📄 দোয়ায় বাড়াবাড়ি
দোয়ায় অনেক সময় বাড়াবাড়ি হয়। যেমন কেউ দোয়া করল- ‘হে আল্লাহ, তুমি আমায় নবি বানিয়ে দাও!’
'আবু বকরের চেয়ে উত্তম বানিয়ে দাও!' 'উসমান আলির চেয়ে উত্তম বানিয়ে দাও।'
এরূপ দোয়া বৈধ নয়। সম্পূর্ণ হারাম।
আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফালের ছেলে দোয়া করছে- 'আল্লাহ! জান্নাতের ডান পাশে আমাকে একটি শ্বেত-শুভ্র ভবন দিও।'
আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল তার দোয়া শুনলেন। ছেলেকে ডেকে বললেন, “আমি রাসূল -কে বলতে শুনেছি, 'শেষ যমানায় এমন একটি জাতি বেরুবে, যারা দোয়ায় এবং পবিত্রতা অর্জনে সীমালঙ্ঘন করবে।' তুমি এমন দোয়া না করে জান্নাত পাওয়ার দোয়া কর। জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া কর।” [আহমাদ: ১৬৩৫৪]
দোয়ায় বাড়াবাড়ির আরেকটি রূপ হল কৃত্রিম সুর-ছন্দে এবং ভনিতায় দোয়া করা।
📄 দোয়ার বিরক্তি, নিরাশা, ক্রমে দোয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া
রাসূল বলেন-
তোমাদের দোয়া আল্লাহ কবুল করবেন, যদি তোমরা এ কথা না বল- ‘আমি দোয়া করছি, আল্লাহ কবুল করছেন না। [বুখারি: ৬৩৪০]
আল্লাহ দ্রুত দোয়া কবুল করেন না। বান্দাকে দোয়ায় অব্যাহত রাখতে চান। আল্লাহ -র কাছে প্রতিটি বিষয় সমাধা হওয়ার জন্য সময় নির্দিষ্ট আছে। আল্লাহ নির্দিষ্ট সময়ে পরিমিতভাবে সকল বিষয় সমাধা করেন। সুতরাং দোয়া কবুল হওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করা উচিৎ নয়।
কখনও কখনও দুনিয়ার চেয়ে আখেরাতে দোয়াটি বেশি লাভজনক হয়। দোয়ার উসিলায় বিভিন্ন অনিষ্টও দূর করা হয়। বর্তমান সঙ্কটের চেয়ে দ্বিগুণ সঙ্কট দূর করা হয়।
কখনও আবার আল্লাহ এই দোয়ার সাওয়াব সংরক্ষিত রাখেন। কিছু বিলম্বে দোয়ার প্রতিফলন ঘটান। সুতরাং দোয়া কবুল হওয়ার জন্য তাড়াহুড়া উচিৎ নয়। নিরাশ হওয়া উচিৎ নয়। বরং দোয়া অব্যাহত রাখা চাই। আল্লাহ -র রহমত থেকে অবিশ্বাসীরাই নিরাশ হয়!
📄 দোয়া কবুল হওয়ার মোক্ষম সময়
সালাতের পর দোয়া কবুল হয়। ফরয সালাত শেষে দোয়া কবুল হওয়ার অত্যন্ত উপযুক্ত সময়। তখন, বিশেষত তাশাহুদের পর সালাম ফিরানোর আগে আল্লাহ-র কাছে সহজে যা কিছু আকাঙ্ক্ষা করা যায় ...
সালাম ফিরানোর পর সাথে সাথে হাত তুলে দোয়া করা সুন্নত নয়। রাসূল এমনটি করেননি। সাহাবায়ে কেরামও করেননি।
দুই আযানের এবং আযান ও একামতের মধ্যবর্তী সময়ে দোয়া কবুল হয়। ইমাম নাসাঈ রাহি. বলেন, আযান হলে বেশি বেশি দোয়া কর। আল্লাহ -র কাছে চাও। আল্লাহ সাড়া দিবেন। যা কিছু চাও, আল্লাহ কবুল করবেন।
সেজদায় দোয়া কবুল হয়। রাসূল ইরশাদ করেন-
আল্লাহর সবচে কাছাকাছি হয় সেজদাকারী। সুতরাং তখন বেশি বেশি দোয়া কর। [মুসলিম: ৪৮২]
সেজদায় সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা পাঠ করার পর আল্লাহ দোয়া কবুল করেন। এই সময়ের দোয়া কবুল হওয়ার বেশি কাছাকাছি।
রাতের শেষভাগে দোয়া কবুল হয়। রাসূল বলেন-
মহামহিম আল্লাহ প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেন, 'কে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দিবো। কে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে তা দিবো। কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করবো। [বুখারি : ১১৪৫]
জুমার দিন আসরের পর দোয়া কবুল হয়। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে- এ দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যে কোন মুসলিম বান্দা যদি এ সময় সালাতে দাঁড়িয়ে আল্লাহ -র নিকট কিছু চায়, তা হলে তিনি তাকে অবশ্যই তা দান করে থাকেন এবং তিনি হাত দিয়ে ইশারা করে বুঝিয়ে দিলেন, সে সময়টি খুবই সংক্ষিপ্ত।'
এ সময়টি হল আসরের পর থেকে মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়। দোয়া কবুল হওয়ার আরও একটি শ্রেষ্ঠ সময় আরাফার দিন।
📄 দোয়া এবং ফয়সালা
দোয়া এবং ফয়সালা পরস্পর বিরোধী নয়। বান্দা অনেক সময় বলে, 'দোয়া করে কী লাভ! আমার ভাগ্যে এটিই আছে!'
বিষয়টি এমন নয়। দোয়া এবং ফয়সালা পরস্পর বিরোধী নয়। আল্লাহ মানুষের ভাগ্য এভাবে লিখেন-
তোমার জন্য এটা ফয়সালা। তবে তুমি দোয়া করলে তা পরিবর্তন করা হবে। তোমার জন্য এই বিপদের ফয়সালা। তবে তুমি দোয়া করলে তা দূর করা হবে।
ভাগ্যে লিখা থাকে- তোমার ছেলে অকৃতকার্য হবে। তুমি দোয়া করবে, আল্লাহ তাকে নাজাত দিবেন। সফলতা দিবেন। সুতরাং এ কথা বলা যাবে না, ছেলের জন্য দোয়া করে কী হবে, ছেলের ভাগ্যে যদি অকৃতকার্যতা লেখা থাকে! হাদিসে বর্ণিত হয়েছে- দোয়া এবং ফয়সালা আসমান-যমিনের মাঝে যুদ্ধে লিপ্ত হয়।
দোয়া চায় ফয়সালা পরিবর্তন হোক। ফয়সালা চায় তদানুরূপ সংঘাটিত হোক। তখন আল্লাহ ফায়াসালার উপর দোয়ার পাধান্য দান করেন।
দোয়া করা উচিৎ সবসময়। সর্বাবস্থায়। আশাবাদী হয়ে। দোয়া ফয়সালার বিপরীত নয়। দোয়ার মাধ্যমে আরেকটি ফয়সালা লিখা হয়। অন্তত পূর্বেকার ফয়সালা শিথিল হয়। সহজ হয়। সাওয়াব পাওয়া যায়।
হে পরোয়ারদিগার! আমাদের দুনিয়াতেও কল্যাণ দান কর এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান কর। আমাদের দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর। [সূরা বাকারা : ২০১]