📘 আল্লাহকে মানুন নিরাপদ থাকুন > 📄 দৃষ্টি গোনাহমুক্ত রাখার স্বরূপ

📄 দৃষ্টি গোনাহমুক্ত রাখার স্বরূপ


মানুষ তার চোখের কারণে অসংখ্য বিপদাপদে নিপতিত হয়। জীবনের বহু ক্ষেত্রে দুর্বিপাক নেমে আসে তার দুর্দৃষ্টির কারণে। কবির ছন্দে-
দৃষ্টি যখন হৃদয়ের নেগরাণ,
পৃথিবী ঘুরবে তোমার পিছন,
তুমি দেখবে এমন কিছু,
সক্ষম নও তার পুরোটুকুর,
অথবা দেখবে এমন কিছু,
ধৈর্য হবেনা তার অল্পতে।
মানুষের দৃষ্টি কখনও কখনও শয়তানের তীর হিসেবে নিষিদ্ধ স্থানে নিবদ্ধ হয়। যে নিষিদ্ধ স্থান থেকে দৃষ্টি ফেরাতে পারে, আল্লাহ তার অন্তরে ঈমান পূর্ণ করে দেন। তার বক্ষ বেয়ে প্রবাহ হয় ঈমানের শীতল নির্ঝরিণী। আল্লাহ -র নির্দেশ-
বিশ্বাসীদের বলুন তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের যৌনাঙ্গ হেফাযত করে; এটাই তাদের জন্য উত্তম। তারা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ অবগত। [সূরা নূর: ৩০]
মানুষের দৃষ্টি যখন বিভ্রান্ত হয়, তা তীর হয়ে অন্তরে বিদ্ধ হয়। ভ্রান্ত তীর শুদ্ধ অন্তরে ভ্রান্তির ছাপ ফেলে। অন্তরের অপমৃত্যু হয়। কবির কবিতা-
আমি উপস্থিত করি মৃত্যু মুহূর্তেই।
কে আছ অন্বেষী; হবে নিহত হন্তারক।
জনৈক বুযুর্গ বলেন, কত চোরাদৃষ্টি নিপাতিত হয় ভূতল গর্ভে। কত চোরাচাহনি প্রবেশ করে অগ্নিগর্ভে। পলকচোরা এসব চোখের কারণে কেয়ামতের দিন লজ্জিত হতে হবে। আল্লাহ আমাদের হেফাযত করুন। প্রত্যেক মুমিনের উচিত, তার দৃষ্টিকে আসমান যমিনের মহাসৃষ্টিতে নিবদ্ধ রাখা। এই বিপুল সৃষ্টিসমাহারে আল্লাহর পরিচয় খোঁজা। আল্লাহ -র মহানিদর্শন দেখে তাঁর মহত্ব অনুভব করা। আল্লাহ বলেন-
'বল, আকাশমণ্ডলি এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে, তার প্রতি লক্ষ কর।' [সূরা ইউনুস: ১০১]
তবে কি তারা দৃষ্টিপাত করেনা উটের দিকে, কিভাবে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে? এবং আকাশের দিকে কিভাবে তাকে ঊর্ধ্বে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে? এবং পর্বতমালার দিকে, কিভাবে তাকে স্থাপন করা হয়েছে? এবং ভূতলের দিকে, কিভাবে তাকে বিস্তৃত করা হয়েছে? [সূরা গাশিয়া, ১৭-২০]
তদ্রূপ প্রত্যেক মুমিনের উচিত হারাম ও নিষিদ্ধ স্থান থেকে দৃষ্টি বাঁচিয়ে রাখা। নারী এবং অশ্লীল দৃশ্য থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে রাখা। কারণ, চক্ষু মানুষকে ভূপাতিত করে। দুঃখ আর বঞ্চনার পরিণতি ডেকে আনে।
দৃষ্টিতে সূচিত হয় সকল বিপদ;
তুচ্ছ পাপ ডেকে নেয় নরক-মাজারে।
দৃষ্টিতে লঙ্ঘিত হয় বিচরণসীমা;
যেমন ছিলাহীন ধুনকহীন আকস্মিক তীরাঘাতে।
সুন্দর গড়নে দৃষ্টির বিচরণ;
সে তো দুর্বিপাকের ত্রিসীমা ছাড়িয়ে।
জীবন হারিয়ে যায় চোখের উল্লাসে,
কী হবে বিপদের খুশি ছড়িয়ে!
অনেক মানুষ দৃষ্টির মাধ্যমে পাহাড়সম দুঃখ পেরেশানি ডেকে আনে। আবার দৃষ্টির মাধ্যমে অন্তরস্থ দুঃখ লাঘব করে, সফলতার রাজপথে উল্লসিত বিচরণের স্বপ্ন বোনে। দৃষ্টির মাধ্যমেই অন্তরে খুশির জোয়ার ঢেউয়ের তোড়ে ফুলিয়ে তোলে।
কবিতা
হে পণ্ডশ্রমের তীরন্দাজ,
নিজ প্রাণ বধ করলে নিজেরই তীরে!
নিরাময় খোঁজ ওহে চোখের নিয়ামক!
দৃষ্টি ফিরাও তব বিপদ না আনে।
মানুষ যখন দৃষ্টি হেফাযত করবে, হারাম বস্তু থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নির্দেশিত পথে সঞ্চালন করবে, আল্লাহও তখন তাঁকে হেফাযত করবেন। তাঁর দায়িত্ব ও অভিভাবকত্ব গ্রহণ করবেন। মানুষের জন্য আল্লাহর হেফাযত ও আল্লাহর অভিভাবকত্বই যথেষ্ট। রক্ষণাবেক্ষণে আল্লাহই শ্রেষ্ঠ। তিনিই দয়ালুদিগের সেরা দয়ালু।

📘 আল্লাহকে মানুন নিরাপদ থাকুন > 📄 উদর-আহার গোনাহমুক্ত রাখার স্বরূপ

📄 উদর-আহার গোনাহমুক্ত রাখার স্বরূপ


সচেতন একজন মুসলমানের পক্ষে হারাম খাদ্য বর্জন করা আবশ্যক। সচেতন মুসলমান শুধু আল্লাহপ্রদত্ত হালাল রুজিই গ্রহণ করবে। সুদ ও ধোঁকাবাজির মাধ্যমে উপার্জিত হারাম সম্পদ ত্যাগ করবে। ব্যবসায়, লেনদেনে হারাম পন্থা এড়িয়ে চলবে। আল্লাহর কাছে নিজেকে গৃহীত করার জন্য সকল পানাহারে পবিত্র ও হালাল পন্থা অবলম্বন করবে। আয়রুজি এবং পানাহার হালাল হলে সেই বান্দার দোয়া আল্লাহর কাছে কবুল হবে।
আবু হোরায়রা ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ থেকে বর্ণিত, রাসুল ﷺ ইরশাদ করেন-
হে লোকসকল, আল্লাহ পবিত্র। তিনি পবিত্র জিনিসই কবুল করেন। তিনি তাঁর রাসুলদের যে আদেশ দিয়েছেন, মুমিনদেরও একই আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, 'আমি বলেছিলাম, হে রাসুলগণ, তোমরা পবিত্র বস্তু আহার কর এবং সৎকর্ম কর। তোমরা যা কর সে সম্বন্ধে আমি সবিশেষ অবহিত’। [সূরা মুমিনূন: ৫১] আল্লাহ আরো বলেন, 'হে বিশ্বাসীগণ, আমি তোমাদের যা দিয়েছি তা থেকে পবিত্র বস্তু আহার কর’। [বাকারা: ১৭২]
অতঃপর রাসুল এক লোকের কথা উল্লেখ করেন, যে দীর্ঘ পথ সফর করেছে। এলোকেশ, ধূলিধূসর। আকাশের দিকে হাত তুলে ডাকছে, 'হে আমার রব... হে আমার রব...' অথচ তার খাদ্য হারাম। পানীয় হারাম। পোষাক হারাম। ভরণপোষণ হারাম। আল্লাহর কাছে তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে! [মুসলিম: ১০১৫]
প্রকৃত অর্থে একজন মুসলমানের জন্য তার সকল অঙ্গই গোনাহ থেকে মুক্ত রাখা আবশ্যক। মুসলমান তার যৌনাঙ্গ হারাম স্থান থেকে হেফাযত রাখবে। আল্লাহ ইরশাদ করেছেন-
অবশ্যই সফলকাম হয়েছে বিশ্বাসীরা ... যারা নিজেদের যৌনাঙ্গ সংযত রাখে। তবে নিজেদের পত্নী অথবা অধিকারভুক্ত দাসিদের ক্ষেত্রে অন্যথা করলে তারা নিন্দনীয় হবেনা। [সূরা মুমিনূন: ১, ৫, ৬]
মুসলমান তার পা গোনাহমুক্ত রাখবে। পা দিয়ে সে হারাম রাস্তায় হাঁটবেনা, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাঁরই নির্দেশিত পথে হাঁটবে। মসজিদে গমন করবে। মাহফিলে ও ইলমের মজলিসে অংশগ্রহণ করবে। আত্মীয় বন্ধুবান্ধবের খোঁজখবর নিবে। যে কোন ভাল ও কল্যাণকর পথে চলবে।
মুসলমান তার হাত অনুমোদিত স্থানে ব্যবহার করবে। তার হাত যেন গোনাহের কাজে ব্যবহৃত না হয়, এ জন্য সজাগ থাকবে। আল্লাহ বলেন-
যেদিন তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে তাদের জিহ্বা, তাদের হাত, তাদের পা তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে। [সূরা নূর: ২৪]
যেদিন আল্লাহর শত্রুদের জাহান্নামের দিকে সমবেত করা হবে, সেদিন তাদেরকে বিন্যস্ত করা হবে বিভিন্ন দলে। পরিশেষে যখন তারা জাহান্নামের নিকটে পৌঁছুবে, তখন তাদের কান চোখ ও ত্বক তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে সাক্ষ্য দিবে তাদের বিরুদ্ধে। [সূরা হামীম সাজদা : ১৯, ২০]
এভাবে একজন মানুষ যখন নিজেকে, নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে গোনাহ থেকে সুরক্ষিত রাখবে, আল্লাহর আনুগত্যে নিজের সর্বাঙ্গ ব্যয় করবে, আল্লাহও তাঁকে সকল বিপদ থেকে সুরক্ষা দান করবেন। আল্লাহ দয়ালুদের সেরা দয়ালু।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00