📘 আল্লাহর ভয় নির্মল জীবনের পাথেয় > 📄 প্রবেশিকা

📄 প্রবেশিকা


মানুষের অন্তরজুড়ে আজ দীর্ঘ আশার একচ্ছত্র রাজত্ব। তুচ্ছ এই দুনিয়াকে ঘিরে তাদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার যেন কোনো শেষ নেই। ফলে নির্দ্বিধায় তারা লিপ্ত হচ্ছে হারাম কর্মকাণ্ডে। ইবাদতে তারা চরম উদাসীনতা প্রকাশ করছে। ‘একদিন ভালো হয়ে যাব’-এই অজুহাতে তারা তাওবা থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে। ক্ষণিকের এই সুখ ও শান্তির পেছনে তারা উন্মাদের মতো ছুটে চলছে। সামনে চিরস্থায়ী জীবনের যে বিভীষিকাময় শাস্তি অপেক্ষা করছে, সেদিকে তাদের কোনো খেয়াল নেই। ভয়হীন নির্বিকার জীবনযাপনে তারা অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। হাসি ও আনন্দই তাদের ধ্যানজ্ঞান—যেন তারা অনন্তকাল ধরে এই দুনিয়াতে বসবাস করবে।
তারা ভুলে বসেছে মহান সালাফের জীবনেতিহাস—যারা মৃত্যু, কবর ও জাহান্নামের ভয়ে সর্বদা অস্থির থাকতেন। তাদের সামনে যখন মৃত্যু ও আখিরাত নিয়ে আলোচনা হতো, তাদের অন্তর নরম হয়ে যেত; মন থেকে অবহেলা ও গাফিলতির চাদর সরে যেত—জেগে উঠত আমলের অদম্য স্পৃহা। ইবনুল মুবারক-এর কথাই ধরুন। তার সামনে যখন ‘কিতাবুজ জুহদ’ তথা দুনিয়াবিমুখতা নিয়ে আলোচনা করা হতো, তিনি সদ্য জবাইকৃত ষাঁড়ের মতো ছটফট করতেন—কথা বলার শক্তি পর্যন্ত হারিয়ে ফেলতেন।১

টিকাঃ
১. তাজকিরাতুল হুফফাজ : ১/২৭৮।

📘 আল্লাহর ভয় নির্মল জীবনের পাথেয় > 📄 ভয় কী?

📄 ভয় কী?


প্রিয় ভাই, ভয় হলো আসন্ন বিপদের জন্য অন্তরে একপ্রকার ব্যথা ও জ্বলন অনুভব করা।
যার অন্তরে ভবিষ্যতে বিপদে পড়ার ভয় থাকে, সে বিপদটি কাটিয়ে ওঠার যথাসাধ্য চেষ্টা করে।
যাদের হৃদয়ে আল্লাহর ভয় আছে, তাদের জন্য রয়েছে মহা পুরস্কার। আল্লাহ তাআলা বলেন : (وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ جَنَّتَانِ)
‘যে ব্যক্তি তার রবের সামনে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্য রয়েছে দুটি উদ্যান।
কুরতুবি এই আয়াতের তাফসিরে বলেন, 'আয়াতটির মর্ম হলো, যে ব্যক্তি আল্লাহর সামনে হিসাবের জন্য দণ্ডায়মান হওয়ার ভয়ে গুনাহ ছেড়ে দেয়।
ইবনে কাসির বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হওয়ার ভয়ে, তার ব্যাপারে আল্লাহর ফায়সালার ভয়ে নিজেকে প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে বিরত রাখে এবং রবের ইবাদতে আত্মনিয়োগ করে, সুরভিত জান্নাতই হবে তার ঠিকানা।
মুজাহিদ ও নাখয়ি বলেন, 'যে ব্যক্তি গুনাহে লিপ্ত হওয়ার ইচ্ছা করেছে; কিন্তু পরক্ষণেই আল্লাহর কথা স্মরণ হওয়ায় তাঁর ভয়ে পিছু হটেছে-এমন ব্যক্তির কথাই এখানে বলা হয়েছে।'
মুহাম্মাদ বিন আলি তিরমিজি বলেন, 'একটি উদ্যান আল্লাহকে ভয় পাওয়ার জন্য; আরেকটি প্রবৃত্তির চাহিদা পরিত্যাগ করার জন্য।'

টিকাঃ
২. সুরা আর-রহমান, ৫৫: ৪৬।
৩. আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন : ১৭/১৭৬।
৪. তাফসিরু ইবনি কাসির : ৪/৪৬৯।

📘 আল্লাহর ভয় নির্মল জীবনের পাথেয় > 📄 আল্লাহভীরুদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ

📄 আল্লাহভীরুদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ


ইবাদতগুজার আল্লাহভীরু বান্দাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে অনেক অনুগ্রহ ও পুরস্কার রয়েছে। তন্মধ্যে বিশেষ একটি অনুগ্রহের কথা তিনি হাদিসে কুদসিতে উল্লেখ করেছেন:
وَعِزَّتِي وَجَلَالِي لَا أَجْمَعُ لِعَبْدِي أَبَدًا أَمْنَيْنِ وَلَا خَوَفَيْنِ؛ إِنْ هُوَ أَمِنَنِي فِي الدُّنْيَا، أَخَفْتُهُ يَوْمَ أَجْمَعُ فِيهِ عِبَادِي، وَإِنْ هُوَ خَافَنِي فِي الدُّنْيَا، أَمَّنْتُهُ يَوْمَ أَجْمَعُ فِيهِ عِبَادِي
'আমার ইজ্জত ও জালালের কসম, আমি কখনো আমার বান্দার জন্য দুটি নিরাপত্তা ও দুটি ভীতি একত্রিত করব না। যদি সে দুনিয়াতে আমার ব্যাপারে নির্ভয় থাকে, তাহলে আমি তাকে কিয়ামত দিবসে ভীত-সন্ত্রস্ত করব।
আর যদি সে দুনিয়াতে আমাকে ভয় করে, তাহলে আমি তাকে কিয়ামত দিবসে নিরাপত্তা দান করব।’
সাইয়িদুনা আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘একদা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্যে এমন এক খুতবা দিলেন, ইতিপূর্বে এমন খুতবা আমি কোনোদিন শুনিনি। তিনি বললেন:
لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلًا، وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا
“আমি যা জানি, তা যদি তোমরা জানতে, তবে তোমরা কম হাসতে এবং বেশি কাঁদতে।”
এ কথা শুনে সাহাবিগণ মুখ ঢেকে নিলেন এবং গুনগুন করে কাঁদতে লাগলেন।‘৬

📘 আল্লাহর ভয় নির্মল জীবনের পাথেয় > 📄 দুনিয়াতে আল্লাহভীতির ফলাফল

📄 দুনিয়াতে আল্লাহভীতির ফলাফল


যারা আল্লাহকে ভয় করে, দুনিয়াতেও তারা অনেক পুরস্কারে ভূষিত হবে।
আমির বিন কাইস রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ সকল বস্তুর মনে তার প্রতি ভয় ঢুকিয়ে দেন। আর যে আল্লাহকে ভয় করে না, আল্লাহ তার মনে সকল বস্তুর ভয় ঢুকিয়ে দেন।’
আপনি সমাজে চোখ বুলিয়ে দেখুন না-আল্লাহভীরু বান্দারাই সমাজের আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হন এবং সবাই তাদের কথাই মান্য করে। মানুষের মনে তাদের প্রতি ভয় ও সমীহ থাকে। পক্ষান্তরে যারা আল্লাহর নাফরমানি করে এবং তাঁর বিধিনিষেধের প্রতি উদাসীনতা প্রদর্শন করে, তারা মানুষের দৃষ্টিতে অবজ্ঞার পাত্রে পরিণত হয়। লজ্জা ও লাঞ্ছনার জালে তারা বন্দী হয়ে পড়ে।

টিকাঃ
৫. হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৬/৯৮।
৬. সহিহুল বুখারি: ৪৬২১, সহিহু মুসলিম: ৯০১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00