📄 ইবনে তাইমিয়ার উপদেশ
সকল প্রশংসা বিশ্বপ্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য। সালাম ও শান্তি মুত্তাকীদের ইমাম, সকল মানুষের নেতা মোহাম্মদ -এর জন্য। তার পরিবারবর্গ, সাথি-সহচর ও অনুসারীদের জন্য।
শাইখুল ইসলাম আল্লামা ইবনে তাইমিয়া । প্রখ্যাত আলেমে দীন। বীর- মুজাহিদ। দুনিয়াবিরাগ এবাদতকারী। প্রতিভাবান লেখক ও গবেষক। বিচক্ষণ ব্যক্তিত্ব। বক্ষমান শিরোনামে তার একটি হাদিয়া বা অসিয়তনামা উল্লেখ করছি।
আবুল কাসেম মাগরিবি নামে জনৈক লোক ইবনে তাইমিয়া এর ব্যক্তিত্ব শুনে তার সাথে দেখা করার উৎসাহ পেল। লোকটি ইবনে তাইমিয়ার সাথে দেখা করার জন্য দামেস্ক সফর করল। ইবনে তাইমিয়াকে দেখে লোকটি হতভম্ভ হয়ে গেল। তার ব্যক্তিত্বের কথা মন থেকে উবে গেল। লোকটি ইবনে তাইমিয়ার কাছে কিছু জানতে চেয়ে একটি চিঠি লিখল-
হে সম্মানিত শায়খ! বিগত মহান মনীষীদের সম্পূরক নমুনা! আগত প্রজন্মের পরিপূর্ণ আদর্শ! প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দেশ দেশান্তরে সমাদৃত তাকিউদ্দিন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে তাইমিয়ার সাথে আমি দেখা করতে এসেছি। আমাকে দীন ও দুনিয়ার কল্যাণকর কিছু উপদেশ দিন। আমাকে এমন একটি কিতাব দিন, শরীয়তের যে কোন বিষয়ে যেন আমি উক্ত কিতাবের ভরসা করতে পারি। ওয়াজিব আমল ছাড়াও বিভিন্ন নফল ও উত্তম আমলের পথনির্দেশ সে কিতাব থেকে গ্রহণ করতে পারি। আয় উপার্জনের জন্যও উত্তম ও উপযুক্ত একটি পন্থা সে কিতাব থেকে অবলম্বন করতে পারি। কিতাবটি যেন নিগূঢ় অর্থবাহী সুসংক্ষিপ্ত ভাষায় রচিত হয়। আল্লাহ শায়খকে হেফাযত করুন। আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু। [মোজমুআতুল ফাতাওয়া : ১০/৬৫]
লোকটি ইবনে তাইমিয়ার কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণবাহী কিছু উপদেশ জানতে চাইল, অথচ উপদেশগুলো সংক্ষিপ্ত ভাষায় লিখার শর্ত জুড়ে। দিল। কারণ লোকটি জানত, ইবনে তাইমিয়ার কলম চালনা শুরু হলে কয়েক খণ্ডের দীর্ঘ রচনা হওয়ার আগ পর্যন্ত তা আর থামবে না। উপদেশগুলো তখন পৃথক একটি কয়েক খণ্ডের কিতাব আকারে দাঁড়াবে।
ইবনে তাইমিয়া লোকটির উদ্দেশ্য বুঝে চিঠির জওয়াব লিখলেন- সকল প্রশংসা বিশ্বপ্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য।
ইবনে তাইমিয়া যে কোন উত্তরনামা সবসময় আল্লাহ -র প্রশংসা দিয়ে শুরু করতেন। রাসূল ﷺ থেকে বর্ণিত হয়েছে, 'যে কাজ আল্লাহর প্রশংসা ছাড়া শুরু হয়, তা অপূর্ণ।'
কোন কোন বর্ণনায় 'আল্লাহর প্রশংসা' এর স্থলে 'বিসমিল্লাহ' বা 'আল্লাহর স্মরণ' শব্দমালা দিয়ে বর্ণিত হয়েছে। এই হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনাসূত্র দুর্বল হলেও সামষ্টিকভাবে তা হাসান পর্যায়ে পৌঁছে। ইবনে তাইমিয়া সবসময় এই হাদিস দিয়েই তার সকল বিষয়ের সূচনা করতেন। আল্লাহ তাকে যে জ্ঞান প্রজ্ঞা এবং দীনের বুঝ দান করেছেন, তিনি সেই নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায় করতেন। রাসূল ﷺ যে কোন খোৎবা আল্লাহর প্রশংসা দিয়ে শুরু করতেন। চিঠিপত্র বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করতেন। এটি রাসূলের আদর্শ।
আপনি আমার কাছে উপদেশ চেয়েছেন। যে আল্লাহর ও রাসূলের উপদেশ বোঝে এবং অনুসরণ করে, তার জন্য আমার দৃষ্টিতে সর্বশ্রেষ্ঠ উপদেশ হল আল্লাহ -র এই বাণী-
বস্তুত আমি নির্দেশ দিয়েছি তোমাদের পূর্ববর্তী গ্রন্থের অধিকারীদের এবং তোমাদের যে তোমরা সবাই ভয় করতে থাক আল্লাহকে। [সূরা নিসা : ১৩১]
এটি হল বান্দার প্রতি আল্লাহ -র উপদেশ। আল্লাহ তার কিতাবে এই উপদেশ দিয়েছেন। রাসূল ﷺ -ও হাদিসে এই উপদেশ দিয়েছেন।
আল্লাহ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলকে তাকওয়া অবলম্বনের উপদেশ দিয়েছেন। তাকওয়ার উপদেশই হল সর্বাপেক্ষা তাৎপর্যপূর্ণ উপদেশ।
ইবনুল কাইয়িম কিতাবুল ফাওয়ায়েদ-এ উল্লেখ করেন- সুলাইমান বলেন, 'মানুষ যেসব বিষয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে, আমরাও সেসব বিষয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি। মানুষ যেসব বিষয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে না, সেসব বিষয় থেকেও আমরা শিক্ষা গ্রহণ করি। তাকওয়ার মত গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু পাইনি। মানুষ যেন তার বন্ধু সহচর ছেলে প্রতিবেশীদের তাকওয়া অবলম্বনের উপদেশ প্রদান করে।'