📘 আল্লাহকে মানুন নিরাপদ থাকুন > 📄 অন্তর গোনাহমুক্ত রাখার স্বরূপ

📄 অন্তর গোনাহমুক্ত রাখার স্বরূপ


অন্তর মানুষের সকল গোনাহের উৎপত্তিস্থল। মানুষের অন্তর যখন গোনাহের প্রণোদনা থেকে মুক্ত থাকে, তখনই সকল গোনাহের পঙ্কিলতা থেকে পবিত্র থাকা সম্ভব হয়।
আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের অন্তর গোনাহমুক্ত রাখেন। কুপ্রবৃত্তি থেকে, কামনা-বাসনা ও লোভ-লালসা থেকে, সর্বোপরি শাহওয়াত থেকে সুরক্ষিত রাখেন। শরিয়তের কোন বিধানে সংশয়, অনিশ্চয়তা ও অস্পষ্টতা থেকে, সর্বোপরি শুবুহাত থেকে মুক্ত রাখেন।
প্রতিটি মানুষের শরীরে একটি মাংসখণ্ড রয়েছে। এ মাংসখণ্ডটি যতক্ষণ সুরক্ষিত থাকে, মানুষ ততক্ষণ গোনাহমুক্ত থাকে। এ মাংসখণ্ডটি যখন বিনষ্ট ও বিপদগ্রস্ত হয়, মানুষও তখন বিপথে চলতে থাকে। গোনাহের পথে ধ্বংস হতে থাকে। সে মাংসখণ্ডটি হল মানুষের অন্তর। রাসুলের ভাষায় বিষয়টি এমন-
জেনে রাখ, শরীরের মধ্যে একটি গোশতের টুকরো আছে, তা যখন ঠিক হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন ঠিক হয়ে যায়। আর তা যখন খারাপ হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন খারাপ হয়ে যায়। জেনে রাখ, সে গোশতের টুকরোটি হল অন্তর। [বুখারি: ৫২]
অর্থাৎ, মানুষ যখন আল্লাহর আনুগত্যে, আল্লাহর সদাস্মরণে অন্তরকে পরিশুদ্ধ রাখবে, মানুষের হাত, পা, চোখ, কান, পেট, যৌনাঙ্গ সবকিছু তখন গোনাহমুক্ত থাকবে।
কেয়ামতের দিন হিসাবের বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য মানুষের পরিবার-পরিজন, ধন-দৌলত সবকিছুই অনর্থ অকার্যকার বিবেচিত হবে। হিসাবের বিপদ থেকে পরিত্রাণের জন্য কার্যকর হবে একমাত্র পরিশুদ্ধ অন্তর।
যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোন কাজে আসবেনা। সেদিন উপকৃত হবে কেবল সে, যে আল্লাহর নিকট আসবে বিশুদ্ধ অন্তঃকরণ নিয়ে। [সূরা শুয়ারা: ৮৮, ৮৯]
বিশুদ্ধ অন্তঃকরণ, অর্থাৎ যে অন্তরে কামনা-বাসনা, লোভ-লালসা, শরিয়তের কোন বিধানে সংশয়, অনিশ্চয়তা, অস্পষ্টতা, সর্বোপরি শাহওয়াত ও শুবুহাতের অনুপ্রবেশ নেই।
পরিশুদ্ধ অন্তর, অর্থাৎ যে অন্তরের ধ্যানে-মগ্নে, সদাস্মরণে আল্লাহই শুধু চিরজাগ্রত। যে অন্তরের শ্বাসে-প্রশ্বাসে, আবেগ-উচ্ছ্বাসে শুধু এক অনুরণন- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ...
মানুষের অন্তর যখন শাহওয়াত ও শুবুহাতের গুপ্তরোগ থেকে আরোগ্য পাবে, শিরক নেফাক ও রিয়া থেকে পবিত্র থাকবে, সে অন্তর আল্লাহর একত্বে ও বড়ত্বে পরিপূর্ণ থাকবে। এখলাস ও সততায় নিষ্ঠ হয়ে ওঠবে। মানুষের অহংকার ও দম্ভ যখন চূর্ণ হবে, মনের সকল দ্বেষ-বিদ্বেষ, হিংসা-বিরাগ দূর হবে। মানুষ তখন মহান আল্লাহর প্রেমতাড়িত ভয়ে সদাপ্রকম্পিত থাকবে। আল্লাহর ভরসায়, তাঁর দয়ার আশায় দুনিয়া সকল কিছু থেকে বিমুখ থাকবে। এমন মানুষের অন্তর হবে ইবরাহিম -র অন্তরের মত।
আর ইবরাহিম তাঁর অনুগামীদের অন্তর্ভুক্ত। স্মরণ কর, সে তাঁর প্রতিপালকের নিকট উপস্থিত হয়েছিল বিশুদ্ধচিত্তে। [সূরা সাফফাত: ৮৩, ৮৪]
যে আল্লাহকে বিশ্বাস করে, আল্লাহ তাঁর অন্তরকে সুপথে পরিচালিত করেন। [তাগাবুন: ১১]
অর্থাৎ, যে আল্লাহকে সেজদা করে, আল্লাহ তাঁকে সুপথে পরিচালিত করেন। যে মসজিদে গমন করে, আল্লাহর দরবারে মোনাজাতের বিনীত হাত উত্তোলন করে, আল্লাহ তাঁর অন্তরকে জ্যোতির্ময় ভুবনে বিচরণ করান। আল্লাহ বলেন-
যারা আমার উদ্দেশ্যে সংগ্রাম করে আমি তাদের অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করবো। আল্লাহ অবশ্যই সৎকর্মপরায়ণদের সাথে থাকেন। [সূরা আনকাবূত: ৬৯]
যে দীনের কোন আলোচনায় বসে, দীনের কোন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে, ভালো কাজে অগ্রসর হয়, আল্লাহ তাঁর সাথে অনর্থ ও অশ্লীল আড্ডাবাজ, গান ও নেশার আসরে অংশগ্রহণকারী, মাস্তি ও ফুর্তিবাজ, প্রমোদবাজদের সাথে পার্থক্য রেখেছেন। ইরশাদ করেছেন-
আমি কি আত্মসমর্পণকারীদেরকে অপরাধীদের সদৃশ গণ্য করবো! তোমাদের কী হয়েছে? এ তোমরা কেমন সিদ্ধান্ত দিচ্ছ! [সূরা ক্বলম: ৩৫, ৩৬]
যে হেদায়াতের বাণী শুনে বিমুখ হয়, দীনের আলোচনা থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে, ভ্রুকুঞ্চন করে, সে মহাবিপর্যয়ের উন্মুক্ত দ্বারে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। ইরশাদ হয়েছে-
তারা যেমন প্রথমবার এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেনি, তেমন আমিও তাদের অন্তরে দৃষ্টিতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবো। তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায় উদ্ভ্রান্তের ন্যায় ঘুরে বেড়াতে ছেড়ে দিবো।' [সূরা আনয়াম: ১১০]
সকল মুমিনের জন্য অপিহার্য কর্তব্য হলো তাঁর অন্তর সর্বান্তকরণে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করা। তাহলেই আল্লাহ তাঁকে সঠিক পথের পথিক বানাবেন। আল্লাহ বলেন-
এতে উপদেশ রয়েছে তার জন্য, যার রয়েছে অন্তঃকরণ, অথবা যে শ্রবণ করে নিবিষ্ট চিত্তে। [সূরা ক্বফ, ৩৭]
আল্লাহ সকলকেই অন্তর দিয়েছেন, কিন্তু অন্তরালোকসম্পন্ন সফল অন্তর ক'জনের আছে! কোরআনের ভাষায়-
মানুষের চর্মচোখ অন্ধ হয়না, বরং অন্ধ হয় তাদের বক্ষস্থ অন্তরালোক। [সূরা হজ্জ: ৪৬]
যে ব্যক্তি জানে যে, যা কিছু পালনকর্তার পক্ষ থেকে আপনার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তা সত্য, সে কি ঐ ব্যক্তির সমান যে অন্ধ? তারাই বোঝে, যারা বোধশক্তিসম্পন্ন। [সূরা রাদ: ১৯]
এজন্যই যেসব লোক তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা উপকৃত হয়নি, আল্লাহ তাদের ভৎসনা করেছেন। তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করে তাদের পরিচয় দিয়েছেন। বলেছেন-
আমি বহু জিন ও মানুষকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি। তাদের হৃদয় আছে, কন্তুি তা দ্বারা তারা উপলব্ধি করেনা। তাদের চোখ আছে, কিন্তু তা দ্বারা দেখেনা। তাদের কান আছে, তা দ্বারা শোনেনা। তারা পশুর ন্যায়, না, পশু অপেক্ষাও অধিক মুঢ়। তারাই উদাসীন। [সূরা আরাফ: ১৭৯]
অন্তরের গুপ্তরোগ অনেক ধরণের। মানুষ অজান্তে অসচেতনতায় এসব গুপ্তরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। তাই অন্তরের ব্যাপারে সজাগ থাকা, অন্তরকে যথানির্দেশ করা, গুপ্তরোগের সমূহ আশঙ্কা থেকে বাঁচিয়ে সতর্ক রাখা সকল মুসলমানের আবশ্যক দায়িত্ব।
আল্লাহর কাছে মানুষের ভাল কাজের গ্রহণযোগ্যতার পরিমাপক মানুষের অন্তর। যাঁর অন্তরে আল্লাহর ভালবাসা ও বড়ত্ব ভরপুর, তাঁর ভাল কাজের গ্রহণযোগ্যতা আল্লাহর কাছে অত্যুচ্চ। এই অন্তরের অবস্থাভেদের কারণেই একই ভাল কাজের দুই সম্পাদনকারীর প্রতিদান ও মর্যাদার মাঝে আকাশ-পাতাল পার্থক্য দাঁড়িয়ে যায়। রাসুল ইরশাদ করেন-
জেনে রাখ, শরীরের মধ্যে একটি গোশতের টুকরো আছে, তা যখন ঠিক হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন ঠিক হয়ে যায়। আর তা যখন খারাপ হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন খারাপ হয়ে যায়। জেনে রাখ, সে গোশতের টুকরোটি হল অন্তর। [বুখারি : ৫২]

📘 আল্লাহকে মানুন নিরাপদ থাকুন > 📄 শ্রবণ গোনাহমুক্ত রাখার স্বরূপ

📄 শ্রবণ গোনাহমুক্ত রাখার স্বরূপ


আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের শ্রবণশক্তি অর্থাৎ কানও গোনাহমুক্ত রাখেন। তাদের শ্রবণে ধারণ করান দীনের বাণী। পৃথিবীর ও পরকালের উপকারী বাণী। তাদের শ্রবণে অনুরিত হয় কোরআনের মধুর আয়াত।
আল্লাহ -র প্রিয় বান্দাগণ নিষিদ্ধ কথায় বসেননা। গিবত চোগলে কান দেননা। তাঁদের শ্রবণ গানবাদ্য থেকেও সুরক্ষিত থাকে। গোনাহ থেকে নিরাপদ থাকে। তাঁরা আল্লাহ -র এই ঘোষণায় ভীতকম্পিত থাকেন-
إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا
নিশ্চয় কর্ণ চক্ষু হৃদয় তাদের প্রত্যেকের কাছে কৈফিয়ত তলব করা হবে। [সূরা ইসরা : ৩৬]
মুসলমান মাত্র বিশ্বাস করে, শ্রবণ আল্লাহর অপার নেয়ামত। আল্লাহ -র প্রতিটি নেয়ামতের ব্যাপারে যেরূপ জিজ্ঞাসিত হবো। তদ্রূপ শ্রবণশক্তির ব্যাপারেও জিজ্ঞাসিত হবো। সুতরাং আমার শ্রবণশক্তির বৈশিষ্ট্য যেন এমন হয়-
যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়না এবং অসার ক্রিয়াকলাপের সম্মুখীন হলে স্বীয় মর্যাদা রক্ষার্থে তা পরিহার করে চলে। [ফুরকান: ৭২]
অর্থাৎ, আল্লাহর বান্দাগণ কখনও মিথ্যা সাক্ষ্য দেননা। তাঁরা মিথ্যা কথা শ্রবণও করেননা। কবির ভাষায়-
মন্দের শ্রোতা যেন মন্দকারী,
যেমন আহার্যের পরিবেশকও আহারকারী!

📘 আল্লাহকে মানুন নিরাপদ থাকুন > 📄 দৃষ্টি গোনাহমুক্ত রাখার স্বরূপ

📄 দৃষ্টি গোনাহমুক্ত রাখার স্বরূপ


মানুষ তার চোখের কারণে অসংখ্য বিপদাপদে নিপতিত হয়। জীবনের বহু ক্ষেত্রে দুর্বিপাক নেমে আসে তার দুর্দৃষ্টির কারণে। কবির ছন্দে-
দৃষ্টি যখন হৃদয়ের নেগরাণ,
পৃথিবী ঘুরবে তোমার পিছন,
তুমি দেখবে এমন কিছু,
সক্ষম নও তার পুরোটুকুর,
অথবা দেখবে এমন কিছু,
ধৈর্য হবেনা তার অল্পতে।
মানুষের দৃষ্টি কখনও কখনও শয়তানের তীর হিসেবে নিষিদ্ধ স্থানে নিবদ্ধ হয়। যে নিষিদ্ধ স্থান থেকে দৃষ্টি ফেরাতে পারে, আল্লাহ তার অন্তরে ঈমান পূর্ণ করে দেন। তার বক্ষ বেয়ে প্রবাহ হয় ঈমানের শীতল নির্ঝরিণী। আল্লাহ -র নির্দেশ-
বিশ্বাসীদের বলুন তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের যৌনাঙ্গ হেফাযত করে; এটাই তাদের জন্য উত্তম। তারা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ অবগত। [সূরা নূর: ৩০]
মানুষের দৃষ্টি যখন বিভ্রান্ত হয়, তা তীর হয়ে অন্তরে বিদ্ধ হয়। ভ্রান্ত তীর শুদ্ধ অন্তরে ভ্রান্তির ছাপ ফেলে। অন্তরের অপমৃত্যু হয়। কবির কবিতা-
আমি উপস্থিত করি মৃত্যু মুহূর্তেই।
কে আছ অন্বেষী; হবে নিহত হন্তারক।
জনৈক বুযুর্গ বলেন, কত চোরাদৃষ্টি নিপাতিত হয় ভূতল গর্ভে। কত চোরাচাহনি প্রবেশ করে অগ্নিগর্ভে। পলকচোরা এসব চোখের কারণে কেয়ামতের দিন লজ্জিত হতে হবে। আল্লাহ আমাদের হেফাযত করুন। প্রত্যেক মুমিনের উচিত, তার দৃষ্টিকে আসমান যমিনের মহাসৃষ্টিতে নিবদ্ধ রাখা। এই বিপুল সৃষ্টিসমাহারে আল্লাহর পরিচয় খোঁজা। আল্লাহ -র মহানিদর্শন দেখে তাঁর মহত্ব অনুভব করা। আল্লাহ বলেন-
'বল, আকাশমণ্ডলি এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে, তার প্রতি লক্ষ কর।' [সূরা ইউনুস: ১০১]
তবে কি তারা দৃষ্টিপাত করেনা উটের দিকে, কিভাবে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে? এবং আকাশের দিকে কিভাবে তাকে ঊর্ধ্বে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে? এবং পর্বতমালার দিকে, কিভাবে তাকে স্থাপন করা হয়েছে? এবং ভূতলের দিকে, কিভাবে তাকে বিস্তৃত করা হয়েছে? [সূরা গাশিয়া, ১৭-২০]
তদ্রূপ প্রত্যেক মুমিনের উচিত হারাম ও নিষিদ্ধ স্থান থেকে দৃষ্টি বাঁচিয়ে রাখা। নারী এবং অশ্লীল দৃশ্য থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে রাখা। কারণ, চক্ষু মানুষকে ভূপাতিত করে। দুঃখ আর বঞ্চনার পরিণতি ডেকে আনে।
দৃষ্টিতে সূচিত হয় সকল বিপদ;
তুচ্ছ পাপ ডেকে নেয় নরক-মাজারে।
দৃষ্টিতে লঙ্ঘিত হয় বিচরণসীমা;
যেমন ছিলাহীন ধুনকহীন আকস্মিক তীরাঘাতে।
সুন্দর গড়নে দৃষ্টির বিচরণ;
সে তো দুর্বিপাকের ত্রিসীমা ছাড়িয়ে।
জীবন হারিয়ে যায় চোখের উল্লাসে,
কী হবে বিপদের খুশি ছড়িয়ে!
অনেক মানুষ দৃষ্টির মাধ্যমে পাহাড়সম দুঃখ পেরেশানি ডেকে আনে। আবার দৃষ্টির মাধ্যমে অন্তরস্থ দুঃখ লাঘব করে, সফলতার রাজপথে উল্লসিত বিচরণের স্বপ্ন বোনে। দৃষ্টির মাধ্যমেই অন্তরে খুশির জোয়ার ঢেউয়ের তোড়ে ফুলিয়ে তোলে।
কবিতা
হে পণ্ডশ্রমের তীরন্দাজ,
নিজ প্রাণ বধ করলে নিজেরই তীরে!
নিরাময় খোঁজ ওহে চোখের নিয়ামক!
দৃষ্টি ফিরাও তব বিপদ না আনে।
মানুষ যখন দৃষ্টি হেফাযত করবে, হারাম বস্তু থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নির্দেশিত পথে সঞ্চালন করবে, আল্লাহও তখন তাঁকে হেফাযত করবেন। তাঁর দায়িত্ব ও অভিভাবকত্ব গ্রহণ করবেন। মানুষের জন্য আল্লাহর হেফাযত ও আল্লাহর অভিভাবকত্বই যথেষ্ট। রক্ষণাবেক্ষণে আল্লাহই শ্রেষ্ঠ। তিনিই দয়ালুদিগের সেরা দয়ালু।

📘 আল্লাহকে মানুন নিরাপদ থাকুন > 📄 উদর-আহার গোনাহমুক্ত রাখার স্বরূপ

📄 উদর-আহার গোনাহমুক্ত রাখার স্বরূপ


সচেতন একজন মুসলমানের পক্ষে হারাম খাদ্য বর্জন করা আবশ্যক। সচেতন মুসলমান শুধু আল্লাহপ্রদত্ত হালাল রুজিই গ্রহণ করবে। সুদ ও ধোঁকাবাজির মাধ্যমে উপার্জিত হারাম সম্পদ ত্যাগ করবে। ব্যবসায়, লেনদেনে হারাম পন্থা এড়িয়ে চলবে। আল্লাহর কাছে নিজেকে গৃহীত করার জন্য সকল পানাহারে পবিত্র ও হালাল পন্থা অবলম্বন করবে। আয়রুজি এবং পানাহার হালাল হলে সেই বান্দার দোয়া আল্লাহর কাছে কবুল হবে।
আবু হোরায়রা ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ থেকে বর্ণিত, রাসুল ﷺ ইরশাদ করেন-
হে লোকসকল, আল্লাহ পবিত্র। তিনি পবিত্র জিনিসই কবুল করেন। তিনি তাঁর রাসুলদের যে আদেশ দিয়েছেন, মুমিনদেরও একই আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, 'আমি বলেছিলাম, হে রাসুলগণ, তোমরা পবিত্র বস্তু আহার কর এবং সৎকর্ম কর। তোমরা যা কর সে সম্বন্ধে আমি সবিশেষ অবহিত’। [সূরা মুমিনূন: ৫১] আল্লাহ আরো বলেন, 'হে বিশ্বাসীগণ, আমি তোমাদের যা দিয়েছি তা থেকে পবিত্র বস্তু আহার কর’। [বাকারা: ১৭২]
অতঃপর রাসুল এক লোকের কথা উল্লেখ করেন, যে দীর্ঘ পথ সফর করেছে। এলোকেশ, ধূলিধূসর। আকাশের দিকে হাত তুলে ডাকছে, 'হে আমার রব... হে আমার রব...' অথচ তার খাদ্য হারাম। পানীয় হারাম। পোষাক হারাম। ভরণপোষণ হারাম। আল্লাহর কাছে তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে! [মুসলিম: ১০১৫]
প্রকৃত অর্থে একজন মুসলমানের জন্য তার সকল অঙ্গই গোনাহ থেকে মুক্ত রাখা আবশ্যক। মুসলমান তার যৌনাঙ্গ হারাম স্থান থেকে হেফাযত রাখবে। আল্লাহ ইরশাদ করেছেন-
অবশ্যই সফলকাম হয়েছে বিশ্বাসীরা ... যারা নিজেদের যৌনাঙ্গ সংযত রাখে। তবে নিজেদের পত্নী অথবা অধিকারভুক্ত দাসিদের ক্ষেত্রে অন্যথা করলে তারা নিন্দনীয় হবেনা। [সূরা মুমিনূন: ১, ৫, ৬]
মুসলমান তার পা গোনাহমুক্ত রাখবে। পা দিয়ে সে হারাম রাস্তায় হাঁটবেনা, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাঁরই নির্দেশিত পথে হাঁটবে। মসজিদে গমন করবে। মাহফিলে ও ইলমের মজলিসে অংশগ্রহণ করবে। আত্মীয় বন্ধুবান্ধবের খোঁজখবর নিবে। যে কোন ভাল ও কল্যাণকর পথে চলবে।
মুসলমান তার হাত অনুমোদিত স্থানে ব্যবহার করবে। তার হাত যেন গোনাহের কাজে ব্যবহৃত না হয়, এ জন্য সজাগ থাকবে। আল্লাহ বলেন-
যেদিন তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে তাদের জিহ্বা, তাদের হাত, তাদের পা তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে। [সূরা নূর: ২৪]
যেদিন আল্লাহর শত্রুদের জাহান্নামের দিকে সমবেত করা হবে, সেদিন তাদেরকে বিন্যস্ত করা হবে বিভিন্ন দলে। পরিশেষে যখন তারা জাহান্নামের নিকটে পৌঁছুবে, তখন তাদের কান চোখ ও ত্বক তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে সাক্ষ্য দিবে তাদের বিরুদ্ধে। [সূরা হামীম সাজদা : ১৯, ২০]
এভাবে একজন মানুষ যখন নিজেকে, নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে গোনাহ থেকে সুরক্ষিত রাখবে, আল্লাহর আনুগত্যে নিজের সর্বাঙ্গ ব্যয় করবে, আল্লাহও তাঁকে সকল বিপদ থেকে সুরক্ষা দান করবেন। আল্লাহ দয়ালুদের সেরা দয়ালু।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00