📘 আল্লাহকে মানুন নিরাপদ থাকুন > 📄 বীরমুজাহিদ কবি আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা ﷺ

📄 বীরমুজাহিদ কবি আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা ﷺ


রাসুলের একনিষ্ঠ সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা । তিনিও ছিলেন একজন শক্তিমান কবি। কাব্যের সুষমায় সাজিয়ে তুলতেন দীনের বাণী।
মুতার যুদ্ধের ঘটনা। সবেমাত্র যুদ্ধের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহাকে রাসুল বাহিনীর তৃতীয় সেনাপতি নির্ধারণ করে দিলেন। বিদায় নেয়ার জন্য তিনি যখন রাসুলের সাথে দেখা করতে এলেন, এসে কবিতা আবৃত্তি করলেন,
কবিতা-
আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করুন পূর্ববর্তী নবিদের ন্যায়।
আল্লাহ আপনার সৌন্দর্য স্থায়ী রাখুন মুসার স্থায়ীত্বের ন্যায়।
তিনি যখন স্ত্রী সন্তান সহচরদের রেখে মুতার যুদ্ধে রওয়ানা হন, তখন তাঁর বন্ধুগণ তাঁকে শুভকামনা জানালেন। বললেন, 'আল্লাহ তোমাকে নিরাপদে কৃতকার্য করে ফিরিয়ে আনুন।' তিনি বললেন, 'না, না...'
তিনি রাসুলের দিকে তাকিয়ে কবিতাপাঠ শুরু করলেন-
আল্লাহ তোমার মাগফিরাতের যাঞ্চা করি, চাইনা আমি আসবো ফিরে যুদ্ধ শেষে।
চাই গো আল্লাহ কাফেরদের হামলা করি, আঘাত খেয়ে ছুটবে তারা উর্ধ্বশ্বাসে।
আল্লাহ তোমার দীনের পথে গাজী হবো, শহিদ হবো; ছিড়বে আমার কলজে-নাড়ি।
কবরপাড়ের পথিক থেকে সালাম লবো, জান্নাতী লাশ বলবে তারা ঈর্ষা করি।
মুতার মুজাহিদগণ মদিনা থেকে বের হচ্ছেন, সমবেত সাহাবায়ে কেরام তাঁকে দোয়া করলেন, 'আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা, আল্লাহ তোমাকে সুস্থ রাখুন। নিরাপদে রাখুন।' তিনি কী এক অপ্রাপ্তি থেকে বলে উঠলেন, 'না, না...'
একটুপর রাসুল ﷺ এলেন। চোখের জলে সিক্ত বিদায় জানালেন আব্দুল্লাহকে। এবার আব্দুল্লাহ প্রশান্ত চিত্তে মদিনা ছেড়ে অশ্ব চালালেন। আব্দুল্লাহ মদিনা ছাড়ছেন আর ফিরে ফিরে তাকাচ্ছেন মদিনার দিকে, মদিনার রাসুলের দিকে। বিগলিত কণ্ঠে আবৃত্তি করছেন-
খেজুর বীথিকায় বিদায় ক্ষণিকায় সম্ভোষিত প্রিয়, তব উয় আহ্লাদে বিগলিত শত সালাম...
আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা ﷺ মুতার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেন। যুদ্ধক্ষেত্রে দ্বিতীয় সেনাপতি জাফর রাযি. শাহাদাত বরণ করলেন। পর রাসুলের নির্দেশনা অনুযায়ী তৃতীয় সেনাপতি হিসেবে আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা যুদ্ধের পতাকা হাতে তুলে নিলেন। নবরূপে বীরভূমে অবতীর্ণ হলেন যুদ্ধক্ষেত্রে। অসম সাহসিকতায় পরিহিত বর্ম খুলে ফেলেন। তলোয়ার হাতে তুলে তেজোদ্দীপ্ত কণ্ঠে কবিতা আবৃত্তি শুরু করলেন-
নফস আমার করছি শপথ; অশ্ব ছেড়ে ক্ষেত্রে নেমে
অস্ত্র ধরো রণপথে, সকল মানুষ সিটকে পড়ুক,
বিলাপ ধরুক কান্নাতে, ইচ্ছে তোমার হোক বা না হোক,
সরবো নাকো পণ হতে।
বলছ কী সব আহাম্মকি মন চলেনা জান্নাতে!
দীর্ঘ জীবন করলে যাপন এই দুনিয়ায় শান্তিতে,
স্খলিত বীর্য তুমি লাজ লাগেনা কুষ্ঠিতে!
আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা মুতার যুদ্ধেই শাহাদাত বরণ করেছিলেন। শাহাদাতের পর সাহাবায়ে কেরام তাঁর কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলে তাঁরই কবিতার এই ছত্র পাঠ করতেন- 'কবরপাড়ের পথিক থেকে সালাম লবো, জান্নাতী লাশ বলবে তারা ঈর্ষা করি।' [আহমাদ: ৭০৮৭]
আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রাসুলের প্রশংসাগাঁথায় অনেক কবিতা গেঁথেছিলেন। তাঁর সেরা একটি কবিতা হলো-
নবুওয়তের প্রমাণ যদি না থাকত প্রকাশমান,
স্বমহিমায় প্রমাণ হতো তিনি আল্লাহর বার্তাবাহক।
ইবনুল কায়্যিম বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা লাইলাতুল আকাবায় রাসুলের হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেছিলেন। নিজেকে বিক্রয় করেছিলেন দীনের জন্য। সাধারণ ক্রয়বিক্রয়ে যেমন ক্রেতা-বিক্রেতা যখন চুক্তি সম্পন্ন করে পৃথক হয়ে যায় এবং এর দ্বারা তাদের ক্রয়বিক্রয় অনিবার্য হয়ে পড়ে, রাসুলের হাতে আব্দুল্লাহর বাইয়াতও তেমনই অনিবার্য হয়ে গিয়েছিল। এই বাইয়াত, এই বিক্রয়চুক্তি আমৃত্যু ভঙ্গ হয়নি।
এভাবেই তাঁদের যবানে দীনের কথা ছড়াতো। মানুষের অন্তরে জান্নাতের আলোড়ন সাড়া ফেলতো। তাঁদের কবিতায় জিহাদের চেতনা ও স্পৃহা জাগতো। তাঁদের যবানে দুর্মুখদের সমুচিত জবাব উচ্চকিত হতো।
তাঁদের বিপরীতে কত কবি আছে, যাদের কবিতায় প্রচার পেয়েছে অধর্ম। প্রসার পেয়েছে গোনাহ, অশ্লীলতা। যেমন ইমরুল কায়েস, জাহান্নামের ঝান্ডাবাহী এক কবি। সে তার যৌবন ধ্বংস করেছে পাপের পথে। জীবন ধ্বংস করেছে মদ্যপান আর নারীভোগে। ধিকৃত হয়েছে পৃথিবীতে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আখিরাতে।

📘 আল্লাহকে মানুন নিরাপদ থাকুন > 📄 কবি ইবনে হানি আন্দালুসি

📄 কবি ইবনে হানি আন্দালুসি


ইবনে হানি আন্দালুসি। সীমালঙ্ঘনকারী পাপিষ্ঠ এক কবি। একবার সে খলিফার দরবারে গমন করলো। মনতুষ্টির জন্য খলিফার স্তুতি গেয়ে কবিতা পাঠ করলো-
আমি আস্থা রাখি অদৃষ্টে, পরাক্রান্ত পরাক্রমশালী,
যা করার তাই করুন হে!
আল্লাহ -র সাথে ধৃষ্টতা! আল্লাহ বিনে আর কাউকে পরাক্রমশালী ঘোষণা করা! আল্লাহ তাকে পাকড়াও করলেন। মরণ পর্যন্ত বুঝিয়ে দিলেন, কে একচ্ছত্র পরাক্রমশালী! কে পরাক্রান্ত মহাপ্রতাপশালী! ইবনে হানি আন্দালুসি খলিফার ভবন থেকে বের হতেই অজ্ঞাত এক রোগে আক্রান্ত হলো। বিছানায় কাৎরাতে লাগলো কুকুরের ন্যায়। আক্ষেপের ক্রন্দনে বলতে লাগলো, আল্লাহ, তুমিই পরাক্রান্ত। তুমিই পরাক্রমশালী। তখন সে নতুন করে কবিতা গাঁথলো-
ঐ চোখ আশ্রিত তোমার কাছে,
যে চোখের কৃপাডোর চেয়েছি আমি;
তুচ্ছ পরিণামে করেছো আমায়
প্রভুর রহম বঞ্চিত।
লাঞ্ছিত আমি, আমি লাঞ্ছিত,
জীবনের লাগি অপ্রভুরে মানি
পরাক্রমশালী পরাক্রান্ত।

📘 আল্লাহকে মানুন নিরাপদ থাকুন > 📄 কবি কুরাযি

📄 কবি কুরাযি


কুরাবি। লেবাননের বিকৃত পাপাচারী নামধেয় এক কবি। একবার সে দামেস্ক ভ্রমণ করেছিলো। দামেস্কবাসী তাকে সম্মানের শিখরে চড়িয়ে সাদরে গ্রহণ করলো। চারদিকে বেজে উঠলো তুমুল করতালি। কুরাবি তখন আনন্দে ডগমগ হয়ে কবিতা পাঠ করলো-
ঐক্যআরব গড়বো সবাই নবধর্মের আশ্রয়ে,
চলো সমর্থনে, পরিভ্রমণে, বারহাম ধর্মের ঐকতানে,
সাবাস বারহাম! সাবাস বারহাম! লঙ্ঘিলে চলো জাহান্নামে।
আজি ঐক্যআরব গড়বো সবাই নবধর্মের আশ্রয়ে।

📘 আল্লাহকে মানুন নিরাপদ থাকুন > 📄 কবি ইলিয়া আবু মাযি

📄 কবি ইলিয়া আবু মাযি


আরেক নাস্তিক্যমনা কবি ইলিয়া আবু মাজি। এক কবিতায় সে লিখেছে-
আমি এসেছি, পৃথিবীর পথে পথে হেঁটেছি-
এসেছি কোথা থেকে জানিনা।
মনের চাওয়ায় আমি চিরঞ্জীব নাকি রাতের পথিক;
জানিনা, আমি জানিনা।
সে জানতে পারেনি, কোথা থেকে এসেছে! সে অবাধ্যতা করেছে। পাপ করেছে। বিচ্যুত হয়েছে। আল্লাহ তাকে অপদস্থ করেছেন। শাস্তি দিয়েছেন। নির্মম মৃত্যুর লাঞ্চনা দিয়েছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00