📘 আল্লাহকে মানুন নিরাপদ থাকুন > 📄 দোয়ার প্রতি অনুপ্রেরণা

📄 দোয়ার প্রতি অনুপ্রেরণা


রাসূল ইরশাদ করেন, দোয়া একটি স্বতন্ত্র এবাদত। [প্রাগুক্ত]
এই হাদিসটি আমাদের দোয়ার প্রতি অনুপ্রেরণা যোগায়।
অনেকেই দোয়ার প্রতি গুরুত্ব কম দেয়। বলে থাকে, এটি দ্বিতীয় স্তরের এবাদত। দোয়া করলেও কী, না করলেও কী! এটি স্বাভাবিক একটি বিষয়! অথচ দোয়া হল রাতের অস্ত্র! রাতের বর্শা!
জনৈক বুযুর্গকে এক জালেম বাদশাহর কাছে উপস্থিত করা হল। বাদশাহ বুযুর্গকে বলল, 'আল্লাহর কসম! তোমাকে এমনভাবে হত্যা করবো, এভাবে আর কেউ কাউকে হত্যা করেনি!'
বুযুর্গ বললেন, 'তোমার কাছে সৈন্য আছে। অস্ত্র আছে। তীর-তলোয়ার আছে। আর আমার কাছে আছে রাতের মরণাস্ত্র! রাতের বর্শা!'
বাদশাহ জিজ্ঞেস করল, 'কী তোমার রাতের অস্ত্র?'
বুযুর্গ বললেন, 'এ হল শেষ রাতের চোখের জলে ধোয়া তীক্ষ্ণ বর্শা! এ অস্ত্র হল বিনয় ও আবেগমাখা মন্ত্র! এ আবেগ ও অশ্রু আল্লাহ -র কাছে পৌঁছে। তখন আল্লাহ বলেন, আমার ইযযত ও মহত্ত্বের কসম! আমি কিছুক্ষণ পরে হলেও তোমার সাহায্য করবোই!'
বাদশাহ ভয় পেয়ে গেল। কাঁপতে কাঁপতে বলল, 'তুমি যতক্ষণ আল্লাহ -র আশ্রয় গ্রহণ করবে, ততক্ষণ আমি তোমাকে স্পর্শও করবো না!'
বারামেকা জাতির ইতিহাস সুবিদিত। তাদের প্রাচুর্য ও ঐশ্বর্য ছিল। আমোদ- প্রমোদ ছিল। খাওয়া-দাওয়া, ফুর্তি, সবই তারা করেছিল। দীর্ঘ জীবন বেঁচে ছিল। উঁচু উঁচু দালান-কোঠাও নির্মাণ করেছিল। কিন্তু সবকিছুতেই তারা সীমালঙ্ঘন করেছিল। এমনকি তাদের ভবনগুলোর পলেস্তরায় স্বর্ণপ্রলেপ দিয়েছিল।
বলতে বলতে তারা জুলম অত্যাচার শুরু করল। রক্তপাত শুরু করল। তখন তাদেরই একজন বুযুর্গ ও বয়স্ক ব্যক্তি আল্লাহ -এর কাছে হাত তুললেন-
‘আল্লাহ! তুমি বারামেকা জাতিকে ধ্বংস কর!’
আল্লাহ তাদের শাস্তি দিলেন। একটু অবকাশ আর দিলেন না। ভয়ানক শাস্তিতে তাদের ধ্বংস করলেন। ‘আর তোমার পরওয়ারদেগার যখন কোন পাপপূর্ণ জনপদকে ধরেন, তখন এমনিভাবেই ধরে থাকেন। নিশ্চয় তার পাকড়াও খুবই মারাত্মক। বড়ই কঠোর। [সূরা হুদ: ১০২]
তাদের অত্যন্ত প্রিয়পাত্র বাদশাহ হারুনুর রশিদের হাতেই তাদের শাস্তি রচনা করলেন। যে আল্লাহ -এর রজ্জু বাদ দিয়ে অন্য রজ্জু ধরে, তখন অন্য রজ্জুই তার আসল রজ্জু কেটে দেয়। যে কোন বন্ধু-সাথী গ্রহণ করে আল্লাহ -কে ভুলে যায়, তখন ঐ বন্ধুই তাকে স্থলিত করে।
বারামেকিদের সবচেয়ে প্রিয় ও বন্ধুভাবাপন্ন বাদশাহ হারুনুর রশিদ বারামেকি যুবকদের হত্যা করলেন। বৃদ্ধদের জেলে পুরলেন। ভবনগুলোয় সৈন্য জড়ো করলেন।
বারামেক গোত্রের জনৈক বৃদ্ধ, বয়সাধিক্যে তার ভ্রুযুগল চোখের উপর এসে পড়েছিল, -তাকে জিজ্ঞেস করা হল- ‘কেমন আছেন?’
তিনি বললেন, ‘আখেরাতবাসীদের তুলনায় আমরা মৃত নই। দুনিয়াবাসীর তুলনায় আমরা জীবিতও নই। আমি আট বছর যাবৎ বন্দী হয়ে আছি। সূর্যের আলো দেখছি না।’
জিজ্ঞেস করা হল, ‘কী অপরাধে আপনাদের এ করুণ পরিণতি?’
তিনি বললেন, ‘আমরা আল্লাহ -এর অবাধ্য হয়েছি। মজলুমের আর্তনাদ রাতের আঁধারকে গাঢ় করে তুলেছে। আমরা উদাসীন ছিলাম, কিন্তু আল্লাহ উদাসীন হননি।’
দোয়ার গুরুত্ব কিছুতেই কম নয়। দোয়া দ্বিতীয় স্তরের এবাদত নয়। যাদের কাছে দোয়ার গুরুত্ব কম, তারা আহমক ছাড়া আর কী!
ইবনুল জাওযি ؒ এক আহমকের ঘটনা উল্লেখ করেন। আহমক কোথাও সফরের উদ্যোগ নিল। তাকে বলা হল, 'আমরা তোমার জন্য দোয়া করবো?' আহমক বলল, 'না। আমার দোয়ার দরকার নেই। গন্তব্যস্থল কাছেই!'
কতবড় আহমক! গন্তব্য কাছে হোক, দূরে হোক, আল্লাহর হেফাযত ছাড়া কোন গত্যন্তর আছে কি! আল্লাহই তো আমাদের সাহায্য ও সঙ্গ দেন সবসময়!
হাসন বসরি ؒ। একবার কোরআনের কজন কারীর কাছে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের মুখোশ উন্মোচন করেছিলেন। হাজ্জাজের উপর রাগ প্রকাশ করে তাকে বকেছিলেন। হাজ্জাজের ক্ষোভ হল। হাসান বসরি ؒ-কে তলব করে পাঠাল। তার পেয়াদারা গিয়ে হাসান বসরিকে বলল, 'হাজ্জাজ আপনাকে ডেকেছেন।'
হাসান বসরি আল্লাহ ﷻ-র কাছে দোয়া করলেন। বললেন, 'আল্লাহ, হাজ্জাজকে আজ আমার বশ করে দিও।'
হাসান বসরি হাজ্জাজের কাছে পৌঁছুবামাত্র হাজ্জাজ পরিবর্তন হয়ে গেল। তার রাগ উড়ে গেল। হাসান বসরি হাজ্জাজের সামনে আসলেন, হাজ্জাজ আচমকা এক ভয়ে লজ্জায় সুগন্ধি নিয়ে হাসানকে সুগন্ধি মাখিয়ে দিল।
পেয়াদারা হাজ্জাজকে জিজ্ঞেস করল, 'আপনি হাসানকে কিছু করলেন না যে!' হাজ্জাজ বলল, 'আল্লাহর কসম! তাকে দেখে আমার জীবনের সবচে বেশি ভীত ও ত্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম!'
সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ ﷻ বলেন-
আপনি সেই চিরঞ্জীবের উপর ভরসা করুন, যার মৃত্যু নেই। [ফুরকান: ৫৮]
যাদেরকে লোকেরা বলেছে যে, 'তোমাদের সাথে মোকাবেলা করার জন্য লোকেরা সমাবেশ করেছে বহু সাজ-সরঞ্জাম; তাদের ভয় কর।' তখন তাদের বিশ্বাস আরও দৃঢ়তর হয়ে যায় এবং তারা বলে আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট; কতই না চমৎকার কামিয়াবীদানকারী! অতঃপর ফিরে এলো মুসলমানরা আল্লাহর অনুগ্রহ নিয়ে, তাদের কিছুই অনিষ্ট হলো না। তারপর তারা আল্লাহর ইচ্ছার অনুগত হলো। বস্তুত আল্লাহর অনুগ্রহ অতি বিরাট। [সূরা আলে ইমরান: ১৭৩, ১৭৪]
সাহাবায়ে কেরام রাসূল ﷺ-কে জিজ্ঞেস করলেন, 'আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ কি আমাদের নিকটেই রয়েছেন, আমরা তাকে চুপিসারে ডাকবো! নাকি তিনি আমাদের অনেক দূরে, আমরা তাকে সজোরে ডাকবো!'
সাহাবায়ে কেরামের উত্তরে আল্লাহ ﷺ বলেন-
আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে- বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। [সূরা বাকারা : ১৮৬]
দোয়া কবুল হওয়ার জন্য আল্লাহ ﷻ বান্দার উপর দুটি বিষয় অপরিহার্য করেছেন।
এক. আল্লাহ ও তার রাসূলের ডাকে সর্বাবস্থায় সাড়া দেয়া। যে আল্লাহ ও তার রাসূলের ডাকে সাড়া দিবে না, আল্লাহও তার ডাকে কখনও সাড়া দিবেন না। বস্তুতঃ বান্দাই দোয়া কবুল হওয়ার পথ রুদ্ধ করেছে।
দুই. বান্দা সৎকর্মপরায়ণ হওয়া।
দোয়া কখনও কখনও বিলম্বে কবুল হয়। দোয়া কবুলে বিলম্বে হলে নিরাশ হওয়া উচিৎ নয়। দোয়া একটি এবাদত। আল্লাহ ﷺ-র নেয়ামত। দোয়া যখন বিলম্বে কবুল হয়, বান্দা তখন অব্যাহত দোয়া করে আল্লাহপ্রদত্ত নেয়ামতেই ডুবে থাকে। আল্লাহ ﷺ-র এবাদতে মগ্ন থাকে।
জনৈক বুযুর্গ বলেন, 'আল্লাহর কসম! আমি চাই আমার দোয়া বিলম্বে কবুল হোক। দোয়া যত বিলম্বে কবুল হবে, আমি ততই দোয়া করতে থাকবো এবং আল্লাহকে ডাকার অমৃত অনুভব করতে থাকবো!'
মুসা ﷺ আল্লাহ ﷻ-র কাছে দোয়া করেছিলেন-
হে আমার পরোয়ারদিগার! তুমি ফেরাউন এবং তার সর্দারদের পার্থিব জীবনের আড়ম্বর দান করেছ। সম্পদ দান করেছ। হে আমার পরোয়ারদিগার! এ জন্যই যে তারা তোমার পথ থেকে বিপথগামী করবে। হে আমার পরোয়ারদিগার! তাদের ধন-সম্পদ ধ্বংস করে দাও। তাদের অন্তরগুলো কঠোর করে দাও। যেন তারা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমান না আনে, যতক্ষণ না বেদনাদায়ক আযাব প্রত্যক্ষ করে নেয়। [সূরা ইউনুস: ৮৮]
হারুন তখন মুসার সাথে ছিলেন। তিনি মুসার দোয়ার সাথে সাথে বলছিলেন- আমীন। আমীন। তখন আল্লাহ বললেন-
তোমাদের দোয়া কবুল হয়েছে। [সূরা ইউনুস: ৮৯]
তাদের এই দোয়া কবুল হতে চল্লিশ বছর বিলম্ব হয়েছিল। এতদিন তার কখনও নিরাশ হননি। নিঃস্পৃহ হননি।
ইয়াকুব -ও ইউসুফ -র জন্য চল্লিশ বছর কেঁদেছিলেন।
ইমাম আহমাদ কিতাবুয যুহদ-এ বর্ণনা করেন, মুসা আলাইহিস সালাম যখন মাদয়ানে প্রবেশ করেন, পাথর সড়িয়ে পানি পান করেন, তখন একটি ছায়ায় বসে তিনি আল্লাহর কাছে কেঁদেছিলেন- 'হে রব! আমি ফকির। গরিব। অসুস্থ। উপবাসী।'
আল্লাহ তখন অহি নাযিল করলেন, 'মুসা! যাকে আমি খাওয়াই না, সে উপবাসী। যাকে আমি সাহায্য করি না, সে গরিব। যাকে আমি সাবলম্বী করি না, সে ফকির। যাকে আমি চিকিৎসা দেই না, সে অসুস্থ।'
আমাদের জীবন পথের অন্যতম পাথেয় দোয়া। রাসূল ইরশাদ করেন, 'দোয়া একটি স্বতন্ত্র এবাদত।' দোয়া মানুষের ঈমানের পরিচয়। যে ব্যক্তি পাঁচ বেলা সালাতে দোয়া করে, ফজরের পর দোয়া করে, শেষ রাতে দোয়া করে, সালাতের আগে-পরে, জুমার দিনে দোয়া করে, সে ঈমানদার ব্যক্তি। তার ঈমানের পূর্ণতা আছে।
আর যে ব্যক্তি উচাটন, পাপিষ্ঠ, ভুলে হয়ত কখনও আল্লাহ -কে ডাকে, তবে সে তার দোয়া পরিমাণই ঈমানদার। যতটুকু সে দোয়া করে, ততটুকুই তার ঈমানের শক্তি। আল্লাহ বলেন-
তোমরা স্বীয় প্রতিপালককের ডাক কাকুতি-মিনতি করে এবং সংগোপনে। তিনি সীমা অতিক্রমকারীদের পছন্দ করেন না। [সূরা আরাফ : ৫৫]
আর স্মরণ করতে থাক স্বীয় পালনকর্তাকে আপন মনে, ক্রন্দনরত ও ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় এবং এমন সুরে, যা চীৎকার করে বলা অপেক্ষা কম, সকালে ও সন্ধ্যায়। আর বে-খবর থেকো না। [সূরা আরাফ: ২০৫]
আল্লাহ -এর যিকির ভীত হয়ে করা উত্তম। দোয়া সংগোপনে করা উত্তম।
দোয়া সংগোপনে করার রহস্য হল- এক. মন যেন নিবিষ্ট থাকে। বিক্ষিপ্ত না হয়।
দুই. সংগোপনে দোয়া করলে তা অত্যধিক ইখলাসপূর্ণ হয়। রিয়া-সুময়া; লৌকিকতা ও প্রচারপ্রিয়তার আশঙ্কা কম থাকে।
তিন. হিংসুকের দৃষ্টি থেকে দূরে থাকা যায়। কারণ, হিংসুক দোয়া থেকে বিমুখ করার জন্য ষড়যন্ত্র করতে পারে।
আবু মুসা আশয়ারি বলেন, খায়বারের যুদ্ধসফরে আমরা একটি উপত্যকা পারি দিচ্ছিলাম। রাসূল আমাদের সাথে ছিলেন। লোকেরা উঁচু আওয়াযে তাকবির দিচ্ছিল- আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু। রাসূল বললেন, 'তোমরা নিজেদের প্রতি সদয় হও। তোমরা এমন কোন সত্তাকে ডাকছ না, যিনি বধির বা অনুপস্থিত। তোমরা ডাকছ সেই সত্তাকে, যিনি শ্রবণকারী। অতি নিকটে অবস্থানকরী। যিনি তোমাদের সাথেই রয়েছেন।' আমি মনে মনে লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ পাঠ করছিলাম। রাসূল আমাকে বললেন, 'আবু মুসা! আমি তোমাকে জান্নাতের একটি খাযানার কথা বলবো!'
আমি বললাম, 'হ্যাঁ রাসূল, বলুন।'
রাসূল বললেন, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। [বুখারি: ৪২০৫]
আল্লাহ বলেন-
আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে- বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে। [সূরা বাকারা: ১৮৬]
আল্লাহ আমাদের নিকটে রয়েছেন। এটি জ্ঞানগত। আল্লাহ মূলত আরশে আপন শান অনুযায়ী অবস্থান করছেন। আল্লাহ বলেন-
আপনি কি ভেবে দেখেননি, নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলে যা কিছু আছে, আল্লাহ তা জানেন। তিন ব্যক্তির এমন কোন পরামর্শ হয় না, যাতে তিনি চতুর্থ না থাকেন। এবং পাঁচ জনেরও হয় না, যাতে তিনি ষষ্ঠ না থাকেন। তারা এতদপেক্ষা কম হোক বা বেশি হোক, তারা যেখানেই থাকুক না কেন, তিনি তাদের সাথে আছেন। তারা যা করে, তিনি কেয়ামতের দিন তা তাদের জানিয়ে দিবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত। [সূরা মুজাদালা : ০৭]
আল্লাহ দুজনের সাথে তৃতীয়জন থাকেন জ্ঞানগতভাবে। তিনি মূলত আরশে আপন শান অনুযায়ী আছেন। দোয়ারত ব্যক্তির দোয়া শুনছেন। পিঁপড়ার কৃশকায়ের অভ্যন্তরে মগযও দেকছেন। পিঁপড়ার পায়ের ছাপ দেখছেন। হাঁটার আওয়ায শুনছেন। তিমিড় কালো রাত্রিতে কালো কোন যমিনে, পৃথিবীর তলদেশে, সবখানেই তিনি পিঁপড়াকে দেখছেন। আল্লাহ বলেন-
তার কাছেই অদৃশ্য জগতের চাবি রয়েছে। এগুলো তিনি ব্যতীত কেউ জানে না। স্থলে ও জলে যা আছে, তিনিই জানেন। কোন পাতা ঝরে না; কিন্তু তিনি তা জানেন। কোন শস্যকণা মৃত্তিকার অন্ধকার অংশে পতীত হয় না এবং কোন আর্দ্র ও শুষ্ক দ্রব্য পতীত হয় না; কিন্তু তা সব প্রকাশ্য গ্রন্থে রয়েছে। [সূরা আনয়াম : ৫৯]
আল্লাহ দোয়াকারীর প্রশংসা করেছেন। দোয়ার জন্য নবিদেরও বিশেষ প্রশংসা করেছেন-
তারা সৎকর্মে ঝাঁপিয়ে পড়ত, তারা আশা ও ভীতি সহকারে আমাকে ডাকত এবং তারা ছিল আমার কাছে বিনীত। [সূরা আম্বিয়া: ৯০]

📘 আল্লাহকে মানুন নিরাপদ থাকুন > 📄 নবিদের দোয়া

📄 নবিদের দোয়া


ইবরাহিম -র দোয়া
কোরআনে নবিদের বিভিন্ন দোয়া বর্ণিত হয়েছে। শ্রেষ্ঠ দোয়া করেছেন ইবরাহিম । নিজের সাম্ভাব্য ভুল-ত্রুটির জন্যও মাফ চেয়েছেন-
আমি আশা করি, তিনিই বিচারের দিনে আমার ত্রুটি-বিচ্যুতি মাফ করবেন। [সূরা শোয়ারা : ৮২]
ইবরাহিম নিজের ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা চেয়ে আল্লাহ -র প্রতি অগাধ সম্মানবোধ প্রদর্শন করেছেন। আল্লাহভীতির পরাকাষ্ঠা উপস্থাপন করেছেন। তিনি একজন নবি। তার সকল ত্রুটি এমনিতেই মাফ। তথাপি তিনি আল্লাহ -র কাছে ক্ষমা চেয়েছেন; আল্লাহর কাছে নিজের লজ্জাবোধ প্রকাশ করেছেন। এরপর নিজের চাওয়াগুলো আল্লাহ -র কাছে তুলে ধরেছেন-
হে আমার পালনকর্তা, আমাকে প্রজ্ঞা দান কর এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত কর। [সূরা শোয়ারা: ৮৩]
ইবরাহিম মৃত্যুর সময় লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়ার তাওফিক প্রার্থনা করেছেন। স্বচ্ছ দীনের উপর প্রাণত্যাগের আশা প্রকাশ করেছেন।
আমাকে পরবর্তীদের মধ্যে সত্যভাষী কর। আমাকে নেয়ামত উদ্যানের অধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত কর। [সূরা শোয়ারা: ৮৪, ৮৫]
পরবর্তীদের মধ্যে সত্যভাষী হওয়ার অর্থ কী?
পরবর্তীদের মধ্যে সত্যভাষী হওয়ার অর্থ- মৃত্যুর পর মানুষের মাঝে ব্যক্তির ভালো ভালো গুণাবলী আলোচিত হওয়া। কবির ভাষায়-
মৃত্যুর পরেও মানুষ আলোচিত হয়।
ভালো ভালো আলোচনায় আলোচিত হও।
এক গ্রাম্য ব্যক্তি আলি এর কাছে এসে বলল, 'হে আমীরুল মুমিনীন, আমার একটি প্রয়োজন পুরণ করে দিন।'
আলি বললেন, 'যমিনের উপর তোমার প্রয়োজনের কথা লিখ। মনুষ্যত্ব ও লজ্জার জল তোমার না থাক।'
গ্রাম্য ব্যক্তি বললেন, 'আমি আপনাকে অস্বস্তিতে ফেলতে চাইনি। লজ্জা দিতে চাইনি।'
গ্রাম্য ব্যক্তি যমিনের উপর তার প্রয়োজনের কথা লিখলেন।
আলি তাকে এক স্যুট পোষাক দিলেন।
গ্রাম্য ব্যক্তি কবিতার ভাষায় বললেন-
‘আপনি আমাকে আবৃত করেছেন বস্ত্র দ্বারা। আমি আপনাকে আবৃত করবো উত্তম প্রশংসা দ্বারা।’
আলী বললেন- ‘বেশ! তাই হোক।’
হারম ইবনে সিনান। গাতফান গ্রোত্রের মান্যবর একজন ব্যক্তি। দীর্ঘ চল্লিশ বছর চলতে থাকা আবস এবং যাবইয়ান গোত্রের যুদ্ধ তাঁর হাতেই সমাপ্তির পথে আসে। তিনি উভয় গোত্রের মাঝে সন্ধি করিয়ে দেন। নিহতদের দিয়ত মওকুফ করান।
কবি যুহাইর হারম ইবনে সিনানের প্রশংসায় বলেন- আবস-যাবইয়ানের দীর্ঘ যুদ্ধ চূর্ণ করেছে মানশাম; অচূর্ণনীয় সুগন্ধিকাঠ। তুমি কিনা করেছ সেই যুদ্ধেরই মিমাংসা!
একবার গাতফানের একটি গোত্র ওমর এর কাছে এল। তাদের মধ্যে হারম ইবনে সিনানের ছেলেরাও ছিল। ওমর হারমের ছেলেদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমরা যুহাইরকে কী প্রতিদান দিয়েছ?’
তারা বলল, ‘সে আমাদের প্রশংসা করেছে। আমরা তাকে কিছু উপঢৌকন দিয়েছি।’
ওমর বললেন, ‘কসম! তোমরা যুহাইরকে যা দিয়েছ, তা নিঃশেষ হয়েছে। যুহাইর তোমাদের যা দিয়েছে, তা অবশিষ্ট রয়েছে। যুহাইর তোমাদের উত্তম প্রশংসামালা দিয়েছেন।’
পরবর্তীদের মধ্যে সত্যভাষী হওয়া, উত্তম প্রশংসামালার অধিকারী হওয়া, ভালো আলোচনায় স্মরিত থাকা প্রকৃত মুমিনদেরই ভাগ্যে জোটে। কোন পাপী যদি দুনিয়া একত্র করে নেয়, পুরো পৃথিবীকে পৃষ্ঠা বানিয়ে তাতে নিজের প্রশংসামালা ঝুলিয়ে দেয়, তবু তার প্রশংসা মানুষের অন্তরে গৃহীত হয় না।
আবু হোরায়রা থেকে বর্ণিত, রাসূল বলেন-
আল্লাহ কোন বান্দাকে ভালোবাসলে জিবরাঈল -কে ডেকে বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ অমুক বান্দাকে ভালোবাসেন। তুমিও তাকে ভালোবাসো।' তখন জিবরাঈলও তাকে ভালোবাসেন এবং জিবরাঈল আকাশবাসীর মধ্যে ঘোষণা করেন- 'আল্লাহ অমুক বান্দাকে ভালোবাসেন। তোমরাও তাকে ভালোবাস।' তখন আকাশবাসী তাকে ভালোবাসতে থাকে। এরপর পৃথিবীতেও তাকে গ্রহণ করার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। [বুখারি: ৩২০৯]
ভালোবাসা আল্লাহ -র পক্ষ থেকে। মৃত্যুর পর মানুষের কাছে সপ্রশংস স্মরিত হওয়া আল্লাহ -র পক্ষ থেকে। পরবর্তীদের মধ্যে প্রশংসিত হওয়া মুমিনের গুণ। মুমিনের চাওয়া। আল্লাহর সাথে সতত আচরণ ও তদালোকে চরিত্র গঠনের মাধ্যমেই এই গুণ অর্জন করা সম্ভব।
নূহ -র দোয়া
নূহ আল্লাহ -র কাছে দোয়া করেছেন। খুব অল্প কথায় দোয়া করলেও তার দোয়ার তাৎপর্য ব্যাপক, প্রভাবশালী ও মর্মস্পর্শী।
নূহ গোত্রের লোকদের ডাকলেন। আল্লাহ -র কথা বললেন। ধর্মের কথা বললেন। কোন কাজ হল না। গোত্র হঠধার্মিকতা দেখাল। নূহ আল্লাহ -র দিকে মনোনিবেশ করলেন। দোয়া করলেন-
হে আমার পালনকর্তা, আপনি পৃথিবীতে কোন কাফের গৃহবাসীকে রেহাই দিবেন না। যদি আপনি তাদের রেহাই দেন, তবে তারা আপনার বান্দাদের পথভ্রষ্ট করবে এবং জন্ম দিতে থাকবে কেবল পাপাচারী কাফের। [সূরা নূহ: ২৬, ২৭]
তার দোয়া কতটা দূরদর্শী ছিল- হে রব! তাদের সন্তানদেরও ধ্বংস করুন। সন্তানরা তাদের বাবার মতই হবে! সন্তানরাও হঠধর্মী কাফের হবে। কবির ভাষায়-
এক গোনাহের সূত্র আরেক গোনাহ থেকে, সাপের ডিমে জন্ম নেয় যে সাপেরই বাচ্চা!
মুসা -র দোয়া
কোরআনের দোয়াই সবচে সুন্দর ও উত্তম দোয়া। কোরআন থেকেই দোয়া সংকলন করে মুখস্থ করা উচিৎ। কোরআনে নবিদের বর্ণিত দোয়ার চেয়ে তাৎপর্যময় দোয়া আর হতে পারে না।
মুসা ছাগল চড়ান। লাঠি দিয়ে ছাগলের জন্য পাতা জোগাড় করেন। একদিন এক মাঠে উপস্থিত হলেন। আল্লাহর প্রত্যাদেশ জারি হল-
ফেরাউনের কাছে যাও, সে সীমালঙ্ঘন করেছে। [সূরা ত্বাহা: ২৪]
প্রত্যাদেশ পেয়ে মুসা আচমকা থমকে গেলেন। ফেরাউনের কাছে যেতে হবে! মুসার মনে একটু সঙ্কীর্ণতা এল! তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন-
হে আল্লাহ, আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন। আমার কাজ সহজ করে দিন। আমার জিহ্বা থেকে জড়তা দূর করে দিন। তারা আমার কথা বুঝুক। [ত্বাহা: ২৫-২৮]
মুসা-র এই দোয়াটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বক্ষের প্রশস্ততার জন্য আল্লাহর কাছে এর চেয়ে উত্তম ও সুন্দর বাক্য আর নেই। বক্ষ প্রশস্ততার জন্যও সকলের দোয়া করা উচিৎ। রাসূল -র প্রতি আল্লাহ -র অপার অনুগ্রহের অন্যতম হল, আল্লাহ তাঁর বক্ষ প্রশস্ত করেছেন। উদার ও উন্মুক্ত করেছেন। আল্লাহ বলেন-
আমি কি আপনার বক্ষ উন্মুক্ত করে দেইনি! [সূরা ইনশিরাহ : ০১]
জনৈক মুফাসসির আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, আপনার আশপাশ ভেবে দেখুন, ভেদগুলো খুঁজে দেখুন, নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে আপনার বক্ষে সঙ্কীর্ণতা ছিল। আমি তা প্রশস্ত ও উন্মুক্ত করেছি।
বক্ষ উন্মুক্ত হওয়া, একটি উজাড় হৃদয়ের অধিকারী হওয়া বান্দার প্রতি আল্লাহর অপার নেয়ামত। একজন মুমিন জেলে বন্দী থাকলেও সে নির্বিকার। নির্ভিক। তার মন মুক্ত। উন্মুক্ত। একজন কাফের বহুতল ভবনে বাস করে, নিজ ঠিকানায় অবস্থান করে, গাড়িতে বাড়িতে ঘোরাঘুরি করে, তবু তার ভিতর সঙ্কীর্ণতা থাকে। তার উপর যেন জগতের সব লানত একত্র হয়ে আছে।
এর কারণ- আল্লাহ নিজের একটি কর্মপদ্ধতি ঘোষণা করেছেন-
যে আমার বর্ণিত পথ অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং কষ্টে পতীত হবে না। [সূরা ত্বাহা : ১২৩]
যে আল্লাহর বর্ণিত পথ অনুসরণ করবে, সে দুনিয়ায়-আখেরাতে কোথাও পথভ্রষ্ট হবে না। কষ্টে নিপতিত হবে না। আর যে বিপরীত করবে, তার জন্য জীবন ও জীবিকা সঙ্কীর্ণ হওয়ার ভয়াবহ সতর্কবাণী-
এবং যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবিকা সঙ্কীর্ণ হবে এবং আমি তাকে কেয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করবো। সে বলবে, হে আমার পালনকর্তা! আমাকে কেন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করলেন? আমি তো চক্ষুমান ছিলাম। আল্লাহ বলবেন, এমনিভাবে তোমার কাছে আমার আয়াতসমূহ এসেছিল। অতঃপর তুমি সেগুলো ভুলে গিয়েছিলে। তেমনিভাবে আজ তোমাকে ভুলে যাবো। [সূরা ত্বাহা: ১২৪-১২৬]
ইউনুস -র দোয়া
রাসূল ﷺ নির্দেশিত একটি মহৎ দোয়া হল ইউনুস -র দোয়া। রাসূল ইরশাদ করেন-
মাছওয়ালা নবি ইউনুস -র দোয়া হল এই; যখন তিনি মাছের পেটে থেকে দোয়া করেছিলেন-
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَنَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ তুমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। তুমি নির্দোষ, আমি গোনাহগার।' [সূরা আম্বিয়া: ৮৭] যে কোন মুসলমানই কোন ব্যাপারে এ দোয়া করবে, নিশ্চয়ই তার দোয়া কবুল হবে। [আহমাদ: ১৪৬৫]
এই দোয়ার তিনটি বৈশিষ্ট্য আছে।
এক. আল্লাহ -এর একত্ববাদের পরিচয়।
দুই. নিজের অক্ষমতার প্রকাশ।
তিন. ইসতিগফার। গোনাহ মাফের প্রার্থনা।
কখনও বিপদে নিপতীত হলে, কোন সঙ্কটে পড়লে, চিন্তা-দুর্দশার সম্মুখীন হলে এই দোয়াটি বারবার পাঠ করা উচিৎ। এই দোয়ায় বিপদমুক্তি রয়েছে। মহাসফলতা রয়েছে।
আন্দালুসি তার ছেলেকে উপদেশ দিয়ে বলেন-
যখন সেজদা কর আল্লাহ -কে ডাক, যেমন ডেকেছেন ইউনুস। দুনিয়াতে বেশি বেশি আল্লাহ -র যিকির নিজের অভ্যাস বানাও। আসমানে তুমি স্মরিত হবে।
ব্যাখ্যাকারগণ বলেন, ইউনুস নিজ জাতির সাথে রাগ হয়ে চলে গিয়েছিলেন। নৌকাযোগে কোথাও যাচ্ছিলেন। লটারিতে যখন তার নাম উঠল, নৌকাচালক তাকে নদীতে ফেলে দিলেন। কোরআনে বর্ণিত হয়েছে-
অতঃপর লটারি করালে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলেন। [সাফফাত: ১৪১]
ইউনুস -কে নদীতে ফেলা হল। তখন সময় ছিল রাত। অন্ধকার রাত, অন্ধকার সমুদ্র, এরই সাথে তিনি পড়লেন মাছের সামনে। মাছ তাকে গিলে ফেলল। মাছের পেটে আরও অন্ধকার!
সেখানে কে শুনবে তার আর্তনাদ! কে শুনবে তার অসহায় আওয়ায! কোন জরুরি সঙ্কেত, উপকূলীয় কোন ব্যক্তি, নৌবাহিনী, কোন কিছুতে কি ধরা পরত তার আওয়ায! না।
সেখানে তার আওয়ায শোনার মত আছেন আল্লাহ। আল্লাহ তার আওয়ায শুনেছেন। আল্লাহ মানুষের শাহরগের চেয়ে বেশি নিকটবর্তী।
আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে- বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। [সূরা বাকারা : ১৮৬]
ইউনুস আল্লাহ -কে ডেকেছেন। হৃদয়বিদারক আহ্বানে আল্লাহ -কে স্মরণ করেছেন-
তুমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। তুমি নির্দোষ, আমি গোনাহগার। [সূরা আম্বিয়া: ৮৭]
তাওহিদের অনুসারীদের কাছে এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ বচন আর নেই।
ইউনুস যখন এই কথাগুলো বললেন, আসমান বিদীর্ণ হয়ে গেল। ফেরেশতারা তা শুনল। তারা আল্লাহর কাছে কেঁদে কেঁদে বলল, 'তোমার এক চেনা বান্দার চেনা কিছু কথা! জানি না তিনি কোথায় আছেন!'
আল্লাহ তাকে মুক্তি দিলেন। মাছের পেট থেকে বের করলেন। নাজাত দিলেন। কারণ তিনি আল্লাহমুখী হয়েছিলেন। প্রত্যেক মুসলমান কোন বিপদে পড়লে ইউনুস -এর এই দোয়া মুখে মুখে পাঠ করা উচিৎ।
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ সঙ্কটের সময় এই দোয়া পড়তেন- لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ، لَا إِلهَ إِلَّا اللهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبِّ السَّمَوَاتِ وَرَبِّ الْأَرْضِ وَرَبِّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ
আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। যিনি অতি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ও অশেষ ধৈর্যশীল। আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, যিনি আরশে আযীমের প্রভু। আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, যিনি আসমান-যমীনের প্রতিপালক। আরশে আযীমের মালিক। [আহমাদ : ১৪৬৫]
সুলাইমান -র দোয়া
সুলাইমান রাজত্বের দোয়া করেছিলেন। এমন রাজত্ব চেয়েছেন, যা তার পূর্বে আর কারো ছিল না। অতঃপর তিনি জানলেন, রাজত্ব শেষ হয়ে যায়। সৈন্য-সামন্ত ধ্বংস হয়ে যায়। বাড়ি-ঘর, দালান-কোটা বিরাণ হয়ে যায়। সাথে সাথে আল্লাহ -র কাছে বললেন-
প্রভু, আমাকে ক্ষমা করো! [সূরা আরাফ : ১৫১]
আল্লাহ প্রথমে তাকে রাজত্ব দিয়েছেন। সৈন্য-সামন্ত দিয়েছেন। পাখিরা সূর্যের কিরণ থেকে ছায়াদান করত। নদীতে-সাগরে অসংখ্য জিন ছিল। স্থলে সৈন্য ছিল। তিনি এত নেয়ামত পেয়ে আল্লাহ -র কাছে সেজদায় নুয়ে পড়লেন। কাঁদলেন। বললেন,
এটা আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ। যাতে তিনি আমাকে পরীক্ষা করেন, আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি না অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে নিজের উপকারের জন্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং যে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে জানুক, আমার পালনকর্তা অভাবমুক্ত, কৃপাশীল। [সূরা নামল : ৪০]
ইউসুফ -এর দোয়া
ইউসুফ মিসরের রাষ্ট্রক্ষমতা পাওয়ার পর শেষজীবনে আল্লাহর কাছে বলেছিলেন-
হে আমার পালনকর্তা! আপনি আমাকে রাষ্ট্রক্ষমতাও দান করেছেন এবং আমাকে বিভিন্ন তাৎপর্যসহ ব্যাখ্যা করার বিদ্যা শিখিয়ে দিয়েছেন। হে নভোমণ্ডল ও ভূ-মণ্ডলের স্রষ্টা! আপনিই আমার কার্যনির্বাহী ইহকাল ও পরকালে। আমাকে ইসলামের উপর মৃত্যুদান করুন এবং আমাকে স্বজনদের সাথে মিলিত করুন। [সূরা ইউসুফ : ১০১]
আল্লাহ -এর প্রেরিত একজন নবি ইসলামের উপর মৃত্যুবরণ করার দোয়া করেছেন! কারণ, এটিই জীবনের সুমিষ্ট লক্ষ্য। এটিই আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্য। ইপ্সিত লক্ষ্য।
পাপযুক্ত জীবন এবং ইউরোপীয় সভ্যতার জীবনাচার মুসলিম ছেলে কিশোর ও যুবকদের থেকে আল্লাহর সাক্ষাতের ভয় দূর করে দিয়েছে। জীবনের একটি সুন্দর পরিসমাপ্তি, আল্লাহর প্রতিশ্রুত পুরষ্কার প্রাপ্তির আশা মন থেকে মুছে দিয়েছে। বিপরীতে তাদের দিয়েছে এমন এক প্রবৃত্তিতাড়িত জীবন, যা দেখে বিবেকবানমাত্র ধাক্কা খেয়ে পড়ে।
এসব যুবক কি আবু বকর, ওমর, উসমান, আলি, খালেদ, সাদ -দের উত্তরসূরীদের জীবন দেখে একটু লজ্জাবোধ করে না, যারা জয় করেছে পৃথিবী! দুনিয়ার কানে কানে যাদের কণ্ঠে উচ্চকিত হয়েছে আযানের ধ্বনি! যারা অনায়াসেই জীবন বিলিয়ে দিয়েছে তাওহিদের পতাকা উড্ডীন করার জন্য!
আজকের কিশোর-যুবকরদের সেই লজ্জাবোধ কেন নেই, যা থেকে তাড়িত হয়ে আবু বকর, ওমর, উসমান, আলি, খালেদ, সাদ -দের উত্তরসূরীদের মত জীবনযাপন করবে!

📘 আল্লাহকে মানুন নিরাপদ থাকুন > 📄 রাসূল ﷺ থেকে সহিহভাবে বর্ণিত সর্বাধিক তাৎপর্যপূর্ণ দোয়াসমূহ

📄 রাসূল ﷺ থেকে সহিহভাবে বর্ণিত সর্বাধিক তাৎপর্যপূর্ণ দোয়াসমূহ


কোরআনের সবচে শ্রেষ্ঠ দোয়া হল- رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَ فِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ হে পরোয়ারদিগার! আমাদের দুনিয়াতেও কল্যাণ দান কর এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান কর। আমাদের দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর। [সূরা বাকারা : ২০১]
পৃথিবীর এমন কোন কল্যাণকর দিক আছে, যা এই দোয়ার অন্তর্ভুক্ত হয়নি! দুনিয়া আখেরাতের এমন কোন ন্যায়-নিষ্ঠতা, সফলতা বা রিযিকের অন্বেষ আছে, যা এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হয়নি!
আল্লাহ বলেন-
অনেকে বলে, হে আল্লাহ, আমাদের দুনিয়াতে দান কর। অথচ তার জন্য পরকালে কোন অংশ নেই। [সূরা বাকারা: ২০০]
গ্রাম্য কিছু লোক রাসূলের সাথে হজ্জ করতে এসে আরাফা এবং মিনায় হাত তুলে দোয়া করত- 'আল্লাহ, আমাদের পশুর ওলান স্ফীত করে দিন। এই বছরের জন্য আমাদের বৃষ্টিভেজা ঘাস দিন। আমাদের উটের বাচ্চা দিন। আমাদের পশু, ফসল সতেজ ও সজীব রাখুন।'
তারা এই দোয়া করত না- 'আল্লাহ, আমাদের মাফ করে দিন।'
এদের বিপরীতে আরেক দল ছিল, তারা শুধু আখেরাতের জন্যই দোয়া করত। দুনিয়ার জন্য কোন দোয়া করত না। এমনকি কেউ দোয়া করে নিজের উপর অসুস্থতাও চাপিয়ে নিয়েছিল। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, জনৈক আনসার সাহাবি দোয়া করেছিলেন, 'আল্লাহ, তুমি যদি আখেরাতে আমাকে শাস্তি দাও, তবে তা দুনিয়াতেই দিয়ে দাও। তুমি আজই আমাকে সেই শাস্তি দিয়ে দাও।'
দোয়ার পর সাহাবি অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থতার প্রভাবে শীর্ণকায় হয়ে পড়েন।
রাসূল ﷺ তাকে দেখতে গেলেন। জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কি কোন কিছু বলে দোয়া করেছ?'
সাহাবি বললেন, 'আমি এই দোয়া করেছি- 'আল্লাহ, তুমি যদি আখেরাতে আমাকে শাস্তি দাও, তবে তা দুনিয়াতেই দিয়ে দাও। তুমি আজই আমাকে সেই শাস্তি দিয়ে দাও।'
রাসূল বললেন, সুবহানাল্লাহ! তুমি আল্লাহর আযাব সহ্য করতে পারবে! তুমি এই দোয়া কর- رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ হে পরোয়ারদিগার, আমাদের দুনিয়াতেও কল্যাণ দান কর এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান কর। আমাদের দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর। [সূরা বাকারা: ২০১] [মুসলিম: ২৬৮৮]
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া হল- اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ. হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষমা ও নিরাপত্তা কামনা করি। [আহমাদ: ১৭৬৯]
ইবনে আব্বাস রাসূরের কাছে বললেন, 'আমাকে একটি দোয়া শিখিয়ে দিন।' রাসূল ﷺ বললেন-
বল, হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতে নিরাপত্তা কামনা করি। শরীরের নিরাপত্তা, পরিবারের নিরাপত্তা কামনা করি। গোনাহ ও ভুল-ত্রুটি থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করি। [আহমাদ]
রাসূল ﷺ এই দোয়াটি নিয়মিত পাঠ করতেন- اللَّهُمَّ اهْدِنِي وَسَدِّدْنِي. হে আল্লাহ! আমাকে হোদায়াত কর এবং সোজা রাখ। [প্রাগুক্ত]
রাসূল ﷺ আলি -কে বলেন-
আলি! বল- 'হে আল্লাহ, আমাকে হোদায়াত কর এবং সোজা রাখ।' যখন হেদায়াতের কথা বলবে, তখন সরল পথের কথা উল্লেখ কর। যখন সোজা রাখার কথা বল, তখন তীরের মত সোজা রাখার কথা উল্লেখ কর। [মুসলিম : ২৭২৫]
এটি চমৎকার একটি দোয়া। সকাল-সন্ধ্যা পড়ার মত সহজ একটি দোয়া।
আরও একটি অর্থবহ দোয়া- اللَّهُمَّ أَلْهَمْنِي رُشْدِي وَأَعِذْنِي مِنْ شَرِّ نَفْسِي. হে আল্লাহ, আমার অন্তরে সৎপথের সন্ধান দাও এবং আমাকে আমার মনের অপকারিতা হতে পানাহ দাও।
রাসূল ﷺ এই দোয়াটি হুসাইন ইবনে উবাইদকে শিখিয়েছিলেন। তিনি একবার রাসূলের কাছে এলেন। রাসূল তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'হুসাইন, তুমি এখন কয়টি উপাস্যের এবাদত কর।'
হুসাইন বললেন, 'সাতটি উপাস্যের এবাদত করি।'
রাসূল ﷺ বললেন, 'সাতটি উপাস্য কোথায়?'
হুসাইন বললেন, 'ছয়টি যমিনে, একটি আসমানে।'
রাসূল ﷺ বললেন, 'ভয়ে ও আশায় তুমি কাকে ডাক?' অর্থাৎ, যখন কোন বিষয়ে সঙ্কটে নিপতীত হও, সবদিকের দরজা বন্ধ হয়ে যায়, মুক্তির সকল পথ সঙ্কীর্ণ হয়ে আসে, তখন কাকে ডাক?
হুসাইন বললেন, 'আসমানের খালেককে।'
রাসূল ﷺ বললেন, 'তাহলে যমিনের উপাস্যদের ছেড়ে দাও। এক আসমানের প্রভুর এবাদত কর।'
হুসাইন বললেন, 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। আপনি তার প্রেরিত রাসূল।'
রাসূল ﷺ বললেন, 'তোমাকে একটি দোয়া শিখিয়ে দিবো, হুসাইন!'
হুসাইন বললেন, 'হাঁ, শিখিয়ে দিন।'
রাসূল ﷺ তখন তাকে উক্ত দোয়াটি শিখিয়ে দিলেন। [তিরমিযি: ৩৪৮৩]
আবু বকর বলেন, আমি রাসূল -কে বললাম, 'আমাকে সালাতে পড়ার মত একটি দোয়া শিখিয়ে দিন।'
রাসূল বললেন, এই দোয়া পড়- اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةٌ مِّنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ.
আল্লাহ! আমি নিজের উপর অধিক জুলুম করেছি। আপনি ছাড়া সে অপরাধ ক্ষমা করার আর কেউ নেই। আপনার পক্ষ থেকে আমাকে তা ক্ষমা করে দিন। এবং আমার উপর রহমত বর্ষণ করুন। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান। [বুখারি: ৮৩৪]
রাসূল মুয়ায এর কাছে গেলেন। তার আঙ্গুলের সাথে নিজের আঙ্গুল জড়িয়ে বললেন, 'মুয়ায, আল্লাহর কসম! আমি তোমাকে ভালোবাসি!'
মুয়ায বললেন, 'আল্লাহর কসম! আমিও আপনাকে ভালোবাসি!'
রাসূল বললেন, 'মুয়ায, সালাতের পর এই দোয়া পড়তে ভুলবে না- اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
আল্লাহ! তোমার যিকির করার তাওফিক দাও। কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের তাওফিক দাও। উত্তমরূপে এবাদত করার তাওফিক দাও। [আহমাদ : ২১৬১১৪]
রাসূল তাহাজ্জুদে এই দোয়া পাঠ করতেন- اللَّهُمَّ رَبَّ جِبْرَائِيلَ وَمِيكَائِيلَ وَإِسْرَافِيلَ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ اهْدِنِي لِمَا اخْتُلِفَ فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِكَ إِنَّكَ تَهْدِي مَنْ تَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ
হে জিবরাইল মিকাইল ইসরাফীলের প্রভু! আসমান ও যমিনসমূহের সৃষ্টিকর্তা! প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য সকল বিষয়ের সর্বজ্ঞাতা! আপনি আপনার বান্দাদের বিবাদমান বিষয়ে ফায়সালা করুন। আমাদের বিবাদমান বিষয়ে আপনার নির্দেশনায় হকের সন্ধান দিন। আপনিই সরল পথের দিকে পৌঁছান। [মুসলিম: ৭৭0]
সেজদায় পাঠ করার সবচে তাৎপর্যবাহী দোয়া-
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوْبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِيْنِكَ. হে আল্লাহ! অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দীনের উপর অবিচল রাখ। [আহমাদ: ১৭১৭৮]
اللَّهُمَّ مُصَرِّفَ الْقُلُوْبِ صَرِفْ قُلُوْبَنَا عَلَى طَاعَتِكَ. হে আল্লাহ! অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমাদের অন্তরসমূহকে তোমার এবাদত ও আনুগত্যের দিকে আবর্তিত করে দাও। [মুসলিম : ২৬৫৪]
এই দোয়াটিও রাসূল ﷺ থেকে বর্ণিত-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مُوْجِبَاتِ رَحْمَتِكَ، وَعَزَائِمَ مَغْفِرَتِكَ، وَالْغَنِيمَةَ مِنْ كُلِّ بِرَ، وَالسَّلَامَةَ مِنْ كُلِّ إِثْمٍ، وَالْفَوْزَ بِالْجَنَّةِ، وَالنَّجَاةَ مِنَ النَّارِ. আল্লাহ! তোমার রহমতের কার্যকরিতা চাই। মাগফিরাতের দৃঢ়তা চাই। প্রত্যেক ভালো কাজের গনিমত চাই, গোনাহ থেকে নিরাপত্তা চাই। জান্নাত পেয়ে সফলতা চাই। জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাই।

📘 আল্লাহকে মানুন নিরাপদ থাকুন > 📄 সাইয়্যিদুল ইসতিগফার; শ্রেষ্ঠ ইসতিগফার

📄 সাইয়্যিদুল ইসতিগফার; শ্রেষ্ঠ ইসতিগফার


সাইয়িদুল ইসতিগফার। সকল ইসতিগফারের শ্রেষ্ঠ ইসতিগফার। তাবাকাতুল হানাবিলায় উল্লেখ আছে, জনৈক আলেম দাফন হওয়ার পর স্বপ্নে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, 'আল্লাহ আপনার সাথে কী আচরণ করেছেন?' উত্তর দিলেন, 'আমাকে সাধারণ ক্ষমা করা হয়েছে। বিশেষ ক্ষমাও করা হয়েছে।' : 'আপনি আমাদের কিছু উপদেশ দিন।' : 'আমি তোমাদের সাইয়িদুল ইসতিগফারের উপদেশ দিচ্ছি।' সাইয়িদুল ইসতিগফার খুবই আশ্চর্যজনক একটি দোয়া। প্রত্যেক সালাতের পর, সকাল-সন্ধ্যা সাইয়িদুল ইসতিগফার বারবার পাঠ করা অত্যন্ত ফলপ্রসূ।
সাইয়িদুল ইসতিগফার নিম্নরূপ-
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتَ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
হে আল্লাহ, তুমিই আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই গোলাম। আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে কৃত প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের উপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে পানাহ চাচ্ছি। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নেয়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গোনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে মাফ করে দাও, কারণ তুমি ছাড়া কেউ গোনাহ ক্ষমা করতে পারবে না। [বুখারি : ৬৩০৬]
শ্রেষ্ঠতম এই দোয়ায় ক্ষমা প্রার্থনা বা ইসতিগফারের সাথে আল্লাহর একত্ব ঘোষণা করা হয়েছে। কৃত অপরাধ এবং আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামতের সরল স্বীকারোক্তি দেয়া হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00