📘 আল্লাহকে মানুন নিরাপদ থাকুন > 📄 চিন্তা-পেরেশানি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে মুক্তিপ্রার্থনা

📄 চিন্তা-পেরেশানি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে মুক্তিপ্রার্থনা


সকাল-সন্ধ্যা আমরা কিসের দোয়া করবো!
কোন কোন জিনিস থেকে আল্লাহ-র আশ্রয় ও মুক্তি প্রার্থনা করবো! রাসূল অনেক কিছু থেকেই আল্লাহ-র আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। চিন্তা- পেরেশানি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে মুক্তিপ্রার্থনা করতেন- اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحُزْنِ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ ضَلْعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ
হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট চিন্তাভাবনা হতে পানাহ চাই। অপারগতা ও অলসতা থেকে পানাহ চাই। কৃপণতা ও কাপুরুষতা হতে পানাহ চাই। ঋণের চাপ ও মানুষের জবরদস্তি থেকে পানাহ চাই। [আবু দাউদ : ১৫৫৫]
রাসূল কুফরি এবং দারিদ্রতা থেকেও মুক্তি প্রার্থনা করতেন- اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ.
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে কুফর এবং দারিদ্রতা থেকে পানাহ চাই। [আহমাদ : ১৯৮৬৮]
রাসূল দারিদ্রতা থেকেও মুক্তিপ্রার্থনা করতেন। কারণ, দারিদ্রতা কখনও কখনও মানুষকে আল্লাহ-র প্রতি অসন্তুষ্ট ও বিরাগভাজন করে দেয়। আল্লাহ আমাদের হেফাযত করুন।
রাসূল ﷺ এমন ধনাঢ্যতা থেকে মুক্তিপ্রার্থনা করতেন, যা বান্দাকে আল্লাহ -র অবাধ্য বানিয়ে ফেলে। এমন দারিদ্রতা থেকে মুক্তিপ্রার্থনা করতেন, যা বান্দাকে আল্লাহ-র রহমত, ক্ষমাশীলতা ও মহানুভবতার কথা ভুলিয়ে দেয়। রাসূল ﷺ বলতেন-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُوعِ ، فَإِنَّهُ بِئْسَ الضَّجِيعُ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخِيَانَةِ فَإِنَّهَا بِئْسَتِ الْبِطَانَةُ.
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় কামনা করি ক্ষুধা থেকে; তা মানুষের কত খারাপ নিদ্রা-সাথি! তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি বিশ্বাসঘাতকতা থেকে; তা মানুষের কী মন্দ গোপন-চরিত! [আবু দাউদ : ১৫৪৭]
রাসূল ﷺ কবরের আযাব, দোযখের আযাব, জীবন-মৃত্যুর ফেতনা এবং দাজ্জালের ফেতনা থেকেও মুক্তি প্রার্থনা করতেন। [বুখারি: ৮৩৩]
রাসূল ﷺ ঘর থেকে বের হওয়ার সময় এই দোয়া পড়তেন- اللَّهُمَّ إني أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَضِلَّ أَوْ أُضَلَّ، أَوْ أَزِلَّ أَوْ أُزَلَّ، أَوْ أَظْلِمَ أَوْ أُظْلَمَ، أَوْ أَجْهَلَ أَوْ يُجْهَلَ علي
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে বিপথগামী হওয়া ও বিপথগামী করা, উৎপীড়ন করা ও উৎপীড়িত হওয়া, অজ্ঞতা প্রকাশ করা বা অজ্ঞতা প্রকাশের পাত্র হওয়া থেকে মুক্তি চাই। [আহমাদ: ২৬১৮৯]
ইবনে আসাকিরের বর্ণনায় أو أطغى يطغي على উল্লেখ হয়েছে।
উক্ত দোয়াটি প্রত্যেকের মুখস্থ থাকা উচিৎ। অফিসে, মাদরাসায়, স্কুলে, ক্ষেতে, বাজারে, দোকানে, যে কোন জায়গায় যাত্রাকালে এই দোয়া অবশ্যই পড়া উচিৎ।
ঘর থেকে বের হওয়ার সময় আরও একটি দোয়া- بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ
আল্লাহর নামে শুরু করছি। আল্লাহর উপর ভরসা রাখছি। আল্লাহ ছাড়া কোন শক্তি সামর্থ্য নেই। [আবু দাউদ: ৫০৯৫]
এই দোয়া পাঠ করে কেউ ঘর থেকে বের হলে দুজন ফেরেশতা তার সঙ্গী হয়। তারা পরষ্পর বলাবলি করে- যথেষ্ট। এই বান্দা নিরাপদ। শয়তানের কুচক্র থেকে মুক্ত।
রাসূল ﷺ নিম্নোক্ত দোয়াটিও পাঠ করতেন-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ قَلْبٍ لَا يَخْشَعُ ، وَنَفْسٍ لَا تَشْبَعُ ، وَدُعَاءٍ لَا يُسْمَعُ ، وَعِلْمٍ لَا يَنْفَعُ
হে আল্লাহ! তোমার কাছে ভয়-ডরহীন অতৃপ্ত মন, আমলহীন ইলম, অগৃহীতব্য দোয়া থেকে আশ্রয় চাই। [আহমাদ: ৮২৮৩]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00