার মধ্যেই আমার জীবনের সাফল্য সম্পূর্ণ নির্ভর করে।
২. আল্লাহ তায়ালাকে মেনে চলার ব্যাপারে মুহাম্মদ ﷺ-কেই একমাত্র পরিপূর্ণ আদর্শ হিসেবে অনুকরণ ও অনুসরণ করে চলবে। এ আদর্শকে অনুকরণ করার উদ্দেশ্যেই সাহাবায়ে কেরাম (রা) বিশেষ করে খোলাফায়ে রাশিদীনকে বাস্তব নমুনা মনে করে।
৩. আখিরাতে চিরস্থায়ী জীবনের সাফল্যই আমার দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনের একমাত্র চূড়ান্ত লক্ষ্য। মহান মনিবের সন্তুষ্টি, রাসূল ﷺ এর শাফায়াত এবং জান্নাতে নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও সালেহ লোকদের সঙ্গ লাভই আখেরাতের সাফল্যের আসল লক্ষ্য।
৪. রাসূল ﷺ স্বয়ং সাহাবায়ে কেরামের জামায়াতকে নিয়ে ইকামাতে দ্বীনের উদ্দেশ্যে আল্লাহর পথে জিহাদ করার যে উদাহরণ রেখে গেছেন এর সত্যিকার অনুকরণ ছাড়া আখেরাতে ঐ সাফল্য কিছুতেই আশা করতে পারি না।
৫. আল্লাহর যমীনে আল্লাহর আইন ও সৎলোকের শাসন কায়েমের আন্দোলনে আমার জীবনকে সম্পূর্ণরূপে নিয়োজিত করলাম। আমার জীবন ও মরণ আল্লাহ তায়ালারই জন্য উৎসর্গ করলাম।
৬. আল্লাহর দরবারে শহীদই নবীর পর শ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী বলে আমি মনিবের নিকট ঐ মর্যাদারই কাংগাল।
📄 আল্লাহর ভয়ে অশ্রু বিসর্জন
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন,
اللهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتبًا مُّتَشَابِهًا مَثَانِي وَ تَقْشَعِرُّ مِنْهُ جُلُودُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ ، ثُمَّ تَلِينُ جُلُودُهُمْ وَقُلُوبُهُمْ إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ .
আল্লাহ সর্বোত্তম বাণী নাযিল করেছেন, এটা এমন একটি গ্রন্থ যার সমস্ত অংশ সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার মধ্যে বিভিন্ন সময়ের পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। এসব শুনে সে লোকদের লোম শিউরে উঠে যারা তাদের রবকে ভয় করে। তারপর তাদের দেহমন বিগলিত হয়ে আল্লাহর স্মরণের প্রতি আকৃষ্ট হয়।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার ঘোষণা-
إِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ مِنْ قَبْلِهِ إِذَا يُتْلَى عَلَيْهِمْ يَخِرُّونَ لِلأَذْقَانِ سُجَّدًا لا وَيَقُولُونَ سُبْحانَ رَبِّنَا إِنْ كَانَ وَعْدُ رَبِّنَا لَمَفْعُولاً وَيَخِرُّونَ لِلْأَذْقَانِ يَبْكُونَ وَيَزِيدُهُمْ خُشُوعًا .
নিঃসন্দেহে যাদেরকে এর আগে জ্ঞান দেয়া হয়েছিল (অর্থাৎ, ইহুদি ও খ্রিস্টানদেরকে) তাদেরকে যখন এটা শুনানো হয় তখন তারা অবনত মস্তকে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং বলে ওঠে মহিমা আমাদের প্রভুর। আমাদের রবের অঙ্গিকার তো পূর্ণ হয়েই থাকে এবং তারা নতমুখে কাঁদতে কাঁদতে লুটিয়ে পড়ে এবং তা শুনে তাদের বিনয় আরো বেড়ে যায়।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ঘোষণা-
أولَئِكَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللهُ عَلَيْهِمْ مِّنَ النَّبِيِّينَ مِنْ ذُرِّيَّةِ أَدَمَ وَمِمَّنْ حَمَلْنَا مَعَ نُوحٍ وَمِنْ ذُرِّيَّةِ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْرَائِيلَ وَ وَمِمَّنْ هَدَيْنَا وَاجْتَبَيْنَا إِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ أَيْتُ الرَّحْمَنِ خَرُّوا سُجَّدًا وَبُكِيًّا .
এরাই হচ্ছে নবীগণ আদম সন্তানদের মধ্য থেকে যাদের ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছিলেন এবং যাদেরকে আমি নূহের সাথে নৌকায় আরোহণ করিয়েছিলাম, তাদের বংশধরদের থেকে, আর ইবরাহীম ও ইসমাঈলের বংশধরদের থেকে, আর এরা ছিল তাদের মধ্য থেকে যাদেরকে আমি সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছিলাম এবং বাছাই করে নিয়েছিলাম। এদের অবস্থা এই ছিল যে, যখন করুণাময়ের আয়াত এদেরকে শুনানো হতো তখন কান্নারত অবস্থায় সিজদায় লুটিয়ে পড়ত।
আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছি, (কিয়ামতের দিন) যেদিন আল্লাহর ছায়া ব্যতীত অন্য কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন সাত শ্রেণির মানুষকে তাঁর (আল্লাহর) ছায়াতলে তিনি আশ্রয় দিবেন। আর তারা হলো-
১. ন্যায়পরায়ণ শাসক, ২. ঐ যুবক যে আল্লাহর বন্দেগীতে বেড়ে উঠেছে, ৩. ঐ ব্যক্তি যার হৃদয় মসজিদে যেতে ব্যাকুল থাকে। ৪. দু'জন ব্যক্তি যারা আল্লাহর জন্যই পরস্পরকে ভালোবাসে, সাক্ষাত করে এবং সে অবস্থায়ই পৃথক হয়। ৫. এমন পুরুষ যে উচ্চ বংশের ও সুন্দরী রমণীর কুপ্রস্তাব এ বলে ফিরিয়ে দেয় যে "আমি আল্লাহকে ভয় করি"। ৬. এমন ব্যক্তি যে এত গোপনে দান করে যে তার বাম হাত জানে না তার ডান হাত কী দান করল। ৭. এবং এমন ব্যক্তি নিভৃতে আল্লাহর স্মরণে আল্লাহর ভয়ে যার নয়নযুগল অশ্রুসিক্ত হয়।
আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে কেঁদেছে জাহান্নামের আগুন তাকে স্পর্শ করবে না এমনকি দুধ দোহন করার পর আবার তা স্তনে ফেরত যাবে (তবুও সে ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করবে না)। আর জিহাদের ময়দানের ধূলি ও জাহান্নামের ধোঁয়া কখনই একত্র হবে না।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছেন, ঐ দু'চোখকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। (এক) যে চোখ আল্লাহর ভয়ে অশ্রু বিসর্জন দেয়। (দুই) যে চোখ সারারাত আল্লাহর পথে পাহারায় সতর্ক থাকে।
আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, দুটি চোখকে জাহান্নামের আগুনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এক. আল্লাহর ভয়ে যে চোখ অশ্রুসিক্ত হয়েছে, দুই. যে চোখ সারারাত ইসলামের স্বার্থে বা কাফেরদের থেকে একটি পরিবারের নিরাপত্তা দিতে পাহারায় থেকেছে।
আবু উমামা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে দুটি ফোটা ও দুটি চিহ্নের চেয়ে অধিক প্রিয় কিছু নেই। এক ফোটা অশ্রু যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার ভয়ে ঝরে পড়ে এবং এক ফোটা রক্ত যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার পথে প্রবাহিত হয়। তেমনিভাবে দুটি চিহ্ন, একটি হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার জন্য সহ্য করা হয়। আরেকটি, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কর্তৃক নির্ধারিত বিধি-নিষেধ পালন করতে গিয়ে যে (আঘাতের) চিহ্ন পাওয়া হয়।
উসমান (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তুবা তাদের জন্য যারা তাদের জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ করে, যারা তাদের বসবাসের ঘরটিকে যথেষ্ট মনে করে (অর্থাৎ, বাসস্থানেই তৃপ্ত) এবং যারা নিজেদের ভুলের জন্য (গুনাহের ভয়ে) আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে।
উকবা ইবনে আমির (রা) হতে বর্ণিত, তিনি জানতে চেয়ে প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসূল ﷺ! কিসে মুক্তি পাওয়া যায়? রাসূল ﷺ উত্তরে বলেন, তোমার জিহ্বাকে সংযত রাখলে, তোমার ঘরে (সম্পত্তিতে) সন্তুষ্ট থাকলে এবং তোমার ভুল-ভ্রান্তিতে আল্লাহর কাছে কাঁদলে।
টিকাঃ
৪. ৩৯-সূরা যুমার : আয়াত-২৩।
৫. ১৭-সূরা বনী ইসরাঈল: আয়াত-১০৭-১০৯। (১০৭ নং আয়াতটি সিজদার আয়াত)
৬. ১৯-সূরা মারইয়াম: আয়াত-৫৮। (আয়াতটি সিজদার আয়াত)
৭. শায়খ আলবানী "আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব” গ্রন্থে বলেন, আল্লাহর ছায়ার পরিধি হলো তার প্রভুত্বের/মালিকানার পরিধি। প্রতিটি ছায়াই তাঁর ছায়া, তাঁর সম্পত্তি, তাঁর সৃষ্টি এবং কর্তৃত্ব। [অর্থাৎ, আল্লাহ এ ছায়ার মালিক। যে বিষয়টি এখানে জোর দেয়া হয়েছে তা হলো, এটা (ছায়া থাকাটা) আল্লাহর প্রতি কোনো বৈশিষ্ট্যের আরোপ নয় এবং এটা হলো 'আল্লাহর গোলাম', 'আল্লাহর ঘর' ইত্যাদি শব্দগুলোর মতো। তাই ছায়া আল্লাহর বাড়তি কোনো গুণ নয় তবে এটিকে তাঁর সাথে সংযুক্তির উদ্দেশ্য হলো স্বাতন্ত্র্য ও মহত্বের প্রকাশ, যা দ্বারা তাকে অন্য সকল সাধারণ ছায়া থেকে আলাদা বুঝায় ।।
এখানে যে ছায়াকে বুঝানো হয়েছে তা তাঁর (আল্লাহর) আরশের (বসার স্থানের) ছায়া যা অন্য একটি হাদীসে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যে দিনের কথা বলা হয়েছে তা কিয়ামতের দিন, যেদিন মানুষ বিশ্বজগতের প্রতিপালকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকবে এবং সূর্য তাদের খুব নিকটে চলে আসবে এবং তারা তখন প্রচণ্ড গরম অনুভব করবে ও ঘামতে শুরু করবে। একমাত্র তাঁর ছায়া ব্যতিত আর কোনো ছায়া সেখানে থাকবে না।
৮. শায়খ আলবানী তার 'আত তারগীব ওয়াত তারহীব' গ্রন্থে বলেন, তিনি (শাসক) হলেন এমন ব্যক্তি যিনি বহু মানুষের ওপর কর্তৃত্ব খাটানোর অধিকার রাখেন। আর তিনি প্রকৃত অর্থেই মুসলিমদের ভালো ও কল্যাণ সাধনে পেরেশান থাকেন। হাদীসটি একজন ন্যায়পরায়ণ শাসকের (অন্য ব্যক্তিদের প্রথমে) কথা দিয়ে শুরু হওয়ার কারণ হলো তাঁর লোকের (হাদীসের অন্য লোকদের চেয়ে) ব্যাপক কল্যাণ সাধনের সুযোগ রয়েছে। ঐ শাসকের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ যে সে তার শাসনকার্যে কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ করবে কেননা তাছাড়া সে ন্যায়পরায়ণ হতে পারবে না। তাই এ ব্যাপারে আল্লাহর বিধান মেনে নিতে সাবধান হও।
৯. শায়খ আলবানী তার 'আত তারগীব ওয়াত তারহীব' গ্রন্থে বলেন, অর্থাৎ মসজিদের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা আছে এবং মসজিদে জামায়াতে নামায আদায়ে সে সচেষ্ট থাকে।
১০. শায়খ বলেন, "আল্লাহর জন্য সাক্ষাত করা এবং আল্লাহর জন্য পৃথক হওয়ার অর্থ হলো আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার কারণেই তাদের সাক্ষাত এবং তারা উভয়ই পৃথক হওয়ার আগ পর্যন্ত এ ভালোবাসার ওপর স্থির থাকে। তাদের প্রত্যেকেই বিশ্বাস করে যে তাদের এ ভালোবাসা আল্লাহর (পথে কাজের) জন্য আর এটাই তাদের সাক্ষাত ও পৃথক হওয়ার অন্যতম শর্ত।
১১. আলবানী বলেন, উচ্চ বংশের এবং সুন্দরী রমণী থেকে তার কামনা-বাসনা নিবৃত রাখতে গিয়ে এটা মুখের কথা কিংবা অন্তরের কথাও হতে পারে। উচ্চ বংশ ও সুন্দরী বিশেষভাবে উল্লেখের কারণ, সে খুবই কাঙ্ক্ষিত এবং তাকে পাওয়াও অনেক কঠিন। বাস্তবতা হলো একজন পুরুষ তাকে (এ রকম নারী) পেতে অন্তরে কামনা করে এবং মুখেও প্রকাশ করে।
১২. বুখারী, মুসলিম এবং অন্যান্য সূত্র থেকে বর্ণিত। এ হাদীস সংক্রান্ত আরো বিস্তারিত অধ্যায়ের জন্য সহীহ আত তারগীব (১/২০১) দেখা যেতে পারে।
১৩. আত তিরমিযী হতে বর্ণিত, তিনি একে হাসান সহীহ হাদীস বলেছেন। আন নাসায়ী শরীফেও হাদীসটি উদ্ধৃত হয়েছে। আল হাকীম বলেছেন এর বর্ণনার ধারাবাহিকতা সহীহ। আল মুনযিরী কর্তৃক আত তারগীব ওয়াত তারহীব গ্রন্থেও উদ্ধৃত করা হয়েছে। শায়খ আলবানীও একে আল মিশকাত গ্রন্থে (৩৮২৮) ও আত তারগীব ওয়াত তারহীব গ্রন্থে বিশ্বাসযোগ্য বলে ঘোষণা করেছেন।
১৪. আত তিরমিযী শরীফে উদ্ধৃত এবং শায়খ আলবানী আল মিশকাত ও আত তারগীবে একে সহীহ বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
১৫. আল হাকীম রচিত আল মুসতাদরাক গ্রন্থে উদ্ধৃত এবং আরো অনেকেই উদ্ধৃত করেছেন। শায়েখ আলবানী তার আত তারগীব গ্রন্থেও একে সহীহ বলে স্বীকার করেছেন।
১৬. ইমাম তিরমিযী একে হাসান বলে উদ্ধৃত করেছেন। শায়খ আলবানীও একে বর্ণনার ধারাবাহিকতায় হাসান বলেছেন তার আল মিশকাত গ্রন্থে এবং আত তারগীব গ্রন্থে সহীহ বলেছেন।
১৭. এটা জান্নাতের একটি গাছ। এর বিস্তৃতি প্রায় একশত বছরের পথের সমান। জান্নাতবাসীদের পোশাক এ গাছে শুকাতে দেয়া হয়। রাসূল ﷺ এর বাণী, "তুবা হলো জান্নাতের একটি বৃক্ষ, এর সীমা একশত বছরের দূরত্বের সমান। এবং জান্নাতবাসীদের পোশাকাদি এখানে শুকাতে দেয়া হয়।” ইমাম আহমদ এবং আরো অনেকেই উদ্ধৃত করেছেন, এটা হাসান লি গায়রিহী। 'আস সাহীহা'তে শায়খ আলবানীও উদ্ধৃত করেছেন
১৮. ইমাম তাবরানী তার "আল আওসাত আস সাগীর" গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন এবং এর বর্ণনার ধারাবাহিকতাকে হাসান বলেছেন। আল মুনজিরী (র) “আত তারগীব ওয়াত তারহীব” গ্রন্থেও হাদীসখানা সম্পৃক্ত করেছেন। শায়খ আলবানী সহীহ আত তারগীব-এ একে হাসান বলে ঘোষণা করেছেন।
১৯. ইবনে আল মুবারাক 'আয যুহদ' গ্রন্থে ইমাম আহমদ আত তিরমিযী গ্রন্থে এবং আরো অনেকেই হাদীসটিকে উদ্ধৃত করেছেন। এটি একটি সহীহ হাদীস এবং শায়েখ আলবানী আস সাহীহা গ্রন্থে উদ্ধৃত করেন।
📄 আত্মার কাঠিন্যের ব্যাপারে সতর্ক হও
আত্মার কঠিনতার ব্যাপারে সতর্ক হোন, কেননা এটা (কাঠিন্য) আপনাকে জাহান্নামে নিয়ে যেতে পারে। তাই আপনার আত্মাকে কঠিন হওয়া থেকে রক্ষা করুন এবং হৃদয় কঠিন করতে পারে এমন সবকিছু থেকে সতর্ক থাকুন। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যেন ঘৃণাভরে মুখ ফিরিয়ে না নেন সেদিকেও সাবধান থাকুন।
أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ وَمَا نَزَلَ مِنَ الْحَقِّ لَا وَلَا يَكُونُوا كَالَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَبَ مِنْ قَبْلُ فَطَالَ عَلَيْهِمُ الْآمَدُ فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ ، وَكَثِيرٌ مِنْهُمْ فَسِقُونَ .
“যারা মু'মিন, তাদের জন্য কি আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবতীর্ণ হয়েছে তার কারণে হৃদয় বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি? তারা তাদের মতো যেন না হয়, যাদেরকে পূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছিল। তাদের ওপর সুদীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হয়েছে অতঃপর তাদের অন্তঃকরণ কঠিন হয়ে গেছে। তাদের অধিকাংশই উদ্ধত ও অবাধ্য।
এ আয়াতে কারীমার ব্যাখ্যায় আবু হাজিম উল্লেখ করেছেন আমের ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জোবায়ের (রা) তার পিতার মাধ্যমে জ্ঞাত হন যে, ইসলাম গ্রহণের চার বছর পর এ আয়াত নাযিল হয়। এ আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তাদেরকে ভর্ৎসনা করেন।
তারা (মু'মিনরা) তাদের মতো যেন না হয়ে যায় ইতোপূর্বে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল। তাদের ওপর সুদীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হয়েছে তাই বলে কি তাদের অন্তর কঠিন হয়ে গিয়েছিল? আর তাদের অধিকাংশই ছিল উদ্ধত্য ও অবাধ্য।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, তারা এ পৃথিবীতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং আল্লাহর সতর্কবাণী থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
(আল্লাহর ভয়ে) অশ্রু বিসর্জন আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা/করুণা যা তিনি তাঁর বান্দার হৃদয়ে ঢেলে দেন।
উমামা ইবনে যায়েদ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা একবার নবী মুহাম্মদ ﷺ এর সঙ্গে ছিলাম। তাঁর একজন মেয়ে এক দূত মারফত খবর পাঠালেন যে, তার ছোট্ট এক ছেলে সন্তান মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। রাসূল ﷺ ঐ দূতকে বললেন, তুমি তাঁর (রাসূল ﷺ এর মেয়ের) কাছে ফিরে যাও এবং তাঁকে বল যে, আল্লাহ যা কিছু দেন বা নেন এটা তাঁর (আল্লাহর) ব্যাপার। তাকে ধৈর্যধারণ করতে এবং মৃত্যুপরবর্তী জীবনে আল্লাহর পুরস্কারের কথা স্মরণ করতে বলো। পরে বার্তাবাহক রাসূলের ﷺ কাছে ফিরে আসলেন এবং বললেন, সে আল্লাহর কসম করে আপনাকে তার কাছে যেতে বলেছে। তাই রাসূল ﷺ তার উদ্দেশ্যে সাদ ইবনে উবাদা ও মু'আজ ইবনে জাবাল রাসূল ﷺ কে অনুসরণ করলেন এবং আমি নিজেও তাদের সাথে গেলাম। ছোট্ট বালকটিকে নবী ﷺ এর কাছে আনা হলো। বালকটি তখন গোঙানির মতো শব্দ করছিল যেন মৃত্যুর পূর্বে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছে। তৎক্ষণাৎ রাসূলের ﷺ চোখে জল ছল ছল করে উঠে। এ দৃশ্য দেখে সাদ (রা) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল ﷺ! এটা কী? (অর্থাৎ, এ কান্না কিসের কান্না?) তিনি উত্তরে বললেন, এটা আল্লাহর ক্ষমা/দয়া যা আল্লাহ তাঁর বান্দার অন্তরে ঢেলে দেন। আর নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাঁর দয়া সে বান্দার মধ্যে রাখেন যে দয়ালু।
টিকাঃ
২০. সূরা- হাদীদ : আয়াত-১৬।
২১. সুনানে ইবনে মাজাহ গ্রন্থে সহীহ হিসেবে উল্লিখিত।
২২. ইমাম আল বাগাবী তার তাফসীর গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
২৩. ইবনে কাইয়ুম বলেন, কান্না অনেক প্রকারের। যেমন, ১. অনুগ্রহ অনুকম্পার কান্না, ২. ভীতি ও ভক্তির কান্না, ৩. প্রেম ও প্রীতির কান্না, ৪. আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের কান্না, ৫. উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ও মানসিক আর প্রত্যেক বস্তুরই একটি নির্ধারিত আয়ুষ্কাল রয়েছে। সুতরাং যাতনার কান্না, যে বেদনার বিষ এ হৃদয় সহ্য করতে পারে না। ৬. দুঃখের কান্না, ৭. ক্লান্তি-শ্রান্তি ও দুর্বলতার কান্না, ৮. প্রতারণার কান্না-যে প্রতারণার শিকার হলে চোখ অশ্রুতে ভারি হয়ে উঠে, হৃদয় ফেটে যায়। ৯. যারা কান্না ও অর্থের বিনিময়ে কান্না, যেমন কিছু অর্থের বিনিময়ে শোক প্রকাশ করে। [অনুবাদকের নোট: ইসলাম পূর্ব আরবের একটি প্রথা ছিল এমন, কোনো মৃতের জন্য শোক প্রকাশ করতে লোক ভাড়া করা হতো, কান্নাকাটি ও মাতম করার জন্য, যা একটি আবেগঘন ও কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করত। আর এটা করা হতো এজন্য, যেন লোকেরা মনে করে নিহত ব্যক্তিটি খুব জনপ্রিয় ছিল এবং তাকে লোকেরা খুব ভালোবাসে। নবী ﷺ নবুয়তের পর এ কুসংস্কার বন্ধ করেন। ১০. ঐক্যমতের কান্না, যখন কেউ দেখে কোনো একটা ব্যাপারে লোকেরা কান্নাকাটি করছে তখন সেও তাদের কান্নায় শরিক হয় কান্নার কারণ না জেনেই। (জাদ আল মাআদ থেকে ঈষৎ সংক্ষিপ্ত)।
২৪. গোঙানির শব্দ (আল কা'কা): কোনো কিছুর (মৃদু) নড়াচড়া যেখান থেকে শব্দ কানে আসে। যে অর্থটি এখানে নেয়া হয়েছে তা হলো বিক্ষোভ ও আন্দোলন। তিনি (কথন/বর্ণনাকারী) বুঝাতে চেয়েছেন: প্রত্যেকবার নিঃশ্বাসে শিশুটি দীর্ঘ নয় সাথে সাথেই আরেকটি নিঃশ্বাস নেয় যা তাকে মৃত্যুর কাছাকাছি নিয়ে যায়। (আন নিহায়া থেকে সংকলিত)
২৫. নিঃশ্বাসের শব্দটি ছিল পুরনো কোনো (তরল পদার্থের) পাত্রের (যেমন কলস, মাটির হাড়ি ইত্যাদি) মধ্য হতে আসা শব্দের মতো!।
২৬. বুখারী ও মুসলিম শরীফ হতে বর্ণিত।
📄 নবী মুহাম্মদ ﷺ এর কান্না
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাকে বলেছেন, 'কুরআন তিলাওয়াত কর! তাই আমি সূরা আন নিসা তিলাওয়াত করতে লাগলাম যতক্ষণ না এ আয়াতে পৌঁছলাম।
فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلَاءِ شَهِيدًا .
“তখন কেমন হবে যখন আমরা প্রত্যেক জাতি থেকে এক একজন সাক্ষী আনব এবং তাদের ওপর আপনাকে (মুহাম্মদ ﷺ কে) সাক্ষী হিসেবে দাঁড় করাব।”
এরপর আমি তাঁর (নবী ﷺ এর) দিকে তাকালাম এবং লক্ষ্য করলাম যে, তাঁর দু'চোখ পানিতে ভরে উঠছে।
এ গুরুত্বপূর্ণ আয়াতটির একটি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়, আবু সাঈদ (রা)-এর বর্ণিত একটি হাদীস থেকে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, একজন নবী আসেন যার সঙ্গী থাকবে দু'জন পুরুষ এবং আরেকজন নবী আসেন তার সাথে থাকবে তিনজন এবং এ রকম কম-বেশি থাকবে (অন্য নবীদের সাথে)। তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে তুমি কি তোমার উম্মতের কাছে আমার বার্তা পৌঁছে দিয়েছ? সে (নবী) উত্তর করবে 'হ্যাঁ'। তখন তার উম্মতকে ডাকা হবে, আল্লাহর এ বাণী তোমাদের কাছে পৌঁছানো হয়েছিল? তখন তারা উত্তরে বলবে 'না'। তখন সে নবীকে জিজ্ঞাসা করা হবে 'কে' তোমার জন্য সাক্ষ্য দিবে? (সে) নবী উত্তরে বলবেন 'মুহাম্মদ ﷺ ও তার উম্মত (আমার জন্য সাক্ষ্য দিবে)। ফলে ডাকা হবে নবী মুহাম্মদ ﷺ এর উম্মতকে এবং তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে "তোমরা কি এ (অন্য নবীদের বাণী) সম্পর্কে জানতে? তারা (উম্মতে মুহাম্মাদী) উত্তরে বলবে 'হ্যাঁ'।
তখন আবারো প্রশ্ন করা হবে তোমরা কিভাবে সে সম্পর্কে জানতে পারলে? তারা উত্তরে বলবে আমাদের নবী মুহাম্মদ ﷺ সে বিষয়ে আমাদের জানিয়েছেন এবং আমরা তা বিশ্বাস করেছি।" তিনি (আবু সাঈদ) বলেন, এ ঘটনাটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কুরআন মাজীদে বলেছেন, আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে (মুসলিমদেরকে) একটি মধ্যমপন্থী জাতি হিসেবে সৃষ্টি করেছি যাতে করে তোমরা সমগ্র মানবজাতির সাক্ষী হতে পার আর মুহাম্মদ ﷺ তোমাদের জন্য সাক্ষী হতে পারেন.....
আলী (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল মিকদাদ ছাড়া বদর যুদ্ধের দিন আমাদের সাথে আর কোনো অশ্বারোহী ছিল না। আমাদের সবাই ঘুমাচ্ছিল (রাতের বেলা) শুধু আল্লাহর রাসূল ﷺ ছাড়া। তিনি একটি গাছের নিচে নামায পড়ছিলেন আর ফজর হওয়ার আগ পর্যন্ত কাঁদছিলেন।
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল ﷺ-এর জীবদ্দশায় একবার সূর্য গ্রহণ হলো। তিনি (রাসূল ﷺ) সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং সালাতে তিনি এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন মনে হচ্ছিল যেন তিনি রুকুতে যাবেন না। এরপর তিনি রুকুতে গেলেন (এত দীর্ঘ সময় ধরে) মনে হচ্ছিল যেন তিনি আর রুকু থেকে মাথা তুলবেন না। এরপর তিনি রুকু থেকে মাথা তুললেন (এ অবস্থায়) দীর্ঘক্ষণ থাকলেন আর মনে হচ্ছিল যেন তিনি আর সিজদায় যাবেন না। এরপর তিনি সিজদায় গেলেন এবং এত দীর্ঘক্ষণ সেজদায় কাটালেন মনে হচ্ছিল তিনি আর মাথা উঠাবেন না এবং বসা অবস্থায় এত দীর্ঘক্ষণ কাটালেন যেন মনে হচ্ছিল তিনি আর সিজদায় যাবেন না। তারপর তিনি আবার সিজদায় গেলেন এবং এত দীর্ঘক্ষণ সিজদায় থাকলেন যেন মনে হচ্ছিল তিনি আর মাথা তুলবেন না।
এরপর তিনি জোরে নিঃশ্বাস নিতে লাগলেন এবং এ বলে কাঁদতে লাগলেন ইয়া আল্লাহ! আপনি কি প্রতিজ্ঞা করেননি যে, যতক্ষণ আমি তাদের মধ্যে আছি ততক্ষণ তাদের কোনো শাস্তি দিবেন না? প্রভু! আপনি কি আমাকে এ ওয়াদা দেননি যে, যতক্ষণ তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে ও আমরা ক্ষমা প্রার্থনা করব ততক্ষণ আপনি কোনো শাস্তি দিবেন না? যখন তিনি দু'রাকাত নামায শেষ করলেন তখন সূর্যগ্রহণ দূর হয়ে গেল এবং তিনি তখন দাঁড়িয়ে গেলেন আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলেন এবং তাসবীহ পাঠ করলেন। এরপর বললেন, চন্দ্র ও সূর্য হলো আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দুটি নিদর্শন, তারা (চন্দ্র ও সূর্য) কারো জন্ম-মৃত্যুর কারণে গ্রহণ করে না। তাই যদি তুমি তাদের গ্রহণ হতে দেখ, তাহলে আল্লাহর নাম স্মরণে মশগুল হয়ে যাও।
বারা ইবনে আযেব (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার যখন আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে ছিলাম। তখন তিনি একদল মানুষের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, কী উদ্দেশ্যে তারা এখানে একত্রিত হয়েছে? বলা হলো, 'একটি কবর খুড়ার জন্য'। এরপর রাসূলুল্লাহ ﷺ বিস্মিত ও আতঙ্কিত অবস্থায় তার সাহাবায়ে কেরামের সামনে কবরের পাশে চলে গেলেন এবং হাটু গেড়ে বসে পড়লেন সেখানে। তিনি কী করেছেন তা দেখার জন্য আমি তার দিকে তাকিয়ে থাকলাম। তার চোখের জলে মাটি ভিজে না যাওয়া পর্যন্ত কাঁদতে লাগলেন এরপর তিনি আমাদের দিকে তাকালেন এবং বললেন, হে আমার ভাইয়েরা! এমন একটি দিনের জন্য প্রস্তুত হও।
আবদুল্লাহ ইবনে আশ শিখখির (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে আমাদের সাথে সালাত আদায়ে পেয়েছি এবং আমি তাঁর বুকের মধ্য হতে আসা কান্নার আওয়াজ শুনেছি, যা অনেকটা পাত্রে ফুটন্ত পানির শব্দের মতো।
টিকাঃ
২৭. ইবনুল কাইয়ুম তার "যাদ আল মাআদ” গ্রন্থে বলেন, নবী করীম ﷺ এর কান্না ছিল তার হাসির মতোই (নিঃশব্দের)। তিনি শব্দ করে কাঁদেননি এবং তার কণ্ঠস্বরও উচ্চ হয়নি। একেবারে তার (মুচকি) হাসির মতোই ছিল কান্না, যাতে কোনো শব্দ হয়নি। তথাপি তার চোখ পানিতে ভরে উঠেছিল। যতক্ষণ না তা ঝরে পড়েছিল। আর সে কান্নার শব্দ ছিল (পানির/চায়ের) কেতলি থেকে তা (পানি/চা) ঢালার শব্দের মতো আর সে শব্দ ভেসে আসছিল তার বুকের মধ্য থেকে। মৃতের রুহের মাগফিরাত কামনায় তিনি (রাসূল ﷺ) কাঁদতেন। (কিয়ামতের ময়দানে) উম্মতের (কঠিন মুহূর্তের) ভয় ও সমবেদনায় তিনি কাঁদবেন। আল্লাহর প্রতি সুগভীর ভালোবাসা ও ভয়ের কারণে তিনি কাঁদবেন। এ সংক্রান্ত কুরআনের আয়াতে কারীমা শুনে তিনি কেঁদে উঠেন। বস্তুত এ কান্না হলো গভীর আকুতি, ভালোবাসা ও আনন্দের কান্না যাকে বিশেষ রূপ দিয়েছে আল্লাহর ভয় বা খাশিয়াহ।
২৮. সূরা-৪ নিসা : আয়াত-৪১।
২৯. বুখারী মুসলিম এবং আরো অনেক সূত্র হতে বর্ণিত।
৩০. সূরা আল বাকারা (২): ১৪৩
৩১. ইবনে মাজাহ ইমাম আহমদ কর্তৃক বর্ণিত এবং ইমাম বুখারী এ ধরনের একটি হাদীসও বর্ণনা করেছেন আর এটা আস সাহীহহাতেও রয়েছে।
৩২. ইবনে খুজায়মাহ তার সহীহ'তে উদ্ধৃত করেছেন। শায়েখ আলবানী একে তার সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব গ্রন্থে সহীহ বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
৩৩. হাদীসটি আশ শামাইল আল-মুহাম্মাদিয়্যাহ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। আন নাসায়ী শরীফে সালাতিল কুসুফ অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে। শায়েখ আলবানী মুখতাসার আশ শামায়েল-এ বলেন, আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন, দেখুন সহীহ আবু দাউদ শরীফ। ইবরা আল যালীল গ্রন্থে এর কিছুসংখ্যক লেখক হাদীসটিকে বর্ণনার ধারাবাহিকতা সূত্রে সংগ্রহীত। এছাড়া সূর্য গ্রহণের নামাযে প্রতি রাকাআতে দুই রুকু এটা ইবনে আমর এবং আরো অনেকের নিকট হতে বর্ণিত সূর্যগ্রহণ অনুচ্ছেদের হাসীদগুলোতে লিপিবদ্ধ রয়েছে যা বিশুদ্ধ দুটি হাদীস গ্রন্থে ও অন্যান্য সূত্রে উল্লিখিত হয়েছে। আর আমি (লেখক) এ সংক্রান্ত হাদীসগুলোকে 'সিফাতু সালাতিল কুসূফ' নামক একটি পুস্তিকায় সংকলন করেছি। এ বইয়ে আলোচিত হয়েছে যে, রুকু একবারই উল্লিখিত হয়েছে, এটা একটি দুর্বল বর্ণনা যা, অনেকগুলো শক্তিশালী বর্ণনার বিপরীত।
৩৪. বুখারী শরীফের 'আততারীখ' অনুচ্ছেদে, ইবনে মাজাহ, আহমদ এবং অন্যান্য গ্রন্থেও বর্ণিত হয়েছে। এটি একটি হাসান হাদীস যা শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানী তার 'আস সাহীহা' গ্রন্থেও উল্লেখ করেছেন।
৩৫. আবু দাউদ, আন নাসায়ী এবং ইমাম তিরমিযী আশ শামায়েলে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া আল হাফিজ তার 'আল ফাতহ' গ্রন্থে বলেন: এর বর্ণনার ধারাবাহিকতা শক্তিশালী। ইবনে খুজায়মাহ, ইবনে হিব্বান এবং আল হাকীম একে বিশুদ্ধ বলে ঘোষণা করেছেন। শায়েখ আলবানী তার 'আত তারগীব ওয়াত তারহীব, গ্রন্থেও একে বিশুদ্ধ বলে ঘোষণা করেছেন।