📘 আল্লাহকে মানুন নিরাপদ থাকুন > 📄 রাসূল ﷺ থেকে সহিহভাবে বর্ণিত সর্বাধিক তাৎপর্যপূর্ণ দোয়াসমূহ

📄 রাসূল ﷺ থেকে সহিহভাবে বর্ণিত সর্বাধিক তাৎপর্যপূর্ণ দোয়াসমূহ


কোরআনের সবচে শ্রেষ্ঠ দোয়া হল- رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَ فِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ হে পরোয়ারদিগার! আমাদের দুনিয়াতেও কল্যাণ দান কর এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান কর। আমাদের দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর। [সূরা বাকারা : ২০১]
পৃথিবীর এমন কোন কল্যাণকর দিক আছে, যা এই দোয়ার অন্তর্ভুক্ত হয়নি! দুনিয়া আখেরাতের এমন কোন ন্যায়-নিষ্ঠতা, সফলতা বা রিযিকের অন্বেষ আছে, যা এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হয়নি!
আল্লাহ বলেন-
অনেকে বলে, হে আল্লাহ, আমাদের দুনিয়াতে দান কর। অথচ তার জন্য পরকালে কোন অংশ নেই। [সূরা বাকারা: ২০০]
গ্রাম্য কিছু লোক রাসূলের সাথে হজ্জ করতে এসে আরাফা এবং মিনায় হাত তুলে দোয়া করত- 'আল্লাহ, আমাদের পশুর ওলান স্ফীত করে দিন। এই বছরের জন্য আমাদের বৃষ্টিভেজা ঘাস দিন। আমাদের উটের বাচ্চা দিন। আমাদের পশু, ফসল সতেজ ও সজীব রাখুন।'
তারা এই দোয়া করত না- 'আল্লাহ, আমাদের মাফ করে দিন।'
এদের বিপরীতে আরেক দল ছিল, তারা শুধু আখেরাতের জন্যই দোয়া করত। দুনিয়ার জন্য কোন দোয়া করত না। এমনকি কেউ দোয়া করে নিজের উপর অসুস্থতাও চাপিয়ে নিয়েছিল। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, জনৈক আনসার সাহাবি দোয়া করেছিলেন, 'আল্লাহ, তুমি যদি আখেরাতে আমাকে শাস্তি দাও, তবে তা দুনিয়াতেই দিয়ে দাও। তুমি আজই আমাকে সেই শাস্তি দিয়ে দাও।'
দোয়ার পর সাহাবি অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থতার প্রভাবে শীর্ণকায় হয়ে পড়েন।
রাসূল ﷺ তাকে দেখতে গেলেন। জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কি কোন কিছু বলে দোয়া করেছ?'
সাহাবি বললেন, 'আমি এই দোয়া করেছি- 'আল্লাহ, তুমি যদি আখেরাতে আমাকে শাস্তি দাও, তবে তা দুনিয়াতেই দিয়ে দাও। তুমি আজই আমাকে সেই শাস্তি দিয়ে দাও।'
রাসূল বললেন, সুবহানাল্লাহ! তুমি আল্লাহর আযাব সহ্য করতে পারবে! তুমি এই দোয়া কর- رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ হে পরোয়ারদিগার, আমাদের দুনিয়াতেও কল্যাণ দান কর এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান কর। আমাদের দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর। [সূরা বাকারা: ২০১] [মুসলিম: ২৬৮৮]
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া হল- اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ. হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষমা ও নিরাপত্তা কামনা করি। [আহমাদ: ১৭৬৯]
ইবনে আব্বাস রাসূরের কাছে বললেন, 'আমাকে একটি দোয়া শিখিয়ে দিন।' রাসূল ﷺ বললেন-
বল, হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতে নিরাপত্তা কামনা করি। শরীরের নিরাপত্তা, পরিবারের নিরাপত্তা কামনা করি। গোনাহ ও ভুল-ত্রুটি থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করি। [আহমাদ]
রাসূল ﷺ এই দোয়াটি নিয়মিত পাঠ করতেন- اللَّهُمَّ اهْدِنِي وَسَدِّدْنِي. হে আল্লাহ! আমাকে হোদায়াত কর এবং সোজা রাখ। [প্রাগুক্ত]
রাসূল ﷺ আলি -কে বলেন-
আলি! বল- 'হে আল্লাহ, আমাকে হোদায়াত কর এবং সোজা রাখ।' যখন হেদায়াতের কথা বলবে, তখন সরল পথের কথা উল্লেখ কর। যখন সোজা রাখার কথা বল, তখন তীরের মত সোজা রাখার কথা উল্লেখ কর। [মুসলিম : ২৭২৫]
এটি চমৎকার একটি দোয়া। সকাল-সন্ধ্যা পড়ার মত সহজ একটি দোয়া।
আরও একটি অর্থবহ দোয়া- اللَّهُمَّ أَلْهَمْنِي رُشْدِي وَأَعِذْنِي مِنْ شَرِّ نَفْسِي. হে আল্লাহ, আমার অন্তরে সৎপথের সন্ধান দাও এবং আমাকে আমার মনের অপকারিতা হতে পানাহ দাও।
রাসূল ﷺ এই দোয়াটি হুসাইন ইবনে উবাইদকে শিখিয়েছিলেন। তিনি একবার রাসূলের কাছে এলেন। রাসূল তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'হুসাইন, তুমি এখন কয়টি উপাস্যের এবাদত কর।'
হুসাইন বললেন, 'সাতটি উপাস্যের এবাদত করি।'
রাসূল ﷺ বললেন, 'সাতটি উপাস্য কোথায়?'
হুসাইন বললেন, 'ছয়টি যমিনে, একটি আসমানে।'
রাসূল ﷺ বললেন, 'ভয়ে ও আশায় তুমি কাকে ডাক?' অর্থাৎ, যখন কোন বিষয়ে সঙ্কটে নিপতীত হও, সবদিকের দরজা বন্ধ হয়ে যায়, মুক্তির সকল পথ সঙ্কীর্ণ হয়ে আসে, তখন কাকে ডাক?
হুসাইন বললেন, 'আসমানের খালেককে।'
রাসূল ﷺ বললেন, 'তাহলে যমিনের উপাস্যদের ছেড়ে দাও। এক আসমানের প্রভুর এবাদত কর।'
হুসাইন বললেন, 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। আপনি তার প্রেরিত রাসূল।'
রাসূল ﷺ বললেন, 'তোমাকে একটি দোয়া শিখিয়ে দিবো, হুসাইন!'
হুসাইন বললেন, 'হাঁ, শিখিয়ে দিন।'
রাসূল ﷺ তখন তাকে উক্ত দোয়াটি শিখিয়ে দিলেন। [তিরমিযি: ৩৪৮৩]
আবু বকর বলেন, আমি রাসূল -কে বললাম, 'আমাকে সালাতে পড়ার মত একটি দোয়া শিখিয়ে দিন।'
রাসূল বললেন, এই দোয়া পড়- اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةٌ مِّنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ.
আল্লাহ! আমি নিজের উপর অধিক জুলুম করেছি। আপনি ছাড়া সে অপরাধ ক্ষমা করার আর কেউ নেই। আপনার পক্ষ থেকে আমাকে তা ক্ষমা করে দিন। এবং আমার উপর রহমত বর্ষণ করুন। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান। [বুখারি: ৮৩৪]
রাসূল মুয়ায এর কাছে গেলেন। তার আঙ্গুলের সাথে নিজের আঙ্গুল জড়িয়ে বললেন, 'মুয়ায, আল্লাহর কসম! আমি তোমাকে ভালোবাসি!'
মুয়ায বললেন, 'আল্লাহর কসম! আমিও আপনাকে ভালোবাসি!'
রাসূল বললেন, 'মুয়ায, সালাতের পর এই দোয়া পড়তে ভুলবে না- اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
আল্লাহ! তোমার যিকির করার তাওফিক দাও। কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের তাওফিক দাও। উত্তমরূপে এবাদত করার তাওফিক দাও। [আহমাদ : ২১৬১১৪]
রাসূল তাহাজ্জুদে এই দোয়া পাঠ করতেন- اللَّهُمَّ رَبَّ جِبْرَائِيلَ وَمِيكَائِيلَ وَإِسْرَافِيلَ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ اهْدِنِي لِمَا اخْتُلِفَ فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِكَ إِنَّكَ تَهْدِي مَنْ تَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ
হে জিবরাইল মিকাইল ইসরাফীলের প্রভু! আসমান ও যমিনসমূহের সৃষ্টিকর্তা! প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য সকল বিষয়ের সর্বজ্ঞাতা! আপনি আপনার বান্দাদের বিবাদমান বিষয়ে ফায়সালা করুন। আমাদের বিবাদমান বিষয়ে আপনার নির্দেশনায় হকের সন্ধান দিন। আপনিই সরল পথের দিকে পৌঁছান। [মুসলিম: ৭৭0]
সেজদায় পাঠ করার সবচে তাৎপর্যবাহী দোয়া-
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوْبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِيْنِكَ. হে আল্লাহ! অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দীনের উপর অবিচল রাখ। [আহমাদ: ১৭১৭৮]
اللَّهُمَّ مُصَرِّفَ الْقُلُوْبِ صَرِفْ قُلُوْبَنَا عَلَى طَاعَتِكَ. হে আল্লাহ! অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমাদের অন্তরসমূহকে তোমার এবাদত ও আনুগত্যের দিকে আবর্তিত করে দাও। [মুসলিম : ২৬৫৪]
এই দোয়াটিও রাসূল ﷺ থেকে বর্ণিত-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مُوْجِبَاتِ رَحْمَتِكَ، وَعَزَائِمَ مَغْفِرَتِكَ، وَالْغَنِيمَةَ مِنْ كُلِّ بِرَ، وَالسَّلَامَةَ مِنْ كُلِّ إِثْمٍ، وَالْفَوْزَ بِالْجَنَّةِ، وَالنَّجَاةَ مِنَ النَّارِ. আল্লাহ! তোমার রহমতের কার্যকরিতা চাই। মাগফিরাতের দৃঢ়তা চাই। প্রত্যেক ভালো কাজের গনিমত চাই, গোনাহ থেকে নিরাপত্তা চাই। জান্নাত পেয়ে সফলতা চাই। জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাই।

📘 আল্লাহকে মানুন নিরাপদ থাকুন > 📄 সাইয়্যিদুল ইসতিগফার; শ্রেষ্ঠ ইসতিগফার

📄 সাইয়্যিদুল ইসতিগফার; শ্রেষ্ঠ ইসতিগফার


সাইয়িদুল ইসতিগফার। সকল ইসতিগফারের শ্রেষ্ঠ ইসতিগফার। তাবাকাতুল হানাবিলায় উল্লেখ আছে, জনৈক আলেম দাফন হওয়ার পর স্বপ্নে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, 'আল্লাহ আপনার সাথে কী আচরণ করেছেন?' উত্তর দিলেন, 'আমাকে সাধারণ ক্ষমা করা হয়েছে। বিশেষ ক্ষমাও করা হয়েছে।' : 'আপনি আমাদের কিছু উপদেশ দিন।' : 'আমি তোমাদের সাইয়িদুল ইসতিগফারের উপদেশ দিচ্ছি।' সাইয়িদুল ইসতিগফার খুবই আশ্চর্যজনক একটি দোয়া। প্রত্যেক সালাতের পর, সকাল-সন্ধ্যা সাইয়িদুল ইসতিগফার বারবার পাঠ করা অত্যন্ত ফলপ্রসূ।
সাইয়িদুল ইসতিগফার নিম্নরূপ-
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتَ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
হে আল্লাহ, তুমিই আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই গোলাম। আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে কৃত প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের উপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে পানাহ চাচ্ছি। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নেয়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গোনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে মাফ করে দাও, কারণ তুমি ছাড়া কেউ গোনাহ ক্ষমা করতে পারবে না। [বুখারি : ৬৩০৬]
শ্রেষ্ঠতম এই দোয়ায় ক্ষমা প্রার্থনা বা ইসতিগফারের সাথে আল্লাহর একত্ব ঘোষণা করা হয়েছে। কৃত অপরাধ এবং আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামতের সরল স্বীকারোক্তি দেয়া হয়েছে।

📘 আল্লাহকে মানুন নিরাপদ থাকুন > 📄 চিন্তা-পেরেশানি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে মুক্তিপ্রার্থনা

📄 চিন্তা-পেরেশানি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে মুক্তিপ্রার্থনা


সকাল-সন্ধ্যা আমরা কিসের দোয়া করবো!
কোন কোন জিনিস থেকে আল্লাহ-র আশ্রয় ও মুক্তি প্রার্থনা করবো! রাসূল অনেক কিছু থেকেই আল্লাহ-র আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। চিন্তা- পেরেশানি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে মুক্তিপ্রার্থনা করতেন- اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحُزْنِ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ ضَلْعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ
হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট চিন্তাভাবনা হতে পানাহ চাই। অপারগতা ও অলসতা থেকে পানাহ চাই। কৃপণতা ও কাপুরুষতা হতে পানাহ চাই। ঋণের চাপ ও মানুষের জবরদস্তি থেকে পানাহ চাই। [আবু দাউদ : ১৫৫৫]
রাসূল কুফরি এবং দারিদ্রতা থেকেও মুক্তি প্রার্থনা করতেন- اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ.
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে কুফর এবং দারিদ্রতা থেকে পানাহ চাই। [আহমাদ : ১৯৮৬৮]
রাসূল দারিদ্রতা থেকেও মুক্তিপ্রার্থনা করতেন। কারণ, দারিদ্রতা কখনও কখনও মানুষকে আল্লাহ-র প্রতি অসন্তুষ্ট ও বিরাগভাজন করে দেয়। আল্লাহ আমাদের হেফাযত করুন।
রাসূল ﷺ এমন ধনাঢ্যতা থেকে মুক্তিপ্রার্থনা করতেন, যা বান্দাকে আল্লাহ -র অবাধ্য বানিয়ে ফেলে। এমন দারিদ্রতা থেকে মুক্তিপ্রার্থনা করতেন, যা বান্দাকে আল্লাহ-র রহমত, ক্ষমাশীলতা ও মহানুভবতার কথা ভুলিয়ে দেয়। রাসূল ﷺ বলতেন-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُوعِ ، فَإِنَّهُ بِئْسَ الضَّجِيعُ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخِيَانَةِ فَإِنَّهَا بِئْسَتِ الْبِطَانَةُ.
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় কামনা করি ক্ষুধা থেকে; তা মানুষের কত খারাপ নিদ্রা-সাথি! তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি বিশ্বাসঘাতকতা থেকে; তা মানুষের কী মন্দ গোপন-চরিত! [আবু দাউদ : ১৫৪৭]
রাসূল ﷺ কবরের আযাব, দোযখের আযাব, জীবন-মৃত্যুর ফেতনা এবং দাজ্জালের ফেতনা থেকেও মুক্তি প্রার্থনা করতেন। [বুখারি: ৮৩৩]
রাসূল ﷺ ঘর থেকে বের হওয়ার সময় এই দোয়া পড়তেন- اللَّهُمَّ إني أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَضِلَّ أَوْ أُضَلَّ، أَوْ أَزِلَّ أَوْ أُزَلَّ، أَوْ أَظْلِمَ أَوْ أُظْلَمَ، أَوْ أَجْهَلَ أَوْ يُجْهَلَ علي
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে বিপথগামী হওয়া ও বিপথগামী করা, উৎপীড়ন করা ও উৎপীড়িত হওয়া, অজ্ঞতা প্রকাশ করা বা অজ্ঞতা প্রকাশের পাত্র হওয়া থেকে মুক্তি চাই। [আহমাদ: ২৬১৮৯]
ইবনে আসাকিরের বর্ণনায় أو أطغى يطغي على উল্লেখ হয়েছে।
উক্ত দোয়াটি প্রত্যেকের মুখস্থ থাকা উচিৎ। অফিসে, মাদরাসায়, স্কুলে, ক্ষেতে, বাজারে, দোকানে, যে কোন জায়গায় যাত্রাকালে এই দোয়া অবশ্যই পড়া উচিৎ।
ঘর থেকে বের হওয়ার সময় আরও একটি দোয়া- بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ
আল্লাহর নামে শুরু করছি। আল্লাহর উপর ভরসা রাখছি। আল্লাহ ছাড়া কোন শক্তি সামর্থ্য নেই। [আবু দাউদ: ৫০৯৫]
এই দোয়া পাঠ করে কেউ ঘর থেকে বের হলে দুজন ফেরেশতা তার সঙ্গী হয়। তারা পরষ্পর বলাবলি করে- যথেষ্ট। এই বান্দা নিরাপদ। শয়তানের কুচক্র থেকে মুক্ত।
রাসূল ﷺ নিম্নোক্ত দোয়াটিও পাঠ করতেন-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ قَلْبٍ لَا يَخْشَعُ ، وَنَفْسٍ لَا تَشْبَعُ ، وَدُعَاءٍ لَا يُسْمَعُ ، وَعِلْمٍ لَا يَنْفَعُ
হে আল্লাহ! তোমার কাছে ভয়-ডরহীন অতৃপ্ত মন, আমলহীন ইলম, অগৃহীতব্য দোয়া থেকে আশ্রয় চাই। [আহমাদ: ৮২৮৩]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00