📄 বুযুর্গদের বিপদে পরীক্ষিত হওয়ার ঘটনা
আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বুযুর্গরাও নানা বিপদে নিপতিত হয়েছেন এবং পরীক্ষিত হয়েছেন।
ইবনুল কাইয়িম বলেন, হে দুর্বলমনা! নূহ আলাইহিস সালাম রাস্তায় রাস্তায় আর্তনাদ করে ফিরেছেন। ইয়াহইয়া জবাই হয়েছেন। যাকারিয়া হত্যা হয়েছেন। ইমামগণ কারাবন্দী হয়েছেন। উল্লেখযোগ্য ওলামায়ে কেরাম বেত্রাঘাতে আহত হয়েছেন।
এভাবেই সবাই পরীক্ষিত হয়েছেন। উম্মতের নেতা হয়েছেন-
আমি তাদের নেতা বানালাম। তারা আমার নির্দেশ অনুসারে পথ প্রদর্শন করতেন। আমি তাদের প্রতি অহি নাযিল করলাম সৎকর্ম করার, সালাত কায়েম করার এবং যাকাত দান করার। তারা আমার এবাদতে ব্যাপৃত ছিল। [সূরা আম্বিয়া: ৭৩]
ইমাম আহমদ ; আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের ইমাম। হাজারে হাজার মারফু মাওকুফ মুসনাদ মাকতু আসার এবং তাবেঈদের বাণী তার মুখস্থ ছিল। তিনি কারাবন্দী হয়েছিলেন। চাবুকের আঘাতে জর্জরিত হয়েছিলেন। কেন?
এবাদতকারী এবং দুনিয়াবিুখ হয়ে চাবুকের আঘাতে জর্জরিত হয়েছেন!
হাদিসের অঙ্গনে ব্যাপক পারদর্শী হয়েও চাবুকের আঘাতে রঞ্জিত হয়েছেন! দিনভর রোযা রেখেও তিনি রক্তাত্ত হয়েছেন!
দুনিয়ার শোভা বর্জন, সৎকাজের আদেশ, অসৎ কাজের নিষেধ, উচ্ছল প্রভাকর দীনী দাওয়াত, আল্লাহর অস্তিত্বে দৃঢ় অবিচল থেকে তিনি বেত্রাঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছেন!
উম্মতের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে দীনের শিক্ষা এবং দীক্ষা দান করে বেত্রাঘাতে মৃতপ্রায় হয়েছেন!
এসব ছিল মূলত আল্লাহর পরীক্ষা। আল্লাহ পরীক্ষা নিয়ে তার মর্যাদা আকাশছোঁয়া করেছেন।
ইমাম আহমদ কারাবরণ করেছেন। বেত্রাঘাত সহ্য করেছেন। অতঃপর যখন মুক্ত হয়েছেন, তখন যেন লালচে স্বর্ণ আগুনে পুড়ে আরও নিরেট ও খাঁটি সোনায় পরিণত হয়েছেন!
আল্লাহ বলেন-
মানুষ কি মনে করে, তারা একথা বলেই অব্যাহতি পেয়ে যাবে- 'আমরা বিশ্বাস করি' এবং তাদের পরীক্ষা করা হবে না? আমি তাদেরও পরীক্ষা করেছি যারা তাদের পূর্বে ছিল। আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন যারা সত্যবাদী এবং নিশ্চয় জেনে নেবেন মিথ্যুকদের। [সূরা আনকাবূত : ২, ৩]
দীন ও ঈমান শুধু দাবির নাম নয়।
কবি বলেন- দাবির পক্ষে যবে না থাকে প্রমাণ, ওরা শুধুই দাবিদার, দাবির নেই কোন প্রাণ।
কোন ব্যক্তি যদি আল্লাহ -কে ভালোবাসে, কিন্তু আযান হলে শরীয়ত সমর্থিত কারণ ছাড়া মসজিদে না যায়, তাহলে সে মুনাফিক।
কেউ যদি আল্লাহ ও তার রাসূলের সাথে সুসম্পর্ক বজায়ের দাবি করে, তাদের ভালোবাসার প্রচার করে, কিন্তু তার সন্তানের মৃত্যুতে আল্লাহ -র ফয়সালা ও তকদিরের উপর ক্ষোভ আসে, অযৌক্তিক কথা বলে, তাহলে সে কেমন ঈমানদার! কোথায় তার দাবির সত্যতা? এটাই কি প্রকৃত ঈমানের পরিচয়! প্রকৃত ঈমানের দাবি কী?
বন্ধুদের সাথে রাত জেগে আড্ডা এবং বন্ধুদের ডাকে সাড়া দেয়ার চেয়ে ঠান্ডা ফজরে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে বেশি তৃপ্তি পাওয়াই হল প্রকৃত ঈমানের দাবি ও চাহিদা। রাসূল ইরশাদ করেন-
আল্লাহ বলেন, 'হে আমার বন্দারা! কোন মুমিন বান্দা যখন রাতে উঠে ঠান্ডা পানি দিয়ে অযু করে আমাকে ডাকে, আমি তোমাদের সাক্ষ্য করছি, আমি সেই বান্দাকে ক্ষমা করে দেই। তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাই। [তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি]
আল্লাহ -র সাথে সততার প্রমাণ কী?
হৃদয়ের উয়তা ও আবেগ নিয়ে মুমিনদের সাথে সালাতের কাতারে দাঁড়ানোই হল আল্লাহর সাথে সততার প্রমাণ। মুনাফিকরাও সালাত পড়ে- কিন্তু আল্লাহকে ভালোবেসে নয়, নিষ্ঠতা ও আত্মসমর্পণের সাথে নয়। আল্লাহ বলেন-
তারা যখন সালাতে দাঁড়ায়, তখন দাঁড়ায় একান্ত শিথিলভাবে লোক দেখানোর জন্য। আর তারা আল্লাহকে অল্পই স্মরণ করে। [সূরা নিসা: ১৪২]
মুনাফিকরা সালাত পড়ে শিথিলভাবে। কেরাআন পড়ে শিথিলভাবে। আল্লাহ প্রেমের দাবিতে তাদের সততা নেই। নিষ্ঠতা নেই। আল্লাহ -র প্রতি তাদের ভালোবাসা ও তাড়না নেই। এই সালাত তাদের কোনই উপকারে আসে না।
ইমাম আহমদ 'আল্লাহ আমার প্রভু' বলার অপরাধে কারান্তরীণ হয়েছেন। আমরা তাকে প্রতিটি মজলিসে, মিম্বারে, সভা-সেমিনারে সশ্রদ্ধ স্মরণ করি। আল্লাহ তার মর্যাদা এমনই বৃদ্ধি করেছেন।
তার প্রতিপক্ষকে আল্লাহ নিশ্চি... করেছেন। নাম-গন্ধ মুছে দিয়েছেন। তার বিরোধিতা করেছিল উযির ইবনে যাইয়াত। ইমাম আহমদ তাকে বদদোয়া দিয়েছেন। সে শাস্তি পেয়েছে। চাবুক খেয়েছে। চুলায় জ্বলে ছাই-ভম হয়েছে।
আহমদ ইবনে আবু দাউদ জাহমি। শরীয়তে নানা অসঙ্গতির উদ্ভাবনকারী। মোতাযিলাদের শীর্ষ ব্যক্তি। তার কারণে ইমাম আহমদ বেত্রাঘাতের অন্যায় শাস্তি ভোগ করেছেন।
ইমাম আহমদ বদদোয়া করেছিলেন- আল্লাহ! তার শরীরে তুমি শাস্তি দাও। আল্লাহ তাকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করলেন। শরীরের অর্ধাঙ্গ অবশ করে দিলেন।
লোকেরা আহমদ ইবনে আবু দাউদকে জিজ্ঞেস করত, 'আপনার কী অবস্থা?'
সে বলত, 'আমার শরীরের এই অংশে একটি মাছি বসলেও মনে হয় কেয়ামত হয়ে গেছে। আর শরীরের এই অংশে কেউ ছুরি দিয়ে কাটলেও কোন অনুভুতি হয় না।'
আহমদ ইবনে আবু দাউদ এই শাস্তি কেন ভোগ করেছিল? কারণ সে আল্লাহবিমুখ ছিল। সত্য অস্বীকার করেছিল। অথচ ইমাম আহমদ আজ পর্যন্ত হাদিসের কিতাবে শত-সহস্রবার স্মরিত হচ্ছেন!
জনৈক বুযুর্গ এক জালেম উযিরের দরবারে উপস্থিত হল। উযির বুযুর্গকে একটি চড় কষিয়ে বসিয়ে দিলেন। বুযুর্গ আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন- 'আল্লাহ! সে আমাকে আঘাত করেছে, তুমি তার হাত কেটে দাও।'
আল্লাহ বুযুর্গকে মূলত পরীক্ষা করলেন। বুযুর্গ আল্লাহ-র কাছেই অনুযোগ করেছেন। আল্লাহ উযিরকে আরেক জালেমের সামনে ফেললেন। জালেম তার ডান হাত কেটে দিল। উযির তখন আক্ষেপ করে কবিতায় বলতে লাগল-
ডান হাত কেটে গেল, আর নেই বেঁচে থাকার স্বাধ। হায় জীবন! আমার ডান হাত গেল, আর কী আছে আমার!
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া। আল্লাহ তাকে বিভিন্নভাবে পরীক্ষায় নিপতিত করেছিলেন। তার মান-সম্ভ্রমে নির্লজ্জ অবাস্তব অসত্য অপবাদ দেয়া হয়েছিল।
তিনি আল্লাহর দিকে মানুষকে ডাকতেন। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর দাওয়াত দিতেন। মানুষের আকীদা-বিশ্বাস ঠিক করে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আহ্বান করতেন। এসবের কারণে তিনি কারান্তরীণ হয়েছিলেন!
তাকে যখন জেলে দেয়া হল, দরজা বন্ধ করে দেয়া হল। তিনি প্রহরীর দিকে তাকিয়ে তেলাওয়াত করতে লাগলেন-
অতঃপর উভয় দলে মাঝখানে খাড়া করা হবে একটি প্রাচীর। যার একটি দরজা হবে। তার অভ্যন্তরে থাকবে রহমত এবং বাইরে থাকবে আযাব। [সূরা হাদিদ: ১৩]
ইবনে তাইমিয়া-কে সমকালের সুলতান সালজুকির কাছে উপস্থিত করা হল। সুলতান তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'ইবনে তাইমিয়া! আপনি নাকি আমার রাজত্ব ছিনাতে চাচ্ছেন?'
ইবনে তাইমিয়া হাসলেন। তার অন্তরে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। তিনি চান আখেরাত। আল্লাহর খাযানা। দুনিয়া তার দৃষ্টিতে তুচ্ছ। নগণ্য। মসজিদে তিনি যে মজলিস করতেন, দুনিয়া তার অর্ধেক সময়ের মূল্যমানও নয়।
ইবনে তাইমিয়া বললেন, 'আল্লাহর কসম! আপনার রাজত্ব, আপনার বাপ-দাদার রাজত্ব আমার কাছে এক পয়সারও সমমান নয়।'
অদ্যাবধি ইবনে তাইমিয়া বেঁচে আছেন। তার অসংখ্য নিদর্শন, রচনা ও কিতাব আজও মুসলমানের অন্তরে জীবিত হয়ে আছে। কিন্তু পৃথিবী থেকে সেই সালজুকি সুলতানের নাম-পরিচয় নিশ্চিহ্ন হয়ে মুছে গেছে।
আল্লাহ ইবনে তাইমিয়ার মর্যাদা উঁচু করেছেন। তিনি তখন একা ছিলেন। কারণ তিনি আল্লাহর এবাদত করেছেন। আনুগত্য করেছেন। অথচ সুলতানের সৈন্য-সামন্ত কত কিছু ছিল। সবসহ তিনি ধরাপৃষ্ঠ থেকে অজ্ঞাত হয়ে গেছেন।
যত মানুষ বিপদে নিপতিত হয়ে সবর করেছেন, ধৈর্য ধরেছেন, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, আল্লাহ তাদের মর্যাদা বাড়িয়েছেন। সম্ভব বৃদ্ধি করেছেন। পরীক্ষিত বান্দারা কেয়ামত পর্যন্ত অগুণতি মানুষের দোয়ায় সপ্রশংস স্মরিত হন।
আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বুযুর্গরাও নানা বিপদে নিপতিত হয়েছেন এবং পরীক্ষিত হয়েছেন।
ইবনুল কাইয়িম বলেন, হে দুর্বলমনা! নূহ আলাইহিস সালাম রাস্তায় রাস্তায় আর্তনাদ করে ফিরেছেন। ইয়াহইয়া জবাই হয়েছেন। যাকারিয়া হত্যা হয়েছেন। ইমামগণ কারাবন্দী হয়েছেন। উল্লেখযোগ্য ওলামায়ে কেরাম বেত্রাঘাতে আহত হয়েছেন।
এভাবেই সবাই পরীক্ষিত হয়েছেন। উম্মতের নেতা হয়েছেন-
আমি তাদের নেতা বানালাম। তারা আমার নির্দেশ অনুসারে পথ প্রদর্শন করতেন। আমি তাদের প্রতি অহি নাযিল করলাম সৎকর্ম করার, সালাত কায়েম করার এবং যাকাত দান করার। তারা আমার এবাদতে ব্যাপৃত ছিল। [সূরা আম্বিয়া: ৭৩]
ইমাম আহমদ ; আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের ইমাম। হাজারে হাজার মারফু মাওকুফ মুসনাদ মাকতু আসার এবং তাবেঈদের বাণী তার মুখস্থ ছিল। তিনি কারাবন্দী হয়েছিলেন। চাবুকের আঘাতে জর্জরিত হয়েছিলেন। কেন?
এবাদতকারী এবং দুনিয়াবিুখ হয়ে চাবুকের আঘাতে জর্জরিত হয়েছেন!
হাদিসের অঙ্গনে ব্যাপক পারদর্শী হয়েও চাবুকের আঘাতে রঞ্জিত হয়েছেন! দিনভর রোযা রেখেও তিনি রক্তাত্ত হয়েছেন!
দুনিয়ার শোভা বর্জন, সৎকাজের আদেশ, অসৎ কাজের নিষেধ, উচ্ছল প্রভাকর দীনী দাওয়াত, আল্লাহর অস্তিত্বে দৃঢ় অবিচল থেকে তিনি বেত্রাঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছেন!
উম্মতের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে দীনের শিক্ষা এবং দীক্ষা দান করে বেত্রাঘাতে মৃতপ্রায় হয়েছেন!
এসব ছিল মূলত আল্লাহর পরীক্ষা। আল্লাহ পরীক্ষা নিয়ে তার মর্যাদা আকাশছোঁয়া করেছেন।
ইমাম আহমদ কারাবরণ করেছেন। বেত্রাঘাত সহ্য করেছেন। অতঃপর যখন মুক্ত হয়েছেন, তখন যেন লালচে স্বর্ণ আগুনে পুড়ে আরও নিরেট ও খাঁটি সোনায় পরিণত হয়েছেন!
আল্লাহ বলেন-
মানুষ কি মনে করে, তারা একথা বলেই অব্যাহতি পেয়ে যাবে- 'আমরা বিশ্বাস করি' এবং তাদের পরীক্ষা করা হবে না? আমি তাদেরও পরীক্ষা করেছি যারা তাদের পূর্বে ছিল। আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন যারা সত্যবাদী এবং নিশ্চয় জেনে নেবেন মিথ্যুকদের। [সূরা আনকাবূত : ২, ৩]
দীন ও ঈমান শুধু দাবির নাম নয়।
কবি বলেন- দাবির পক্ষে যবে না থাকে প্রমাণ, ওরা শুধুই দাবিদার, দাবির নেই কোন প্রাণ।
কোন ব্যক্তি যদি আল্লাহ -কে ভালোবাসে, কিন্তু আযান হলে শরীয়ত সমর্থিত কারণ ছাড়া মসজিদে না যায়, তাহলে সে মুনাফিক।
কেউ যদি আল্লাহ ও তার রাসূলের সাথে সুসম্পর্ক বজায়ের দাবি করে, তাদের ভালোবাসার প্রচার করে, কিন্তু তার সন্তানের মৃত্যুতে আল্লাহ -র ফয়সালা ও তকদিরের উপর ক্ষোভ আসে, অযৌক্তিক কথা বলে, তাহলে সে কেমন ঈমানদার! কোথায় তার দাবির সত্যতা? এটাই কি প্রকৃত ঈমানের পরিচয়! প্রকৃত ঈমানের দাবি কী?
বন্ধুদের সাথে রাত জেগে আড্ডা এবং বন্ধুদের ডাকে সাড়া দেয়ার চেয়ে ঠান্ডা ফজরে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে বেশি তৃপ্তি পাওয়াই হল প্রকৃত ঈমানের দাবি ও চাহিদা। রাসূল ইরশাদ করেন-
আল্লাহ বলেন, 'হে আমার বন্দারা! কোন মুমিন বান্দা যখন রাতে উঠে ঠান্ডা পানি দিয়ে অযু করে আমাকে ডাকে, আমি তোমাদের সাক্ষ্য করছি, আমি সেই বান্দাকে ক্ষমা করে দেই। তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাই। [তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি]
আল্লাহ -র সাথে সততার প্রমাণ কী?
হৃদয়ের উয়তা ও আবেগ নিয়ে মুমিনদের সাথে সালাতের কাতারে দাঁড়ানোই হল আল্লাহর সাথে সততার প্রমাণ। মুনাফিকরাও সালাত পড়ে- কিন্তু আল্লাহকে ভালোবেসে নয়, নিষ্ঠতা ও আত্মসমর্পণের সাথে নয়। আল্লাহ বলেন-
তারা যখন সালাতে দাঁড়ায়, তখন দাঁড়ায় একান্ত শিথিলভাবে লোক দেখানোর জন্য। আর তারা আল্লাহকে অল্পই স্মরণ করে। [সূরা নিসা: ১৪২]
মুনাফিকরা সালাত পড়ে শিথিলভাবে। কেরাআন পড়ে শিথিলভাবে। আল্লাহ প্রেমের দাবিতে তাদের সততা নেই। নিষ্ঠতা নেই। আল্লাহ -র প্রতি তাদের ভালোবাসা ও তাড়না নেই। এই সালাত তাদের কোনই উপকারে আসে না।
ইমাম আহমদ 'আল্লাহ আমার প্রভু' বলার অপরাধে কারান্তরীণ হয়েছেন। আমরা তাকে প্রতিটি মজলিসে, মিম্বারে, সভা-সেমিনারে সশ্রদ্ধ স্মরণ করি। আল্লাহ তার মর্যাদা এমনই বৃদ্ধি করেছেন।
তার প্রতিপক্ষকে আল্লাহ নিশ্চি... করেছেন। নাম-গন্ধ মুছে দিয়েছেন। তার বিরোধিতা করেছিল উযির ইবনে যাইয়াত। ইমাম আহমদ তাকে বদদোয়া দিয়েছেন। সে শাস্তি পেয়েছে। চাবুক খেয়েছে। চুলায় জ্বলে ছাই-ভম হয়েছে।
আহমদ ইবনে আবু দাউদ জাহমি। শরীয়তে নানা অসঙ্গতির উদ্ভাবনকারী। মোতাযিলাদের শীর্ষ ব্যক্তি। তার কারণে ইমাম আহমদ বেত্রাঘাতের অন্যায় শাস্তি ভোগ করেছেন।
ইমাম আহমদ বদদোয়া করেছিলেন- আল্লাহ! তার শরীরে তুমি শাস্তি দাও। আল্লাহ তাকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করলেন। শরীরের অর্ধাঙ্গ অবশ করে দিলেন।
লোকেরা আহমদ ইবনে আবু দাউদকে জিজ্ঞেস করত, 'আপনার কী অবস্থা?'
সে বলত, 'আমার শরীরের এই অংশে একটি মাছি বসলেও মনে হয় কেয়ামত হয়ে গেছে। আর শরীরের এই অংশে কেউ ছুরি দিয়ে কাটলেও কোন অনুভুতি হয় না।'
আহমদ ইবনে আবু দাউদ এই শাস্তি কেন ভোগ করেছিল? কারণ সে আল্লাহবিমুখ ছিল। সত্য অস্বীকার করেছিল। অথচ ইমাম আহমদ আজ পর্যন্ত হাদিসের কিতাবে শত-সহস্রবার স্মরিত হচ্ছেন!
জনৈক বুযুর্গ এক জালেম উযিরের দরবারে উপস্থিত হল। উযির বুযুর্গকে একটি চড় কষিয়ে বসিয়ে দিলেন। বুযুর্গ আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন- 'আল্লাহ! সে আমাকে আঘাত করেছে, তুমি তার হাত কেটে দাও।'
আল্লাহ বুযুর্গকে মূলত পরীক্ষা করলেন। বুযুর্গ আল্লাহ-র কাছেই অনুযোগ করেছেন। আল্লাহ উযিরকে আরেক জালেমের সামনে ফেললেন। জালেম তার ডান হাত কেটে দিল। উযির তখন আক্ষেপ করে কবিতায় বলতে লাগল-
ডান হাত কেটে গেল, আর নেই বেঁচে থাকার স্বাধ। হায় জীবন! আমার ডান হাত গেল, আর কী আছে আমার!
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া। আল্লাহ তাকে বিভিন্নভাবে পরীক্ষায় নিপতিত করেছিলেন। তার মান-সম্ভ্রমে নির্লজ্জ অবাস্তব অসত্য অপবাদ দেয়া হয়েছিল।
তিনি আল্লাহর দিকে মানুষকে ডাকতেন। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর দাওয়াত দিতেন। মানুষের আকীদা-বিশ্বাস ঠিক করে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আহ্বান করতেন। এসবের কারণে তিনি কারান্তরীণ হয়েছিলেন!
তাকে যখন জেলে দেয়া হল, দরজা বন্ধ করে দেয়া হল। তিনি প্রহরীর দিকে তাকিয়ে তেলাওয়াত করতে লাগলেন-
অতঃপর উভয় দলে মাঝখানে খাড়া করা হবে একটি প্রাচীর। যার একটি দরজা হবে। তার অভ্যন্তরে থাকবে রহমত এবং বাইরে থাকবে আযাব। [সূরা হাদিদ: ১৩]
ইবনে তাইমিয়া-কে সমকালের সুলতান সালজুকির কাছে উপস্থিত করা হল। সুলতান তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'ইবনে তাইমিয়া! আপনি নাকি আমার রাজত্ব ছিনাতে চাচ্ছেন?'
ইবনে তাইমিয়া হাসলেন। তার অন্তরে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। তিনি চান আখেরাত। আল্লাহর খাযানা। দুনিয়া তার দৃষ্টিতে তুচ্ছ। নগণ্য। মসজিদে তিনি যে মজলিস করতেন, দুনিয়া তার অর্ধেক সময়ের মূল্যমানও নয়।
ইবনে তাইমিয়া বললেন, 'আল্লাহর কসম! আপনার রাজত্ব, আপনার বাপ-দাদার রাজত্ব আমার কাছে এক পয়সারও সমমান নয়।'
অদ্যাবধি ইবনে তাইমিয়া বেঁচে আছেন। তার অসংখ্য নিদর্শন, রচনা ও কিতাব আজও মুসলমানের অন্তরে জীবিত হয়ে আছে। কিন্তু পৃথিবী থেকে সেই সালজুকি সুলতানের নাম-পরিচয় নিশ্চিহ্ন হয়ে মুছে গেছে।
আল্লাহ ইবনে তাইমিয়ার মর্যাদা উঁচু করেছেন। তিনি তখন একা ছিলেন। কারণ তিনি আল্লাহর এবাদত করেছেন। আনুগত্য করেছেন। অথচ সুলতানের সৈন্য-সামন্ত কত কিছু ছিল। সবসহ তিনি ধরাপৃষ্ঠ থেকে অজ্ঞাত হয়ে গেছেন।
যত মানুষ বিপদে নিপতিত হয়ে সবর করেছেন, ধৈর্য ধরেছেন, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, আল্লাহ তাদের মর্যাদা বাড়িয়েছেন। সম্ভব বৃদ্ধি করেছেন। পরীক্ষিত বান্দারা কেয়ামত পর্যন্ত অগুণতি মানুষের দোয়ায় সপ্রশংস স্মরিত হন।
আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বুযুর্গরাও নানা বিপদে নিপতিত হয়েছেন এবং পরীক্ষিত হয়েছেন।
ইবনুল কাইয়িম বলেন, হে দুর্বলমনা! নূহ আলাইহিস সালাম রাস্তায় রাস্তায় আর্তনাদ করে ফিরেছেন। ইয়াহইয়া জবাই হয়েছেন। যাকারিয়া হত্যা হয়েছেন। ইমামগণ কারাবন্দী হয়েছেন। উল্লেখযোগ্য ওলামায়ে কেরাম বেত্রাঘাতে আহত হয়েছেন।
এভাবেই সবাই পরীক্ষিত হয়েছেন। উম্মতের নেতা হয়েছেন-
আমি তাদের নেতা বানালাম। তারা আমার নির্দেশ অনুসারে পথ প্রদর্শন করতেন। আমি তাদের প্রতি অহি নাযিল করলাম সৎকর্ম করার, সালাত কায়েম করার এবং যাকাত দান করার। তারা আমার এবাদতে ব্যাপৃত ছিল। [সূরা আম্বিয়া: ৭৩]
ইমাম আহমদ ; আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের ইমাম। হাজারে হাজার মারফু মাওকুফ মুসনাদ মাকতু আসার এবং তাবেঈদের বাণী তার মুখস্থ ছিল। তিনি কারাবন্দী হয়েছিলেন। চাবুকের আঘাতে জর্জরিত হয়েছিলেন। কেন?
এবাদতকারী এবং দুনিয়াবিমুখ হয়ে চাবুকের আঘাতে জর্জরিত হয়েছেন!
হাদিসের অঙ্গনে ব্যাপক পারদর্শী হয়েও চাবুকের আঘাতে রঞ্জিত হয়েছেন! দিনভর রোযা রেখেও তিনি রক্তাত্ত হয়েছেন!
দুনিয়ার শোভা বর্জন, সৎকাজের আদেশ, অসৎ কাজের নিষেধ, উচ্ছল প্রভাকর দীনী দাওয়াত, আল্লাহর অস্তিত্বে দৃঢ় অবিচল থেকে তিনি বেত্রাঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছেন!
উম্মতের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে দীনের শিক্ষা এবং দীক্ষা দান করে বেত্রাঘাতে মৃতপ্রায় হয়েছেন!
এসব ছিল মূলত আল্লাহর পরীক্ষা। আল্লাহ পরীক্ষা নিয়ে তার মর্যাদা আকাশছোঁয়া করেছেন।
ইমাম আহমদ কারাবরণ করেছেন। বেত্রাঘাত সহ্য করেছেন। অতঃপর যখন মুক্ত হয়েছেন, তখন যেন লালচে স্বর্ণ আগুনে পুড়ে আরও নিরেট ও খাঁটি সোনায় পরিণত হয়েছেন!
আল্লাহ বলেন-
মানুষ কি মনে করে, তারা একথা বলেই অব্যাহতি পেয়ে যাবে- 'আমরা বিশ্বাস করি' এবং তাদের পরীক্ষা করা হবে না? আমি তাদেরও পরীক্ষা করেছি যারা তাদের পূর্বে ছিল। আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন যারা সত্যবাদী এবং নিশ্চয় জেনে নেবেন মিথ্যুকদের। [সূরা আনকাবূত : ২, ৩]
দীন ও ঈমান শুধু দাবির নাম নয়।
কবি বলেন- দাবির পক্ষে যবে না থাকে প্রমাণ, ওরা শুধুই দাবিদার, দাবির নেই কোন প্রাণ।
কোন ব্যক্তি যদি আল্লাহ -কে ভালোবাসে, কিন্তু আযান হলে শরীয়ত সমর্থিত কারণ ছাড়া মসজিদে না যায়, তাহলে সে মুনাফিক।
কেউ যদি আল্লাহ ও তার রাসূলের সাথে সুসম্পর্ক বজায়ের দাবি করে, তাদের ভালোবাসার প্রচার করে, কিন্তু তার সন্তানের মৃত্যুতে আল্লাহ -র ফয়সালা ও তকদিরের উপর ক্ষোভ আসে, অযৌক্তিক কথা বলে, তাহলে সে কেমন ঈমানদার! কোথায় তার দাবির সত্যতা? এটাই কি প্রকৃত ঈমানের পরিচয়! প্রকৃত ঈমানের দাবি কী?
বন্ধুদের সাথে রাত জেগে আড্ডা এবং বন্ধুদের ডাকে সাড়া দেয়ার চেয়ে ঠান্ডা ফজরে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে বেশি তৃপ্তি পাওয়াই হল প্রকৃত ঈমানের দাবি ও চাহিদা। রাসূল ইরশাদ করেন-
আল্লাহ বলেন, 'হে আমার বন্দারা! কোন মুমিন বান্দা যখন রাতে উঠে ঠান্ডা পানি দিয়ে অযু করে আমাকে ডাকে, আমি তোমাদের সাক্ষ্য করছি, আমি সেই বান্দাকে ক্ষমা করে দেই। তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাই। [তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি]
আল্লাহ -র সাথে সততার প্রমাণ কী?
হৃদয়ের উয়তা ও আবেগ নিয়ে মুমিনদের সাথে সালাতের কাতারে দাঁড়ানোই হল আল্লাহর সাথে সততার প্রমাণ। মুনাফিকরাও সালাত পড়ে- কিন্তু আল্লাহকে ভালোবেসে নয়, নিষ্ঠতা ও আত্মসমর্পণের সাথে নয়। আল্লাহ বলেন-
তারা যখন সালাতে দাঁড়ায়, তখন দাঁড়ায় একান্ত শিথিলভাবে লোক দেখানোর জন্য। আর তারা আল্লাহকে অল্পই স্মরণ করে। [সূরা নিসা: ১৪২]
মুনাফিকরা সালাত পড়ে শিথিলভাবে। কেরাআন পড়ে শিথিলভাবে। আল্লাহ প্রেমের দাবিতে তাদের সততা নেই। নিষ্ঠতা নেই। আল্লাহ -র প্রতি তাদের ভালোবাসা ও তাড়না নেই। এই সালাত তাদের কোনই উপকারে আসে না।
ইমাম আহমদ 'আল্লাহ আমার প্রভু' বলার অপরাধে কারান্তরীণ হয়েছেন। আমরা তাকে প্রতিটি মজলিসে, মিম্বারে, সভা-সেমিনারে সশ্রদ্ধ স্মরণ করি। আল্লাহ তার মর্যাদা এমনই বৃদ্ধি করেছেন।
তার প্রতিপক্ষকে আল্লাহ নিশ্চিহ্ন করেছেন। নাম-গন্ধ মুছে দিয়েছেন। তার বিরোধিতা করেছিল উযির ইবনে যাইয়াত। ইমাম আহমদ তাকে বদদোয়া দিয়েছেন। সে শাস্তি পেয়েছে। চাবুক খেয়েছে। চুলায় জ্বলে ছাই-ভস্ম হয়েছে।
আহমদ ইবনে আবু দাউদ জাহমি। শরীয়তে নানা অসঙ্গতির উদ্ভাবনকারী। মোতাযিলাদের শীর্ষ ব্যক্তি। তার কারণে ইমাম আহমদ বেত্রাঘাতের অন্যায় শাস্তি ভোগ করেছেন।
ইমাম আহমদ বদদোয়া করেছিলেন- আল্লাহ! তার শরীরে তুমি শাস্তি দাও। আল্লাহ তাকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করলেন। শরীরের অর্ধাঙ্গ অবশ করে দিলেন।
লোকেরা আহমদ ইবনে আবু দাউদকে জিজ্ঞেস করত, 'আপনার কী অবস্থা?'
সে বলত, 'আমার শরীরের এই অংশে একটি মাছি বসলেও মনে হয় কেয়ামত হয়ে গেছে। আর শরীরের এই অংশে কেউ ছুরি দিয়ে কাটলেও কোন অনুভুতি হয় না।'
আহমদ ইবনে আবু দাউদ এই শাস্তি কেন ভোগ করেছিল? কারণ সে আল্লাহবিমুখ ছিল। সত্য অস্বীকার করেছিল। অথচ ইমাম আহমদ আজ পর্যন্ত হাদিসের কিতাবে শত-সহস্রবার স্মরিত হচ্ছেন!
জনৈক বুযুর্গ এক জালেম উযিরের দরবারে উপস্থিত হল। উযির বুযুর্গকে একটি চড় কষিয়ে বসিয়ে দিলেন। বুযুর্গ আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন- 'আল্লাহ! সে আমাকে আঘাত করেছে, তুমি তার হাত কেটে দাও।'
আল্লাহ বুযুর্গকে মূলত পরীক্ষা করলেন। বুযুর্গ আল্লাহ-র কাছেই অনুযোগ করেছেন। আল্লাহ উযিরকে আরেক জালেমের সামনে ফেললেন। জালেম তার ডান হাত কেটে দিল। উযির তখন আক্ষেপ করে কবিতায় বলতে লাগল-
ডান হাত কেটে গেল, আর নেই বেঁচে থাকার স্বাধ। হায় জীবন! আমার ডান হাত গেল, আর কী আছে আমার!
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া। আল্লাহ তাকে বিভিন্নভাবে পরীক্ষায় নিপতিত করেছিলেন। তার মান-সম্ভ্রমে নির্লজ্জ অবাস্তব অসত্য অপবাদ দেয়া হয়েছিল।
তিনি আল্লাহর দিকে মানুষকে ডাকতেন। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর দাওয়াত দিতেন। মানুষের আকীদা-বিশ্বাস ঠিক করে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আহ্বান করতেন। এসবের কারণে তিনি কারান্তরীণ হয়েছিলেন!
তাকে যখন জেলে দেয়া হল, দরজা বন্ধ করে দেয়া হল। তিনি প্রহরীর দিকে তাকিয়ে তেলাওয়াত করতে লাগলেন-
অতঃপর উভয় দলে মাঝখানে খাড়া করা হবে একটি প্রাচীর। যার একটি দরজা হবে। তার অভ্যন্তরে থাকবে রহমত এবং বাইরে থাকবে আযাব। [সূরা হাদিদ: ১৩]
ইবনে তাইমিয়া-কে সমকালের সুলতান সালজুকির কাছে উপস্থিত করা হল। সুলতান তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'ইবনে তাইমিয়া! আপনি নাকি আমার রাজত্ব ছিনাতে চাচ্ছেন?'
ইবনে তাইমিয়া হাসলেন। তার অন্তরে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। তিনি চান আখেরাত। আল্লাহর খাযানা। দুনিয়া তার দৃষ্টিতে তুচ্ছ। নগণ্য। মসজিদে তিনি যে মজলিস করতেন, দুনিয়া তার অর্ধেক সময়ের মূল্যমানও নয়।
ইবনে তাইমিয়া বললেন, 'আল্লাহর কসম! আপনার রাজত্ব, আপনার বাপ-দাদার রাজত্ব আমার কাছে এক পয়সারও সমমান নয়।'
অদ্যাবধি ইবনে তাইমিয়া বেঁচে আছেন। তার অসংখ্য নিদর্শন, রচনা ও কিতাব আজও মুসলমানের অন্তরে জীবিত হয়ে আছে। কিন্তু পৃথিবী থেকে সেই সালজুকি সুলতানের নাম-পরিচয় নিশ্চিহ্ন হয়ে মুছে গেছে।
আল্লাহ ইবনে তাইমিয়ার মর্যাদা উঁচু করেছেন। তিনি তখন একা ছিলেন। কারণ তিনি আল্লাহর এবাদত করেছেন। আনুগত্য করেছেন। অথচ সুলতানের সৈন্য-সামন্ত কত কিছু ছিল। সবসহ তিনি ধরাপৃষ্ঠ থেকে অজ্ঞাত হয়ে গেছেন।
যত মানুষ বিপদে নিপতিত হয়ে সবর করেছেন, ধৈর্য ধরেছেন, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, আল্লাহ তাদের মর্যাদা বাড়িয়েছেন। সম্ভব বৃদ্ধি করেছেন। পরীক্ষিত বান্দারা কেয়ামত পর্যন্ত অগুণতি মানুষের দোয়ায় সপ্রশংস স্মরিত হন।
আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বুযুর্গরাও নানা বিপদে নিপতিত হয়েছেন এবং পরীক্ষিত হয়েছেন。
ইবনুল কাইয়িম বলেন, হে দুর্বলমনা! নূহ আলাইহিস সালাম রাস্তায় রাস্তায় আর্তনাদ করে ফিরেছেন। ইয়াহইয়া জবাই হয়েছেন। যাকারিয়া হত্যা হয়েছেন। ইমামগণ কারাবন্দী হয়েছেন। উল্লেখযোগ্য ওলামায়ে কেরام বেত্রাঘাতে আহত হয়েছেন。
এভাবেই সবাই পরীক্ষিত হয়েছেন। উম্মতের নেতা হয়েছেন-
আমি তাদের নেতা বানালাম। তারা আমার নির্দেশ অনুসারে পথ প্রদর্শন করতেন। আমি তাদের প্রতি অহি নাযিল করলাম সৎকর্ম করার, সালাত কায়েম করার এবং যাকাত দান করার। তারা আমার এবাদতে ব্যাপৃত ছিল। [সূরা আম্বিয়া: ৭৩]
ইমাম আহমদ ; আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের ইমাম। হাজারে হাজার মারফু মাওকুফ মুসনাদ মাকতু আসার এবং তাবেঈদের বাণী তার মুখস্থ ছিল। তিনি কারাবন্দী হয়েছিলেন। চাবুকের আঘাতে জর্জরিত হয়েছিলেন। কেন?
এবাদতকারী এবং দুনিয়াবিমুখ হয়ে চাবুকের আঘাতে জর্জরিত হয়েছেন!
হাদিসের অঙ্গনে ব্যাপক পারদর্শী হয়েও চাবুকের আঘাতে রঞ্জিত হয়েছেন! দিনভর রোযা রেখেও তিনি রক্তাত্ত হয়েছেন!
দুনিয়ার শোভা বর্জন, সৎকাজের আদেশ, অসৎ কাজের নিষেধ, উচ্ছল প্রভাকর দীনী দাওয়াত, আল্লাহর অস্তিত্বে দৃঢ় অবিচল থেকে তিনি বেত্রাঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছেন!
উম্মতের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে দীনের শিক্ষা এবং দীক্ষা দান করে বেত্রাঘাতে মৃতপ্রায় হয়েছেন!
এসব ছিল মূলত আল্লাহর পরীক্ষা। আল্লাহ পরীক্ষা নিয়ে তার মর্যাদা আকাশছোঁয়া করেছেন।
ইমাম আহমদ কারাবরণ করেছেন। বেত্রাঘাত সহ্য করেছেন। অতঃপর যখন মুক্ত হয়েছেন, তখন যেন লালচে স্বর্ণ আগুনে পুড়ে আরও নিরেট ও খাঁটি সোনায় পরিণত হয়েছেন!
আল্লাহ বলেন-
মানুষ কি মনে করে, তারা একথা বলেই অব্যাহতি পেয়ে যাবে- 'আমরা বিশ্বাস করি' এবং তাদের পরীক্ষা করা হবে না? আমি তাদেরও পরীক্ষা করেছি যারা তাদের পূর্বে ছিল। আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন যারা সত্যবাদী এবং নিশ্চয় জেনে নেবেন মিথ্যুকদের। [সূরা আনকাবূত : ২, ৩]
দীন ও ঈমান শুধু দাবির নাম নয়।
কবি বলেন- দাবির পক্ষে যবে না থাকে প্রমাণ, ওরা শুধুই দাবিদার, দাবির নেই কোন প্রাণ।
কোন ব্যক্তি যদি আল্লাহ -কে ভালোবাসে, কিন্তু আযান হলে শরীয়ত সমর্থিত কারণ ছাড়া মসজিদে না যায়, তাহলে সে মুনাফিক।
কেউ যদি আল্লাহ ও তার রাসূলের সাথে সুসম্পর্ক বজায়ের দাবি করে, তাদের ভালোবাসার প্রচার করে, কিন্তু তার সন্তানের মৃত্যুতে আল্লাহ -র ফয়সালা ও তকদিরের উপর ক্ষোভ আসে, অযৌক্তিক কথা বলে, তাহলে সে কেমন ঈমানদার! কোথায় তার দাবির সত্যতা? এটাই কি প্রকৃত ঈমানের পরিচয়! প্রকৃত ঈমানের দাবি কী?
বন্ধুদের সাথে রাত জেগে আড্ডা এবং বন্ধুদের ডাকে সাড়া দেয়ার চেয়ে ঠান্ডা ফজরে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে বেশি তৃপ্তি পাওয়াই হল প্রকৃত ঈমানের দাবি ও চাহিদা। রাসূল ইরশাদ করেন-
আল্লাহ বলেন, 'হে আমার বন্দারা! কোন মুমিন বান্দা যখন রাতে উঠে ঠান্ডা পানি দিয়ে অযু করে আমাকে ডাকে, আমি তোমাদের সাক্ষ্য করছি, আমি সেই বান্দাকে ক্ষমা করে দেই। তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাই। [তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি]
আল্লাহ -র সাথে সততার প্রমাণ কী?
হৃদয়ের উয়তা ও আবেগ নিয়ে মুমিনদের সাথে সালাতের কাতারে দাঁড়ানোই হল আল্লাহর সাথে সততার প্রমাণ। মুনাফিকরাও সালাত পড়ে- কিন্তু আল্লাহকে ভালোবেসে নয়, নিষ্ঠতা ও আত্মসমর্পণের সাথে নয়। আল্লাহ বলেন-
তারা যখন সালাতে দাঁড়ায়, তখন দাঁড়ায় একান্ত শিথিলভাবে লোক দেখানোর জন্য। আর তারা আল্লাহকে অল্পই স্মরণ করে। [সূরা নিসা: ১৪২]
মুনাফিকরা সালাত পড়ে শিথিলভাবে। কেরাআন পড়ে শিথিলভাবে। আল্লাহ প্রেমের দাবিতে তাদের সততা নেই। নিষ্ঠতা নেই। আল্লাহ -র প্রতি তাদের ভালোবাসা ও তাড়না নেই। এই সালাত তাদের কোনই উপকারে আসে না。
ইমাম আহমদ 'আল্লাহ আমার প্রভু' বলার অপরাধে কারান্তরীণ হয়েছেন। আমরা তাকে প্রতিটি মজলিসে, মিম্বারে, সভা-সেমিনারে সশ্রদ্ধ স্মরণ করি। আল্লাহ তার মর্যাদা এমনই বৃদ্ধি করেছেন。
তার প্রতিপক্ষকে আল্লাহ নিশ্চি... করেছেন। নাম-গন্ধ মুছে দিয়েছেন। তার বিরোধিতা করেছিল উযির ইবনে যাইয়াত। ইমাম আহমদ তাকে বদদোয়া দিয়েছেন। সে শাস্তি পেয়েছে। চাবুক খেয়েছে। চুলায় জ্বলে ছাই-ভম হয়েছে।
আহমদ ইবনে আবু দাউদ জাহমি। শরীয়তে নানা অসঙ্গতির উদ্ভাবনকারী। মোতাযিলাদের শীর্ষ ব্যক্তি। তার কারণে ইমাম আহমদ বেত্রাঘাতের অন্যায় শাস্তি ভোগ করেছেন।
ইমাম আহমদ বদদোয়া করেছিলেন- আল্লাহ! তার শরীরে তুমি শাস্তি দাও। আল্লাহ তাকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করলেন। শরীরের অর্ধাঙ্গ অবশ করে দিলেন。
লোকেরা আহমদ ইবনে আবু দাউদকে জিজ্ঞেস করত, 'আপনার কী অবস্থা?'
সে বলত, 'আমার শরীরের এই অংশে একটি মাছি বসলেও মনে হয় কেয়ামত হয়ে গেছে। আর শরীরের এই অংশে কেউ ছুরি দিয়ে কাটলেও কোন অনুভুতি হয় না।'
আহমদ ইবনে আবু দাউদ এই শাস্তি কেন ভোগ করেছিল? কারণ সে আল্লাহবিমুখ ছিল। সত্য অস্বীকার করেছিল। অথচ ইমাম আহমদ আজ পর্যন্ত হাদিসের কিতাবে শত-সহস্রবার স্মরিত হচ্ছেন!
জনৈক বুযুর্গ এক জালেম উযিরের দরবারে উপস্থিত হল। উযির বুযুর্গকে একটি চড় কষিয়ে বসিয়ে দিলেন। বুযুর্গ আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন- 'আল্লাহ! সে আমাকে আঘাত করেছে, তুমি তার হাত কেটে দাও।'
আল্লাহ বুযুর্গকে মূলত পরীক্ষা করলেন। বুযুর্গ আল্লাহ-র কাছেই অনুযোগ করেছেন। আল্লাহ উযিরকে আরেক জালেমের সামনে ফেললেন। জালেম তার ডান হাত কেটে দিল। উযির তখন আক্ষেপ করে কবিতায় বলতে লাগল-
ডান হাত কেটে গেল, আর নেই বেঁচে থাকার স্বাধ। হায় জীবন! আমার ডান হাত গেল, আর কী আছে আমার!
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া। আল্লাহ তাকে বিভিন্নভাবে পরীক্ষায় নিপতিত করেছিলেন। তার মান-সম্ভ্রমে নির্লজ্জ অবাস্তব অসত্য অপবাদ দেয়া হয়েছিল।
তিনি আল্লাহর দিকে মানুষকে ডাকতেন। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর দাওয়াত দিতেন। মানুষের আকীদা-বিশ্বাস ঠিক করে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আহ্বান করতেন। এসবের কারণে তিনি কারান্তরীণ হয়েছিলেন!
তাকে যখন জেলে দেয়া হল, দরজা বন্ধ করে দেয়া হল। তিনি প্রহরীর দিকে তাকিয়ে তেলাওয়াত করতে লাগলেন-
অতঃপর উভয় দলে মাঝখানে খাড়া করা হবে একটি প্রাচীর। যার একটি দরজা হবে। তার অভ্যন্তরে থাকবে রহমত এবং বাইরে থাকবে আযাব। [সূরা হাদিদ: ১৩]
ইবনে তাইমিয়া-কে সমকালের সুলতান সালজুকির কাছে উপস্থিত করা হল। সুলতান তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'ইবনে তাইমিয়া! আপনি নাকি আমার রাজত্ব ছিনাতে চাচ্ছেন?'
ইবনে তাইমিয়া হাসলেন। তার অন্তরে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। তিনি চান আখেরাত। আল্লাহর খাযানা। দুনিয়া তার দৃষ্টিতে তুচ্ছ। নগণ্য। মসজিদে তিনি যে মজলিস করতেন, দুনিয়া তার অর্ধেক সময়ের মূল্যমানও নয়।
ইবনে তাইমিয়া বললেন, 'আল্লাহর কসম! আপনার রাজত্ব, আপনার বাপ-দাদার রাজত্ব আমার কাছে এক পয়সারও সমমান নয়।'
অদ্যাবধি ইবনে তাইমিয়া বেঁচে আছেন। তার অসংখ্য নিদর্শন, রচনা ও কিতাব আজও মুসলমানের অন্তরে জীবিত হয়ে আছে। কিন্তু পৃথিবী থেকে সেই সালজুকি সুলতানের নাম-পরিচয় নিশ্চিহ্ন হয়ে মুছে গেছে।
আল্লাহ ইবনে তাইমিয়ার মর্যাদা উঁচু করেছেন। তিনি তখন একা ছিলেন। কারণ তিনি আল্লাহর এবাদত করেছেন। আনুগত্য করেছেন। অথচ সুলতানের সৈন্য-সামন্ত কত কিছু ছিল। সবসহ তিনি ধরাপৃষ্ঠ থেকে অজ্ঞাত হয়ে গেছেন।
যত মানুষ বিপদে নিপতিত হয়ে সবর করেছেন, ধৈর্য ধরেছেন, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, আল্লাহ তাদের মর্যাদা বাড়িয়েছেন। সম্ভব বৃদ্ধি করেছেন। পরীক্ষিত বান্দারা কেয়ামত পর্যন্ত অগুণতি মানুষের দোয়ায় সপ্রশংস স্মরিত হন।
📄 পরীক্ষায় নিপতীত হওয়ার ফায়দা
এক.
আল্লাহ -র সাহায্য প্রাপ্তির স্বাদ। বিজয়ের সুখ।
কত সাহাবি অসহায় ছিলেন। রিক্ত ছিলেন। আল্লাহ সাহায্যের মাধ্যমে তাদের চক্ষু শীতল করেছেন। সে মানুষ কত সৌভাগ্যবান, যে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করছে, খরচ করছে, দান-সদকা করছে। অবশেষে সাহায্যপ্রাপ্ত হয়ে বিজয়ী হচ্ছে!
বিলাল ইবনে রাবাহ। মূর্তিপূজকদের থেকে তিনি কতটা অপদস্থ হয়েছেন, তা আল্লাহই ভালো জানেন।
আল্লাহ জানেন, বিলাল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর বিশ্বাসী। বিলাল সালাত আদায়কারী। আখেরাতে সফলতা প্রত্যাশী। মক্কার পাহাড়ে পাহাড়ে টেনে হেঁচড়ে বুকে পাথর চাপা দেয়া হচ্ছে, তবু তার মুখ থেকে বের হচ্ছে- 'আহাদ, আহাদ' 'আল্লাহ এক, আল্লাহ এক'।
আল্লাহ্ চাইলেই ঐ পাপিষ্ঠ জালিমদের ধ্বংস করতে পারতেন। বিলালকে মুক্তি দিতে পারতেন। কিন্তু আল্লাহ্ বিলালকে পরীক্ষার একটি পাঠ শিখাতে চাইলেন। অতঃপর আল্লাহ্ বিলালকে বিজয় দান করলেন। ঈমানকে কুফরের উপর বিজয়ী করলেন। বিলালের একিন ও বিশ্বাসকে তাগুতের উপর প্রতিষ্ঠিত করলেন। বিলাল আল্লাহর হেদায়াতে পথপ্রাপ্ত হলেন। বিলাল এখন সফল লোকদের সর্দার। আমাদের মাঝে আজও প্রসিদ্ধ। আর মূর্তিপূজকরা বিফল। ব্যর্থ মনোরথ।
বিলাল ছিলেন ইসলামের মুয়াযযিন। বিশ্ব মুসলিম আজ বিলালকে চেনে।
কবি বলেন-
বিলালের আযান, যে আযানে প্রাণ পায় হাজার আযান।
মক্কা বিজয়ের দিন রাসূল বিলালকে আযান দিতে বললেন। বিলাল তাওহিদের স্তম্ভ কাবায় উঠে আযান দিলেন। তাগুত ও ভ্রষ্টতার নেতৃ-মুশরিকদের ক্ষেপানোর জন্য রাসূল বিলালকে কাবায় উঠালেন। রাসূল তাদের বোঝালেন- দেখ, যে গোলাম তোমাদের কাছে একটাকার মূল্যমানের নয়, সে আজ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর সুবাদে সবার সর্দার!
দেখ এই পবিত্র আল্লাহভীরু মুমিনকে, যে আজ কাবা চড়ে মানুষের কানে কানে তাওহিদের যবানে আযান ফুঁকছে!
দেখ, যাকে তোমরা পাথরের উপর টানা-হেঁচড়া করতে, প্রহার করতে, গালমন্দ বলতে, অপদস্থ করতে, সে আজ বিজয়ের আযান দিচ্ছে!
এ দুনিয়া শুনুক বিলালের আযান- এ যুগ শুনুক, মন দিয়ে শুনুক বিলালের আযান-
সত্য হৃদয়ের দৃঢ়বল বিলাল! আমাদের আনন্দ দাও তুমি সত্য মুসল্লী
তাওবার পানি দিয়ে ধুয়ে দাও, তুমি নিষ্ঠ মুসল্লী যেন পাবো মোরা অষ্টস্বর্গের রাজতোরণ...
আল্লাহ বিলালকে কীভাবে পরীক্ষা করলেন। বিলাল সবর করলেন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন। আল্লাহ তাকে চিরকালের জন্য সম্মানী করলেন। এই হল বিজয়। এই হল আল্লাহর সাহায্য।
দুই. মহাপ্রতিদান। পরীক্ষিত বান্দার জন্য আল্লাহ -র মহাপ্রতিদান। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল -র কাছে গেলাম। তখন তিনি জ্বরে ভুগছিলেন। আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কঠিন জ্বরে আক্রান্ত।' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ। তোমাদের দু'ব্যক্তি যতটুকু জ্বরে আক্রান্ত হয়, আমি একাই ততটুকু জ্বরে আক্রান্ত হই।' আমি বললাম, 'এটি এ জন্য যে, আপনার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সাওয়াব।' তিনি বললেন-
হাঁ ব্যাপারটি এমনই। কেননা যে কোন মুসলিম মুসিবতে আক্রান্ত হয়, চাই তা একটি কাঁটা কিংবা আরো ক্ষুদ্র কিছু হোক না কেন, এর দ্বারা আল্লাহ তার গোনাহগুলো মুছে দেন, যেভাবে গাছ থেকে পাতাগুলো ঝরে যায়। [বুখারি: ৫৬৪৭]
পরীক্ষার সাথে আল্লাহ -র পক্ষ থেকে রয়েছে সাওয়াব ও প্রতিদান। আল্লাহ -র পক্ষ থেকে যে পরীক্ষাই আসুক, চিন্তা, পেরেশানি, দুঃখ-কষ্ট, এমনকি সূর্যের তীব্রতাই হোক না কেন, তাতে সবর করা চাই। এতে থাকবে আল্লাহ পক্ষ থেকে প্রতিদান। বেশুমার সাওয়াব।
তিন. সম্মান। উচ্চ মর্যাদা। আল্লাহ মানুষকে বিপদ দিয়ে, মানুষের পরীক্ষা নিয়ে তাকে ছোট করতে চান না। তাকে মহান করতে চান। কেউ যদি আখেরাতের প্রতিদান চায়, আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করতে চান।
চার.
শিক্ষা গ্রহণ।
আল্লাহ মানুষকে বিপদ দিয়ে দাসত্বের পাঠদান করান। যে পাঠ কখনও ভুলার নয়। কারণ বিপদ ও পরীক্ষায় পতিত হয়ে মানুষ ছোট হয়ে আসে। বিনীত হয়ে আসে। চরিত্র সংশোধন করে নেয়। অনেক অজ্ঞ মানুষ এমন আছে, যারা অসুস্থ হলে আল্লাহ-র আনুগত্যের বেড়ি গলায় পরে নেয়।
পাঁচ.
সবরের দীক্ষা।
রাসূল -র পক্ষ থেকে সবচে গুরুত্বপূর্ণ পাঠদান হল সবরের পাঠ।
ইমাম আহমদ বলেন, আমি কোরআনে সবর নিয়ে গবেষণা করলাম। নব্বইয়ের অধিক জায়গায় সবরের উল্লেখ হয়েছে।
ওলামায়ে কেরাম বলেন, যে সবরের বাহনে চড়তে পারে, সে আল্লাহর সন্তুষ্টি পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
ওমর বলেন, আমরা সবচে উত্তম জীবনোপকরণ পেয়েছি সবর।
অনেকে বলেন, যখন আমরা সবর করি, মুক্তি পাই। সফল হই। যে সবর করে না, তার কোন প্রাপ্তি নেই। প্রাজ্ঞতা নেই। তার জীবনের সুন্দর পরিসমাপ্তি নেই। সুবিন্যস্ত কোন লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নেই।
পাঠক! যে কোন বিপদে আসুন ধৈর্য ধারণ করি। আল্লাহর কাছে সাওয়াবের আশা রাখি। সুহাইব থেকে বর্ণিত, রাসূল বলেন-
মুমিনের বিষয়টি বিস্ময়কর। তার যাবতীয় ব্যাপারই তার জন্য কল্যাণকর। এ বৈশিষ্ট্য মুমিন ছাড়া আর কারো নেই। যদি তার সুখ-শান্তি আসে তবে সে শোকর আদায় করে। এটা তার জন্য কল্যাণকর। যদি দুঃখ মুসিবত আসে তবে সে সবর করে। এটাও তার জন্য কল্যাণকর। [মুসলিম: ২৯৯৯]
সুতরাং আসুন! সর্বাবস্থায় সবর করি। বন্ধু-স্বজন হারানোর বেদনায়, শরীরের কোন অঙ্গ বিকল হওয়ার যন্ত্রণায় সবর করি। ধৈর্য ধরি। ইনশাআল্লাহ, সাহায্য সাথে আসবেই।
লক্ষণীয় হল, আল্লাহ -এর কাছে সবসময় নিরাপদ থাকার দোয়া করতে হবে, বিপদ ও পরীক্ষা আসার দোয়া নয়। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, রাসূল বললেন, 'চাচা! আমি আপনাকে ভালোবাসবো না!'
অপর বর্ণনায় এসেছে, ইবনে আব্বাস রাসূলকে বললেন, 'আমাকে একটি দোয়া শিখিয়ে দিন। আমি তা পড়ে আল্লাহকে ডাকবো।' রাসূল বললেন-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ. হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ক্ষমা ও নিরাপত্তা কামনা করি। [প্রাগুক্ত]
বর্ণিত হয়েছে, জনৈক আনসার সাহাবি দোয়া করেছিলেন, 'আল্লাহ, তুমি যদি আখেরাতে আমাকে শাস্তি দাও, তবে তা দুনিয়াতেই দিয়ে দাও। তুমি আজই আমাকে সেই শাস্তি দিয়ে দাও।'
দোয়ার পর সাহাবি অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থতার প্রভাবে শীর্ণকায় হয়ে পড়েন।
রাসূল তাকে দেখতে গেলেন। জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কি কোন কিছু বলে দোয়া করেছ?'
সাহাবি বললেন, 'আমি এই দোয়া করেছি- 'আল্লাহ, তুমি যদি আখেরাতে আমাকে শাস্তি দাও, তবে তা দুনিয়াতেই দিয়ে দাও। তুমি আজই আমাকে সেই শাস্তি দিয়ে দাও।'
রাসূল বললেন-
সুবহানাল্লাহ! তুমি আল্লাহর আযাব সহ্য করতে পারবে! তুমি এই দোয়া কর-
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ হে পরোয়ারদিগার! আমাদের দুনিয়াতেও কল্যাণ দান কর এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান কর। আমাদের দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর। [সূরা বাকারা: ২০১] [প্রাগুক্ত]
আসুন! আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা কামনা করি। যেন আমরা নিরাপত্তার চাদরে আবৃত থাকি। জানি না, এমন বিপদে পতিত হবো, যা সহ্য করতে পারবো না। সবর করতে পারবো না।
আল্লাহ আমাদের সকল অনিষ্ট থেকে নিরাপদ রেখো।
আমাদের জন্য সহজ ও সর্বোত্তম ফয়সালা রেখো।
আমাদের সামগ্রিক ও পরিপূর্ণ কল্যাণ দান করো। জীবনযাপনে স্বাচ্ছন্দময় করো। সময়ে সৌভাগ্যময় করো।
আল্লাহ! তুমি আমাদের উভয় জগতে অভিভাবক হও। সকল বিষয়ে সুন্দর পরিসমাপ্তি দাও। আমিন।
এক.
আল্লাহ -র সাহায্য প্রাপ্তির স্বাদ। বিজয়ের সুখ।
কত সাহাবি অসহায় ছিলেন। রিক্ত ছিলেন। আল্লাহ সাহায্যের মাধ্যমে তাদের চক্ষু শীতল করেছেন। সে মানুষ কত সৌভাগ্যবান, যে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করছে, খরচ করছে, দান-সদকা করছে। অবশেষে সাহায্যপ্রাপ্ত হয়ে বিজয়ী হচ্ছে!
বিলাল ইবনে রাবাহ। মূর্তিপূজকদের থেকে তিনি কতটা অপদস্থ হয়েছেন, তা আল্লাহই ভালো জানেন।
আল্লাহ জানেন, বিলাল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর বিশ্বাসী। বিলাল সালাত আদায়কারী। আখেরাতে সফলতা প্রত্যাশী। মক্কার পাহাড়ে পাহাড়ে টেনে হেঁচড়ে বুকে পাথর চাপা দেয়া হচ্ছে, তবু তার মুখ থেকে বের হচ্ছে- 'আহাদ, আহাদ' 'আল্লাহ এক, আল্লাহ এক'।
আল্লাহ্ চাইলেই ঐ পাপিষ্ঠ জালিমদের ধ্বংস করতে পারতেন। বিলালকে মুক্তি দিতে পারতেন। কিন্তু আল্লাহ্ বিলালকে পরীক্ষার একটি পাঠ শিখাতে চাইলেন। অতঃপর আল্লাহ্ বিলালকে বিজয় দান করলেন। ঈমানকে কুফরের উপর বিজয়ী করলেন। বিলালের একিন ও বিশ্বাসকে তাগুতের উপর প্রতিষ্ঠিত করলেন। বিলাল আল্লাহর হেদায়াতে পথপ্রাপ্ত হলেন। বিলাল এখন সফল লোকদের সর্দার। আমাদের মাঝে আজও প্রসিদ্ধ। আর মূর্তিপূজকরা বিফল। ব্যর্থ মনোরথ।
বিলাল ছিলেন ইসলামের মুয়াযযিন। বিশ্ব মুসলিম আজ বিলালকে চেনে।
কবি বলেন-
বিলালের আযান, যে আযানে প্রাণ পায় হাজার আযান।
মক্কা বিজয়ের দিন রাসূল বিলালকে আযান দিতে বললেন। বিলাল তাওহিদের স্তম্ভ কাবায় উঠে আযান দিলেন। তাগুত ও ভ্রষ্টতার নেতৃ-মুশরিকদের ক্ষেপানোর জন্য রাসূল বিলালকে কাবায় উঠালেন। রাসূল তাদের বোঝালেন- দেখ, যে গোলাম তোমাদের কাছে একটাকার মূল্যমানের নয়, সে আজ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর সুবাদে সবার সর্দার!
দেখ এই পবিত্র আল্লাহভীরু মুমিনকে, যে আজ কাবা চড়ে মানুষের কানে কানে তাওহিদের যবানে আযান ফুঁকছে!
দেখ, যাকে তোমরা পাথরের উপর টানা-হেঁচড়া করতে, প্রহার করতে, গালমন্দ বলতে, অপদস্থ করতে, সে আজ বিজয়ের আযান দিচ্ছে!
এ দুনিয়া শুনুক বিলালের আযান- এ যুগ শুনুক, মন দিয়ে শুনুক বিলালের আযান-
সত্য হৃদয়ের দৃঢ়বল বিলাল! আমাদের আনন্দ দাও তুমি সত্য মুসল্লী
তাওবার পানি দিয়ে ধুয়ে দাও, তুমি নিষ্ঠ মুসল্লী যেন পাবো মোরা অষ্টস্বর্গের রাজতোরণ...
আল্লাহ বিলালকে কীভাবে পরীক্ষা করলেন। বিলাল সবর করলেন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন। আল্লাহ তাকে চিরকালের জন্য সম্মানী করলেন। এই হল বিজয়। এই হল আল্লাহর সাহায্য।
দুই. মহাপ্রতিদান। পরীক্ষিত বান্দার জন্য আল্লাহ -র মহাপ্রতিদান। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল -র কাছে গেলাম। তখন তিনি জ্বরে ভুগছিলেন। আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কঠিন জ্বরে আক্রান্ত।' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ। তোমাদের দু'ব্যক্তি যতটুকু জ্বরে আক্রান্ত হয়, আমি একাই ততটুকু জ্বরে আক্রান্ত হই।' আমি বললাম, 'এটি এ জন্য যে, আপনার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সাওয়াব।' তিনি বললেন-
হাঁ ব্যাপারটি এমনই। কেননা যে কোন মুসলিম মুসিবতে আক্রান্ত হয়, চাই তা একটি কাঁটা কিংবা আরো ক্ষুদ্র কিছু হোক না কেন, এর দ্বারা আল্লাহ তার গোনাহগুলো মুছে দেন, যেভাবে গাছ থেকে পাতাগুলো ঝরে যায়। [বুখারি: ৫৬৪৭]
পরীক্ষার সাথে আল্লাহ -র পক্ষ থেকে রয়েছে সাওয়াব ও প্রতিদান। আল্লাহ -র পক্ষ থেকে যে পরীক্ষাই আসুক, চিন্তা, পেরেশানি, দুঃখ-কষ্ট, এমনকি সূর্যের তীব্রতাই হোক না কেন, তাতে সবর করা চাই। এতে থাকবে আল্লাহ পক্ষ থেকে প্রতিদান। বেশুমার সাওয়াব।
তিন. সম্মান। উচ্চ মর্যাদা। আল্লাহ মানুষকে বিপদ দিয়ে, মানুষের পরীক্ষা নিয়ে তাকে ছোট করতে চান না। তাকে মহান করতে চান। কেউ যদি আখেরাতের প্রতিদান চায়, আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করতে চান।
চার.
শিক্ষা গ্রহণ।
আল্লাহ মানুষকে বিপদ দিয়ে দাসত্বের পাঠদান করান। যে পাঠ কখনও ভুলার নয়। কারণ বিপদ ও পরীক্ষায় পতিত হয়ে মানুষ ছোট হয়ে আসে। বিনীত হয়ে আসে। চরিত্র সংশোধন করে নেয়। অনেক অজ্ঞ মানুষ এমন আছে, যারা অসুস্থ হলে আল্লাহ-র আনুগত্যের বেড়ি গলায় পরে নেয়।
পাঁচ.
সবরের দীক্ষা।
রাসূল -র পক্ষ থেকে সবচে গুরুত্বপূর্ণ পাঠদান হল সবরের পাঠ।
ইমাম আহমদ বলেন, আমি কোরআনে সবর নিয়ে গবেষণা করলাম। নব্বইয়ের অধিক জায়গায় সবরের উল্লেখ হয়েছে।
ওলামায়ে কেরাম বলেন, যে সবরের বাহনে চড়তে পারে, সে আল্লাহর সন্তুষ্টি পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
ওমর বলেন, আমরা সবচে উত্তম জীবনোপকরণ পেয়েছি সবর।
অনেকে বলেন, যখন আমরা সবর করি, মুক্তি পাই। সফল হই। যে সবর করে না, তার কোন প্রাপ্তি নেই। প্রাজ্ঞতা নেই। তার জীবনের সুন্দর পরিসমাপ্তি নেই। সুবিন্যস্ত কোন লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নেই।
পাঠক! যে কোন বিপদে আসুন ধৈর্য ধারণ করি। আল্লাহর কাছে সাওয়াবের আশা রাখি। সুহাইব থেকে বর্ণিত, রাসূল বলেন-
মুমিনের বিষয়টি বিস্ময়কর। তার যাবতীয় ব্যাপারই তার জন্য কল্যাণকর। এ বৈশিষ্ট্য মুমিন ছাড়া আর কারো নেই। যদি তার সুখ-শান্তি আসে তবে সে শোকর আদায় করে। এটা তার জন্য কল্যাণকর। যদি দুঃখ মুসিবত আসে তবে সে সবর করে। এটাও তার জন্য কল্যাণকর। [মুসলিম: ২৯৯৯]
সুতরাং আসুন! সর্বাবস্থায় সবর করি। বন্ধু-স্বজন হারানোর বেদনায়, শরীরের কোন অঙ্গ বিকল হওয়ার যন্ত্রণায় সবর করি। ধৈর্য ধরি। ইনশাআল্লাহ, সাহায্য সাথে আসবেই।
লক্ষণীয় হল, আল্লাহ -এর কাছে সবসময় নিরাপদ থাকার দোয়া করতে হবে, বিপদ ও পরীক্ষা আসার দোয়া নয়। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, রাসূল বললেন, 'চাচা! আমি আপনাকে ভালোবাসবো না!'
অপর বর্ণনায় এসেছে, ইবনে আব্বাস রাসূলকে বললেন, 'আমাকে একটি দোয়া শিখিয়ে দিন। আমি তা পড়ে আল্লাহকে ডাকবো।' রাসূল বললেন-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ. হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ক্ষমা ও নিরাপত্তা কামনা করি। [প্রাগুক্ত]
বর্ণিত হয়েছে, জনৈক আনসার সাহাবি দোয়া করেছিলেন, 'আল্লাহ, তুমি যদি আখেরাতে আমাকে শাস্তি দাও, তবে তা দুনিয়াতেই দিয়ে দাও। তুমি আজই আমাকে সেই শাস্তি দিয়ে দাও।'
দোয়ার পর সাহাবি অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থতার প্রভাবে শীর্ণকায় হয়ে পড়েন।
রাসূল তাকে দেখতে গেলেন। জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কি কোন কিছু বলে দোয়া করেছ?'
সাহাবি বললেন, 'আমি এই দোয়া করেছি- 'আল্লাহ, তুমি যদি আখেরাতে আমাকে শাস্তি দাও, তবে তা দুনিয়াতেই দিয়ে দাও। তুমি আজই আমাকে সেই শাস্তি দিয়ে দাও।'
রাসূল বললেন-
সুবহানাল্লাহ! তুমি আল্লাহর আযাব সহ্য করতে পারবে! তুমি এই দোয়া কর-
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ হে পরোয়ারদিগার! আমাদের দুনিয়াতেও কল্যাণ দান কর এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান কর। আমাদের দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর। [সূরা বাকারা: ২০১] [প্রাগুক্ত]
আসুন! আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা কামনা করি। যেন আমরা নিরাপত্তার চাদরে আবৃত থাকি। জানি না, এমন বিপদে পতিত হবো, যা সহ্য করতে পারবো না। সবর করতে পারবো না।
আল্লাহ আমাদের সকল অনিষ্ট থেকে নিরাপদ রেখো।
আমাদের জন্য সহজ ও সর্বোত্তম ফয়সালা রেখো।
আমাদের সামগ্রিক ও পরিপূর্ণ কল্যাণ দান করো। জীবনযাপনে স্বাচ্ছন্দময় করো। সময়ে সৌভাগ্যময় করো।
আল্লাহ! তুমি আমাদের উভয় জগতে অভিভাবক হও। সকল বিষয়ে সুন্দর পরিসমাপ্তি দাও। আমিন।
এক.
আল্লাহ -র সাহায্য প্রাপ্তির স্বাদ। বিজয়ের সুখ।
কত সাহাবি অসহায় ছিলেন। রিক্ত ছিলেন। আল্লাহ সাহায্যের মাধ্যমে তাদের চক্ষু শীতল করেছেন। সে মানুষ কত সৌভাগ্যবান, যে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করছে, খরচ করছে, দান-সদকা করছে। অবশেষে সাহায্যপ্রাপ্ত হয়ে বিজয়ী হচ্ছে!
বিলাল ইবনে রাবাহ। মূর্তিপূজকদের থেকে তিনি কতটা অপদস্থ হয়েছেন, তা আল্লাহই ভালো জানেন।
আল্লাহ জানেন, বিলাল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর বিশ্বাসী। বিলাল সালাত আদায়কারী। আখেরাতে সফলতা প্রত্যাশী। মক্কার পাহাড়ে পাহাড়ে টেনে হেঁচড়ে বুকে পাথর চাপা দেয়া হচ্ছে, তবু তার মুখ থেকে বের হচ্ছে- 'আহাদ, আহাদ' 'আল্লাহ এক, আল্লাহ এক'।
আল্লাহ্ চাইলেই ঐ পাপিষ্ঠ জালিমদের ধ্বংস করতে পারতেন। বিলালকে মুক্তি দিতে পারতেন। কিন্তু আল্লাহ্ বিলালকে পরীক্ষার একটি পাঠ শিখাতে চাইলেন। অতঃপর আল্লাহ্ বিলালকে বিজয় দান করলেন। ঈমানকে কুফরের উপর বিজয়ী করলেন। বিলালের একিন ও বিশ্বাসকে তাগুতের উপর প্রতিষ্ঠিত করলেন। বিলাল আল্লাহর হেদায়াতে পথপ্রাপ্ত হলেন। বিলাল এখন সফল লোকদের সর্দার। আমাদের মাঝে আজও প্রসিদ্ধ। আর মূর্তিপূজকরা বিফল। ব্যর্থ মনোরথ।
বিলাল ছিলেন ইসলামের মুয়াযযিন। বিশ্ব মুসলিম আজ বিলালকে চেনে।
কবি বলেন-
বিলালের আযান, যে আযানে প্রাণ পায় হাজার আযান।
মক্কা বিজয়ের দিন রাসূল বিলালকে আযান দিতে বললেন। বিলাল তাওহিদের স্তম্ভ কাবায় উঠে আযান দিলেন। তাগুত ও ভ্রষ্টতার নেতৃ-মুশরিকদের ক্ষেপানোর জন্য রাসূল বিলালকে কাবায় উঠালেন। রাসূল তাদের বোঝালেন- দেখ, যে গোলাম তোমাদের কাছে একটাকার মূল্যমানের নয়, সে আজ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর সুবাদে সবার সর্দার!
দেখ এই পবিত্র আল্লাহভীরু মুমিনকে, যে আজ কাবা চড়ে মানুষের কানে কানে তাওহিদের যবানে আযান ফুঁকছে!
দেখ, যাকে তোমরা পাথরের উপর টানা-হেঁচড়া করতে, প্রহার করতে, গালমন্দ বলতে, অপদস্থ করতে, সে আজ বিজয়ের আযান দিচ্ছে!
এ দুনিয়া শুনুক বিলালের আযান- এ যুগ শুনুক, মন দিয়ে শুনুক বিলালের আযান-
সত্য হৃদয়ের দৃঢ়বল বিলাল! আমাদের আনন্দ দাও তুমি সত্য মুসল্লী
তাওবার পানি দিয়ে ধুয়ে দাও, তুমি নিষ্ঠ মুসল্লী যেন পাবো মোরা অষ্টস্বর্গের রাজতোরণ...
আল্লাহ বিলালকে কীভাবে পরীক্ষা করলেন। বিলাল সবর করলেন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন। আল্লাহ তাকে চিরকালের জন্য সম্মানী করলেন। এই হল বিজয়। এই হল আল্লাহর সাহায্য।
দুই. মহাপ্রতিদান। পরীক্ষিত বান্দার জন্য আল্লাহ -র মহাপ্রতিদান। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল -র কাছে গেলাম। তখন তিনি জ্বরে ভুগছিলেন। আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কঠিন জ্বরে আক্রান্ত।' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ। তোমাদের দু'ব্যক্তি যতটুকু জ্বরে আক্রান্ত হয়, আমি একাই ততটুকু জ্বরে আক্রান্ত হই।' আমি বললাম, 'এটি এ জন্য যে, আপনার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সাওয়াব।' তিনি বললেন-
হাঁ ব্যাপারটি এমনই। কেননা যে কোন মুসলিম মুসিবতে আক্রান্ত হয়, চাই তা একটি কাঁটা কিংবা আরো ক্ষুদ্র কিছু হোক না কেন, এর দ্বারা আল্লাহ তার গোনাহগুলো মুছে দেন, যেভাবে গাছ থেকে পাতাগুলো ঝরে যায়। [বুখারি: ৫৬৪৭]
পরীক্ষার সাথে আল্লাহ -র পক্ষ থেকে রয়েছে সাওয়াব ও প্রতিদান। আল্লাহ -র পক্ষ থেকে যে পরীক্ষাই আসুক, চিন্তা, পেরেশানি, দুঃখ-কষ্ট, এমনকি সূর্যের তীব্রতাই হোক না কেন, তাতে সবর করা চাই। এতে থাকবে আল্লাহ পক্ষ থেকে প্রতিদান। বেশুমার সাওয়াব।
তিন. সম্মান। উচ্চ মর্যাদা। আল্লাহ মানুষকে বিপদ দিয়ে, মানুষের পরীক্ষা নিয়ে তাকে ছোট করতে চান না। তাকে মহান করতে চান। কেউ যদি আখেরাতের প্রতিদান চায়, আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করতে চান।
চার.
শিক্ষা গ্রহণ।
আল্লাহ মানুষকে বিপদ দিয়ে দাসত্বের পাঠদান করান। যে পাঠ কখনও ভুলার নয়। কারণ বিপদ ও পরীক্ষায় পতিত হয়ে মানুষ ছোট হয়ে আসে। বিনীত হয়ে আসে। চরিত্র সংশোধন করে নেয়। অনেক অজ্ঞ মানুষ এমন আছে, যারা অসুস্থ হলে আল্লাহ-র আনুগত্যের বেড়ি গলায় পরে নেয়।
পাঁচ.
সবরের দীক্ষা।
রাসূল -র পক্ষ থেকে সবচে গুরুত্বপূর্ণ পাঠদান হল সবরের পাঠ।
ইমাম আহমদ বলেন, আমি কোরআনে সবর নিয়ে গবেষণা করলাম। নব্বইয়ের অধিক জায়গায় সবরের উল্লেখ হয়েছে।
ওলামায়ে কেরাম বলেন, যে সবরের বাহনে চড়তে পারে, সে আল্লাহর সন্তুষ্টি পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
ওমর বলেন, আমরা সবচে উত্তম জীবনোপকরণ পেয়েছি সবর।
অনেকে বলেন, যখন আমরা সবর করি, মুক্তি পাই। সফল হই। যে সবর করে না, তার কোন প্রাপ্তি নেই। প্রাজ্ঞতা নেই। তার জীবনের সুন্দর পরিসমাপ্তি নেই। সুবিন্যস্ত কোন লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নেই।
পাঠক! যে কোন বিপদে আসুন ধৈর্য ধারণ করি। আল্লাহর কাছে সাওয়াবের আশা রাখি। সুহাইব থেকে বর্ণিত, রাসূল বলেন-
মুমিনের বিষয়টি বিস্ময়কর। তার যাবতীয় ব্যাপারই তার জন্য কল্যাণকর। এ বৈশিষ্ট্য মুমিন ছাড়া আর কারো নেই। যদি তার সুখ-শান্তি আসে তবে সে শোকর আদায় করে। এটা তার জন্য কল্যাণকর। যদি দুঃখ মুসীবত আসে তবে সে সবর করে। এটাও তার জন্য কল্যাণকর। [মুসলিম: ২৯৯৯]
সুতরাং আসুন! সর্বাবস্থায় সবর করি। বন্ধু-স্বজন হারানোর বেদনায়, শরীরের কোন অঙ্গ বিকল হওয়ার যন্ত্রণায় সবর করি। ধৈর্য ধরি। ইনশাআল্লাহ, সাহায্য সাথে আসবেই।
লক্ষণীয় হল, আল্লাহ -এর কাছে সবসময় নিরাপদ থাকার দোয়া করতে হবে, বিপদ ও পরীক্ষা আসার দোয়া নয়। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, রাসূল বললেন, 'চাচা! আমি আপনাকে ভালোবাসবো না!'
অপর বর্ণনায় এসেছে, ইবনে আব্বাস রাসূলকে বললেন, 'আমাকে একটি দোয়া শিখিয়ে দিন। আমি তা পড়ে আল্লাহকে ডাকবো।' রাসূল বললেন-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ. হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ক্ষমা ও নিরাপত্তা কামনা করি। [প্রাগুক্ত]
বর্ণিত হয়েছে, জনৈক আনসার সাহাবি দোয়া করেছিলেন, 'আল্লাহ, তুমি যদি আখেরাতে আমাকে শাস্তি দাও, তবে তা দুনিয়াতেই দিয়ে দাও। তুমি আজই আমাকে সেই শাস্তি দিয়ে দাও।'
দোয়ার পর সাহাবি অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থতার প্রভাবে শীর্ণকায় হয়ে পড়েন।
রাসূল তাকে দেখতে গেলেন। জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কি কোন কিছু বলে দোয়া করেছ?'
সাহাবি বললেন, 'আমি এই দোয়া করেছি- 'আল্লাহ, তুমি যদি আখেরাতে আমাকে শাস্তি দাও, তবে তা দুনিয়াতেই দিয়ে দাও। তুমি আজই আমাকে সেই শাস্তি দিয়ে দাও।'
রাসূল বললেন-
সুবহানাল্লাহ! তুমি আল্লাহর আযাব সহ্য করতে পারবে! তুমি এই দোয়া কর-
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ হে পরোয়ারদিগার! আমাদের দুনিয়াতেও কল্যাণ দান কর এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান কর। আমাদের দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর। [সূরা বাকারা: ২০১] [প্রাগুক্ত]
আসুন! আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা কামনা করি। যেন আমরা নিরাপত্তার চাদরে আবৃত থাকি। জানি না, এমন বিপদে পতিত হবো, যা সহ্য করতে পারবো না। সবর করতে পারবো না।
আল্লাহ আমাদের সকল অনিষ্ট থেকে নিরাপদ রেখো।
আমাদের জন্য সহজ ও সর্বোত্তম ফয়সালা রেখো।
আমাদের সামগ্রিক ও পরিপূর্ণ কল্যাণ দান করো। জীবনযাপনে স্বাচ্ছন্দময় করো। সময়ে সৌভাগ্যময় করো।
আল্লাহ! তুমি আমাদের উভয় জগতে অভিভাবক হও। সকল বিষয়ে সুন্দর পরিসমাপ্তি দাও। আমিন।
এক.
আল্লাহ -র সাহায্য প্রাপ্তির স্বাদ। বিজয়ের সুখ।
কত সাহাবি অসহায় ছিলেন। রিক্ত ছিলেন। আল্লাহ সাহায্যের মাধ্যমে তাদের চক্ষু শীতল করেছেন। সে মানুষ কত সৌভাগ্যবান, যে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করছে, খরচ করছে, দান-সদকা করছে। অবশেষে সাহায্যপ্রাপ্ত হয়ে বিজয়ী হচ্ছে!
বিলাল ইবনে রাবাহ। মূর্তিপূজকদের থেকে তিনি কতটা অপদস্থ হয়েছেন, তা আল্লাহই ভালো জানেন।
আল্লাহ জানেন, বিলাল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর বিশ্বাসী। বিলাল সালাত আদায়কারী। আখেরাতে সফলতা প্রত্যাশী। মক্কার পাহাড়ে পাহাড়ে টেনে হেঁচড়ে বুকে পাথর চাপা দেয়া হচ্ছে, তবু তার মুখ থেকে বের হচ্ছে- 'আহাদ, আহাদ' 'আল্লাহ এক, আল্লাহ এক'।
আল্লাহ্ চাইলেই ঐ পাপিষ্ঠ জালিমদের ধ্বংস করতে পারতেন। বিলালকে মুক্তি দিতে পারতেন। কিন্তু আল্লাহ্ বিলালকে পরীক্ষার একটি পাঠ শিখাতে চাইলেন। অতঃপর আল্লাহ্ বিলালকে বিজয় দান করলেন। ঈমানকে কুফরের উপর বিজয়ী করলেন। বিলালের একিন ও বিশ্বাসকে তাগুতের উপর প্রতিষ্ঠিত করলেন। বিলাল আল্লাহর হেদায়াতে পথপ্রাপ্ত হলেন। বিলাল এখন সফল লোকদের সর্দার। আমাদের মাঝে আজও প্রসিদ্ধ। আর মূর্তিপূজকরা বিফল। ব্যর্থ মনোরথ।
বিলাল ছিলেন ইসলামের মুয়াযযিন। বিশ্ব মুসলিম আজ বিলালকে চেনে。
কবি বলেন-
বিলালের আযান, যে আযানে প্রাণ পায় হাজার আযান।
মক্কা বিজয়ের দিন রাসূল বিলালকে আযান দিতে বললেন। বিলাল তাওহিদের স্তম্ভ কাবায় উঠে আযান দিলেন। তাগুত ও ভ্রষ্টতার নেতৃ-মুশরিকদের ক্ষেপানোর জন্য রাসূল বিলালকে কাবায় উঠালেন। রাসূল তাদের বোঝালেন- দেখ, যে গোলাম তোমাদের কাছে একটাকার মূল্যমানের নয়, সে আজ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর সুবাদে সবার সর্দার!
দেখ এই পবিত্র আল্লাহভীরু মুমিনকে, যে আজ কাবা চড়ে মানুষের কানে কানে তাওহিদের যবানে আযান ফুঁকছে!
দেখ, যাকে তোমরা পাথরের উপর টানা-হেঁচড়া করতে, প্রহার করতে, গালমন্দ বলতে, অপদস্থ করতে, সে আজ বিজয়ের আযান দিচ্ছে!
এ দুনিয়া শুনুক বিলালের আযান- এ যুগ শুনুক, মন দিয়ে শুনুক বিলালের আযান-
সত্য হৃদয়ের দৃঢ়বল বিলাল! আমাদের আনন্দ দাও তুমি সত্য মুসল্লী
তাওবার পানি দিয়ে ধুয়ে দাও, তুমি নিষ্ঠ মুসল্লী যেন পাবো মোরা অষ্টস্বর্গের রাজতোরণ...
আল্লাহ বিলালকে কীভাবে পরীক্ষা করলেন। বিলাল সবর করলেন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন। আল্লাহ তাকে চিরকালের জন্য সম্মানী করলেন। এই হল বিজয়। এই হল আল্লাহর সাহায্য।
দুই. মহাপ্রতিদান। পরীক্ষিত বান্দার জন্য আল্লাহ -র মহাপ্রতিদান। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল -র কাছে গেলাম। তখন তিনি জ্বরে ভুগছিলেন। আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কঠিন জ্বরে আক্রান্ত।' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ। তোমাদের দু'ব্যক্তি যতটুকু জ্বরে আক্রান্ত হয়, আমি একাই ততটুকু জ্বরে আক্রান্ত হই।' আমি বললাম, 'এটি এ জন্য যে, আপনার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সাওয়াব।' তিনি বললেন-
হাঁ ব্যাপারটি এমনই। কেননা যে কোন মুসলিম মুসিবতে আক্রান্ত হয়, চাই তা একটি কাঁটা কিংবা আরো ক্ষুদ্র কিছু হোক না কেন, এর দ্বারা আল্লাহ তার গোনাহগুলো মুছে দেন, যেভাবে গাছ থেকে পাতাগুলো ঝরে যায়। [বুখারি: ৫৬৪৭]
পরীক্ষার সাথে আল্লাহ -র পক্ষ থেকে রয়েছে সাওয়াব ও প্রতিদান। আল্লাহ -র পক্ষ থেকে যে পরীক্ষাই আসুক, চিন্তা, পেরেশানি, দুঃখ-কষ্ট, এমনকি সূর্যের তীব্রতাই হোক না কেন, তাতে সবর করা চাই। এতে থাকবে আল্লাহ পক্ষ থেকে প্রতিদান। বেশুমার সাওয়াব।
তিন. সম্মান। উচ্চ মর্যাদা। আল্লাহ মানুষকে বিপদ দিয়ে, মানুষের পরীক্ষা নিয়ে তাকে ছোট করতে চান না। তাকে মহান করতে চান। কেউ যদি আখেরাতের প্রতিদান চায়, আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করতে চান।
চার. শিক্ষা গ্রহণ।
আল্লাহ মানুষকে বিপদ দিয়ে দাসত্বের পাঠদান করান। যে পাঠ কখনও ভুলার নয়। কারণ বিপদ ও পরীক্ষায় পতিত হয়ে মানুষ ছোট হয়ে আসে। বিনীত হয়ে আসে। চরিত্র সংশোধন করে নেয়। অনেক অজ্ঞ মানুষ এমন আছে, যারা অসুস্থ হলে আল্লাহ-র আনুগত্যের বেড়ি গলায় পরে নেয়।
পাঁচ. সবরের দীক্ষা।
রাসূল -র পক্ষ থেকে সবচে গুরুত্বপূর্ণ পাঠদান হল সবরের পাঠ।
ইমাম আহমদ বলেন, আমি কোরআনে সবর নিয়ে গবেষণা করলাম। নব্বইয়ের অধিক জায়গায় সবরের উল্লেখ হয়েছে।
ওলামায়ে কেরাম বলেন, যে সবরের বাহনে চড়তে পারে, সে আল্লাহর সন্তুষ্টি পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
ওমর বলেন, আমরা সবচে উত্তম জীবনোপকরণ পেয়েছি সবর।
অনেকে বলেন, যখন আমরা সবর করি, মুক্তি পাই। সফল হই। যে সবর করে না, তার কোন প্রাপ্তি নেই। প্রাজ্ঞতা নেই। তার জীবনের সুন্দর পরিসমাপ্তি নেই। সুবিন্যস্ত কোন লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নেই।
পাঠক! যে কোন বিপদে আসুন ধৈর্য ধারণ করি। আল্লাহর কাছে সাওয়াবের আশা রাখি। সুহাইব থেকে বর্ণিত, রাসূল বলেন-
মুমিনের বিষয়টি বিস্ময়কর। তার যাবতীয় ব্যাপারই তার জন্য কল্যাণকর। এ বৈশিষ্ট্য মুমিন ছাড়া আর কারো নেই। যদি তার সুখ-শান্তি আসে তবে সে শোকর আদায় করে। এটা তার জন্য কল্যাণকর। যদি দুঃখ মুসীবত আসে তবে সে সবর করে। এটাও তার জন্য কল্যাণকর। [মুসলিম: ২৯৯৯]
সুতরাং আসুন! সর্বাবস্থায় সবর করি। বন্ধু-স্বজন হারানোর বেদনায়, শরীরের কোন অঙ্গ বিকল হওয়ার যন্ত্রণায় সবর করি। ধৈর্য ধরি। ইনশাআল্লাহ, সাহায্য সাথে আসবেই।
লক্ষণীয় হল, আল্লাহ -এর কাছে সবসময় নিরাপদ থাকার দোয়া করতে হবে, বিপদ ও পরীক্ষা আসার দোয়া নয়। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, রাসূল বললেন, 'চাচা! আমি আপনাকে ভালোবাসবো না!'
অপর বর্ণনায় এসেছে, ইবনে আব্বাস রাসূলকে বললেন, 'আমাকে একটি দোয়া শিখিয়ে দিন। আমি তা পড়ে আল্লাহকে ডাকবো।' রাসূল বললেন-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ. হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ক্ষমা ও নিরাপত্তা কামনা করি। [প্রাগুক্ত]
বর্ণিত হয়েছে, জনৈক আনসার সাহাবি দোয়া করেছিলেন, 'আল্লাহ, তুমি যদি আখেরাতে আমাকে শাস্তি দাও, তবে তা দুনিয়াতেই দিয়ে দাও। তুমি আজই আমাকে সেই শাস্তি দিয়ে দাও।'
দোয়ার পর সাহাবি অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থতার প্রভাবে শীর্ণকায় হয়ে পড়েন।
রাসূল তাকে দেখতে গেলেন। জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কি কোন কিছু বলে দোয়া করেছ?'
সাহাবি বললেন, 'আমি এই দোয়া করেছি- 'আল্লাহ, তুমি যদি আখেরাতে আমাকে শাস্তি দাও, তবে তা দুনিয়াতেই দিয়ে দাও। তুমি আজই আমাকে সেই শাস্তি দিয়ে দাও।'
রাসূল বললেন-
সুবহানাল্লাহ! তুমি আল্লাহর আযাব সহ্য করতে পারবে! তুমি এই দোয়া কর-
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ হে পরোয়ারদিগার! আমাদের দুনিয়াতেও কল্যাণ দান কর এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান কর। আমাদের দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর। [সূরা বাকারা: ২০১] [প্রাগুক্ত]
আসুন! আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা কামনা করি। যেন আমরা নিরাপত্তার চাদরে আবৃত থাকি। জানি না, এমন বিপদে পতিত হবো, যা সহ্য করতে পারবো না। সবর করতে পারবো না।
আল্লাহ আমাদের সকল অনিষ্ট থেকে নিরাপদ রেখো।
আমাদের জন্য সহজ ও সর্বোত্তম ফয়সালা রেখো।
আমাদের সামগ্রিক ও পরিপূর্ণ কল্যাণ দান করো। জীবনযাপনে স্বাচ্ছন্দময় করো। সময়ে সৌভাগ্যময় করো।
আল্লাহ! তুমি আমাদের উভয় জগতে অভিভাবক হও। সকল বিষয়ে সুন্দর পরিসমাপ্তি দাও। আমিন।