📘 আল্লাহকে মানুন নিরাপদ থাকুন > 📄 আল্লাহওয়ালাদের কাছে দোয়া প্রার্থনা

📄 আল্লাহওয়ালাদের কাছে দোয়া প্রার্থনা


আমরা সাধারণত একে অপরের কাছে দোয়া প্রার্থনা করি। দোয়ায় বিভিন্নজনের উসিলা ধরে থাকি। অপরকে বলি, 'ভাই, দোয়ার সময় আমাকে স্মরণ রাখবেন। ভুলবেন না যেন।' 'আপনার উসিলায় আল্লাহ যদি এটা করেন...'
আমরা কি যে কারও কাছে এভাবে দোয়া প্রার্থনা করতে পারি!
হ্যাঁ, যে কারও কাছে এভাবে দোয়া প্রার্থনা করা যাবে। তবে দুটি বিষয় লক্ষ রাখতে হবে।
এক. যার কাছে দোয়া চাইবো, তিনি জীবিত থাকবেন। উপস্থিত থাকবেন।
দুই. তিনি নেককার সৎ মানুষ হবেন।
জীবিত কারও উসিলায় দোয়া প্রার্থনা করা যাবে। মৃত কারও কাছে দোয়া প্রার্থনা করা যাবে না। কারও কবরের কাছে গিয়ে এ প্রার্থনা করা যাবে না- 'আল্লাহর কাছে আমি আপনার উসিলা ধরছি।'
এভাবে বললে শিরক হবে। দুনিয়া-আখেরাত নিষ্ফল হবে। কেয়ামতের দিন আল্লাহ-র কাছে কিছুই পাওয়া যাবে না। আল্লাহ বলেন-
আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতি প্রত্যাদেশ হয়েছে, যদি আল্লাহর শরিক স্থির করেন তবে আপনার কর্ম নিষ্ফল হবে এবং আপনি ক্ষতিগ্রস্তদের একজন হবেন। [সূরা যুমার: ৬৫]
জীবিত ব্যক্তি উপস্থিতও থাকতে হবে। অনুপস্থিত কারও উসিলায় দোয়া প্রার্থনা করা যাবে না। যেমন কোন ব্যক্তি রিয়াদ বা জেদ্দায় রইল, আমি এখানে তার উসিলা ধরে দোয়া করলাম- 'আল্লাহ, ঐ ব্যক্তির উসিলায় তোমার কাছে প্রার্থনা করছি। তুমি আমাকে মাফ করে দাও।'
এটা জায়েয হবে না। যার উসিলা ধরা হবে, তিনি উপস্থিত থাকবেন।
যার কাছে দোয়া চাইবো, যার উসিলায় দোয়া চাইবো, তিনি নেককার মানুষ হবেন। কোন পাপাচারীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করা যাবে না। সাম্যবাদী-কমিউনিস্ট, ধর্মত্যাগী-অবিশ্বাসী-নাস্তিকের কাছে দোয়া চাওয়া যাবে না। তাকে এ কথা বলা যাবে না- ‘ভাই, দোয়ার সময় আমাকে ভুলবেন না যেন।’
সে আল্লাহর কাছে কিসের দোয়া করবে! আল্লাহর কাছে তার কিছুই তো নেই! আল্লাহ বলেন-
নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলেছে এবং এগুলো থেকে অহঙ্কার করেছে, তাদের জন্য আকাশের দ্বার উন্মুক্ত করা হবে না এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যে পর্যন্ত না সুচের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ করে। আমি এমনিভাবে পাপীদের শাস্তি প্রদান করি। [সূরা আরাফ: ৪০]
আল্লাহ-র কাছে তার কোন হক নেই। কোন দাবি নেই। অংশ নেই। গ্রহণযোগ্যতা নেই। সাফল্য, সন্তুষ্টি, বিনিময়, কিছুই নেই। তার জন্য আছে আল্লাহ-র গযব, লানত, দূরত্ব ও ধ্বংস।
দোয়া চাইতে হবে নেককার আল্লাহওয়ালাদের কাছে। ওমর রাসূল-র কাছে বললেন, ‘আল্লাহর রাসূল, আমি ওমরার নিয়ত করেছি।’
রাসূল বললেন- يَا أَخِي لَا تَنْسَنَا مِنْ دُعَائِكَ
ভাই, তোমার দোয়ায় আমাদের ভুলো না। [আহমাদ: ১৯৬]
ইবনে তাইমিয়া বলেন, কেউ যখন কারও কাছে দোয়া প্রার্থনা করে, প্রার্থনাকারী মূলত দোয়াকারীর কল্যাণকামী হয়ে থাকে। দোয়াকারী যখন আল্লাহর কাছে প্রার্থনাকারীর জন্য দোয়া করে, তখন দোয়াকারীকে বলা হয়, ‘তোমার জন্যেও অনুরূপ!’

📘 আল্লাহকে মানুন নিরাপদ থাকুন > 📄 দোয়ায় বাড়াবাড়ি

📄 দোয়ায় বাড়াবাড়ি


দোয়ায় অনেক সময় বাড়াবাড়ি হয়। যেমন কেউ দোয়া করল- ‘হে আল্লাহ, তুমি আমায় নবি বানিয়ে দাও!’
'আবু বকরের চেয়ে উত্তম বানিয়ে দাও!' 'উসমান আলির চেয়ে উত্তম বানিয়ে দাও।'
এরূপ দোয়া বৈধ নয়। সম্পূর্ণ হারাম।
আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফালের ছেলে দোয়া করছে- 'আল্লাহ! জান্নাতের ডান পাশে আমাকে একটি শ্বেত-শুভ্র ভবন দিও।'
আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল তার দোয়া শুনলেন। ছেলেকে ডেকে বললেন, “আমি রাসূল -কে বলতে শুনেছি, 'শেষ যমানায় এমন একটি জাতি বেরুবে, যারা দোয়ায় এবং পবিত্রতা অর্জনে সীমালঙ্ঘন করবে।' তুমি এমন দোয়া না করে জান্নাত পাওয়ার দোয়া কর। জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া কর।” [আহমাদ: ১৬৩৫৪]
দোয়ায় বাড়াবাড়ির আরেকটি রূপ হল কৃত্রিম সুর-ছন্দে এবং ভনিতায় দোয়া করা।

📘 আল্লাহকে মানুন নিরাপদ থাকুন > 📄 দোয়ার বিরক্তি, নিরাশা, ক্রমে দোয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া

📄 দোয়ার বিরক্তি, নিরাশা, ক্রমে দোয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া


রাসূল বলেন-
তোমাদের দোয়া আল্লাহ কবুল করবেন, যদি তোমরা এ কথা না বল- ‘আমি দোয়া করছি, আল্লাহ কবুল করছেন না। [বুখারি: ৬৩৪০]
আল্লাহ দ্রুত দোয়া কবুল করেন না। বান্দাকে দোয়ায় অব্যাহত রাখতে চান। আল্লাহ -র কাছে প্রতিটি বিষয় সমাধা হওয়ার জন্য সময় নির্দিষ্ট আছে। আল্লাহ নির্দিষ্ট সময়ে পরিমিতভাবে সকল বিষয় সমাধা করেন। সুতরাং দোয়া কবুল হওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করা উচিৎ নয়।
কখনও কখনও দুনিয়ার চেয়ে আখেরাতে দোয়াটি বেশি লাভজনক হয়। দোয়ার উসিলায় বিভিন্ন অনিষ্টও দূর করা হয়। বর্তমান সঙ্কটের চেয়ে দ্বিগুণ সঙ্কট দূর করা হয়।
কখনও আবার আল্লাহ এই দোয়ার সাওয়াব সংরক্ষিত রাখেন। কিছু বিলম্বে দোয়ার প্রতিফলন ঘটান। সুতরাং দোয়া কবুল হওয়ার জন্য তাড়াহুড়া উচিৎ নয়। নিরাশ হওয়া উচিৎ নয়। বরং দোয়া অব্যাহত রাখা চাই। আল্লাহ -র রহমত থেকে অবিশ্বাসীরাই নিরাশ হয়!

📘 আল্লাহকে মানুন নিরাপদ থাকুন > 📄 দোয়া কবুল হওয়ার মোক্ষম সময়

📄 দোয়া কবুল হওয়ার মোক্ষম সময়


সালাতের পর দোয়া কবুল হয়। ফরয সালাত শেষে দোয়া কবুল হওয়ার অত্যন্ত উপযুক্ত সময়। তখন, বিশেষত তাশাহুদের পর সালাম ফিরানোর আগে আল্লাহ-র কাছে সহজে যা কিছু আকাঙ্ক্ষা করা যায় ...
সালাম ফিরানোর পর সাথে সাথে হাত তুলে দোয়া করা সুন্নত নয়। রাসূল এমনটি করেননি। সাহাবায়ে কেরামও করেননি।
দুই আযানের এবং আযান ও একামতের মধ্যবর্তী সময়ে দোয়া কবুল হয়। ইমাম নাসাঈ রাহি. বলেন, আযান হলে বেশি বেশি দোয়া কর। আল্লাহ -র কাছে চাও। আল্লাহ সাড়া দিবেন। যা কিছু চাও, আল্লাহ কবুল করবেন।
সেজদায় দোয়া কবুল হয়। রাসূল ইরশাদ করেন-
আল্লাহর সবচে কাছাকাছি হয় সেজদাকারী। সুতরাং তখন বেশি বেশি দোয়া কর। [মুসলিম: ৪৮২]
সেজদায় সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা পাঠ করার পর আল্লাহ দোয়া কবুল করেন। এই সময়ের দোয়া কবুল হওয়ার বেশি কাছাকাছি।
রাতের শেষভাগে দোয়া কবুল হয়। রাসূল বলেন-
মহামহিম আল্লাহ প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেন, 'কে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দিবো। কে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে তা দিবো। কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করবো। [বুখারি : ১১৪৫]
জুমার দিন আসরের পর দোয়া কবুল হয়। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে- এ দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যে কোন মুসলিম বান্দা যদি এ সময় সালাতে দাঁড়িয়ে আল্লাহ -র নিকট কিছু চায়, তা হলে তিনি তাকে অবশ্যই তা দান করে থাকেন এবং তিনি হাত দিয়ে ইশারা করে বুঝিয়ে দিলেন, সে সময়টি খুবই সংক্ষিপ্ত।'
এ সময়টি হল আসরের পর থেকে মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়। দোয়া কবুল হওয়ার আরও একটি শ্রেষ্ঠ সময় আরাফার দিন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00